Thursday, November 8, 2012
আত্মজ by সুচিত্রা ভট্টাচার্য
আত্মজ by সুচিত্রা ভট্টাচার্য
মা আজ চলে গেল। একটু আগে বৈদ্যুতিক চুলি্লর গহ্বরে ঢুকে গেছে মা। পুড়ছে। পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে দ্রুত। আমার যেন এখনো ঠিক বিশ্বাস হচ্ছে না। সকালে যখন অফিসে বেরোই, তখনো তো সব ঠিকঠাক ছিল। যেমন থাকে। দিনটাও আজ শুরু হয়েছিল আর পাঁচটা দিনের মতোই।
মাঘের শুরুতে এবার শীতটা বেশ জাঁকিয়ে এসেছে, সকালে লেপ ছেড়ে বেরোতে ইচ্ছে করছিল না যথারীতি। শুয়ে শুয়েই শুনতে পাচ্ছিলাম সংসার নিয়ে হুড়দ্দুম ব্যস্ত হয়ে পড়েছে সুপ্তি। দুধ খাওয়া নিয়ে রোজকার মতোই গাঁইগুঁই করছে মামপি গোগোল, জোর কিচিরমিচির জুড়েছে, সুপ্তি কষে ধমকাল ছেলেমেয়েকে, এক ফাঁকে চা দিয়ে গেল আমায়, মার আয়াকে ডেকে কী যেন নির্দেশ দিল। রুটিনমাফিক শব্দ বেজে চলেছে সংসারে। মার স্পঞ্জের জন্য জল গরম করছে আয়া, ঠিকে ঝিয়ের সঙ্গে কী যেন কথা চালাচালি হলো, সুপ্তি ছেলেমেয়ের টিফিন বানাচ্ছে ...। দ্যাখ না দ্যাখ মামপি গোগোল স্কুলবাস এসে গেল, আমিও লাফ দিয়ে উঠে বাথরুমে ফিরেই ঝটপট দাড়ি কামানো, কনকনে জলে কাকস্নান...। ডাইনিং টেবিলে সুপ্তি একখানা লিস্ট ধরিয়ে দিল। পরশু মামপিদের স্কুলে স্পোর্টস, মেয়ের জন্য লাল বর্ডার দেওয়া এক জোড়া জুতা চাই। ওয়াটার ম্যাট্রেসে শুয়েও টুকটাক বেডশোর বেরোচ্ছে মার, শয্যাক্ষতর মলম আনতে হবে। মনে করে চা। অফিসপাড়ার দোকানটা থেকে। এরপর মিনিবাসে লাইন, কান ঘেঁষে লেট বাঁচিয়ে অফিসে প্রবেশ, বারতিনেক জিএমের আসা-যাওয়া, ফাইল কম্পিউটার আর কাজের ফাঁকে ফাঁকে সহকর্মীদের সঙ্গে মৃদু আলাপচারিতা। তপন বাবু সাতচলি্লশ বছর বয়সে বিয়ে করেছে, তাকে আমরা উইগ্ প্রেজেন্ড করব, না ফলস টিথ তা নিয়েও হাসাহাসি হলো একচোট।
সবই চলছিল গতানুগতিক ছন্দে কিংবা নিতান্তই ছন্দহীন।
ছবিটা বদলে গেল দুপুরে। হঠাৎই।
টিফিন আওয়ারে তখন একটু ক্যারাম পিটিয়ে নিচ্ছিলাম। আজকাল ছুটির পর আর রিক্রিয়েশান রুমে ঢোকার জো নেই, ফিরতে সামান্য দেরি হলেই যা খিটখিট করে সুপ্তি। আমি ঘরে বন্দি, আর তুমি ফুর্তি মেরে বেড়াচ্ছ ...! সত্যি তো, বেচারা এখন একদমই ঘরে আটকা। একদিকে ছেলেমেয়ে, সংসার, অন্যদিকে অনন্তশয্যায় শুয়ে থাকা পক্ষাঘাতগ্রস্ত শাশুড়ি, সুপ্তির এখন একেবারে চিঁড়েচ্যাপটা দশা। এদিক-ওদিক ঘোরা, সিনেমা-থিয়েটার সবই তো গেছে, রুগ্ন শাশুড়ি ফেলে বাপের বাড়িই বা যেতে পারে কদিন। গেলেও প্রতি মুহূর্তে হানটান, এই ফিরতে হবে, এই ফিরতে হবে। অগত্যা গৃহশান্তি বজায় রাখতে আমাকেও গুহায় সেঁধতে হয় জলদি জলদি।
তো আজ সবে দ্বিতীয় বোর্ড খেলছি, রবীনদার ডাক, অমিত, তোমার টেলিফোন।
রেডটা পকেটের মুখে। ঝুলছে প্রায়। স্ট্রাইকার সেট করতে করতে বললাম, কার ফোন?
_তোমার বাড়ি থেকে। মনে হলো তোমার গিনি্ন।
শুনেই কেমন খটকা লেগেছিল। সুপ্তি তো তেমন দরকার ছাড়া ফোন করে না? লাল ঘুঁটি রয়েই গেল। তাড়াতাড়ি এসে রিসিভার তুলেছি, হ্যালো, কী হলো?
_অ্যাই শোনো, মা কেমন করছেন!
_সে কী? কেন? কী হয়েছে?
_ভয়ানক নিশ্বাসের কষ্ট... চোখটোখ কেমন উলটে যাচ্ছে।
_সর্বনাশ, কখন থেকে?
_এই তো ... আমি একটু মণিকাদিদের ফ্ল্যাটে গেছিলাম, রমা ডেকে আনল। বলছে গলা ভাত খাওয়ানোর পর থেকেই নাকি কেমন কেমন করছিলেন।
_কখন খাইয়েছে?
_যেমন খাওয়ায়। বারোটা-সওয়া বারোটা।
_সঙ্গে সঙ্গে বলেনি কেন?
_অতটা নাকি বুঝতে পারেনি। ... মার হাত-পাও কেমন ঠাণ্ডা মেরে যাচ্ছে!
_ডাক্তার বাবুকে ডেকেছ?
_এক্ষুনি আসবেন। ... তুমি চটপট চলে এসো। আমার কিন্তু ভালো ঠেকছে না।
তখনো চরম কিছু ঘটার কথাটা মাথায় আসেনি। ট্যাঙ্েিত আসতে আসতেও ভাবছিলাম এমন হলো কেন? লাঙ্ ইনফেকশন। ডাক্তার বাবু রুটিন চেকআপের সময়ে একদিন বলছিলেন, শুয়ে থাকতে-থাকতে এসব রোগীর পেশি নাকি আপনি শিথিল হয়ে আসে, তখন ফুসফুসে খাদ্যকণা ঢুকে যাওয়া অসম্ভব নয়। তার থেকেই সংক্রমণ! কী একটা যেন নামও বলেছিলেন রোগটার। কী এক নিউমোনিয়া। অবশ্য ঠাণ্ডাটাণ্ডা লেগেও ...। কতদিন রাত্তিরে পেচ্ছাপ করে মা তার ওপরেই পড়ে থাকে, রমা ওঠেও না, ভোঁস ভোঁস করে ঘুমোয়। ক্যালাস মেয়েছেলে। আবার একটা আতান্তরে ফেলল। তেমন বাড়াবাড়ি হলে এক্ষুনি হয়তো নার্সিং হোমে রিমুভ করতে হবে। বাড়িতে কত টাকা আছে? আজ মাসের উনিশ, মেরেকেটে হাজার দুই। ওতে কি-ই হবে? ব্যাংক তো প্রায় ফরসা... আবার ধার করব? আবার? শালা ধারে ধারে এবার ন্যুব্জ হয়ে যাব। কার কাছে চাওয়া যায়? প্রবীরদা একবার গেয়েছিল, দরকার লাগলে বোলো। সুপ্তি অবশ্য ওর দাদার কাছে টাকা চাওয়াটা পছন্দ করে না। খুকুদিকেও অ্যাপ্রোচ করা যায়। বোনঝি হলেও খুকুদি তো মার মেয়েরই মতন। খুকুদির বিয়েতে মা নিজের একটা নেকলেস্ ভেঙে গয়না গড়িয়ে দিয়েছিল। খুকুদি হয়তো ফেরাবে না, কিন্তু আমি ফেরত দেব কোত্থেকে? ফের একটা পিএফ লোন? নাকি নার্সিং হোমে না নিয়ে গিয়ে হাসপাতাল ...। খরচাটা তাও একটা মাপের মধ্যে থাকে।
কিছুরই প্রয়োজন হলো না। বাড়ি এসে দেখি সব শেষ। আশপাশের ফ্ল্যাটের বেশ কয়েকজন ঘরে থমথমে মুখে দাঁড়িয়ে, সুপ্তি মায়ের খাটের বাজু ধরে স্থির, রমা পায়ের কাছে, মামপি গোগোল তখনও স্কুল থেকে ফেরেনি।
আমার কেমন ঘোর ঘোর লাগছিল। এক দীর্ঘ ক্লান্তিকর অধ্যায়ের এত আকস্মিক পরিসমাপ্তি?
টানা দুই বছর মা শয্যাশায়ী। সেরিব্রাল অ্যাটাকের দিনটা থেকে ধরলে তারও বেশি। প্রায় পঁচিশ মাস। নিখুঁতভাবে গুনে গেঁথে দেখলে সাতশো চুয়ান্ন দিন। এর মধ্যে একটি দিনের তরেও উঠে বসা দূরে থাক, নিজে নিজে নড়াচড়াও করতে পারেনি মা, পাশটুকুও ফিরিয়ে দিতে হতো। এই পঁচিশ মাসে একটা শব্দ পর্যন্ত বেরোয়নি মার গলা থেকে, গোঙানির আওয়াজও না। আমিও ধরে নিয়েছিলাম মা এভাবেই পড়ে থাকবে। রোজই মনে হতো মা আজকের দিনটাও রয়ে গেল, কালকের দিনটাও থাকবে, তার পরের দিনটাও ...
কিংবা হয়তো আলাদা করে এত কথাও মনে হতো না। শুধু হৃদয়ের গভীরে গেঁথে গিয়েছিল একটা ধারণা_নিছক অস্তিত্ব হয়েই মা বুঝি কাটিয়ে দেবে অনন্তকাল। এর বাইরে অন্য কিছু ঘটা বুঝি সম্ভবই নয়।
খবর পেয়ে আত্মীয়স্বজন আসছিল একে একে। সন্ধ্যে নাগাদ বাড়ি ভিড়ে ভিড়। অনেকটা সেই নার্সিং হোমে যেমন দল বেঁধে সবাই মাকে দেখতে যেত, সেরকম। কিংবা তার চেয়েও বেশি।
এরকমই বুঝি হয়। মানুষের কাছে বিপন্নতার দাম আছে। মৃত্যুরও। মার মৃত্যু-সম্ভাবনাটা দড়কচা মেরে যাওয়ার পর উদ্বেগ ক্ষয়ে গিয়েছিল ধীরে ধীরে। আমাদের কাছেও। আত্মীয়দের কাছেও। শেষ দেড়টা বছরে কে কবার দেখতে এসেছে মাকে? ওই মাঝে মাঝে ফোনে খোঁজখবর নেওয়া, কালেভদ্রে হয়তো সশরীরে আগমন, ব্যাস ওইটুকুই। অথচ শ্মশানেও আজ আমার পাশে কত লোক। জাঠতুতো দাদারা, খুড়তুতো ভাই, মাসির ছেলে, পিসির ছেলে, শালা, ভায়রাভাই, বন্ধুবান্ধব ...
হিমেল রাতে মাকে যন্ত্র-চিতায় চড়িয়ে এখন সবাই দাঁড়িয়ে এদিক-ওদিক। প্রবীরদা হাত নেড়ে নেড়ে কথা বলছে খুকুদির বরের সঙ্গে। কিশোর আর সমু পায়চারী করছে। পল্টুরা চা খেতে চলে গেল।
ঠাণ্ডাটা আজ বেড়েছে। নাকি খোলা জায়গা বলে বেশি লাগছে কামড়টা? চারদিকে ধোঁয়াশার পাতলা আস্তরণ, হ্যালোজেন বাতিগুলোয় কেমন মরা মরা ভাব। রেলিংঘেরা জায়গাটায় মরশুমি ফুল ফুটে আছে কয়েকটা, ফুলেরাও যেন মলিন এখন। শ্মশান বলেই কি? গর্জন করতে করতে একটা ম্যাটাডোর হানা দিল চত্বরে, বিটকেল হরিধ্বনি সহকারে খাট নামাচ্ছে একপাল যুবক। কে যেন চেঁচিয়ে ডাকল কাকে। দূরে কোথাও ছররা চলছে হাসির। ভেতরের হলঘরে জোর একটা কান্নার রোল উঠল। থেমেও গেল।
চন্দন আর রনিদা উঠে গিয়েছিল পাশ থেকে, ফিরেছে। সিগারেট টানছিল রনিদা, টোকা মেরে ফেলে দিল পোড়া টুকরোটা। কাঁধে আলগা হাত রেখে বলল, অ্যাই, এখানে ঠাণ্ডায় কাঁপছিস কেন? চল্, ভেতরে গিয়ে বসি।
_না না, এখানেই ঠিক আছে। ভেতরে বিশ্রী গন্ধ, হইহট্টগোল, কান্নাকাটি ... ওখানে দম বন্ধ হয়ে আসছিল।
_তাহলে শালটা ভালো করে জড়িয়ে নে। কান ঢাক। এ সময়ে ঠাণ্ডা লেগে যাওয়াটা মোটেই কাজের কথা নয়।
_বলছি তো ঠিক আছি। তোমরা ব্যস্ত হয়ো না।
রনিদা আর জোরাজুরি করল না। বসেছে পাশে, সিমেন্টের বেঞ্চিতে। চোখ তুলে আকাশ দেখল একটুক্ষণ। আবার সিগারেট ধরাল। লম্বা লম্বা টান দিচ্ছে।
হঠাৎই বলল, পিসিকে আজ একেবারে অন্যরকম দেখাচ্ছিল, না রে বাবলু?
ছোট্ট একটা শ্বাস পড়ল আমার। বললাম, হুঁ।
_মুখে কণামাত্র রোগের চিহ্ন নেই ... হুবহু সেই আগের রং ফিরে এসেছিল। মনে হচ্ছিল সেই পুরনো পিসিকে দেখছি।
চন্দন বলে উঠল, কাকির মুখে কী রকম একটা হাসি লেগেছিল লক্ষ করেছ রনিদা?
_হুম। কত কষ্টের অবসান হলো।
_বটেই তো। কিছু বলতে পারে না, বোঝাতে পারে না, কী খারাপ যে লাগত! এবার পুজোর পর প্রণাম করতে গিয়ে মুখের দিকে তো তাকাতেই পারছিলাম না। কী মানুষ তার কী হাল!
_অথচ দ্যাখো, পিসি কিন্তু কখনো কারো পাকা ধানে মই দেয়নি। মা তো সেদিনও বলছিল, ভগবান কিন্তু এটা ন্যায় করলেন না। এত ভালো মানুষ, তারই কি না এই দুর্দশা! ... সারা জীবন কী স্ট্রাগলটাই না করেছে পিসি। অসুখ-বিসুখ কিছু নেই, দুম করে পিসে মশাই মারা গেল ... বিনা মেঘে বজ্রপাত ... বাবলু তো তখন হাফপ্যান্ট। অত বড়ো একটা ধাক্কা সামলেও তো পিসি মাথা উঁচু করে থেকেছে। চাকরি-বাকরি করে একাই মানুষ করেছে বাবলুকে। যখন নিজস্ব ঘরদোর হলো, নাতি-নাতনি নিয়ে একটু সুখের মুখ দেখছিল, তখনই ভগবান ডাণ্ডা মেরে দিল।
_আমরা তো মনেপ্রাণে প্রার্থনা করতাম, কাকি চলে যাক, কাকি এবার চলে যাক।
_রিয়েলি, ওরকম ভেজিটেবল বনে যাওয়াটা কি বেঁচে থাকা?
_পুরো ভেজিটেবল কোথায়? কাকির তো সেন্স ছিল, ইভন্ ইন দ্যাট হ্যাপলেস সিচুয়েশান। সেটাই তো আরো প্যাথেটিক।
আঃ, কী আরম্ভ করল এরা? এসব কি এখন আলোচনা করার সময়? মা কী ছিল আমার জন্য কত করেছে, সব তো অনেক পুরনো কথা। সবাই জানে। আমিও জানি। আমিও প্রাণপণ চেষ্টা করেছি মার সেই ঋণ শোধ করার। সাধ্যের অতিরিক্ত করেছি। মার যখন স্ট্রোকটা হলো খরচার পরোয়া না করে মাকে নিয়ে ছুটেছি বড় নার্সিং হোমে। সেখান থেকে মা ফিরল জড়বস্তু হয়ে, তবুও কি আমি হাল ছেড়েছিলাম? টানা ছয় মাস ফিজিওথেরাপি, প্রথমে তিনটা মাস তো সকাল-বিকেল। এর সঙ্গে ডাক্তার, নার্স ও আয়া ...। মা সন্তানকে ভালোবাসবে, তার জন্য প্রাণপাত করবে এ তো স্বতঃসিদ্ধ, কিন্তু আমিও কি মাকে কম ভালোবাসতাম? আমার উদ্বেগ ছিল না? নার্সিং হোমে কত রাত জেগেছি পরপর, অমুক নিউরোলজিস্টের কাছে যাচ্ছি, তমুক নিউরোলজিস্টের কাছে যাচ্ছি, তমুক নিউরোলজিস্টের কাছে ছুটছি। বিরল ওষুধ খুঁজতে ঘুরে বেড়াচ্ছি শহরময়...। এর পরও যদি মা সুস্থ না হয় সেটা তো মার কপাল। তবু চেতনা যেটুকু ফিরেছিল সেও আমার চেষ্টার জোরেই। আশ্চর্য, আমার এই চেষ্টার দিকটা কেউ বলে না।
নার্ভের মোটর সিস্টেম প্রায় অকেজো হয়ে গেলেও মার মস্তিষ্ক বেশ খানিকটা সচল হয়েছিল। ব্যাপারটা আমার নজরে আসে মাকে নার্সিং হোম থেকে ফিরিয়ে আনার মাস তিন-চার পর। চৈতন্য ফেরার প্রকাশ অবশ্য ছিল মাত্র একটাই। চোখে। আমাকে দেখলেই মার চোখ দুটো ঘুরতে থাকত। যেদিকেই যাই, ডাইনে-বাঁয়ে, জানালায়, দরজায়, মার চোখ অনুসরণ করছে আমাকে। হ্যাঁ, শুধু আমাকেই। সুপ্তি কত সেবা করেছে মার, গোগোল মামপি তো তাদের ঠাম্মার প্রাণ ছিল। অথচ ওদের দেখে মার দৃষ্টি কিন্তু ও রকম চঞ্চল হতো না।
প্রথম প্রথম আমার গা শিরশির করত। কতদিন মার মাথার পাশে বসে প্রশ্ন করেছি, কী দেখছ মা? কিছু বলবে?
মার দুই মণিতে অদ্ভুত এক কাঁপন জাগত তখন। যেন একটা ভাষা ফুটেও ফুটছে না। গোমরাচ্ছে।
ক্রমেই ওই দৃষ্টিতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। পরের দিকে তো দিব্যি একটা খেলায় দাঁড়িয়ে গিয়েছিল ব্যাপারটা। মাকে কেউ দেখতে এলেই বলত, ওই আলমারিটার পাশে গিয়ে দাঁড়া তো বাবলু, দেখি এবার চোখ কোনদিকে যায়। ... খাটের পেছনে চলে যা, এবার আর চোখ তোকে খুঁজে পাবে না। ... ওমা দ্যাখো দ্যাখো, বাবলু বেরিয়ে যাচ্ছে অমনি রেণুদির দৃষ্টিও ... আহা রে, একেই বলে চোখে হারানো!
ইদানীং মার কাছে তেমন বসা হতো না। কী করব বসে থেকে? তা ছাড়া আমারও তো ছেলেমেয়ে বউ অফিস সংসার এসব আছে, না কী? তার মধ্যেও রুটিন করে যেতাম এক-দুবার। দাঁড়াতাম একটু, মার পালস দেখতাম, আয়ার কাছে হালহকিকত জেনে নিতাম। সম্প্রতি একটা প্রেসার মাপার যন্ত্রও কিনেছিলাম, নিজেই মেপে নিতাম, রক্তচাপ। কাঁহাতক আর ওইটুকুর জন্য রোজ রোজ দশ টাকা করে গোনা যায়! রমাটা একেবারে টিপিকাল আয়া, ওর শেখার ইচ্ছেও নেই, ওকে দিয়ে ওসব কাজ হয়ও না। অফিস বেরোনোর আগেও নিয়ম করে একবার উঁকি দিতাম মার দরজায়...
আজ কি দাঁড়ানো হয়েছিল? মনে পড়ছে না। মোজা না রুমাল কী একটা যেন খুঁজে পাচ্ছিলাম না, তাড়াহুড়োয় বোধ হয় ...। তুত, এত খুঁটিনাটি কি মনে রাখা সম্ভব? বিশেষ করে যে মানুষ দিনের পর দিন, মাসের পর মাস একইভাবে টিকে আছে তার সম্পর্কে?
আবার একটা ডেডবডি এলো। কাচের গাড়িতে। বয়স্ক মহিলা।
রনিদা যান্ত্রিকভাবে কপালে হাত ছোঁয়াল। আলগাভাবে বলল, আমাদের কপালটা ভালো।
ঘুরে তাকালাম, মানে?
_পিসিকে একেবারে জাস্ট টাইমে আনা হয়েছে। দেকছিস না, তার পরই কেমন লাইন পড়ে গেল! আর দশটা মিনিট দেরি করলে তোকে তিন ঘণ্টা বসে থাকতে হতো।
এমন একটা ভার মুহূর্তেও হাসি পেয়ে গেল। পঁচিশ মাস টানতে পারলাম আর তিন ঘণ্টায় কি-ই বা ফারাক হতো?
সন্তুদা আর দুলু কথা বলতে বলতে আসছে। পঞ্চাশ পেরিয়ে যাওয়া সন্তুদার এক আশ্চর্য গুণ আছে, আত্মীয়স্বজন বন্ধুবান্ধব কারও মৃত্যুর খবর পেলেই সন্তুদা যেখানে থাক হাজির। কাজকর্ম পুরোপুরি না মেটা পর্যন্ত স্বেচ্ছায় সব দায়িত্ব তুলে নেবে কাঁধে। আজও টেলিফোন পেয়েই এসে পড়েছিল, বড় মাইমা আর রেখা বউদিকে সঙ্গে নিয়ে। এসেই ঝটপট সব বন্দোবস্ত করে ফেলল সন্তুদা। কাচের গাড়ি, ফুল-খই-ধুপ অগুরু ...। মার বুকে গীতা রাখা হয়েছে কি না, খইয়ের ঠোঙায় খুচরো পয়সা দেওয়া হলো কি না, প্রতিটি খুঁটিনাটিতেই সন্তুদার খুব নজর। শ্মশানে পেঁৗছেও চরকি খাচ্ছে অনবরত। করপোরেশনের ঘরে দৌড়াদৌড়ি, পুরুতের সঙ্গে দর কষাকষি ...। আমি যখন আগুন হাতে মাকে প্রদক্ষিণ করছি তখনও সন্তুদা আমার পাশেপাশে।
সন্তুদার হাতে একখানা প্লাস্টিকের প্যাকেট। প্রবীরদাকে প্যাকেটখানা ধরিয়ে এলো আমার কাছে, বাবলু, তোদের কাপড়-জামা কেনা কমপ্লিট। প্রবীর বাবুর কাছে রইল, চান করে পরে নিস।
_এত ঠাণ্ডায় রাত্তিরে চান করবে কি? না না, একটু গঙ্গাজল ছিটিয়ে নিলেই হবে।
_আহা, আমি কি গঙ্গায় ডুব দিতে বলছি? বাড়ি গিয়ে তো করবে। কী রে বাবলু, পিসির জন্য এইটুকু পারবি না?
বটেই তো। এটুকুই তো করছি!
আমার মুখের ভাঙচুর লক্ষ করেনি সন্তুদা। ফের বলল, পিসির ডেথ সার্টিফিকেটটা এখন আমার কাছেই রইল, বুঝলি। তিন কপি জেরঙ্ করে দিয়ে দেব, যত্ন করে রাখিস। হারালে কিন্তু পিসির কিছু পাবি না।
হায় রে, পিসির যেন কত ধনদৌলত আছে! রিটায়ারমেন্টের সময়ে কুড়িয়ে-বাড়িয়ে যা পেয়েছিল তার সিংহভাগই তো গেছে ফ্ল্যাটে। বারণ করেছিলাম, শোনেনি। ও টাকা পুষে আমি কী করব রে বাবলু! বরং যতটা পারিস ক্যাশ দিয়ে দে, তোর ব্যাংক লোন তাহলে কম হবে! রাগ করিস কেন, তোর বাড়ি তো আমারও রে, তুই কি আর আমায় তাড়িয়ে দিবি! ব্যাস্, সঞ্চয় প্রায় সাফ। তাও যেটুকু তলানি পড়ে ছিল তাই দিয়ে নাতনির জন্য সোনার চেইন বানাচ্ছে, দুম করে গোগোলের নামে একটা ক্যাশ সার্টিফিকেট কিনে ফেলল ...। ওসব না করে কিছু যদি রাখত, বিপদের সময়ে তাও কাজে আসত।
পল্টু দিপুরা কখন যেন ফিরে হলঘরে ঢুকেছিল। বেরিয়ে ডাকছে, বাবলুকে নিয়ে চলে আসুন। আমাদেরটা হয়ে গেছে।
সন্তুদা সঙ্গে সঙ্গে টানটান, আয় আয়। ... বেশ তাড়াতাড়িই হয়ে গেল দেখছি।
রনিদা একদিক থেকে ধরেছে, অন্যদিক থেকে প্রবীরদা। আমাকে নিয়ে চলেছে মার ভস্মাবশেষের দিকে। এত জোরে হাত চেপেছে কেন? ভাবছে আমি পড়ে যাব? ভেঙে পড়ব?
হলঘর পেরিয়ে উঁচু জায়গাটায় উঠলাম। আগুনে যাওয়ার অপেক্ষায় চ্যাঙারিতে শায়িত পর পর চারটে মৃতদেহ, তাদের টপকে নামছি সিঁড়ি বেয়ে। চুলি্ল থেকে বিকিরিত হচ্ছে তাপ। বিচিত্র এক ওমে শরীরটা উষ্ণ হয়ে যাচ্ছে আমার।
উষ্ণ? না হালকা?
আমি ঠিক বুঝতে পারছি না।
দুই.
খাটে আধশোওয়া হয়ে চোখ বোলাচ্ছিলাম ফর্দে। পুরুতমশাই একটা লিস্ট ধরিয়ে গেছেন বটে। চাল ডাল তেল নুন সবজি ফুল ফল বেলপাতা কুশ তিল যব হরীতকী তিল ঘি মধু চিনি কলাপাতা পান সুপারি মসলা কী আছে, কী নেই। দানসামগ্রীর তালিকাও নেহাত ছোটো নয়। থালা বাটি গেলাস ছাতা চটি শাড়ি ঘড়া গামলা পিলসুজ ...। লেডিজ চটির পাশে সাইজ লেখা আছে, ছাতাটাও রঙিন চাই, তাও খাট বিছানা বালিশ লেখেননি, মূল্য ধরে নেবেন। কতটুকু সাশ্রয় হলো কে জানে!
সব মিলিয়ে মোট কত লাগতে পারে? বাজেট ছাপিয়ে যাবে না তো? ব্যাংক থেকে শেষ ঝড়তি-পড়তি দশ হাজার তুলে নিয়েছি, প্রবীরদার কাছে চেয়েছি পাঁচ_কাজকর্ম, খাওয়া-দাওয়া সব এতে চুকবে তো? প্যান্ডেল নেবে তিন হাজার। ফ্ল্যাটবাড়ির শুধু ছাদটুকু ঘিরবে, তাও সাদা কাপড়, এর জন্য এত যে কেন চাইছে? চেয়ার-টেবিলে নয় শ ... মেরেকেটে হাজার। শ্রাদ্ধের দিন নব্বইজনের মতো খাবে। নব্বই ইনটু ফিফ্টিফাইভ, মোটামুটি পাঁচ হাজার। মৎস্যমুখের দিন তিরিশ জন। আশি ইনটু তিরিশ মানে প্রায় আড়াই। সাকুল্যে হলো সাড়ে এগারো। কাজে নিশ্চয়ই হাজার তিনেকের বেশি পড়বে না। পরশু ঘাটকাজেও কিছু খরচা আছে। ... মনে হয় টায়েটুয়ে কুলিয়ে যাবে। তেমন যদি হয় শ্রাদ্ধের দিন এক রকম মিষ্টি নয় কমিয়ে দেব। প্লেটপিছু পাঁচ টাকা বাঁচে। অর্থাৎ সাড়ে চার শ। একেবারে ফ্যালনা নয়। এভরি ফারদিং কাউন্টস।
আচমকা হাসি পেয়ে গেল। কী ছেলেমানুষি ভাবনা! কলসি দিয়ে লাখো মোহর গলে গেল, এখন কানাকড়ি বাঁচাতে পুটিংয়ের খোঁজ। শুধু নার্সিং হোমেই তো বেরিয়ে গিয়েছিল চলি্লশ হাজারের বেশি। ফিজিওথেরাপিস্টের পেছনে না হোক বিশ-বাইশ হাজার। প্রথম মাসখানেক দুবেলা দুটো নার্স ছিল। তারা কান মচড়ে এক শ কুড়ি এক শ কুড়ি দু শ চলি্লশ দুয়ে নিত প্রতিদিন। খরচায় উদ্ব্যস্ত হয়েই না ধাপে ধাপে নেমেছিলাম। দুটো নার্স থেকে রাতে নার্স দিনে আয়া, তারপর দুবেলা দুটো আয়া, শেষমেশ ওই রমা। মেয়েটা রাত-দিন থাকত, খাওয়া-দাওয়া নিত। তা নিক, মাইনেটা তো কম। মাসে দু-হাজার বাঁচানো চাট্টিখানি কথা নয়। এত সামলে, এত টেনেটুনেও প্রভিডেন্ট ফান্ডে লোন, কো-অপারেটিভে ধার ...। শালা, ভাবতেই ইচ্ছে করে না। যা খসছে খসুক, এবার একবারেই চুকে যাক। আশা করি, আমি বা সুপ্তি কেউ ওভাবে পড়ে থাকব না। তেমন হলে মামপি গোগোল যে কী অভিশাপ দেবে!
সুপ্তি ঘরে ঢুকেছে। ঘটাং ঘটাং আলমারি খুলল। তাক হাতড়াচ্ছে।
_কী খুঁজছ?
_আরে দ্যাখো না, জ্বালিয়ে মারল।
_কে?
_রমা। শাড়ি শাড়ি করে আমায় পাগল করে দিল।
_দিয়ে দাও একখানা।
_একটা নয়, দু-দুটো দিয়েছি। মার শাড়ি। বললাম, সাদা খোল তো কী আছে, ছাপিয়ে নিস। মন উঠল না।
_কী চায়? বেনারসি?
_ওই রকমই কিছু পেলে ভালো হয়। সুপ্তি মুখ বেঁকাল, বলছে দিদার এত ময়লা ঘাঁটলাম, একটা সিল্কের শাড়ি অন্তত পাব না?
দুনিয়ায় নিজের প্রাপ্য সবাই বোঝে। রমার কী দোষ, আমার মা-ই কি ছেড়েছে? কর্তব্যের পাওনাটুকু উসুল করে নেয়নি?
বিরস মুখে বললাম, ঝুটঝামেলা হঠাও। দিয়ে দাও। ঈষৎ রংজ্বলা নিজের একটা মুরশিদাবাদী সিল্ক বার করে নিয়ে গেল সুপ্তি।
ফর্দখানা টেবিলে রেখে চিত হয়ে শুলাম। চোখটা আবার টানছে। শরীরে বেজায় ক্লান্তি। সকাল থেকে আজ ছোটাছুটিও গেছে বেশ। দুলুকে নিয়ে নেমন্তন্ন করতে বেরিয়েছিলাম। মানিকতলা শ্যামবাজার ... উত্তর কলকাতার পাট চুকোলাম আজ। ফোনেই বলে দিয়েছি অনেককে, তবু এখনো তো কেউ কেউ আছে যারা মাতৃবিয়োগ ভারাক্রান্ত মুখটি না দেখতে পেলে সন্তুষ্ট হয় না। আড়াইটে নাগাদ বাড়ি ফিরে ঘি সহযোগে সেদ্ধভাত গলাধঃকরণ, ফলত যথেষ্ট টকে আছে গলা। এখনো।
তবে ক্লান্তিটা ঠিক অম্বলের জন্য নয়। এ শ্রান্তি যেন একটু অন্য রকম। ম্যারাথন দৌড় সাঙ্গ করে শেষ ফিতে ছোঁয়ার পর যেমনটা লাগে দৌড়বীরের, এ অবসাদ যেন সেই ধাঁচের। মাকে পুড়িয়ে আসার পর থেকেই শরীর একদম ছেড়ে গেছে।
চিন্তাটায় কটু গন্ধের আভাস আছে কি? ম্যারাথনাররা আমার মতোই শরীর নিংড়ে দৌড়োয় বটে, কিন্তু তাদের শেষ ফিতে ছোঁয়ার সঙ্গে কি মার মৃত্যুর তুলনা চলে? আমি কি প্রথম দিন থেকে ওই লক্ষ্যেই পেঁৗছতে চেয়েছি? না না না না, কক্ষনো না। বরং উলটো পথেই তো দৌড়েছি, লড়াই করেছি মাকে বাঁচানোর জন্য। কায়মনোবাক্যে চেয়েছি মা সুস্থ হয়ে উঠুক, পুরোপুরি আগের মতো না হলেও হাঁটাচলা করুক, মোটামুটি একটা স্বাভাবিক জীবনে ফিরুক। সর্বস্ব উজাড় করেও যদি সামান্যতম উন্নতি না হয়, তখন মানুষের কেমন লাগে? মনে হয় না কি রেসিংট্র্যাকটা ক্রমে ঘুরে যাচ্ছে, পার হচ্ছি একটা লম্বা প্যাঁচালো পথ? ঘেমে নেয়ে যাচ্ছি, জিভ বেরিয়ে যাচ্ছে, ক্যালোরি শেষ, তবু ছোটো। কাঁহাতক পারে মানুষ?
সুপ্তি আবার এসেছে, হাতে চা। টেবিলে কাপ রেখে খাটে বসল। লাল পাড় কোরা শাড়ির আঁচল দিয়ে খাটের বাজু ঝাড়তে ঝাড়তে বলল, তোমার সন্তুদাই জিতে গেল।
ভুরু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলাম, কেন?
_আমাদের ইচ্ছেটার তো মূল্য রইল না। মার ঘরে তো কাজ হচ্ছে না।
_সন্তুদা তো ভুল কিছু বলেনি। মার ঘরটা তো সত্যিই ছোটো। ড্রয়িংহলে কাজ হলে সুবিধেই হবে, শ্রাদ্ধের সময়ে লোকজন বসতে-টসতে পারবে। ... ডেকরেটারকে বলে দিয়েছি ফরাস পেতে দেবে ...
_আমার কোনো কিছুতেই আপত্তি নেই। তবে আমার লাগছে কোথায় জানো? তোমার ওই সন্তুদার কথাবার্তায়। ... পিসির ঘরটা খুপরি ... এত চাপা ... আলোবাতাস খেলে না ... যেচে পড়ে এসব শোনানোর অর্থ কী? আমরা যেন ইচ্ছে করে মাকে অন্ধকূপে রেখেছিলাম।
সুপ্তির আহত হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। ফ্ল্যাটে আসার আগে সুপ্তি বারবার বলেছিল, মা আপনি বড় ঘরটা নিন। মা কিছুতেই রাজি হননি। এক গোঁ_আমি একা মানুষ, ওই ঘরের আমার কী প্রয়োজন। বরং বড় ঘরটা তোরা নে, মাঝেরটায় বাচ্চারা একটু হাত-পা ছড়িয়ে থাকুক।
হাত নেড়ে বললাম, সন্তুদার কথা ছাড়ো। খেটেখুটে দিচ্ছে ...। আমরা তো জানি, আমরা মার জন্য কী করেছি।
_সবচেয়ে ভালো হতো বাড়িতে কাজটা না হলে। ফ্ল্যাটের সোসাইটির পারমিশন নাও, এর সামনে হাত কচলাও, ওর চাট্টি কথা শোনো ... আমার একদম পছন্দ হয় না।
_কী করা যাবে? চৈতন্যমঠ গৌড়ীয়মঠ হেনামঠ তেনামঠ_সবই তো ঘুরে দেখা হলো। কোত্থাও জায়গা নেই। বাপ-মাকে চিতায় চড়ানোর আগেই যে লোকে শ্রাদ্ধের জায়গা বুক করে ফেলে আমি কী করে জানব? ... একদিক দিয়ে ভালোই হলো। কেউ বলতে পারবে না মঠে টাকা ধরিয়ে মার কাজ সেরেছি।
_যারা কথা শোনানোর তারা ঠিক শোনাবে। এই তো, তোমার খুকুদি আজ কায়দা করে কত কী বলে গেল।
_কী বলেছে খুকুদি?
_মাসিকে তোমরা ন্যাজাল ফিডিংয়ে রাখলে পারতে, এই রমাটমারা কি তেমন সাবধানে খাওয়াতে পারে ...! ঠারেঠোরে বলতে চাইছিল আমরা মার ঠিক যত্ন নিইনি।
_বলুক গে যাক। আমরা তো জানি আমরা কী করেছি। কথাটা ফের মুখ দিয়ে বেরিয়ে গেল, বাইরের লোকের কথায় কান দিয়ো না।
_লাগে। বুঝলে, লাগে। দুই বছর ধরে সংসারের সব খরচ কিভাবে কাটল করে গেছি। ছেলেমেয়ের ফল বন্ধ করে মাকে আঙুরের রস, বেদানার রস খাইয়েছি। পুজোর সময়ে একটার বেশি জামা দিয়েছি মামপি গোগোলকে? দেনায় দেনায় অন্ধকার ... মাস গেলে কেটেকুটে কটা টাকা হাতে পাও সে খবর কেউ নেওয়ার চেষ্টা করেছে কখনও? শুধু ওপর থেকে আহা, উহু। আজ বাদে কাল মামপি নাইনে উঠবে, ওর জন্য একটা ভালো টিউটর রাখা দরকার, পেরেছি রাখতে? সেই তো ঢোকাতে হলো কোচিংয়ের গোয়ালে। সুপ্তি জোরে নাক টানল, সারাক্ষণ খালি চিন্তা মার হরলিঙ্ ফুরোল কি না, মার কমপ্ল্যান আছে তো ...।
মাকে ছেড়ে কোথাও গিয়ে দু-দণ্ড তিষ্ঠাতে পেরেছি? নতুন মাসির বিয়ে হলো, আমি সকালে মুখ দেখিয়ে এলাম, তুমি বিকেলে। কেন? মার জন্যই তো! তার পরও তোমার জেঠিমা বলে গেলেন রেণুর যখন টান উঠল তখন তুমি বুঝি ছিলে না বউমা! বলো, শুনতে কেমন লাগে? বলো?
_বাদ দাও। যারা করে, তাদেরই সমালোচনা হয়। এ তো জানা কথা, আমারও একটা ছোট্ট শ্বাস পড়ল, নাও, চা খেয়ে নাও। জুড়িয়ে যাচ্ছে।
চোখের কোল মুছে একচুমুকে কাপ শেষ করল সুপ্তি। উঠে লাগোয়া বাথরুমটায় গেল একটু। বেরিয়ে শুকনো গলায় জিজ্ঞেস করল, তুমি এখন কিছু খাবে?
সিগারেট ধরিয়েছি। কাঠি অ্যাশট্রেতে গুঁজে বললাম, কী খাব?
_ফল কেটে দিতে পারি।
_চা খেয়ে ফল?
_খানিকক্ষণ পরে খেয়ো।
_কত ফল খাব? বাদড়ও এত ফল খেতে পারে না।
সুপ্তি ফিক করে হেসে ফেলল, তোমার টুসিদি সকালে আবার একগাদা কলা, আপেল, সফেদা দিয়ে গেছে। গোগোল মামপি তো দেখছে আর আঁতকে আঁতকে উঠছে, যে আসছে হাতে ফল, মিষ্টি, যে আসছে হাতে ফল মিষ্টি ... গোগোল, চুরি করে সন্দেশ খেত, এখন ফ্রিজের ধার মাড়াচ্ছে না।
_ফেলে দাও সব। কাজের লোকদের বিলিয়ে দাও।
_কত দেব?
_তাহলে নিজেই খাও বসে বসে। তুমি তো আপেল ভালোবাস।
_বাসতাম। এখন আর সহ্য হয় না।
_তাহলে এক কাজ করো। ফলকো গোলি মারো। মামপি গোগোলের জন্য তো লুচি হবেই, কটা বেশি করে ভাজো। বেলায় খেয়ে, এখন আর কিছু না খেয়ে আমরাও বরং তাড়াতাড়ি রাতের খাওয়াটা ...
_তুমি লুচি খাবে?
_কী আছে? গোমাংস তো খাচ্ছি না।
_হ্যাঁ অ্যা, হুট করে তোমার কোনো আত্মীয় এসে পড়ুক, ওমনি রটে যাবে শাশুড়ি গত হওয়ার আনন্দে সুপ্তি বরকে লুচি গেলাচ্ছে।
_হু কেয়ারস্? আমরা কারো খাই, না পরি? অশৌচ মানামানিটা নিজেদের মনের ব্যাপার। তাও তো আমি ... নেহাত মা এসবে বিশ্বাস করত বলে ... এসব কাছা নেওয়া-টেওয়া আমার যথেষ্ট অকোয়ার্ড লাগে।
_আহা, পালন যখন করছই, পুরোটাই করো। আর তো মাত্র কটা দিন। এত দিন এত কিছু করলে আর মাত্র দু-চার দিনের জন্য ধৈর্য হারিয়ে ফেলবে?
ক্যাঁ ক্যাঁ ডোরবেল বাজছে। একটানা। নির্ঘাত মামপি। স্কুল থেকে এসেই ছুটেছিল কোচিংয়ে, ফিরল। গোগোল দরজা খুলতেই শুরু হয়ে গেছে লণ্ডভণ্ড কাণ্ড, ধুপধাপ আওয়াজ ড্রয়িং ডাইনিং স্পেসে। গোগোলের চিৎকার উড়ে এলো, মামপির হিহি হিহি।
চোখ কুঁচকে বললাম, কী নিয়ে লাগল দুজনের? এত হল্লা কিসের?
_আর কী! গোগোল কার্টুন চ্যানেল দেখছিল। মামপি নির্ঘাত ওর হাত থেকে রিমোট কেড়ে নিয়েছে।
ঠাম্মার মৃত্যুর পর দু-চার দিন থমকে ছিল ভাইবোন, আবার তারা সমে ফিরছে। গোগোলের স্বর চড়তে চড়তে সোপ্রানোয়, পাল্লা দিয়ে বাজছে মামপির হাসি।
সুপ্তি বিরক্ত মুখে বলল, দাঁড়াও দিয়ে আসি ঘা কতক। এত ধাড়ি মেয়ে, পাঁচ বছরের ছোট ভাইয়ের সঙ্গে কেমন লাগে দ্যাখো।
_থাক, কিছু বোলো না। মুখ দিয়ে বেরিয়ে গেল, ফ্ল্যাটটায় প্রাণ ফিরুক। এ কদিনের দমচাপা ভাবটা কাটুক একটু।
সুপ্তি অস্ফুটে বলল, এ কদিন? না পঁচিশ মাস?
বলেই সুপ্তি নীরব। আমিও আর কথা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। বাইরে বিকেলটা মরে গেছে বহুক্ষণ, আমাদের বন্ধ দরজা-জানালা ভেদ করে মরা বিকেলটা তবু ঢুকে পড়ছিল ফ্ল্যাটে। চুঁইয়ে চুঁইয়ে।
তিন.
আজ নিয়মভঙ্গ ছিল। ভালোয় ভালোয় চুকে গেল সব কাজ।
নিমন্ত্রিতরা প্রায় সবাই এসেছিল। দু-তিনজন ছাড়া। চন্দন আর চন্দনের বউ শেষ মুহূর্তে আটকে গেল। ওদের বাচ্চাটা নেহাতই দুগ্ধপোষ্য, সকাল থেকে বমি পায়খানা করে ভাসাচ্ছে। আর এলো না সন্তুদার বউ। শুক্রবার তার কী সব তন্তোষী মা-ফা থাকে, এদিন বাড়ির বাইরে তার খাওয়া নিষেধ।
খাওয়া-দাওয়ার পর দুপুরে আড্ডা হলো জমিয়ে। এ-প্রসঙ্গ, সে-প্রসঙ্গ, এ-কথা সে-কথা। রনিদা আজ ন পিস্ তপসে মাছের ফ্রাই খেয়েছে, সন্তুদা চোদ্দোখানা রসগোল্লা,_বেচারা ক্যাটারারের মুখটা কেমন আমসি হয়ে গিয়েছিল বলতে বলতে টুসিদি খুকুদির কী হাসি। ব্যাস, চলতে লাগল খাওয়ার গল্প। কে কোন নেমন্তন্ন বাড়িতে কোন সিঁটকে প্যাংলাকে আশি পিস মাছ খেতে দেখেছে, কোথায় কে কবে চার হাঁড়ি দই শেষ করেছিল, কার বাড়িতে বরযাত্রীরা নুন মাখিয়ে খেয়ে পুরো মিষ্টি সাবাড় করে দিয়েছিল, এসব। সন্তুদার স্টকে প্রচুর মড়া পোড়ানো স্টোরি, গুছিয়ে গুছিয়ে ছাড়ল কয়েকখানা। তার মধ্যেই মার কথাও উঠছিল হঠাৎ হঠাৎ, শ্রাদ্ধের দিনের মতোই। কলরোল রঙ্গরসিকতার মাঝে চাপাও পড়ে যাচ্ছিল মা। এমনই হয় বোধ হয়। শ্রাদ্ধের আড়ম্বরে মৃত মানুষটা ফিকে হয়ে যায় অনেকটাই। শোক থাকলেও তা তেমন প্রকট হওয়ার সুযোগ পায় না।
আসর ভাঙল সন্ধ্যের মুখে। একে একে বিদায় নিল সবাই।
যাওয়ার সময়ে খুকুদির বর বলল, বুঝলে বাবলু, আমার মনে হয় এবার তোমাদের কটা দিন একটু বাইরে ঘুরে আসা উচিত।
খুকুদি বলল, হ্যাঁ রে, পারলে কোথাও থেকে বেড়িয়ে আয়। মাসির জন্য তোদের যা অবস্থা গেল ...। শরীর-মন দুটোই চাঙ্গা হওয়া দরকার।
যেতে পারলে তো ভালোই হতো। রোগী-রোগ, ওষুধ ও ডাক্তার করতে করতে সত্যি তো হাঁপিয়ে উঠেছি। কিন্তু এক্ষুনি, এক্ষুনি বেরোই কী করে? মা নেই বটে, কিন্তু ধারদেনাগুলো তো আছে।
উদাস মুখে বললাম, দেখি। কয়েকটা দিন যাক।
বাড়ি খালি হতেই হাতে রাশি রাশি কাজ। পরশু থেকে সোফা-টেবিলগুলো দেয়ালে ঠেলা রয়েছে, সন্তুদা যাওয়ার আগে কিছুটা টেনেটুনে দিয়ে গেছে, ধরাধরি করে ফেরালাম স্বস্থানে। রান্নাঘরে অবশিষ্ট খাবার-দাবারের ডাঁই, ছোট ছোট গামলায় ঢেলে খানিক ঢোকানো হলো ফ্রিজে। মাছ ভাজাগুলো বাইরেই রইল, শীতকালে কি আর পচবে? মেঝেটেঝেরও অকহতব্য দশা, মোটামুটি পদে আনতে হিমশিম খাওয়ার জোগাড়। মাঝে ক্যাটারিংয়ের লোকটাও এলো, হিসাবপত্র করে মিটিয়ে দিলাম তার টাকা। আটটা নাগাদ দুম করে চন্দন। বসব না বসব না করেও বসল একটুক্ষণ, জোর করে তাকে দুপুরের খাওয়াটা খাইয়ে দিল সুপ্তি।
রাতে অবশ্য আমি কিছু ছুঁলাম না। সুপ্তিও না। আঁশটে গন্ধে চতুর্দিক ম ম, গা গুলোচ্ছিল। মামপি গোগোলও বেজায় ক্লান্ত, গোগোল তো সন্ধে থেকেই ঢুলছিল, চন্দনের সঙ্গে বসে যৎসামান্য খেয়ে দুই ভাইবোনই বিছানায় ধপাস।
শোয়ার আগে সোফায় বসে সিগারেট টানছিলাম। সামনে টিভি চলছে, স্পোর্টস চ্যানেল। উত্তেজক এক ফুটবল ম্যাচ হচ্ছে, সম্ভবত স্প্যানিশ লিগ। শব্দ কমিয়ে পর্দার দিকে তাকিয়ে আছি, দেখছি না কিছুই। মাথাটা কেমন জ্যাম হয়ে গেছে। কদিন ধরে যা দৌড়ঝাঁপ গেল।
সুপ্তি মামপি গোগোলের ঘরে মশারি টানাতে গিয়েছিল। পাশে এসে বসল। তার চোখও খানিকক্ষণ পর্দায় স্থির।
হঠাৎ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, বাড়িটা কেমন ফাঁকা হয়ে গেল, না?
কথাটা ঠিক বোধগম্য হলো না। ফাঁকা কেন বলছে? কদিন বাড়িতে ভিড় লেগে ছিল, তাই?
সুপ্তি আবার একটা শ্বাস ফেলল, যেভাবেই থাক, তবু তো মা ছিলেন।
_হুঁ।
_তোমার আর কী, অফিস চলে যাবে। একা বাড়িতে আমার যে কী করে কাটবে!
_হুঁ।
_খুকুদি তখন ঠিকই বলছিল। আমাদের কোথাও থেকে ঘুরে আসা উচিত। বেশি দূরে নয় নাই গেলাম, কাছাকাছি যাওয়াই যায়, কী বলো? এই ধরো দিঘা কিংবা পুরী কিংবা ঘাটশিলা মধুপুর ...
_বুঝলাম। কিন্তু টাকা আসবে কোত্থেকে?
_আর অত টাকা টাকা করে মাথা খারাপ কোরো না তো। সুপ্তি দু-এক সেকেন্ড চুপ থেকে গলা নামাল, মার খরচটা তো কমে গেল... তা ছাড়া এক্ষুনি তো আর যাচ্ছি না, মামপি গোগোলের পরীক্ষাটা হোক, গরমের ছুটি পড়ুক ...
টিভিতে একটা গোল হলো এইমাত্র। কৃষ্ণকায় গোলদাতা জার্সি খুলে ফেলেছে, বিপুল উৎসাহে খালি গায়ে দৌড়োচ্ছে মাঠময়। দর্শকরা পতাকা নাড়ছে। ভেঁপু বাজাচ্ছে, ক্যানেস্তারা পেটাচ্ছে আনন্দে।
রিমোট টিপে টিভি অফ করে দিলাম। শব্দহীন শব্দটাও উধাও। অদ্ভুত এক নৈঃশব্দ্য নেমে এসেছে হঠাৎ। ডাইনিং স্পেসে ফ্রিজটা গোঁও করে উঠল। গোঙাতে গোঙাতে সে আওয়াজও বোবা হয়ে গেল আচমকাই।
সুপ্তি উঠে দাঁড়িয়েছে। হাই তুলতে তুলতে বলল, শোবে না?
_চলো। যাচ্ছি।
দু পা গিয়েও ফিরে এলো সুপ্তি। বলল, একটা কথা ভাবছিলাম, বুঝলে?
_কী?
_তোমার তো সোমবার থেকে অফিস, কাল-পরশুর মধ্যে ... ভাবছিলাম ঘরগুলোকে একটু রিওরিয়েন্ট করব।
_কী রকম?
_মামপি গোগোল একসঙ্গে থাকলেই ঝগড়া হয়, মামপির পড়ার জায়গাটা আলাদা করে দিলে হয় না? ধরো যদি মার ঘরে ...
_মামপি মার ঘরে একা থাকতে পারবে?
_আহা, থাকার কথা কে বলছে? টেবিল-চেয়ার পেতে ওটা যদি ওর স্টাডিরুম করে দিই ...
ওখানে টেবিল ঢুকবে?
_মার কিছু জিনিস যদি ও ঘর থেকে বার করে দেওয়া যায় ... ধরো, মার সেলাই মেশিনটা, ছোট মিটসেফটা, ডাউস আলনাটা ... আমি অনেকটাই সাফসুতরো করেছি, আরো কিছু মাল যদি ...
_আঃ সুপ্তি! মানুষটা এখনো ওপারে পেঁৗছল কি না ঠিক নেই ...
স্বরে বুঝি আমার ঝাঁজ ফুটেছিল একটু। সুপ্তি থমকে গেছে। ভার ভার গলায় বলল, আমি অত ভেবে বলিনি। স্যরি।
_ঠিক আছে। দেখব কী করা যায়।
সুপ্তি তবু ম্লান মুখে দাঁড়িয়ে রইল কয়েক সেকেন্ড। তারপর চলে গেল শুতে।
আবার একটা সিগারেট ধরালাম। হাত বোলাচ্ছি মুণ্ডিত মস্তকে। সুপ্তি খারাপ কী বলেছে? সত্যি তো, মার ঘর তো আর চিরকাল খালি পড়ে থাকবে না, আজ নয় কাল মামপি গোগোল কেউ একজন দখল নেবেই। এক্ষুনি এক্ষুনি অবশ্য পারবে না, ভয় পাবে। থাক, দু-চারটে মাস যাক। তারপর নয় পুরনো খাট-আলমারি সরিয়ে, দেয়াল-টেয়ালের রং ফিরিয়ে নতুন চেহারা দেওয়া যাবে ঘরখানাকে। আপাতত সুপ্তি যা চাইছে ...
ভাবতে ভাবতে কখন উঠে পড়েছি। পায়ে পায়ে এসে দাঁড়িয়েছি মার দরজায়। চিন্তাটাকে মাথায় নিয়েই ঘরের আলো জ্বালালাম।
সঙ্গে সঙ্গে বুকটা ছ্যাঁত। মা একেবারে আমার মুখোমুখি!
উঁহু, মা নয়। মার ছবি।
বেঁটে আলমারির মাথায় জ্বলজ্বল করছে বাঁধানো ফটোখানা। পরশু ছবিটা ফুলে ফুলে ঢেকে ছিল। আজ একটাই মোটা মালা। রজনী গন্ধার। সামান্য শুকিয়েছে ফুলগুলো, তবু একটা পলকা গন্ধ যেন বিছিয়ে রেখেছে ঘরময়। ছবির সামনে ধূপের ছাই, নিবে যাওয়া প্রদীপ।
কী অদ্ভুত রকমের জ্যান্ত ছবিটা! ঠিক মনে হয় সোজাসুজি আমার দিকেই তাকিয়ে!
সরে গেলাম একটু। আশ্চর্য, মার চোখও সরছে! ডান দিকে যাচ্ছি, বাঁয়ে ...। আমার দিকেই ঘুরে ঘুরে যাচ্ছে মার দৃষ্টি! খাটের ওপাশটায় গিয়ে দাঁড়ালাম, চোখের মণি দুটো সেখানেও পেঁৗছে গেছে! আলমারির পাশে চলে গেলাম, সেখানেও ...।
অবিকল সেই বাঙ্ময় চোখ! আমাকেই দেখছে! শুধু আমাকে।
গা ছমছম করে উঠল। প্রাণপণে যুক্তি সাজানোর চেষ্টা করছি। এটা তো স্রেফ ছবি। ফটো। আমারই তোলা। ক্লোজআপ। মামপির পাঁচ বছরের জন্মদিনে। কারেন্ট কোনো সিঙ্গল ফটো নেই বলে এটাকেই এনলার্জ করে শ্রাদ্ধের জন্য বাঁধিয়ে দিয়েছে সন্তুদা। এ ছবি তো কদিন ধরে বারবারই দেখছি। লেন্সের দিকে সরাসরি তাকালে সব চোখই এরকম লাগবে ...।
নাহ্, এ আমার মনেরই ভুল।
নিজেকে খানিকটা স্থিত করে আলো নিবিয়ে দিলাম। বেরিয়ে আসছি, হঠাৎই স্পষ্ট ডাক, বাবলু ...?
মার গলা! মারই গলা!
এও কি বিভ্রম? আমার পা মাটিতে গেঁথে গেল। সম্মোহিতের মতো বলে উঠেছি, কী হলো মা? কিছু বলবে?
চেনা স্বর কেমন দুলে দুলে গেল, আমায় মাপ করে দিস বাবলু। মৃত্যুটা যে আমার হাতে ছিল না রে।
আমূল কেঁপে গেলাম। এই কথাটুকু উচ্চারণ করার জন্যই কি ছটফট করত মা? মা কি আমার ভেতরটা টের পেয়ে গিয়েছিল?
ভীষণ কান্না পাচ্ছিল আমার। মার মৃত্যুর পর এই প্রথম।
সবই চলছিল গতানুগতিক ছন্দে কিংবা নিতান্তই ছন্দহীন।
ছবিটা বদলে গেল দুপুরে। হঠাৎই।
টিফিন আওয়ারে তখন একটু ক্যারাম পিটিয়ে নিচ্ছিলাম। আজকাল ছুটির পর আর রিক্রিয়েশান রুমে ঢোকার জো নেই, ফিরতে সামান্য দেরি হলেই যা খিটখিট করে সুপ্তি। আমি ঘরে বন্দি, আর তুমি ফুর্তি মেরে বেড়াচ্ছ ...! সত্যি তো, বেচারা এখন একদমই ঘরে আটকা। একদিকে ছেলেমেয়ে, সংসার, অন্যদিকে অনন্তশয্যায় শুয়ে থাকা পক্ষাঘাতগ্রস্ত শাশুড়ি, সুপ্তির এখন একেবারে চিঁড়েচ্যাপটা দশা। এদিক-ওদিক ঘোরা, সিনেমা-থিয়েটার সবই তো গেছে, রুগ্ন শাশুড়ি ফেলে বাপের বাড়িই বা যেতে পারে কদিন। গেলেও প্রতি মুহূর্তে হানটান, এই ফিরতে হবে, এই ফিরতে হবে। অগত্যা গৃহশান্তি বজায় রাখতে আমাকেও গুহায় সেঁধতে হয় জলদি জলদি।
তো আজ সবে দ্বিতীয় বোর্ড খেলছি, রবীনদার ডাক, অমিত, তোমার টেলিফোন।
রেডটা পকেটের মুখে। ঝুলছে প্রায়। স্ট্রাইকার সেট করতে করতে বললাম, কার ফোন?
_তোমার বাড়ি থেকে। মনে হলো তোমার গিনি্ন।
শুনেই কেমন খটকা লেগেছিল। সুপ্তি তো তেমন দরকার ছাড়া ফোন করে না? লাল ঘুঁটি রয়েই গেল। তাড়াতাড়ি এসে রিসিভার তুলেছি, হ্যালো, কী হলো?
_অ্যাই শোনো, মা কেমন করছেন!
_সে কী? কেন? কী হয়েছে?
_ভয়ানক নিশ্বাসের কষ্ট... চোখটোখ কেমন উলটে যাচ্ছে।
_সর্বনাশ, কখন থেকে?
_এই তো ... আমি একটু মণিকাদিদের ফ্ল্যাটে গেছিলাম, রমা ডেকে আনল। বলছে গলা ভাত খাওয়ানোর পর থেকেই নাকি কেমন কেমন করছিলেন।
_কখন খাইয়েছে?
_যেমন খাওয়ায়। বারোটা-সওয়া বারোটা।
_সঙ্গে সঙ্গে বলেনি কেন?
_অতটা নাকি বুঝতে পারেনি। ... মার হাত-পাও কেমন ঠাণ্ডা মেরে যাচ্ছে!
_ডাক্তার বাবুকে ডেকেছ?
_এক্ষুনি আসবেন। ... তুমি চটপট চলে এসো। আমার কিন্তু ভালো ঠেকছে না।
তখনো চরম কিছু ঘটার কথাটা মাথায় আসেনি। ট্যাঙ্েিত আসতে আসতেও ভাবছিলাম এমন হলো কেন? লাঙ্ ইনফেকশন। ডাক্তার বাবু রুটিন চেকআপের সময়ে একদিন বলছিলেন, শুয়ে থাকতে-থাকতে এসব রোগীর পেশি নাকি আপনি শিথিল হয়ে আসে, তখন ফুসফুসে খাদ্যকণা ঢুকে যাওয়া অসম্ভব নয়। তার থেকেই সংক্রমণ! কী একটা যেন নামও বলেছিলেন রোগটার। কী এক নিউমোনিয়া। অবশ্য ঠাণ্ডাটাণ্ডা লেগেও ...। কতদিন রাত্তিরে পেচ্ছাপ করে মা তার ওপরেই পড়ে থাকে, রমা ওঠেও না, ভোঁস ভোঁস করে ঘুমোয়। ক্যালাস মেয়েছেলে। আবার একটা আতান্তরে ফেলল। তেমন বাড়াবাড়ি হলে এক্ষুনি হয়তো নার্সিং হোমে রিমুভ করতে হবে। বাড়িতে কত টাকা আছে? আজ মাসের উনিশ, মেরেকেটে হাজার দুই। ওতে কি-ই হবে? ব্যাংক তো প্রায় ফরসা... আবার ধার করব? আবার? শালা ধারে ধারে এবার ন্যুব্জ হয়ে যাব। কার কাছে চাওয়া যায়? প্রবীরদা একবার গেয়েছিল, দরকার লাগলে বোলো। সুপ্তি অবশ্য ওর দাদার কাছে টাকা চাওয়াটা পছন্দ করে না। খুকুদিকেও অ্যাপ্রোচ করা যায়। বোনঝি হলেও খুকুদি তো মার মেয়েরই মতন। খুকুদির বিয়েতে মা নিজের একটা নেকলেস্ ভেঙে গয়না গড়িয়ে দিয়েছিল। খুকুদি হয়তো ফেরাবে না, কিন্তু আমি ফেরত দেব কোত্থেকে? ফের একটা পিএফ লোন? নাকি নার্সিং হোমে না নিয়ে গিয়ে হাসপাতাল ...। খরচাটা তাও একটা মাপের মধ্যে থাকে।
কিছুরই প্রয়োজন হলো না। বাড়ি এসে দেখি সব শেষ। আশপাশের ফ্ল্যাটের বেশ কয়েকজন ঘরে থমথমে মুখে দাঁড়িয়ে, সুপ্তি মায়ের খাটের বাজু ধরে স্থির, রমা পায়ের কাছে, মামপি গোগোল তখনও স্কুল থেকে ফেরেনি।
আমার কেমন ঘোর ঘোর লাগছিল। এক দীর্ঘ ক্লান্তিকর অধ্যায়ের এত আকস্মিক পরিসমাপ্তি?
টানা দুই বছর মা শয্যাশায়ী। সেরিব্রাল অ্যাটাকের দিনটা থেকে ধরলে তারও বেশি। প্রায় পঁচিশ মাস। নিখুঁতভাবে গুনে গেঁথে দেখলে সাতশো চুয়ান্ন দিন। এর মধ্যে একটি দিনের তরেও উঠে বসা দূরে থাক, নিজে নিজে নড়াচড়াও করতে পারেনি মা, পাশটুকুও ফিরিয়ে দিতে হতো। এই পঁচিশ মাসে একটা শব্দ পর্যন্ত বেরোয়নি মার গলা থেকে, গোঙানির আওয়াজও না। আমিও ধরে নিয়েছিলাম মা এভাবেই পড়ে থাকবে। রোজই মনে হতো মা আজকের দিনটাও রয়ে গেল, কালকের দিনটাও থাকবে, তার পরের দিনটাও ...
কিংবা হয়তো আলাদা করে এত কথাও মনে হতো না। শুধু হৃদয়ের গভীরে গেঁথে গিয়েছিল একটা ধারণা_নিছক অস্তিত্ব হয়েই মা বুঝি কাটিয়ে দেবে অনন্তকাল। এর বাইরে অন্য কিছু ঘটা বুঝি সম্ভবই নয়।
খবর পেয়ে আত্মীয়স্বজন আসছিল একে একে। সন্ধ্যে নাগাদ বাড়ি ভিড়ে ভিড়। অনেকটা সেই নার্সিং হোমে যেমন দল বেঁধে সবাই মাকে দেখতে যেত, সেরকম। কিংবা তার চেয়েও বেশি।
এরকমই বুঝি হয়। মানুষের কাছে বিপন্নতার দাম আছে। মৃত্যুরও। মার মৃত্যু-সম্ভাবনাটা দড়কচা মেরে যাওয়ার পর উদ্বেগ ক্ষয়ে গিয়েছিল ধীরে ধীরে। আমাদের কাছেও। আত্মীয়দের কাছেও। শেষ দেড়টা বছরে কে কবার দেখতে এসেছে মাকে? ওই মাঝে মাঝে ফোনে খোঁজখবর নেওয়া, কালেভদ্রে হয়তো সশরীরে আগমন, ব্যাস ওইটুকুই। অথচ শ্মশানেও আজ আমার পাশে কত লোক। জাঠতুতো দাদারা, খুড়তুতো ভাই, মাসির ছেলে, পিসির ছেলে, শালা, ভায়রাভাই, বন্ধুবান্ধব ...
হিমেল রাতে মাকে যন্ত্র-চিতায় চড়িয়ে এখন সবাই দাঁড়িয়ে এদিক-ওদিক। প্রবীরদা হাত নেড়ে নেড়ে কথা বলছে খুকুদির বরের সঙ্গে। কিশোর আর সমু পায়চারী করছে। পল্টুরা চা খেতে চলে গেল।
ঠাণ্ডাটা আজ বেড়েছে। নাকি খোলা জায়গা বলে বেশি লাগছে কামড়টা? চারদিকে ধোঁয়াশার পাতলা আস্তরণ, হ্যালোজেন বাতিগুলোয় কেমন মরা মরা ভাব। রেলিংঘেরা জায়গাটায় মরশুমি ফুল ফুটে আছে কয়েকটা, ফুলেরাও যেন মলিন এখন। শ্মশান বলেই কি? গর্জন করতে করতে একটা ম্যাটাডোর হানা দিল চত্বরে, বিটকেল হরিধ্বনি সহকারে খাট নামাচ্ছে একপাল যুবক। কে যেন চেঁচিয়ে ডাকল কাকে। দূরে কোথাও ছররা চলছে হাসির। ভেতরের হলঘরে জোর একটা কান্নার রোল উঠল। থেমেও গেল।
চন্দন আর রনিদা উঠে গিয়েছিল পাশ থেকে, ফিরেছে। সিগারেট টানছিল রনিদা, টোকা মেরে ফেলে দিল পোড়া টুকরোটা। কাঁধে আলগা হাত রেখে বলল, অ্যাই, এখানে ঠাণ্ডায় কাঁপছিস কেন? চল্, ভেতরে গিয়ে বসি।
_না না, এখানেই ঠিক আছে। ভেতরে বিশ্রী গন্ধ, হইহট্টগোল, কান্নাকাটি ... ওখানে দম বন্ধ হয়ে আসছিল।
_তাহলে শালটা ভালো করে জড়িয়ে নে। কান ঢাক। এ সময়ে ঠাণ্ডা লেগে যাওয়াটা মোটেই কাজের কথা নয়।
_বলছি তো ঠিক আছি। তোমরা ব্যস্ত হয়ো না।
রনিদা আর জোরাজুরি করল না। বসেছে পাশে, সিমেন্টের বেঞ্চিতে। চোখ তুলে আকাশ দেখল একটুক্ষণ। আবার সিগারেট ধরাল। লম্বা লম্বা টান দিচ্ছে।
হঠাৎই বলল, পিসিকে আজ একেবারে অন্যরকম দেখাচ্ছিল, না রে বাবলু?
ছোট্ট একটা শ্বাস পড়ল আমার। বললাম, হুঁ।
_মুখে কণামাত্র রোগের চিহ্ন নেই ... হুবহু সেই আগের রং ফিরে এসেছিল। মনে হচ্ছিল সেই পুরনো পিসিকে দেখছি।
চন্দন বলে উঠল, কাকির মুখে কী রকম একটা হাসি লেগেছিল লক্ষ করেছ রনিদা?
_হুম। কত কষ্টের অবসান হলো।
_বটেই তো। কিছু বলতে পারে না, বোঝাতে পারে না, কী খারাপ যে লাগত! এবার পুজোর পর প্রণাম করতে গিয়ে মুখের দিকে তো তাকাতেই পারছিলাম না। কী মানুষ তার কী হাল!
_অথচ দ্যাখো, পিসি কিন্তু কখনো কারো পাকা ধানে মই দেয়নি। মা তো সেদিনও বলছিল, ভগবান কিন্তু এটা ন্যায় করলেন না। এত ভালো মানুষ, তারই কি না এই দুর্দশা! ... সারা জীবন কী স্ট্রাগলটাই না করেছে পিসি। অসুখ-বিসুখ কিছু নেই, দুম করে পিসে মশাই মারা গেল ... বিনা মেঘে বজ্রপাত ... বাবলু তো তখন হাফপ্যান্ট। অত বড়ো একটা ধাক্কা সামলেও তো পিসি মাথা উঁচু করে থেকেছে। চাকরি-বাকরি করে একাই মানুষ করেছে বাবলুকে। যখন নিজস্ব ঘরদোর হলো, নাতি-নাতনি নিয়ে একটু সুখের মুখ দেখছিল, তখনই ভগবান ডাণ্ডা মেরে দিল।
_আমরা তো মনেপ্রাণে প্রার্থনা করতাম, কাকি চলে যাক, কাকি এবার চলে যাক।
_রিয়েলি, ওরকম ভেজিটেবল বনে যাওয়াটা কি বেঁচে থাকা?
_পুরো ভেজিটেবল কোথায়? কাকির তো সেন্স ছিল, ইভন্ ইন দ্যাট হ্যাপলেস সিচুয়েশান। সেটাই তো আরো প্যাথেটিক।
আঃ, কী আরম্ভ করল এরা? এসব কি এখন আলোচনা করার সময়? মা কী ছিল আমার জন্য কত করেছে, সব তো অনেক পুরনো কথা। সবাই জানে। আমিও জানি। আমিও প্রাণপণ চেষ্টা করেছি মার সেই ঋণ শোধ করার। সাধ্যের অতিরিক্ত করেছি। মার যখন স্ট্রোকটা হলো খরচার পরোয়া না করে মাকে নিয়ে ছুটেছি বড় নার্সিং হোমে। সেখান থেকে মা ফিরল জড়বস্তু হয়ে, তবুও কি আমি হাল ছেড়েছিলাম? টানা ছয় মাস ফিজিওথেরাপি, প্রথমে তিনটা মাস তো সকাল-বিকেল। এর সঙ্গে ডাক্তার, নার্স ও আয়া ...। মা সন্তানকে ভালোবাসবে, তার জন্য প্রাণপাত করবে এ তো স্বতঃসিদ্ধ, কিন্তু আমিও কি মাকে কম ভালোবাসতাম? আমার উদ্বেগ ছিল না? নার্সিং হোমে কত রাত জেগেছি পরপর, অমুক নিউরোলজিস্টের কাছে যাচ্ছি, তমুক নিউরোলজিস্টের কাছে যাচ্ছি, তমুক নিউরোলজিস্টের কাছে ছুটছি। বিরল ওষুধ খুঁজতে ঘুরে বেড়াচ্ছি শহরময়...। এর পরও যদি মা সুস্থ না হয় সেটা তো মার কপাল। তবু চেতনা যেটুকু ফিরেছিল সেও আমার চেষ্টার জোরেই। আশ্চর্য, আমার এই চেষ্টার দিকটা কেউ বলে না।
নার্ভের মোটর সিস্টেম প্রায় অকেজো হয়ে গেলেও মার মস্তিষ্ক বেশ খানিকটা সচল হয়েছিল। ব্যাপারটা আমার নজরে আসে মাকে নার্সিং হোম থেকে ফিরিয়ে আনার মাস তিন-চার পর। চৈতন্য ফেরার প্রকাশ অবশ্য ছিল মাত্র একটাই। চোখে। আমাকে দেখলেই মার চোখ দুটো ঘুরতে থাকত। যেদিকেই যাই, ডাইনে-বাঁয়ে, জানালায়, দরজায়, মার চোখ অনুসরণ করছে আমাকে। হ্যাঁ, শুধু আমাকেই। সুপ্তি কত সেবা করেছে মার, গোগোল মামপি তো তাদের ঠাম্মার প্রাণ ছিল। অথচ ওদের দেখে মার দৃষ্টি কিন্তু ও রকম চঞ্চল হতো না।
প্রথম প্রথম আমার গা শিরশির করত। কতদিন মার মাথার পাশে বসে প্রশ্ন করেছি, কী দেখছ মা? কিছু বলবে?
মার দুই মণিতে অদ্ভুত এক কাঁপন জাগত তখন। যেন একটা ভাষা ফুটেও ফুটছে না। গোমরাচ্ছে।
ক্রমেই ওই দৃষ্টিতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। পরের দিকে তো দিব্যি একটা খেলায় দাঁড়িয়ে গিয়েছিল ব্যাপারটা। মাকে কেউ দেখতে এলেই বলত, ওই আলমারিটার পাশে গিয়ে দাঁড়া তো বাবলু, দেখি এবার চোখ কোনদিকে যায়। ... খাটের পেছনে চলে যা, এবার আর চোখ তোকে খুঁজে পাবে না। ... ওমা দ্যাখো দ্যাখো, বাবলু বেরিয়ে যাচ্ছে অমনি রেণুদির দৃষ্টিও ... আহা রে, একেই বলে চোখে হারানো!
ইদানীং মার কাছে তেমন বসা হতো না। কী করব বসে থেকে? তা ছাড়া আমারও তো ছেলেমেয়ে বউ অফিস সংসার এসব আছে, না কী? তার মধ্যেও রুটিন করে যেতাম এক-দুবার। দাঁড়াতাম একটু, মার পালস দেখতাম, আয়ার কাছে হালহকিকত জেনে নিতাম। সম্প্রতি একটা প্রেসার মাপার যন্ত্রও কিনেছিলাম, নিজেই মেপে নিতাম, রক্তচাপ। কাঁহাতক আর ওইটুকুর জন্য রোজ রোজ দশ টাকা করে গোনা যায়! রমাটা একেবারে টিপিকাল আয়া, ওর শেখার ইচ্ছেও নেই, ওকে দিয়ে ওসব কাজ হয়ও না। অফিস বেরোনোর আগেও নিয়ম করে একবার উঁকি দিতাম মার দরজায়...
আজ কি দাঁড়ানো হয়েছিল? মনে পড়ছে না। মোজা না রুমাল কী একটা যেন খুঁজে পাচ্ছিলাম না, তাড়াহুড়োয় বোধ হয় ...। তুত, এত খুঁটিনাটি কি মনে রাখা সম্ভব? বিশেষ করে যে মানুষ দিনের পর দিন, মাসের পর মাস একইভাবে টিকে আছে তার সম্পর্কে?
আবার একটা ডেডবডি এলো। কাচের গাড়িতে। বয়স্ক মহিলা।
রনিদা যান্ত্রিকভাবে কপালে হাত ছোঁয়াল। আলগাভাবে বলল, আমাদের কপালটা ভালো।
ঘুরে তাকালাম, মানে?
_পিসিকে একেবারে জাস্ট টাইমে আনা হয়েছে। দেকছিস না, তার পরই কেমন লাইন পড়ে গেল! আর দশটা মিনিট দেরি করলে তোকে তিন ঘণ্টা বসে থাকতে হতো।
এমন একটা ভার মুহূর্তেও হাসি পেয়ে গেল। পঁচিশ মাস টানতে পারলাম আর তিন ঘণ্টায় কি-ই বা ফারাক হতো?
সন্তুদা আর দুলু কথা বলতে বলতে আসছে। পঞ্চাশ পেরিয়ে যাওয়া সন্তুদার এক আশ্চর্য গুণ আছে, আত্মীয়স্বজন বন্ধুবান্ধব কারও মৃত্যুর খবর পেলেই সন্তুদা যেখানে থাক হাজির। কাজকর্ম পুরোপুরি না মেটা পর্যন্ত স্বেচ্ছায় সব দায়িত্ব তুলে নেবে কাঁধে। আজও টেলিফোন পেয়েই এসে পড়েছিল, বড় মাইমা আর রেখা বউদিকে সঙ্গে নিয়ে। এসেই ঝটপট সব বন্দোবস্ত করে ফেলল সন্তুদা। কাচের গাড়ি, ফুল-খই-ধুপ অগুরু ...। মার বুকে গীতা রাখা হয়েছে কি না, খইয়ের ঠোঙায় খুচরো পয়সা দেওয়া হলো কি না, প্রতিটি খুঁটিনাটিতেই সন্তুদার খুব নজর। শ্মশানে পেঁৗছেও চরকি খাচ্ছে অনবরত। করপোরেশনের ঘরে দৌড়াদৌড়ি, পুরুতের সঙ্গে দর কষাকষি ...। আমি যখন আগুন হাতে মাকে প্রদক্ষিণ করছি তখনও সন্তুদা আমার পাশেপাশে।
সন্তুদার হাতে একখানা প্লাস্টিকের প্যাকেট। প্রবীরদাকে প্যাকেটখানা ধরিয়ে এলো আমার কাছে, বাবলু, তোদের কাপড়-জামা কেনা কমপ্লিট। প্রবীর বাবুর কাছে রইল, চান করে পরে নিস।
_এত ঠাণ্ডায় রাত্তিরে চান করবে কি? না না, একটু গঙ্গাজল ছিটিয়ে নিলেই হবে।
_আহা, আমি কি গঙ্গায় ডুব দিতে বলছি? বাড়ি গিয়ে তো করবে। কী রে বাবলু, পিসির জন্য এইটুকু পারবি না?
বটেই তো। এটুকুই তো করছি!
আমার মুখের ভাঙচুর লক্ষ করেনি সন্তুদা। ফের বলল, পিসির ডেথ সার্টিফিকেটটা এখন আমার কাছেই রইল, বুঝলি। তিন কপি জেরঙ্ করে দিয়ে দেব, যত্ন করে রাখিস। হারালে কিন্তু পিসির কিছু পাবি না।
হায় রে, পিসির যেন কত ধনদৌলত আছে! রিটায়ারমেন্টের সময়ে কুড়িয়ে-বাড়িয়ে যা পেয়েছিল তার সিংহভাগই তো গেছে ফ্ল্যাটে। বারণ করেছিলাম, শোনেনি। ও টাকা পুষে আমি কী করব রে বাবলু! বরং যতটা পারিস ক্যাশ দিয়ে দে, তোর ব্যাংক লোন তাহলে কম হবে! রাগ করিস কেন, তোর বাড়ি তো আমারও রে, তুই কি আর আমায় তাড়িয়ে দিবি! ব্যাস্, সঞ্চয় প্রায় সাফ। তাও যেটুকু তলানি পড়ে ছিল তাই দিয়ে নাতনির জন্য সোনার চেইন বানাচ্ছে, দুম করে গোগোলের নামে একটা ক্যাশ সার্টিফিকেট কিনে ফেলল ...। ওসব না করে কিছু যদি রাখত, বিপদের সময়ে তাও কাজে আসত।
পল্টু দিপুরা কখন যেন ফিরে হলঘরে ঢুকেছিল। বেরিয়ে ডাকছে, বাবলুকে নিয়ে চলে আসুন। আমাদেরটা হয়ে গেছে।
সন্তুদা সঙ্গে সঙ্গে টানটান, আয় আয়। ... বেশ তাড়াতাড়িই হয়ে গেল দেখছি।
রনিদা একদিক থেকে ধরেছে, অন্যদিক থেকে প্রবীরদা। আমাকে নিয়ে চলেছে মার ভস্মাবশেষের দিকে। এত জোরে হাত চেপেছে কেন? ভাবছে আমি পড়ে যাব? ভেঙে পড়ব?
হলঘর পেরিয়ে উঁচু জায়গাটায় উঠলাম। আগুনে যাওয়ার অপেক্ষায় চ্যাঙারিতে শায়িত পর পর চারটে মৃতদেহ, তাদের টপকে নামছি সিঁড়ি বেয়ে। চুলি্ল থেকে বিকিরিত হচ্ছে তাপ। বিচিত্র এক ওমে শরীরটা উষ্ণ হয়ে যাচ্ছে আমার।
উষ্ণ? না হালকা?
আমি ঠিক বুঝতে পারছি না।
দুই.
খাটে আধশোওয়া হয়ে চোখ বোলাচ্ছিলাম ফর্দে। পুরুতমশাই একটা লিস্ট ধরিয়ে গেছেন বটে। চাল ডাল তেল নুন সবজি ফুল ফল বেলপাতা কুশ তিল যব হরীতকী তিল ঘি মধু চিনি কলাপাতা পান সুপারি মসলা কী আছে, কী নেই। দানসামগ্রীর তালিকাও নেহাত ছোটো নয়। থালা বাটি গেলাস ছাতা চটি শাড়ি ঘড়া গামলা পিলসুজ ...। লেডিজ চটির পাশে সাইজ লেখা আছে, ছাতাটাও রঙিন চাই, তাও খাট বিছানা বালিশ লেখেননি, মূল্য ধরে নেবেন। কতটুকু সাশ্রয় হলো কে জানে!
সব মিলিয়ে মোট কত লাগতে পারে? বাজেট ছাপিয়ে যাবে না তো? ব্যাংক থেকে শেষ ঝড়তি-পড়তি দশ হাজার তুলে নিয়েছি, প্রবীরদার কাছে চেয়েছি পাঁচ_কাজকর্ম, খাওয়া-দাওয়া সব এতে চুকবে তো? প্যান্ডেল নেবে তিন হাজার। ফ্ল্যাটবাড়ির শুধু ছাদটুকু ঘিরবে, তাও সাদা কাপড়, এর জন্য এত যে কেন চাইছে? চেয়ার-টেবিলে নয় শ ... মেরেকেটে হাজার। শ্রাদ্ধের দিন নব্বইজনের মতো খাবে। নব্বই ইনটু ফিফ্টিফাইভ, মোটামুটি পাঁচ হাজার। মৎস্যমুখের দিন তিরিশ জন। আশি ইনটু তিরিশ মানে প্রায় আড়াই। সাকুল্যে হলো সাড়ে এগারো। কাজে নিশ্চয়ই হাজার তিনেকের বেশি পড়বে না। পরশু ঘাটকাজেও কিছু খরচা আছে। ... মনে হয় টায়েটুয়ে কুলিয়ে যাবে। তেমন যদি হয় শ্রাদ্ধের দিন এক রকম মিষ্টি নয় কমিয়ে দেব। প্লেটপিছু পাঁচ টাকা বাঁচে। অর্থাৎ সাড়ে চার শ। একেবারে ফ্যালনা নয়। এভরি ফারদিং কাউন্টস।
আচমকা হাসি পেয়ে গেল। কী ছেলেমানুষি ভাবনা! কলসি দিয়ে লাখো মোহর গলে গেল, এখন কানাকড়ি বাঁচাতে পুটিংয়ের খোঁজ। শুধু নার্সিং হোমেই তো বেরিয়ে গিয়েছিল চলি্লশ হাজারের বেশি। ফিজিওথেরাপিস্টের পেছনে না হোক বিশ-বাইশ হাজার। প্রথম মাসখানেক দুবেলা দুটো নার্স ছিল। তারা কান মচড়ে এক শ কুড়ি এক শ কুড়ি দু শ চলি্লশ দুয়ে নিত প্রতিদিন। খরচায় উদ্ব্যস্ত হয়েই না ধাপে ধাপে নেমেছিলাম। দুটো নার্স থেকে রাতে নার্স দিনে আয়া, তারপর দুবেলা দুটো আয়া, শেষমেশ ওই রমা। মেয়েটা রাত-দিন থাকত, খাওয়া-দাওয়া নিত। তা নিক, মাইনেটা তো কম। মাসে দু-হাজার বাঁচানো চাট্টিখানি কথা নয়। এত সামলে, এত টেনেটুনেও প্রভিডেন্ট ফান্ডে লোন, কো-অপারেটিভে ধার ...। শালা, ভাবতেই ইচ্ছে করে না। যা খসছে খসুক, এবার একবারেই চুকে যাক। আশা করি, আমি বা সুপ্তি কেউ ওভাবে পড়ে থাকব না। তেমন হলে মামপি গোগোল যে কী অভিশাপ দেবে!
সুপ্তি ঘরে ঢুকেছে। ঘটাং ঘটাং আলমারি খুলল। তাক হাতড়াচ্ছে।
_কী খুঁজছ?
_আরে দ্যাখো না, জ্বালিয়ে মারল।
_কে?
_রমা। শাড়ি শাড়ি করে আমায় পাগল করে দিল।
_দিয়ে দাও একখানা।
_একটা নয়, দু-দুটো দিয়েছি। মার শাড়ি। বললাম, সাদা খোল তো কী আছে, ছাপিয়ে নিস। মন উঠল না।
_কী চায়? বেনারসি?
_ওই রকমই কিছু পেলে ভালো হয়। সুপ্তি মুখ বেঁকাল, বলছে দিদার এত ময়লা ঘাঁটলাম, একটা সিল্কের শাড়ি অন্তত পাব না?
দুনিয়ায় নিজের প্রাপ্য সবাই বোঝে। রমার কী দোষ, আমার মা-ই কি ছেড়েছে? কর্তব্যের পাওনাটুকু উসুল করে নেয়নি?
বিরস মুখে বললাম, ঝুটঝামেলা হঠাও। দিয়ে দাও। ঈষৎ রংজ্বলা নিজের একটা মুরশিদাবাদী সিল্ক বার করে নিয়ে গেল সুপ্তি।
ফর্দখানা টেবিলে রেখে চিত হয়ে শুলাম। চোখটা আবার টানছে। শরীরে বেজায় ক্লান্তি। সকাল থেকে আজ ছোটাছুটিও গেছে বেশ। দুলুকে নিয়ে নেমন্তন্ন করতে বেরিয়েছিলাম। মানিকতলা শ্যামবাজার ... উত্তর কলকাতার পাট চুকোলাম আজ। ফোনেই বলে দিয়েছি অনেককে, তবু এখনো তো কেউ কেউ আছে যারা মাতৃবিয়োগ ভারাক্রান্ত মুখটি না দেখতে পেলে সন্তুষ্ট হয় না। আড়াইটে নাগাদ বাড়ি ফিরে ঘি সহযোগে সেদ্ধভাত গলাধঃকরণ, ফলত যথেষ্ট টকে আছে গলা। এখনো।
তবে ক্লান্তিটা ঠিক অম্বলের জন্য নয়। এ শ্রান্তি যেন একটু অন্য রকম। ম্যারাথন দৌড় সাঙ্গ করে শেষ ফিতে ছোঁয়ার পর যেমনটা লাগে দৌড়বীরের, এ অবসাদ যেন সেই ধাঁচের। মাকে পুড়িয়ে আসার পর থেকেই শরীর একদম ছেড়ে গেছে।
চিন্তাটায় কটু গন্ধের আভাস আছে কি? ম্যারাথনাররা আমার মতোই শরীর নিংড়ে দৌড়োয় বটে, কিন্তু তাদের শেষ ফিতে ছোঁয়ার সঙ্গে কি মার মৃত্যুর তুলনা চলে? আমি কি প্রথম দিন থেকে ওই লক্ষ্যেই পেঁৗছতে চেয়েছি? না না না না, কক্ষনো না। বরং উলটো পথেই তো দৌড়েছি, লড়াই করেছি মাকে বাঁচানোর জন্য। কায়মনোবাক্যে চেয়েছি মা সুস্থ হয়ে উঠুক, পুরোপুরি আগের মতো না হলেও হাঁটাচলা করুক, মোটামুটি একটা স্বাভাবিক জীবনে ফিরুক। সর্বস্ব উজাড় করেও যদি সামান্যতম উন্নতি না হয়, তখন মানুষের কেমন লাগে? মনে হয় না কি রেসিংট্র্যাকটা ক্রমে ঘুরে যাচ্ছে, পার হচ্ছি একটা লম্বা প্যাঁচালো পথ? ঘেমে নেয়ে যাচ্ছি, জিভ বেরিয়ে যাচ্ছে, ক্যালোরি শেষ, তবু ছোটো। কাঁহাতক পারে মানুষ?
সুপ্তি আবার এসেছে, হাতে চা। টেবিলে কাপ রেখে খাটে বসল। লাল পাড় কোরা শাড়ির আঁচল দিয়ে খাটের বাজু ঝাড়তে ঝাড়তে বলল, তোমার সন্তুদাই জিতে গেল।
ভুরু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলাম, কেন?
_আমাদের ইচ্ছেটার তো মূল্য রইল না। মার ঘরে তো কাজ হচ্ছে না।
_সন্তুদা তো ভুল কিছু বলেনি। মার ঘরটা তো সত্যিই ছোটো। ড্রয়িংহলে কাজ হলে সুবিধেই হবে, শ্রাদ্ধের সময়ে লোকজন বসতে-টসতে পারবে। ... ডেকরেটারকে বলে দিয়েছি ফরাস পেতে দেবে ...
_আমার কোনো কিছুতেই আপত্তি নেই। তবে আমার লাগছে কোথায় জানো? তোমার ওই সন্তুদার কথাবার্তায়। ... পিসির ঘরটা খুপরি ... এত চাপা ... আলোবাতাস খেলে না ... যেচে পড়ে এসব শোনানোর অর্থ কী? আমরা যেন ইচ্ছে করে মাকে অন্ধকূপে রেখেছিলাম।
সুপ্তির আহত হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। ফ্ল্যাটে আসার আগে সুপ্তি বারবার বলেছিল, মা আপনি বড় ঘরটা নিন। মা কিছুতেই রাজি হননি। এক গোঁ_আমি একা মানুষ, ওই ঘরের আমার কী প্রয়োজন। বরং বড় ঘরটা তোরা নে, মাঝেরটায় বাচ্চারা একটু হাত-পা ছড়িয়ে থাকুক।
হাত নেড়ে বললাম, সন্তুদার কথা ছাড়ো। খেটেখুটে দিচ্ছে ...। আমরা তো জানি, আমরা মার জন্য কী করেছি।
_সবচেয়ে ভালো হতো বাড়িতে কাজটা না হলে। ফ্ল্যাটের সোসাইটির পারমিশন নাও, এর সামনে হাত কচলাও, ওর চাট্টি কথা শোনো ... আমার একদম পছন্দ হয় না।
_কী করা যাবে? চৈতন্যমঠ গৌড়ীয়মঠ হেনামঠ তেনামঠ_সবই তো ঘুরে দেখা হলো। কোত্থাও জায়গা নেই। বাপ-মাকে চিতায় চড়ানোর আগেই যে লোকে শ্রাদ্ধের জায়গা বুক করে ফেলে আমি কী করে জানব? ... একদিক দিয়ে ভালোই হলো। কেউ বলতে পারবে না মঠে টাকা ধরিয়ে মার কাজ সেরেছি।
_যারা কথা শোনানোর তারা ঠিক শোনাবে। এই তো, তোমার খুকুদি আজ কায়দা করে কত কী বলে গেল।
_কী বলেছে খুকুদি?
_মাসিকে তোমরা ন্যাজাল ফিডিংয়ে রাখলে পারতে, এই রমাটমারা কি তেমন সাবধানে খাওয়াতে পারে ...! ঠারেঠোরে বলতে চাইছিল আমরা মার ঠিক যত্ন নিইনি।
_বলুক গে যাক। আমরা তো জানি আমরা কী করেছি। কথাটা ফের মুখ দিয়ে বেরিয়ে গেল, বাইরের লোকের কথায় কান দিয়ো না।
_লাগে। বুঝলে, লাগে। দুই বছর ধরে সংসারের সব খরচ কিভাবে কাটল করে গেছি। ছেলেমেয়ের ফল বন্ধ করে মাকে আঙুরের রস, বেদানার রস খাইয়েছি। পুজোর সময়ে একটার বেশি জামা দিয়েছি মামপি গোগোলকে? দেনায় দেনায় অন্ধকার ... মাস গেলে কেটেকুটে কটা টাকা হাতে পাও সে খবর কেউ নেওয়ার চেষ্টা করেছে কখনও? শুধু ওপর থেকে আহা, উহু। আজ বাদে কাল মামপি নাইনে উঠবে, ওর জন্য একটা ভালো টিউটর রাখা দরকার, পেরেছি রাখতে? সেই তো ঢোকাতে হলো কোচিংয়ের গোয়ালে। সুপ্তি জোরে নাক টানল, সারাক্ষণ খালি চিন্তা মার হরলিঙ্ ফুরোল কি না, মার কমপ্ল্যান আছে তো ...।
মাকে ছেড়ে কোথাও গিয়ে দু-দণ্ড তিষ্ঠাতে পেরেছি? নতুন মাসির বিয়ে হলো, আমি সকালে মুখ দেখিয়ে এলাম, তুমি বিকেলে। কেন? মার জন্যই তো! তার পরও তোমার জেঠিমা বলে গেলেন রেণুর যখন টান উঠল তখন তুমি বুঝি ছিলে না বউমা! বলো, শুনতে কেমন লাগে? বলো?
_বাদ দাও। যারা করে, তাদেরই সমালোচনা হয়। এ তো জানা কথা, আমারও একটা ছোট্ট শ্বাস পড়ল, নাও, চা খেয়ে নাও। জুড়িয়ে যাচ্ছে।
চোখের কোল মুছে একচুমুকে কাপ শেষ করল সুপ্তি। উঠে লাগোয়া বাথরুমটায় গেল একটু। বেরিয়ে শুকনো গলায় জিজ্ঞেস করল, তুমি এখন কিছু খাবে?
সিগারেট ধরিয়েছি। কাঠি অ্যাশট্রেতে গুঁজে বললাম, কী খাব?
_ফল কেটে দিতে পারি।
_চা খেয়ে ফল?
_খানিকক্ষণ পরে খেয়ো।
_কত ফল খাব? বাদড়ও এত ফল খেতে পারে না।
সুপ্তি ফিক করে হেসে ফেলল, তোমার টুসিদি সকালে আবার একগাদা কলা, আপেল, সফেদা দিয়ে গেছে। গোগোল মামপি তো দেখছে আর আঁতকে আঁতকে উঠছে, যে আসছে হাতে ফল, মিষ্টি, যে আসছে হাতে ফল মিষ্টি ... গোগোল, চুরি করে সন্দেশ খেত, এখন ফ্রিজের ধার মাড়াচ্ছে না।
_ফেলে দাও সব। কাজের লোকদের বিলিয়ে দাও।
_কত দেব?
_তাহলে নিজেই খাও বসে বসে। তুমি তো আপেল ভালোবাস।
_বাসতাম। এখন আর সহ্য হয় না।
_তাহলে এক কাজ করো। ফলকো গোলি মারো। মামপি গোগোলের জন্য তো লুচি হবেই, কটা বেশি করে ভাজো। বেলায় খেয়ে, এখন আর কিছু না খেয়ে আমরাও বরং তাড়াতাড়ি রাতের খাওয়াটা ...
_তুমি লুচি খাবে?
_কী আছে? গোমাংস তো খাচ্ছি না।
_হ্যাঁ অ্যা, হুট করে তোমার কোনো আত্মীয় এসে পড়ুক, ওমনি রটে যাবে শাশুড়ি গত হওয়ার আনন্দে সুপ্তি বরকে লুচি গেলাচ্ছে।
_হু কেয়ারস্? আমরা কারো খাই, না পরি? অশৌচ মানামানিটা নিজেদের মনের ব্যাপার। তাও তো আমি ... নেহাত মা এসবে বিশ্বাস করত বলে ... এসব কাছা নেওয়া-টেওয়া আমার যথেষ্ট অকোয়ার্ড লাগে।
_আহা, পালন যখন করছই, পুরোটাই করো। আর তো মাত্র কটা দিন। এত দিন এত কিছু করলে আর মাত্র দু-চার দিনের জন্য ধৈর্য হারিয়ে ফেলবে?
ক্যাঁ ক্যাঁ ডোরবেল বাজছে। একটানা। নির্ঘাত মামপি। স্কুল থেকে এসেই ছুটেছিল কোচিংয়ে, ফিরল। গোগোল দরজা খুলতেই শুরু হয়ে গেছে লণ্ডভণ্ড কাণ্ড, ধুপধাপ আওয়াজ ড্রয়িং ডাইনিং স্পেসে। গোগোলের চিৎকার উড়ে এলো, মামপির হিহি হিহি।
চোখ কুঁচকে বললাম, কী নিয়ে লাগল দুজনের? এত হল্লা কিসের?
_আর কী! গোগোল কার্টুন চ্যানেল দেখছিল। মামপি নির্ঘাত ওর হাত থেকে রিমোট কেড়ে নিয়েছে।
ঠাম্মার মৃত্যুর পর দু-চার দিন থমকে ছিল ভাইবোন, আবার তারা সমে ফিরছে। গোগোলের স্বর চড়তে চড়তে সোপ্রানোয়, পাল্লা দিয়ে বাজছে মামপির হাসি।
সুপ্তি বিরক্ত মুখে বলল, দাঁড়াও দিয়ে আসি ঘা কতক। এত ধাড়ি মেয়ে, পাঁচ বছরের ছোট ভাইয়ের সঙ্গে কেমন লাগে দ্যাখো।
_থাক, কিছু বোলো না। মুখ দিয়ে বেরিয়ে গেল, ফ্ল্যাটটায় প্রাণ ফিরুক। এ কদিনের দমচাপা ভাবটা কাটুক একটু।
সুপ্তি অস্ফুটে বলল, এ কদিন? না পঁচিশ মাস?
বলেই সুপ্তি নীরব। আমিও আর কথা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। বাইরে বিকেলটা মরে গেছে বহুক্ষণ, আমাদের বন্ধ দরজা-জানালা ভেদ করে মরা বিকেলটা তবু ঢুকে পড়ছিল ফ্ল্যাটে। চুঁইয়ে চুঁইয়ে।
তিন.
আজ নিয়মভঙ্গ ছিল। ভালোয় ভালোয় চুকে গেল সব কাজ।
নিমন্ত্রিতরা প্রায় সবাই এসেছিল। দু-তিনজন ছাড়া। চন্দন আর চন্দনের বউ শেষ মুহূর্তে আটকে গেল। ওদের বাচ্চাটা নেহাতই দুগ্ধপোষ্য, সকাল থেকে বমি পায়খানা করে ভাসাচ্ছে। আর এলো না সন্তুদার বউ। শুক্রবার তার কী সব তন্তোষী মা-ফা থাকে, এদিন বাড়ির বাইরে তার খাওয়া নিষেধ।
খাওয়া-দাওয়ার পর দুপুরে আড্ডা হলো জমিয়ে। এ-প্রসঙ্গ, সে-প্রসঙ্গ, এ-কথা সে-কথা। রনিদা আজ ন পিস্ তপসে মাছের ফ্রাই খেয়েছে, সন্তুদা চোদ্দোখানা রসগোল্লা,_বেচারা ক্যাটারারের মুখটা কেমন আমসি হয়ে গিয়েছিল বলতে বলতে টুসিদি খুকুদির কী হাসি। ব্যাস, চলতে লাগল খাওয়ার গল্প। কে কোন নেমন্তন্ন বাড়িতে কোন সিঁটকে প্যাংলাকে আশি পিস মাছ খেতে দেখেছে, কোথায় কে কবে চার হাঁড়ি দই শেষ করেছিল, কার বাড়িতে বরযাত্রীরা নুন মাখিয়ে খেয়ে পুরো মিষ্টি সাবাড় করে দিয়েছিল, এসব। সন্তুদার স্টকে প্রচুর মড়া পোড়ানো স্টোরি, গুছিয়ে গুছিয়ে ছাড়ল কয়েকখানা। তার মধ্যেই মার কথাও উঠছিল হঠাৎ হঠাৎ, শ্রাদ্ধের দিনের মতোই। কলরোল রঙ্গরসিকতার মাঝে চাপাও পড়ে যাচ্ছিল মা। এমনই হয় বোধ হয়। শ্রাদ্ধের আড়ম্বরে মৃত মানুষটা ফিকে হয়ে যায় অনেকটাই। শোক থাকলেও তা তেমন প্রকট হওয়ার সুযোগ পায় না।
আসর ভাঙল সন্ধ্যের মুখে। একে একে বিদায় নিল সবাই।
যাওয়ার সময়ে খুকুদির বর বলল, বুঝলে বাবলু, আমার মনে হয় এবার তোমাদের কটা দিন একটু বাইরে ঘুরে আসা উচিত।
খুকুদি বলল, হ্যাঁ রে, পারলে কোথাও থেকে বেড়িয়ে আয়। মাসির জন্য তোদের যা অবস্থা গেল ...। শরীর-মন দুটোই চাঙ্গা হওয়া দরকার।
যেতে পারলে তো ভালোই হতো। রোগী-রোগ, ওষুধ ও ডাক্তার করতে করতে সত্যি তো হাঁপিয়ে উঠেছি। কিন্তু এক্ষুনি, এক্ষুনি বেরোই কী করে? মা নেই বটে, কিন্তু ধারদেনাগুলো তো আছে।
উদাস মুখে বললাম, দেখি। কয়েকটা দিন যাক।
বাড়ি খালি হতেই হাতে রাশি রাশি কাজ। পরশু থেকে সোফা-টেবিলগুলো দেয়ালে ঠেলা রয়েছে, সন্তুদা যাওয়ার আগে কিছুটা টেনেটুনে দিয়ে গেছে, ধরাধরি করে ফেরালাম স্বস্থানে। রান্নাঘরে অবশিষ্ট খাবার-দাবারের ডাঁই, ছোট ছোট গামলায় ঢেলে খানিক ঢোকানো হলো ফ্রিজে। মাছ ভাজাগুলো বাইরেই রইল, শীতকালে কি আর পচবে? মেঝেটেঝেরও অকহতব্য দশা, মোটামুটি পদে আনতে হিমশিম খাওয়ার জোগাড়। মাঝে ক্যাটারিংয়ের লোকটাও এলো, হিসাবপত্র করে মিটিয়ে দিলাম তার টাকা। আটটা নাগাদ দুম করে চন্দন। বসব না বসব না করেও বসল একটুক্ষণ, জোর করে তাকে দুপুরের খাওয়াটা খাইয়ে দিল সুপ্তি।
রাতে অবশ্য আমি কিছু ছুঁলাম না। সুপ্তিও না। আঁশটে গন্ধে চতুর্দিক ম ম, গা গুলোচ্ছিল। মামপি গোগোলও বেজায় ক্লান্ত, গোগোল তো সন্ধে থেকেই ঢুলছিল, চন্দনের সঙ্গে বসে যৎসামান্য খেয়ে দুই ভাইবোনই বিছানায় ধপাস।
শোয়ার আগে সোফায় বসে সিগারেট টানছিলাম। সামনে টিভি চলছে, স্পোর্টস চ্যানেল। উত্তেজক এক ফুটবল ম্যাচ হচ্ছে, সম্ভবত স্প্যানিশ লিগ। শব্দ কমিয়ে পর্দার দিকে তাকিয়ে আছি, দেখছি না কিছুই। মাথাটা কেমন জ্যাম হয়ে গেছে। কদিন ধরে যা দৌড়ঝাঁপ গেল।
সুপ্তি মামপি গোগোলের ঘরে মশারি টানাতে গিয়েছিল। পাশে এসে বসল। তার চোখও খানিকক্ষণ পর্দায় স্থির।
হঠাৎ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, বাড়িটা কেমন ফাঁকা হয়ে গেল, না?
কথাটা ঠিক বোধগম্য হলো না। ফাঁকা কেন বলছে? কদিন বাড়িতে ভিড় লেগে ছিল, তাই?
সুপ্তি আবার একটা শ্বাস ফেলল, যেভাবেই থাক, তবু তো মা ছিলেন।
_হুঁ।
_তোমার আর কী, অফিস চলে যাবে। একা বাড়িতে আমার যে কী করে কাটবে!
_হুঁ।
_খুকুদি তখন ঠিকই বলছিল। আমাদের কোথাও থেকে ঘুরে আসা উচিত। বেশি দূরে নয় নাই গেলাম, কাছাকাছি যাওয়াই যায়, কী বলো? এই ধরো দিঘা কিংবা পুরী কিংবা ঘাটশিলা মধুপুর ...
_বুঝলাম। কিন্তু টাকা আসবে কোত্থেকে?
_আর অত টাকা টাকা করে মাথা খারাপ কোরো না তো। সুপ্তি দু-এক সেকেন্ড চুপ থেকে গলা নামাল, মার খরচটা তো কমে গেল... তা ছাড়া এক্ষুনি তো আর যাচ্ছি না, মামপি গোগোলের পরীক্ষাটা হোক, গরমের ছুটি পড়ুক ...
টিভিতে একটা গোল হলো এইমাত্র। কৃষ্ণকায় গোলদাতা জার্সি খুলে ফেলেছে, বিপুল উৎসাহে খালি গায়ে দৌড়োচ্ছে মাঠময়। দর্শকরা পতাকা নাড়ছে। ভেঁপু বাজাচ্ছে, ক্যানেস্তারা পেটাচ্ছে আনন্দে।
রিমোট টিপে টিভি অফ করে দিলাম। শব্দহীন শব্দটাও উধাও। অদ্ভুত এক নৈঃশব্দ্য নেমে এসেছে হঠাৎ। ডাইনিং স্পেসে ফ্রিজটা গোঁও করে উঠল। গোঙাতে গোঙাতে সে আওয়াজও বোবা হয়ে গেল আচমকাই।
সুপ্তি উঠে দাঁড়িয়েছে। হাই তুলতে তুলতে বলল, শোবে না?
_চলো। যাচ্ছি।
দু পা গিয়েও ফিরে এলো সুপ্তি। বলল, একটা কথা ভাবছিলাম, বুঝলে?
_কী?
_তোমার তো সোমবার থেকে অফিস, কাল-পরশুর মধ্যে ... ভাবছিলাম ঘরগুলোকে একটু রিওরিয়েন্ট করব।
_কী রকম?
_মামপি গোগোল একসঙ্গে থাকলেই ঝগড়া হয়, মামপির পড়ার জায়গাটা আলাদা করে দিলে হয় না? ধরো যদি মার ঘরে ...
_মামপি মার ঘরে একা থাকতে পারবে?
_আহা, থাকার কথা কে বলছে? টেবিল-চেয়ার পেতে ওটা যদি ওর স্টাডিরুম করে দিই ...
ওখানে টেবিল ঢুকবে?
_মার কিছু জিনিস যদি ও ঘর থেকে বার করে দেওয়া যায় ... ধরো, মার সেলাই মেশিনটা, ছোট মিটসেফটা, ডাউস আলনাটা ... আমি অনেকটাই সাফসুতরো করেছি, আরো কিছু মাল যদি ...
_আঃ সুপ্তি! মানুষটা এখনো ওপারে পেঁৗছল কি না ঠিক নেই ...
স্বরে বুঝি আমার ঝাঁজ ফুটেছিল একটু। সুপ্তি থমকে গেছে। ভার ভার গলায় বলল, আমি অত ভেবে বলিনি। স্যরি।
_ঠিক আছে। দেখব কী করা যায়।
সুপ্তি তবু ম্লান মুখে দাঁড়িয়ে রইল কয়েক সেকেন্ড। তারপর চলে গেল শুতে।
আবার একটা সিগারেট ধরালাম। হাত বোলাচ্ছি মুণ্ডিত মস্তকে। সুপ্তি খারাপ কী বলেছে? সত্যি তো, মার ঘর তো আর চিরকাল খালি পড়ে থাকবে না, আজ নয় কাল মামপি গোগোল কেউ একজন দখল নেবেই। এক্ষুনি এক্ষুনি অবশ্য পারবে না, ভয় পাবে। থাক, দু-চারটে মাস যাক। তারপর নয় পুরনো খাট-আলমারি সরিয়ে, দেয়াল-টেয়ালের রং ফিরিয়ে নতুন চেহারা দেওয়া যাবে ঘরখানাকে। আপাতত সুপ্তি যা চাইছে ...
ভাবতে ভাবতে কখন উঠে পড়েছি। পায়ে পায়ে এসে দাঁড়িয়েছি মার দরজায়। চিন্তাটাকে মাথায় নিয়েই ঘরের আলো জ্বালালাম।
সঙ্গে সঙ্গে বুকটা ছ্যাঁত। মা একেবারে আমার মুখোমুখি!
উঁহু, মা নয়। মার ছবি।
বেঁটে আলমারির মাথায় জ্বলজ্বল করছে বাঁধানো ফটোখানা। পরশু ছবিটা ফুলে ফুলে ঢেকে ছিল। আজ একটাই মোটা মালা। রজনী গন্ধার। সামান্য শুকিয়েছে ফুলগুলো, তবু একটা পলকা গন্ধ যেন বিছিয়ে রেখেছে ঘরময়। ছবির সামনে ধূপের ছাই, নিবে যাওয়া প্রদীপ।
কী অদ্ভুত রকমের জ্যান্ত ছবিটা! ঠিক মনে হয় সোজাসুজি আমার দিকেই তাকিয়ে!
সরে গেলাম একটু। আশ্চর্য, মার চোখও সরছে! ডান দিকে যাচ্ছি, বাঁয়ে ...। আমার দিকেই ঘুরে ঘুরে যাচ্ছে মার দৃষ্টি! খাটের ওপাশটায় গিয়ে দাঁড়ালাম, চোখের মণি দুটো সেখানেও পেঁৗছে গেছে! আলমারির পাশে চলে গেলাম, সেখানেও ...।
অবিকল সেই বাঙ্ময় চোখ! আমাকেই দেখছে! শুধু আমাকে।
গা ছমছম করে উঠল। প্রাণপণে যুক্তি সাজানোর চেষ্টা করছি। এটা তো স্রেফ ছবি। ফটো। আমারই তোলা। ক্লোজআপ। মামপির পাঁচ বছরের জন্মদিনে। কারেন্ট কোনো সিঙ্গল ফটো নেই বলে এটাকেই এনলার্জ করে শ্রাদ্ধের জন্য বাঁধিয়ে দিয়েছে সন্তুদা। এ ছবি তো কদিন ধরে বারবারই দেখছি। লেন্সের দিকে সরাসরি তাকালে সব চোখই এরকম লাগবে ...।
নাহ্, এ আমার মনেরই ভুল।
নিজেকে খানিকটা স্থিত করে আলো নিবিয়ে দিলাম। বেরিয়ে আসছি, হঠাৎই স্পষ্ট ডাক, বাবলু ...?
মার গলা! মারই গলা!
এও কি বিভ্রম? আমার পা মাটিতে গেঁথে গেল। সম্মোহিতের মতো বলে উঠেছি, কী হলো মা? কিছু বলবে?
চেনা স্বর কেমন দুলে দুলে গেল, আমায় মাপ করে দিস বাবলু। মৃত্যুটা যে আমার হাতে ছিল না রে।
আমূল কেঁপে গেলাম। এই কথাটুকু উচ্চারণ করার জন্যই কি ছটফট করত মা? মা কি আমার ভেতরটা টের পেয়ে গিয়েছিল?
ভীষণ কান্না পাচ্ছিল আমার। মার মৃত্যুর পর এই প্রথম।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1338)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
-
▼
2012
(33842)
-
▼
November
(2002)
-
▼
Nov 08
(126)
- ব্যাংক নোটে ম্যান্ডেলা
- চীনে কমিউনিস্ট পার্টির কংগ্রেস শুরু আজ
- জারদারির মামলা চালু করতে সুইস কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ
- কেমন হবে ওবামার বৈশ্বিক নীতি?
- ‘আরও চারটি বছর’
- আওয়ামী লীগ নেতার কাণ্ড- ঠিকাদার ভেবে কিল-ঘুষি, পরে...
- রংপুর সিটি নির্বাচন: মশিউরকে এরশাদের সমর্থন- অন্য ...
- মাদক বিক্রির প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রিকশাচালককে হ...
- মাদকবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্বে প্রথম আলো
- অর্থ ও আসবাব আত্মসাতের মামলা- সাবেক স্পিকার জমির উ...
- রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানাতে কাল ঢাকায় আসছেন হিনা
- সামাজিক ব্যবসা সম্মেলন শুরু হচ্ছে আজ by আসজাদুল ...
- ৭ নভেম্বরে বিএনপির আশাবাদ- ‘গণবিরোধী’ সরকারের বিরু...
- শিক্ষা বিভাগ- এসিআর ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়ন জরুরি b...
- মূল্যায়ন- ওবামা: আশার সংগ্রাম এখনো চলছে by বার্ন...
- সরেজমিন- ওবামার এই স্বপ্ন পূরণ হোক by মিজানুর রহ...
- কী শিক্ষা দিয়ে গেল আমাদের?- মুঠোফোনের গান ও ট্রেনে...
- বিশ্বময় শান্তি ও উন্নয়ন সাধিত হোক- অভিনন্দন, বারাক...
- চারদিক- ফিরে যাই শৈশবে by ফারুখ আহমেদ
- কৃষি- সোনালি ফসলের পাশে কৃষকের মুখ by তুহিন ওয়াদুদ
- ফিরে দেখা পঁচাত্তর- আগস্ট থেকে নভেম্বরের রক্তাক্ত ...
- জাতিসংঘ পার্কে বসাই দায় by ফারজানা আকতার
- আনোয়ারা আওয়ামী লীগের কী হবে by মোহাম্মদ মোরশেদ হ...
- শোক- সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মুহাম্মদ শামসুল হক
- ছাতিম ফুলের সুবাস by আহামেদ মুনির
- কালুরঘাট সেতু- ফেরির কষ্ট আরও এক মাস by মিঠুন চৌ...
- প্রথম সমকামী সিনেটর ট্যামি
- 'ফোর মোর ইয়ারস' by রাজীবুল হক
- কয়েক রাজ্যে ভোট নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ by তানজিমুল নয়ন
- ওবামার কাছে জনগণ চায় অর্থনৈতিক নিরাপত্তা by যিশু ম...
- ওবামার দিকে তাকিয়ে বিশ্ব by শামসুন নাহার
- 'আমি ভোট দিয়েছি' by শরীফুল ইসলাম শরীফ
- সবিশেষ-সর্বাধিক নারী সিনেটর
- অজানা
- জয়োৎসবের আগে ঝড়ের সতর্কবার্তা
- জো বাইডেন ২০১৬-তেও থাকবেন!
- সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ by রিয়াজ মিলটন
- ড্যান ডাব্লিউ মজিনা বললেন-যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ ...
- ওবামাকে ভোট দিলেন ১০৬ বছরের হিন্টন
- নাতির বিজয়ে আপ্লুত দাদি by সোহানা তুলি
- ঢাকায়ও জয়ী ওবামা
- সেই ওহাইয়োতে জিতেই ওবামা প্রেসিডেন্ট
- এবার তরুণ ভোটার বেশি by মোস্তফা রাসেল
- প্রতিক্রিয়া-গওহর রিজভীর মন্তব্য-ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্প...
- প্রতীকী ভোট দেখতে গিয়ে দুই নেতার তর্ক
- অল্প স্বল্প গল্প
- হলিউড- হলিউডে নির্বাচনী উত্তাপ
- জয়তী ও তাঁর গান by মেহেদী মাসুদ
- বলিউডআলিয়া, বরুণ, সিদ্ধার্থ- ত্রয়ীর জয়
- এটি একটি ব্যতিক্রমী উৎসব by আবুল খায়ের
- হোয়াইট হাউসের পুতুল হয়ে থাকবেন না তো?
- পরিবর্তন প্রয়োজন রিপাবলিকানদের
- গণভোটে সমলিঙ্গ বিয়ে মারিজুয়ানার অনুমোদন by ফৌজিয়া...
- তবুও আমাদের নীতি টিকে থাকবে : রমনি by হাসান ইমাম বাবু
- এত কিছুর পরও কেন হারলেন by খন্দকার মোজাম্মেল হক
- ড. ইউনূস ইস্যুতে মতদ্বৈধ কমবে by ড. দেলোয়ার হোসেন
- সাক্ষাৎকার-অর্থনীতিকে টেনে তুলেছেন ওবামা by সি এম ...
- কংগ্রেস ও গভর্নর নির্বাচন-পাল্টাল না সমীকরণ by তাম...
- সেরাটা এখনো বাকি-জয়ের পর শিকাগোয় নির্বাচনী সদর দপ্...
- যেভাবে বিজয় by আসাদুর রহমান
- আস্থায় প্রত্যাশায় ওবামা by সফেদ ফরাজী
- চোখ by হুমায়ূন আহমেদ
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ by হাসান আজিজুল হক
- কবি by সৈয়দ শামসুল হক
- রানীরঘাটের বৃত্তান্ত by সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
- পাদটীকা by সৈয়দ মুজতবা আলী
- ডিডেলাসের ঘুড়ি by সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
- সুখের পিঠে সুখ by সেলিনা হোসেন
- রাজা আসেনি বাদ্য বাজাও by সুশান্ত মজুমদার
- অযান্ত্রিক by সুবোধ ঘোষ
- বীর মুক্তিযোদ্ধা- তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না
- আদালত অবমাননার অভিযোগ- সাজেদা ও মতিয়ার বিষয়ে আদেশ ...
- সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া যাত্রা- আবারও সাগরে ট্রলারডুবি...
- নদীতীরে by সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
- নয়ান ঢুলি by সরদার জয়েনউদ্দীন
- সরেজমিন- স্কুল চলছে, ভোটও চলছে by মিজানুর রহমান খান
- ওবামা কেন জিতলেন, কীভাবে জিতলেন by আলী রীয়াজ
- নকুলার এক বছরের কারাদণ্ড
- ৫০০ বিঘা জমির জাল দলিল by রোজিনা ইসলাম ও মাসুদ রানা
- হোয়াইট হাউসে ফিরেছেন ওবামা
- আত্মজ by সুচিত্রা ভট্টাচার্য
- বড় পাপ হে by সমরেশ মজুমদার
- কে নেবে মোরে by সমরেশ বসু
- ক্লাস ফ্রেন্ড by সত্যজিৎ রায়
- ক্লাস ফ্রেন্ড by সত্যজিৎ রায়
- গণনায়ক by সতীনাথ ভাদুড়ী
- শ্বেতপাথরের টেবিল by সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
- চন্দনেশ্বরের মাচানতলায় by শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
- মুনিয়ার চারদিক by শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
- কালান্তক লাল ফিতা by শিবরাম চক্রবর্তী
- শান্তিকামী মানুষের স্বস্তি by জাহিদুল ইসলাম সরকার
- এ নির্বাচন একটি মডেল by বেলাল হোসাইন রাহাত
- বিশ্বের মন জয় করবেন ওবামা by মাসুদ ফরহান অভি
- দ্বিতীয়বার সুযোগ পেলেন বারাক ওবামা by তানিম ইশতিয়াক
- বৃহতের সাধনা by সুভাষ সাহা
- জীবন-সার্থকতা মৃত্যুর সৌন্দর্যে by রণজিৎ বিশ্বাস
- সমকালীন চিন্তা-'কে সেই তৃতীয়, যে চলে তোমাদের সাথে?...
- বাঘহত্যা-নির্মমতার পুনরাবৃত্তি বন্ধ হোক
- অভিনন্দন ওবামা-ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্ক নিবিড় হোক
- জিব্রাইলের ডানা by শাহেদ আলী
- কোথায় পাব তারে by শহীদুল জহির
- মহেশ by শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী by শওকত ওসমান
- কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ by শওকত আলী
- ইজ্জত by রিজিয়া রহমান
- চুড়ি by রাহাত খান
- সূর্য ওঠার আগে by রাবেয়া খাতুন
- আবারও চিনির দাম বৃদ্ধি-চিনি শিল্পের উন্নয়নে পদক্ষে...
- অভিনন্দন বারাক ওবামা-দৃঢ় হোক বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্ক
- পবিত্র কোরআনের আলো-ফিরআউন সময় থাকতে সত্যকে স্বীকার...
- চার দশকের পরিবর্তিত মানসিকতা by ওয়াহিদ নবি
- প্রতিক্রিয়া : হুমায়ুন কবির-ওবামার সংস্কার কর্মসূচি...
- চরাচর-সিলেটের সাতকড়া by ইয়াহইয়া ফজল
- কয়লানীতি, বিশেষজ্ঞ কমিটি ও বাস্তবতা by হাসান কামরুল
- ফতোয়া ও প্রাসঙ্গিক ভাবনা by ড. নিয়াজ আহম্মেদ
- বহে কাল নিরবধি-অবরোধ কি ইরানকে কোনো 'পরিবর্তনে' বা...
- ‘বাংলাদেশ ইমম্যাচিওরড, যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচিওরড’ by ...
- মেহজাবিনের বিজ্ঞাপনী চমক by সাইফ চন্দন
- এবার সিডিতে ‘এক জীবন-২’ এর মিউজিক ভিডিও
- কারা থাকছেন আর্থিক খাত সংস্কার কমিশনে by সাইদ আরমান
- প্রেম-প্রতারণা- ‘মরে গেলাম ভাল থেকো’
- কাটরিনার ইচ্ছা
- তারা আসছেন তবে... by মোহাম্মদ আওলাদ হোসেন
- মেগা নিয়ে ফিরছেন বাঁধন by কামরুজ্জামান মিলু
- ক্যামেরুন ডায়াসের সৌন্দর্যের রহস্য!
- বারাক ওবামার বিজয়ে মার্কিন তারকাদের উচ্ছ্বাস
-
▼
Nov 08
(126)
-
▼
November
(2002)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
তরুণ প্রজন্ম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আলী যাকের
আইন ও বিচার
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
তারেক শামসুর রেহমান
মালয়েশিয়া
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
স্বাস্থ্য
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
জ্যোতির্বিজ্ঞান
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
শিল্প ও সাহিত্য
সংবিধান ও রাষ্ট্র
বগুড়া
মিয়ানমার
ঢাকা
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
গবেষণা
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
জীবনযাপন
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
মেহেদী হাসান
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
মানসুরা হোসাইন
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
ইয়েমেন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
Exclusive
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
উচ্চশিক্ষা
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিজ্ঞান
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
জনস্বাস্থ্য
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
ফরিদপুর
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লাতিন আমেরিকা
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মহাকাশচারী
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
জোহরান মামদানি
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
ইহুদি
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
স্পেন
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
বিশ্বকাপ ফুটবল
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হুগজিল্ট
অপ্রকাশিত বাস্তব।
ReplyDelete