ওয়াশিংটনে বসে যেভাবে ভেনেজুয়েলা চালাচ্ছেন রুবিও

ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কার্যত ওয়াশিংটনে বসেই ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করছেন বলে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ছয় মাসে দেশটির অর্থনীতি, প্রাকৃতিক সম্পদ, সরকারি সিদ্ধান্ত এবং নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রুবিওর ভূমিকা অত্যন্ত প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার অভিযানের পর দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। এরপর থেকে মার্কো রুবিও ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃত অন্তর্বর্তী নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে রুবিও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। এমনকি তারা স্প্যানিশ ভাষায় হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা আদান-প্রদান করেন, যেখানে রাষ্ট্রীয় বিষয় ছাড়াও ব্যক্তিগত শুভেচ্ছা ও অনানুষ্ঠানিক কথোপকথনও হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

দাবি করা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার অধিকাংশ রপ্তানি আয়ের অর্থ প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারিতে জমা হয়। পরে নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে দেশটির বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে সেই অর্থ ধাপে ধাপে ভেনেজুয়েলা সরকারকে দেওয়া হয়। অর্থ কী খাতে ব্যয় হবে এবং কারা তা ব্যবহার করতে পারবে এসব বিষয়ে রুবিও ও তার টিমের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে একদিকে ভেনেজুয়েলায় বড় ধরনের দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের চাপ থেকে দেশটির সরকার কিছুটা সুরক্ষা পাচ্ছে। তবে একই সঙ্গে এতে অন্তর্বর্তী প্রশাসনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

এছাড়া ভেনেজুয়েলার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন, দেশটির তেল খাতে সংস্কার এবং মার্কিন কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও রুবিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এমনকি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নিয়োগের বিষয়েও অন্তর্বর্তী প্রশাসন তার সঙ্গে পরামর্শ করে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত মাসে ভেনেজুয়েলায় দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারকে সহায়তা জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিবেদনে বলা হয়, এ পর্যন্ত প্রায় ৯০০ মার্কিন সামরিক সদস্য মোতায়েন, প্রায় ৪০ কোটি মার্কিন ডলারের সহায়তা এবং নগদ অর্থ সরবরাহ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের কারণে ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা কিছুটা বাধাগ্রস্ত হলেও দেশটির পুনরুদ্ধার ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর কৌশলগত লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদ নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

তবে প্রতিবেদনে উপস্থাপিত এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ভেনেজুয়েলার সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়াও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

ওয়াশিংটনে বসে যেভাবে ভেনেজুয়েলা চালাচ্ছেন রুবিও
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও