Thursday, November 8, 2012
কবি by সৈয়দ শামসুল হক
কবি by সৈয়দ শামসুল হক
কবি আবদুর রব মুনশী ১৩৭০ সনের ২রা বৈশাখ তাঁর জন্মগ্রাম তামাই, পাবনায়, পরলোকগমন করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র আটচলি্লশ বৎসর।
আজ সাহিত্যের দরবারে তাঁর কাব্য সংগ্রহ পেশ করবার মুহূর্তে কয়েকটি কথা বলতে আগ্রহ বোধ করছি।
আজ সাহিত্যের দরবারে তাঁর কাব্য সংগ্রহ পেশ করবার মুহূর্তে কয়েকটি কথা বলতে আগ্রহ বোধ করছি।
আমি পেশাদার সমালোচক নই, সম্পাদক নই, সাহিত্যের কারিগরি নিয়ে গুছিয়ে দু'কথা বলি এমন অনুশীলন আমার নেই; আমি মুনশী সাহেবের জীবনের কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করব মাত্র। সম্পাদক-শোভন ভূমিকা হয়তো এটি হবে না, কিন্তু তাতে বিরত বোধ করছি না; কারণ আমার বিশ্বাস তাঁর রচনার চেয়ে তাঁর জীবন সম্পর্কে আমার ধারণা স্পষ্টতর, নিকটতর। সাগর সৈকত যে বালক বালির দুর্গ নির্মাণ করে, সে দুর্গের নির্মাণ কৌশলের চেয়ে বালকের আনন্দ-বিকাশ আমার কাছে অধিক মূল্যবান।
সে আজ থেকে বছর দশেক আগের কথা। আমার প্রথম গল্পের বই প্রকাশিত হয়েছে। তার নামোল্লেখ না করেই বলি, বইটি ছিল নিতান্তই প্রথম প্রয়াস। আজ পেছনের দিকে তাকিয়ে মনে হয়, সে বইটিকে নিয়ে বালিশের নিচে নিয়ে কত বিনিদ্র রাতই না যাপন করেছি, কত সুরসিক, প্রাজ্ঞ সুরুচিবান পরিচিত শ্রদ্ধেয়কেই না আশংকিত হৃদয়ে, অকল্পিত হাতে উপহার দিয়েছি সে বই।
তখন আমি কোথাও বেরুলে সে বইয়ের কয়েকটি কপি আমার সঙ্গে থাকত। যিনিই আন্তরিকতা নিয়ে দু'দণ্ড কথা বলতেন, তাঁকেই এক কপি বই উপহার হিসেবে লিখে দিতাম।
তখন কবি আবদুর রব মুনশীর সঙ্গে আমার প্রথম দেখা হয়। দীর্ঘকাল পরে আমি সেবার ফুফুজানের বাড়িতে গেছি। ফুফুকে দেখার চেয়ে গ্রাম দেখার ইচ্ছেটাই ছিল প্রবল।
গ্রামটি সত্যিই গ্রাম। শহর থেকে প্রায় সতের মাইল দূরে, এক টেরে পড়ে আছে। সেখানে যাবার কোনো সরকারি বা নিয়মিত সড়ক নেই। বর্ষায় এক রকম পথ, গ্রীষ্মে আরেক রকম। ফুফা সাহেব সাইকেলসহ লোক পাঠিয়ে দিয়েছিলেন শহরের রেল স্টেশানে। গ্রামে পেঁৗছুলাম যখন, তখন রাত এগারটা। হিসেবমতো সন্ধে নাগাদ পেঁৗছে যাবার কথা। কিন্তু পথে সাইকেল বিকল হয়ে যাওয়ায় বাকি পথ হাঁটতে হয়েছে এবং সে হাঁটাটা খুব গতিময় হয়নি; একে আমি গেঁয়ো পথ চলতে অনভ্যস্ত তার ওপর বিকল সাইকেলের ভার।
একটা খালের ওপারে আমার ফুফুজানের বাড়ি। খালটা ডিঙ্গি করে পেরুতে হবে। খালের এপার থেকেই দেখতে পেলাম ওপারে ছায়ামূর্তির মতো কয়েকজন উৎসুক হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। পেঁৗছে দেখি ফুফা সাহেব উৎকণ্ঠিত হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, আর তার পেছনে ফুফুজান অশ্রুসজল। পথের দুর্ঘটনা তৎক্ষণাৎ বিবৃত করলাম।
সেই রাতেই আবদুর রব মুনশীর নাম প্রথম শুনলাম। ফুফা সাহেব বললেন যে, মুনশী সাহেব সন্ধ্যে থেকেই অপেক্ষা করেছিলেন কখন আমি এসে পেঁৗছুব। তিনি শুনেছেন, আমি লিখে থাকি, আমাকে দেখতে চান। এবং সেই খাওয়ার আসনেই জানতে পেলাম মুনশী সাহেব কবিতা লেখেন, গান বাঁধেন। ফুফা সাহেব বললেন, কাল একবার আসবে তোমার সঙ্গে আলাপ করতে।
আমি খুব রোমাঞ্চিত বোধ করেছিলাম, মনে আছে। সেটা সম্ভবত এইজন্যে যে, আমি লিখি শুধুমাত্র এই কারণে একজন আমার সঙ্গে দেখা করতে আগ্রহী। আমার যতদূর মনে হয়, আবদুর রব মুনশীই প্রথম মানুষ যিনি লেখক হিসেবে আলাপ করতে এগিয়ে এসেছিলেন আমার কাছে।
কিন্তু পরদিন তিনি এলেন না। তারপর এক সপ্তাহ চলে গেল, তাঁর সাক্ষাৎ পেলাম না। আমি মাঝে মাঝেই ফুফু সাহেবকে তাঁর কথা জিগ্যেস করতাম, তিনি বিরক্ত বোধ করতেন। বলতেন, মুনশীর কথার ঠিক নাই। দ্যাখোগা কোথায় আসর জমাইয়া বসেছে। তোমরা কবিরা হইলা গা পাগল ছাগল মানুষ।
আমি স্মিতহাস্যে উপহাসটুকু ঢাকবার চেষ্টা করতাম। গ্রামের সামাজিকতা আমার জানা ছিল না। শুনলাম, মুনশী সাহেবের বাড়িতে আমি নিজে গেলে তা ফুফা সাহেবের সম্মানহানির কারণ হবে। ফুফা অবস্থাপন্ন মানুষ, মুনশী সাহেব মাত্র কয়েক বিঘে জমির ওপর নির্ভর করে চলেন, এক্ষেত্রে কোনোমতেই তাঁর বাড়িতে আমার যাওয়া সাজে না।
মনের মধ্যে মুনশী সাহেবের জন্যে আকর্ষণ প্রবলতর হয়ে উঠল।
একদিন এক অভাবিত সুযোগ মিলে গেল। ফুফা সাহেবের এক চাচাতো ভাই ছিল আমারই সমবয়সী। তাকে আমি চাচা বলে ডাকতাম। অবস্থা ছিল গরিব, অতিকষ্টে শহরে কম্পাউন্ডারি পড়ছিল সে। তার সঙ্গে ডিঙ্গি করে সেদিন খাল বেয়ে বেড়াতে বেরিয়েছিলাম। লগি ঠেলছিল চাচা। যাবার কথা ছিল বউমারী বিল পর্যন্ত, সেখানে গিয়ে এই খাল মিলিত হয়েছে।
আমার সঙ্গে লেখার ব্যাগ। তাতে কাগজ, কলম আর আমার দু'কপি বই রয়েছে। গ্রামে এসে একটা কাজ করছিলাম, আর তা হচ্ছে চারদিকে দেখা গাছপালা লতা পাতা পাখির নাম আর বর্ণনা লিখে রাখা। লেখার ব্যাগটি তাই সঙ্গে সঙ্গে চলেছে। উনিশ বছর বয়সে সাহিত্যের জন্যে তখন সবকিছুই জরুরি মনে হতো, মনে হতো সব কিছু ধরে রাখা কর্তব্য আগামী রচনার জন্যে।
এগিয়ে চলেছি বউমারীর দিকে। হঠাৎ চাচা বলল, দূরে একটা বাড়ি দেখিয়ে, ওটাই আবদুর রব মুনশীর বাড়ি। আগ্রহে চোখ তুলে তাকালাম। দূর থেকে জামগাছ সুপারিগাছ ঢাকা একটা টিনের চালা চোখে পড়ল। বার বাড়ির উঠোন খাড়া নেমে এসেছে খালের পানিতে। আমার চোখের সমুখে চলমান ডিঙ্গির প্রেক্ষিতে বাড়িটা একখণ্ড ছবির মতো চক্রাকারে সরে আসছে কাছে। চলো না, মুনশী সাহেবের বাড়ি যাই।
চাচা যেন অস্পষ্ট একটা ভঙ্গি করল নিষেধের। কিন্তু সেটা আমার চোখে ভুল হবে হয়তো।
বলল, যাইবা?
হ্যাঁ, চলুন না।
বাড়িতে আছে কি নাই।
চাচা সন্দেহের প্রকাশ করলেন। আমি যথাসম্ভব কণ্ঠ স্বাভাবিক রাখবার চেষ্টা করে বললাম, তবু চলুন, দেখতে ক্ষতি কি!
ততক্ষণে খাল থেকে একটা উপখালে আমাদের ডিঙ্গি এসে ঢুকেছে। তার পাড়ে মুনশী সাহেবের বাড়ি।
বাড়ির ঘাটে ডিঙ্গি বাঁধল চাচা। আমরা খাড়া পাড় বেয়ে উঠে গেলাম ওপরে। পরিষ্কার করে ঝাড়ু দেওয়া বার-বাড়ি। দুটো বড় বড় জামগাছ বাইরের ঘরের রোয়াক ঘেঁষে উঠেছে। একটার নিচে বাঁশ দিয়ে বসবার মাচা বাঁধা হয়েছে। আরেকটা গাছের নিচে এক গাদা খড়ের স্তূপ। দুটো গাই অলসভাবে সেই খড় চিবোচ্ছে। শোনা যাচ্ছে, খালের পানিতে মাটি ভাঙ্গার ঘুপ ঘুপ শব্দ। আর কিছু না। সমস্ত বাড়িটা নির্জন।
চাচা বেড়ার দরোজার কাছে দাঁড়িয়ে গলা তুলে ডাকতে লাগল, অ কবিচা, বাড়িতে আছো না? অ কবিচা।
একটা শব্দ শোনা গেল। মানুষের গলা। কে একজন আধা প্রৌঢ় লোক বেরুল, তার খালি গা। পরনে একটা লুঙ্গি। আর কিছু না। কনুই পর্যন্ত দু'হাতে মাটি আর তুষের মাখামাখি। মাত্র একটি মুহূর্ত লোকটির চোখ পড়ল আমার ওপর, সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে সে টেনে নিল, লুকিয়ে ফেলল, দ্রুত পায়ে চলে গেল ভেতরে। চাচা উচ্চকণ্ঠে বলে উঠল, অ কবিচা, গেলা ক্যান? দ্যাহো কেডা আইছে।
কিন্তু উত্তর আর এলো না।
কিছুক্ষণ পরে একটা ছোট্ট মেয়ে, ডুরে পরা, হাতে গুড়ের দলা, এসে চাচাকে বলে গেল, বসতে কইছে বাজান।
প্রায় আধ ঘণ্টা পরে বেরিয়ে এলেন কবি আবদুর রব মুনশী। পরিষ্কার করে ধোয়া একটি লুঙ্গি পরেছেন, গায়ে ছেঁড়া কিন্তু ধবধবে সাদা পাঞ্জাবি, তার উপরে গেরুয়া রঙের উড়ুনি জড়ানো, পায়ে কাঠের উঁচু খড়ম, মাথায় কিশতি টুপি। আমি তাঁকে হাত তুলে আদাব জানালে তিনি ভারি বিব্রত বোধ করলেন এবং আমার দিকে চোখ ফিরিয়ে চাচার ওপরে চোখ রাখলেন, নিঃশব্দে হাসলেন একটু, যেন আমি সেখানেই উপস্থিত নই। বললেন, বসেন, বসেন, ডাক্তার সাব।
কম্পাউন্ডারি পাস করার আগেই চাচা ডাক্তার হয়ে উঠেছে জেনে খুব আমোদ বোধ করলাম।
আমি মুনশী সাহেবকে দেখতে লাগলাম।
তিনি চাচার সাথে আলাপ তুললেন, তার ডাক্তারি কতদূর শেষ হলো, প্রসঙ্গ আনলেন স্থানীয় ইস্কুলের নতুন বাংলা মাস্টারের, অদূরেই গাই দুটো দেখিয়ে বললেন, আজকাল ছ'সের সাড়ে ছ'সের দুধ হচ্ছে।
আমি বুঝে উঠতে পারছিলাম না। অনুভব করছিলাম, আমার একটা কিছু বলা দরকার। বললাম, শুনলাম, আপনি কবিতা লেখেন।
না, কই?
আবদুর রব মুনশী সচকিত কণ্ঠে বললেন। তারপর হেসে ফেললেন যেন ধরা পড়ে গেছেন।
সংসারের কাজে সময় পাই না।
তারপর হয়তো ভাবলেন, এটাও যথেষ্ট বলা হলো না, লজ্জিত হয়ে যোগ করলেন, আমাদের রচনা আপনাদের ভাল লাইগবে? লেখাপড়া শিখি নাই, গাঁয়ে জামাল হোসেন বয়াতি আছিল আর আমার বাল্যকালে এক হেড মাস্টার খুব ভাল গদ্য রচনা কইরতো, তাঁদের দেইখা দেইখা নিজের হাউসে নিজেও রচনা করছি। মাইনষে অনর্থক আমারে কবি-সাব কয়। আমি কিছু না।
কথাগুলো একটানা পড়ে যাওয়া যায়। কিন্তু তাঁর সেই কথনভঙ্গি আমি জীবন্ত করে তুলব কি করে? থেমে থেমে, হাতের নানা রকম ভঙ্গি করে, আমার দিকে না তাকিয়ে খালের অপর পাড়ে কয়েকটা চলমান মানুষের দিকে চোখ রেখে, তিনি কথাগুলো বলে গেলেন।
প্রতিবাদ করল আমার চাচা। বলে উঠল, দুরো। কবি সাবের রচনা তুমি দ্যাখো নাই। এমুন সুন্দর রচনা দশ বিশ গাঁয়ে কেউ কইরতে পারে না। এই অঞ্চলে কবিচার গান মাইনষে মুখে মুখে গায়্যা থাকে। তার পইদ্য ইস্কুলের সভায় আবৃত্তি করে গাঁয়ের ছাত্রেরা।
আমি বললাম, আপনার জন্যে আমার একখানা বই এনেছি। উপহার দিতে চাই।
এতকাল, আগেই বলেছি, বহুজনকে সামান্য আলাপের সূত্রে আমার বই দিয়েছি। আজ যেন বই দিতে গিয়ে মনের মধ্যে একটা অনির্বচনীয় আনন্দ বোধ জাগরিত হলো।
কম্পিত হাতে তিনি বইটা নিলেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁর চোখ অত্যন্ত উজ্জ্বল হয়ে উঠল। আমার নিজ হাতে লেখা তাঁর নামটা অনেকক্ষণ ধরে দেখলেন, তারপর পাতা ওল্টালেন, কয়েকটা পাতা ওল্টাবার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর চোখ যেন চিন্তামগ্ন হয়ে উঠল। হঠাৎ বই বন্ধ করে উঠে দাঁড়ালেন এবং কিছু না বলেই বাড়ির ভেতরে চলে গেলেন।
চাচা বলল, চলো যাইগ্যা। সইন্ধ্যা হয়।
মুনশী সাহেব ফিরে এলেন। হাতে একটা পকেট সাইজের বই, সবুজ কাগজের মলাট। বললেন, একখানা বই ছাপিয়েছিলাম আমার।
বইটার নাম 'মনিহার'। নিচে এক তোড়া গোলাপের ছবি, মফম্বলের প্রেসে যে ছবিটা বিয়ের উপহারে সাধারণত ছেপে থাকে। তারও নিচে লেখা আবদুর রব মুনশী প্রণীত ও প্রকাশিত। ফুলস্কেপের আট ভাঁজ ছাপা বই, ভাঙ্গা টাইপের অযত্নে ছাপা। আশি পৃষ্ঠা। দাম দশ আনা। মুনশী সাহেবের প্রথম বই।
চাচা বলল, ক্যান, তোমার না আরাকখানা বই আছে?
বললাম, তাই নাকি? সেটা দিলেন না?
মুনশী সাহেব লজ্জিত স্বরে উত্তর করলেন, সেখান ঘরে নাই। কয়েকখানা গান দিয়া বইটি ছাপছি। আমার বড় ছেলে তা বিক্রি কইরতে গেছে সাতবেড়ের হাটে।
বিস্মিত হয়ে শুনলাম, প্রতি হাটে তাঁর গানের বই নিয়ে তাঁর বড় ছেলে বসে। তার কণ্ঠ খুব সুরেলা। সে গান গেয়ে বই বিক্রি করে যে কটি পয়সা পায় তা দিয়ে সওদা কিনে বাড়ি ফেরে। হাট ভাঙ্গবে রাত এগারটায়। মুনশী সাহেব বললেন, কাল সকালে তিনি সে বই আমাকে দিয়ে আসবেন। বাড়ির ভেতর থেকে মুড়ি মাখানো আর বেলের শরবত এলো।
সেই আমার প্রথম সাক্ষাৎ আবদুর রব মুনশীর সঙ্গে।
রাতে এসেই কবিতার বইটা পড়ে ফেললাম। প্রায় সবগুলো কবিতা প্রকৃতি বিষয়ক, ঋতুকেন্দ্রিক। কিছু রচনা আছে যা ঈশ্বরের মহিমা বিবৃত করেছে। কিছুই রচনা কোনো এক রহসময়ী চিরসুদূরবর্তিনী রমণীর উদ্দেশ্যে নিবেদিত।
পরদিন মুনশী সাহেবের কিশোর বয়সী বড় ছেলে এসে তাঁর গানের চটি বইটি আমাকে দিয়ে গেল। তাতে জীবনের অনিত্যতার সুর ধ্বনিত। প্রতিটি গানের ওপর তার রাগ রাগিনীও তালের নির্দেশ লেখা। আমি তাঁর ছেলেকে অনুরোধ করলাম যে-কোনো একটি গান শোনাবার জন্যে। সে বলল, সঙ্গে যন্ত্র নেই, পরে শোনাবে। আবার অনুরোধ করলাম। সে তখন গাইতে শুরু করল। আশ্চর্য দরাজ কণ্ঠ তার। প্রায় অপ্রত্যাশিত। সুরের অবলম্বনে কথাগুলো যেন ধুলোর ধরণী ছেড়ে মুহূর্তে অমর লোকের দিকে যাত্রা করল। খালে দুরন্ত পানির কুলুকুলু ধ্বনি সে সুরের সহযাত্রী হলো। আমার চেতনার মধ্যে সঞ্জারিত হয়ে গেল আকাশ-বাতাস-নদী জীবনের নেশা।
সেদিন সন্ধ্যে বেলায় আমি ডিঙ্গি নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম মুনশী সাহেবের বাড়ির দিকে। এতদিনে আমি লগি চালানোর কৌশল অনেকখানি আয়ত্ত করে ফেলেছি চাচার কাছ থেকে। জানি, ফুফা সাহেব টের পেলে আমাকে বেরুতে দেবেন না, অপটু হাতে ডিঙ্গি বেয়ে নিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায়। কাউকে না বলেই বেরুলাম।
সেই সন্ধের কথাও ভুলতে পারব না। গোধূলির রক্তিম নীল আলোয় অত্যন্ত উদাস হয়ে এসেছে চারদিক। পেঁৗছে দেখি, যেন আমারই অপেক্ষায় কবি আবদুর রব মুনশী জামগাছের নিচে বাঁধা মাচার উপর বসে খালের দিকে তাকিয়ে আছেন। বড় ব্যস্ত হয়ে উঠলেন দেখে, বললেন, একাকী এভাবে আমার ডিঙ্গি চালান মোটেই নিরাপদ নয়।
সেই প্রথম, খুব স্পষ্ট করে, আমি হঠাৎ একাত্মবোধ করলাম তার সঙ্গে। তাঁর কাছে আসাটা যে ফুফা সাহেব মোটেই পছন্দ করেন না তা মনে করে তীব্র এক দংশন বেদনার অনুভূতি সঞ্চারিত হয়ে গেল আমার ভেতরে। সমস্ত গ্রামে মুনশী সাহেব ছাড়া আর সব কিছুই আমার কাছে অসত্য অচেনা বলে মনে হতে লাগল।
আমরা দুজন চুপচাপ বসে রইলাম সেই জামগাছের নিচে। আস্তে আস্তে সমস্ত পৃথিবী অন্ধকার হয়ে এলো। দূরে অন্ধকার বিন্দু বিন্দু তিনটে চারটে আলো দেখা দিল। যেন তারা জানান দিয়ে গেল ওখানে মানুষ আছে, তার ঘর আছে। দুধেল গাই দুটো ডেকে উঠল একবার। চমক ভেঙ্গে মুনশী সাহেব উচ্চকণ্ঠে ছেলেকে ডাকলেন, 'গোয়ালে বাতিটা ধররে'।
তাঁর শঙ্কাকুল কণ্ঠ শুনে বিস্মিত হলে তিনি স্বাভাবিক সুরে বললেন, কখনো কখনো গোয়ালে সাপ আসে বাঁট থেকে দুধ চুষে খেতে। আমি শিহরিত হয়ে উঠলাম।
সেই সন্ধ্যায় বাস্তবের প্রতিটি শব্দ, ঘটনা, উপস্থিতি আমার কাছে জীবনের গভীর সত্যের ব্যঞ্জনা সৃষ্টি করতে লাগল।
তিনি আমাকে ফুফা সাহেবের ঘাট পর্যন্ত পেঁৗছে দিয়ে গেলেন নিজের লগি ঠেলে।
কয়েকদিন পর তিনি নিজে এলেন আমার সঙ্গে দেখা করতে। ফুফা সাহেব এক অদ্ভুত মানুষ। মুনশীর বাড়িতে যেতে নারাজ, কিন্তু তিনি যখন এলেন, তাঁকে অভ্যর্থনা করলেন সহাস্য কণ্ঠে। বসবার জন্যে চেয়ার আনতে বললেন। তারপর আলবোলায় দীর্ঘ টান দিয়ে প্রশ্ন করলেন, কও কবি কেমন আছো। আমাদের কবির সাথে তোমার আলাপ হইছে?
অপ্রিয় সত্য বেরিয়ে পড়ার ভয়ে আমি বলে উঠলাম, হ্যাঁ, চাচার সঙ্গে হাটে গিয়ে দেখা হয়েছে।
ফুফা সাহেবের কাছে দরবারের জন্যে গ্রামের লোক এসে ঘিরে বসল। আমি আর মুনশী সাহেব তখন সেখান থেকে উঠে এলাম। এসে খালপাড়ে অন্ধকারে হাঁটতে লাগলাম নিঃশব্দে। আমার সেই চাচা এসে যোগ দিল। তখন দীর্ঘ নীরবতা ভাঙ্গল। চাচা জিগ্যেস করল মুনশী সাহেবকে, অর গল্পের বইটা পড়লেন?
সময় পাই নাই। পড়মু তো নিশ্চয়।
কিন্তু কেমন যেন আমার মনে হলো, তিনি আমার বইটা পড়েছেন কিন্তু এগুতে পারেননি। আমি যেন স্পষ্ট বুঝতে পারলাম, আমি যে জগতের কথা, যে ভাষা লিখি, সে জগৎ সে ভাষা তার অজানা। মনে হলো, এই পরিবেশে আমার বইয়ের কথা একেবারেই বেসুরো। তাড়াতাড়ি বললাম, ও কথা থাক। বললাম, আপনার কবিতাগুলো আমার খুব ভাল লেগেছে। সেদিন আপনার ছেলে মুখে একটা গান শুনলাম।
হ্যাঁ, আমারে কইছে ও। একদিন বাড়িতে আসর কইরা আপনারে শোনাতি ইচ্ছে করে।
বেশ তো খুব ভাল হয়। আমি আসব। আপনার যে সব গান বইতে নেই সেগুলো শোনাবেন, নতুন কবিতা শোনাবেন।
মুনশী সাহেব নিঃশব্দে হাসলেন। নিজের লেখা সম্পর্কে তার সেই মধুর সংকোচ আমি আজও ভুলতে পারিনি। কেন যেন, সেই মুহূর্তে সেই সংকোচটাকে দূর করে দিতে ইচ্ছে হলো আমার। প্রসঙ্গ তুললাম, আচ্ছা, আপনার কবিতায় প্রকৃতির ছবি বারবার কেন আঁকেন? কারণটা কী? এ রকম প্রশ্ন শুনতে তিনি অভ্যস্ত নন। লোকে ভাল বলে, মন্দ বলে, কিন্তু এ আবার কী? অনেকক্ষণ কোনো কথা বলতে পারলাম না। শেষে উত্তর করলেন, আমার প্রশ্নের পুনরাবৃত্তিতে, কি জানি, আমার য্যান সমনে হয়, এই চাইর দিকে যা দেখি তা আমার পর না। আমি একটা কষ্ট পাইলে লতাডাও যেন কথা কইয়া উঠে। আমার একটা শুশি হইলে চারদিকে তার ছবি দ্যাখা যায়। আমি ভাবি, আমার বাপদাদাও এইসব দেইখ্যা গ্যাছে, এই লতাপাতা, ম্যাঘ-বাদল, চান-সূর্য, সব তারা দেখছে। তারা বইলা গ্যাছে। আমরা আসছি, আমরাও দেখতাছি। যারা চইলা গ্যাছে তারা মনডারে এই সবের মইধ্যে ছড়াইয়া দিয়া গ্যাছে। আমি যা রচনা করি সেই মেঘ-বাদল, চান-সূর্য, লতাপাতার কাছ থিকা শোনা কথা নিয়াই রচনা করি। তার নিজের ভাবটাকে মিশাইয়া দিবার চাই। আপনে আমার কথা শুইনা হাসতাছেন, যে পাগলে কি কয়? আঁ?
আমি তাঁকে দ্রুতকণ্ঠে আশ্বাস দিলাম, না, না, আপনি বলুন।
কিন্তু হঠাৎ যেন কোথায় বাধা পড়েছে। কিম্বা তার মনে হয়েছে আমি শহুরে শিক্ষিত মানুষ_আর তিনি গেঁয়ো, অশিক্ষিত। তিনি চুপ করে গেলেন। সে রাতে তাঁকে আর কিছুতেই মুখর করে তোলা গেল না। কেউ একটা ডিঙ্গি যাচ্ছিল বেয়ে। তিনি ডেকে শুধালেন, কে যায়? অন্ধকার খাল থেকে শোনা গেল, কেউ উৎফুল্ল কণ্ঠে চেঁচিয়ে জিগ্যেস করল, কবি সাব না? বাড়ি যাইবেন? তিনি বিদায় নিলেন।
এর দু'দিন পর ঢাকায় ফিরে আসি আমি। বর্তমান অতীত হয়ে যায়। অতীত হয় স্মৃতি। স্মৃতি থাকে নিদ্রিত। প্রসঙ্গের স্পর্শ না পেলে তার নিদ্রাহরণ হয় না। কবি আবদুর রব মুনশীর কথা তার মনের মধ্যে জাগ্রত থাকে না একদিন।
প্রায় বছর চারেক পরে আমার সেই চাচা এলেন ঢাকায়। উদ্দেশ্য সরকারি চাকরির একটা ইন্টারভিউ দেয়া। আমার বাসাতেই উঠলেন, তিনিই একদিন কথায় জিগ্যোস করলেন, ভাল কথা। আবদুর রব মুনশীর কথা তোমার মনে আছে না? সেই কবি! এক মুহূর্ত স্মৃতির জগতে আলোড়ন তুলে উঠে এলেন কবি। প্রথম দিনের সাক্ষাৎ আমাকে দেখে বেশভূষা বদলানোর জন্যে তাঁর চলে যাওয়া, জামগাছের নিচে বসে থাকা, খালপাড়ের সেই রহস্যময় আলাপ একই সঙ্গে মনে পড়ল আমার। মনটা উৎফুল্ল হয়ে উঠল। বললাম, হ্যাঁ হ্যাঁ। নিশ্চয়ই। কেমন আছেন তিনি? আর কবিতার বই বেরোয়নি তাঁর?
চাচা প্রথম প্রশ্নটাই বেছে নিলেন। একটু বিষণ্ন সুর ফুটে উঠল তার কণ্ঠে, না বিষণ্ন নয়, কেমন যেন অপরাধ বোধের ছোঁয়া তাঁর স্বরে; বললেন, ভালই আছে।
আমার মনটা অজানা আশঙ্কায় স্তব্ধহীন হয়ে উঠল। আস্তে আস্তে সব শুনলাম।
শুনলাম, গেল বছর ইলেকশানে দাঁড়িয়েছিলেন ঐ অঞ্চলের আলতাফ তালুকদার। চাচা জিগ্যেস করলেন, তালুকদার সাহেবের নাম আমি শুনেছি কি-না। বললাম, না। বললেন কেন আমি কি তাকে একদিন ফুফা সাহেবের বাড়িতে দেখিনি, তিনি এসেছিলেন? অধৈর্য হয়ে বললাম, সে কথা থাক, মুনশী সাহেবের কি হয়েছে তাই বলুন। তখন আবার তিনি বলতে শুরু করলেন। বললেন, তালুকদার সাহেব ইলেকশানে দাঁড়িয়েছিলেন। ফুফা সাহেব ছিলেন তার সমর্থক। তা ভোটের সময় কতো রঙেরই না প্রচার হয়, তুমি জান। পালা হয়, ভোজ হয়, সং বেরোয়, রং-বেরঙের নৌকা বেরোয়, গান বাঁধা হয়, সে গান হাটে হাটে গাওয়া হয়। ফুফা সাহেব কি কাজে খবর পাঠালেন দেখা করবার জন্যে। তিনি সেদিন আসতে পারলেন না। (ঘটনাটি সম্পূর্ণ শোনবার পর আমার মনে হয়েছে, আগে থেকেই মুনশী সাহেব আঁচ করতে পেরেছিলেন আর তাই আসেননি।)
পরদিন আবার লোক গেল তাঁর কাছে। তারা মুনশী সাহেবকে ডিঙ্গি করে নিয়ে এলো। ফুফা সাহেব বললেন, মুনশী, গান রচনা করা লাইগবে। শুইনছাও তো, তালুকদার সাহেব ইলেকশানে খাড়াইছেন। তারে পাস না করালি দ্যাশের আর মঙ্গল নাই। বুঝছ? দ্যাশের কাম বইলা তোমারে সম্মান করমু না তা না। তালুকদার সাব গুণীর মান রাইখতে জানে। আর আমার উপর কথা কি! কি_চুপ কইরা আছো যে! কোমর বাইন্ধা গান রচনা করো দেখি একখান।
আমার সময় নাই।
বজ্রপাতের মত শোনায় কবি আবদুর রহমান মুনশীর কণ্ঠস্বর। ফুফা সাহেব গর্জন করে ওঠেন, কী, কী কইলা?
কী আর কমু? সময় নাই সেই কথা কই।
মাথামুথা ঠিক আছে তোমার? এতবড় একটা কামে তোমার সময় নাই, সেই কথা আমার সামনে খাড়াইয়া কও?
চুপ করে থাকেন কবি।
তোমার মনের কথাডা কি কওছেন শুনি।
আমি গান রচনা কইরতে পারমু না।
ক্যান?
ফুফা সাহেবের দুচোখ ক্রোধে বিস্ময়ে ছোট হয়ে আসে। তাঁর কণ্ঠস্বর পাতলা ছুরির মত শোনায়।
মুনশী সাহেব উত্তর করেন, যে মানুষ না তার নামে গান রচনা কইরতে কন?
জবান সামলাইয়া কথা কইও, মুনশী। বনের মধ্যে বাঘের সামাল দিয়া পথ চলা লাগে। চোখমুখে বড় কথা কইও না। মানীরে মান দিয়া চইলো। যাও, কাইল সকালে তোমার গান আমি শোনবো। একখান থুইয়া দশখান শোনেন, আমি না করি না। কার জন্যে গান বান্ধি? আপনেরা দশজন আছেন, আপনেরা শোনেন বইলাই রচনা করি। এই অনুরোধ আমারে কইরেন না, খাঁন সাব। তালুকদার সাবেরে নিয়া গান রচনা আমারে দিয়া হবি না।
তুমি তাহলে রাজি না?
না।
তুমি ছাড়া দ্যাশে কবি নাই?
আছে।
কামডা ভাল কইরলা না, মুনশী। ভাইবা দ্যাখো, যা কইছো। এখনো মাফের ওক্ত আছে। কও কী কইরবা?
আমার কথা আমি কইয়া দিছি। যে ব্যাডা মানুষ না, যার হাত দিয়া গরিবের একডা কাম হয় নাই, যার প্যাডে এক মুখে আরেক কথা_আমি গান রচনা করমু তারে নিয়া? আপনে কন কি, খাঁ সাব!
শেষ কথাটি উচ্চারণের সময় মুনশী সাহেবের ঠোঁটে বোধ হয় বিদ্রূপের হাসি ফুটে উঠেছিল। আমার ফুফা সাহেব স্তব্ধ হয়ে ভাবলেন খানিক। তারপর চোখ তুলে বললেন, আইচ্ছা যাও।
সেলামালেকুম।
মুনশী সাহেব বেরিয়ে গেলেন। সালামের প্রত্যুত্তরটা পর্যন্ত পেলেন না। ফুফা সাহেব উপস্থিত সবাইকে শুনিয়ে বললেন, তোমারে আর গান রচনা করা লাগবি না, মুনশী। তোমার ওষুধ আমার জানা আছে।
ঘটনাটা শোনাতে শোনাতে চাচা বললেন, যাই কও মিয়া। ভাইসাব কামডা ভাল করেন নাই। না হয় নাই রাজি হছিল, তাই বইলা তার উপর অত্যাচার কইরবা তোমরা?
অত্যাচার বটে! পরদিন ভোরে দেখা গেল মুনশী সাহেবের ক্ষেতের ধানের বাড়ন্ত গাছগুলো কে নির্মূল করে কেটে নিয়ে গেছে। তার গাই দুটো একদিন মাঠ থেকে আর ফিরল না। তার ছেলে হাটে গানের বই বিক্রি করতে গেছে, তার সমস্ত বই কেড়ে খালের পানিতে ভাসিয়ে দেয়া হয়েছে। মুনশী সাহেবকে শাসিয়ে দেয়া হয়েছে, সে যদি গান বা কবিতা ভবিষ্যতে আর কোনদিন লেখে, আর তা শোনা যায়, তাহলে গ্রাম থেকে উচ্ছেদ করা হবে তাঁকে।
আমি বললাম চাচা, তোমরা গাঁয়ের জোয়ান ছেলেরা তার প্রতিবাদ করল না?
চাচা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। বলল, গাঁয়ে তো থাকো না, হাল হকিকতও জানো না। আমরা কেউ মানুষ না।
শুনলাম আবদুর রব মুনশী আজ আর লেখেন না।
ব্যথিত হয়ে আবারো প্রশ্ন করলাম, যেন কিছুতেই বিশ্বাস হচ্ছে না, সত্যি তিনি লেখা ছেড়ে দিয়েছে?
হ্যাঁ, এতো ভাল কবি আছিল। সব ছাইড়া দিছে। মাইনষের সাথে কথা পর্যন্ত কয় না আর। বোধ হয় মানুষকে কোনো না কোনোখানে নত হতেই হয়। কবি আবদুর রব মুনশী আর কবিতা লেখেন না, এর চেয়ে বড় পরাজয় আমি আর ভাবতে পারিনি সেদিন। তাঁকে একবার দেখার জন্য বড় ব্যাকুল হয়ে উঠল আমার মন। মনে হলো ফুফা সাহেবের অপরাধে আমি যেন অংশীদার। যেন আমিও তাঁর থেকে দূরে সরে গেছি।
চাচার সাথেই গ্রামে গেলাম। ফুফা সাহেব দেখে অবাক হলেন। পরিহাস করলেন, কি মিয়া, তোমারে কইছি না, গায়ের সিনারি তোমার দেখার কাম বেশি কইরা। এ যাত্রা থাইকা যাও কিছুদিন। এত ভাব গাঁয়ে আছে যে রচনা কইরা কুল পাইবা না।
পরদিন ভোর বেলায় চাচাকে নিয়ে চুপিচুপি মুনশী সাহেবের বাড়িতে গেলাম। সেই শ্রীমণ্ডিত ছোট্ট বাড়িটার চেহারা দেখে বিষম ধাক্কা খেলাম। শূন্য গোয়াল ঘরটা ভেঙ্গে পড়েছে। বার-বাড়িতে ঝাড়ু দেয়া হয়নি কতদিন। জামগাছের নিচে বাঁধা বাঁশের মাচায় বহুকাল কেউ বসে না। কাকপক্ষীর নোংরায় ভয়ে গেছে। শুনলাম, মুনশী সাহেব মাঠে গেছেন।
চাচা বলল, তাহলে ফিরে যাই। আমার যেন জেদ চেপে গিয়েছে। বললাম, না, দেখা করেই যাব। চলুন মাঠেই যাওয়া যাক।
মাঠের সন্ধান নিয়ে চাচা চলতে শুরু করল। আমি পেছনে পেছনে। মাথার ওপরে চড়চড় করে সূর্য উঠতে লাগল। পায়ের তলায় ব্যথা করতে লাগল। চোখে ধাঁধান রোদ্দুর ছাড়া আর কিছু দেখতে পেলাম না চারদিকে। পেঁৗছুলাম। সেখানে দাঁড়িয়ে চারদিকে চোখ মেলে দূরে দেখিয়ে চাচা বলল, ঐ যে কবি চাচা লাঙ্গল দিতাছে।
তাকালাম। সে দৃশ্য না দেখাও ভাল ছিল। পরনে একটা গামছা। আর কিছু না। শরীরের বাকি অংশ নগ্ন, লাঙ্গল ঠেলছেন কবি আবদুর রব মুনশী।
ঐটুকু দূরত্ব পেরুতে যেন এক যুগ লাগল আমার। কাছে গিয়ে দেখলাম সেই সৌম্য আত্মস্থ সলজ্জ সুন্দর চেহারার একি ভয়াবহ পরিবর্তন! গায়ের রং পুড়ে কালো হয়ে গেছে। শীর্ণ হয়েছে স্বাস্থ্য। ফুটে উঠেছে চোয়াল। চোখে এক ভীষণ উন্মত্ত দৃষ্টি জ্বলজ্বল করছে কোটরের গভীর থেকে। সারা গা বেয়ে ঘাম ঝরছে দরদর করে। লাঙ্গলের ওপর শরীরের সর্বশক্তি দিয়ে চাপ দিয়ে মাটিকে চিরে চিরে এগিয়ে যাচ্ছেন কবি।
আমাকে দেখে ক্ষণিকের জন্যে তিনি তাকালেন। তার পরমুহূর্তে আমাকে নিষ্করুণভাবে উপেক্ষা করে গরু দুটোকে নির্মমভাবে নড়ি দিয়ে পেটাতে লাগলেন। একটা হিংস্র গড়গড় আওয়াজ তুলে দ্রুত লাঙ্গল ঠেলে এগিয়ে গেলেন।
আমার মনের মধ্যে কেমন একটা অনুভূতি হলো_যা ভয় নয়, বেদনা নয়, এক সঙ্গে দুটোই এবং কোনোটাই নয়। যন্ত্রচালিতের মত হাত উঠল আমার সালামের ভঙ্গিতে। অস্ফুটস্বরে উচ্চারণও করলাম। কোনো জবাব এলো না।
চাচা কানে কানে বলল, চলো যাই। তোমারে বোধ হয় চিনবার পারে নাই।
তখন আমার মনে হলো হয়তো সত্যি। সত্যি হোক মিথ্যা হোক সেখানে আর দাঁড়াতে পারলাম না আমি। উল্টো মুখে হাঁটতে শুরু করলাম। কলাই ক্ষেতের ঢালু বেয়ে নামতে নামতে একবার কি মনে হলো, পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখি, দূরে ঢালুর মাথায় আকাশের পটভূমিতে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন কবি আবদুর রব মুনশী। আমাকে দেখছেন।
ফুফা সাহেবের শত অনুরোধ সত্ত্বেও একদিনের বেশি এখানে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব হলো না। ফুফুজান অশ্রু মোচন করলেন। তাকে বললাম, সিরাজগঞ্জ হয়ে যাচ্ছিলাম, ভাবলাম আপনাকে দেখেই যাই, তাই আসা। আমি সময় পেলেই আসব এবং অনেকদিন থাকব। আমার মরহুম আব্বার একমাত্র জীবিতা বোন তিনি। মাথায় দিব্যি দিয়ে প্রতিজ্ঞা করিয়ে নিলেন, আমি যেন শিগগিরই আসি।
আমি এতদূর করেছি কবির সঙ্গে দেখা করতে, আর এই রকম একটা ঘটনা ঘটল_ব্যাপারটা আমার চাচাকে বিব্রত করেছিল খুব। সে আরেকবার গিয়েছিল সে রাতে কবির বাড়িতে আমার সংবাদ নিয়ে। আমার কথা তুলতেই তিনি নাকি বলেছেন, না, না, আমি আর রচনা করি না। তার সাথে দেখা করার কোনো কাম নাই আমার। কইয়া দিও, সে য্যান আর না আসে।
চাচার কাছেই শুনলাম, মুনশী সাহেব আর তো লেখেনই না, তাঁর পুরনো গান কেউ গাইলে পর্যন্ত ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। ইস্কুলের সভায় তাঁর কবিতার আবৃতি বন্ধ হয়ে গেছে অনেক আগেই। তালুকদার সাহেব ইলেকশানে জেতার পর কোথা থেকে দুই ছোকরা গায়েন এনে আবদুর রব মুনশীর বার-বাড়িতে লেঠেল দাঁড় করিয়ে গান করিয়েছেন সারারাত। সে গানের বিষয় ছিল মুনশী সাহেবের ঊর্ধ্বতন আর অধস্তন চৌদ্দপুরুষের আদ্যন্ত শ্রদ্ধা। অশ্লীল খেউর এর সঙ্গে তুমুল রবে সারারাত বেজেছে ঢোল কাঁসর। কোমর লুকিয়ে চেনে চিৎকার করে তারা সারারাত গান করে গেছে।
আমার মনে হলো তিনি তো ইচ্ছে করলেই স্ত্রী-পুত্রের হাত ধরে গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে পারতেন। ভীষণ আক্রোশ হলো এই ভেবে যে, কেন তিনি গেলেন না? না হয় ভিক্ষা করে খেতেন, দিন মজুর খাটতেন, অনাহারে মারা যেতেন, এ পরাজয় কেন মাথা পেতে নিলেন তিনি? কেন তার কাব্য রচনার ইতি স্বীকার করে নিলেন?
বিক্ষুব্ধ চিত্তে বিদায় নিলাম গ্রাম থেকে। প্রশ্নগুলোর জবাব আমি বছর দুয়েক পরে পেলাম এবং আমার সৌভাগ্য, স্বয়ং কবি আবদুর রব মুনশীর কাছ থেকেই।
বছর দুয়েক করে আরেকবার আমি গ্রামে আসি ফুফুজানের সঙ্গে প্রতিশ্রুত দেখা করতে, কিছুদিন বিশ্রাম নিতে। ঢাকায় তখন অত্যধিক কাজের চাপে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। ডাক্তারের পরামর্শে বিশ্রাম গ্রহণের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়লাম একদিন।
গ্রামে এসেই মনে পড়ল মুনশী সাহেবের কথা। চাচা সরকারি চাকরি না পেয়ে গ্রামেই ডাক্তারি শুরু করে দিয়েছিলেন। পশার হচ্ছিল মন্দ না। সে ভোরে আমার সঙ্গে দেখা করতে এলো। সারা গ্রামে এ-ই আমার একমাত্র বন্ধু যার কাছে নির্ভয়ে সব বলতে পারি, খোঁজ নিতে পারি। তার কাছেই শুনলাম, মুনশী সাহেব ভীষণভাবে অসুস্থ। শুলব্যাধিতে শয্যাশায়ী, উৎকট বেদনায় দিনরাত চিৎকার করেন। মৃত্যুর বোধ হয় আর বড় বেশি দেরি নেই।
বড় অসহায় মনে হলো নিজেকে। তাঁর আর্ত চীৎকার যেন আমার কানের কাছে এসে ধাক্কা মারতে লাগল। চাচাকে বললাম, আমি তাঁকে দেখতে যেতে চাই।
চাচা উত্তর করল, আজ থাক। আজ সে দেখতে যাবে কবিকে। আমার কথা বলবে। চুপি চুপি সে-ই চিকিৎসা করছে তাঁর।
রাতে খাওয়া দাওয়া সেরে চাচা এলো আমার সঙ্গে গল্প করতে। সেই খালপাড়ে গিয়ে বসলাম আমরা দুজন। আজ বড় শূন্য মনে হতে লাগল সব কিছু। চাচা বলল, তোমার কথা কবি চাচারে বলছি।
কী বললেন তিনি?
শুইনা খুশি হইল। আমার হাত ধইরা কইলো, তারে নিয়া আসতি পারো?
মনটা তখুনি তাঁর কাছে যাবার জন্যে উন্মুখ হয়ে উঠল আমার। সারারাত তাঁর কথা মনে পড়তে লাগল কেবলি।
পরদিন সকালে চাচার সঙ্গে গেলাম মুনশী সাহেবের বাড়িতে। এ কবছরে বাড়িটার ভগ্নদশা আরো বেড়েছে। গোরস্থানের মতো পতিত, পরিত্যক্ত মনে হচ্ছে। আগাছায় বার-বাড়িটা ঢেকে গেছে।
খবর পেয়ে মুনশীর বড় ছেলে ভেতরে নিয়ে গেল আমাদের। ছেলেটা মাথায় বড় হয়েছে বেশ, গোঁফ উঠেছে, মুখের সেই শ্যামল ভাবটা মরে গিয়ে একটা ক্ষুধার্ত রূপ ফুটে উঠেছে সেখানে।
ঘরে ছেঁড়া চাটাইয়ের ওপর শুয়ে আছেন কবি। আজ জীবন্ত মানুষ বলে তাকে ধারণা করতে কষ্ট হয়। মনে হয়, একটা কংকাল সজীব হয়ে উঠবার চেষ্টা করছে। আমাকে দেখে হাতটা বাড়িয়ে দিলেন। আমি সেই উদগ্রীব শীর্ণ হাতটা মুঠোর মধ্যে নিয়ে তাঁর পাশে বসে পড়লাম। তিনি ব্যগ্র চোখ মেলে আমাকে দেখতে লাগলেন। কিছু বলবার চেষ্টা করলেন, কিন্তু নিঃশ্বাস নিতে ভীষণ কষ্ট হতে লাগল তাঁর, বলতে পারলেন না।
আমি বললাম,
আবার আপনি ভাল হয়ে উঠবেন। চাচা আমাকে বলেছে এ রোগ কিছু না।
আমার সে কথা যেন তাঁর কানে গেল না। তিনি আপন মনে বললেন, প্রায় ফিসফিস করে, আপনে আসছেন। কত কথা কইবার আছে। কী খুশি হইলাম ডাক্তারের কাছে শুইনা। ভাল আছেন আপনে? বই লেখেন নাই আর?
বলতে বলতে তিনি আমার মুঠো থেকে তাঁর হাত ছাড়িয়ে নিয়ে আমার শরীরকে ব্যাকুল দু'হাতে স্পর্শ করতে লাগলেন। আমার চোখ সজল হয়ে উঠল।
চাচা উঠে দাঁড়াল।
আমি কাছেই একটা রুগী দেখে আসি। তুমি কথা কও। কবি চা তুমি কাইন্দোনা কইলাম কানবার কিছুই নাই। ভাল হইয়া উঠবা। আমি আসতাছি।
চাচা চলে গেলে মুনশী সাহেব বললেন, মিয়াসাব ডাক্তার হইলেন কি হয়, জ্ঞান হয় নাই। আমার মৃত্যু আইসতাছে। তারে ঠেকাবে কেডা? ডাক্তার? আমার মওতো আমি চিনি না? সেই সনে আসলেন, আপনারে সাথে খারাপ ব্যবহার করছি, কথা কই নাই ভাই, আমাকে মাফ কইরা দিও।
আমি তাড়াতাড়ি সে প্রসঙ্গ চাপা দেবার জন্যে বললাম, আমি কিছু মনে করিনি। আমি সব শুনেছি। আপনি আমাকে পেছন থেকে দেখেছিলেন, তাও দেখেছি। আপনি অনেক বড়, একদিন ও গ্রাম আপনার জন্যে গৌরব বোধ করবে। তারা বলবে, এই গাঁয়ে কবি আবদুর রব মুনশী বাস করতেন। তারা বলবে, তিনি ঐ জামগাছটার নিচে বসে গান রচনা করতেন, কবিতা লিখতেন।
আমাকে যেন নেশার মতো পেয়ে বসেছিল, তাঁর চোখের সমুখে ভবিষ্যতের ছবিগুলো তুলে ধরেছিলাম। বলতে বলতে আমার গলা ধরে আসছিল। তবু আমি বলে চলেছি। আমার কথা শুনতে শুনতে তিনি শয্যায় উঠে বসলেন স্বপ্নগ্রস্তের মতো, চোখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল তাঁর, আনন্দে মুখের রেখাগুলো থর থর করে কাঁপতে লাগল। আমি তাঁর হাত ধরে বললাম, এ সবই সত্যি হবে দেখবেন। আপনার দুঃখ করবার কিছু নেই। একদিন সবাই আপনাকে বুঝতে পারবে, তারা তাদের ভুলের জন্যে লজ্জিত হবে।
যে রূপকথা শোনাচ্ছি তাঁকে তাঁর চোখ মুখ থেকে শিশুর উজ্জ্বল আগ্রহ ঝরে পড়ছে। আমাকে ভবিষ্যতের দূত মনে করছেন তিনি। যেন বিশ্বাস হচ্ছে না, তাই আবার আমাকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখছেন।
তাঁর বড় ছেলে এক গেলাশ গুড়ের শরবত এনে আমার সমুখে রাখলেন। উঠোনে দেখলাম কবির স্ত্রী মাথায় কাপড় নিয়ে একখণ্ড বেদনার মতো মুখটাকে দরোজার আড়ালে রেখে আমাকে দেখছেন।
মুনশী সাহেব বললেন, শরবত খান।
বলে নিজেই গেলাশটা তুলে দিলেন আমার হাতে। যতক্ষণ আমি পান করলাম নিঃশব্দে দেখলেন। তারপর শুয়ে পড়লেন বিছানায়। বললেন, আপনারে ডাকছি, ডাক্তারের কাছে সেবার মিছা কথা কইয়া পাঠাইছিলাম। দিন শেষ হয়ে আসছে আমার। তালুকদার সাবে আমার ক্ষতি করতে পারে নাই। এখন কইতে আর ভয় নাই আমার, আমি রচনা থামাই নাই। কথা না কইয়া মানুষ বাঁচিতে পারে? আমি কতো কবিতা গান রচনা করছি তারপরে। সব ল্যাখা আছে। লেইখা তোরঙ্গে বন্ধ কইরা থুইছি। আইজ না হউক কাইল তা লোকে জানাত পাইরবে। আপনেরে আমি ডাকছি, আমার কবিতাগুলো একখানা বই কইরা ছাপাইয়া দিয়েন। আপনে পারবেন। দিবেন?
একটা আশ্চর্য শিহরণ বোধ করলাম, সমস্ত অন্তরের মধ্যে অপূর্ব একটা আনন্দ হলো। কবি আবদুর রব মুনশী মরে যায়নি। সেই খররৌদ্রে সারাদিন লাঙ্গল চষে বাড়ি ফিরে রাতের অন্ধকারে গোপনে গোপনে তিনি রচনা করে গেছেন।
তাঁর বড় ছেলেকে বললেন, তোরঙ্গ খুলে কবিতাগুলো দিতে। সে পুরনো একখণ্ড কাপড়ে যত্ন করে বাঁধা লেখা পুঁটুুলী এনে দিল। মুনশী সাহেব ইশারা করলেন আমাকে পুঁটুলীটা তুলে দিতে। এক মুহূর্তে ভারি নিরাসক্ত নির্লিপ্ত মনে হলো তাঁকে। এতো যে আগ্রহ, এতো যে মমতা, লেখাগুলো স্পর্শ পর্যন্ত করলেন না তিনি, তাকিয়ে দেখলেন না আর। চোখ থেকে টপটপ করে পানি গড়িয়ে পড়তে লাগল শুধু। মুখ ফিরিয়ে বিকৃত কণ্ঠে বললেন, কতদিন ভাবছি, এক দ্যাশ ছাইড়া যে দিক দুই চোখ যায় চইলা যামু। আবার ভাবছি, কোথায় যামু এই মাটি ফালাইয়া। এই চান সূর্য, গাছ-গাছালি, ম্যাঘ বাদল, আর কোনো দ্যাশে আছে? আমি চইলা গেলে অন্যায় তো আর আমার সাথে সাথে যাবি না। এই দেশেই রয়্যা যাবি। তো আমার চইলা যাওয়ার লাভ? তাই মাটি ধইরা পইড়া ছিলাম। মাটির সাথে কতো কথা কইছি। কইছি, মাটিরে তুমই আমার মা, কত দুঃখে তুই কালাবরণ হইছাস রে তা আমি জানি না? তুইি তো আমারে পর করস নাই, আমি তরে ছাইড়া যামু কোন দুঃখে। তুই আছস, আমার সব আছে।
বলতে বলতে তার ফেরান মুখটি তিনি নামিয়ে নিলেন আরো; মেঝের ওপর মুখ রেখে ক্রন্দন কম্পিত শব্দগুলোকে বুকের ভেতর থেকে বের করে চলেছেন, তাঁর দুঃখ দিনের নিঃসঙ্গ সাধনার পুষ্পগুলো আমার হাতে তুলে দিয়েছেন। মাথার কাছে লোকটা বসে আছে অবোধ চোখে, কবি আবদুর রব মুনশীর সঙ্গে সেই আমার শেষ সাক্ষাৎ।
আমার একমাত্র শোক এই জন্যে যে, তাঁর এ কাব্যে সংগ্রহ তিনি দেখে যেতে পারলেন না।
সে আজ থেকে বছর দশেক আগের কথা। আমার প্রথম গল্পের বই প্রকাশিত হয়েছে। তার নামোল্লেখ না করেই বলি, বইটি ছিল নিতান্তই প্রথম প্রয়াস। আজ পেছনের দিকে তাকিয়ে মনে হয়, সে বইটিকে নিয়ে বালিশের নিচে নিয়ে কত বিনিদ্র রাতই না যাপন করেছি, কত সুরসিক, প্রাজ্ঞ সুরুচিবান পরিচিত শ্রদ্ধেয়কেই না আশংকিত হৃদয়ে, অকল্পিত হাতে উপহার দিয়েছি সে বই।
তখন আমি কোথাও বেরুলে সে বইয়ের কয়েকটি কপি আমার সঙ্গে থাকত। যিনিই আন্তরিকতা নিয়ে দু'দণ্ড কথা বলতেন, তাঁকেই এক কপি বই উপহার হিসেবে লিখে দিতাম।
তখন কবি আবদুর রব মুনশীর সঙ্গে আমার প্রথম দেখা হয়। দীর্ঘকাল পরে আমি সেবার ফুফুজানের বাড়িতে গেছি। ফুফুকে দেখার চেয়ে গ্রাম দেখার ইচ্ছেটাই ছিল প্রবল।
গ্রামটি সত্যিই গ্রাম। শহর থেকে প্রায় সতের মাইল দূরে, এক টেরে পড়ে আছে। সেখানে যাবার কোনো সরকারি বা নিয়মিত সড়ক নেই। বর্ষায় এক রকম পথ, গ্রীষ্মে আরেক রকম। ফুফা সাহেব সাইকেলসহ লোক পাঠিয়ে দিয়েছিলেন শহরের রেল স্টেশানে। গ্রামে পেঁৗছুলাম যখন, তখন রাত এগারটা। হিসেবমতো সন্ধে নাগাদ পেঁৗছে যাবার কথা। কিন্তু পথে সাইকেল বিকল হয়ে যাওয়ায় বাকি পথ হাঁটতে হয়েছে এবং সে হাঁটাটা খুব গতিময় হয়নি; একে আমি গেঁয়ো পথ চলতে অনভ্যস্ত তার ওপর বিকল সাইকেলের ভার।
একটা খালের ওপারে আমার ফুফুজানের বাড়ি। খালটা ডিঙ্গি করে পেরুতে হবে। খালের এপার থেকেই দেখতে পেলাম ওপারে ছায়ামূর্তির মতো কয়েকজন উৎসুক হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। পেঁৗছে দেখি ফুফা সাহেব উৎকণ্ঠিত হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, আর তার পেছনে ফুফুজান অশ্রুসজল। পথের দুর্ঘটনা তৎক্ষণাৎ বিবৃত করলাম।
সেই রাতেই আবদুর রব মুনশীর নাম প্রথম শুনলাম। ফুফা সাহেব বললেন যে, মুনশী সাহেব সন্ধ্যে থেকেই অপেক্ষা করেছিলেন কখন আমি এসে পেঁৗছুব। তিনি শুনেছেন, আমি লিখে থাকি, আমাকে দেখতে চান। এবং সেই খাওয়ার আসনেই জানতে পেলাম মুনশী সাহেব কবিতা লেখেন, গান বাঁধেন। ফুফা সাহেব বললেন, কাল একবার আসবে তোমার সঙ্গে আলাপ করতে।
আমি খুব রোমাঞ্চিত বোধ করেছিলাম, মনে আছে। সেটা সম্ভবত এইজন্যে যে, আমি লিখি শুধুমাত্র এই কারণে একজন আমার সঙ্গে দেখা করতে আগ্রহী। আমার যতদূর মনে হয়, আবদুর রব মুনশীই প্রথম মানুষ যিনি লেখক হিসেবে আলাপ করতে এগিয়ে এসেছিলেন আমার কাছে।
কিন্তু পরদিন তিনি এলেন না। তারপর এক সপ্তাহ চলে গেল, তাঁর সাক্ষাৎ পেলাম না। আমি মাঝে মাঝেই ফুফু সাহেবকে তাঁর কথা জিগ্যেস করতাম, তিনি বিরক্ত বোধ করতেন। বলতেন, মুনশীর কথার ঠিক নাই। দ্যাখোগা কোথায় আসর জমাইয়া বসেছে। তোমরা কবিরা হইলা গা পাগল ছাগল মানুষ।
আমি স্মিতহাস্যে উপহাসটুকু ঢাকবার চেষ্টা করতাম। গ্রামের সামাজিকতা আমার জানা ছিল না। শুনলাম, মুনশী সাহেবের বাড়িতে আমি নিজে গেলে তা ফুফা সাহেবের সম্মানহানির কারণ হবে। ফুফা অবস্থাপন্ন মানুষ, মুনশী সাহেব মাত্র কয়েক বিঘে জমির ওপর নির্ভর করে চলেন, এক্ষেত্রে কোনোমতেই তাঁর বাড়িতে আমার যাওয়া সাজে না।
মনের মধ্যে মুনশী সাহেবের জন্যে আকর্ষণ প্রবলতর হয়ে উঠল।
একদিন এক অভাবিত সুযোগ মিলে গেল। ফুফা সাহেবের এক চাচাতো ভাই ছিল আমারই সমবয়সী। তাকে আমি চাচা বলে ডাকতাম। অবস্থা ছিল গরিব, অতিকষ্টে শহরে কম্পাউন্ডারি পড়ছিল সে। তার সঙ্গে ডিঙ্গি করে সেদিন খাল বেয়ে বেড়াতে বেরিয়েছিলাম। লগি ঠেলছিল চাচা। যাবার কথা ছিল বউমারী বিল পর্যন্ত, সেখানে গিয়ে এই খাল মিলিত হয়েছে।
আমার সঙ্গে লেখার ব্যাগ। তাতে কাগজ, কলম আর আমার দু'কপি বই রয়েছে। গ্রামে এসে একটা কাজ করছিলাম, আর তা হচ্ছে চারদিকে দেখা গাছপালা লতা পাতা পাখির নাম আর বর্ণনা লিখে রাখা। লেখার ব্যাগটি তাই সঙ্গে সঙ্গে চলেছে। উনিশ বছর বয়সে সাহিত্যের জন্যে তখন সবকিছুই জরুরি মনে হতো, মনে হতো সব কিছু ধরে রাখা কর্তব্য আগামী রচনার জন্যে।
এগিয়ে চলেছি বউমারীর দিকে। হঠাৎ চাচা বলল, দূরে একটা বাড়ি দেখিয়ে, ওটাই আবদুর রব মুনশীর বাড়ি। আগ্রহে চোখ তুলে তাকালাম। দূর থেকে জামগাছ সুপারিগাছ ঢাকা একটা টিনের চালা চোখে পড়ল। বার বাড়ির উঠোন খাড়া নেমে এসেছে খালের পানিতে। আমার চোখের সমুখে চলমান ডিঙ্গির প্রেক্ষিতে বাড়িটা একখণ্ড ছবির মতো চক্রাকারে সরে আসছে কাছে। চলো না, মুনশী সাহেবের বাড়ি যাই।
চাচা যেন অস্পষ্ট একটা ভঙ্গি করল নিষেধের। কিন্তু সেটা আমার চোখে ভুল হবে হয়তো।
বলল, যাইবা?
হ্যাঁ, চলুন না।
বাড়িতে আছে কি নাই।
চাচা সন্দেহের প্রকাশ করলেন। আমি যথাসম্ভব কণ্ঠ স্বাভাবিক রাখবার চেষ্টা করে বললাম, তবু চলুন, দেখতে ক্ষতি কি!
ততক্ষণে খাল থেকে একটা উপখালে আমাদের ডিঙ্গি এসে ঢুকেছে। তার পাড়ে মুনশী সাহেবের বাড়ি।
বাড়ির ঘাটে ডিঙ্গি বাঁধল চাচা। আমরা খাড়া পাড় বেয়ে উঠে গেলাম ওপরে। পরিষ্কার করে ঝাড়ু দেওয়া বার-বাড়ি। দুটো বড় বড় জামগাছ বাইরের ঘরের রোয়াক ঘেঁষে উঠেছে। একটার নিচে বাঁশ দিয়ে বসবার মাচা বাঁধা হয়েছে। আরেকটা গাছের নিচে এক গাদা খড়ের স্তূপ। দুটো গাই অলসভাবে সেই খড় চিবোচ্ছে। শোনা যাচ্ছে, খালের পানিতে মাটি ভাঙ্গার ঘুপ ঘুপ শব্দ। আর কিছু না। সমস্ত বাড়িটা নির্জন।
চাচা বেড়ার দরোজার কাছে দাঁড়িয়ে গলা তুলে ডাকতে লাগল, অ কবিচা, বাড়িতে আছো না? অ কবিচা।
একটা শব্দ শোনা গেল। মানুষের গলা। কে একজন আধা প্রৌঢ় লোক বেরুল, তার খালি গা। পরনে একটা লুঙ্গি। আর কিছু না। কনুই পর্যন্ত দু'হাতে মাটি আর তুষের মাখামাখি। মাত্র একটি মুহূর্ত লোকটির চোখ পড়ল আমার ওপর, সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে সে টেনে নিল, লুকিয়ে ফেলল, দ্রুত পায়ে চলে গেল ভেতরে। চাচা উচ্চকণ্ঠে বলে উঠল, অ কবিচা, গেলা ক্যান? দ্যাহো কেডা আইছে।
কিন্তু উত্তর আর এলো না।
কিছুক্ষণ পরে একটা ছোট্ট মেয়ে, ডুরে পরা, হাতে গুড়ের দলা, এসে চাচাকে বলে গেল, বসতে কইছে বাজান।
প্রায় আধ ঘণ্টা পরে বেরিয়ে এলেন কবি আবদুর রব মুনশী। পরিষ্কার করে ধোয়া একটি লুঙ্গি পরেছেন, গায়ে ছেঁড়া কিন্তু ধবধবে সাদা পাঞ্জাবি, তার উপরে গেরুয়া রঙের উড়ুনি জড়ানো, পায়ে কাঠের উঁচু খড়ম, মাথায় কিশতি টুপি। আমি তাঁকে হাত তুলে আদাব জানালে তিনি ভারি বিব্রত বোধ করলেন এবং আমার দিকে চোখ ফিরিয়ে চাচার ওপরে চোখ রাখলেন, নিঃশব্দে হাসলেন একটু, যেন আমি সেখানেই উপস্থিত নই। বললেন, বসেন, বসেন, ডাক্তার সাব।
কম্পাউন্ডারি পাস করার আগেই চাচা ডাক্তার হয়ে উঠেছে জেনে খুব আমোদ বোধ করলাম।
আমি মুনশী সাহেবকে দেখতে লাগলাম।
তিনি চাচার সাথে আলাপ তুললেন, তার ডাক্তারি কতদূর শেষ হলো, প্রসঙ্গ আনলেন স্থানীয় ইস্কুলের নতুন বাংলা মাস্টারের, অদূরেই গাই দুটো দেখিয়ে বললেন, আজকাল ছ'সের সাড়ে ছ'সের দুধ হচ্ছে।
আমি বুঝে উঠতে পারছিলাম না। অনুভব করছিলাম, আমার একটা কিছু বলা দরকার। বললাম, শুনলাম, আপনি কবিতা লেখেন।
না, কই?
আবদুর রব মুনশী সচকিত কণ্ঠে বললেন। তারপর হেসে ফেললেন যেন ধরা পড়ে গেছেন।
সংসারের কাজে সময় পাই না।
তারপর হয়তো ভাবলেন, এটাও যথেষ্ট বলা হলো না, লজ্জিত হয়ে যোগ করলেন, আমাদের রচনা আপনাদের ভাল লাইগবে? লেখাপড়া শিখি নাই, গাঁয়ে জামাল হোসেন বয়াতি আছিল আর আমার বাল্যকালে এক হেড মাস্টার খুব ভাল গদ্য রচনা কইরতো, তাঁদের দেইখা দেইখা নিজের হাউসে নিজেও রচনা করছি। মাইনষে অনর্থক আমারে কবি-সাব কয়। আমি কিছু না।
কথাগুলো একটানা পড়ে যাওয়া যায়। কিন্তু তাঁর সেই কথনভঙ্গি আমি জীবন্ত করে তুলব কি করে? থেমে থেমে, হাতের নানা রকম ভঙ্গি করে, আমার দিকে না তাকিয়ে খালের অপর পাড়ে কয়েকটা চলমান মানুষের দিকে চোখ রেখে, তিনি কথাগুলো বলে গেলেন।
প্রতিবাদ করল আমার চাচা। বলে উঠল, দুরো। কবি সাবের রচনা তুমি দ্যাখো নাই। এমুন সুন্দর রচনা দশ বিশ গাঁয়ে কেউ কইরতে পারে না। এই অঞ্চলে কবিচার গান মাইনষে মুখে মুখে গায়্যা থাকে। তার পইদ্য ইস্কুলের সভায় আবৃত্তি করে গাঁয়ের ছাত্রেরা।
আমি বললাম, আপনার জন্যে আমার একখানা বই এনেছি। উপহার দিতে চাই।
এতকাল, আগেই বলেছি, বহুজনকে সামান্য আলাপের সূত্রে আমার বই দিয়েছি। আজ যেন বই দিতে গিয়ে মনের মধ্যে একটা অনির্বচনীয় আনন্দ বোধ জাগরিত হলো।
কম্পিত হাতে তিনি বইটা নিলেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁর চোখ অত্যন্ত উজ্জ্বল হয়ে উঠল। আমার নিজ হাতে লেখা তাঁর নামটা অনেকক্ষণ ধরে দেখলেন, তারপর পাতা ওল্টালেন, কয়েকটা পাতা ওল্টাবার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর চোখ যেন চিন্তামগ্ন হয়ে উঠল। হঠাৎ বই বন্ধ করে উঠে দাঁড়ালেন এবং কিছু না বলেই বাড়ির ভেতরে চলে গেলেন।
চাচা বলল, চলো যাইগ্যা। সইন্ধ্যা হয়।
মুনশী সাহেব ফিরে এলেন। হাতে একটা পকেট সাইজের বই, সবুজ কাগজের মলাট। বললেন, একখানা বই ছাপিয়েছিলাম আমার।
বইটার নাম 'মনিহার'। নিচে এক তোড়া গোলাপের ছবি, মফম্বলের প্রেসে যে ছবিটা বিয়ের উপহারে সাধারণত ছেপে থাকে। তারও নিচে লেখা আবদুর রব মুনশী প্রণীত ও প্রকাশিত। ফুলস্কেপের আট ভাঁজ ছাপা বই, ভাঙ্গা টাইপের অযত্নে ছাপা। আশি পৃষ্ঠা। দাম দশ আনা। মুনশী সাহেবের প্রথম বই।
চাচা বলল, ক্যান, তোমার না আরাকখানা বই আছে?
বললাম, তাই নাকি? সেটা দিলেন না?
মুনশী সাহেব লজ্জিত স্বরে উত্তর করলেন, সেখান ঘরে নাই। কয়েকখানা গান দিয়া বইটি ছাপছি। আমার বড় ছেলে তা বিক্রি কইরতে গেছে সাতবেড়ের হাটে।
বিস্মিত হয়ে শুনলাম, প্রতি হাটে তাঁর গানের বই নিয়ে তাঁর বড় ছেলে বসে। তার কণ্ঠ খুব সুরেলা। সে গান গেয়ে বই বিক্রি করে যে কটি পয়সা পায় তা দিয়ে সওদা কিনে বাড়ি ফেরে। হাট ভাঙ্গবে রাত এগারটায়। মুনশী সাহেব বললেন, কাল সকালে তিনি সে বই আমাকে দিয়ে আসবেন। বাড়ির ভেতর থেকে মুড়ি মাখানো আর বেলের শরবত এলো।
সেই আমার প্রথম সাক্ষাৎ আবদুর রব মুনশীর সঙ্গে।
রাতে এসেই কবিতার বইটা পড়ে ফেললাম। প্রায় সবগুলো কবিতা প্রকৃতি বিষয়ক, ঋতুকেন্দ্রিক। কিছু রচনা আছে যা ঈশ্বরের মহিমা বিবৃত করেছে। কিছুই রচনা কোনো এক রহসময়ী চিরসুদূরবর্তিনী রমণীর উদ্দেশ্যে নিবেদিত।
পরদিন মুনশী সাহেবের কিশোর বয়সী বড় ছেলে এসে তাঁর গানের চটি বইটি আমাকে দিয়ে গেল। তাতে জীবনের অনিত্যতার সুর ধ্বনিত। প্রতিটি গানের ওপর তার রাগ রাগিনীও তালের নির্দেশ লেখা। আমি তাঁর ছেলেকে অনুরোধ করলাম যে-কোনো একটি গান শোনাবার জন্যে। সে বলল, সঙ্গে যন্ত্র নেই, পরে শোনাবে। আবার অনুরোধ করলাম। সে তখন গাইতে শুরু করল। আশ্চর্য দরাজ কণ্ঠ তার। প্রায় অপ্রত্যাশিত। সুরের অবলম্বনে কথাগুলো যেন ধুলোর ধরণী ছেড়ে মুহূর্তে অমর লোকের দিকে যাত্রা করল। খালে দুরন্ত পানির কুলুকুলু ধ্বনি সে সুরের সহযাত্রী হলো। আমার চেতনার মধ্যে সঞ্জারিত হয়ে গেল আকাশ-বাতাস-নদী জীবনের নেশা।
সেদিন সন্ধ্যে বেলায় আমি ডিঙ্গি নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম মুনশী সাহেবের বাড়ির দিকে। এতদিনে আমি লগি চালানোর কৌশল অনেকখানি আয়ত্ত করে ফেলেছি চাচার কাছ থেকে। জানি, ফুফা সাহেব টের পেলে আমাকে বেরুতে দেবেন না, অপটু হাতে ডিঙ্গি বেয়ে নিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায়। কাউকে না বলেই বেরুলাম।
সেই সন্ধের কথাও ভুলতে পারব না। গোধূলির রক্তিম নীল আলোয় অত্যন্ত উদাস হয়ে এসেছে চারদিক। পেঁৗছে দেখি, যেন আমারই অপেক্ষায় কবি আবদুর রব মুনশী জামগাছের নিচে বাঁধা মাচার উপর বসে খালের দিকে তাকিয়ে আছেন। বড় ব্যস্ত হয়ে উঠলেন দেখে, বললেন, একাকী এভাবে আমার ডিঙ্গি চালান মোটেই নিরাপদ নয়।
সেই প্রথম, খুব স্পষ্ট করে, আমি হঠাৎ একাত্মবোধ করলাম তার সঙ্গে। তাঁর কাছে আসাটা যে ফুফা সাহেব মোটেই পছন্দ করেন না তা মনে করে তীব্র এক দংশন বেদনার অনুভূতি সঞ্চারিত হয়ে গেল আমার ভেতরে। সমস্ত গ্রামে মুনশী সাহেব ছাড়া আর সব কিছুই আমার কাছে অসত্য অচেনা বলে মনে হতে লাগল।
আমরা দুজন চুপচাপ বসে রইলাম সেই জামগাছের নিচে। আস্তে আস্তে সমস্ত পৃথিবী অন্ধকার হয়ে এলো। দূরে অন্ধকার বিন্দু বিন্দু তিনটে চারটে আলো দেখা দিল। যেন তারা জানান দিয়ে গেল ওখানে মানুষ আছে, তার ঘর আছে। দুধেল গাই দুটো ডেকে উঠল একবার। চমক ভেঙ্গে মুনশী সাহেব উচ্চকণ্ঠে ছেলেকে ডাকলেন, 'গোয়ালে বাতিটা ধররে'।
তাঁর শঙ্কাকুল কণ্ঠ শুনে বিস্মিত হলে তিনি স্বাভাবিক সুরে বললেন, কখনো কখনো গোয়ালে সাপ আসে বাঁট থেকে দুধ চুষে খেতে। আমি শিহরিত হয়ে উঠলাম।
সেই সন্ধ্যায় বাস্তবের প্রতিটি শব্দ, ঘটনা, উপস্থিতি আমার কাছে জীবনের গভীর সত্যের ব্যঞ্জনা সৃষ্টি করতে লাগল।
তিনি আমাকে ফুফা সাহেবের ঘাট পর্যন্ত পেঁৗছে দিয়ে গেলেন নিজের লগি ঠেলে।
কয়েকদিন পর তিনি নিজে এলেন আমার সঙ্গে দেখা করতে। ফুফা সাহেব এক অদ্ভুত মানুষ। মুনশীর বাড়িতে যেতে নারাজ, কিন্তু তিনি যখন এলেন, তাঁকে অভ্যর্থনা করলেন সহাস্য কণ্ঠে। বসবার জন্যে চেয়ার আনতে বললেন। তারপর আলবোলায় দীর্ঘ টান দিয়ে প্রশ্ন করলেন, কও কবি কেমন আছো। আমাদের কবির সাথে তোমার আলাপ হইছে?
অপ্রিয় সত্য বেরিয়ে পড়ার ভয়ে আমি বলে উঠলাম, হ্যাঁ, চাচার সঙ্গে হাটে গিয়ে দেখা হয়েছে।
ফুফা সাহেবের কাছে দরবারের জন্যে গ্রামের লোক এসে ঘিরে বসল। আমি আর মুনশী সাহেব তখন সেখান থেকে উঠে এলাম। এসে খালপাড়ে অন্ধকারে হাঁটতে লাগলাম নিঃশব্দে। আমার সেই চাচা এসে যোগ দিল। তখন দীর্ঘ নীরবতা ভাঙ্গল। চাচা জিগ্যেস করল মুনশী সাহেবকে, অর গল্পের বইটা পড়লেন?
সময় পাই নাই। পড়মু তো নিশ্চয়।
কিন্তু কেমন যেন আমার মনে হলো, তিনি আমার বইটা পড়েছেন কিন্তু এগুতে পারেননি। আমি যেন স্পষ্ট বুঝতে পারলাম, আমি যে জগতের কথা, যে ভাষা লিখি, সে জগৎ সে ভাষা তার অজানা। মনে হলো, এই পরিবেশে আমার বইয়ের কথা একেবারেই বেসুরো। তাড়াতাড়ি বললাম, ও কথা থাক। বললাম, আপনার কবিতাগুলো আমার খুব ভাল লেগেছে। সেদিন আপনার ছেলে মুখে একটা গান শুনলাম।
হ্যাঁ, আমারে কইছে ও। একদিন বাড়িতে আসর কইরা আপনারে শোনাতি ইচ্ছে করে।
বেশ তো খুব ভাল হয়। আমি আসব। আপনার যে সব গান বইতে নেই সেগুলো শোনাবেন, নতুন কবিতা শোনাবেন।
মুনশী সাহেব নিঃশব্দে হাসলেন। নিজের লেখা সম্পর্কে তার সেই মধুর সংকোচ আমি আজও ভুলতে পারিনি। কেন যেন, সেই মুহূর্তে সেই সংকোচটাকে দূর করে দিতে ইচ্ছে হলো আমার। প্রসঙ্গ তুললাম, আচ্ছা, আপনার কবিতায় প্রকৃতির ছবি বারবার কেন আঁকেন? কারণটা কী? এ রকম প্রশ্ন শুনতে তিনি অভ্যস্ত নন। লোকে ভাল বলে, মন্দ বলে, কিন্তু এ আবার কী? অনেকক্ষণ কোনো কথা বলতে পারলাম না। শেষে উত্তর করলেন, আমার প্রশ্নের পুনরাবৃত্তিতে, কি জানি, আমার য্যান সমনে হয়, এই চাইর দিকে যা দেখি তা আমার পর না। আমি একটা কষ্ট পাইলে লতাডাও যেন কথা কইয়া উঠে। আমার একটা শুশি হইলে চারদিকে তার ছবি দ্যাখা যায়। আমি ভাবি, আমার বাপদাদাও এইসব দেইখ্যা গ্যাছে, এই লতাপাতা, ম্যাঘ-বাদল, চান-সূর্য, সব তারা দেখছে। তারা বইলা গ্যাছে। আমরা আসছি, আমরাও দেখতাছি। যারা চইলা গ্যাছে তারা মনডারে এই সবের মইধ্যে ছড়াইয়া দিয়া গ্যাছে। আমি যা রচনা করি সেই মেঘ-বাদল, চান-সূর্য, লতাপাতার কাছ থিকা শোনা কথা নিয়াই রচনা করি। তার নিজের ভাবটাকে মিশাইয়া দিবার চাই। আপনে আমার কথা শুইনা হাসতাছেন, যে পাগলে কি কয়? আঁ?
আমি তাঁকে দ্রুতকণ্ঠে আশ্বাস দিলাম, না, না, আপনি বলুন।
কিন্তু হঠাৎ যেন কোথায় বাধা পড়েছে। কিম্বা তার মনে হয়েছে আমি শহুরে শিক্ষিত মানুষ_আর তিনি গেঁয়ো, অশিক্ষিত। তিনি চুপ করে গেলেন। সে রাতে তাঁকে আর কিছুতেই মুখর করে তোলা গেল না। কেউ একটা ডিঙ্গি যাচ্ছিল বেয়ে। তিনি ডেকে শুধালেন, কে যায়? অন্ধকার খাল থেকে শোনা গেল, কেউ উৎফুল্ল কণ্ঠে চেঁচিয়ে জিগ্যেস করল, কবি সাব না? বাড়ি যাইবেন? তিনি বিদায় নিলেন।
এর দু'দিন পর ঢাকায় ফিরে আসি আমি। বর্তমান অতীত হয়ে যায়। অতীত হয় স্মৃতি। স্মৃতি থাকে নিদ্রিত। প্রসঙ্গের স্পর্শ না পেলে তার নিদ্রাহরণ হয় না। কবি আবদুর রব মুনশীর কথা তার মনের মধ্যে জাগ্রত থাকে না একদিন।
প্রায় বছর চারেক পরে আমার সেই চাচা এলেন ঢাকায়। উদ্দেশ্য সরকারি চাকরির একটা ইন্টারভিউ দেয়া। আমার বাসাতেই উঠলেন, তিনিই একদিন কথায় জিগ্যোস করলেন, ভাল কথা। আবদুর রব মুনশীর কথা তোমার মনে আছে না? সেই কবি! এক মুহূর্ত স্মৃতির জগতে আলোড়ন তুলে উঠে এলেন কবি। প্রথম দিনের সাক্ষাৎ আমাকে দেখে বেশভূষা বদলানোর জন্যে তাঁর চলে যাওয়া, জামগাছের নিচে বসে থাকা, খালপাড়ের সেই রহস্যময় আলাপ একই সঙ্গে মনে পড়ল আমার। মনটা উৎফুল্ল হয়ে উঠল। বললাম, হ্যাঁ হ্যাঁ। নিশ্চয়ই। কেমন আছেন তিনি? আর কবিতার বই বেরোয়নি তাঁর?
চাচা প্রথম প্রশ্নটাই বেছে নিলেন। একটু বিষণ্ন সুর ফুটে উঠল তার কণ্ঠে, না বিষণ্ন নয়, কেমন যেন অপরাধ বোধের ছোঁয়া তাঁর স্বরে; বললেন, ভালই আছে।
আমার মনটা অজানা আশঙ্কায় স্তব্ধহীন হয়ে উঠল। আস্তে আস্তে সব শুনলাম।
শুনলাম, গেল বছর ইলেকশানে দাঁড়িয়েছিলেন ঐ অঞ্চলের আলতাফ তালুকদার। চাচা জিগ্যেস করলেন, তালুকদার সাহেবের নাম আমি শুনেছি কি-না। বললাম, না। বললেন কেন আমি কি তাকে একদিন ফুফা সাহেবের বাড়িতে দেখিনি, তিনি এসেছিলেন? অধৈর্য হয়ে বললাম, সে কথা থাক, মুনশী সাহেবের কি হয়েছে তাই বলুন। তখন আবার তিনি বলতে শুরু করলেন। বললেন, তালুকদার সাহেব ইলেকশানে দাঁড়িয়েছিলেন। ফুফা সাহেব ছিলেন তার সমর্থক। তা ভোটের সময় কতো রঙেরই না প্রচার হয়, তুমি জান। পালা হয়, ভোজ হয়, সং বেরোয়, রং-বেরঙের নৌকা বেরোয়, গান বাঁধা হয়, সে গান হাটে হাটে গাওয়া হয়। ফুফা সাহেব কি কাজে খবর পাঠালেন দেখা করবার জন্যে। তিনি সেদিন আসতে পারলেন না। (ঘটনাটি সম্পূর্ণ শোনবার পর আমার মনে হয়েছে, আগে থেকেই মুনশী সাহেব আঁচ করতে পেরেছিলেন আর তাই আসেননি।)
পরদিন আবার লোক গেল তাঁর কাছে। তারা মুনশী সাহেবকে ডিঙ্গি করে নিয়ে এলো। ফুফা সাহেব বললেন, মুনশী, গান রচনা করা লাইগবে। শুইনছাও তো, তালুকদার সাহেব ইলেকশানে খাড়াইছেন। তারে পাস না করালি দ্যাশের আর মঙ্গল নাই। বুঝছ? দ্যাশের কাম বইলা তোমারে সম্মান করমু না তা না। তালুকদার সাব গুণীর মান রাইখতে জানে। আর আমার উপর কথা কি! কি_চুপ কইরা আছো যে! কোমর বাইন্ধা গান রচনা করো দেখি একখান।
আমার সময় নাই।
বজ্রপাতের মত শোনায় কবি আবদুর রহমান মুনশীর কণ্ঠস্বর। ফুফা সাহেব গর্জন করে ওঠেন, কী, কী কইলা?
কী আর কমু? সময় নাই সেই কথা কই।
মাথামুথা ঠিক আছে তোমার? এতবড় একটা কামে তোমার সময় নাই, সেই কথা আমার সামনে খাড়াইয়া কও?
চুপ করে থাকেন কবি।
তোমার মনের কথাডা কি কওছেন শুনি।
আমি গান রচনা কইরতে পারমু না।
ক্যান?
ফুফা সাহেবের দুচোখ ক্রোধে বিস্ময়ে ছোট হয়ে আসে। তাঁর কণ্ঠস্বর পাতলা ছুরির মত শোনায়।
মুনশী সাহেব উত্তর করেন, যে মানুষ না তার নামে গান রচনা কইরতে কন?
জবান সামলাইয়া কথা কইও, মুনশী। বনের মধ্যে বাঘের সামাল দিয়া পথ চলা লাগে। চোখমুখে বড় কথা কইও না। মানীরে মান দিয়া চইলো। যাও, কাইল সকালে তোমার গান আমি শোনবো। একখান থুইয়া দশখান শোনেন, আমি না করি না। কার জন্যে গান বান্ধি? আপনেরা দশজন আছেন, আপনেরা শোনেন বইলাই রচনা করি। এই অনুরোধ আমারে কইরেন না, খাঁন সাব। তালুকদার সাবেরে নিয়া গান রচনা আমারে দিয়া হবি না।
তুমি তাহলে রাজি না?
না।
তুমি ছাড়া দ্যাশে কবি নাই?
আছে।
কামডা ভাল কইরলা না, মুনশী। ভাইবা দ্যাখো, যা কইছো। এখনো মাফের ওক্ত আছে। কও কী কইরবা?
আমার কথা আমি কইয়া দিছি। যে ব্যাডা মানুষ না, যার হাত দিয়া গরিবের একডা কাম হয় নাই, যার প্যাডে এক মুখে আরেক কথা_আমি গান রচনা করমু তারে নিয়া? আপনে কন কি, খাঁ সাব!
শেষ কথাটি উচ্চারণের সময় মুনশী সাহেবের ঠোঁটে বোধ হয় বিদ্রূপের হাসি ফুটে উঠেছিল। আমার ফুফা সাহেব স্তব্ধ হয়ে ভাবলেন খানিক। তারপর চোখ তুলে বললেন, আইচ্ছা যাও।
সেলামালেকুম।
মুনশী সাহেব বেরিয়ে গেলেন। সালামের প্রত্যুত্তরটা পর্যন্ত পেলেন না। ফুফা সাহেব উপস্থিত সবাইকে শুনিয়ে বললেন, তোমারে আর গান রচনা করা লাগবি না, মুনশী। তোমার ওষুধ আমার জানা আছে।
ঘটনাটা শোনাতে শোনাতে চাচা বললেন, যাই কও মিয়া। ভাইসাব কামডা ভাল করেন নাই। না হয় নাই রাজি হছিল, তাই বইলা তার উপর অত্যাচার কইরবা তোমরা?
অত্যাচার বটে! পরদিন ভোরে দেখা গেল মুনশী সাহেবের ক্ষেতের ধানের বাড়ন্ত গাছগুলো কে নির্মূল করে কেটে নিয়ে গেছে। তার গাই দুটো একদিন মাঠ থেকে আর ফিরল না। তার ছেলে হাটে গানের বই বিক্রি করতে গেছে, তার সমস্ত বই কেড়ে খালের পানিতে ভাসিয়ে দেয়া হয়েছে। মুনশী সাহেবকে শাসিয়ে দেয়া হয়েছে, সে যদি গান বা কবিতা ভবিষ্যতে আর কোনদিন লেখে, আর তা শোনা যায়, তাহলে গ্রাম থেকে উচ্ছেদ করা হবে তাঁকে।
আমি বললাম চাচা, তোমরা গাঁয়ের জোয়ান ছেলেরা তার প্রতিবাদ করল না?
চাচা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। বলল, গাঁয়ে তো থাকো না, হাল হকিকতও জানো না। আমরা কেউ মানুষ না।
শুনলাম আবদুর রব মুনশী আজ আর লেখেন না।
ব্যথিত হয়ে আবারো প্রশ্ন করলাম, যেন কিছুতেই বিশ্বাস হচ্ছে না, সত্যি তিনি লেখা ছেড়ে দিয়েছে?
হ্যাঁ, এতো ভাল কবি আছিল। সব ছাইড়া দিছে। মাইনষের সাথে কথা পর্যন্ত কয় না আর। বোধ হয় মানুষকে কোনো না কোনোখানে নত হতেই হয়। কবি আবদুর রব মুনশী আর কবিতা লেখেন না, এর চেয়ে বড় পরাজয় আমি আর ভাবতে পারিনি সেদিন। তাঁকে একবার দেখার জন্য বড় ব্যাকুল হয়ে উঠল আমার মন। মনে হলো ফুফা সাহেবের অপরাধে আমি যেন অংশীদার। যেন আমিও তাঁর থেকে দূরে সরে গেছি।
চাচার সাথেই গ্রামে গেলাম। ফুফা সাহেব দেখে অবাক হলেন। পরিহাস করলেন, কি মিয়া, তোমারে কইছি না, গায়ের সিনারি তোমার দেখার কাম বেশি কইরা। এ যাত্রা থাইকা যাও কিছুদিন। এত ভাব গাঁয়ে আছে যে রচনা কইরা কুল পাইবা না।
পরদিন ভোর বেলায় চাচাকে নিয়ে চুপিচুপি মুনশী সাহেবের বাড়িতে গেলাম। সেই শ্রীমণ্ডিত ছোট্ট বাড়িটার চেহারা দেখে বিষম ধাক্কা খেলাম। শূন্য গোয়াল ঘরটা ভেঙ্গে পড়েছে। বার-বাড়িতে ঝাড়ু দেয়া হয়নি কতদিন। জামগাছের নিচে বাঁধা বাঁশের মাচায় বহুকাল কেউ বসে না। কাকপক্ষীর নোংরায় ভয়ে গেছে। শুনলাম, মুনশী সাহেব মাঠে গেছেন।
চাচা বলল, তাহলে ফিরে যাই। আমার যেন জেদ চেপে গিয়েছে। বললাম, না, দেখা করেই যাব। চলুন মাঠেই যাওয়া যাক।
মাঠের সন্ধান নিয়ে চাচা চলতে শুরু করল। আমি পেছনে পেছনে। মাথার ওপরে চড়চড় করে সূর্য উঠতে লাগল। পায়ের তলায় ব্যথা করতে লাগল। চোখে ধাঁধান রোদ্দুর ছাড়া আর কিছু দেখতে পেলাম না চারদিকে। পেঁৗছুলাম। সেখানে দাঁড়িয়ে চারদিকে চোখ মেলে দূরে দেখিয়ে চাচা বলল, ঐ যে কবি চাচা লাঙ্গল দিতাছে।
তাকালাম। সে দৃশ্য না দেখাও ভাল ছিল। পরনে একটা গামছা। আর কিছু না। শরীরের বাকি অংশ নগ্ন, লাঙ্গল ঠেলছেন কবি আবদুর রব মুনশী।
ঐটুকু দূরত্ব পেরুতে যেন এক যুগ লাগল আমার। কাছে গিয়ে দেখলাম সেই সৌম্য আত্মস্থ সলজ্জ সুন্দর চেহারার একি ভয়াবহ পরিবর্তন! গায়ের রং পুড়ে কালো হয়ে গেছে। শীর্ণ হয়েছে স্বাস্থ্য। ফুটে উঠেছে চোয়াল। চোখে এক ভীষণ উন্মত্ত দৃষ্টি জ্বলজ্বল করছে কোটরের গভীর থেকে। সারা গা বেয়ে ঘাম ঝরছে দরদর করে। লাঙ্গলের ওপর শরীরের সর্বশক্তি দিয়ে চাপ দিয়ে মাটিকে চিরে চিরে এগিয়ে যাচ্ছেন কবি।
আমাকে দেখে ক্ষণিকের জন্যে তিনি তাকালেন। তার পরমুহূর্তে আমাকে নিষ্করুণভাবে উপেক্ষা করে গরু দুটোকে নির্মমভাবে নড়ি দিয়ে পেটাতে লাগলেন। একটা হিংস্র গড়গড় আওয়াজ তুলে দ্রুত লাঙ্গল ঠেলে এগিয়ে গেলেন।
আমার মনের মধ্যে কেমন একটা অনুভূতি হলো_যা ভয় নয়, বেদনা নয়, এক সঙ্গে দুটোই এবং কোনোটাই নয়। যন্ত্রচালিতের মত হাত উঠল আমার সালামের ভঙ্গিতে। অস্ফুটস্বরে উচ্চারণও করলাম। কোনো জবাব এলো না।
চাচা কানে কানে বলল, চলো যাই। তোমারে বোধ হয় চিনবার পারে নাই।
তখন আমার মনে হলো হয়তো সত্যি। সত্যি হোক মিথ্যা হোক সেখানে আর দাঁড়াতে পারলাম না আমি। উল্টো মুখে হাঁটতে শুরু করলাম। কলাই ক্ষেতের ঢালু বেয়ে নামতে নামতে একবার কি মনে হলো, পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখি, দূরে ঢালুর মাথায় আকাশের পটভূমিতে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন কবি আবদুর রব মুনশী। আমাকে দেখছেন।
ফুফা সাহেবের শত অনুরোধ সত্ত্বেও একদিনের বেশি এখানে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব হলো না। ফুফুজান অশ্রু মোচন করলেন। তাকে বললাম, সিরাজগঞ্জ হয়ে যাচ্ছিলাম, ভাবলাম আপনাকে দেখেই যাই, তাই আসা। আমি সময় পেলেই আসব এবং অনেকদিন থাকব। আমার মরহুম আব্বার একমাত্র জীবিতা বোন তিনি। মাথায় দিব্যি দিয়ে প্রতিজ্ঞা করিয়ে নিলেন, আমি যেন শিগগিরই আসি।
আমি এতদূর করেছি কবির সঙ্গে দেখা করতে, আর এই রকম একটা ঘটনা ঘটল_ব্যাপারটা আমার চাচাকে বিব্রত করেছিল খুব। সে আরেকবার গিয়েছিল সে রাতে কবির বাড়িতে আমার সংবাদ নিয়ে। আমার কথা তুলতেই তিনি নাকি বলেছেন, না, না, আমি আর রচনা করি না। তার সাথে দেখা করার কোনো কাম নাই আমার। কইয়া দিও, সে য্যান আর না আসে।
চাচার কাছেই শুনলাম, মুনশী সাহেব আর তো লেখেনই না, তাঁর পুরনো গান কেউ গাইলে পর্যন্ত ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। ইস্কুলের সভায় তাঁর কবিতার আবৃতি বন্ধ হয়ে গেছে অনেক আগেই। তালুকদার সাহেব ইলেকশানে জেতার পর কোথা থেকে দুই ছোকরা গায়েন এনে আবদুর রব মুনশীর বার-বাড়িতে লেঠেল দাঁড় করিয়ে গান করিয়েছেন সারারাত। সে গানের বিষয় ছিল মুনশী সাহেবের ঊর্ধ্বতন আর অধস্তন চৌদ্দপুরুষের আদ্যন্ত শ্রদ্ধা। অশ্লীল খেউর এর সঙ্গে তুমুল রবে সারারাত বেজেছে ঢোল কাঁসর। কোমর লুকিয়ে চেনে চিৎকার করে তারা সারারাত গান করে গেছে।
আমার মনে হলো তিনি তো ইচ্ছে করলেই স্ত্রী-পুত্রের হাত ধরে গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে পারতেন। ভীষণ আক্রোশ হলো এই ভেবে যে, কেন তিনি গেলেন না? না হয় ভিক্ষা করে খেতেন, দিন মজুর খাটতেন, অনাহারে মারা যেতেন, এ পরাজয় কেন মাথা পেতে নিলেন তিনি? কেন তার কাব্য রচনার ইতি স্বীকার করে নিলেন?
বিক্ষুব্ধ চিত্তে বিদায় নিলাম গ্রাম থেকে। প্রশ্নগুলোর জবাব আমি বছর দুয়েক পরে পেলাম এবং আমার সৌভাগ্য, স্বয়ং কবি আবদুর রব মুনশীর কাছ থেকেই।
বছর দুয়েক করে আরেকবার আমি গ্রামে আসি ফুফুজানের সঙ্গে প্রতিশ্রুত দেখা করতে, কিছুদিন বিশ্রাম নিতে। ঢাকায় তখন অত্যধিক কাজের চাপে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। ডাক্তারের পরামর্শে বিশ্রাম গ্রহণের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়লাম একদিন।
গ্রামে এসেই মনে পড়ল মুনশী সাহেবের কথা। চাচা সরকারি চাকরি না পেয়ে গ্রামেই ডাক্তারি শুরু করে দিয়েছিলেন। পশার হচ্ছিল মন্দ না। সে ভোরে আমার সঙ্গে দেখা করতে এলো। সারা গ্রামে এ-ই আমার একমাত্র বন্ধু যার কাছে নির্ভয়ে সব বলতে পারি, খোঁজ নিতে পারি। তার কাছেই শুনলাম, মুনশী সাহেব ভীষণভাবে অসুস্থ। শুলব্যাধিতে শয্যাশায়ী, উৎকট বেদনায় দিনরাত চিৎকার করেন। মৃত্যুর বোধ হয় আর বড় বেশি দেরি নেই।
বড় অসহায় মনে হলো নিজেকে। তাঁর আর্ত চীৎকার যেন আমার কানের কাছে এসে ধাক্কা মারতে লাগল। চাচাকে বললাম, আমি তাঁকে দেখতে যেতে চাই।
চাচা উত্তর করল, আজ থাক। আজ সে দেখতে যাবে কবিকে। আমার কথা বলবে। চুপি চুপি সে-ই চিকিৎসা করছে তাঁর।
রাতে খাওয়া দাওয়া সেরে চাচা এলো আমার সঙ্গে গল্প করতে। সেই খালপাড়ে গিয়ে বসলাম আমরা দুজন। আজ বড় শূন্য মনে হতে লাগল সব কিছু। চাচা বলল, তোমার কথা কবি চাচারে বলছি।
কী বললেন তিনি?
শুইনা খুশি হইল। আমার হাত ধইরা কইলো, তারে নিয়া আসতি পারো?
মনটা তখুনি তাঁর কাছে যাবার জন্যে উন্মুখ হয়ে উঠল আমার। সারারাত তাঁর কথা মনে পড়তে লাগল কেবলি।
পরদিন সকালে চাচার সঙ্গে গেলাম মুনশী সাহেবের বাড়িতে। এ কবছরে বাড়িটার ভগ্নদশা আরো বেড়েছে। গোরস্থানের মতো পতিত, পরিত্যক্ত মনে হচ্ছে। আগাছায় বার-বাড়িটা ঢেকে গেছে।
খবর পেয়ে মুনশীর বড় ছেলে ভেতরে নিয়ে গেল আমাদের। ছেলেটা মাথায় বড় হয়েছে বেশ, গোঁফ উঠেছে, মুখের সেই শ্যামল ভাবটা মরে গিয়ে একটা ক্ষুধার্ত রূপ ফুটে উঠেছে সেখানে।
ঘরে ছেঁড়া চাটাইয়ের ওপর শুয়ে আছেন কবি। আজ জীবন্ত মানুষ বলে তাকে ধারণা করতে কষ্ট হয়। মনে হয়, একটা কংকাল সজীব হয়ে উঠবার চেষ্টা করছে। আমাকে দেখে হাতটা বাড়িয়ে দিলেন। আমি সেই উদগ্রীব শীর্ণ হাতটা মুঠোর মধ্যে নিয়ে তাঁর পাশে বসে পড়লাম। তিনি ব্যগ্র চোখ মেলে আমাকে দেখতে লাগলেন। কিছু বলবার চেষ্টা করলেন, কিন্তু নিঃশ্বাস নিতে ভীষণ কষ্ট হতে লাগল তাঁর, বলতে পারলেন না।
আমি বললাম,
আবার আপনি ভাল হয়ে উঠবেন। চাচা আমাকে বলেছে এ রোগ কিছু না।
আমার সে কথা যেন তাঁর কানে গেল না। তিনি আপন মনে বললেন, প্রায় ফিসফিস করে, আপনে আসছেন। কত কথা কইবার আছে। কী খুশি হইলাম ডাক্তারের কাছে শুইনা। ভাল আছেন আপনে? বই লেখেন নাই আর?
বলতে বলতে তিনি আমার মুঠো থেকে তাঁর হাত ছাড়িয়ে নিয়ে আমার শরীরকে ব্যাকুল দু'হাতে স্পর্শ করতে লাগলেন। আমার চোখ সজল হয়ে উঠল।
চাচা উঠে দাঁড়াল।
আমি কাছেই একটা রুগী দেখে আসি। তুমি কথা কও। কবি চা তুমি কাইন্দোনা কইলাম কানবার কিছুই নাই। ভাল হইয়া উঠবা। আমি আসতাছি।
চাচা চলে গেলে মুনশী সাহেব বললেন, মিয়াসাব ডাক্তার হইলেন কি হয়, জ্ঞান হয় নাই। আমার মৃত্যু আইসতাছে। তারে ঠেকাবে কেডা? ডাক্তার? আমার মওতো আমি চিনি না? সেই সনে আসলেন, আপনারে সাথে খারাপ ব্যবহার করছি, কথা কই নাই ভাই, আমাকে মাফ কইরা দিও।
আমি তাড়াতাড়ি সে প্রসঙ্গ চাপা দেবার জন্যে বললাম, আমি কিছু মনে করিনি। আমি সব শুনেছি। আপনি আমাকে পেছন থেকে দেখেছিলেন, তাও দেখেছি। আপনি অনেক বড়, একদিন ও গ্রাম আপনার জন্যে গৌরব বোধ করবে। তারা বলবে, এই গাঁয়ে কবি আবদুর রব মুনশী বাস করতেন। তারা বলবে, তিনি ঐ জামগাছটার নিচে বসে গান রচনা করতেন, কবিতা লিখতেন।
আমাকে যেন নেশার মতো পেয়ে বসেছিল, তাঁর চোখের সমুখে ভবিষ্যতের ছবিগুলো তুলে ধরেছিলাম। বলতে বলতে আমার গলা ধরে আসছিল। তবু আমি বলে চলেছি। আমার কথা শুনতে শুনতে তিনি শয্যায় উঠে বসলেন স্বপ্নগ্রস্তের মতো, চোখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল তাঁর, আনন্দে মুখের রেখাগুলো থর থর করে কাঁপতে লাগল। আমি তাঁর হাত ধরে বললাম, এ সবই সত্যি হবে দেখবেন। আপনার দুঃখ করবার কিছু নেই। একদিন সবাই আপনাকে বুঝতে পারবে, তারা তাদের ভুলের জন্যে লজ্জিত হবে।
যে রূপকথা শোনাচ্ছি তাঁকে তাঁর চোখ মুখ থেকে শিশুর উজ্জ্বল আগ্রহ ঝরে পড়ছে। আমাকে ভবিষ্যতের দূত মনে করছেন তিনি। যেন বিশ্বাস হচ্ছে না, তাই আবার আমাকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখছেন।
তাঁর বড় ছেলে এক গেলাশ গুড়ের শরবত এনে আমার সমুখে রাখলেন। উঠোনে দেখলাম কবির স্ত্রী মাথায় কাপড় নিয়ে একখণ্ড বেদনার মতো মুখটাকে দরোজার আড়ালে রেখে আমাকে দেখছেন।
মুনশী সাহেব বললেন, শরবত খান।
বলে নিজেই গেলাশটা তুলে দিলেন আমার হাতে। যতক্ষণ আমি পান করলাম নিঃশব্দে দেখলেন। তারপর শুয়ে পড়লেন বিছানায়। বললেন, আপনারে ডাকছি, ডাক্তারের কাছে সেবার মিছা কথা কইয়া পাঠাইছিলাম। দিন শেষ হয়ে আসছে আমার। তালুকদার সাবে আমার ক্ষতি করতে পারে নাই। এখন কইতে আর ভয় নাই আমার, আমি রচনা থামাই নাই। কথা না কইয়া মানুষ বাঁচিতে পারে? আমি কতো কবিতা গান রচনা করছি তারপরে। সব ল্যাখা আছে। লেইখা তোরঙ্গে বন্ধ কইরা থুইছি। আইজ না হউক কাইল তা লোকে জানাত পাইরবে। আপনেরে আমি ডাকছি, আমার কবিতাগুলো একখানা বই কইরা ছাপাইয়া দিয়েন। আপনে পারবেন। দিবেন?
একটা আশ্চর্য শিহরণ বোধ করলাম, সমস্ত অন্তরের মধ্যে অপূর্ব একটা আনন্দ হলো। কবি আবদুর রব মুনশী মরে যায়নি। সেই খররৌদ্রে সারাদিন লাঙ্গল চষে বাড়ি ফিরে রাতের অন্ধকারে গোপনে গোপনে তিনি রচনা করে গেছেন।
তাঁর বড় ছেলেকে বললেন, তোরঙ্গ খুলে কবিতাগুলো দিতে। সে পুরনো একখণ্ড কাপড়ে যত্ন করে বাঁধা লেখা পুঁটুুলী এনে দিল। মুনশী সাহেব ইশারা করলেন আমাকে পুঁটুলীটা তুলে দিতে। এক মুহূর্তে ভারি নিরাসক্ত নির্লিপ্ত মনে হলো তাঁকে। এতো যে আগ্রহ, এতো যে মমতা, লেখাগুলো স্পর্শ পর্যন্ত করলেন না তিনি, তাকিয়ে দেখলেন না আর। চোখ থেকে টপটপ করে পানি গড়িয়ে পড়তে লাগল শুধু। মুখ ফিরিয়ে বিকৃত কণ্ঠে বললেন, কতদিন ভাবছি, এক দ্যাশ ছাইড়া যে দিক দুই চোখ যায় চইলা যামু। আবার ভাবছি, কোথায় যামু এই মাটি ফালাইয়া। এই চান সূর্য, গাছ-গাছালি, ম্যাঘ বাদল, আর কোনো দ্যাশে আছে? আমি চইলা গেলে অন্যায় তো আর আমার সাথে সাথে যাবি না। এই দেশেই রয়্যা যাবি। তো আমার চইলা যাওয়ার লাভ? তাই মাটি ধইরা পইড়া ছিলাম। মাটির সাথে কতো কথা কইছি। কইছি, মাটিরে তুমই আমার মা, কত দুঃখে তুই কালাবরণ হইছাস রে তা আমি জানি না? তুইি তো আমারে পর করস নাই, আমি তরে ছাইড়া যামু কোন দুঃখে। তুই আছস, আমার সব আছে।
বলতে বলতে তার ফেরান মুখটি তিনি নামিয়ে নিলেন আরো; মেঝের ওপর মুখ রেখে ক্রন্দন কম্পিত শব্দগুলোকে বুকের ভেতর থেকে বের করে চলেছেন, তাঁর দুঃখ দিনের নিঃসঙ্গ সাধনার পুষ্পগুলো আমার হাতে তুলে দিয়েছেন। মাথার কাছে লোকটা বসে আছে অবোধ চোখে, কবি আবদুর রব মুনশীর সঙ্গে সেই আমার শেষ সাক্ষাৎ।
আমার একমাত্র শোক এই জন্যে যে, তাঁর এ কাব্যে সংগ্রহ তিনি দেখে যেতে পারলেন না।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1338)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
-
▼
2012
(33842)
-
▼
November
(2002)
-
▼
Nov 08
(126)
- ব্যাংক নোটে ম্যান্ডেলা
- চীনে কমিউনিস্ট পার্টির কংগ্রেস শুরু আজ
- জারদারির মামলা চালু করতে সুইস কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ
- কেমন হবে ওবামার বৈশ্বিক নীতি?
- ‘আরও চারটি বছর’
- আওয়ামী লীগ নেতার কাণ্ড- ঠিকাদার ভেবে কিল-ঘুষি, পরে...
- রংপুর সিটি নির্বাচন: মশিউরকে এরশাদের সমর্থন- অন্য ...
- মাদক বিক্রির প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রিকশাচালককে হ...
- মাদকবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্বে প্রথম আলো
- অর্থ ও আসবাব আত্মসাতের মামলা- সাবেক স্পিকার জমির উ...
- রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানাতে কাল ঢাকায় আসছেন হিনা
- সামাজিক ব্যবসা সম্মেলন শুরু হচ্ছে আজ by আসজাদুল ...
- ৭ নভেম্বরে বিএনপির আশাবাদ- ‘গণবিরোধী’ সরকারের বিরু...
- শিক্ষা বিভাগ- এসিআর ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়ন জরুরি b...
- মূল্যায়ন- ওবামা: আশার সংগ্রাম এখনো চলছে by বার্ন...
- সরেজমিন- ওবামার এই স্বপ্ন পূরণ হোক by মিজানুর রহ...
- কী শিক্ষা দিয়ে গেল আমাদের?- মুঠোফোনের গান ও ট্রেনে...
- বিশ্বময় শান্তি ও উন্নয়ন সাধিত হোক- অভিনন্দন, বারাক...
- চারদিক- ফিরে যাই শৈশবে by ফারুখ আহমেদ
- কৃষি- সোনালি ফসলের পাশে কৃষকের মুখ by তুহিন ওয়াদুদ
- ফিরে দেখা পঁচাত্তর- আগস্ট থেকে নভেম্বরের রক্তাক্ত ...
- জাতিসংঘ পার্কে বসাই দায় by ফারজানা আকতার
- আনোয়ারা আওয়ামী লীগের কী হবে by মোহাম্মদ মোরশেদ হ...
- শোক- সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মুহাম্মদ শামসুল হক
- ছাতিম ফুলের সুবাস by আহামেদ মুনির
- কালুরঘাট সেতু- ফেরির কষ্ট আরও এক মাস by মিঠুন চৌ...
- প্রথম সমকামী সিনেটর ট্যামি
- 'ফোর মোর ইয়ারস' by রাজীবুল হক
- কয়েক রাজ্যে ভোট নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ by তানজিমুল নয়ন
- ওবামার কাছে জনগণ চায় অর্থনৈতিক নিরাপত্তা by যিশু ম...
- ওবামার দিকে তাকিয়ে বিশ্ব by শামসুন নাহার
- 'আমি ভোট দিয়েছি' by শরীফুল ইসলাম শরীফ
- সবিশেষ-সর্বাধিক নারী সিনেটর
- অজানা
- জয়োৎসবের আগে ঝড়ের সতর্কবার্তা
- জো বাইডেন ২০১৬-তেও থাকবেন!
- সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ by রিয়াজ মিলটন
- ড্যান ডাব্লিউ মজিনা বললেন-যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ ...
- ওবামাকে ভোট দিলেন ১০৬ বছরের হিন্টন
- নাতির বিজয়ে আপ্লুত দাদি by সোহানা তুলি
- ঢাকায়ও জয়ী ওবামা
- সেই ওহাইয়োতে জিতেই ওবামা প্রেসিডেন্ট
- এবার তরুণ ভোটার বেশি by মোস্তফা রাসেল
- প্রতিক্রিয়া-গওহর রিজভীর মন্তব্য-ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্প...
- প্রতীকী ভোট দেখতে গিয়ে দুই নেতার তর্ক
- অল্প স্বল্প গল্প
- হলিউড- হলিউডে নির্বাচনী উত্তাপ
- জয়তী ও তাঁর গান by মেহেদী মাসুদ
- বলিউডআলিয়া, বরুণ, সিদ্ধার্থ- ত্রয়ীর জয়
- এটি একটি ব্যতিক্রমী উৎসব by আবুল খায়ের
- হোয়াইট হাউসের পুতুল হয়ে থাকবেন না তো?
- পরিবর্তন প্রয়োজন রিপাবলিকানদের
- গণভোটে সমলিঙ্গ বিয়ে মারিজুয়ানার অনুমোদন by ফৌজিয়া...
- তবুও আমাদের নীতি টিকে থাকবে : রমনি by হাসান ইমাম বাবু
- এত কিছুর পরও কেন হারলেন by খন্দকার মোজাম্মেল হক
- ড. ইউনূস ইস্যুতে মতদ্বৈধ কমবে by ড. দেলোয়ার হোসেন
- সাক্ষাৎকার-অর্থনীতিকে টেনে তুলেছেন ওবামা by সি এম ...
- কংগ্রেস ও গভর্নর নির্বাচন-পাল্টাল না সমীকরণ by তাম...
- সেরাটা এখনো বাকি-জয়ের পর শিকাগোয় নির্বাচনী সদর দপ্...
- যেভাবে বিজয় by আসাদুর রহমান
- আস্থায় প্রত্যাশায় ওবামা by সফেদ ফরাজী
- চোখ by হুমায়ূন আহমেদ
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ by হাসান আজিজুল হক
- কবি by সৈয়দ শামসুল হক
- রানীরঘাটের বৃত্তান্ত by সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
- পাদটীকা by সৈয়দ মুজতবা আলী
- ডিডেলাসের ঘুড়ি by সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
- সুখের পিঠে সুখ by সেলিনা হোসেন
- রাজা আসেনি বাদ্য বাজাও by সুশান্ত মজুমদার
- অযান্ত্রিক by সুবোধ ঘোষ
- বীর মুক্তিযোদ্ধা- তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না
- আদালত অবমাননার অভিযোগ- সাজেদা ও মতিয়ার বিষয়ে আদেশ ...
- সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া যাত্রা- আবারও সাগরে ট্রলারডুবি...
- নদীতীরে by সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
- নয়ান ঢুলি by সরদার জয়েনউদ্দীন
- সরেজমিন- স্কুল চলছে, ভোটও চলছে by মিজানুর রহমান খান
- ওবামা কেন জিতলেন, কীভাবে জিতলেন by আলী রীয়াজ
- নকুলার এক বছরের কারাদণ্ড
- ৫০০ বিঘা জমির জাল দলিল by রোজিনা ইসলাম ও মাসুদ রানা
- হোয়াইট হাউসে ফিরেছেন ওবামা
- আত্মজ by সুচিত্রা ভট্টাচার্য
- বড় পাপ হে by সমরেশ মজুমদার
- কে নেবে মোরে by সমরেশ বসু
- ক্লাস ফ্রেন্ড by সত্যজিৎ রায়
- ক্লাস ফ্রেন্ড by সত্যজিৎ রায়
- গণনায়ক by সতীনাথ ভাদুড়ী
- শ্বেতপাথরের টেবিল by সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
- চন্দনেশ্বরের মাচানতলায় by শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
- মুনিয়ার চারদিক by শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
- কালান্তক লাল ফিতা by শিবরাম চক্রবর্তী
- শান্তিকামী মানুষের স্বস্তি by জাহিদুল ইসলাম সরকার
- এ নির্বাচন একটি মডেল by বেলাল হোসাইন রাহাত
- বিশ্বের মন জয় করবেন ওবামা by মাসুদ ফরহান অভি
- দ্বিতীয়বার সুযোগ পেলেন বারাক ওবামা by তানিম ইশতিয়াক
- বৃহতের সাধনা by সুভাষ সাহা
- জীবন-সার্থকতা মৃত্যুর সৌন্দর্যে by রণজিৎ বিশ্বাস
- সমকালীন চিন্তা-'কে সেই তৃতীয়, যে চলে তোমাদের সাথে?...
- বাঘহত্যা-নির্মমতার পুনরাবৃত্তি বন্ধ হোক
- অভিনন্দন ওবামা-ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্ক নিবিড় হোক
- জিব্রাইলের ডানা by শাহেদ আলী
- কোথায় পাব তারে by শহীদুল জহির
- মহেশ by শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী by শওকত ওসমান
- কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ by শওকত আলী
- ইজ্জত by রিজিয়া রহমান
- চুড়ি by রাহাত খান
- সূর্য ওঠার আগে by রাবেয়া খাতুন
- আবারও চিনির দাম বৃদ্ধি-চিনি শিল্পের উন্নয়নে পদক্ষে...
- অভিনন্দন বারাক ওবামা-দৃঢ় হোক বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্ক
- পবিত্র কোরআনের আলো-ফিরআউন সময় থাকতে সত্যকে স্বীকার...
- চার দশকের পরিবর্তিত মানসিকতা by ওয়াহিদ নবি
- প্রতিক্রিয়া : হুমায়ুন কবির-ওবামার সংস্কার কর্মসূচি...
- চরাচর-সিলেটের সাতকড়া by ইয়াহইয়া ফজল
- কয়লানীতি, বিশেষজ্ঞ কমিটি ও বাস্তবতা by হাসান কামরুল
- ফতোয়া ও প্রাসঙ্গিক ভাবনা by ড. নিয়াজ আহম্মেদ
- বহে কাল নিরবধি-অবরোধ কি ইরানকে কোনো 'পরিবর্তনে' বা...
- ‘বাংলাদেশ ইমম্যাচিওরড, যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচিওরড’ by ...
- মেহজাবিনের বিজ্ঞাপনী চমক by সাইফ চন্দন
- এবার সিডিতে ‘এক জীবন-২’ এর মিউজিক ভিডিও
- কারা থাকছেন আর্থিক খাত সংস্কার কমিশনে by সাইদ আরমান
- প্রেম-প্রতারণা- ‘মরে গেলাম ভাল থেকো’
- কাটরিনার ইচ্ছা
- তারা আসছেন তবে... by মোহাম্মদ আওলাদ হোসেন
- মেগা নিয়ে ফিরছেন বাঁধন by কামরুজ্জামান মিলু
- ক্যামেরুন ডায়াসের সৌন্দর্যের রহস্য!
- বারাক ওবামার বিজয়ে মার্কিন তারকাদের উচ্ছ্বাস
-
▼
Nov 08
(126)
-
▼
November
(2002)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
তরুণ প্রজন্ম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আলী যাকের
আইন ও বিচার
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
তারেক শামসুর রেহমান
মালয়েশিয়া
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
স্বাস্থ্য
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
জ্যোতির্বিজ্ঞান
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
শিল্প ও সাহিত্য
সংবিধান ও রাষ্ট্র
বগুড়া
মিয়ানমার
ঢাকা
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
গবেষণা
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
জীবনযাপন
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
মেহেদী হাসান
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
মানসুরা হোসাইন
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
ইয়েমেন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
Exclusive
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
উচ্চশিক্ষা
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিজ্ঞান
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
জনস্বাস্থ্য
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
ফরিদপুর
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লাতিন আমেরিকা
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মহাকাশচারী
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
জোহরান মামদানি
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
ইহুদি
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
স্পেন
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
বিশ্বকাপ ফুটবল
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment