Saturday, August 24, 2024
‘ভাত খাইতাম, না ঘর ঠিক করতাম, চিন্তা লাগের’
‘ভাত খাইতাম, না ঘর ঠিক করতাম, চিন্তা লাগের’
আজ শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার মনসুরনগর ইউনিয়নের কদমহাটা এলাকাতে তাঁদের সঙ্গে দেখা। তাঁরা বন্যায় ডুবে যাওয়া নিজেদের ঘরদোর দেখে ফিরছিলেন।
এ দলেরই একজন কদমহাটা গ্রামের মনোয়ারা বেগম। তিনি বলেন, ‘ঘরর অবস্থা খুবই খারাপ। বেড়া ভাঙি গেছে। কিছু মাল বাইর অইয়া গেছেগি (জিনিস বের হয়ে গেছে)। ঘর ঠিক করা লাগব। কিন্তু কমলাখান (কেমন করে) যে ঠিক করতাম। বাঁশ-ঘাস কিচ্ছু নাই। ভাত খাইতাম, না ঘর ঠিক করতাম, চিন্তা লাগের।’
মনোয়ারা বেগম জানান, গত বুধবার দুপুরে ঘরে পানি ঢুকেছে। তাঁর কাঁচা ঘর। দেখতে দেখতে ঘরে কোমরসমান পানি হয়ে গেছে। তাঁরা কোনো রকম ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। এরপর কদমহাটা স্কুলে গিয়ে উঠেছেন। শুধু তিনি নয়, তাঁদের পাড়া-প্রতিবেশীর অনেকেই স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন। এর পর থেকে আশ্রয়কেন্দ্রেই আছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে যেমন-তেমন করে হোক, চলে যাচ্ছে। অনেকে শুকনা খাবারসহ কিছু না কিছু দিচ্ছেন। কিন্তু ঘরের অবস্থা দেখে মনটা ভেঙে গেছে। কী করে ঘরে ফিরবেন, এ নিয়ে চিন্তায় আছেন।
তাঁর প্রতিবেশী সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক ফজলু মিয়ার চিন্তাও কম নয়। ফজলু মিয়া বলেন, ‘কাঁথা-বালিশ আর হুরুত্বা লইয়া (বাচ্চা নিয়ে) কোনো রকম বাইর অইছি (বের হয়েছি)। আইজ (শনিবার) গিয়া ঘর দেখছি। ঘরও অখনো (এখনো) ঠাঁই নাই (অনেক পানি)। ঘরর নিচ ফুক্কা (ছিদ্রময়)। ভিটারে একবারে সুড়ঙ্গ (নালার মতো) করি লাইছে (করে ফেলছে)। বেড়াও পানিয়ে নিয়া গেছে। ঘরও যাওয়ার কোনো রাস্তা নাই। চাইর দিন ধরি খিচুড়ি-টিচুড়ি খাইয়া স্কুলও আছি।’
ফজলু আরও বলেন, তাঁদের প্রায় ১২ সদস্যের পরিবার। ঘরের জায়গাটাও নিজের নয়। পরিচিত একজন ঘরটা বানিয়ে দিয়েছিলেন। কবে-কীভাবে ঘর ঠিক করবেন, চিন্তা করে কোনো কূল পাচ্ছেন না। দুই-চার দিনের মধ্যে পানি নেমে গেলেও এই ঘরে ১৫-২০ দিনের আগে ফেরার সুযোগ দেখছেন না।
ফজলু আর মনোয়ারা বলেন, তাঁদের পাশের আরও চারটি ঘর কাত হয়ে আছে। পানি নামলে পড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি এ রকম ১০-১৫টি ঘর আছে। সব কটিরই একই অবস্থা। ভাঙনের মুখে থাকা রিপন মিয়া ও আছমা বেগমের ঘর পানির তোড়ে ভেসে গেছে। ভিটার মাটিটুকুও নেই। ভেসে যাওয়া একটি ঘরের টিনের চাল ভাঙনের ভাটিতে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বুধবার রাতে রাজনগর উপজেলার শ্বাসমহল এলাকায় মনু সেকেন্ডারি বাঁধ (নদ-সংলগ্ন বাঁধ) ভেঙে সেকেন্ডারি বাঁধ ও মনু নদ প্রকল্প বাঁধের মধ্যবর্তী গ্রামে পানি প্রবেশ করে। রাতের মধ্যে প্রায় সব ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যায়। মধ্যবর্তী গ্রামের লোকজনের অনেকে বাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন কদমহাটা উচ্চবিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। অনেকে বাঁধের ওপর কোনোমতে মাথা গোঁজার ব্যবস্থা করেছেন।
গত বৃহস্পতিবার কদমহাটা এলাকায় পানি উপচে মনু নদ প্রকল্পের বাঁধের একাধিক স্থান ভেঙে যায়। কিন্তু এখন পানি ধীরে ধীরে নামছে। কয়েক দিনের মধ্যে ঘরবাড়ি থেকেও পানি নেমে যাবে। চিন্তা শুধু যাঁদের ঘর ভেঙেছে, তাঁদের নয়। যাঁদের ঘর ভাঙেনি, তাঁরাও ১০-১৫ দিনের আগে সেখানে উঠতে পারবেন কি না, সন্দেহ আছে। কারণ, পানি-কাদায় সেখানে আর থাকার অবস্থা নেই।
কদমহাটা উচ্চবিদ্যালয়ে আশ্রয় নেওয়া ছয়ফুল বেগম তাঁর মাদ্রাসাপড়ুয়া ছেলেকে নিয়ে ঘরের অবস্থা দেখতে বেরিয়েছেন। মৌলভীবাজার-কুলাউড়া সড়কে তাঁর সঙ্গে দেখা। তিনি বলেন, ‘বুধবার রাইত (রাতে) পানি আইছে (এসেছে)। বৃহস্পতিবারে ঘরের অর্ধাঅর্ধি (আধাআধি) পানি। এরপর ঘরও থাকতাম পারছি না। পানির লাগি অখনো (এখনো) ঘরর অবস্থা গিয়া দেখতাম পারছি না। চালরসমান (ঘরের চাল) পানি। দুই দিন আধাপথও (অর্ধেক পথে) গিয়া ফিরত আইছি।’
ছয়ফুল এখন অনেকটা দূর ঘুরে ঘরে বাড়ির কাছে যাওয়ার চেষ্টা করবেন। আশ্রয়কেন্দ্রে অনেকে চিড়া, আখনি দিচ্ছেন। তাতে দিন চলছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঘরে তো ফিরতে হবে তাঁদের।
মনু নদ প্রকল্পের বাঁধে দেখা পেশায় রাজমিস্ত্রি মালিকোনা গ্রামের সাহেল মিয়ার সঙ্গে। তিনি একটি ঠেলা গাড়ি নিয়ে কিছু নিতে এসেছেন। সাহেল মিয়া বলেন, ‘বাড়িতে দুই মানুষসমান পানি উঠছিল। এখনো হাঁটুসমান পানি। সব ঘরেই পানি। প্রায় ঘর ভাঙি গেছে। মনু ডাইকে (সেকেন্ডারি বাঁধে) অনেক মানুষ আছে। সবার ঘরেই পানি। অনেকে এসে কিছু চাল, চিড়া, মুড়ি, ওষুধ দিছে, তা দিয়েই চলছে তাঁদের।’
প্রেমনগর গ্রামের খোদেজা বেগম বুধবার থেকে বাঁধে আছেন। আজ বেরিয়েছেন বাবার বাড়ি শ্রীমঙ্গল যাওয়ার জন্য। তিনি বলেন, ‘ঘর থাকি কোনো রকম জান লইয়া বাইর অইছি (প্রাণ নিয়ে বেরিয়েছি)। ঘরও এখনো পানি। ঘরে ঢুকতাম পাররাম (পারছি) না। হাঁটু পর্যন্ত কাদায় গাড়ে (কাদায় ডুবে যায়। এখন দেখি কিছু খানি-খোরাক (খাদ্যপণ্য) লইয়া আইতামনি পারি (আসতে পারি কি না)।’
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) মৌলভীবাজার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুর ১২টায় মনু নদের পানি রেলওয়ে ব্রিজের কাছে বিপৎসীমার ১১২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে এবং চাঁদনীঘাটে ৯০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। কুশিয়ারা নদী শেরপুরে ৯ সেন্টিমিটার এবং জুড়ী নদী ভবানীপুরে ১৮৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপর দিকে ধলাই নদের পানি রেলওয়ে ব্রিজের কাছে বিপৎসীমার ২১২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1435)
- ► 2025 (3281)
-
▼
2024
(2551)
-
▼
August
(446)
-
▼
Aug 24
(22)
- কেন পশ্চিমা নারীবাদীদের কাছে ফিলিস্তিনি নারীদের ধর...
- ভারত পাল্টেছে এই বার্তা দিতে ঢাকায় দূত পাঠানো উচিত...
- দেশকে ইউরোপ বানাতে ৫ বছরের বেশি লাগবে না : ফরহাদ ম...
- ‘ভাত খাইতাম, না ঘর ঠিক করতাম, চিন্তা লাগের’
- আদালত প্রাঙ্গণে এবং আদালতে সংঘটিত সাম্প্রতিক ঘটনাব...
- কঠোর অভিবাসন নীতির জেরে এবার ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ...
- নেপালে নদীতে পড়লো ভারতীয় পর্যটকবোঝাই বাস, নিহত ২৭
- বিশ্বে প্রথম ফুসফুস ক্যান্সারের ভ্যাকসিনের পরীক্ষা...
- রাতের কলকাতায় নিরাপত্তা আরও জোরাল করছে লালবাজার b...
- প্রতিবেশীদের সাথে সম্পর্ককে প্রভাবিত করছে 'মোদির র...
- ইসরাইলের প্রতি মার্কিন সমর্থন বন্ধের দাবিতে শিকাগো...
- ইরানের নতুন মন্ত্রিসভার কঠিন যাত্রা শুরু
- এশিয়ায় প্রথম এমপক্সে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত থাইল্যান্ডে
- শিক্ষার্থীদের নানা স্বপ্নে রঙিন দেয়াল by পিয়াস সরকার
- কোটা বিরোধী আন্দোলন: ব্যারিকেডে বিদ্যুৎ! পা হারিয়ে...
- অবৈধ অস্ত্র নিয়ে সিলেটে যে আলোচনা by ওয়েছ খছরু
- স্বাভাবিক হয়নি সংসদ সচিবালয় by কাজী সোহাগ
- ৪ঠা আগস্ট রাতেই হাসিনা বুঝতে পারেন সময় শেষ
- এবার হত্যা মামলার আসামি: ক্রিকেটে সাকিবের ভবিষ্যৎ ...
- নতুন বাংলাদেশ গঠনে সিরাজুলের ভীষণ প্রয়োজন ছিল -শোক...
- মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর: বঙ্গবন্ধু পরিষদের প...
- বাঁচার লড়াই: বন্যায় অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু
-
▼
Aug 24
(22)
-
▼
August
(446)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
No comments:
Post a Comment