Wednesday, February 25, 2015
ফলাফলশূন্য খেলায় নেমেছেন রাজনীতিকরা by রেহমান সোবহান
ফলাফলশূন্য খেলায় নেমেছেন রাজনীতিকরা by রেহমান সোবহান

বিএনপি
নেতৃত্বাধীন জোটের ডাকা সাম্প্রতিক অবরোধ আর হরতাল চলাকালে অগ্নিসংযোগ,
হামলার শিকার ব্যক্তিরা যেভাবে ভয়াবহ জখম হয়েছেন আর মৃত্যুর সংখ্যা যেভাবে
বেড়ে চলেছে তা ন্যায়সঙ্গতভাবেই উদ্বেগ ও ক্ষোভের উদ্রেক করেছে। ক্ষোভ আর
উদ্বেগ শুধু ক্ষমতাসীন দলের মধ্য থেকে নয় বরং তা এসেছে পুরো দেশ থেকে।
হতাহতের শিকার বেশির ভাগই নিরপরাধ বেসামরিক মানুষ। বাস্তবতার কারণে তাদের বাধ্য হয়েই পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করতে হয়েছে। বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নারী ও শিশুরা, কেননা জ্বলন্ত গাড়ি থেকে দ্রুত বের হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের পেছনে পড়ার সম্ভাবনাই বেশি। বিরাজমান রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে কোন সম্পৃক্ততা নেই এমন বেসামরিক মানুষকে ব্যাপক হারে টার্গেট করার যে কোন রাজনৈতিক আন্দোলনের কৌশল অমানবিক, অনৈতিক, এবং রাজনৈতিকভাবে অফলপ্রসূ।
এমন কৌশল একটি দলের প্রতি জন-অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে, যারা কিনা জনগণের কিছুটা সহানুভূতি পেতে পারতো। কেননা এখন পর্যন্ত সরকারি দমন-পীড়নের শিকার হয়েছে তারাই। রাজনৈতিক একটি দল যখন এমন কর্মকাণ্ডের ওপর নির্ভরশীল, যাতে তাদের ওপর দমন পীড়নকারী নানা এজেন্ট প্রধানত আক্রান্ত হওয়ার বাইরে থেকে যায় আর অসহায় বেসামরিক মানুষদের টার্গেট হতে হয়, তাতে রাজনৈতিক নির্বুদ্ধিতা প্রতিফলিত হয়। একইভাবে প্রতিফলিত হয় সাংগঠনিক দুর্বলতা।
বিরাজমান সহিংস পরিস্থিতি আর স্থিতিহীনতার মধ্যে দোষারোপ করার খেলার যথার্থতা সামান্যই। আমাদের গভীরভাবে বিভক্ত রাজনৈতিক সমাজে উভয় পক্ষে এমন মানুষের অভাব নেই, যারা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর কর্মকাণ্ড আর উদ্দেশ্যকে সম্ভাব্য সব থেকে মন্দ রূপ দেয়।
তাদের নানা মন্তব্য আর কর্মকাণ্ডে প্রতীয়মান হয় যে, ক্ষমতাসীন দল বিরোধী দলকে বিরোধী হিসেবে সক্রিয় থাকতে কোন প্রকার রাজনৈতিক সুযোগ দেয়ার পরিবর্তে তাদেরকে রাজনৈতিকভাবে এবং এমনকি বলপ্রয়োগ করে গুঁড়িয়ে দিতে চায়। একই দৃষ্টিভঙ্গি শুধু তাদের রাজনৈতিক মিত্ররা পোষণ করেন তা নয় বরং তাদের বুদ্ধিজীবী সহযাত্রীরাও অধিকরতর বল প্রয়োগের অনড় দাবিতে রাজনীতিবিদদের তুলনায় আগ্রাসী প্রতিভাত হন।
পক্ষান্তরে, প্রতিপক্ষকে উৎখাত করা তো দূরে থাক মোকাবিলার করতে সমর্থ এমনটা সামান্যই প্রদর্শন করতে পেরেছে বিরোধী দল। অসর্মথতার এ বোধ বিরোধীদেরকে বিক্ষিপ্ত এবং বাছবিচারহীন সহিংস কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করতে প্ররোচিত করেছে; যা সরকারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বাধ্য করা বা বিরোধীদের রাজনৈতিক লক্ষ্যের কাছাকাছি আনার তুলনায় নিরপরাধ প্রাণের বলিতে পর্যবসিত হচ্ছে।
অগণতান্ত্রিক শক্তির হস্তক্ষেপে বাধ্য হওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি ব্যতীত এমন চর্চা থেকে বিএনপি কি অর্জনের আশা করছে তা স্পষ্ট নয়। যেমনটা হয়েছিল ১/১১ এ। যেহেতু এমন একটি উদ্যোগ অফলপ্রসূ বলে প্রতীয়মান হয়েছে ২০১৪’র জানুয়ারি নির্বাচনের সময় পর্যন্ত; এটা পরিষ্কার নয়, কেন আজ এতে অপেক্ষাকৃত ইতিবাচক ফল আসতে পারে। এমন সম্ভাবনাবিহীন পরিবেশের মধ্যে কেউ কি গঠনমূলক সুপারিশের প্রস্তাব করার প্রত্যাশা করতে পারেন, যাতে কোন পক্ষের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ বিন্দুমাত্র মনোযোগ দেবে? এমন সম্ভাবনা অতীতে একবার এসেছিল ১৯৯৫-৯৬ সালে। সেবার অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের ইস্যুতে একই রকম মুখোমুখি অবস্থান জাতীয় উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল। ১৯৯৫ সালে এখন বিস্মৃত ৫ জনের একটি দলে’র একজন সদস্য হিসেবে দুই নেত্রীর মধ্যে রাজনৈতিক মধ্যস্থতা করার উদ্যোগে অংশগ্রহণ করার সুযোগ হয়েছিল। এফবিসিসিআই ও এমসিসিআইসহ নাগরিক সমাজের বড় একটি জোটের উদ্যোগে ওই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল। প্রকৃত জি-৫ এর চার জন- ব্যারিস্টার ইশতিয়াক আহমেদ, প্রধান বিচারপতি কামালুদ্দিন হুসেইন, রাষ্ট্রদূত ফখরুদ্দিন আহমেদ ও সিনিয়র সাংবাদিক ফয়েজ আহমেদ এ পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। হতাশার ওই উদ্যোগের একমাত্র জীবিত ব্যক্তি আমি।
জি-৫ এর উদ্যোগে যতটুকু অগ্রগতি হয়েছিল তার পেছনে যে বিষয়টি কাজ করেছিল তাহলো উভয় নেত্রী তখন কোন প্রকার সমঝোতার বিষয়ে বিরূপ ছিলেন না। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের সম্পূর্ণ বিপরীত, তখন জি-৫কে সাদরে গ্রহণ করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা। তারা দুজনই আমাদেরকে কয়েক দফা ধৈর্যের সহিত লম্বা শুনানি দিয়েছিলেন। আমাদের উদ্যোগ সফলতার কাছাকাছি এসেছিল কিন্তু একটি মাত্র ইস্যুতে তা থমকে যায়। বেগম খালেদা জিয়ার জোর দাবি ছিল যে, উভয় দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হতে হবে তিনি ব্যতীত বিএনপি’র কোন এমপিকে। সে সময় যেটা ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ দল। শেখ হাসিনা তার দাবিতে অনড় ছিলেন যে, সরকারপ্রধানকে হতে হবে নির্দলীয় কোন ব্যক্তি যাকে এ উদ্দেশ্যে বিশেষভাবে সংসদে নির্বাচিত করা যেতে পারে। খালেদা জিয়া দাবি করেছিলেন, তার অবস্থানের ভিত্তি ছিল সংবিধান রক্ষার প্রয়োজনীয়তা। পক্ষান্তরে শেখ হাসিনা যুক্তি প্রদর্শন করেছিলেন, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দ্বারা নির্বাচন পরিচালিত হওয়ার স্বার্থে সংবিধান সংশোধন করা যেতে পারে এবং করা উচিত। আজ, দুই নেত্রী তাদের আসন এবং যুক্তি উভয়ই অদল-বদল করেছেন। জি-৫ এর মতো বা উন্নততর উদ্যোগ গ্রহণে নাগরিক সমাজের প্রচেষ্টাগুলো সাংঘাতিকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
ঘটনার মুখ্য চরিত্রদের মধ্যকার ব্যবধান যে প্রায় সেতুবন্ধনের অযোগ্য গহ্বরে বিস্তৃত হয়েছে সেই বোধের দ্বারা। দুই নেত্রীর মধ্যে সংলাপে উৎসাহিত করতে কতিপয় বিশিষ্ট নাগরিকদের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ ক্ষমতাসীন দলের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে বলে প্রতিয়মান হয়। বরং, নাগরিকদের উদ্যোগ বিদ্যমান বিষাক্ত পরিবেশের মধ্য থেকে সাহসিকতাপূর্ণ এক প্রশংসনীয় পদক্ষেপের প্রতীক। এটা এখন পর্যন্ত চরম লজ্জাজনক ও অরুচিকর কটূক্তিমূলক মন্তব্য উসকে দিয়েছে। শুধুমাত্র ক্ষমতাসীন জোটের মাথা-মোটা উপাদানদের কাছ থেকে সেগুলো এসেছে তা নয়। এমনকি সরকারের কতিপয় অধিকতর পরিপক্ব সদস্যদের কাছ থেকেও এমন মন্তব্য এসেছে, যারা ঘোষণা দিয়েছেন, ‘ভাল’ আর ‘মন্দের’ মধ্যে সংলাপের কোন সুযোগ নেই।
সম্ভবত তাদের কাছে ১৯৭১-এর মার্চে বঙ্গবন্ধু আর ইয়াহিয়ার মধ্যকার সংলাপের কথা বিস্মৃত হয়েছে। অথবা, ইয়াসির আরাফাত আর ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর মধ্যকার সংলাপ বা ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় কিসিঞ্জার এবং লি যাক থো’র সংলাপ। অথবা, সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত যুক্তরাষ্ট্র ও আফগান তালেবানদের মধ্যকার সংলাপ যা সংযুক্ত আরব আমিরাতে গোপনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
বিএনপির সামনে যেসব পথ
বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে চলা আর অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান ক্ষতির আলোকে গভীরতর সঙ্কটের ঘূর্ণাবর্তে নিম্নমুখী অধঃপতন প্রতিহত করতে কি করা যেতে পারে? দুই মুখ্য চরিত্রের কাছে কিসব পথ খোলা আছে সেগুলো পর্যালোচনা করা যাক।
গত নয় বছর ধরে, সরকারি দমন-পীড়নের মুখে ছিল বিএনপি। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির জন্য রাজনৈতিক সুযোগ এতটাই সঙ্কীর্ণ হয়ে এসেছে, যেখানে তারা বাংলাদেশের রাজধানীতে জনসমাবেশও করতে পারছে না। দলটির নেতাদের চলাচলের স্বাধীনতা নিয়মিত বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। আর তাদের সিনিয়ার নেতাদের নিয়মিত কারারুদ্ধ করা হয়েছে।
এমন একটি পরিস্থিতি বিরোধীদের রাজনৈতিক সুযোগকে মারাত্মকভাবে সীমাবদ্ধ করে দেয় এবং এটা গণতন্ত্রের সার্বিক মূল্যবোধের পরিপন্থি। আইন প্রয়োগকারী সংখ্যাগুলোর ম্যাজিক্যাল ক্ষমতার আপাত প্রয়োগ তাদেরকে অসুবিধাজনক বিরোধী নেতাদের অদৃশ্য করে ফেলার সুযোগ করে দেয়; জীবন থেকে না হলেও অন্তত জনগণের দৃষ্টি থেকে। আমরা যে আইনের শাসনের মধ্যে বাস করি এটা তার সামান্যই প্রমাণ বহন করে।
এমন বৈরী রাজনৈতিক পরিবেশে বিরোধীদল কোনভাবে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে। যখন তাদেরকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়েছিল, তারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ পৌরসভাগুলোতে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে জিততে সক্ষম হয়।
তাদের রাজনৈতিক সক্ষমতার এই বোধ প্রতিকুল পরিস্থিতির মধ্যে প্রদর্শিত হয়। এটা অধিকতর মানবকল্যাণ ভিত্তিক রাজনৈতিক কৌশল পরিকল্পনা প্রণয়নে বিএনপিকে উৎসাহিত করা উচিত ছিল। যৌক্তিকভাবে তাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত ছিল ক্ষমতাসীন জোটের সঙ্গে সম্ভাব্য সকল পর্যায়ে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নেয়া।
এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেশজুড়ে মানুষের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তাদেরকে করে দিতো। একইসঙ্গে তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগও আকর্ষণ করতে পারতো। যার দ্বারা নিজেদের রাজনৈতিক সামর্থ্য ও বার্তা প্রদর্শন করতে পারতো।
জানুয়ারি নির্বাচনের আগ দিয়ে বিরোধীদের কাছে প্রস্তাবিত সকল সুযোগ গ্রহণ করা উচিত ছিল। এর মধ্যে ছিল, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন সরকারে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় দেয়ার প্রস্তাব। এমন পরিস্থিতির মধ্যে আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হতো এমন কোন নিশ্চয়তা নেই। তবুও, জানুয়ারি নির্বাচনে বিএনপির নিজেদের সাংগঠনিক সীমবদ্ধতার আলোকে, এটা নেয়ার মতো একটা ঝুঁকি ছিল।
এমন একটি সুযোগ কাজে লাগানোর ব্যর্থতা থেকে বিএনপির রাজনৈতিক ভুল প্রতিফলিত হয়। আর বিশেষ করে ঢাকা ও লন্ডনে ছড়িয়ে পড়া দলটির দ্বৈত নেতৃত্ব এখন পর্যন্ত তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।
বিএনপির এ ভুল হিসাব যে বিষয়টির ওপর ভিত্তি করে এসেছে তাহলো- তাদের সাংগঠনিক ও রাজপথে লড়াইয়ের ক্ষমতার অতিমূল্যায়ন এবং রাজপথের যেকোন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের সদিচ্ছা ও সামর্থ্যকে খাটো করে দেখা।
খালেদা জিয়ার সন্তান আরাফাতের করুণ ও অকাল মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী সমবেদনা জানানোর চেষ্টা করেছিলেন। ওই ঘটনা দ্বৈত নেতৃত্ব থেকে উঠে আসা বিএনপির রাজনৈতিক শূন্যতার সাম্প্রতিক প্রকাশ চরম ব্যর্থতা হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বন্ধ দরজার সামনে অপেক্ষমাণ রাখাটা শুধু সাংস্কৃতিক চৈতন্যহীনতার নয় একইসঙ্গে দুর্ব্যবহারের প্রতিফলন। এছাড়া বিএনপির সিনিয়র নেতৃত্বের বিশৃঙ্খলা উঠে এসেছে যারা বন্ধ দরজার পেছনে দ্বিধান্বিত ছিলেন। এদিকে জনগণের উপহাসের শিকার হয়েছে দল।
বর্তমান রাজপথের সহিংসতা ৬ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলছে। এতে হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে। এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড যে আওয়ামী লীগের স্থিতিশীলতা ঝুঁকিতে ফেলবে তেমন কোন ইঙ্গিত নেই বললেই চলে। সহিংসতা ও অগ্নিকাণ্ডের কারণে দেশজুড়ে নিরপরাধ মানুষ হুমকিতে রয়েছেন। এ ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগকারীদের পুরোপুরি ছত্রভঙ্গ বা দমন করতে পারছে কি না সে বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য কোন তথ্যপ্রমাণ নেই। এর ফলে দিনের পর দিন সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আতঙ্কে আছে সাধারণ মানুষ। নিরুপায় হয়ে এসব মানুষ শান্তি প্রত্যাশা করছে। রাজনৈতিক এই চলমান লড়াইকে ব্যবহার করে রাষ্ট্রের জন্য আরও ভয়ানক শত্রুদের উৎসাহিত করতে পারে বিদ্যমান রাজনৈতিক সঙ্কট। এর মাধ্যমে তারা তাদের অশুভ লক্ষ্য অর্জনের দিকে আরও এগিয়ে যাবে। রাজনীতিতে এমন কোন ঘটনা ঘটলে তা শুধু সঙ্কটকে স্থায়ী রূপই দেবে না, একই সঙ্গে তা আরও চরম আকার ধারণ করলে অগণতান্ত্রিক শক্তিগুলো পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করার চিন্তা করতে পারে। আমাদের শাসকগোষ্ঠী বা বিরোধী দল- কেউই নিশ্চিত নন যে, এমন হস্তক্ষেপ কোথায় গিয়ে শেষ হবে। রাজপথের সহিংসতা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কমই সফল করছে। এ অবস্থায় বিএনপিকে অস্থায়ী ভিত্তিতে তাদের আন্দোলন স্থগিত রাখার জন্য পরামর্শ দেয়াই ভাল হবে। যাতে সঙ্কট সমাধানের জন্য একটি সংলাপের পথ তৈরি হয়। তার পরও শাসকরা যদি কোন সাড়া না দেয়, তখন বিএনপি তাদের আন্দোলন আবার শুরু করতে পারে। সে ক্ষেত্রে তাদের সেই আন্দোলন হওয়া উচিত আরও শান্তিপূর্ণ উপায়ে, যা থেকে তারা জনগণের সমর্থন না পেলেও যাতে সহানুভূতি পেতে পারেন।
আওয়ামী লীগের সামনে যেসব পথ
বিরোধীদের পক্ষ থেকে শান্তি খোঁজার জন্য যে আহ্বান তাতে সরকার কতটুকু পুনর্জাগরণে সাড়া দেবে অথবা এতে তাদের রাজপথের চ্যালেঞ্জকে ম্লান হয়ে যাওয়া হিসেবে দেখা হবে কি না তা পরিষ্কার নয়। এরই মধ্যে ক্ষমতাসীন জোট তাদের কথা বলে দিয়েছে যে, তারা আইনশৃঙ্খলা সমস্যা চমৎকারভাবে মোকাবিলা করছে, যেখানে সহিংসতা শিগগিরই নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং বিরোধীদের নিশ্চল করে দেয়া যাবে। বর্তমান রাজনৈতিক সঙ্কটের সূচনা ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারিতে। সেই রাজনৈতিক সমস্যার উৎস থেকে শাসকগোষ্ঠী দৃষ্টি সরিয়ে নিয়েছে বলেই মনে হয়। গত এক বছর ধরে শাসকরা নির্বাচনের আগে ভোটারদের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতি থেকে নিজেদের দূরত্ব বজায় রেখেছে। ওই নির্বাচনের আগে তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, জানুয়ারির ওই নির্বাচন ছিল সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। সীমাবদ্ধতাকে কাটিয়ে উঠার জন্য তারা অধিক অংশগ্রহণমূলক মধ্যবর্তী একটি নির্বাচন দেবে। ১০ম জাতীয় সংসদের ওই নির্বাচন ছিল ত্রুটিপূর্ণ, এ সম্পর্কে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সবাই পূর্ণাঙ্গভাবে ওয়াকিবহাল। এতে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩ আসনের প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। ফলে, বর্তমান ১০ম সংসদের শতকরা ৫০ ভাগেরও বেশি সদস্য ও মন্ত্রিপরিষদের বেশির ভাগের পক্ষে একটি ভোটও পড়েনি। বাস্তবে যদি আমরা ধরে নিই নির্বাচন কমিশন বাকি ১৪৭টি আসনে ভোটের যে হিসাব দিয়েছে তাতে বলা হয়েছে ভোট পড়েছে শতকরা ৪০ ভাগ। কার্যত বর্তমান সংসদ মোট ভোটের শতকরা ১৮ ভাগ ভোটারের সমর্থন আদায় করেছে। কিন্তু ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচন ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। তাতে ভোট পড়েছিল শতকরা ৮৪ ভাগ। আওয়ামী লীগ ৬৫ বছর বয়সী একটি ঐতিহাসিক দল। প্রথমে পাকিস্তান পরে ১৯৭১ সাল থেকে বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিয়েছে। তারাই বিশ্বাসযোগ্য রাজনৈতিক ম্যান্ডেট ছাড়া এক বছরের বেশি রাষ্ট্রীয় সব ক্ষমতা ব্যবহার করছে। আওয়ামী লীগের জন্য এটি একটি অস্বাভাবিক অভিজ্ঞতা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উৎসাহমূলক নেতৃত্বের মাধ্যমে গণতন্ত্রের জন্য যে লড়াই চলছিল তা দৃশ্যত দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। তা থেকে রক্তপাতের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনকে তুঙ্গে তুলে দেয়। এসব আন্দোলনের সময়, বিভিন্ন রকমের কর্মকর্তা- নাশকতাকারী, দুর্বৃত্ত চক্র, সন্ত্রাসী ও বিশ্বাসঘাতকরা বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিন্দা জানিয়েছিল। ৬ দফা আন্দোলনকে দমিয়ে রাখতে মুখের ভাষাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের হুমকি দিয়েছিলেন আইয়ুব খান। বাংলাদেশে গণহত্যা চালানোর জন্য অস্ত্র ব্যবহার করেছিল ইয়াহিয়া খান। জিয়া ও এরশাদ, এমনকি খালেদা জিয়া যখন ক্ষমতায় ছিলেন তারাও ওই একই রকম আগ্রাসী ভাষা ব্যবহার করেছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের আন্দোলনের বিরুদ্ধে এসব ভাষা ও রাষ্ট্রীয় দমনপীড়ন ব্যবহার করা হয়েছিল। যে সঙ্কটের মূলে রয়েছে রাজনীতি তা সমাধানের জন্য আওয়ামী লীগ যদি সেই ব্যর্থ অস্ত্র ব্যবহার করে তাহলে তাদের উচিত তাদের নিজস্ব ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়া। ক্ষমতাসীন জোট এখন নির্বাচনে তাদের ম্যান্ডেটের বৈধতার কাছে আশ্রয় নিতে পারে। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় বিএনপির নির্বুদ্ধিতার বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে। বিএনপি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি তা যে ব্যর্থ হয়েছে তা এরই মধ্যে আমরা বুঝতে পেরেছি। পছন্দ-অপছন্দের বাইরে এসে এতে এখনও দেখা যায় কার্যত ২০১৪ সালের নির্বাচনে শতকরা ৮২ ভাগ মানুষ তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে নেতৃত্ব দানকারী একটি দল। তাদের ঐতিহাসিক রীতির সঙ্গে এ ঘটনা মিলানো যায় না। পরিষ্কার নির্বাচনী ম্যান্ডেট ছাড়া রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা আঁকড়ে ধরার তাদের যে প্রবণতা তা তাদের রাজনৈতিক ইতিহাসে নেই। এর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য তাদের যে অসংখ্য নেতাকর্মী ও তাদের মহান নেতা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের প্রতি অবমাননা করা হয়। দিন শেষে বলা যায়, সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটারের অবাধ ম্যান্ডেট ছাড়া কোন শাসকগোষ্ঠীর সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ আসে তা তারা রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার করে, বিভিন্ন সময়ে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের কারারুদ্ধ করে অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত দমিয়ে রাখা যায় না। কোন শাসকগোষ্ঠী তার ক্ষমতার মেয়াদে এমন দমনপীড়নমূলক শাসন চালালে তা শুধু ওই শাসকগোষ্ঠীর চরিত্রের পরিবর্তনই করে না, পাশাপাশি তারা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দেয়া থেকে নিজেদের বিরত রাখতে বাধ্য হয়।
আওয়ামী লীগ যদি তার নিজেকে পিছলে পড়ে যেতে পারে এমন একটি পাহাড়ের ঢালে নিয়ে যায়, যা তাদের উত্তরাধিকারের রাজনীতি থেকে দূরে, তখন গণতন্ত্র নিজে বিপন্ন হবে। তাতে শাসকগোষ্ঠীর টিকে থাকা ক্রমবর্ধমান হারে নির্ভর করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর দমনমূলক শক্তির ওপর। এমন নির্ভরতা প্রচলিত ধারায় ওইসব শক্তিকে আরও শক্তিশালী করেছে। যে রাজনৈতিক শক্তিগুলো তাদের ইতিহাসজুড়ে গণতন্ত্রের বাইরের ক্ষয়িষ্ণু শক্তিগুলোকে চ্যালেঞ্জ করেছে, তারাই ওইসব শক্তির কাছে শেষতক জিম্মি হয়ে পড়ে। এ প্রক্রিয়ার ফল হিসেবে ফিরতে পারে অগণতান্ত্রিক শাসন। এর ফলে অগণতান্ত্রিক শাসনে প্রত্যাবর্তন করতে পারে দেশ। এ ধরনের শাসনের মূল চ্যালেঞ্জ হলো- অন্য অগণতান্তিক শক্তির রয়েছে সহিংসতা প্রতিরোধ ও ছড়িয়ে দেয়া, দু’ধরনের ক্ষমতাই।
জাতির জনকের কন্যা, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান শাসকগোষ্ঠীকে শুধু বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখার জন্যই গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট প্রতিষ্ঠা করতে হবে তা-ই নয়, একই সঙ্গে যেখানে তিনি বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে দেখতে চান সেখান নিয়ে যাওয়ার এমন পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। দিন বদল নিয়ে তার যে এজেন্ডা তা বেশ অনুধাবনযোগ্য । এতে কৃষক সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি স্থিতিশীলতা দিয়েছে; তা কঠোর শ্রমজীবী, গতিশীল উদ্যোক্তা শ্রেণী, বিদেশে অভিবাসী পাঠানোর আমাদের যে রোমাঞ্চ রয়েছে, অর্থনীতিতে নারীদের ভূমিকা বৃদ্ধি করেছে। এর ফলে দেশে দারিদ্র্য হ্রাস ও মানব উন্নয়নের ক্ষেত্রগুলোতে উন্নয়নের মাধ্যমে জনগণের জীবনযাত্রার মানে এরই মধ্যে অগ্রগতি হয়েছে। গত ছয় বছর ধরে বিশ্ব অর্থনীতি যখন মন্দা মোকাবিলা করছে তখন আমাদের জাতীয় প্রবৃদ্ধির হার ও বৈদেশিক আয়ের পরিমাণ উৎসাহব্যঞ্জক। প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের গণহত্যায় সহায়তাকারীদের বিচারের মুখোমুখি করার বলিষ্ঠ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ উদ্যোগে তিনি পেয়েছেন জনগণের সমর্থন। এ অবস্থায়, তার পরিবর্তনের এজেন্ডা বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে অর্জিত রাজনৈতিক পুঁজি ব্যবহার ও অধিক ফলপ্রসূ মানসম্মত নেতৃত্ব প্রদর্শন করা উচিত। এর জন্য প্রয়োজন অধিক শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও প্রত্যাশিত রাজনৈতিক পরিবেশ, যা জাতিকে সহিংসতার অন্ধকার সুড়ঙ্গ, যেখানে তারা আটকরা পড়েছিল, সেখান থেকে বেরিয়ে আসবে। আরও একবার উত্তেজনা (টেনশন) ছাড়া ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। রাজপথের সহিংসতা অথবা রাষ্ট্রীয় ক্ষয়িষ্ণু শক্তির ওপর নির্ভর করার চেয়ে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে জনগণের প্রত্যাশিত জীবনমানের ধারা পুনঃপ্রতিষ্ঠার দিকে এগিয়ে যেতে হবে। এতে শেষ পর্যন্ত যে ফল হবে, তা অবশ্যই হবে একটি রাজনৈতিক সমাধান। এতে অবশ্যই সবার অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে। বর্তমান শাসকগোষ্ঠীকে সুষ্ঠুভাবে গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট অর্জনের মাধ্যমে তা করতে হবে।
কিভাবে এমন যথাযথ রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছা যায় তা অনুধাবন করা যায় শুধু সমঝোতামূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, যেটা হবে বোঝাপড়ার প্রতিজ্ঞা। এক পক্ষ সেরা শক্তিগুলো মোতায়েন করার মাধ্যমে তার সব উদ্দেশ্য সফল করার চেয়ে সবাইকে নিয়ে সমঝোতা করার ওপর ভিত্তি করেই গণতান্ত্রিক রাজনীতি গড়ে উঠেছে।
সুশীল সমাজের ভূমিকা?
দুই দলই স্বীকার করবে যে, দেশের স্বার্থের সঙ্গে সঙ্গে তাদের নিজেদের স্বার্থ রক্ষিত হতে পারে- এই বিশ্বাসে উপরের এই আলোচনা। দুঃখজনক হলো রাজনীতিকরা যে খেলার ফল শূন্য (জিরো সাম) এমন এক খেলায় মেতেছেন। তারা সমঝোতার মাধ্যমে এই সংঘাতের সমাধান চান বলে মোটেও মনে হচ্ছে না। যেহেতু রাজপথে চলমান সহিংসতা জনগণের মনে সবচেয়ে বেশি ভীতি সৃষ্টি করেছে তাই বিএনপিকে অস্থিরতা স্থগিত করে ও অগ্নিসংযোগ থেকে বিরত থেকে প্রথম পদক্ষেপ নিয়ে এগুতে হবে। ক্ষমতাসীন জোটের শীর্ষ নেতারা যেহেতু অধিক আগ্রাসী ভঙ্গিতে বিএনপি নেতাদের দিকে বাক্য ছুড়ে মারছেন তাতে বিএনপি নেতারা এই প্রথম পদক্ষেপ নেবে বলে ইঙ্গিত মিলছে না। ক্ষমতাসীনরা বিএনপিকে নকআউট করে দিতে চায় বলেই দৃশ্যত মনে হচ্ছে। চলমান এই রাজনৈতিক সহিংসতায় চূড়ান্ত বিজয় আছে বলে বিশ্বাস করা হয়। শেষ প্রান্তেও আলোর দেখা নেই এমন এক সুড়ঙ্গে আটকা পড়েছে জাতি।
এই যখন অচলাবস্থা তখন সুশীল সমাজের কি কোন ভূমিকা আছে, তারা তো দলীয় পক্ষপাতিত্বে বিভক্ত? যারা তাদেরকে পক্ষপাতহীন বলে বিশ্বাস করেন তারা তাদের বিশ্বাসের সঙ্গে প্রতারণা করছেন। ৯/১১ এর সময় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ অভিযোগ করেছিলেন ‘যারা আমার সঙ্গে নেই তারা অবশ্যই আমার বিরোধী’। সুশীল সমাজের ওই অংশের বিরুদ্ধে মেরুকরণের এই অভিযোগ করা হয়। ১৯৯৫ সালে জি-৫ বৈঠকে দুই নেতাকে যে প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল তার কোন সাড়া পাওয়া যায় নি। তাই সুশীল সমাজ সম্প্রতি যে উদ্যোগ নিয়েছে তার ভবিষ্যৎ নেই বললেই চলে। তাই বলে জনগণ যখন তাদের ক্রমবর্ধমান দুর্ভোগের জন্য একজন অবতার খুঁজবে তখন কিছুই করার থাকবে না- এমনটা ইঙ্গিত দেয় না। ঢাকাভিত্তিক সুশীল সমাজের উদ্যোগ যদি কোন কাজে আসে তাতে দেশের অন্যান্য নাগরিক গ্রুপ, যারা রাজনৈতিক উদ্বেগ ও সমাধানের জন্য প্রকাশ্যে কণ্ঠ সোচ্চার করবেন, তাদের পক্ষ থেকে একই রকম সাড়া পাওয়া প্রয়োজন হবে। যদি এ উদ্যোগ দ্রুত বিস্তার লাভ করে তাহলে তা রাজনৈতিক জোটগুলোকে অধিক শান্তিপূর্ণ একটি সমঝোতায় আসার জন্য অনুঘটকের কাজ করবে। এই রকম সম্ভাবনা এখনও অনুমানমূলক।
রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অধিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলতে সুশীল সমাজের গ্রুপগুলোর থাকতে হবে সমালোচনা সহ্য করার জন্য মোটা চামড়ার চেয়েও বেশি কিছু। এতে দীর্ঘ সময় ও শক্তি প্রয়োজন হবে। একই সঙ্গে ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হবে। আজ যাদেরকে নিয়ে বাংলাদেশের সুশীল সমাজ তার মধ্যে আছেন সব সময় রাজনীতিতে সক্রিয় নন (পার্ট টাইম), নিম্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী। তাদের জন্য এটা হতে পারে অধিক চ্যালেঞ্জিং কাজ।
নোট: প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহানের লেখাটি ইংরেজি থেকে অনূদিত। লেখাটি ২০শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা ট্রিবিউনে প্রকাশিত হয়
হতাহতের শিকার বেশির ভাগই নিরপরাধ বেসামরিক মানুষ। বাস্তবতার কারণে তাদের বাধ্য হয়েই পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করতে হয়েছে। বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নারী ও শিশুরা, কেননা জ্বলন্ত গাড়ি থেকে দ্রুত বের হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের পেছনে পড়ার সম্ভাবনাই বেশি। বিরাজমান রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে কোন সম্পৃক্ততা নেই এমন বেসামরিক মানুষকে ব্যাপক হারে টার্গেট করার যে কোন রাজনৈতিক আন্দোলনের কৌশল অমানবিক, অনৈতিক, এবং রাজনৈতিকভাবে অফলপ্রসূ।
এমন কৌশল একটি দলের প্রতি জন-অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে, যারা কিনা জনগণের কিছুটা সহানুভূতি পেতে পারতো। কেননা এখন পর্যন্ত সরকারি দমন-পীড়নের শিকার হয়েছে তারাই। রাজনৈতিক একটি দল যখন এমন কর্মকাণ্ডের ওপর নির্ভরশীল, যাতে তাদের ওপর দমন পীড়নকারী নানা এজেন্ট প্রধানত আক্রান্ত হওয়ার বাইরে থেকে যায় আর অসহায় বেসামরিক মানুষদের টার্গেট হতে হয়, তাতে রাজনৈতিক নির্বুদ্ধিতা প্রতিফলিত হয়। একইভাবে প্রতিফলিত হয় সাংগঠনিক দুর্বলতা।
বিরাজমান সহিংস পরিস্থিতি আর স্থিতিহীনতার মধ্যে দোষারোপ করার খেলার যথার্থতা সামান্যই। আমাদের গভীরভাবে বিভক্ত রাজনৈতিক সমাজে উভয় পক্ষে এমন মানুষের অভাব নেই, যারা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর কর্মকাণ্ড আর উদ্দেশ্যকে সম্ভাব্য সব থেকে মন্দ রূপ দেয়।
তাদের নানা মন্তব্য আর কর্মকাণ্ডে প্রতীয়মান হয় যে, ক্ষমতাসীন দল বিরোধী দলকে বিরোধী হিসেবে সক্রিয় থাকতে কোন প্রকার রাজনৈতিক সুযোগ দেয়ার পরিবর্তে তাদেরকে রাজনৈতিকভাবে এবং এমনকি বলপ্রয়োগ করে গুঁড়িয়ে দিতে চায়। একই দৃষ্টিভঙ্গি শুধু তাদের রাজনৈতিক মিত্ররা পোষণ করেন তা নয় বরং তাদের বুদ্ধিজীবী সহযাত্রীরাও অধিকরতর বল প্রয়োগের অনড় দাবিতে রাজনীতিবিদদের তুলনায় আগ্রাসী প্রতিভাত হন।
পক্ষান্তরে, প্রতিপক্ষকে উৎখাত করা তো দূরে থাক মোকাবিলার করতে সমর্থ এমনটা সামান্যই প্রদর্শন করতে পেরেছে বিরোধী দল। অসর্মথতার এ বোধ বিরোধীদেরকে বিক্ষিপ্ত এবং বাছবিচারহীন সহিংস কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করতে প্ররোচিত করেছে; যা সরকারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বাধ্য করা বা বিরোধীদের রাজনৈতিক লক্ষ্যের কাছাকাছি আনার তুলনায় নিরপরাধ প্রাণের বলিতে পর্যবসিত হচ্ছে।
অগণতান্ত্রিক শক্তির হস্তক্ষেপে বাধ্য হওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি ব্যতীত এমন চর্চা থেকে বিএনপি কি অর্জনের আশা করছে তা স্পষ্ট নয়। যেমনটা হয়েছিল ১/১১ এ। যেহেতু এমন একটি উদ্যোগ অফলপ্রসূ বলে প্রতীয়মান হয়েছে ২০১৪’র জানুয়ারি নির্বাচনের সময় পর্যন্ত; এটা পরিষ্কার নয়, কেন আজ এতে অপেক্ষাকৃত ইতিবাচক ফল আসতে পারে। এমন সম্ভাবনাবিহীন পরিবেশের মধ্যে কেউ কি গঠনমূলক সুপারিশের প্রস্তাব করার প্রত্যাশা করতে পারেন, যাতে কোন পক্ষের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ বিন্দুমাত্র মনোযোগ দেবে? এমন সম্ভাবনা অতীতে একবার এসেছিল ১৯৯৫-৯৬ সালে। সেবার অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের ইস্যুতে একই রকম মুখোমুখি অবস্থান জাতীয় উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল। ১৯৯৫ সালে এখন বিস্মৃত ৫ জনের একটি দলে’র একজন সদস্য হিসেবে দুই নেত্রীর মধ্যে রাজনৈতিক মধ্যস্থতা করার উদ্যোগে অংশগ্রহণ করার সুযোগ হয়েছিল। এফবিসিসিআই ও এমসিসিআইসহ নাগরিক সমাজের বড় একটি জোটের উদ্যোগে ওই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল। প্রকৃত জি-৫ এর চার জন- ব্যারিস্টার ইশতিয়াক আহমেদ, প্রধান বিচারপতি কামালুদ্দিন হুসেইন, রাষ্ট্রদূত ফখরুদ্দিন আহমেদ ও সিনিয়র সাংবাদিক ফয়েজ আহমেদ এ পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। হতাশার ওই উদ্যোগের একমাত্র জীবিত ব্যক্তি আমি।
জি-৫ এর উদ্যোগে যতটুকু অগ্রগতি হয়েছিল তার পেছনে যে বিষয়টি কাজ করেছিল তাহলো উভয় নেত্রী তখন কোন প্রকার সমঝোতার বিষয়ে বিরূপ ছিলেন না। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের সম্পূর্ণ বিপরীত, তখন জি-৫কে সাদরে গ্রহণ করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা। তারা দুজনই আমাদেরকে কয়েক দফা ধৈর্যের সহিত লম্বা শুনানি দিয়েছিলেন। আমাদের উদ্যোগ সফলতার কাছাকাছি এসেছিল কিন্তু একটি মাত্র ইস্যুতে তা থমকে যায়। বেগম খালেদা জিয়ার জোর দাবি ছিল যে, উভয় দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হতে হবে তিনি ব্যতীত বিএনপি’র কোন এমপিকে। সে সময় যেটা ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ দল। শেখ হাসিনা তার দাবিতে অনড় ছিলেন যে, সরকারপ্রধানকে হতে হবে নির্দলীয় কোন ব্যক্তি যাকে এ উদ্দেশ্যে বিশেষভাবে সংসদে নির্বাচিত করা যেতে পারে। খালেদা জিয়া দাবি করেছিলেন, তার অবস্থানের ভিত্তি ছিল সংবিধান রক্ষার প্রয়োজনীয়তা। পক্ষান্তরে শেখ হাসিনা যুক্তি প্রদর্শন করেছিলেন, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দ্বারা নির্বাচন পরিচালিত হওয়ার স্বার্থে সংবিধান সংশোধন করা যেতে পারে এবং করা উচিত। আজ, দুই নেত্রী তাদের আসন এবং যুক্তি উভয়ই অদল-বদল করেছেন। জি-৫ এর মতো বা উন্নততর উদ্যোগ গ্রহণে নাগরিক সমাজের প্রচেষ্টাগুলো সাংঘাতিকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
ঘটনার মুখ্য চরিত্রদের মধ্যকার ব্যবধান যে প্রায় সেতুবন্ধনের অযোগ্য গহ্বরে বিস্তৃত হয়েছে সেই বোধের দ্বারা। দুই নেত্রীর মধ্যে সংলাপে উৎসাহিত করতে কতিপয় বিশিষ্ট নাগরিকদের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ ক্ষমতাসীন দলের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে বলে প্রতিয়মান হয়। বরং, নাগরিকদের উদ্যোগ বিদ্যমান বিষাক্ত পরিবেশের মধ্য থেকে সাহসিকতাপূর্ণ এক প্রশংসনীয় পদক্ষেপের প্রতীক। এটা এখন পর্যন্ত চরম লজ্জাজনক ও অরুচিকর কটূক্তিমূলক মন্তব্য উসকে দিয়েছে। শুধুমাত্র ক্ষমতাসীন জোটের মাথা-মোটা উপাদানদের কাছ থেকে সেগুলো এসেছে তা নয়। এমনকি সরকারের কতিপয় অধিকতর পরিপক্ব সদস্যদের কাছ থেকেও এমন মন্তব্য এসেছে, যারা ঘোষণা দিয়েছেন, ‘ভাল’ আর ‘মন্দের’ মধ্যে সংলাপের কোন সুযোগ নেই।
সম্ভবত তাদের কাছে ১৯৭১-এর মার্চে বঙ্গবন্ধু আর ইয়াহিয়ার মধ্যকার সংলাপের কথা বিস্মৃত হয়েছে। অথবা, ইয়াসির আরাফাত আর ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর মধ্যকার সংলাপ বা ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় কিসিঞ্জার এবং লি যাক থো’র সংলাপ। অথবা, সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত যুক্তরাষ্ট্র ও আফগান তালেবানদের মধ্যকার সংলাপ যা সংযুক্ত আরব আমিরাতে গোপনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
বিএনপির সামনে যেসব পথ
বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে চলা আর অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান ক্ষতির আলোকে গভীরতর সঙ্কটের ঘূর্ণাবর্তে নিম্নমুখী অধঃপতন প্রতিহত করতে কি করা যেতে পারে? দুই মুখ্য চরিত্রের কাছে কিসব পথ খোলা আছে সেগুলো পর্যালোচনা করা যাক।
গত নয় বছর ধরে, সরকারি দমন-পীড়নের মুখে ছিল বিএনপি। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির জন্য রাজনৈতিক সুযোগ এতটাই সঙ্কীর্ণ হয়ে এসেছে, যেখানে তারা বাংলাদেশের রাজধানীতে জনসমাবেশও করতে পারছে না। দলটির নেতাদের চলাচলের স্বাধীনতা নিয়মিত বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। আর তাদের সিনিয়ার নেতাদের নিয়মিত কারারুদ্ধ করা হয়েছে।
এমন একটি পরিস্থিতি বিরোধীদের রাজনৈতিক সুযোগকে মারাত্মকভাবে সীমাবদ্ধ করে দেয় এবং এটা গণতন্ত্রের সার্বিক মূল্যবোধের পরিপন্থি। আইন প্রয়োগকারী সংখ্যাগুলোর ম্যাজিক্যাল ক্ষমতার আপাত প্রয়োগ তাদেরকে অসুবিধাজনক বিরোধী নেতাদের অদৃশ্য করে ফেলার সুযোগ করে দেয়; জীবন থেকে না হলেও অন্তত জনগণের দৃষ্টি থেকে। আমরা যে আইনের শাসনের মধ্যে বাস করি এটা তার সামান্যই প্রমাণ বহন করে।
এমন বৈরী রাজনৈতিক পরিবেশে বিরোধীদল কোনভাবে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে। যখন তাদেরকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়েছিল, তারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ পৌরসভাগুলোতে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে জিততে সক্ষম হয়।
তাদের রাজনৈতিক সক্ষমতার এই বোধ প্রতিকুল পরিস্থিতির মধ্যে প্রদর্শিত হয়। এটা অধিকতর মানবকল্যাণ ভিত্তিক রাজনৈতিক কৌশল পরিকল্পনা প্রণয়নে বিএনপিকে উৎসাহিত করা উচিত ছিল। যৌক্তিকভাবে তাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত ছিল ক্ষমতাসীন জোটের সঙ্গে সম্ভাব্য সকল পর্যায়ে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নেয়া।
এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেশজুড়ে মানুষের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তাদেরকে করে দিতো। একইসঙ্গে তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগও আকর্ষণ করতে পারতো। যার দ্বারা নিজেদের রাজনৈতিক সামর্থ্য ও বার্তা প্রদর্শন করতে পারতো।
জানুয়ারি নির্বাচনের আগ দিয়ে বিরোধীদের কাছে প্রস্তাবিত সকল সুযোগ গ্রহণ করা উচিত ছিল। এর মধ্যে ছিল, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন সরকারে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় দেয়ার প্রস্তাব। এমন পরিস্থিতির মধ্যে আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হতো এমন কোন নিশ্চয়তা নেই। তবুও, জানুয়ারি নির্বাচনে বিএনপির নিজেদের সাংগঠনিক সীমবদ্ধতার আলোকে, এটা নেয়ার মতো একটা ঝুঁকি ছিল।
এমন একটি সুযোগ কাজে লাগানোর ব্যর্থতা থেকে বিএনপির রাজনৈতিক ভুল প্রতিফলিত হয়। আর বিশেষ করে ঢাকা ও লন্ডনে ছড়িয়ে পড়া দলটির দ্বৈত নেতৃত্ব এখন পর্যন্ত তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।
বিএনপির এ ভুল হিসাব যে বিষয়টির ওপর ভিত্তি করে এসেছে তাহলো- তাদের সাংগঠনিক ও রাজপথে লড়াইয়ের ক্ষমতার অতিমূল্যায়ন এবং রাজপথের যেকোন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের সদিচ্ছা ও সামর্থ্যকে খাটো করে দেখা।
খালেদা জিয়ার সন্তান আরাফাতের করুণ ও অকাল মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী সমবেদনা জানানোর চেষ্টা করেছিলেন। ওই ঘটনা দ্বৈত নেতৃত্ব থেকে উঠে আসা বিএনপির রাজনৈতিক শূন্যতার সাম্প্রতিক প্রকাশ চরম ব্যর্থতা হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বন্ধ দরজার সামনে অপেক্ষমাণ রাখাটা শুধু সাংস্কৃতিক চৈতন্যহীনতার নয় একইসঙ্গে দুর্ব্যবহারের প্রতিফলন। এছাড়া বিএনপির সিনিয়র নেতৃত্বের বিশৃঙ্খলা উঠে এসেছে যারা বন্ধ দরজার পেছনে দ্বিধান্বিত ছিলেন। এদিকে জনগণের উপহাসের শিকার হয়েছে দল।
বর্তমান রাজপথের সহিংসতা ৬ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলছে। এতে হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে। এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড যে আওয়ামী লীগের স্থিতিশীলতা ঝুঁকিতে ফেলবে তেমন কোন ইঙ্গিত নেই বললেই চলে। সহিংসতা ও অগ্নিকাণ্ডের কারণে দেশজুড়ে নিরপরাধ মানুষ হুমকিতে রয়েছেন। এ ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগকারীদের পুরোপুরি ছত্রভঙ্গ বা দমন করতে পারছে কি না সে বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য কোন তথ্যপ্রমাণ নেই। এর ফলে দিনের পর দিন সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আতঙ্কে আছে সাধারণ মানুষ। নিরুপায় হয়ে এসব মানুষ শান্তি প্রত্যাশা করছে। রাজনৈতিক এই চলমান লড়াইকে ব্যবহার করে রাষ্ট্রের জন্য আরও ভয়ানক শত্রুদের উৎসাহিত করতে পারে বিদ্যমান রাজনৈতিক সঙ্কট। এর মাধ্যমে তারা তাদের অশুভ লক্ষ্য অর্জনের দিকে আরও এগিয়ে যাবে। রাজনীতিতে এমন কোন ঘটনা ঘটলে তা শুধু সঙ্কটকে স্থায়ী রূপই দেবে না, একই সঙ্গে তা আরও চরম আকার ধারণ করলে অগণতান্ত্রিক শক্তিগুলো পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করার চিন্তা করতে পারে। আমাদের শাসকগোষ্ঠী বা বিরোধী দল- কেউই নিশ্চিত নন যে, এমন হস্তক্ষেপ কোথায় গিয়ে শেষ হবে। রাজপথের সহিংসতা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কমই সফল করছে। এ অবস্থায় বিএনপিকে অস্থায়ী ভিত্তিতে তাদের আন্দোলন স্থগিত রাখার জন্য পরামর্শ দেয়াই ভাল হবে। যাতে সঙ্কট সমাধানের জন্য একটি সংলাপের পথ তৈরি হয়। তার পরও শাসকরা যদি কোন সাড়া না দেয়, তখন বিএনপি তাদের আন্দোলন আবার শুরু করতে পারে। সে ক্ষেত্রে তাদের সেই আন্দোলন হওয়া উচিত আরও শান্তিপূর্ণ উপায়ে, যা থেকে তারা জনগণের সমর্থন না পেলেও যাতে সহানুভূতি পেতে পারেন।
আওয়ামী লীগের সামনে যেসব পথ
বিরোধীদের পক্ষ থেকে শান্তি খোঁজার জন্য যে আহ্বান তাতে সরকার কতটুকু পুনর্জাগরণে সাড়া দেবে অথবা এতে তাদের রাজপথের চ্যালেঞ্জকে ম্লান হয়ে যাওয়া হিসেবে দেখা হবে কি না তা পরিষ্কার নয়। এরই মধ্যে ক্ষমতাসীন জোট তাদের কথা বলে দিয়েছে যে, তারা আইনশৃঙ্খলা সমস্যা চমৎকারভাবে মোকাবিলা করছে, যেখানে সহিংসতা শিগগিরই নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং বিরোধীদের নিশ্চল করে দেয়া যাবে। বর্তমান রাজনৈতিক সঙ্কটের সূচনা ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারিতে। সেই রাজনৈতিক সমস্যার উৎস থেকে শাসকগোষ্ঠী দৃষ্টি সরিয়ে নিয়েছে বলেই মনে হয়। গত এক বছর ধরে শাসকরা নির্বাচনের আগে ভোটারদের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতি থেকে নিজেদের দূরত্ব বজায় রেখেছে। ওই নির্বাচনের আগে তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, জানুয়ারির ওই নির্বাচন ছিল সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। সীমাবদ্ধতাকে কাটিয়ে উঠার জন্য তারা অধিক অংশগ্রহণমূলক মধ্যবর্তী একটি নির্বাচন দেবে। ১০ম জাতীয় সংসদের ওই নির্বাচন ছিল ত্রুটিপূর্ণ, এ সম্পর্কে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সবাই পূর্ণাঙ্গভাবে ওয়াকিবহাল। এতে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩ আসনের প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। ফলে, বর্তমান ১০ম সংসদের শতকরা ৫০ ভাগেরও বেশি সদস্য ও মন্ত্রিপরিষদের বেশির ভাগের পক্ষে একটি ভোটও পড়েনি। বাস্তবে যদি আমরা ধরে নিই নির্বাচন কমিশন বাকি ১৪৭টি আসনে ভোটের যে হিসাব দিয়েছে তাতে বলা হয়েছে ভোট পড়েছে শতকরা ৪০ ভাগ। কার্যত বর্তমান সংসদ মোট ভোটের শতকরা ১৮ ভাগ ভোটারের সমর্থন আদায় করেছে। কিন্তু ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচন ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। তাতে ভোট পড়েছিল শতকরা ৮৪ ভাগ। আওয়ামী লীগ ৬৫ বছর বয়সী একটি ঐতিহাসিক দল। প্রথমে পাকিস্তান পরে ১৯৭১ সাল থেকে বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিয়েছে। তারাই বিশ্বাসযোগ্য রাজনৈতিক ম্যান্ডেট ছাড়া এক বছরের বেশি রাষ্ট্রীয় সব ক্ষমতা ব্যবহার করছে। আওয়ামী লীগের জন্য এটি একটি অস্বাভাবিক অভিজ্ঞতা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উৎসাহমূলক নেতৃত্বের মাধ্যমে গণতন্ত্রের জন্য যে লড়াই চলছিল তা দৃশ্যত দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। তা থেকে রক্তপাতের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনকে তুঙ্গে তুলে দেয়। এসব আন্দোলনের সময়, বিভিন্ন রকমের কর্মকর্তা- নাশকতাকারী, দুর্বৃত্ত চক্র, সন্ত্রাসী ও বিশ্বাসঘাতকরা বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিন্দা জানিয়েছিল। ৬ দফা আন্দোলনকে দমিয়ে রাখতে মুখের ভাষাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের হুমকি দিয়েছিলেন আইয়ুব খান। বাংলাদেশে গণহত্যা চালানোর জন্য অস্ত্র ব্যবহার করেছিল ইয়াহিয়া খান। জিয়া ও এরশাদ, এমনকি খালেদা জিয়া যখন ক্ষমতায় ছিলেন তারাও ওই একই রকম আগ্রাসী ভাষা ব্যবহার করেছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের আন্দোলনের বিরুদ্ধে এসব ভাষা ও রাষ্ট্রীয় দমনপীড়ন ব্যবহার করা হয়েছিল। যে সঙ্কটের মূলে রয়েছে রাজনীতি তা সমাধানের জন্য আওয়ামী লীগ যদি সেই ব্যর্থ অস্ত্র ব্যবহার করে তাহলে তাদের উচিত তাদের নিজস্ব ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়া। ক্ষমতাসীন জোট এখন নির্বাচনে তাদের ম্যান্ডেটের বৈধতার কাছে আশ্রয় নিতে পারে। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় বিএনপির নির্বুদ্ধিতার বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে। বিএনপি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি তা যে ব্যর্থ হয়েছে তা এরই মধ্যে আমরা বুঝতে পেরেছি। পছন্দ-অপছন্দের বাইরে এসে এতে এখনও দেখা যায় কার্যত ২০১৪ সালের নির্বাচনে শতকরা ৮২ ভাগ মানুষ তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে নেতৃত্ব দানকারী একটি দল। তাদের ঐতিহাসিক রীতির সঙ্গে এ ঘটনা মিলানো যায় না। পরিষ্কার নির্বাচনী ম্যান্ডেট ছাড়া রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা আঁকড়ে ধরার তাদের যে প্রবণতা তা তাদের রাজনৈতিক ইতিহাসে নেই। এর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য তাদের যে অসংখ্য নেতাকর্মী ও তাদের মহান নেতা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের প্রতি অবমাননা করা হয়। দিন শেষে বলা যায়, সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটারের অবাধ ম্যান্ডেট ছাড়া কোন শাসকগোষ্ঠীর সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ আসে তা তারা রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার করে, বিভিন্ন সময়ে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের কারারুদ্ধ করে অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত দমিয়ে রাখা যায় না। কোন শাসকগোষ্ঠী তার ক্ষমতার মেয়াদে এমন দমনপীড়নমূলক শাসন চালালে তা শুধু ওই শাসকগোষ্ঠীর চরিত্রের পরিবর্তনই করে না, পাশাপাশি তারা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দেয়া থেকে নিজেদের বিরত রাখতে বাধ্য হয়।
আওয়ামী লীগ যদি তার নিজেকে পিছলে পড়ে যেতে পারে এমন একটি পাহাড়ের ঢালে নিয়ে যায়, যা তাদের উত্তরাধিকারের রাজনীতি থেকে দূরে, তখন গণতন্ত্র নিজে বিপন্ন হবে। তাতে শাসকগোষ্ঠীর টিকে থাকা ক্রমবর্ধমান হারে নির্ভর করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর দমনমূলক শক্তির ওপর। এমন নির্ভরতা প্রচলিত ধারায় ওইসব শক্তিকে আরও শক্তিশালী করেছে। যে রাজনৈতিক শক্তিগুলো তাদের ইতিহাসজুড়ে গণতন্ত্রের বাইরের ক্ষয়িষ্ণু শক্তিগুলোকে চ্যালেঞ্জ করেছে, তারাই ওইসব শক্তির কাছে শেষতক জিম্মি হয়ে পড়ে। এ প্রক্রিয়ার ফল হিসেবে ফিরতে পারে অগণতান্ত্রিক শাসন। এর ফলে অগণতান্ত্রিক শাসনে প্রত্যাবর্তন করতে পারে দেশ। এ ধরনের শাসনের মূল চ্যালেঞ্জ হলো- অন্য অগণতান্তিক শক্তির রয়েছে সহিংসতা প্রতিরোধ ও ছড়িয়ে দেয়া, দু’ধরনের ক্ষমতাই।
জাতির জনকের কন্যা, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান শাসকগোষ্ঠীকে শুধু বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখার জন্যই গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট প্রতিষ্ঠা করতে হবে তা-ই নয়, একই সঙ্গে যেখানে তিনি বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে দেখতে চান সেখান নিয়ে যাওয়ার এমন পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। দিন বদল নিয়ে তার যে এজেন্ডা তা বেশ অনুধাবনযোগ্য । এতে কৃষক সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি স্থিতিশীলতা দিয়েছে; তা কঠোর শ্রমজীবী, গতিশীল উদ্যোক্তা শ্রেণী, বিদেশে অভিবাসী পাঠানোর আমাদের যে রোমাঞ্চ রয়েছে, অর্থনীতিতে নারীদের ভূমিকা বৃদ্ধি করেছে। এর ফলে দেশে দারিদ্র্য হ্রাস ও মানব উন্নয়নের ক্ষেত্রগুলোতে উন্নয়নের মাধ্যমে জনগণের জীবনযাত্রার মানে এরই মধ্যে অগ্রগতি হয়েছে। গত ছয় বছর ধরে বিশ্ব অর্থনীতি যখন মন্দা মোকাবিলা করছে তখন আমাদের জাতীয় প্রবৃদ্ধির হার ও বৈদেশিক আয়ের পরিমাণ উৎসাহব্যঞ্জক। প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের গণহত্যায় সহায়তাকারীদের বিচারের মুখোমুখি করার বলিষ্ঠ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ উদ্যোগে তিনি পেয়েছেন জনগণের সমর্থন। এ অবস্থায়, তার পরিবর্তনের এজেন্ডা বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে অর্জিত রাজনৈতিক পুঁজি ব্যবহার ও অধিক ফলপ্রসূ মানসম্মত নেতৃত্ব প্রদর্শন করা উচিত। এর জন্য প্রয়োজন অধিক শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও প্রত্যাশিত রাজনৈতিক পরিবেশ, যা জাতিকে সহিংসতার অন্ধকার সুড়ঙ্গ, যেখানে তারা আটকরা পড়েছিল, সেখান থেকে বেরিয়ে আসবে। আরও একবার উত্তেজনা (টেনশন) ছাড়া ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। রাজপথের সহিংসতা অথবা রাষ্ট্রীয় ক্ষয়িষ্ণু শক্তির ওপর নির্ভর করার চেয়ে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে জনগণের প্রত্যাশিত জীবনমানের ধারা পুনঃপ্রতিষ্ঠার দিকে এগিয়ে যেতে হবে। এতে শেষ পর্যন্ত যে ফল হবে, তা অবশ্যই হবে একটি রাজনৈতিক সমাধান। এতে অবশ্যই সবার অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে। বর্তমান শাসকগোষ্ঠীকে সুষ্ঠুভাবে গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট অর্জনের মাধ্যমে তা করতে হবে।
কিভাবে এমন যথাযথ রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছা যায় তা অনুধাবন করা যায় শুধু সমঝোতামূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, যেটা হবে বোঝাপড়ার প্রতিজ্ঞা। এক পক্ষ সেরা শক্তিগুলো মোতায়েন করার মাধ্যমে তার সব উদ্দেশ্য সফল করার চেয়ে সবাইকে নিয়ে সমঝোতা করার ওপর ভিত্তি করেই গণতান্ত্রিক রাজনীতি গড়ে উঠেছে।
সুশীল সমাজের ভূমিকা?
দুই দলই স্বীকার করবে যে, দেশের স্বার্থের সঙ্গে সঙ্গে তাদের নিজেদের স্বার্থ রক্ষিত হতে পারে- এই বিশ্বাসে উপরের এই আলোচনা। দুঃখজনক হলো রাজনীতিকরা যে খেলার ফল শূন্য (জিরো সাম) এমন এক খেলায় মেতেছেন। তারা সমঝোতার মাধ্যমে এই সংঘাতের সমাধান চান বলে মোটেও মনে হচ্ছে না। যেহেতু রাজপথে চলমান সহিংসতা জনগণের মনে সবচেয়ে বেশি ভীতি সৃষ্টি করেছে তাই বিএনপিকে অস্থিরতা স্থগিত করে ও অগ্নিসংযোগ থেকে বিরত থেকে প্রথম পদক্ষেপ নিয়ে এগুতে হবে। ক্ষমতাসীন জোটের শীর্ষ নেতারা যেহেতু অধিক আগ্রাসী ভঙ্গিতে বিএনপি নেতাদের দিকে বাক্য ছুড়ে মারছেন তাতে বিএনপি নেতারা এই প্রথম পদক্ষেপ নেবে বলে ইঙ্গিত মিলছে না। ক্ষমতাসীনরা বিএনপিকে নকআউট করে দিতে চায় বলেই দৃশ্যত মনে হচ্ছে। চলমান এই রাজনৈতিক সহিংসতায় চূড়ান্ত বিজয় আছে বলে বিশ্বাস করা হয়। শেষ প্রান্তেও আলোর দেখা নেই এমন এক সুড়ঙ্গে আটকা পড়েছে জাতি।
এই যখন অচলাবস্থা তখন সুশীল সমাজের কি কোন ভূমিকা আছে, তারা তো দলীয় পক্ষপাতিত্বে বিভক্ত? যারা তাদেরকে পক্ষপাতহীন বলে বিশ্বাস করেন তারা তাদের বিশ্বাসের সঙ্গে প্রতারণা করছেন। ৯/১১ এর সময় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ অভিযোগ করেছিলেন ‘যারা আমার সঙ্গে নেই তারা অবশ্যই আমার বিরোধী’। সুশীল সমাজের ওই অংশের বিরুদ্ধে মেরুকরণের এই অভিযোগ করা হয়। ১৯৯৫ সালে জি-৫ বৈঠকে দুই নেতাকে যে প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল তার কোন সাড়া পাওয়া যায় নি। তাই সুশীল সমাজ সম্প্রতি যে উদ্যোগ নিয়েছে তার ভবিষ্যৎ নেই বললেই চলে। তাই বলে জনগণ যখন তাদের ক্রমবর্ধমান দুর্ভোগের জন্য একজন অবতার খুঁজবে তখন কিছুই করার থাকবে না- এমনটা ইঙ্গিত দেয় না। ঢাকাভিত্তিক সুশীল সমাজের উদ্যোগ যদি কোন কাজে আসে তাতে দেশের অন্যান্য নাগরিক গ্রুপ, যারা রাজনৈতিক উদ্বেগ ও সমাধানের জন্য প্রকাশ্যে কণ্ঠ সোচ্চার করবেন, তাদের পক্ষ থেকে একই রকম সাড়া পাওয়া প্রয়োজন হবে। যদি এ উদ্যোগ দ্রুত বিস্তার লাভ করে তাহলে তা রাজনৈতিক জোটগুলোকে অধিক শান্তিপূর্ণ একটি সমঝোতায় আসার জন্য অনুঘটকের কাজ করবে। এই রকম সম্ভাবনা এখনও অনুমানমূলক।
রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অধিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলতে সুশীল সমাজের গ্রুপগুলোর থাকতে হবে সমালোচনা সহ্য করার জন্য মোটা চামড়ার চেয়েও বেশি কিছু। এতে দীর্ঘ সময় ও শক্তি প্রয়োজন হবে। একই সঙ্গে ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হবে। আজ যাদেরকে নিয়ে বাংলাদেশের সুশীল সমাজ তার মধ্যে আছেন সব সময় রাজনীতিতে সক্রিয় নন (পার্ট টাইম), নিম্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী। তাদের জন্য এটা হতে পারে অধিক চ্যালেঞ্জিং কাজ।
নোট: প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহানের লেখাটি ইংরেজি থেকে অনূদিত। লেখাটি ২০শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা ট্রিবিউনে প্রকাশিত হয়
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1429)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
February
(1363)
-
▼
Feb 25
(47)
- সশস্ত্র বাহিনীকে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে মামলা : ১...
- বিচারপতি টিএইচ খানের বাসা ঘিরে পুলিশ
- ছয় বছরেও শেষ হয়নি বিস্ফোরক মামলার বিচার by নুরুজ্জ...
- জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী, বাংলাদেশ নিয়ে প্রশ্ন
- অমর্ত্য সেনের বক্তৃতা
- ফোনালাপে তোলপাড় by শেখ মামুনূর রশীদ
- সঙ্কট সমাধানের উপায় by আনু মুহাম্মদ
- লাশ ফেলার কথা ডাঁহা মিথ্যা -সাদেক হোসেন খোকা by মন...
- কুড়ি ঘণ্টা কোথায় ছিলেন মান্না?
- সানার বাইরে আলোচনা চান মনসুর হাদী
- মোদি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে আন্না হাজারে
- সরকারের লক্ষ্য সবার উন্নয়ন
- মমতার সফরে কী পেল বাংলাদেশ? by আলী ইমাম মজুমদার
- সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান অনুসরণ করে সশস...
- পিলখানার শহীদগণের প্রতি শ্রদ্ধা by সৈয়দ মুহাম্মদ ই...
- ফলাফলশূন্য খেলায় নেমেছেন রাজনীতিকরা by রেহমান সোবহান
- ২১ ঘণ্টা পর মান্নাকে ডিবিতে হস্তান্তর
- কার স্বার্থে অবলোপনকৃত ঋণের হিসাব গোপন রাখা by ম...
- গা বাঁচিয়ে আন্দোলনের চেষ্টা জামায়াতের by আহমেদ জামাল
- ভিভিআইপিসহ মন্ত্রী, এমপিদের নিরাপত্তা জোরদারের সুপ...
- লঞ্চডুবি: মৃত্যু ৮১, নিখোঁজ ১১ ‘লাশ পেলাম না’ by র...
- এ কথাই কি লেখা ছিল ভাগ্যে? by ড. মাহবুব উল্লাহ্
- ভিরুঙ্গা ও বাংলাদেশ by হাসান ফেরদৌস
- সড়ক বন্ধ করে নৌপরিবহনমন্ত্রীর সমাবেশ
- বাংলা একাডেমির বইমেলা প্রসঙ্গে by বদরুদ্দীন উমর
- জাতীয় ভাষা জাতির ধমনির রক্ত by সৈয়দ আবুল মকসুদ
- মমতা ব্যানার্জির সফর; অতঃপর... by নূরে আলম সিদ্দিকী
- বেহাল ব্যবসা বিনিয়োগ
- প্রলম্বিত রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব পড়ছে রপ্তানি ও...
- মমতার ঢাকা সফর- শুধু কথায় চিড়ে ভিজে না by হাসান শা...
- সহিংসতা অর্থনীতির বিপর্যয় ডেকে এনেছে by এমএ খালেক
- বাংলা ভাষা জনম দুঃখিনী by আবুল আহসান চৌধুরী
- বোঝাপড়া উন্নত করার সফর by হুমায়ুন কবির
- গেইল বিস্ফোরণ
- যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন পেট্রলবোমায় দগ্ধ রশিদ by রোকন...
- ‘ধরে নিয়ে পুলিশের গুলি’ পঙ্গুতে নুরুজ্জামানের আহাজ...
- তিনজনের দেহে ৫৪ গুলি, পুলিশ বলছে গণপিটুনি
- বাংলিশ-হিংলিশ by মাহফুজুর রহমান মানিক
- শোকাবহ পিলখানা হত্যা দিবস আজ by আবু সালেহ আকন
- প্রবাসে কঠিন জীবনে..., আরব আমিরাতে অগি্নকাণ্ডে মৃত্যু
- লঞ্চডুবি- নৌপথের আহাজারি থামবে না?
- মার্চে নতুন মাত্রা আন্দোলনে by মঈন উদ্দিন খান
- সহিংসতার সংস্কৃতি by জাহিরুল ইসলাম
- আদালতপাড়ায় কান্না by আল আমিন
- সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য -১৫৮ by ড. একেএম শাহনাওয়াজ
- পদ্মায় ফের লঞ্চডুবি
- হরতাল-অবরোধ, এই অনমনীয়তা কাম্য নয়
-
▼
Feb 25
(47)
-
▼
February
(1363)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ইরান
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
কালবেলা
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
রাশিয়া
মুক্তিযুদ্ধ
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
ইউক্রেন
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
হিন্দু
রুদ্র মিজান
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
স্বাস্থ্য
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
জ্যোতির্বিজ্ঞান
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
শুভ্র দেব
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
জীবনযাপন
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কলকাতা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
মসজিদ
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ইয়েমেন
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
Exclusive
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
জনস্বাস্থ্য
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
জোহরান মামদানি
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
ইহুদি
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
স্পেন
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
বেলজিয়াম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
জর্দান
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
আহমেদ মুনির
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment