ইয়েমেনের অবরোধ প্রত্যাহার চায় ইরান

আল-জাজিরাঃ ইয়েমেনের স্বাধীনতা, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান দেখানো হলে তবেই অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে বলে জানিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে ইয়েমেনের ওপর চলমান ‘অবৈধ ও অমানবিক অবরোধ’ অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেছে।

আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিতে বিবৃতিটি প্রকাশ করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের সমস্যার সমাধান অবরোধ অব্যাহত রাখা বা সামরিক উত্তেজনা বাড়ানোর মাধ্যমে সম্ভব নয়। ইয়েমেনের জনগণের চাপ, ভয়ভীতি ও নির্মম অবরোধমুক্ত মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের অধিকার রয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ‘ইসলামি উম্মাহর স্বার্থ’ বিবেচনায় নিতে হবে। পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতিতে বিষয়টি আরো গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে ইরান।

ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, পশ্চিম এশিয়া বর্তমানে ‘জায়নবাদী শাসনের’ নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা, অবিচার ও সম্প্রসারণবাদের মুখে রয়েছে। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে ইরান।

এদিকে ইয়েমেন ইস্যুতে অবিলম্বে সংলাপ পুনরায় শুরুর ওপর জোর দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আগে সম্মত হওয়া রোডম্যাপের ভিত্তিতে এই সংলাপ শুরু করতে হবে। একই সঙ্গে রোডম্যাপের সব বিধান বাস্তবায়ন করতে হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংলাপ পুনরায় শুরু এবং রোডম্যাপ বাস্তবায়নের পথে যেকোনো ইতিবাচক উদ্যোগে সহযোগিতা করতে ইরান প্রস্তুত।

 ইয়েমেনের অবরোধ প্রত্যাহার চায় ইরান
ইয়েমেনে বড় যুদ্ধের শঙ্কা, জাতিসংঘের কড়া সতর্কতা >> আল-জাজিরাঃ ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর ইয়েমেনে বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঝুঁকি এখন সবচেয়ে বেশি। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের (ইউএনএসসি) বৈঠকে এ সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইয়েমেনবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ। গ্রুন্ডবার্গ বলেন, মাত্র এক মাস আগে তিনি নিরাপত্তা পরিষদকে সতর্ক করেছিলেন যে ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর ইয়েমেন বড় ধরনের যুদ্ধের সবচেয়ে বড় ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এখন সেই আশঙ্কাই বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনের পরিস্থিতি নিয়ে এমন আশঙ্কার কথা বলে আসছেন গ্রুন্ডবার্গ। নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে তিনি এ বিষয়ে স্পষ্ট সতর্কতা জানান। তিনি বলেন, যে পরিস্থিতির আশঙ্কা করে তিনি আগে সতর্ক করেছিলেন, সেটিই এখন ঘটছে। জাতিসংঘের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ৩ সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ইয়েমেনের অন্তত ১১ হাজার ৪০০ পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে এই তথ্য জানান গ্রুন্ডবার্গ। তবে এই মুহূর্তে নিরাপত্তা পরিষদের নতুন কোনো প্রস্তাব গ্রহণের আহ্বান জানাননি তিনি। বরং ইয়েমেনের বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদেশগুলোর ঐক্য চান জাতিসংঘের এই দূত। গ্রুন্ডবার্গ বলেন, ইয়েমেন নিয়ে যেকোনো ধরনের পদক্ষেপের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিষদকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তার মতে, ইয়েমেনকে কোনোভাবেই নিরাপত্তা পরিষদের আলোচ্যসূচি থেকে বাদ যেতে দেওয়া যাবে না।