হামলায় গাজায় নিহতদের অর্ধেকই ‘নিরাপদ’ এলাকার (ছবি)

mzamin
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ঃ নিরাপদ বা বাফার জোন ঘোষণা দেয়া স্থানগুলোতেই নৃশংস হামলা চালাচ্ছে ইসরাইল। শনিবার গাজা উপত্যকাজুড়ে তাদের অব্যাহত হামলায় কমপক্ষে ৯২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে কেবল গাজা সিটিতেই কমপক্ষে ৪৫ জন মারা যান। সামরিক বাহিনী যখন বহুল সমালোচিত স্থল অভিযান তীব্রতর করছে, তখন এই হতাহতের ঘটনা ঘটল। এ খবর দিয়ে অনলাইন আল জাজিরা বলছে, গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস ইসরাইলকে অভিযুক্ত করেছে ফিলিস্তিনি জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য। ইসরাইল গাজা সিটি থেকে মধ্য ও দক্ষিণ অঞ্চলে সরিয়ে নেয়ার হুমকি দিয়ে এসব জায়গাকে ‘নিরাপদ মানবিক অঞ্চল’ হিসেবে প্রচার করলেও বাস্তবে সেই এলাকাগুলোকেই তারা হামলার লক্ষ্যবস্তু করছে। শনিবার এক বিবৃতিতে জানানো হয়, গাজা সিটি থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির সূচনার পর ১১ আগস্ট থেকে মধ্য ও দক্ষিণ গাজায় মোট ১৩৩টি হামলায় ১৯০৩ জন নিহত হয়েছেন। যা ওই সময়ের মোট মৃত্যুর প্রায় ৪৬ শতাংশ। অফিসটি জানায়, এ তথ্য প্রমাণ করে সাধারণ নাগরিকদেরই সরাসরি টার্গেট করা হচ্ছে। যদিও তাদের বলা হয়েছিল দক্ষিণে চলে যেতে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে তারা সতর্ক করেছে, নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা মানে ইসরাইলকে আরও হত্যাযজ্ঞ চালানোর জন্য সবুজ সংকেত দেয়া। কেন্দ্রীয় গাজা থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক হানি মাহমুদ বলেন, শনিবার ভোর থেকে গাজা সিটিতে হামলা বেড়েছে এবং ক্রমাগত আহতদের আল-শিফা হাসপাতালে নেয়া হচ্ছিল। তিনি বলেন, কয়েক মিনিট আগেই নিশ্চিত করা হয়েছে একটি পরিবার গাড়িতে করে সরে যাওয়ার পথে ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। চারজন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। তিনি আরও জানান, শত শত মানুষ স্থানান্তরের চেষ্টা করছে। আর ড্রোন ও যুদ্ধবিমান এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় তাদের পিছু ধাওয়া করছে। গাজা সিটির কয়েকটি হাসপাতাল ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে ইসরাইলি হামলা তীব্র হওয়ার কারণে। প্রতিদিনই শহর দখল ও আরও বেশি মানুষকে উচ্ছেদের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। শনিবার সকালে ভারী বোমাবর্ষণের পর শহরের অন্যতম প্রধান হাসপাতাল জর্ডান ফিল্ড হাসপাতাল থেকে ১০৭ জন রোগী ও সব কর্মীকে সরিয়ে নিতে বাধ্য করা হয়। গাজার হাসপাতালগুলো দীর্ঘদিন ধরেই অব্যাহত হামলার কারণে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। অধিকাংশই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে চলছে- অ্যানেস্থেসিয়া, অ্যান্টিবায়োটিকের মতো প্রাথমিক ওষুধ পর্যন্ত নেই। ক্ষুধার্ত অবস্থায় ডাক্তাররা রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। মধ্য গাজার কিছু আংশিক কার্যকর হাসপাতাল এখন আহত ও অসুস্থ মানুষের ঢলে ভেঙে পড়েছে। অনেকেই উত্তর থেকে পালিয়ে এসে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছেন, কিন্তু যথাযথ চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। একজন বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি আল জাজিরাকে বলেন, উচ্ছেদের কারণে দক্ষিণের হাসপাতালগুলোতে পরিস্থিতি আরও খারাপ। এখন এক বিছানায় একজনের বদলে দুইজন রোগীকে রাখার চেষ্টা করছে চিকিৎসকরা। আল-আকসা হাসপাতালের ডাক্তার খালিল দিগরান বলেন, ইসরাইলি বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে আল-রানতিসি শিশু হাসপাতালকে টার্গেট করেছে- যা গাজার একমাত্র শিশু বিশেষায়িত হাসপাতাল। তিনি বলেন, গাজা সিটি ও উত্তরাঞ্চলে এখন কার্যত দুটি হাসপাতাল চলছে- আল-শিফা ও আল-আহলি। বাকি যে হাসপাতালগুলো মধ্য ও দক্ষিণ গাজায় আছে, সেগুলোতেও চাপ বাড়ছে এবং এগুলো পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে।