Friday, December 19, 2025
স্বৈরাচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে অভূতপূর্ব এক জাগরণ by মাহরুফ চৌধুরী
স্বৈরাচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে অভূতপূর্ব এক জাগরণ by মাহরুফ চৌধুরী
চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে শুধু একটি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার ফল নয়; বরং এটি ছিল দীর্ঘকাল ধরে সমাজে জমে ওঠা বঞ্চনা, বৈষম্য ও স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে এক বিশাল গণবিস্ফোরণ।
এ সময় দেশের উত্তর থেকে দক্ষিণ, নগর থেকে গ্রাম পর্যন্ত হাজার হাজার তরুণ-তরুণী, ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, শ্রমিক, পেশাজীবী এবং সাধারণ মানুষ প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন। তাঁদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছিল প্রতিবাদের স্লোগান, চোখেমুখে ছিল নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রত্যয় আর হৃদয়ে বহমান ছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজের স্বপ্ন;একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্রের আকাঙ্ক্ষা।
-----২.
এই আন্দোলনের মর্মমূলে নিহিত ছিল দুটি শব্দ: ‘বৈষম্যহীন’ ও ‘স্বৈরাচারমুক্ত’। শব্দ দুটি নিছক স্লোগানের শব্দ ছিল না; বরং তার পেছনে ছিল দশকের পর দশক ধরে জমা হওয়া এক নিঃশব্দ আর্তনাদ, যা এ প্রজন্মের মুখে এসে উচ্চারিত হলো বিদ্রোহের ভাষায়। এই দ্বৈত দাবির মধ্যে প্রতিধ্বনিত হয়েছে সেই জনমানস, যাদের প্রাত্যহিক জীবনের বাস্তবতা হয়ে উঠেছিল বৈষম্যমূলক অর্থনীতি, রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং ন্যায়বিচারহীন রাষ্ট্রব্যবস্থার নির্মমতার শিকার হওয়া।
বিখ্যাত চিন্তাবিদ ফ্রানৎস ফানোঁ ভাষায়, যখন উপনিবেশ বা দমনমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা একটি জনগোষ্ঠীর আশা ও স্বপ্নকে দাবিয়ে রাখে, তখন সেই জনগোষ্ঠী বিদ্রোহকেই জীবনের স্বাভাবিক পথ হিসেবে বেছে নেয়। চব্বিশের বাংলাদেশ যেন ফানোঁর সেই কথারই প্রতিফলন।
আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানে গণ–আন্দোলনকে প্রায়ই রাজনৈতিক পুনর্জাগরণের সূচক হিসেবে দেখা হয়। এই প্রেক্ষাপটে চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থান ছিল একপ্রকার নৈতিক প্রতিরোধ, যা শুধুই ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে ছিল না, বরং তা ছিল একটি নতুন ধরনের সমাজ গঠনের স্বপ্নে উদ্বুদ্ধ হয়ে ওঠা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা। এ গণ–অভ্যুত্থান প্রশ্ন তোলে পূর্ববর্তী শাসকদের বৈধতা নিয়ে, তেমনি নতুন ভবিষ্যতের প্রতি দায়বদ্ধতাও সৃষ্টি করে।
এই আন্দোলন তাই শুধু একটি রাজনৈতিক ঘটনাই ছিল না; এটি ছিল একটি সমাজ-সাংস্কৃতিক গতিধারার নতুন বাঁক; যেখানে একটি নতুন প্রজন্ম তার অতীতের সব ব্যর্থতার দায়ভার ঝেড়ে ফেলে আত্মনিয়ন্ত্রণ ও আত্মমর্যাদার দাবিতে আত্মপ্রকাশ করে। এটি ছিল ইতিহাসের সেই ক্ষণ, যখন বহু শোষিত, নিঃস্ব ও ‘অপমানিত’ মানুষ একযোগে বলেছিলেন, ‘আর নয়, যথেষ্ট হয়েছে’।
বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রথম দৃশ্যমান প্রতিবাদ শুরু হয়েছিল তরুণ প্রজন্মের হাত ধরে; বিশেষত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছিলেন এই আন্দোলনের সূচক ও চালিকাশক্তি। বাংলাদেশের ইতিহাসে দেখা যায়, সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রায়ই ছাত্রসমাজই প্রথম আওয়াজ তোলে; এমনটা আমরা দেখেছি ১৯৬৯ সালের গণ–অভ্যুত্থান এবং ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে। চব্বিশেও এর ব্যতিক্রম হয়নি।
এবারের গণ-অভ্যুত্থানের ভিত্তিভূমি ছিল পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় অনেক বেশি জটিল ও বহুমাত্রিক। এটা শুধু ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রশ্ন ছিল না; বরং এর গভীরে ছিল রাষ্ট্রক্ষমতার অপব্যবহার ও রাজনৈতিক আনুগত্যকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বৈষম্য, যা ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর মানবিক মর্যাদাকে প্রতিনিয়ত আঘাত করছিল।
সরকারি চাকরিতে দলীয়করণ, উচ্চশিক্ষায় রাজনৈতিক আনুগত্যকে প্রাধান্য দেওয়া, কোটা ব্যবস্থার নামে একপক্ষীয় সুবিধা বণ্টন এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকারকে অবহেলা করার মাধ্যমে তৈরি হচ্ছিল একটি পক্ষপাতদুষ্ট ও অনৈতিক রাষ্ট্রকাঠামো।
মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব থাকা স্বাভাবিক হলেও যখন সেই দায়িত্ব কৃতজ্ঞতার গণ্ডি পেরিয়ে একচোখা সুযোগসন্ধানী ব্যবস্থায় পরিণত হয়, তখন তা বৈষম্যের রূপ পরিগ্রহ করে। আন্দোলনকারীদের মধ্যে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন—যদি রাষ্ট্রের প্রতে৵ক নাগরিক সমান মর্যাদার অধিকারী হন, তবে কেন জন্মপরিচয়, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা সামাজিক অবস্থান অনুযায়ী তাঁর শিক্ষার অধিকার বা চাকরির সুযোগ নির্ধারিত হবে?
জন রলসের ন্যায়বিচারের তত্ত্বের (থিওরি অব জাস্টিস) কথা স্মরণ করতে পারি; তিনি বলেন, একটি ন্যায্য সমাজ গঠনের জন্য সবচেয়ে দুর্বল এবং সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণির স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে; কিন্তু তা হতে হবে সর্বজনীন নীতির আলোকে, পক্ষপাতহীনভাবে। চব্বিশের ছাত্ররা যেন রলসের এই নৈতিক দর্শনকেই বাস্তবে প্রতিফলিত করতে চেয়েছিলেন। তাঁরা শুধু নিজেদের স্বার্থে নয়; বরং পুরো সমাজব্যবস্থার ভেতরকার বৈষম্যের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণ থেকে উৎসারিত এই বিদ্রোহ তাই নিছক রাজনৈতিক নয়; এটি ছিল একধরনের নৈতিক অভ্যুত্থান। এখানে আত্মকেন্দ্রিক স্বার্থের চেয়ে বৃহত্তর সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্ন প্রাধান্য পেয়েছে। তরুণদের চোখে ধরা পড়েছে যে ন্যায় প্রতিষ্ঠা ছাড়া উন্নয়ন কেবল একটি পরিসংখ্যানগত ছলনা। সেই উপলব্ধি থেকেই তাঁরা নিজেদের ক্লাসরুমের সীমানা ছাড়িয়ে রাজপথে এসে দাঁড়িয়েছিলেন; মানবিক মর্যাদা, সমতা ও সুবিচারের দাবিতে দৃপ্তকণ্ঠে উচ্চারণ করেছিলেন, ‘এই বৈষম্য করা চলবে না।’
-----৩.
ছাত্রদের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করে সরকার যখন কঠোর ও দমনমূলক অবস্থান নেয়, তখন আন্দোলন একটি নতুন মোড় নেয়। এটি হয়ে ওঠে কেবল একটি দাবিদাওয়া–নির্ভর প্রতিবাদ নয়; বরং এক স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে সর্বস্তরের জনগণের সুতীব্র প্রতিরোধ। এ আন্দোলনের গন্তব্য ছিল না কেবল আর্থিক বা প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের অবসান; বরং এর লক্ষ্য ছিল সেই রাষ্ট্রীয় মানসিকতা ও কাঠামোর বিরুদ্ধাচরণ, যেখানে জনতার চেয়ে ক্ষমতাই মুখ্য, যেখানে নাগরিক অধিকার নয়; বরং আনুগত্যই একমাত্র গ্রহণযোগ্যতা।
স্বৈরাচার এখানে কোনো ব্যক্তিনির্ভর ‘অভিশাপ’ নয়; বরং একটি প্রতিষ্ঠানিক রূপান্তর, একপ্রকার শাসনতান্ত্রিক অন্ধকার, যার মূল চিহ্ন হলো ক্ষমতার এককেন্দ্রিকতা, ভিন্নমতের দমন এবং গণতান্ত্রিক কাঠামোর স্থলে কর্তৃত্ববাদী নিয়ন্ত্রণ। প্লেটোর ‘দ্য রিপাবলিক’-এ স্বৈরতন্ত্রের উৎপত্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে, যখন জনগণের নিরাপত্তার নামে একটি শাসক ক্রমে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে, তখন ধীরে ধীরে গণতন্ত্র সরে গিয়ে জন্ম নেয় স্বৈরাচার। চব্বিশের আন্দোলন যেন এই রূপান্তরের প্রক্রিয়াকে বুঝে নিয়ে তার বিরুদ্ধে সময়োচিত ও নৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেছিল।
তরুণদের প্রতিরোধে ফুটে উঠেছিল প্রতীকী ও সাংস্কৃতিক প্রতিবাদের এক নতুন ভাষা। কখনো তা ছিল দেয়ালে আঁকা কবিতায়, কখনো তা ছিল হাতে লেখা পোস্টারে, কখনো প্ল্যাকার্ডে লেখা একটিমাত্র বাক্যে ধরা পড়ত গোটা রাষ্ট্রযন্ত্রের গণবিচ্ছিন্নতার ছবি।
এসব অভিব্যক্তি ছিল সরাসরি রাষ্ট্রের ছায়াতলে শাসক শ্রেণির দমননীতি ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে এক সাংস্কৃতিক ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অস্ত্র। তরুণদের একেকটি প্রশ্ন যেন রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্তর্নিহিত সংকটকে উন্মোচন করছিল; কেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ন্ত্রিত হয়ে ওঠে? কেন সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করতে হয়? কেন মুক্তবুদ্ধির চর্চা রাষ্ট্রের কাছে হুমকি হয়ে দাঁড়ায়? এ প্রশ্নগুলো শুধু প্রশাসনকে নয়; বরং গোটা সমাজকেই আত্মসমালোচনার মুখে দাঁড় করিয়েছিল।
সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াতে গিয়ে নবপ্রজন্ম যে আত্মদায়বদ্ধতার পরিচয় দিয়েছে, তা নিছক নৈতিক অবস্থান নয়; বরং ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে এসে রক্তাক্ত প্রতিরোধের মাধ্যমে তারা ভবিষ্যতের পথচিহ্ন এঁকে দিয়েছে। চব্বিশের আন্দোলন তাই কেবল একটি রাজনৈতিক মোড় নয়, এটি ছিল
এক গণজাগরণ, যা তরুণদের বিবেক ও চেতনার গভীরতম স্তর থেকে উৎসারিত। ‘স্বৈরাচার পতনের এক দফা’—এই উচ্চারণ ছাত্র-জনতার মুখে প্রতিধ্বনিত হয়ে উঠেছিল এক সম্মিলিত সংগ্রামের শপথে। এ ছিল রাষ্ট্রযন্ত্রের আড়ালে বাসা বাঁধা স্বৈরশাসক ও জনগণের মধ্যকার বৈরী সম্পর্কের বিরুদ্ধে একটি মৌলিক প্রতিবাদ, যেখানে তরুণেরা হয়ে উঠেছিলেন পরিবর্তনের কারিগর।
-----৪.
এই অভ্যুত্থান আমাদের এক গভীর উপলব্ধির মুখোমুখি দাঁড় করায়, এই প্রজন্ম আর আগের মতো কেবল পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। তাঁরা বইয়ের পাতার বাইরে সমাজের বাস্তবতা দেখেন, অন্যায়ের মধ্যে সত্যকে খুঁজে পেতে চান এবং যখন দেখেন যে তাঁদের চারপাশের কাঠামো ন্যায় থেকে বিচ্যুত, তখন তাঁরা নীরব থাকতে অস্বীকার করেন। ‘নীরব দর্শক’ হিসেবে বসে থাকা তাদের উদ্দেশ্য নয়; বরং তাঁরা এখন ইতিহাসকে নিজেদের হাতে রচনা করতে চান নিজেদের রক্ত, স্বপ্ন ও সংগ্রামের ভাষায়।
নতুন প্রজন্মের এই জাগরণ শুধু রাজনৈতিক সচেতনতার ফল নয়; এটি এক গভীর নৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিবর্তনের প্রতিফলন। ইতালীয় চিন্তাবিদ আন্তোনিও গ্রামসি যেমন ‘অর্গানিক ইনটেলেকচুয়াল’–এর কথা বলেছিলেন, যাঁরা সমাজের ভেতর থেকে উঠে এসে বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সেই অর্থে বাংলাদেশের এই তরুণেরা এখন আর কেবল সুবিধাভোগী শ্রেণির মুখপাত্র নন; বরং হয়ে উঠেছেন সমাজ-রূপান্তরের চেতনাপ্রসূত প্রজ্ঞার বাহক।
২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থান একটি সাময়িক বিস্ফোরণ ছিল না; এটি ছিল ইতিহাসনির্মাণের এক সুদীর্ঘ প্রক্রিয়ার অনিবার্য প্রকাশ। বহু বছর ধরে সমাজের গহিনে জমে থাকা ক্ষোভ, যন্ত্রণা ও ন্যায়বোধ একসময় আন্দোলনের রূপ নেয়; যেখানে কেবল ক্ষণিকের প্রতিবাদ নয়; বরং একটি বৃহত্তর নৈতিক-রাজনৈতিক চেতনার বিস্তার পরিলক্ষিত হয়। এই চেতনা অতীতের নির্যাতন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে থেমে থাকেনি; বরং তা আমাদের ভবিষ্যতের দিকে নতুনভাবে তাকাতে শিখিয়েছে; একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রের কল্পনা সামনে এনেছে।
-----৫.
চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থান তাই কেবল একটি সমকালীন ঘটনা নয়; বরং এটি হয়ে উঠেছে ইতিহাসের একটি মাইলফলক। ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয়, যে জাতি নিজের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও চেতনার উত্তরাধিকার ভুলে যায়, সে জাতি স্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারে না।
রোমান দার্শনিক সিসেরো একবার বলেছিলেন, ‘জন্মের আগে যা ঘটেছিল, সে সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা মানে সর্বদা শিশু থাকা।’ তেমনি ইতিহাসের জ্ঞান ছাড়াও কোনো জাতিই পরিপক্ব হয়ে উঠতে পারে না। এই আন্দোলনের শিক্ষা তাই শুধু আবেগ নয়; বরং একটি বোধের আহ্বান—নাগরিকত্বের নৈতিক দায়িত্ববোধকে জাগ্রত করা।
এই উত্তরাধিকার শুধু কিছু রাজনৈতিক নেতার হাতে তুলে দিয়ে আমাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না; বরং এই দায় সমাজের প্রতিটি বিবেকবান নাগরিকের, বিশেষত তরুণদের, যাঁরা ভবিষ্যতের নির্মাতা। আমাদের সম্মিলিত দায়বদ্ধতার মধ্য দিয়েই এই আন্দোলনের চেতনা স্থায়ী রূপ পেতে পারে। আজ যখন আমরা আবার নানা ধরনের স্বৈরতান্ত্রিক দমননীতি, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ এবং বৈষম্যমূলক রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মুখোমুখি হচ্ছি, তখন সবচেয়ে জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে এই আন্দোলনের শিক্ষা ও প্রেরণাকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে সঞ্চারিত করা।
সমাজ বদলের দায়িত্ব কিছু নির্বাচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নয়; এটি আমাদের সবার, বিশেষ করে শিক্ষিত তরুণদের, যাঁদের কণ্ঠে ভবিষ্যতের স্বর ধ্বনিত হয়। তাঁদের প্রয়োজন আত্মসমালোচনার চোখে নিজেদের কর্মকাণ্ডকে দেখার, নৈতিক উপলব্ধিকে কাজে লাগানোর এবং যেখানেই অন্যায়-অবিচার দেখা যায়, সেখানে নির্ভয়ে, দৃঢ়তায় ও মানবিক দায়িত্ব নিয়ে রুখে দাঁড়ানোর; কারণ সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোই একটি বিবেকবান প্রজন্মের প্রথম এবং অপরিহার্য দায়িত্ব।
আলবেয়ার কামু বলেছিলেন, ‘একটি শৃঙ্খলিত বিশ্বের সঙ্গে মোকাবিলা করার একমাত্র উপায় হলো এতটাই সম্পূর্ণ মুক্ত হওয়া যে তোমার অস্তিত্বই বিদ্রোহের ঘটনার মতো হয়ে উঠবে।’ চব্বিশের চেতনা আমাদের সেই স্বাধীন সত্তা হয়ে ওঠারই ডাক দেয়। এটি এক প্রজন্মের বিবেক, এক জাতির আত্মমর্যাদা এবং ভবিষ্যতের প্রতি এক প্রতিশ্রুতি, যেখানে কেউই যেন নীরব দর্শক না থাকেন; বরং সবাই হয়ে উঠুক অন্যায়ের বিরুদ্ধে একেকটি জীবন্ত প্রতিবাদ।
আজ যখন আমরা ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করি, তখন এই স্মরণ যেন কেবল একটি অতীত অধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন নয়; বরং হয়ে উঠুক ভবিষ্যতের প্রতি এক দৃপ্ত অঙ্গীকার। একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের যে স্বপ্ন এ গণ–অভ্যুত্থান আমাদের দেখিয়েছে, সেই স্বপ্ন যেন প্রতে৵ক মানুষের হৃদয়ে, চিন্তায় ও প্রয়াসে বাঁচিয়ে রাখা হয়। এই স্মৃতি হোক আমাদের বিবেকের জাগরণ, চেতনার দীপ্তি এবং সামষ্টিক ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার পাথেয়।
* ড. মাহরুফ চৌধুরী, ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি, ইউনিভার্সিটি অব রোহ্যাম্পটন, যুক্তরাজ্য। ই–মেইল: mahruf@ymail.com
- মতামত লেখকের নিজস্ব

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1407)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
December
(274)
-
▼
Dec 19
(8)
- দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত যেভাবে ভারতবিরোধী মনোভাব বাড়াচ্...
- ফিলিস্তিনের ফুটবল যেভাবে মুছে ফেলছে রাজনীতির বিভাজ...
- স্বৈরাচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে অভূতপূর্ব এক জাগরণ b...
- সংকীর্ণ রশির ওপর ভারসাম্য রক্ষা: কেন পুতিনের সফর ভ...
- স্বৈরতন্ত্র উত্থানের দায় আসলে কাদের by ইসরাত জাহান
- মস্কোয় কেমন আছেন বাশার আল আসাদ
- যৌন নির্যাতনের শিকার শিশুদের পরীক্ষা করতেন, এবার ন...
- বিতর্কের জবাব দিলেন শুভশ্রী
-
▼
Dec 19
(8)
-
▼
December
(274)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
No comments:
Post a Comment