বাংলাদেশসহ একাধিক রাষ্ট্রকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় রাখল ইসরায়েল

‘হাই হলি ডেজ’ বা ইহুদিদের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব সামনে রেখে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসরায়েলি নাগরিক ও ইহুদিদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি বেড়েছে বলে সতর্ক করেছে ইসরায়েলের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল (এনএসসি)। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশকে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

দ্য জেরুজালেম পোস্ট এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

রোববার (০৬ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত হালনাগাদ মূল্যায়নে এনএসসি জানায়, ইসরায়েলি ও ইহুদিদের লক্ষ্য করে হামলার সুযোগ খুঁজছে বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠন ও একক হামলাকারী। তবে এটিকে নতুন কোনো ভ্রমণ সতর্কতা হিসেবে বিবেচনা না করে বর্তমান ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে দেখার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।

এনএসসির মতে, ইরান, হিজবুল্লাহ ও হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলের চলমান সংঘাত দেশের বাইরেও ইসরায়েলি নাগরিকদের জন্য হুমকি বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলবিরোধী বক্তব্য ও উসকানি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এবং ব্যক্তিগত হামলাকারীদের মধ্যে হামলার আগ্রহ বাড়াচ্ছে।

সংস্থাটি আরও সতর্ক করেছে, ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে বড় ধরনের বিক্ষোভ হতে পারে, যার কিছু সহিংস রূপ নিতে পারে। একই সময়ে ইসরায়েলি ও ইহুদিদের লক্ষ্য করে হামলার প্রচেষ্টাও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

এনএসসি বলেছে, বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলি ও ইহুদিদের জন্য প্রধান সন্ত্রাসী হুমকি হিসেবে ইরান ও দেশটির মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দেখা হচ্ছে। হামাসও ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে সন্ত্রাসী অবকাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা করছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

এ ছাড়া ইসরায়েল ও ইসরায়েলিদের বিরুদ্ধে হামলার আহ্বান জানিয়েছে হুতিরা, এমন তথ্যও মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে সোমালিল্যান্ডসহ আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রমণকারী ইসরায়েলিদের লক্ষ্য করে হামলার আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করেছে এনএসসি।

ইরানের আশপাশের দেশগুলোর মধ্যে আজারবাইজান, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ইরানি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঝুঁকিতে বিশেষভাবে সংবেদনশীল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

জর্ডান, কাতার, সোমালিল্যান্ড এবং মিসর, সিনাই উপদ্বীপসহ ইসরায়েলের সর্বোচ্চ ‘লেভেল ৪’ ভ্রমণ সতর্কতার আওতায় রয়েছে। এসব এলাকায় ভ্রমণ বা অবস্থান এড়িয়ে চলতে ইসরায়েলিদের পরামর্শ দিয়েছে এনএসসি।

এ ছাড়া ইরাক, ইয়েমেন, ইরান, সিরিয়া ও লেবানন ইসরায়েলি নাগরিকদের জন্য নিষিদ্ধ গন্তব্য হিসেবে বহাল রয়েছে। সৌদি আরবেও ভ্রমণে আইনি বিধিনিষেধ রয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ, সোমালিয়া, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, লিবিয়া ও আলজেরিয়ার নামও উল্লেখ করেছে ইসরায়েলি নিরাপত্তা পরিষদ। এসব দেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে উচ্চমাত্রার ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। এমনকি বাংলাদেশিদের জন্যও ইসরায়েলে ভ্রমণের অনুমতি নেই। পাশাপাশি পাসপোর্টেও ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দ যোগ করেছে বাংলাদেশ।

সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট

তেল আবিবের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীরা। ছবি: জেরুজালেম পোস্ট
তেল আবিবের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীরা। ছবি: জেরুজালেম পোস্ট