Thursday, November 8, 2012
চন্দনেশ্বরের মাচানতলায় by শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
চন্দনেশ্বরের মাচানতলায় by শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
আমাদের এখান থেকে কলকাতার ট্রেন আরও বাইশ মিনিটের ছুট দিয়ে তবে একটা নদীর সামনে গিয়ে থামে। তার ওপারেই বাদা। অনেকে বলে লাট অঞ্চল। সেখান থেকে অভাবী মানুষ নদী পেরিয়ে ট্রেনে এসে ওঠে। কলকাতার রাস্তায় গিয়ে ভিক্ষা করে। আশ্চর্য! সেখান থেকেই সস্তায় চাল ইলেকট্রিক ট্রেনে স্মাগল্ হয়ে কলকাতায় ঢোকে।
ট্রেন লাইনের দু'ধারে ছড়ানো সব গ্রাম, ধানক্ষেত_দূরে দূরে সাবেক জমিদারের পরিত্যক্ত চাষবাড়ি।
এসব দিক থেকেই আমাদের স্টেশনে অনেকে রিঙ্া চালাতে আসে। অন্য অন্য জায়গায় দেখেছি_রিঙ্ার পেছনে রিঙ্ার নাম লেখা থাকে। এখানে লেখা থাকে মালিকের নাম। প্রোঃ অবিনাশ নস্কর কিংবা প্রোঃ দেবু ঘোষ ইত্যাদি লাল রঙে লেখা প্রায়ই এখানকার বাজারে চলন্ত রিঙ্ার পেছনে দেখা যাবে। সিটগুলো ছোট। দুজনে বসলে পেলভিসে লাগবে।
রিঙ্াগুলো সাত-পুরনো। রাস্তা একটু খাড়াই হলেই চেন খুলে যাবে। প্রায়ই লিক নয়ত পাঙচার লেগেই আছে। এমন রিঙ্াও বাদা থেকে আমদানি আনকোরা চালিয়ের হাতে পড়ে_বলা ভালো, পায়ে পড়ে প্রথম প্রথম দিব্যি চলে। ছুটন্ত রিঙ্ায় বসে ওদের পায়ের মাস্ল্ দেখে বুঝতে পারি, লাট অঞ্চলের মানুষটি কতদিন হলো রিঙ্াওয়ালা হয়েছে।
ট্রেন আচমকা বন্ধ হলে ওদের সুসময়। তখন সারা দিনে দশ-বারো টাকা কামানো কিছুই নয়। ফাঁকা রাস্তা ধরে জংশনে পেঁৗছে দিতে পারলে প্যাসেঞ্জাররা অন্য লাইনের ট্রেন ধরে কলকাতায় যায়। দিনের বেলায় অনেক সময় মন্দা যায়। কিন্তু লাস্ট ট্রেনের প্যাসেঞ্জাররা রাত পৌনে বারোটা নাগাদ স্টেশনে নেমে যখন রিঙ্া নিয়ে কাড়াকাড়ি করে_তখন মনে হয়_নাঃ! কাজ বটে একটা। সেই সময় যেসব এলাকায় ইলেকট্রিক যায়নি_সেখানকার প্যাসেঞ্জাররাই বেশি করে রিঙ্া চায়। আসলে রিঙ্ায় চড়া যতটা না দরকার_তার চেয়ে বেশি দরকার অন্ধকার পথে একজন সঙ্গী। রিঙ্াওয়ালারা তা জানে। তাই রওনা দেবার আগে বাতিটা ধরিয়ে নেয়।
এইভাবেই আমার সঙ্গে তরুর আলাপ হয়েছিল। লাস্ট ট্রেনে ফিরলে তরু আমায় পেঁৗছে দিত।
কোলে মার্কেটে আমার সবজি যায়। উচ্ছে, ঝিঙে, পটল, আলু_যখনকার যা_পাইকারি দরে আমি কিনি। কোথাও কোথাও চাষের সময় আমি গাঁয়ে গিয়ে চাষিদের দাদন দিয়ে রাখি। ফসল উঠলে ফসলটা আমার গোলায় জমা দিয়ে চাষি হিসাবপত্র কাটান ছাঁটান করে।
ফলে আমাকে অনেক সময়েই এমন এমন জায়গা যেতে হয় যেখানে বাস নেই। অনেক সময় আমি হেঁটেও যাই। আবার বাস পেলে বাস। রিঙ্া পেলে রিঙ্া। যখন যে রকম। এদিকটায় কোল্ড স্টোরেজ এখনো হয়নি বলে আমার মতো লোকের ব্যবসা খারাপ চলে না। বিশেষত বরবটি আমাকে গত বোশেখে অপর্যাপ্ত পয়সা দিয়েছে।
এদিককার চাষিরা বেশ ভালো ফলায়। কেউ কেউ তো দশ বিঘে অবধি শুধু লঙ্কাই লাগায় এক এক মরসুমে। একদিন অন্তর একদিন দু'মণ তিন মণ শুধু লঙ্কাই আমাকে কিনতে হয়। ইদানীং দেখছি অসময়ের মুলো ভালো পয়সা দিচ্ছে। কলকাতার হোটেলে যে কী না লাগে!
তরু একদিন বলল, 'বাবু আমায় টায়ার কিনে দাও একজোড়া। রিঙ্া চড়িয়ে শোধ করে দেব।'
কত লাগবে?
আঠারো টাকা বিশ পয়সা!
দিলাম আমি। কিন্তু দিয়ে বিপদে পড়লাম। আমাকে স্টেশনে দেখলেই তরু অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে থাকে। কারণ সিম্পল্। আমি চড়লেই তো পয়সা পাবে না ও। ধার কাটান যাবে। কাছে গেলে বলে, ভাড়া হয়ে গেছে বাবু। আমার মতো লোক তো ওর গলায় গামছা দিয়ে পয়সা আদায় করতে পারে না। তাহলে একটা কথা হবে। তা ছাড়া এই চন্দনেশ্বরে আমাকে সবাই চেনে। কেউ কেউ পাট উঠলে পাট রেখে টাকা নেয়। ডাল উঠলে ডাল রেখেও টাকা নেয়। আমার গোলার গায়েই একটা বড় ঘর নিয়েছি। সেখানে আমার রাখী কারবার। জিনিস রেখে আমার টাকা নেয়। দর উঠলে বেচে দিয়ে আমার জায়গায় ভাড়া_সুদসমেত টাকা ফেরত দেয়।
এ জায়গাটি আমার বড় ভালো লাগে। এখানে আমার দেশ নয়। কিন্তু এখন দেশ হয়ে গেছে। এখানে বোস ডাক্তার আমাকে ইঞ্জেকশন দেয়। দুর্গা ডাক্তারের মিকশ্চার আমাদের বর্ষাকালের সঙ্গী। কাছাকাছি ঘোষপুরের মর্তমান কলার মতো অত বড়, অত ভালো কলা আমি কোথাও দেখিনি। এখানকার পঞ্চাননতলায় সারা বছর পুজো, নাম-গান লেগে থাকে। নিশে, পালান ওরা গাঁজা খায়। চোত মাস ভর হরির নাম করে। চরণ মাত্র একটি। হরে রাম হরে রাম_রাম রাম হরে হরে। একটি মাস ধরে গাইলেও পুরনো হয় না। কেউ বা তখন সন্ন্যাস নেয়। পরনের বস্ত্র বাবার রঙে ছোপান। বাবার নাম করে তারকেশ্বরের দিকে পাড়ি দেয়। ফিরে আসে ন্যাড়া হয়ে। হাতে একটি পাঁচ-ছ কিলোর কুমড়ো। সেখানে নাকি সস্তা।
এখানে গমকল আছে। ধানকল আছে। তিনটে অপেরা পার্টি ছাড়াও অ্যালোপাথ, হোমোপাথ সমেত মোট সতেরোজন ডাক্তার আছে। ভোর রাতে ভেড়ির নোনা মাছ এখানেই নিলাম হয়। ট্রেন বোঝাই দিয়ে এখানকার তাড়ি কলকাতায় যায়। তাতে ব্যবসায়ীরা স্যাকারিন মিল্ক পাউডার আর খালের জল ইত্যাদি মেশায়। এখানকার লোক ও তাড়ি খাবে না।
বরং কলকাতার বাসি সিনেমা এখানকার হলে লোক লাইন দিয়ে দেখে। গাদা গাদা আলুর চপ আর বিড়ি পাতার দোকান রাস্তার দু'ধারে। সম্প্রতি একটি ব্যাংক হয়েছে। ব্যাংকবাড়ির এক তলায় একটি সুন্দর কাপড়ের দোকানও হয়েছে। মিষ্টির দোকানে রসগোল্লা যত ছোট হচ্ছে_দামও তত বাড়ছে। রবিবার সকালে পিচ রাস্তার গায়ে মোটা তে-পলতের ডালে পাঁঠা-খাসির ছাল ছাড়িয়ে টাঙিয়ে দিয়ে বিক্রি হয়। কলকাতার চেয়ে কেজিতে পঞ্চাশ পয়সা কম।
নতুন নতুন লেদ মেশিন বসেছে। কাছাকাছি সারের দোকান। বিষের দোকান। কেরোসিন মাঝে মাঝে হাওয়া হয়। সরষের ঘানি আছে। খাঁটি কলম্বোর নারকেল তেল বারো টাকা কেজি। একখানা হাল বর্ষায় পাঁচ-ছ টাকা। বোরোতে সাত টাকা অবধি ওঠে। সরষের খোল ষাট পয়সা_গরুর ভূষির কেজি এক টাকা। চিনি নেই। একজন ডেকরেটর আছে। বিয়ে শ্রাদ্ধ সে একাই সামলায়। একটা ছাপখানা ছিল। কোশ্চেন আউট হয় বলে পুলিশ এসে বন্ধ করে দিয়েছে।
তিনটে প্রাইমারি একটা উচ্চ মাধ্যমিক ছাড়াও দুটো টিউটোরিয়াল হোম আছে। একটির সাইনবোর্ডে পরিষ্কার লেখা আছে_টাকা অনুযায়ী গ্যারান্টিসহ ফার্স্ট ডিভিশনে, সেকেন্ড ডিভিশনে এবং থার্ড ডিভিশনে পাস করানো হয়। গ্যারান্টিসহ ফেল করানো হয়_এ কথা শুধু লেখা নেই।
নানান দোকানের বারান্দায় ঘুগনি বসে রাত আটটার পর। তার সঙ্গে চোলাই চলে। প্রকাশ্যে কোনো বেশ্যালয় নেই। সৌণ্ডিকালয় একটিই। মালিক একজন মুখার্জী ব্রাহ্মণ। কু-লোকে বলে দেশিতে তিনি ভুরি পরিমাণ জল মেশান। শ্মশান এখান থেকে আট মাইল। টি বি হলে লোকে কলেজে যাওয়ার চেষ্টা করে। বেশির ভাগই সিট পায় না।
মুড়ি-মুড়কির যুবাবয়সী দোকানদার মৌজা দিয়ে পাম্প-সু পরে বিয়ে করতে যায়। বউ নিয়ে ফেরার পথে রিঙ্া-সাইকেলের পেছনে পেছনে ব্যান্ডপার্টি যায় গাঁয়ের পথ দিয়ে। নতুন খড় উঠলে কাহন ষোলো টাকা। একজোড়া ভালো বলদ আট শ টাকা। পুরনো ধানের বস্তা আশি টাকা অবধি ওঠে। জল দেবার পাম্প ভাড়া এক ঘণ্টা চার টাকা পর্যন্ত।
ফটো তোলার ফটো বাঁধাইয়ের দোকান একটিই। কংগ্রেস, সি পি আই, সি পি এম নিত্যপদশ্রী নামে একটি জুতোর দোকান বসেই আড্ডা দেয়। খদ্দেরদের তাই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই জুতো বাছাই করতে হয়। বালি, সিমেন্ট কোনোটাই ন্যায্য দামে পাবার উপায় নেই। লোকাল তামাকে দোকানে গুড়ের ভাগই বেশি মেশায়।
দুটি ইটখোলায় রাঁচি, পুরুলিয়ার মেয়ে-পুরুষ খাটতে আসে ফি'বছর। তারাই স্টেশনারি দোকানগুলোর সস্তার মালপত্র কিনে কিনে দোকানগুলো বাঁচিয়ে রেখেছে। ওরা মাস সাতেক থাকতে থাকতেই ইটখোলাতেই মুরগি পোষে, ডিমে তা দিয়ে ছানা করায়_সেসব জিনিস বাজারেও আসে।
তা ছাড়া শীতকালে ধানক্ষেতে ভেড়িতে কাদাখোঁচা ডৌখোল বেলেহাঁস ধরা পড়লে আজাহার মোল্লা সর্বাগ্রে আমার কাছেই নিয়ে আসে। ছ-সাতজন ওয়াগন ব্রেকার ছিল_তার বেশির ভাগই এখন ফেরার_দু-একজন ধরা পড়ার পর মার খেয়ে পুলিশ হাসপাতালে।
এই হলো গিয়ে আমাদের চন্দনেশ্বর। একটু এলোমেলো করে বলা হলো। তা হোক এখানে সবই সব সময় নিজের কোলে ঝোল টানতে ব্যস্ত। তা তো সব জায়গাতেই। কোথায় বা না? কেউ কেউ জমি কেনাবেচা করে দু'পয়সা করছে। বিধবা কিংবা নাবালক অনাথের সম্পত্তিও মাঝেমধ্যে বেহাত যে হয় না তা নয়। কেউ নারকেল গাছ সদরে জমা দিয়ে দেয়। কেউবা পুজো-আচ্চার দিন এক কাঁদি ডাব পেড়ে নিয়ে বাজারের মুখে এসে বসে। বেচে পয়সা দিয়ে বাজারহাট করে বাড়ি ফেরে।
তা তরু আমাকে ঠকিয়েছে তাতে আমার কোনো দুঃখ নেই। মানুষই তো মানুষকে ঠকায়। আমি তো বউ-ছেলে-মেয়ে নিয়ে না-খেয়ে-পড়ে নেই। কিন্তু ও আমায় রিঙ্ায় তোলে না। কেন? মুখ ঘুরিয়ে থাকে। আমি ওকে নতুন করেই আবার ভাড়া দিতাম। ব্যাপারটা আমার অপমান লাগে। কাজের মধ্যে থাকি। ভুলেও যাই আবার। ঢ্যাঁড়সটা এবার সময় মতো ধরতে পারলে পয়সা আছে।
রাত ন'টার ভেতর গোলায় চাবি দিয়ে বাড়ি ফিরলাম। দেখি গিনি্ন আমার আয়না ধরে পাউডার ঘষছে মুখে। বড়ছেলে বলল, যাত্রা দেখতে যাচ্ছি বাবা। কৃষ্ণ-শকুনি পালার টিকিট দিয়ে গেছে। আমার বউ বিয়ের আগে গড়িয়াহাটার মোড়ে ব্লাউজ কিনেছে। আলেয়ায় সিনেমা দেখেছে। এখানেও নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে বেশ। অনেকে ওকে দিদি ডাকে। বউদি ডাকে। পাশ থেকে দেখলে খুব সুন্দর দেখায়। আজও দেখাচ্ছিল।
আমিও গেলাম যাত্রা দেখতে। সামনের দিকে বসেছি। একেবারে প্রথম সারিতে বাজনদাররা বসেছে। দেখি তার ভেতর তরু মুখ লুকিয়ে ফ্লুট বাজাচ্ছে। সব বাজনা থামলেও তরুর ফ্লুট সুরেলা গানের দোলটুকু সবার মনে চারিয়ে দিচ্ছিল। ওর যে এত গুণ জানতাম না। যাত্রায় মেতেছে। তাই আজকাল আর রিঙ্া চালাতে দেখি না।
যাত্রা ভাঙল রাত চারটেয়। আগে বেরিয়ে একখানা রিঙ্া ধরলাম। বললাম, আমার বাড়ি চেনো তো_
না বাবু।
অল্প আলো। মুখখানা দেখতে পেলাম না রিঙ্াওয়ালার। ডিরেকশন দিয়ে দিলাম। মেয়েদের পেঁৗছে দিয়ে রিঙ্াটা ফিরতি পথে আমাকেও পেঁৗছে দিল। নির্জন পথ। শেষ রাতের চাঁদ সব জায়গায় আলো দিতে পারেনি। ঢোল-কলমির ঝোপ-ঝাড়ে জোনাকি_উঁচু-নিচু, উঁচু-নিচু। একটু বেশি ভাড়া দিতে গেলাম। রিঙ্াওয়ালা রিফিউজ করল। যা লেয্য তাই দিন।
রিঙ্াটা চলে যেতে পেছনে কারও নাম লেখা দেখলাম না। কার রিঙ্া বোঝারও উপায় নেই। রিঙ্াওয়ালার মুখও ভালো করে দেখিনি। লাট অঞ্চল থেকে লোকটা বোধ হয় নতুন এসেছে।
একদিন ঝড়ে দেবেনের গমকলের তিনখানা টিন উড়ে গেল। আরেকদিন পঞ্চাননতলায় পুজো দিতে গিয়ে চাকবেড়ের এক মেয়েছেলের ওপর ভর হলো। আমাদের চন্দনেশ্বরে এই সবই হলো খবর। মাঝেমধ্যে শেষ রাতে ডাকাতি হয়ে যাওয়ার খবরও আসে। দূর দূর গাঁয়ে।
লরি থেকে উচ্ছে উঠছিল গোলায়। সকালবেলা। পেমেন্ট দিয়ে বসে আছি। লোক থাকলেও নজর রাখতে হচ্ছে লরির দিকে। বছর ছত্রিশ-সাঁইত্রিশের একজন লোক সোজা আমার কাছে এসে বলল, বাজার ভেঙে গেছে বাবু। আড়াই শ ঢ্যাঁড়স দরকার ছিল বড়_একজন কুটুম্ব এসে গেল।
আমার এখানে তো খুচরো চলে না বাবা। আর কিছু বললাম না। আমি তালগাছতলায় পাইকারি দরে বিলিতি আমড়া কিনে ব্যবসা শুরু করেছিলাম। খুচরো কিনতে লোক পাঠিয়ে বড় বড় ব্যাপারিরা দরের আন্দাজ নেয় আমি জানতাম।
লোকটি বলল, যাত্রা দেখে আপনি ফিরলেন। আমি পেঁৗছে দিলাম বাবু।
ওঃ। তোমার রিঙ্া ছিল। তাইতো। নিয়ে যাও_পয়সা দিতে হবে না।
বিনে পয়সায় নেব না।
অতএব ওজন করে পয়সা নিয়ে আড়াই শ ঢ্যাঁড়স দিতে হলো। চলে যাচ্ছিল। ডেকে বললাম, তোমার নাম কি গো?
অমৃত। অমৃত দাশ।
তুমি তো এখানকার লোক নও।
নারকেলবেড়ে আমাদের বাড়ি। আমি মাস তিনেক হলো এদিকে রিঙ্া চালাচ্ছি।
তোমার রিঙ্াখানা ভালো করো। আমি টাকা দিচ্ছি। চড়িয়ে চড়িয়ে শোধ করে দেবে।
টাকার দরকার নেই। রিঙ্া আমি বানাতে জানি।
তাহলে অনেক রিঙ্া বানিয়ে ভাড়া খাটাও।
আমি আর বাড়াব না। আটখানা রিঙ্া বানিয়েছিলাম একে একে।
সেসব রিঙ্া কোথায়?
আজ এটা ভাঙে। কাল ওটা ভাঙে। অন্য যারা চালায় তাদের সব দিয়ে দিয়েছি। এই একখানা নিজের জন্য রেখেছি। যেমন পয়সা আসে তেমন দিন কাটে। রান্নাটা চড়িয়ে দিইগে। ঘরে লোক আছে। বিকেলে এসে কথা বলব বাবু।
তোমার বউ ছেলে-মেয়ে কোথায়?
সে-কাজটা করা হয়নি বাবু।
মনে মনে ভাবলাম, অমৃতর কোনো রোগবালাই থাকতে পারে। তাই হয়তো বিয়ে হয়নি। রিঙ্া চালিয়ে চালিয়ে অনেকের কাশ রোগ হয়। লোকটা বিবেচক। অসুখ সুদ্ধ বিয়ে করে আরেকটা মেয়ের সর্বনাশ করেনি। চেহারাটা ক্ষয়াটে চোখ জ্বল জ্বল করছে। হাফশার্টের নিচে লুঙ্গি। কোমরে গামছা প্যাঁচানো। তোমার অসুখটা কিসের বাবা?
অসুখ? আমি নীরোগ বাবু। স্টেশনের কলের পরিষ্কার জল খাই। শিবুর দোকান থেকে আটার রুটি কিনি_সঙ্গে ডাল দেয়। চলে যায়।
তবে বিয়ে করোনি কেন?
অমৃত মাথা নিচু করে যা বলল, তা আমার কাছে স্রেফ ন্যাকামি বলেই মনে হলো। পরিষ্কার বলল, কত লোকের দুঃখ বাবু। কত অসুখ। কত শোকতাপ। এসব দেখে আর বিয়ে করা হয়নি। আমি তাই যতটা পারি লোকের দুঃখু কমাবার চেষ্টা করে যাচ্ছি। যদি কোনো শেকড়বাকড় জানতাম_তাহলে এই চন্দনেশ্বরের সব জ্বালা যন্ত্রণার আমি একাই উপশম করতাম। আমি যাই বাবু। রান্না চড়াতে হবে_
এ যে দেখি ভালো ভালো কথা বলছে! শাপভ্রষ্ট রিঙ্াওয়ালা! এই যে বললে দোকান থেকে কিনে খাও_তবে রান্না চাপাচ্ছ যে!
আমার তো চলে যায় বাবু। গরমকালে রাতের বেলা প্লাটফর্মে শুয়ে থাকি। রেলপুকুরে চান করি। ঘর একখানা নেওয়া আছে। অবশ্য ঝড়-বৃষ্টির জন্যে। কিন্তু মাঝেমধ্যে কলকাতা যাওয়ার পথে দেশগাঁয়ের রুগীরা আমার ঘরে আশ্রয় পায়। এনার আবার পেটে ঘা। বিকেলের গাড়িতে কলেজে ভর্তি হতে যাবে। দোকানের রান্না সয় না বলে আমি রান্না করে দিচ্ছি। দুটো ভাত ফোটান হয়ে গেছে।
অল্প বয়সে কোনো গুরুতর পাপ করেছিলে?
খানিক ভেবে অমৃত বলল, মনে তো পড়ে না। তবে খুব ছোট বয়সে একটা বিড়ালকে এক হর্তুকি গাছের গোড়ায় বেঁধে রেখে সে গাছের গায়ে ইয়া লম্বা এক মৌচাকে ঢিল মেরেছিলাম। বিড়ালটা মারা যায়।
দেখতে দেখতে অমৃতের চোখের কোণে জল এসে গেল। তাকে যদি পাপ বলেন_তাহলে করেছি।
না। না। সে রকম না। জ্ঞান বয়সে খুব কোনো পাপ করেছিলে? সেই অনুতাপে এখন_
মনে তো পড়ে না_
কাজে থাকি। কাজে ঘুরি। অমৃত আমার মন থেকে একদম মুছে গেল। গঞ্জ-গাঁয়ের মতো এই চন্দনেশ্বরে আমি খুব কম লোককেই হাত তুলে করজোড়ে নমস্কার করি। কিন্তু কী হলো ঠিক বলতে পারব না। পথে-ঘাটে আচমকা অমৃতের মুখোমুখি হলেই আমি দু'হাত তুলে নমস্কার করে ফেলি। অমৃতও লজ্জায় মাথা নোয়ায়। মুখের হাসিটা নির্মল। সেই লুঙ্গি, সেই হাফশার্ট, কোমরে গামছা_মাঝে ধ্যে গালে দাড়ি। বলি, কেমন আছো?
খুব ভালো বাবু। খুব সুখে আছি। যেমন চালাচ্ছেন তিনি তেমন চলছি।
তোমার রিঙ্া কেমন চলছে?
সামনের চাকাটা ফিরে ফিরে লিক হচ্ছে বাবু। তা আমি নিজেই সারিয়ে নিই। যন্ত্রপাতি সব আমার নিজের আছে।
গঁাঁজাখোর নিশি, পালান, যদু একদিন আধ মণ মুসুরির ডাল চাইতে এলো। বাজার-সুদ্ধু সবার কাছে চায় ওরা। কাঙালি ভোজন করাবে।
বললাম, তোরা নিজেরাই তো কাঙালি।
ওরা হেসে মাথা নেড়ে বলল, না বাবু। আমরা খুব সুখে আছি। ভগবানের কৃপায় কোনো অভাব নেই আমাদের।
অভাব বুঝবে কোত্থেকে? সারা দিন তো গাঁজার ওপর আছো। ডাল দিতে পারব না। আধমণ আলু পটল দিয়ে দিচ্ছি। তাই নিয়ে যাও।
ওরা তাতেও রাজি। ছাতা পড়া পচা-ধচা কিছু আলু পটল বিদেয় হওয়ায় গোলায় জায়গা হলো।
ওরা যাবার সময় বললাম, তোদের দলে অমৃতকে নিসনে কেন?
কে অমৃত?
রিঙ্া চালায় অমৃত দাশ_
ক্ষ্যাপা অমৃত। ওর কথা বলবেন না বাবু। আমরা নাম-গানে ডেকেছিলাম। কিন্তু ওনার সময় নেই। এক একদিন খালি রিঙ্া চালিয়ে একেদিক যায়! নির্জন জায়গায় নাকি ভগবানের খোঁজ করে_বুঝুন ব্যাপার! প্যাসেঞ্জার ফিরিয়ে দেয় তখন।
গোলা বন্ধ করে বসে আছি। লাস্ট ট্রেনে বারো বোঝা মোচা যাবে কোলে মার্কেটে। কিছু এঁচোড় আছে। পেঁপে আছে। থোড় আছে দু'বস্তা। ভেন্ডার কামরায় মাল তুলে দিয়ে তবে বাড়ি ফিরব। খুব গুমোট যাচ্ছে ক'দিন। এমন সময় খালি রিঙ্া নিয়ে অমৃত এসে হাজির। চলুন ঘুরে আসি বাবু।
কোথায়?
এই সুদের চর অব্দি যাব। জোছনায় ফিরে আসব।
আমার যে মাল ওঠেনি ট্রেনে।
তুলে দিয়ে চলুন।
ট্রেন যে আসেনি।
এলে যাবেন।
কৌতূহল ছিল। ট্রেন এলো। বোঝাগুলো তুলে দিয়ে অমৃতের রিঙ্ায় উঠে বসলাম। আমি কিন্তু এক পিঠের বেশি ভাড়া দিতে পারব না। হাঁটতেও পারব না।
আপনাকে কিছুই দিতে হবে না। এখন একটা বাতাস দেবেন ভগবান। রিঙ্া ঠেলে তিনিই সুদের চরে নে যাবেন। আমার কিছু করার থাকবে না। একেবারে পাল টেনে লৌকোর মতো টেনে নে যাবেন।
মনে মনে ভাবলাম, সুদের চরে ঝিঙে-শসা_নানান সবজির বড় চাষ হয়। চোখে দেখে আসা যাবে। এখন রোদের তাত লাগার ভয় নেই। দিব্যি ফিকে জ্যোৎস্না উঠেছে।
সত্যি। রিঙ্াখানা বাতাসেই ঠেলে নিয়ে চলল। অবশ্য অমৃতর প্যাডল করতে হচ্ছিল। ছ'মাইল রাস্তা তো কম নয়। কিন্তু আধঘণ্টাও বোধ হয় লাগল না।
একদা বিদ্যাধরী এই বিরাট তল্লাটের ওপর দিয়ে বয়ে যেত। এখন নদী নেই। তার বিরাট চর জেগে আছে। জল শুকিয়ে গেছে শ'পঞ্চাশ বছর আগে। নির্জন চরের ওপর শসা, ঝিঙে_নানান সবজির মাচান। লতায় লতায় জায়গাটা জঙ্গল হয়ে আছে। আমি রিঙ্ায় বসে রইলাম। অমৃত দিব্যি দু'খানা মাচানের পাশ কাটিয়ে একটা ঢিবি মতন জায়গায় উঠে ডাকল আমায়, চলে আসুন_এখান থেকে ভগবানকে দেখার খুব সুবিধে_
আচ্ছা পাগলের পাল্লায় পড়া গেছে। চাষিরা সন্ধেরাতে ঘুমোয়। এবার জেগে উঠে পাহারা দিতে এসে আমাদের এ জায়গায় পেলে আচ্ছা ঠ্যাঙান ঠ্যাঙাবে। তবু অমৃতের ডাকাডাকিতে যেতে হলো। চোরের উপদ্রব বলে সবজি চাষিরা কাঁটাসুদ্ধ বাবলা ডাল ছড়িয়ে রেখেছে। অনেক কষ্টে সেসব পার হয়ে ঢিবিতে উঠলাম। এখন ফিরে চল অমৃত। আর বলতে পারলাম না_আমার গিনি্ন রাতে আমার সঙ্গে খেতে বসেন। ঢুলু ঢুলু চোখে আমরা দু'জনে লুচি দিয়ে ক্ষীর মুড়ি খাই। রাতে ঝোল ঝাল ইদানীং আর সয় না। তাই মাছভাজা থাকে। তিনি এতক্ষণ নিশ্চয় বসে আছেন।
এখানে আসুন না। দেখবেন একটা জিনিস।
কোথায় কী! দু'ধারে দু'সারি বড় বড় তালগাছ_তার ভেতর দিয়ে পাতলা মেঘ মাখান একফালি অপুষ্ট চাঁদ উঠেছে!
দেখেছেন?
কী দেখব?
বুঝলেন না!
কী বুঝব? পায়ে ততক্ষণে লাল পিঁপড়ে উঠে কামড়াতে শুরু করেছে। হাত দিয়ে পিঁপড়ে ডলে ডলে মারছি আর ভাবছি, কোথায় কী! ফাঁকা মাঠে চাঁদ দেখাচ্ছে শুধু। এ তো বাজারে বসেই দেখা যেত। কিন্তু ওর মুখ দেখে মনে হয়, ও সত্যিই কিছু দেখার জিনিস পেয়েছে। হবেও বা। আমরা পাপ মন বলেই কিছু দেখতে পাচ্ছি না। সারা দিন আলু পটল ঝিঙে উচ্ছে করে বেড়াই তো। যাক গিয়ে। ছেলে-মেয়ের বিয়ে দিয়ে বুড়োবুড়ি কাশী যাব_এ তো ঠিক করাই আছে। তখন সকাল সন্ধে গঙ্গা চান করে সব পাপ ধুয়ে ফেলব। অমৃতের এখনকার সব পুণ্য আমি তখন এক একদিনে কিনব। মায়ের নামে নীলমণি কর বিদ্যালয়ে একটা বারান্দা করে দিয়েছি গত সনে। চুন-সুরকির গাঁথুনি। ভেতরে মাটি। ওপরে এক পটি ইট আজ মেরে দিয়েছি। চাঁদের চারদিকে একটা নীল লাইন দেখছেন?
জিনিসটা আমি জানতাম। আমার গিনি্ন শিখিয়েছে আমায়। ওর নাম চন্দ্রসভা। লাইনটা চাঁদের যত কাছাকাছি হবে ততই বৃষ্টির দিন নাকি এগিয়ে আসে। বৃষ্টি হওয়া খুব দরকার। মাঠের পর মাঠ জ্বলে যাচ্ছে।
ওটা হলো গিয়ে ভগবানের দুঃখ। সারা জগতের জন্যে তার গা দিয়ে কেমন মায়া মমতা জমা হয়েছে দেখুন।
কচু। আর ক'দিন পরেই বৃষ্টি হবে তাই। অমৃত এবার ফিরে চল বাবা। রাত বাড়ছে। ফিরতি পথে ছেনতাই হতে পারে। আমার হাতে ঘড়ি রয়েছে_
চাইলে দিয়ে দেবেন। আপনার তো আটকাবে না। আবার হবে।
মনে মনে বললাম, কী অলক্ষুণে লোক রে বাবা! আমি একা একা রিঙ্ায় এসে বসলাম। ও আরও খানিকক্ষণ ভগবান দেখে তবে ফিরে এলো।
হ্যাঁ রে তোর ভগবান দেখতে কেমন?
খুব ফরসা। গায়ে খুব সোন্দর গন্ধ।
ফেরার পথে ভগবান বাতাস না দেওয়ায় বেশ বেগ পেতে হলো অমৃতকে। রাস্তা তো কম নয়। বাড়ির সামনে নেমে ওকে তিনটে টাকা দিতে গেলাম। জিব কেটে রিঙ্ার হ্যান্ডেল ঘুরিয়ে নিল। আপনি সঙ্গে না থাকলে দেখাই হতো না।
ক'দিনের ভেতর পটলের দর যে এত লাফাবে জানতাম না। কেজি আশি পয়সা থেকে এক লাফে তিন টাকা। সামান্য বৃষ্টিতে নিচু জমির পটল নষ্ট হয়ে গেল। ডাঙা জমির পটল তখনও পুষ্ট হয়নি। ভাঙলে ভেতরটা খোকাখুকুর বার্লির রং এখনো কাটিয়ে ওঠেনি। তাই দূর দূর গাঁয়ে পুষ্ট পটলের খোঁজে ছুটে বেড়াচ্ছি। বড় একটা অর্ডার ছিল।
সেই সময় একদিন বিকেলে অমৃত এলো। মুখখানা শুকনো। আকাশ জুড়ে গাঢ় মেঘ থাকায় ওর ক'দিন ভগবান দেখা হয়নি। বাস স্ট্রাইক বলে আমারও আজ বেরোনো হয়নি। মন-মেজাজ ভালো ছিল না। এমন সময় গোলায় ঢুকে বেচারা প্রথমেই আমার ধমক খেল।
খাটের নিচে বসে হাজরা নস্কর থাবা দিয়ে দিয়ে আরশোলা ধরছিল তখন। আলুর বস্তা, পটলের ডাঁই, ঝিঙের ডালা-গোলার ভেতর অন্ধকারে যেখানে যত আরশোলা ছিল_সব তাড়িয়ে হাজরা খাটের নিচে এনেছে। থাবা দিয়ে ধরছে আর পলিথিনের ব্যাগে পুরছে। মাঝরাতে বঁড়শিতে এই আরশোলার টোপ গেঁথে ব্যাঙের গর্তের মুখে ধরবে। আর অমনি ব্যাঙ লাফিয়ে এসে টোপ গিলবে। তখন কপাৎ করে ব্যাঙটা ধরে কোমরে ঝোলানো মাটির কলসির ভেতরে পুরবে। সকালে আড়তে সাপ্লাই দেবে চার টাকা কেজি। এই করে এখানকার অনেকে এখন সংসার চালাচ্ছে। ভালো কল বেরিয়েছে। বাজারে লোকে বলাবলি করে, ব্যাঙের কী ভাগ্য।
চন্দনেশ্বরের ব্যাঙ এরোপ্লেনে উঠে বিলেত আমেরিকা যাচ্ছে। সাহেব-মেমেদের ভাতের পাতে এদের বড় আদর।
অনেক ধানাইপানাই করে অমৃত বলল, এটা কি ঠিক হচ্ছে বাবু? এই যে ব্যাঙগুলো খুন হচ্ছে_আর আপনার গোলা থেকে টোপের আরশোলা যাচ্ছে_
খাটের নিচু থেকে ঝুলকালি মাখা হাজরা মারমূর্তি হয়ে বেরিয়ে এল। হাত-দা খানা উঁচিয়ে বলল ভগবানের ব্যাটা, আরেকটা কথা বললে তোমায় কোপাব। দেশসুদ্ধ অ্যাতোগুলো পেট তুমি খাওয়াতে?
মাঝখানে পড়ে দু'জনকে আলাদা করে দিলাম। হাজরাকে বললাম, তোমার কাজ তুমি করো গিয়ে। মনে মনে আমি খুশি। ব্যাটাচ্ছেলের ভগবানবাজি কিছু থামবে এখন। আর হাজরাও নিখরচায় আমার গোলা আরশোলা-শূন্য করে দিচ্ছে। লোক দিয়ে করাতে গেলে নিদেন দুটো লোকের মজুরি যেত।
হাজরা খাটের নিচে ঢুকে যেতেই অমৃতর মুখ আবার প্রসন্ন হয়ে উঠল।
আপনি সেদিনকার আগে কখনো ভগবান দেখেছেন?
কী আর বলব! সেদিনও আমি ভগবান দেখিনি। তার আগেও কোনদিন দেখিনি।
ভগবানের কথা কখনো ভেবেছেন মন দিয়ে?
এরও জবাব দেওয়া যায় না। ভগবানের কথা ছোট বয়স থেকে মাঝে মাঝে অবশ্য ভেবে এসেছি। মনে আছে স্কুলে যাবার পথে আচমকা পেট ধরে বেগ এলে ভগবানের নাম করেছি। বললাম, কিন্তু অমৃত তুমি সে রাতে ওখানে ভগবান দেখলে কোথায়?
কেন? সবটা জায়গা জুড়েই। গদগদ হয়ে বলল, এমন আলো। অমন ছায়া।
আমি আর থাকতে পারলাম না। প্রায় ভেঙিয়ে উঠলাম, অমন তালগাছের সারি_
ও ভাবল, আমি বুঝি ওর সাপোর্টার। তাই আদৌ সন্দেহ না করে প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই বলল, তার ভেতর দিয়ে_
এমন তদগত লোককে বেশিক্ষণ ভেঙানোও যায় না। আমিই মানে মানে মনের ভেতরে রণে ভঙ্গ দিলাম। বিকেল বেলা। পথ দিয়ে খড়ের তড়পা বোঝাই গো-গাড়ি যাচ্ছে। সত্যিই তো, আমি কি কোনদিন ভগবানের কথা ভেবেছি? ভগবান নিশ্চয় কোন উঁচু চেয়ারে বসেন। অসময়ে অজাগায় বেগ এলে তাঁকে যেমন ডেকেছি, বেগ চলে গেলে বেমালুম ভুলে গেছি। এ জন্য তিনি কি রাগ করে আছেন? সে-জন্যেই কি পটলের ফড়েদের সঙ্গে আজ আমি গোলদার হয়েও হেরে যাচ্ছি?
স্কুলে থাকতে অঙ্ক পরীক্ষার কদিন তাঁকে ডেকেছি। সিমপ্লিফিকেশন আর ইউনিটারি মেথডের অঙ্ক দুটো বাইরে থেকে সাপ্লাই আসার পর তাঁকে ভুলে গেছি। রেজাল্ট বেরবার আগে কতবার ভেবেছি_আমি কি ম্যাথামেটিকসে তিরিশ পাব না ভগবান? হাত তিন টুকরো ইট নিয়ে সামনের লাইট পোস্টে ছুঁড়তে গিয়ে ভেবেছি_প্রথম টুকরোটা যদি পোস্টটার গায়ে লাগে তাহলে আমি পাস। যখন একটাও লাগল না_তখন মনে মনে বলেছি, নিশ্চয় পাস করব। ভগবান আছেন না!
এখান থেকে মাচানতলার রাস্তা তা আট মাইল হবে। উত্তর দিকে তেমন কোন বড় জায়গা নেই বলে সবাই বলে চন্দনেশ্বরের মাচানতলা। এ তল্লাটে সবচেয়ে ভাল পটলের জমি ওদিকটায়। আজ বাস স্ট্রাইক বলে কোন ফড়ে বা ব্যাপারি মাচানতলার মাঠে পেঁৗছতে পারবে না। বললাম, এক জায়গায় যাবে অমৃত?
কোনদিকে?
ভগবানের খোঁজ সবদিকেই করতে হয়_এ কথাটা মানো তো?
নিশ্চয়ই। তিনি তো সব জায়গায়।
তাহলে তুমি পঞ্চাননতলায় গিয়ে নিশি, পালান ওদের সঙ্গে বসে ঠাকুরের থানে নাম-গান কর না কেন?
আমার গানের গলা নেই বাবু। তাছাড়া অমন হাউ-মাউ করে পাড়া জাগিয়ে রেখে ভগবান ভগবান করা আমার ঠিক পোষায় না বাবু। আমি মেলাতে পারি না ওদের সঙ্গে। আপনি কোন্দিকির কথা বলছিলেন?
যাবে? উত্তুর। ফাঁকা চর জায়গা। ভুঁইয়ে ডাঙা জমিতে অঢেল পটল। তার ওপর যত দূর তাকাবে মাচান তুলে দিয়ে দিয়ে চাষিরা শসা করছে, ঝিঙে করছে, লাউ করছে_এ রকম প্রায় সারা বছরই চলে। জায়গাটায় গেলে চোখ জুড়োয়।
খুব নির্জন?
ভীষণ? দূরে দূরে দূরে চাষিরা খোন্তা দিয়ে নিড়েন দিচ্ছে। কোপ দিচ্ছে। ঘাস আগাছা তুলছে। অনেক পেছন দিয়ে কোম্পানি আমলের উঁচু বাঁধ চলে গেছে।
এখন যাবেন?
রাত হয়ে যাবে যেতে যেতে। কাল খুব ভোরে রিঙ্া নিয়ে আয়। রাত থাকতে বেরোব।
বেশ।
কিন্তু_
আমি চুপ করে আছি দেখে বলল, কী বাবু?
না তেমন কিছু না। কিন্তু অমৃত, তোর তো ব্যবসা নষ্ট হবে। সকালের প্যাসেঞ্জার সব হারাবি। আমিও যাতায়াত ষোল মাইল একটা পয়সা দিতে পারব না। ভগবান দেখিয়ে বেড়ানো তো আমার কারবার নয়।
আপনি দেবেন কেন? কাজের ক্ষেতি করে যাচ্ছেন এই তো যথেষ্ট। আমার পয়সার কথা ভাববেন না। ফিরে এসে গাড়ি বের করলেই পয়সা হয়ে বেশি হয়ে যাবে_
তোর টাকাকড়ি রাখিস কোথায়?
সেই তো এক মুশকিল হয়ে গেছে। কিছু খুচরো আর নোট পাহারা দিতে গিয়ে মনটা খিচড়ে যায় বাবু। আমার তো বিশেষ কোন খরচা নেই। তাই বেশ জমে গেছে এ ক'মাসে। দু'তিনশো টাকাতো হামেশা হাতে থাকে।
আমার কাছে রেখে যাবি। দরকার মতো নিবি।
খুব ভাল হয় বাবু। তাহলে মনটা সরল রাখতে পারি।
আমারও একটা সুবিধা ছিল। গোলায় পয়সা বিশেষ রাখি না। কাজের লোকেদের হাতটান আছে। বাড়িতে নোটের তাড়া রেখে দেখেছি_গিনি্নর খুব সুবিধে হয়। খরচ করে দিয়ে বলে, তুমি আমার কোন্ শখটা রেখেছো? এরপর কিছু বলা যায়! ব্যাংকবাড়িটা হয়ে আমাদের মতো লোকের খুব সুবিধে হয়েছে। এলোমেলো খরচার ভয় নেই। আমার আসলে নিজের টাকা ভাঙাতে বড় গায়ে লাগে। অমৃত যদি রেখে যায়_তাহলে রোজকার কারবারে টাকাটা ঘুরবে।
তাহলে কাল সকালেই আসিস। মাচানতলা যাওয়ার আগে বাড়িতে রেখে যাব।
কলকাতার ফার্স্ট লোকাল তখনো আসেনি। আকাশে চাঁদ থাকতে থাকতে প্রায় শতিনেক টাকা গুনে গেঁথে ধুতিতে বেঁধে নিলাম। তারপর রিঙ্ায় বসে বললাম, নে এখন চালা অমৃত। দেখি কত জোরে তোর গাড়ি যায়।
এখন বাবু, ভগবান বাতাস দেবেন। পাখির মতো উড়ে যাব।
ভগবানের নিকুচি করেছে। কিন্তু এসব কথা তো জোরে বলা যায় না। যাতায়াত ষোল মাইল বিনে ভাড়ায় ওরই রিঙ্ায় যাব। ওরই টাকায় দরকার হলে চাষিদের পটল বাবদে আগাম দেব। ভোর রাতে ঠাণ্ডা বাতাস ভালই লাগছিল।
আকাশ ফরসা হওয়ার মুখে মুখে চন্দনেশ্বরের মাচানতলায় গিয়ে হাজির হলাম। এত ভোরে এদিকে আসিনি। রিঙ্া থেকে নেমে দাঁড়িয়ে পড়লাম।
পিচ রাস্তা থেকে গাছপালার আড়াল দিয়ে বাঁক নিয়ে মাটির রাস্তায় পড়েই খানিক এগিয়ে এই মাচানতলা।
চর জায়গা। বেলে মাটি হবে। ছ'সাত মাইল জুড়ে ভুঁইয়ের ওপর পটল চাষ। পাতায় পটলে মিশে আছে। এক এক কিতা চাষ আর তার পাশ দিয়ে শসা, ঝিঙের মাচান_সবুজ সবুজ_উঁচু-নিচ_যত দূর চোখ যায়। পাশেই কাছাকাছি চাষিদের গাঁয়ের আভাস। ভোর হতেই ছাগল, গরু বেরিয়ে পড়েছে। অমৃত এক কোণে দাঁড়িয়ে ঘেমে যাওয়া শরীরে বাতাস লাগাচ্ছিল। এতটা পথ একটানা প্রায় না থেমেই চলে এসেছে। গা জুড়োচ্ছিল ও। সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দুজনের চোখ জুড়িয়ে আসছিল। দূরে কোম্পানি বাঁধের মাটি পাহাড়ের মতো উঁচু হয়ে উঠে গেছে।
এত পটল আমি গোলায় নিয়ে তুলব কী করে? চাষিরা এরই ভেতর সব দূরে দূরে ছড়িয়ে ছড়িয়ে ক্ষেতে নেমেছে।
এখানেই ভগবান থাকেন?
হ্যাঁ। ওই মাচানে_
ক্যাবলাকার্তিক অমৃত তদ্দণ্ডে মাচানতলার দিকে এগিয়ে গেল। আর সঙ্গে সঙ্গে একজন চাষি ধামা হাতে হা হা করে ছুটে এল। পটল তুলছিল। অমৃতকে আটকাল। হাত-পা ধোয়া? জল সরেছ?
পটল ক্ষেতে তো এমনি ঢোকা যায় না। চাষিরাও খুব পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে ক্ষেতে নামে। বাধা পেয়ে অমৃতর বিশ্বাস আরও বেড়ে গেল। তবে কি এই মাঠটাই একটা আস্ত মন্দির? কোম্পানি বাঁধের ঠিক ওপরে এক চাকা মেঘ গুরুগম্ভীর হয়ে জমে আছে। মাচানের ওপর লতানো শুঁড়গুলো সামান্য বাতাসে লক লক করে উঠছিল। আমি হাত-পা ধুয়ে আসছি। অমৃত এক ছুটে পাশের ডোবায় নেমে গেল।
এখানকার চাষিরা সাধারণত কিছু গম্ভীর। এ আমি আগেই জানতাম। ওদের কোন তাড়াহুড়ো নেই। বললাম, মণ কত করে?
চলি্লশ টাকা করে দেবেন।
আমার সারা শরীর নেচে উঠল। এরা কি বাজারের খবর জানে না? না, এদিকে এখনো ফড়ে এসে পেঁৗছয় নি? তা কী করে সম্ভব? চন্দনেশ্বরের পাইকারি দরই তো এখন এর দ্বিগুণ। কোলে মারকেটে না জানি কী অবস্থা। যত দূর চোখ যায়_শুধু পটল। নিজের গোলায় এত পটলের জায়গা হওয়া সম্ভব নয়। একটা উপায় আছে। আগাম দিয়ে দিয়ে সব পটল দরবন্দী করে আটকাও। তারপর এখান থেকেই লরি বোঝাই দিয়ে শেয়ালদা বাজারে। কিন্তু তাতে অনেক লোকজন চাই। অনেক টাকা চাই।
তাহলে কিছু কিছু আগাম রাখো সবাই।
চাষি ঘুরে দাঁড়াল। মাচানতলায় আমরা কেউ আগাম রাখি না বাবু। যেমন যেমন মাল নেবেন_তেমন তেমন দাম দেবেন। জানতাম। বড় শক্ত জায়গা। এরা ধীরে সুস্থে কথা বলে। এদের গরু-ছাগলের চেহারা অতি ধীরস্থির_পরিপূর্ণ। অবশ্য কারণ একটাই। এখানকার মাটি বাছাই সবজি-পটলে ছয়লাপ করে দিচ্ছে বছরের পর বছর।
এখানকার মাটি, বাবু আমাদের কোনবার ফেরায় নি। তিনি নিঝি এখানে থাকেন_
অর্থাৎ লক্ষ্মী থাকেন? আমার পাশে যে অমৃত কখন হাত-পা ধুয়ে এসে দাঁড়িয়েছে বুঝি নি।
কোনদিকি?
চাষি অমৃতকে হাত ঘুরিয়ে সবটা দেখালো। কোনদিকি নয়? সবটা তুমি নিঝি ঘুরে ঘুরে দেখ। হলুদ ফুল। সবুজ লতা। শসার মাচানে সাদায় সবুজে লাইন টানা জালি পড়েছে। তার ভেতর দিয়ে এক এক কিতা পটল চাষের দীর্ঘ টানা লাইন_সেই একেবারে কোম্পানি বাঁধের গা অবধি চলে গেছে। সেখানে গিয়ে দৃষ্টি হারিয়ে যায়। তার ভেতর দিয়ে ভেতরে দিয়ে অমৃত এগোচ্ছিল। এক-এক মাচানের সামনে দাঁড়ায় আর সম্ভ্রমে চোখ নেমে আসে ওর। কী সবুজ। কী শান্ত। ফুলে ফুলে রেণু কুড়চ্ছে কিছু অক্লান্ত ফড়িং। সঙ্গে আছে একপাল নাম না-জানা পোকা। কচি ডগাগুলো ফিনফিনে বাতাসে হিল হিল করে কাঁপছে।
এদিকে রিঙ্াখানা মাটির রাস্তায় দাঁড়ানো। পেছনে কোন মালিকের নাম লেখা নেই। আমি কোমরে টাকা গুঁজে দাঁড়িয়ে। ওদিকে অমৃত দাশ একেক কিতা পটল ক্ষেত পার হয়_আর একজন দু'জন করে চাষি তার সঙ্গে নেয়। মাচানতলার শিশির তখনো শুকোয় নি। অমৃতের দলটা আস্তে আস্তে ভারী হচ্ছে। তাতে কচি মাথা, কাঁচা মাথা, পাকা মাথা_সব এসে ভিড়ছে। সারা মাঠের মানুষজন কুড়িয়ে নিয়ে ও এগোচ্ছিল। আর ভোরবেলাতেই মাচানতলায় নেমে আসা কুঁচো পাখির ঝাঁক, ওরা কাছাকাছি যেতেই ছররার ধারায় আকাশে ছড়িয়ে পড়ছিল। খানিক উড়েই আবার এক জোটে মাচান বদলে বদলে নেমে পড়ছিল ঝাঁক ধরে।
অমৃত দেখল এখানে ভগবানের কোন শেষ নেই। যতই এগোয় ততই বেড়ে যায়। মনটা কিসে ভরে যাচ্ছে। মাচানে মাচানে কোম্পানি বাঁধ অবধি ছেয়ে আছে। বাতাসে কিসের সুবাস। চাষিরাও এমন সমঝদার পায় নি কোনদিন। ফলন, গাছের বাড়, পুষ্ট ফল_যা কিনা ওদের কাছে আগাগোড়াই ঈশ্বরের আশীর্বাদ_অর্থাৎ সাক্ষাৎ ভগবান_তাই খুব মন দিয়ে অমৃতকে ওরা দেখাচ্ছিল। চষা মাটির ওপর দিয়ে ভারী দলটা নিয়ে এগোতে এগোতে অনেকগুলো মাথার ওপর দিয়ে অমৃত একবার ফিরে তাকাল। পেছনেও সেই একই ছবি। হলুদ ফুল। গুঁড়ো গুঁড়ো পরাগ মাখানো কেশরগুলি ফুলের লাল জন্মভূমি থেকে উঠে দাঁড়িয়ে ভোরের বাতাসে দুলছে। মাচানের পর মাচান ফেলে এসেছে অমৃত। তার শেষে রিঙ্াখানা কত ছোট দেখাচ্ছে। সিটে সাদাপানা একটা মানুষ বসে। ধুতি-পাঞ্জাবি পরেছে। এখান থেকে কুচো কুচো পাখির চেয়েও ছোট দেখাচ্ছে শ্যামলবাবুকে। মানুষটা বড় ভাল। তাঁর জন্যেই ওর আজ এখানে আসা হলো।
এসব দিক থেকেই আমাদের স্টেশনে অনেকে রিঙ্া চালাতে আসে। অন্য অন্য জায়গায় দেখেছি_রিঙ্ার পেছনে রিঙ্ার নাম লেখা থাকে। এখানে লেখা থাকে মালিকের নাম। প্রোঃ অবিনাশ নস্কর কিংবা প্রোঃ দেবু ঘোষ ইত্যাদি লাল রঙে লেখা প্রায়ই এখানকার বাজারে চলন্ত রিঙ্ার পেছনে দেখা যাবে। সিটগুলো ছোট। দুজনে বসলে পেলভিসে লাগবে।
রিঙ্াগুলো সাত-পুরনো। রাস্তা একটু খাড়াই হলেই চেন খুলে যাবে। প্রায়ই লিক নয়ত পাঙচার লেগেই আছে। এমন রিঙ্াও বাদা থেকে আমদানি আনকোরা চালিয়ের হাতে পড়ে_বলা ভালো, পায়ে পড়ে প্রথম প্রথম দিব্যি চলে। ছুটন্ত রিঙ্ায় বসে ওদের পায়ের মাস্ল্ দেখে বুঝতে পারি, লাট অঞ্চলের মানুষটি কতদিন হলো রিঙ্াওয়ালা হয়েছে।
ট্রেন আচমকা বন্ধ হলে ওদের সুসময়। তখন সারা দিনে দশ-বারো টাকা কামানো কিছুই নয়। ফাঁকা রাস্তা ধরে জংশনে পেঁৗছে দিতে পারলে প্যাসেঞ্জাররা অন্য লাইনের ট্রেন ধরে কলকাতায় যায়। দিনের বেলায় অনেক সময় মন্দা যায়। কিন্তু লাস্ট ট্রেনের প্যাসেঞ্জাররা রাত পৌনে বারোটা নাগাদ স্টেশনে নেমে যখন রিঙ্া নিয়ে কাড়াকাড়ি করে_তখন মনে হয়_নাঃ! কাজ বটে একটা। সেই সময় যেসব এলাকায় ইলেকট্রিক যায়নি_সেখানকার প্যাসেঞ্জাররাই বেশি করে রিঙ্া চায়। আসলে রিঙ্ায় চড়া যতটা না দরকার_তার চেয়ে বেশি দরকার অন্ধকার পথে একজন সঙ্গী। রিঙ্াওয়ালারা তা জানে। তাই রওনা দেবার আগে বাতিটা ধরিয়ে নেয়।
এইভাবেই আমার সঙ্গে তরুর আলাপ হয়েছিল। লাস্ট ট্রেনে ফিরলে তরু আমায় পেঁৗছে দিত।
কোলে মার্কেটে আমার সবজি যায়। উচ্ছে, ঝিঙে, পটল, আলু_যখনকার যা_পাইকারি দরে আমি কিনি। কোথাও কোথাও চাষের সময় আমি গাঁয়ে গিয়ে চাষিদের দাদন দিয়ে রাখি। ফসল উঠলে ফসলটা আমার গোলায় জমা দিয়ে চাষি হিসাবপত্র কাটান ছাঁটান করে।
ফলে আমাকে অনেক সময়েই এমন এমন জায়গা যেতে হয় যেখানে বাস নেই। অনেক সময় আমি হেঁটেও যাই। আবার বাস পেলে বাস। রিঙ্া পেলে রিঙ্া। যখন যে রকম। এদিকটায় কোল্ড স্টোরেজ এখনো হয়নি বলে আমার মতো লোকের ব্যবসা খারাপ চলে না। বিশেষত বরবটি আমাকে গত বোশেখে অপর্যাপ্ত পয়সা দিয়েছে।
এদিককার চাষিরা বেশ ভালো ফলায়। কেউ কেউ তো দশ বিঘে অবধি শুধু লঙ্কাই লাগায় এক এক মরসুমে। একদিন অন্তর একদিন দু'মণ তিন মণ শুধু লঙ্কাই আমাকে কিনতে হয়। ইদানীং দেখছি অসময়ের মুলো ভালো পয়সা দিচ্ছে। কলকাতার হোটেলে যে কী না লাগে!
তরু একদিন বলল, 'বাবু আমায় টায়ার কিনে দাও একজোড়া। রিঙ্া চড়িয়ে শোধ করে দেব।'
কত লাগবে?
আঠারো টাকা বিশ পয়সা!
দিলাম আমি। কিন্তু দিয়ে বিপদে পড়লাম। আমাকে স্টেশনে দেখলেই তরু অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে থাকে। কারণ সিম্পল্। আমি চড়লেই তো পয়সা পাবে না ও। ধার কাটান যাবে। কাছে গেলে বলে, ভাড়া হয়ে গেছে বাবু। আমার মতো লোক তো ওর গলায় গামছা দিয়ে পয়সা আদায় করতে পারে না। তাহলে একটা কথা হবে। তা ছাড়া এই চন্দনেশ্বরে আমাকে সবাই চেনে। কেউ কেউ পাট উঠলে পাট রেখে টাকা নেয়। ডাল উঠলে ডাল রেখেও টাকা নেয়। আমার গোলার গায়েই একটা বড় ঘর নিয়েছি। সেখানে আমার রাখী কারবার। জিনিস রেখে আমার টাকা নেয়। দর উঠলে বেচে দিয়ে আমার জায়গায় ভাড়া_সুদসমেত টাকা ফেরত দেয়।
এ জায়গাটি আমার বড় ভালো লাগে। এখানে আমার দেশ নয়। কিন্তু এখন দেশ হয়ে গেছে। এখানে বোস ডাক্তার আমাকে ইঞ্জেকশন দেয়। দুর্গা ডাক্তারের মিকশ্চার আমাদের বর্ষাকালের সঙ্গী। কাছাকাছি ঘোষপুরের মর্তমান কলার মতো অত বড়, অত ভালো কলা আমি কোথাও দেখিনি। এখানকার পঞ্চাননতলায় সারা বছর পুজো, নাম-গান লেগে থাকে। নিশে, পালান ওরা গাঁজা খায়। চোত মাস ভর হরির নাম করে। চরণ মাত্র একটি। হরে রাম হরে রাম_রাম রাম হরে হরে। একটি মাস ধরে গাইলেও পুরনো হয় না। কেউ বা তখন সন্ন্যাস নেয়। পরনের বস্ত্র বাবার রঙে ছোপান। বাবার নাম করে তারকেশ্বরের দিকে পাড়ি দেয়। ফিরে আসে ন্যাড়া হয়ে। হাতে একটি পাঁচ-ছ কিলোর কুমড়ো। সেখানে নাকি সস্তা।
এখানে গমকল আছে। ধানকল আছে। তিনটে অপেরা পার্টি ছাড়াও অ্যালোপাথ, হোমোপাথ সমেত মোট সতেরোজন ডাক্তার আছে। ভোর রাতে ভেড়ির নোনা মাছ এখানেই নিলাম হয়। ট্রেন বোঝাই দিয়ে এখানকার তাড়ি কলকাতায় যায়। তাতে ব্যবসায়ীরা স্যাকারিন মিল্ক পাউডার আর খালের জল ইত্যাদি মেশায়। এখানকার লোক ও তাড়ি খাবে না।
বরং কলকাতার বাসি সিনেমা এখানকার হলে লোক লাইন দিয়ে দেখে। গাদা গাদা আলুর চপ আর বিড়ি পাতার দোকান রাস্তার দু'ধারে। সম্প্রতি একটি ব্যাংক হয়েছে। ব্যাংকবাড়ির এক তলায় একটি সুন্দর কাপড়ের দোকানও হয়েছে। মিষ্টির দোকানে রসগোল্লা যত ছোট হচ্ছে_দামও তত বাড়ছে। রবিবার সকালে পিচ রাস্তার গায়ে মোটা তে-পলতের ডালে পাঁঠা-খাসির ছাল ছাড়িয়ে টাঙিয়ে দিয়ে বিক্রি হয়। কলকাতার চেয়ে কেজিতে পঞ্চাশ পয়সা কম।
নতুন নতুন লেদ মেশিন বসেছে। কাছাকাছি সারের দোকান। বিষের দোকান। কেরোসিন মাঝে মাঝে হাওয়া হয়। সরষের ঘানি আছে। খাঁটি কলম্বোর নারকেল তেল বারো টাকা কেজি। একখানা হাল বর্ষায় পাঁচ-ছ টাকা। বোরোতে সাত টাকা অবধি ওঠে। সরষের খোল ষাট পয়সা_গরুর ভূষির কেজি এক টাকা। চিনি নেই। একজন ডেকরেটর আছে। বিয়ে শ্রাদ্ধ সে একাই সামলায়। একটা ছাপখানা ছিল। কোশ্চেন আউট হয় বলে পুলিশ এসে বন্ধ করে দিয়েছে।
তিনটে প্রাইমারি একটা উচ্চ মাধ্যমিক ছাড়াও দুটো টিউটোরিয়াল হোম আছে। একটির সাইনবোর্ডে পরিষ্কার লেখা আছে_টাকা অনুযায়ী গ্যারান্টিসহ ফার্স্ট ডিভিশনে, সেকেন্ড ডিভিশনে এবং থার্ড ডিভিশনে পাস করানো হয়। গ্যারান্টিসহ ফেল করানো হয়_এ কথা শুধু লেখা নেই।
নানান দোকানের বারান্দায় ঘুগনি বসে রাত আটটার পর। তার সঙ্গে চোলাই চলে। প্রকাশ্যে কোনো বেশ্যালয় নেই। সৌণ্ডিকালয় একটিই। মালিক একজন মুখার্জী ব্রাহ্মণ। কু-লোকে বলে দেশিতে তিনি ভুরি পরিমাণ জল মেশান। শ্মশান এখান থেকে আট মাইল। টি বি হলে লোকে কলেজে যাওয়ার চেষ্টা করে। বেশির ভাগই সিট পায় না।
মুড়ি-মুড়কির যুবাবয়সী দোকানদার মৌজা দিয়ে পাম্প-সু পরে বিয়ে করতে যায়। বউ নিয়ে ফেরার পথে রিঙ্া-সাইকেলের পেছনে পেছনে ব্যান্ডপার্টি যায় গাঁয়ের পথ দিয়ে। নতুন খড় উঠলে কাহন ষোলো টাকা। একজোড়া ভালো বলদ আট শ টাকা। পুরনো ধানের বস্তা আশি টাকা অবধি ওঠে। জল দেবার পাম্প ভাড়া এক ঘণ্টা চার টাকা পর্যন্ত।
ফটো তোলার ফটো বাঁধাইয়ের দোকান একটিই। কংগ্রেস, সি পি আই, সি পি এম নিত্যপদশ্রী নামে একটি জুতোর দোকান বসেই আড্ডা দেয়। খদ্দেরদের তাই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই জুতো বাছাই করতে হয়। বালি, সিমেন্ট কোনোটাই ন্যায্য দামে পাবার উপায় নেই। লোকাল তামাকে দোকানে গুড়ের ভাগই বেশি মেশায়।
দুটি ইটখোলায় রাঁচি, পুরুলিয়ার মেয়ে-পুরুষ খাটতে আসে ফি'বছর। তারাই স্টেশনারি দোকানগুলোর সস্তার মালপত্র কিনে কিনে দোকানগুলো বাঁচিয়ে রেখেছে। ওরা মাস সাতেক থাকতে থাকতেই ইটখোলাতেই মুরগি পোষে, ডিমে তা দিয়ে ছানা করায়_সেসব জিনিস বাজারেও আসে।
তা ছাড়া শীতকালে ধানক্ষেতে ভেড়িতে কাদাখোঁচা ডৌখোল বেলেহাঁস ধরা পড়লে আজাহার মোল্লা সর্বাগ্রে আমার কাছেই নিয়ে আসে। ছ-সাতজন ওয়াগন ব্রেকার ছিল_তার বেশির ভাগই এখন ফেরার_দু-একজন ধরা পড়ার পর মার খেয়ে পুলিশ হাসপাতালে।
এই হলো গিয়ে আমাদের চন্দনেশ্বর। একটু এলোমেলো করে বলা হলো। তা হোক এখানে সবই সব সময় নিজের কোলে ঝোল টানতে ব্যস্ত। তা তো সব জায়গাতেই। কোথায় বা না? কেউ কেউ জমি কেনাবেচা করে দু'পয়সা করছে। বিধবা কিংবা নাবালক অনাথের সম্পত্তিও মাঝেমধ্যে বেহাত যে হয় না তা নয়। কেউ নারকেল গাছ সদরে জমা দিয়ে দেয়। কেউবা পুজো-আচ্চার দিন এক কাঁদি ডাব পেড়ে নিয়ে বাজারের মুখে এসে বসে। বেচে পয়সা দিয়ে বাজারহাট করে বাড়ি ফেরে।
তা তরু আমাকে ঠকিয়েছে তাতে আমার কোনো দুঃখ নেই। মানুষই তো মানুষকে ঠকায়। আমি তো বউ-ছেলে-মেয়ে নিয়ে না-খেয়ে-পড়ে নেই। কিন্তু ও আমায় রিঙ্ায় তোলে না। কেন? মুখ ঘুরিয়ে থাকে। আমি ওকে নতুন করেই আবার ভাড়া দিতাম। ব্যাপারটা আমার অপমান লাগে। কাজের মধ্যে থাকি। ভুলেও যাই আবার। ঢ্যাঁড়সটা এবার সময় মতো ধরতে পারলে পয়সা আছে।
রাত ন'টার ভেতর গোলায় চাবি দিয়ে বাড়ি ফিরলাম। দেখি গিনি্ন আমার আয়না ধরে পাউডার ঘষছে মুখে। বড়ছেলে বলল, যাত্রা দেখতে যাচ্ছি বাবা। কৃষ্ণ-শকুনি পালার টিকিট দিয়ে গেছে। আমার বউ বিয়ের আগে গড়িয়াহাটার মোড়ে ব্লাউজ কিনেছে। আলেয়ায় সিনেমা দেখেছে। এখানেও নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে বেশ। অনেকে ওকে দিদি ডাকে। বউদি ডাকে। পাশ থেকে দেখলে খুব সুন্দর দেখায়। আজও দেখাচ্ছিল।
আমিও গেলাম যাত্রা দেখতে। সামনের দিকে বসেছি। একেবারে প্রথম সারিতে বাজনদাররা বসেছে। দেখি তার ভেতর তরু মুখ লুকিয়ে ফ্লুট বাজাচ্ছে। সব বাজনা থামলেও তরুর ফ্লুট সুরেলা গানের দোলটুকু সবার মনে চারিয়ে দিচ্ছিল। ওর যে এত গুণ জানতাম না। যাত্রায় মেতেছে। তাই আজকাল আর রিঙ্া চালাতে দেখি না।
যাত্রা ভাঙল রাত চারটেয়। আগে বেরিয়ে একখানা রিঙ্া ধরলাম। বললাম, আমার বাড়ি চেনো তো_
না বাবু।
অল্প আলো। মুখখানা দেখতে পেলাম না রিঙ্াওয়ালার। ডিরেকশন দিয়ে দিলাম। মেয়েদের পেঁৗছে দিয়ে রিঙ্াটা ফিরতি পথে আমাকেও পেঁৗছে দিল। নির্জন পথ। শেষ রাতের চাঁদ সব জায়গায় আলো দিতে পারেনি। ঢোল-কলমির ঝোপ-ঝাড়ে জোনাকি_উঁচু-নিচু, উঁচু-নিচু। একটু বেশি ভাড়া দিতে গেলাম। রিঙ্াওয়ালা রিফিউজ করল। যা লেয্য তাই দিন।
রিঙ্াটা চলে যেতে পেছনে কারও নাম লেখা দেখলাম না। কার রিঙ্া বোঝারও উপায় নেই। রিঙ্াওয়ালার মুখও ভালো করে দেখিনি। লাট অঞ্চল থেকে লোকটা বোধ হয় নতুন এসেছে।
একদিন ঝড়ে দেবেনের গমকলের তিনখানা টিন উড়ে গেল। আরেকদিন পঞ্চাননতলায় পুজো দিতে গিয়ে চাকবেড়ের এক মেয়েছেলের ওপর ভর হলো। আমাদের চন্দনেশ্বরে এই সবই হলো খবর। মাঝেমধ্যে শেষ রাতে ডাকাতি হয়ে যাওয়ার খবরও আসে। দূর দূর গাঁয়ে।
লরি থেকে উচ্ছে উঠছিল গোলায়। সকালবেলা। পেমেন্ট দিয়ে বসে আছি। লোক থাকলেও নজর রাখতে হচ্ছে লরির দিকে। বছর ছত্রিশ-সাঁইত্রিশের একজন লোক সোজা আমার কাছে এসে বলল, বাজার ভেঙে গেছে বাবু। আড়াই শ ঢ্যাঁড়স দরকার ছিল বড়_একজন কুটুম্ব এসে গেল।
আমার এখানে তো খুচরো চলে না বাবা। আর কিছু বললাম না। আমি তালগাছতলায় পাইকারি দরে বিলিতি আমড়া কিনে ব্যবসা শুরু করেছিলাম। খুচরো কিনতে লোক পাঠিয়ে বড় বড় ব্যাপারিরা দরের আন্দাজ নেয় আমি জানতাম।
লোকটি বলল, যাত্রা দেখে আপনি ফিরলেন। আমি পেঁৗছে দিলাম বাবু।
ওঃ। তোমার রিঙ্া ছিল। তাইতো। নিয়ে যাও_পয়সা দিতে হবে না।
বিনে পয়সায় নেব না।
অতএব ওজন করে পয়সা নিয়ে আড়াই শ ঢ্যাঁড়স দিতে হলো। চলে যাচ্ছিল। ডেকে বললাম, তোমার নাম কি গো?
অমৃত। অমৃত দাশ।
তুমি তো এখানকার লোক নও।
নারকেলবেড়ে আমাদের বাড়ি। আমি মাস তিনেক হলো এদিকে রিঙ্া চালাচ্ছি।
তোমার রিঙ্াখানা ভালো করো। আমি টাকা দিচ্ছি। চড়িয়ে চড়িয়ে শোধ করে দেবে।
টাকার দরকার নেই। রিঙ্া আমি বানাতে জানি।
তাহলে অনেক রিঙ্া বানিয়ে ভাড়া খাটাও।
আমি আর বাড়াব না। আটখানা রিঙ্া বানিয়েছিলাম একে একে।
সেসব রিঙ্া কোথায়?
আজ এটা ভাঙে। কাল ওটা ভাঙে। অন্য যারা চালায় তাদের সব দিয়ে দিয়েছি। এই একখানা নিজের জন্য রেখেছি। যেমন পয়সা আসে তেমন দিন কাটে। রান্নাটা চড়িয়ে দিইগে। ঘরে লোক আছে। বিকেলে এসে কথা বলব বাবু।
তোমার বউ ছেলে-মেয়ে কোথায়?
সে-কাজটা করা হয়নি বাবু।
মনে মনে ভাবলাম, অমৃতর কোনো রোগবালাই থাকতে পারে। তাই হয়তো বিয়ে হয়নি। রিঙ্া চালিয়ে চালিয়ে অনেকের কাশ রোগ হয়। লোকটা বিবেচক। অসুখ সুদ্ধ বিয়ে করে আরেকটা মেয়ের সর্বনাশ করেনি। চেহারাটা ক্ষয়াটে চোখ জ্বল জ্বল করছে। হাফশার্টের নিচে লুঙ্গি। কোমরে গামছা প্যাঁচানো। তোমার অসুখটা কিসের বাবা?
অসুখ? আমি নীরোগ বাবু। স্টেশনের কলের পরিষ্কার জল খাই। শিবুর দোকান থেকে আটার রুটি কিনি_সঙ্গে ডাল দেয়। চলে যায়।
তবে বিয়ে করোনি কেন?
অমৃত মাথা নিচু করে যা বলল, তা আমার কাছে স্রেফ ন্যাকামি বলেই মনে হলো। পরিষ্কার বলল, কত লোকের দুঃখ বাবু। কত অসুখ। কত শোকতাপ। এসব দেখে আর বিয়ে করা হয়নি। আমি তাই যতটা পারি লোকের দুঃখু কমাবার চেষ্টা করে যাচ্ছি। যদি কোনো শেকড়বাকড় জানতাম_তাহলে এই চন্দনেশ্বরের সব জ্বালা যন্ত্রণার আমি একাই উপশম করতাম। আমি যাই বাবু। রান্না চড়াতে হবে_
এ যে দেখি ভালো ভালো কথা বলছে! শাপভ্রষ্ট রিঙ্াওয়ালা! এই যে বললে দোকান থেকে কিনে খাও_তবে রান্না চাপাচ্ছ যে!
আমার তো চলে যায় বাবু। গরমকালে রাতের বেলা প্লাটফর্মে শুয়ে থাকি। রেলপুকুরে চান করি। ঘর একখানা নেওয়া আছে। অবশ্য ঝড়-বৃষ্টির জন্যে। কিন্তু মাঝেমধ্যে কলকাতা যাওয়ার পথে দেশগাঁয়ের রুগীরা আমার ঘরে আশ্রয় পায়। এনার আবার পেটে ঘা। বিকেলের গাড়িতে কলেজে ভর্তি হতে যাবে। দোকানের রান্না সয় না বলে আমি রান্না করে দিচ্ছি। দুটো ভাত ফোটান হয়ে গেছে।
অল্প বয়সে কোনো গুরুতর পাপ করেছিলে?
খানিক ভেবে অমৃত বলল, মনে তো পড়ে না। তবে খুব ছোট বয়সে একটা বিড়ালকে এক হর্তুকি গাছের গোড়ায় বেঁধে রেখে সে গাছের গায়ে ইয়া লম্বা এক মৌচাকে ঢিল মেরেছিলাম। বিড়ালটা মারা যায়।
দেখতে দেখতে অমৃতের চোখের কোণে জল এসে গেল। তাকে যদি পাপ বলেন_তাহলে করেছি।
না। না। সে রকম না। জ্ঞান বয়সে খুব কোনো পাপ করেছিলে? সেই অনুতাপে এখন_
মনে তো পড়ে না_
কাজে থাকি। কাজে ঘুরি। অমৃত আমার মন থেকে একদম মুছে গেল। গঞ্জ-গাঁয়ের মতো এই চন্দনেশ্বরে আমি খুব কম লোককেই হাত তুলে করজোড়ে নমস্কার করি। কিন্তু কী হলো ঠিক বলতে পারব না। পথে-ঘাটে আচমকা অমৃতের মুখোমুখি হলেই আমি দু'হাত তুলে নমস্কার করে ফেলি। অমৃতও লজ্জায় মাথা নোয়ায়। মুখের হাসিটা নির্মল। সেই লুঙ্গি, সেই হাফশার্ট, কোমরে গামছা_মাঝে ধ্যে গালে দাড়ি। বলি, কেমন আছো?
খুব ভালো বাবু। খুব সুখে আছি। যেমন চালাচ্ছেন তিনি তেমন চলছি।
তোমার রিঙ্া কেমন চলছে?
সামনের চাকাটা ফিরে ফিরে লিক হচ্ছে বাবু। তা আমি নিজেই সারিয়ে নিই। যন্ত্রপাতি সব আমার নিজের আছে।
গঁাঁজাখোর নিশি, পালান, যদু একদিন আধ মণ মুসুরির ডাল চাইতে এলো। বাজার-সুদ্ধু সবার কাছে চায় ওরা। কাঙালি ভোজন করাবে।
বললাম, তোরা নিজেরাই তো কাঙালি।
ওরা হেসে মাথা নেড়ে বলল, না বাবু। আমরা খুব সুখে আছি। ভগবানের কৃপায় কোনো অভাব নেই আমাদের।
অভাব বুঝবে কোত্থেকে? সারা দিন তো গাঁজার ওপর আছো। ডাল দিতে পারব না। আধমণ আলু পটল দিয়ে দিচ্ছি। তাই নিয়ে যাও।
ওরা তাতেও রাজি। ছাতা পড়া পচা-ধচা কিছু আলু পটল বিদেয় হওয়ায় গোলায় জায়গা হলো।
ওরা যাবার সময় বললাম, তোদের দলে অমৃতকে নিসনে কেন?
কে অমৃত?
রিঙ্া চালায় অমৃত দাশ_
ক্ষ্যাপা অমৃত। ওর কথা বলবেন না বাবু। আমরা নাম-গানে ডেকেছিলাম। কিন্তু ওনার সময় নেই। এক একদিন খালি রিঙ্া চালিয়ে একেদিক যায়! নির্জন জায়গায় নাকি ভগবানের খোঁজ করে_বুঝুন ব্যাপার! প্যাসেঞ্জার ফিরিয়ে দেয় তখন।
গোলা বন্ধ করে বসে আছি। লাস্ট ট্রেনে বারো বোঝা মোচা যাবে কোলে মার্কেটে। কিছু এঁচোড় আছে। পেঁপে আছে। থোড় আছে দু'বস্তা। ভেন্ডার কামরায় মাল তুলে দিয়ে তবে বাড়ি ফিরব। খুব গুমোট যাচ্ছে ক'দিন। এমন সময় খালি রিঙ্া নিয়ে অমৃত এসে হাজির। চলুন ঘুরে আসি বাবু।
কোথায়?
এই সুদের চর অব্দি যাব। জোছনায় ফিরে আসব।
আমার যে মাল ওঠেনি ট্রেনে।
তুলে দিয়ে চলুন।
ট্রেন যে আসেনি।
এলে যাবেন।
কৌতূহল ছিল। ট্রেন এলো। বোঝাগুলো তুলে দিয়ে অমৃতের রিঙ্ায় উঠে বসলাম। আমি কিন্তু এক পিঠের বেশি ভাড়া দিতে পারব না। হাঁটতেও পারব না।
আপনাকে কিছুই দিতে হবে না। এখন একটা বাতাস দেবেন ভগবান। রিঙ্া ঠেলে তিনিই সুদের চরে নে যাবেন। আমার কিছু করার থাকবে না। একেবারে পাল টেনে লৌকোর মতো টেনে নে যাবেন।
মনে মনে ভাবলাম, সুদের চরে ঝিঙে-শসা_নানান সবজির বড় চাষ হয়। চোখে দেখে আসা যাবে। এখন রোদের তাত লাগার ভয় নেই। দিব্যি ফিকে জ্যোৎস্না উঠেছে।
সত্যি। রিঙ্াখানা বাতাসেই ঠেলে নিয়ে চলল। অবশ্য অমৃতর প্যাডল করতে হচ্ছিল। ছ'মাইল রাস্তা তো কম নয়। কিন্তু আধঘণ্টাও বোধ হয় লাগল না।
একদা বিদ্যাধরী এই বিরাট তল্লাটের ওপর দিয়ে বয়ে যেত। এখন নদী নেই। তার বিরাট চর জেগে আছে। জল শুকিয়ে গেছে শ'পঞ্চাশ বছর আগে। নির্জন চরের ওপর শসা, ঝিঙে_নানান সবজির মাচান। লতায় লতায় জায়গাটা জঙ্গল হয়ে আছে। আমি রিঙ্ায় বসে রইলাম। অমৃত দিব্যি দু'খানা মাচানের পাশ কাটিয়ে একটা ঢিবি মতন জায়গায় উঠে ডাকল আমায়, চলে আসুন_এখান থেকে ভগবানকে দেখার খুব সুবিধে_
আচ্ছা পাগলের পাল্লায় পড়া গেছে। চাষিরা সন্ধেরাতে ঘুমোয়। এবার জেগে উঠে পাহারা দিতে এসে আমাদের এ জায়গায় পেলে আচ্ছা ঠ্যাঙান ঠ্যাঙাবে। তবু অমৃতের ডাকাডাকিতে যেতে হলো। চোরের উপদ্রব বলে সবজি চাষিরা কাঁটাসুদ্ধ বাবলা ডাল ছড়িয়ে রেখেছে। অনেক কষ্টে সেসব পার হয়ে ঢিবিতে উঠলাম। এখন ফিরে চল অমৃত। আর বলতে পারলাম না_আমার গিনি্ন রাতে আমার সঙ্গে খেতে বসেন। ঢুলু ঢুলু চোখে আমরা দু'জনে লুচি দিয়ে ক্ষীর মুড়ি খাই। রাতে ঝোল ঝাল ইদানীং আর সয় না। তাই মাছভাজা থাকে। তিনি এতক্ষণ নিশ্চয় বসে আছেন।
এখানে আসুন না। দেখবেন একটা জিনিস।
কোথায় কী! দু'ধারে দু'সারি বড় বড় তালগাছ_তার ভেতর দিয়ে পাতলা মেঘ মাখান একফালি অপুষ্ট চাঁদ উঠেছে!
দেখেছেন?
কী দেখব?
বুঝলেন না!
কী বুঝব? পায়ে ততক্ষণে লাল পিঁপড়ে উঠে কামড়াতে শুরু করেছে। হাত দিয়ে পিঁপড়ে ডলে ডলে মারছি আর ভাবছি, কোথায় কী! ফাঁকা মাঠে চাঁদ দেখাচ্ছে শুধু। এ তো বাজারে বসেই দেখা যেত। কিন্তু ওর মুখ দেখে মনে হয়, ও সত্যিই কিছু দেখার জিনিস পেয়েছে। হবেও বা। আমরা পাপ মন বলেই কিছু দেখতে পাচ্ছি না। সারা দিন আলু পটল ঝিঙে উচ্ছে করে বেড়াই তো। যাক গিয়ে। ছেলে-মেয়ের বিয়ে দিয়ে বুড়োবুড়ি কাশী যাব_এ তো ঠিক করাই আছে। তখন সকাল সন্ধে গঙ্গা চান করে সব পাপ ধুয়ে ফেলব। অমৃতের এখনকার সব পুণ্য আমি তখন এক একদিনে কিনব। মায়ের নামে নীলমণি কর বিদ্যালয়ে একটা বারান্দা করে দিয়েছি গত সনে। চুন-সুরকির গাঁথুনি। ভেতরে মাটি। ওপরে এক পটি ইট আজ মেরে দিয়েছি। চাঁদের চারদিকে একটা নীল লাইন দেখছেন?
জিনিসটা আমি জানতাম। আমার গিনি্ন শিখিয়েছে আমায়। ওর নাম চন্দ্রসভা। লাইনটা চাঁদের যত কাছাকাছি হবে ততই বৃষ্টির দিন নাকি এগিয়ে আসে। বৃষ্টি হওয়া খুব দরকার। মাঠের পর মাঠ জ্বলে যাচ্ছে।
ওটা হলো গিয়ে ভগবানের দুঃখ। সারা জগতের জন্যে তার গা দিয়ে কেমন মায়া মমতা জমা হয়েছে দেখুন।
কচু। আর ক'দিন পরেই বৃষ্টি হবে তাই। অমৃত এবার ফিরে চল বাবা। রাত বাড়ছে। ফিরতি পথে ছেনতাই হতে পারে। আমার হাতে ঘড়ি রয়েছে_
চাইলে দিয়ে দেবেন। আপনার তো আটকাবে না। আবার হবে।
মনে মনে বললাম, কী অলক্ষুণে লোক রে বাবা! আমি একা একা রিঙ্ায় এসে বসলাম। ও আরও খানিকক্ষণ ভগবান দেখে তবে ফিরে এলো।
হ্যাঁ রে তোর ভগবান দেখতে কেমন?
খুব ফরসা। গায়ে খুব সোন্দর গন্ধ।
ফেরার পথে ভগবান বাতাস না দেওয়ায় বেশ বেগ পেতে হলো অমৃতকে। রাস্তা তো কম নয়। বাড়ির সামনে নেমে ওকে তিনটে টাকা দিতে গেলাম। জিব কেটে রিঙ্ার হ্যান্ডেল ঘুরিয়ে নিল। আপনি সঙ্গে না থাকলে দেখাই হতো না।
ক'দিনের ভেতর পটলের দর যে এত লাফাবে জানতাম না। কেজি আশি পয়সা থেকে এক লাফে তিন টাকা। সামান্য বৃষ্টিতে নিচু জমির পটল নষ্ট হয়ে গেল। ডাঙা জমির পটল তখনও পুষ্ট হয়নি। ভাঙলে ভেতরটা খোকাখুকুর বার্লির রং এখনো কাটিয়ে ওঠেনি। তাই দূর দূর গাঁয়ে পুষ্ট পটলের খোঁজে ছুটে বেড়াচ্ছি। বড় একটা অর্ডার ছিল।
সেই সময় একদিন বিকেলে অমৃত এলো। মুখখানা শুকনো। আকাশ জুড়ে গাঢ় মেঘ থাকায় ওর ক'দিন ভগবান দেখা হয়নি। বাস স্ট্রাইক বলে আমারও আজ বেরোনো হয়নি। মন-মেজাজ ভালো ছিল না। এমন সময় গোলায় ঢুকে বেচারা প্রথমেই আমার ধমক খেল।
খাটের নিচে বসে হাজরা নস্কর থাবা দিয়ে দিয়ে আরশোলা ধরছিল তখন। আলুর বস্তা, পটলের ডাঁই, ঝিঙের ডালা-গোলার ভেতর অন্ধকারে যেখানে যত আরশোলা ছিল_সব তাড়িয়ে হাজরা খাটের নিচে এনেছে। থাবা দিয়ে ধরছে আর পলিথিনের ব্যাগে পুরছে। মাঝরাতে বঁড়শিতে এই আরশোলার টোপ গেঁথে ব্যাঙের গর্তের মুখে ধরবে। আর অমনি ব্যাঙ লাফিয়ে এসে টোপ গিলবে। তখন কপাৎ করে ব্যাঙটা ধরে কোমরে ঝোলানো মাটির কলসির ভেতরে পুরবে। সকালে আড়তে সাপ্লাই দেবে চার টাকা কেজি। এই করে এখানকার অনেকে এখন সংসার চালাচ্ছে। ভালো কল বেরিয়েছে। বাজারে লোকে বলাবলি করে, ব্যাঙের কী ভাগ্য।
চন্দনেশ্বরের ব্যাঙ এরোপ্লেনে উঠে বিলেত আমেরিকা যাচ্ছে। সাহেব-মেমেদের ভাতের পাতে এদের বড় আদর।
অনেক ধানাইপানাই করে অমৃত বলল, এটা কি ঠিক হচ্ছে বাবু? এই যে ব্যাঙগুলো খুন হচ্ছে_আর আপনার গোলা থেকে টোপের আরশোলা যাচ্ছে_
খাটের নিচু থেকে ঝুলকালি মাখা হাজরা মারমূর্তি হয়ে বেরিয়ে এল। হাত-দা খানা উঁচিয়ে বলল ভগবানের ব্যাটা, আরেকটা কথা বললে তোমায় কোপাব। দেশসুদ্ধ অ্যাতোগুলো পেট তুমি খাওয়াতে?
মাঝখানে পড়ে দু'জনকে আলাদা করে দিলাম। হাজরাকে বললাম, তোমার কাজ তুমি করো গিয়ে। মনে মনে আমি খুশি। ব্যাটাচ্ছেলের ভগবানবাজি কিছু থামবে এখন। আর হাজরাও নিখরচায় আমার গোলা আরশোলা-শূন্য করে দিচ্ছে। লোক দিয়ে করাতে গেলে নিদেন দুটো লোকের মজুরি যেত।
হাজরা খাটের নিচে ঢুকে যেতেই অমৃতর মুখ আবার প্রসন্ন হয়ে উঠল।
আপনি সেদিনকার আগে কখনো ভগবান দেখেছেন?
কী আর বলব! সেদিনও আমি ভগবান দেখিনি। তার আগেও কোনদিন দেখিনি।
ভগবানের কথা কখনো ভেবেছেন মন দিয়ে?
এরও জবাব দেওয়া যায় না। ভগবানের কথা ছোট বয়স থেকে মাঝে মাঝে অবশ্য ভেবে এসেছি। মনে আছে স্কুলে যাবার পথে আচমকা পেট ধরে বেগ এলে ভগবানের নাম করেছি। বললাম, কিন্তু অমৃত তুমি সে রাতে ওখানে ভগবান দেখলে কোথায়?
কেন? সবটা জায়গা জুড়েই। গদগদ হয়ে বলল, এমন আলো। অমন ছায়া।
আমি আর থাকতে পারলাম না। প্রায় ভেঙিয়ে উঠলাম, অমন তালগাছের সারি_
ও ভাবল, আমি বুঝি ওর সাপোর্টার। তাই আদৌ সন্দেহ না করে প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই বলল, তার ভেতর দিয়ে_
এমন তদগত লোককে বেশিক্ষণ ভেঙানোও যায় না। আমিই মানে মানে মনের ভেতরে রণে ভঙ্গ দিলাম। বিকেল বেলা। পথ দিয়ে খড়ের তড়পা বোঝাই গো-গাড়ি যাচ্ছে। সত্যিই তো, আমি কি কোনদিন ভগবানের কথা ভেবেছি? ভগবান নিশ্চয় কোন উঁচু চেয়ারে বসেন। অসময়ে অজাগায় বেগ এলে তাঁকে যেমন ডেকেছি, বেগ চলে গেলে বেমালুম ভুলে গেছি। এ জন্য তিনি কি রাগ করে আছেন? সে-জন্যেই কি পটলের ফড়েদের সঙ্গে আজ আমি গোলদার হয়েও হেরে যাচ্ছি?
স্কুলে থাকতে অঙ্ক পরীক্ষার কদিন তাঁকে ডেকেছি। সিমপ্লিফিকেশন আর ইউনিটারি মেথডের অঙ্ক দুটো বাইরে থেকে সাপ্লাই আসার পর তাঁকে ভুলে গেছি। রেজাল্ট বেরবার আগে কতবার ভেবেছি_আমি কি ম্যাথামেটিকসে তিরিশ পাব না ভগবান? হাত তিন টুকরো ইট নিয়ে সামনের লাইট পোস্টে ছুঁড়তে গিয়ে ভেবেছি_প্রথম টুকরোটা যদি পোস্টটার গায়ে লাগে তাহলে আমি পাস। যখন একটাও লাগল না_তখন মনে মনে বলেছি, নিশ্চয় পাস করব। ভগবান আছেন না!
এখান থেকে মাচানতলার রাস্তা তা আট মাইল হবে। উত্তর দিকে তেমন কোন বড় জায়গা নেই বলে সবাই বলে চন্দনেশ্বরের মাচানতলা। এ তল্লাটে সবচেয়ে ভাল পটলের জমি ওদিকটায়। আজ বাস স্ট্রাইক বলে কোন ফড়ে বা ব্যাপারি মাচানতলার মাঠে পেঁৗছতে পারবে না। বললাম, এক জায়গায় যাবে অমৃত?
কোনদিকে?
ভগবানের খোঁজ সবদিকেই করতে হয়_এ কথাটা মানো তো?
নিশ্চয়ই। তিনি তো সব জায়গায়।
তাহলে তুমি পঞ্চাননতলায় গিয়ে নিশি, পালান ওদের সঙ্গে বসে ঠাকুরের থানে নাম-গান কর না কেন?
আমার গানের গলা নেই বাবু। তাছাড়া অমন হাউ-মাউ করে পাড়া জাগিয়ে রেখে ভগবান ভগবান করা আমার ঠিক পোষায় না বাবু। আমি মেলাতে পারি না ওদের সঙ্গে। আপনি কোন্দিকির কথা বলছিলেন?
যাবে? উত্তুর। ফাঁকা চর জায়গা। ভুঁইয়ে ডাঙা জমিতে অঢেল পটল। তার ওপর যত দূর তাকাবে মাচান তুলে দিয়ে দিয়ে চাষিরা শসা করছে, ঝিঙে করছে, লাউ করছে_এ রকম প্রায় সারা বছরই চলে। জায়গাটায় গেলে চোখ জুড়োয়।
খুব নির্জন?
ভীষণ? দূরে দূরে দূরে চাষিরা খোন্তা দিয়ে নিড়েন দিচ্ছে। কোপ দিচ্ছে। ঘাস আগাছা তুলছে। অনেক পেছন দিয়ে কোম্পানি আমলের উঁচু বাঁধ চলে গেছে।
এখন যাবেন?
রাত হয়ে যাবে যেতে যেতে। কাল খুব ভোরে রিঙ্া নিয়ে আয়। রাত থাকতে বেরোব।
বেশ।
কিন্তু_
আমি চুপ করে আছি দেখে বলল, কী বাবু?
না তেমন কিছু না। কিন্তু অমৃত, তোর তো ব্যবসা নষ্ট হবে। সকালের প্যাসেঞ্জার সব হারাবি। আমিও যাতায়াত ষোল মাইল একটা পয়সা দিতে পারব না। ভগবান দেখিয়ে বেড়ানো তো আমার কারবার নয়।
আপনি দেবেন কেন? কাজের ক্ষেতি করে যাচ্ছেন এই তো যথেষ্ট। আমার পয়সার কথা ভাববেন না। ফিরে এসে গাড়ি বের করলেই পয়সা হয়ে বেশি হয়ে যাবে_
তোর টাকাকড়ি রাখিস কোথায়?
সেই তো এক মুশকিল হয়ে গেছে। কিছু খুচরো আর নোট পাহারা দিতে গিয়ে মনটা খিচড়ে যায় বাবু। আমার তো বিশেষ কোন খরচা নেই। তাই বেশ জমে গেছে এ ক'মাসে। দু'তিনশো টাকাতো হামেশা হাতে থাকে।
আমার কাছে রেখে যাবি। দরকার মতো নিবি।
খুব ভাল হয় বাবু। তাহলে মনটা সরল রাখতে পারি।
আমারও একটা সুবিধা ছিল। গোলায় পয়সা বিশেষ রাখি না। কাজের লোকেদের হাতটান আছে। বাড়িতে নোটের তাড়া রেখে দেখেছি_গিনি্নর খুব সুবিধে হয়। খরচ করে দিয়ে বলে, তুমি আমার কোন্ শখটা রেখেছো? এরপর কিছু বলা যায়! ব্যাংকবাড়িটা হয়ে আমাদের মতো লোকের খুব সুবিধে হয়েছে। এলোমেলো খরচার ভয় নেই। আমার আসলে নিজের টাকা ভাঙাতে বড় গায়ে লাগে। অমৃত যদি রেখে যায়_তাহলে রোজকার কারবারে টাকাটা ঘুরবে।
তাহলে কাল সকালেই আসিস। মাচানতলা যাওয়ার আগে বাড়িতে রেখে যাব।
কলকাতার ফার্স্ট লোকাল তখনো আসেনি। আকাশে চাঁদ থাকতে থাকতে প্রায় শতিনেক টাকা গুনে গেঁথে ধুতিতে বেঁধে নিলাম। তারপর রিঙ্ায় বসে বললাম, নে এখন চালা অমৃত। দেখি কত জোরে তোর গাড়ি যায়।
এখন বাবু, ভগবান বাতাস দেবেন। পাখির মতো উড়ে যাব।
ভগবানের নিকুচি করেছে। কিন্তু এসব কথা তো জোরে বলা যায় না। যাতায়াত ষোল মাইল বিনে ভাড়ায় ওরই রিঙ্ায় যাব। ওরই টাকায় দরকার হলে চাষিদের পটল বাবদে আগাম দেব। ভোর রাতে ঠাণ্ডা বাতাস ভালই লাগছিল।
আকাশ ফরসা হওয়ার মুখে মুখে চন্দনেশ্বরের মাচানতলায় গিয়ে হাজির হলাম। এত ভোরে এদিকে আসিনি। রিঙ্া থেকে নেমে দাঁড়িয়ে পড়লাম।
পিচ রাস্তা থেকে গাছপালার আড়াল দিয়ে বাঁক নিয়ে মাটির রাস্তায় পড়েই খানিক এগিয়ে এই মাচানতলা।
চর জায়গা। বেলে মাটি হবে। ছ'সাত মাইল জুড়ে ভুঁইয়ের ওপর পটল চাষ। পাতায় পটলে মিশে আছে। এক এক কিতা চাষ আর তার পাশ দিয়ে শসা, ঝিঙের মাচান_সবুজ সবুজ_উঁচু-নিচ_যত দূর চোখ যায়। পাশেই কাছাকাছি চাষিদের গাঁয়ের আভাস। ভোর হতেই ছাগল, গরু বেরিয়ে পড়েছে। অমৃত এক কোণে দাঁড়িয়ে ঘেমে যাওয়া শরীরে বাতাস লাগাচ্ছিল। এতটা পথ একটানা প্রায় না থেমেই চলে এসেছে। গা জুড়োচ্ছিল ও। সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দুজনের চোখ জুড়িয়ে আসছিল। দূরে কোম্পানি বাঁধের মাটি পাহাড়ের মতো উঁচু হয়ে উঠে গেছে।
এত পটল আমি গোলায় নিয়ে তুলব কী করে? চাষিরা এরই ভেতর সব দূরে দূরে ছড়িয়ে ছড়িয়ে ক্ষেতে নেমেছে।
এখানেই ভগবান থাকেন?
হ্যাঁ। ওই মাচানে_
ক্যাবলাকার্তিক অমৃত তদ্দণ্ডে মাচানতলার দিকে এগিয়ে গেল। আর সঙ্গে সঙ্গে একজন চাষি ধামা হাতে হা হা করে ছুটে এল। পটল তুলছিল। অমৃতকে আটকাল। হাত-পা ধোয়া? জল সরেছ?
পটল ক্ষেতে তো এমনি ঢোকা যায় না। চাষিরাও খুব পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে ক্ষেতে নামে। বাধা পেয়ে অমৃতর বিশ্বাস আরও বেড়ে গেল। তবে কি এই মাঠটাই একটা আস্ত মন্দির? কোম্পানি বাঁধের ঠিক ওপরে এক চাকা মেঘ গুরুগম্ভীর হয়ে জমে আছে। মাচানের ওপর লতানো শুঁড়গুলো সামান্য বাতাসে লক লক করে উঠছিল। আমি হাত-পা ধুয়ে আসছি। অমৃত এক ছুটে পাশের ডোবায় নেমে গেল।
এখানকার চাষিরা সাধারণত কিছু গম্ভীর। এ আমি আগেই জানতাম। ওদের কোন তাড়াহুড়ো নেই। বললাম, মণ কত করে?
চলি্লশ টাকা করে দেবেন।
আমার সারা শরীর নেচে উঠল। এরা কি বাজারের খবর জানে না? না, এদিকে এখনো ফড়ে এসে পেঁৗছয় নি? তা কী করে সম্ভব? চন্দনেশ্বরের পাইকারি দরই তো এখন এর দ্বিগুণ। কোলে মারকেটে না জানি কী অবস্থা। যত দূর চোখ যায়_শুধু পটল। নিজের গোলায় এত পটলের জায়গা হওয়া সম্ভব নয়। একটা উপায় আছে। আগাম দিয়ে দিয়ে সব পটল দরবন্দী করে আটকাও। তারপর এখান থেকেই লরি বোঝাই দিয়ে শেয়ালদা বাজারে। কিন্তু তাতে অনেক লোকজন চাই। অনেক টাকা চাই।
তাহলে কিছু কিছু আগাম রাখো সবাই।
চাষি ঘুরে দাঁড়াল। মাচানতলায় আমরা কেউ আগাম রাখি না বাবু। যেমন যেমন মাল নেবেন_তেমন তেমন দাম দেবেন। জানতাম। বড় শক্ত জায়গা। এরা ধীরে সুস্থে কথা বলে। এদের গরু-ছাগলের চেহারা অতি ধীরস্থির_পরিপূর্ণ। অবশ্য কারণ একটাই। এখানকার মাটি বাছাই সবজি-পটলে ছয়লাপ করে দিচ্ছে বছরের পর বছর।
এখানকার মাটি, বাবু আমাদের কোনবার ফেরায় নি। তিনি নিঝি এখানে থাকেন_
অর্থাৎ লক্ষ্মী থাকেন? আমার পাশে যে অমৃত কখন হাত-পা ধুয়ে এসে দাঁড়িয়েছে বুঝি নি।
কোনদিকি?
চাষি অমৃতকে হাত ঘুরিয়ে সবটা দেখালো। কোনদিকি নয়? সবটা তুমি নিঝি ঘুরে ঘুরে দেখ। হলুদ ফুল। সবুজ লতা। শসার মাচানে সাদায় সবুজে লাইন টানা জালি পড়েছে। তার ভেতর দিয়ে এক এক কিতা পটল চাষের দীর্ঘ টানা লাইন_সেই একেবারে কোম্পানি বাঁধের গা অবধি চলে গেছে। সেখানে গিয়ে দৃষ্টি হারিয়ে যায়। তার ভেতর দিয়ে ভেতরে দিয়ে অমৃত এগোচ্ছিল। এক-এক মাচানের সামনে দাঁড়ায় আর সম্ভ্রমে চোখ নেমে আসে ওর। কী সবুজ। কী শান্ত। ফুলে ফুলে রেণু কুড়চ্ছে কিছু অক্লান্ত ফড়িং। সঙ্গে আছে একপাল নাম না-জানা পোকা। কচি ডগাগুলো ফিনফিনে বাতাসে হিল হিল করে কাঁপছে।
এদিকে রিঙ্াখানা মাটির রাস্তায় দাঁড়ানো। পেছনে কোন মালিকের নাম লেখা নেই। আমি কোমরে টাকা গুঁজে দাঁড়িয়ে। ওদিকে অমৃত দাশ একেক কিতা পটল ক্ষেত পার হয়_আর একজন দু'জন করে চাষি তার সঙ্গে নেয়। মাচানতলার শিশির তখনো শুকোয় নি। অমৃতের দলটা আস্তে আস্তে ভারী হচ্ছে। তাতে কচি মাথা, কাঁচা মাথা, পাকা মাথা_সব এসে ভিড়ছে। সারা মাঠের মানুষজন কুড়িয়ে নিয়ে ও এগোচ্ছিল। আর ভোরবেলাতেই মাচানতলায় নেমে আসা কুঁচো পাখির ঝাঁক, ওরা কাছাকাছি যেতেই ছররার ধারায় আকাশে ছড়িয়ে পড়ছিল। খানিক উড়েই আবার এক জোটে মাচান বদলে বদলে নেমে পড়ছিল ঝাঁক ধরে।
অমৃত দেখল এখানে ভগবানের কোন শেষ নেই। যতই এগোয় ততই বেড়ে যায়। মনটা কিসে ভরে যাচ্ছে। মাচানে মাচানে কোম্পানি বাঁধ অবধি ছেয়ে আছে। বাতাসে কিসের সুবাস। চাষিরাও এমন সমঝদার পায় নি কোনদিন। ফলন, গাছের বাড়, পুষ্ট ফল_যা কিনা ওদের কাছে আগাগোড়াই ঈশ্বরের আশীর্বাদ_অর্থাৎ সাক্ষাৎ ভগবান_তাই খুব মন দিয়ে অমৃতকে ওরা দেখাচ্ছিল। চষা মাটির ওপর দিয়ে ভারী দলটা নিয়ে এগোতে এগোতে অনেকগুলো মাথার ওপর দিয়ে অমৃত একবার ফিরে তাকাল। পেছনেও সেই একই ছবি। হলুদ ফুল। গুঁড়ো গুঁড়ো পরাগ মাখানো কেশরগুলি ফুলের লাল জন্মভূমি থেকে উঠে দাঁড়িয়ে ভোরের বাতাসে দুলছে। মাচানের পর মাচান ফেলে এসেছে অমৃত। তার শেষে রিঙ্াখানা কত ছোট দেখাচ্ছে। সিটে সাদাপানা একটা মানুষ বসে। ধুতি-পাঞ্জাবি পরেছে। এখান থেকে কুচো কুচো পাখির চেয়েও ছোট দেখাচ্ছে শ্যামলবাবুকে। মানুষটা বড় ভাল। তাঁর জন্যেই ওর আজ এখানে আসা হলো।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1338)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
-
▼
2012
(33842)
-
▼
November
(2002)
-
▼
Nov 08
(126)
- ব্যাংক নোটে ম্যান্ডেলা
- চীনে কমিউনিস্ট পার্টির কংগ্রেস শুরু আজ
- জারদারির মামলা চালু করতে সুইস কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ
- কেমন হবে ওবামার বৈশ্বিক নীতি?
- ‘আরও চারটি বছর’
- আওয়ামী লীগ নেতার কাণ্ড- ঠিকাদার ভেবে কিল-ঘুষি, পরে...
- রংপুর সিটি নির্বাচন: মশিউরকে এরশাদের সমর্থন- অন্য ...
- মাদক বিক্রির প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রিকশাচালককে হ...
- মাদকবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্বে প্রথম আলো
- অর্থ ও আসবাব আত্মসাতের মামলা- সাবেক স্পিকার জমির উ...
- রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানাতে কাল ঢাকায় আসছেন হিনা
- সামাজিক ব্যবসা সম্মেলন শুরু হচ্ছে আজ by আসজাদুল ...
- ৭ নভেম্বরে বিএনপির আশাবাদ- ‘গণবিরোধী’ সরকারের বিরু...
- শিক্ষা বিভাগ- এসিআর ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়ন জরুরি b...
- মূল্যায়ন- ওবামা: আশার সংগ্রাম এখনো চলছে by বার্ন...
- সরেজমিন- ওবামার এই স্বপ্ন পূরণ হোক by মিজানুর রহ...
- কী শিক্ষা দিয়ে গেল আমাদের?- মুঠোফোনের গান ও ট্রেনে...
- বিশ্বময় শান্তি ও উন্নয়ন সাধিত হোক- অভিনন্দন, বারাক...
- চারদিক- ফিরে যাই শৈশবে by ফারুখ আহমেদ
- কৃষি- সোনালি ফসলের পাশে কৃষকের মুখ by তুহিন ওয়াদুদ
- ফিরে দেখা পঁচাত্তর- আগস্ট থেকে নভেম্বরের রক্তাক্ত ...
- জাতিসংঘ পার্কে বসাই দায় by ফারজানা আকতার
- আনোয়ারা আওয়ামী লীগের কী হবে by মোহাম্মদ মোরশেদ হ...
- শোক- সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মুহাম্মদ শামসুল হক
- ছাতিম ফুলের সুবাস by আহামেদ মুনির
- কালুরঘাট সেতু- ফেরির কষ্ট আরও এক মাস by মিঠুন চৌ...
- প্রথম সমকামী সিনেটর ট্যামি
- 'ফোর মোর ইয়ারস' by রাজীবুল হক
- কয়েক রাজ্যে ভোট নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ by তানজিমুল নয়ন
- ওবামার কাছে জনগণ চায় অর্থনৈতিক নিরাপত্তা by যিশু ম...
- ওবামার দিকে তাকিয়ে বিশ্ব by শামসুন নাহার
- 'আমি ভোট দিয়েছি' by শরীফুল ইসলাম শরীফ
- সবিশেষ-সর্বাধিক নারী সিনেটর
- অজানা
- জয়োৎসবের আগে ঝড়ের সতর্কবার্তা
- জো বাইডেন ২০১৬-তেও থাকবেন!
- সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ by রিয়াজ মিলটন
- ড্যান ডাব্লিউ মজিনা বললেন-যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ ...
- ওবামাকে ভোট দিলেন ১০৬ বছরের হিন্টন
- নাতির বিজয়ে আপ্লুত দাদি by সোহানা তুলি
- ঢাকায়ও জয়ী ওবামা
- সেই ওহাইয়োতে জিতেই ওবামা প্রেসিডেন্ট
- এবার তরুণ ভোটার বেশি by মোস্তফা রাসেল
- প্রতিক্রিয়া-গওহর রিজভীর মন্তব্য-ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্প...
- প্রতীকী ভোট দেখতে গিয়ে দুই নেতার তর্ক
- অল্প স্বল্প গল্প
- হলিউড- হলিউডে নির্বাচনী উত্তাপ
- জয়তী ও তাঁর গান by মেহেদী মাসুদ
- বলিউডআলিয়া, বরুণ, সিদ্ধার্থ- ত্রয়ীর জয়
- এটি একটি ব্যতিক্রমী উৎসব by আবুল খায়ের
- হোয়াইট হাউসের পুতুল হয়ে থাকবেন না তো?
- পরিবর্তন প্রয়োজন রিপাবলিকানদের
- গণভোটে সমলিঙ্গ বিয়ে মারিজুয়ানার অনুমোদন by ফৌজিয়া...
- তবুও আমাদের নীতি টিকে থাকবে : রমনি by হাসান ইমাম বাবু
- এত কিছুর পরও কেন হারলেন by খন্দকার মোজাম্মেল হক
- ড. ইউনূস ইস্যুতে মতদ্বৈধ কমবে by ড. দেলোয়ার হোসেন
- সাক্ষাৎকার-অর্থনীতিকে টেনে তুলেছেন ওবামা by সি এম ...
- কংগ্রেস ও গভর্নর নির্বাচন-পাল্টাল না সমীকরণ by তাম...
- সেরাটা এখনো বাকি-জয়ের পর শিকাগোয় নির্বাচনী সদর দপ্...
- যেভাবে বিজয় by আসাদুর রহমান
- আস্থায় প্রত্যাশায় ওবামা by সফেদ ফরাজী
- চোখ by হুমায়ূন আহমেদ
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ by হাসান আজিজুল হক
- কবি by সৈয়দ শামসুল হক
- রানীরঘাটের বৃত্তান্ত by সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
- পাদটীকা by সৈয়দ মুজতবা আলী
- ডিডেলাসের ঘুড়ি by সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
- সুখের পিঠে সুখ by সেলিনা হোসেন
- রাজা আসেনি বাদ্য বাজাও by সুশান্ত মজুমদার
- অযান্ত্রিক by সুবোধ ঘোষ
- বীর মুক্তিযোদ্ধা- তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না
- আদালত অবমাননার অভিযোগ- সাজেদা ও মতিয়ার বিষয়ে আদেশ ...
- সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া যাত্রা- আবারও সাগরে ট্রলারডুবি...
- নদীতীরে by সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
- নয়ান ঢুলি by সরদার জয়েনউদ্দীন
- সরেজমিন- স্কুল চলছে, ভোটও চলছে by মিজানুর রহমান খান
- ওবামা কেন জিতলেন, কীভাবে জিতলেন by আলী রীয়াজ
- নকুলার এক বছরের কারাদণ্ড
- ৫০০ বিঘা জমির জাল দলিল by রোজিনা ইসলাম ও মাসুদ রানা
- হোয়াইট হাউসে ফিরেছেন ওবামা
- আত্মজ by সুচিত্রা ভট্টাচার্য
- বড় পাপ হে by সমরেশ মজুমদার
- কে নেবে মোরে by সমরেশ বসু
- ক্লাস ফ্রেন্ড by সত্যজিৎ রায়
- ক্লাস ফ্রেন্ড by সত্যজিৎ রায়
- গণনায়ক by সতীনাথ ভাদুড়ী
- শ্বেতপাথরের টেবিল by সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
- চন্দনেশ্বরের মাচানতলায় by শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
- মুনিয়ার চারদিক by শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
- কালান্তক লাল ফিতা by শিবরাম চক্রবর্তী
- শান্তিকামী মানুষের স্বস্তি by জাহিদুল ইসলাম সরকার
- এ নির্বাচন একটি মডেল by বেলাল হোসাইন রাহাত
- বিশ্বের মন জয় করবেন ওবামা by মাসুদ ফরহান অভি
- দ্বিতীয়বার সুযোগ পেলেন বারাক ওবামা by তানিম ইশতিয়াক
- বৃহতের সাধনা by সুভাষ সাহা
- জীবন-সার্থকতা মৃত্যুর সৌন্দর্যে by রণজিৎ বিশ্বাস
- সমকালীন চিন্তা-'কে সেই তৃতীয়, যে চলে তোমাদের সাথে?...
- বাঘহত্যা-নির্মমতার পুনরাবৃত্তি বন্ধ হোক
- অভিনন্দন ওবামা-ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্ক নিবিড় হোক
- জিব্রাইলের ডানা by শাহেদ আলী
- কোথায় পাব তারে by শহীদুল জহির
- মহেশ by শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী by শওকত ওসমান
- কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ by শওকত আলী
- ইজ্জত by রিজিয়া রহমান
- চুড়ি by রাহাত খান
- সূর্য ওঠার আগে by রাবেয়া খাতুন
- আবারও চিনির দাম বৃদ্ধি-চিনি শিল্পের উন্নয়নে পদক্ষে...
- অভিনন্দন বারাক ওবামা-দৃঢ় হোক বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্ক
- পবিত্র কোরআনের আলো-ফিরআউন সময় থাকতে সত্যকে স্বীকার...
- চার দশকের পরিবর্তিত মানসিকতা by ওয়াহিদ নবি
- প্রতিক্রিয়া : হুমায়ুন কবির-ওবামার সংস্কার কর্মসূচি...
- চরাচর-সিলেটের সাতকড়া by ইয়াহইয়া ফজল
- কয়লানীতি, বিশেষজ্ঞ কমিটি ও বাস্তবতা by হাসান কামরুল
- ফতোয়া ও প্রাসঙ্গিক ভাবনা by ড. নিয়াজ আহম্মেদ
- বহে কাল নিরবধি-অবরোধ কি ইরানকে কোনো 'পরিবর্তনে' বা...
- ‘বাংলাদেশ ইমম্যাচিওরড, যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচিওরড’ by ...
- মেহজাবিনের বিজ্ঞাপনী চমক by সাইফ চন্দন
- এবার সিডিতে ‘এক জীবন-২’ এর মিউজিক ভিডিও
- কারা থাকছেন আর্থিক খাত সংস্কার কমিশনে by সাইদ আরমান
- প্রেম-প্রতারণা- ‘মরে গেলাম ভাল থেকো’
- কাটরিনার ইচ্ছা
- তারা আসছেন তবে... by মোহাম্মদ আওলাদ হোসেন
- মেগা নিয়ে ফিরছেন বাঁধন by কামরুজ্জামান মিলু
- ক্যামেরুন ডায়াসের সৌন্দর্যের রহস্য!
- বারাক ওবামার বিজয়ে মার্কিন তারকাদের উচ্ছ্বাস
-
▼
Nov 08
(126)
-
▼
November
(2002)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
তরুণ প্রজন্ম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আলী যাকের
আইন ও বিচার
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
তারেক শামসুর রেহমান
মালয়েশিয়া
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
স্বাস্থ্য
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
জ্যোতির্বিজ্ঞান
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
শিল্প ও সাহিত্য
সংবিধান ও রাষ্ট্র
বগুড়া
মিয়ানমার
ঢাকা
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
গবেষণা
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
জীবনযাপন
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
মেহেদী হাসান
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
মানসুরা হোসাইন
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
ইয়েমেন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
Exclusive
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
উচ্চশিক্ষা
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিজ্ঞান
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
জনস্বাস্থ্য
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
ফরিদপুর
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লাতিন আমেরিকা
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মহাকাশচারী
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
জোহরান মামদানি
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
ইহুদি
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
স্পেন
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
বিশ্বকাপ ফুটবল
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment