হামাসের বার্তা- ইসরাইল গাজা না ছাড়লে কোনো অস্ত্র ত্যাগ নয়

গাজা উপত্যকা থেকে ইসরাইলি বাহিনী সম্পূর্ণ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত হামাস কোনো ধরনের নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে না বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ নেতা গাজি হামাদ। খবর মিডল ইস্ট আইয়ের।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে গাজি হামাদ বলেন, হামাসের অস্ত্র হস্তান্তর বা নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় ইসরাইলের কোনো ভূমিকা থাকবে না। এ প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে একটি ফিলিস্তিনি জাতীয় কমিটি।

তার দাবি, গত বছরের অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি হামাস মোটামুটি মেনে চললেও ইসরাইল তা লঙ্ঘন করে গাজায় ধারাবাহিক বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন।

হামাসের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গাজা পরিচালনার জন্য বোর্ড অব পিস গঠিত ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটিক কমিটিই হামাসের অস্ত্র সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার একমাত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা হবে।

রয়টার্সকে দেয়া পৃথক বক্তব্যে হামাস পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার, গাজায় পর্যাপ্ত ত্রাণ ও পণ্য প্রবেশ নিশ্চিত হওয়ার পরই কেবল অস্ত্র হস্তান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

গাজি হামাদ বলেন, আমরা মধ্যস্থতাকারীদের স্পষ্ট করে জানিয়েছি, ইসরাইলকে অবশ্যই চুক্তির সব শর্ত মেনে চলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, গাজা পরিচালনার জন্য গঠিত টেকনোক্র্যাটিক কমিটি এবং একটি আন্তর্জাতিক বাহিনীকে গাজায় ইসরাইল সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বিলুপ্ত করার প্রক্রিয়াও তদারক করতে হবে।

শুক্রবার বোর্ড অব পিস এক বিবৃতিতে জানায়, গাজায় যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়নের বিস্তারিত কাঠামোয় হামাস আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মতি দিয়েছে।

এনিয়ে এক্সে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, এই সমঝোতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের গাজায় নতুন শাসনব্যবস্থা, নিরাপত্তা, মানবিক সহায়তা, পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দীর্ঘ আলোচনার ফল। এতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব ২৮০৩-এর কথাও উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে এটিকে “ঐতিহাসিক অগ্রগতি” হিসেবে বর্ণনা করে বলা হয়, হামাস নিরস্ত্রীকরণের প্রক্রিয়ায় যাবে এবং এরপর গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে।

এদিকে এ বিষয়ে ইসরাইলি সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা একাধিকবার বলেছেন, ইসরাইলি সেনাবাহিনী গাজা ছেড়ে যাবে না।

এর আগে চলতি বছরের মে মাসে নেতানিয়াহু এক ঘোষণায় জানান, গাজা উপত্যকার ৭০ শতাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায় ইসরাইল।

তিনি সে সময় বলেন, বর্তমানে আমরা গাজার প্রায় ৬০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছি। আমার নির্দেশ হলো এই নিয়ন্ত্রণ ৭০ শতাংশে উন্নীত করা।

ইসরাইল গাজা না ছাড়লে কোনো অস্ত্র ত্যাগ নয়