Wednesday, December 11, 2024
বাবাকে নিয়ে হাজারো প্রশ্ন ছোট্ট শিশুটির by ফাহিমা আক্তার সুমি
বাবাকে নিয়ে হাজারো প্রশ্ন ছোট্ট শিশুটির by ফাহিমা আক্তার সুমি
মেহেদীর স্ত্রী ফারহানা ইসলাম পপি মানবজমিনকে বলেন, দুই সন্তানকে নিয়ে কেরানীগঞ্জের মান্দাইলে একটি ভাড়া বাসায় থাকতাম। সেই বাসা বর্তমানে ছেড়ে দিয়ে আমার বাবার কাছে থাকি। সন্তানদের নিয়ে অনেক চিন্তায় আছি। আমার বাবা অসুস্থ। ইচ্ছা ছিল বড় মেয়েকে জানুয়ারিতে স্কুলে ভর্তি করবো। আর ছোট মেয়ের বয়স ১২ মাস চলে। সন্তানদের নিয়ে মেহেদীর অনেক স্বপ্ন ছিল। মেয়েদের পড়াশোনা করাবে, তাদের খুব ভালো অবস্থানে নিয়ে যাবে। এত কষ্ট দিয়ে মারার কি দরকার ছিল? সে কি দোষ করেছিলো। বুকে কেন পাড়া দিলো? একবারের জন্যও কি মায়া হয়নি, ভাবেনি তার ঘরে ছোট ছোট দুইটা বাচ্চা আছে। তারা বাবাকে ছাড়া কীভাবে চলবে। বড় মেয়েটি ঠিক ওর মতো হয়েছে। বড় মেয়েটিকে একটা ভালো স্কুলে ভর্তি করাবে। তাকে ভবিষ্যতে ডাক্তার বানানোর খুব ইচ্ছা ছিল ওর। বড় মেয়েটা ওর বাবাকে ছাড়া খেতে, ঘুমাতে চায় না। মাঝে মাঝে বাবার হাতে খেতে চায়, মাঝে একদিন না খেয়ে ছিল। বাবা কখন আসবে সেই প্রশ্ন সবসময় করতে থাকে।
তিনি বলেন, আমি কখনো কল্পনা করতে পারিনি যে এমন হবে। মারা যাওয়ার কিছুক্ষণ আগেও আমার সঙ্গে কথা হয়। ঘটনার দিন যখন প্রথমে তাকে কল করি তখন সে রিসিভ করেনি। পরে সে কল দিলে আমিও ব্যস্ততার কারণে রিসিভ করতে পারিনি। ওর সঙ্গে আমার ভালোবেসে বিয়ে ছিল। আমি অসুস্থ থাকায় আমাকে ছাদে যেতে নিষেধ করেছিল সেদিন ফোনে। ফোনে এটাও বলেছিল বাসায় সাবধানে থেকো মেয়েদের নিয়ে, আমি রাতে বাসায় এসে সব বলবো বাইরে কি হচ্ছে। চারিদিকে গুলির আওয়াজ শুনতে পাই মোবাইলে কথা বলার সময়। এমন গুলির আওয়াজ শুনে তাকে বাসায় বা অফিসে যেতে বললে সে আমাকে তখন ধমক দিয়ে বলে এটা আমার কাজ, আমার দায়িত্ব। আমাকে খাবারও খেয়ে নিতে বলেছিল। এগুলোই ছিল তার সঙ্গে আমার শেষ কথা, তার আধাঘণ্টা পরেই জানতে পারি গুলির ঘটনা।
সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে পপি বলেন, তার সঙ্গে আমার শেষ কথা হয় বিকাল ৪টার দিকে। গুলি লাগে সন্ধ্যার আগে। আমি যখন জানতে পারি ঘটনাটি তখন কোনো ভাবেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। হানিফ ফ্লাইওভারের ঢালে গুলিবিদ্ধ হয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সেখানে থাকা তার সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে আমি আমার দেবরকে খবরটি জানাই। সে তখনই গাজীপুর থেকে রওনা দেয়। আমিও ঢাকা মেডিকেলে ছুটে যাই। তাকে নিয়ে যাওয়ার পাঁচ মিনিট পর গিয়ে দেখি সে জরুরি বিভাগের আইসিইউ’তে। এই দৃশ্য মনে পড়লে এখনো ঘুমাতে পারি না। পরে তাকে ইসিজি রুমে নিয়ে যায় সেখানে থাকা চিকিৎসক জানায় সে স্পটেই মারা গেছে। ছররা গুলির সঙ্গে বুলেটও ছিল তার শরীরে। মুখে, চোখে, গলায়, ঘাড়ে, মাথাসহ পুরো শরীরে কোথাও বাকি ছিল না। মুখে কোনো দাঁত ছিল না। মেহেদীর বুকের ভেতরে জুতার ছাপ পাওয়া গেছে। অনেক কষ্ট দিয়ে তাকে মারা হয়েছে। মারা যাওয়ার পরে বুকের মধ্যে পাড়া দিয়ে হয়তো মৃত্যু নিশ্চিত করেছে আমার এমন মনে হচ্ছে। হঠাৎ এক-দুইটা গুলি লাগতে পারে কিন্তু এত বেশি গুলি ছিল ওর শরীরে। সেদিন রাতে তার মরদেহ মর্গে রাখা হয়। পরের দিন দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ হস্তান্তর করে। চারদিকে রাস্তার অবস্থা খুব ভয়াবহ ছিল। এই অবস্থার মধ্যে তার মরদেহ নিয়ে আমরা পটুয়াখালীর বাউফলে যাই, সেখানে তার নিজ বাড়িতে দাফন হয়।
তিনি আরও বলেন, আমি বেশি দূর পড়তে পারিনি। যখন এইচএসসি পরীক্ষার টেস্ট দিয়েছিলাম তখন বিয়ে হয়। আমার মেয়েদের জন্য আমার কিছু একটা করতে হবে। ওর বাবার মতো হয়তো যত্ন নিতে পারবো না কিন্তু মেয়েদের তো বড় করতে হবে। ওর বাবার দেখা স্বপ্ন পূরণ করতে চাই। আমি এখন নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছি না, ভাবছি আমার মেয়েদের কি হবে? কোথায় যাবো আমি ওদের নিয়ে। আমার যোগ্যতা অনুযায়ী একটা চাকরির ব্যবস্থা যদি হয় মেয়েদের জন্য হলেও সেটি করতে চাই। আমি একটা অন্ধকার জীবনের মধ্যে আছি। বাবাকে নিয়ে সন্তানদের হাজার প্রশ্নের জবাব কীভাবে দিবো?
মেহেদীর মা মাহমুদা বেগম মানবজমিনকে বলেন, আমি আমার সন্তানকে ছাড়া ভালো নেই। আজ কতো মাস হলো সন্তানের মুখটা দেখতে পারি না। আমাকে মা বলে আর ডাকে না। আমার তিন ছেলের মধ্যে মেহেদী ছিল সবার বড়। সেই আমাদের সংসার চালিয়েছে। সবসময় আমাদের চিকিৎসা খরচ দিয়েছে। আমিও অসুস্থ আর বাবাও অসুস্থ। আমরা বাড়িতে থাকি পটুয়াখালীতে। ১৮ই জুলাই ঘটনার দিন দুপুরে মেহেদী আমাকে ডাক্তার দেখানোর জন্য টাকাও পাঠিয়েছিল। ওর কবরের কাছে গেলে নিজেকে ঠিক রাখতে পারি না। মায়ের মন কি আর ঠিক থাকে। ওর বাবা সারাদিন মন খারাপ করে থাকে। সে স্ট্রোকের রোগী। হার্টের চারটি ব্লক ধরা পড়েছে। আমার ছোট ছেলেটার বয়স মাত্র বারো বছর, সে মাদ্রাসায় পড়ে পরীক্ষা দিচ্ছে। এখন কীভাবে চলবো। অসহায় হয়ে পড়েছি। আমার সন্তান কি দোষ করেছিল? কেন আমার সন্তানকে এভাবে মারলো?

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1406)
- ► 2025 (3281)
-
▼
2024
(2551)
-
▼
December
(237)
-
▼
Dec 11
(16)
- চরম শত্রুকে এবার পরম মিত্র বানাতে চায় রাশিয়া
- আটক বাংলাদেশিদের ছবি প্রকাশ করল ভারতীয় কোস্ট গার্ড
- আদালতে হাজিরা দিলেন নেতানিয়াহু, দাঁড়াতে হলো বিচারে...
- ভয়াবহ দুর্ঘটনা মুম্বইয়ে: নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পর পর গা...
- গণঅভ্যুত্থানের বিপ্লবী কন্যাদের কথা শুনলেন প্রধান ...
- বিশৃঙ্খল বিধ্বস্ত সিরিয়ায় সুযোগ নিচ্ছে ইসরাইল
- রাজ্যসভা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব
- স্বাধীনতা কোনো ছেলের হাতের মোয়া নয় by বঙ্গবীর কাদে...
- টেকসই উন্নয়নের অন্তরায় তামাক by এবিএম জুবায়ের
- রংপুর ভূমি কর্মকর্তা মোজাহিদের তেলেসমাতি কারবার
- বাবাকে নিয়ে হাজারো প্রশ্ন ছোট্ট শিশুটির by ফাহিমা ...
- ড. মোমেনকে চেয়ারম্যান করে দুদক গঠন
- বিদেশে পাসপোর্টের জন্য হাহাকার by মিজানুর রহমান
- গুম-বিচারবহির্ভূত হত্যা: বিচার চেয়ে ভুক্তভোগী পরিব...
- সিরিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ...
- রাজনীতিতে যোগ দিলেন ডা. তাসনিম জারা
-
▼
Dec 11
(16)
-
▼
December
(237)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
No comments:
Post a Comment