আহ্ ভালবাসা!
ওই ওয়েবসাইটের ৪ নভেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রাজিলের মানোয়েল অ্যানজেলিম ডিনো মারা যাওয়ার পর গিটেন্স দম্পতি এই খেতাব পান। ডিনো’র বয়স ছিল ১০৬ এবং তার স্ত্রী মারিয়া ডি সুজা ডিনো’র বয়স ১০২ বছর। ফেব্রুয়ারি থেকে এই রেকর্ডের অধিকারী ছিলেন তারা। গিটেন্স দম্পতি একই সঙ্গে বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক দম্পতিও। তাদের সম্মিলিত বয়স ২১৬ বছরের বেশি। প্রতিবেদনটি জানায়, তাদের প্রেমের গল্প অসাধারণ- যুদ্ধ ও নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও টিকে আছে তাদের সম্পর্ক। লাইল ও এলিনরের প্রথম দেখা হয় ১৯৪১ সালে ক্লার্ক আটলান্টা ইউনিভার্সিটির এক বাস্কেটবল খেলায়।
সেখানে লাইল খেলোয়াড় ছিলেন আর এলিনর দর্শক। এলিনর পরে বলেন, তিনি মনে করতে পারেন না কে খেলায় জিতেছিল। শুধু এটুকুই মনে আছে, সেদিনই প্রথম লাইলের সঙ্গে তার দেখা হয়। পরে লাইল ক্লার্ক আটলান্টার বাস্কেটবল হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত হন। দু’জনেই প্রেমে পড়েন এবং বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন, যদিও জানতেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে লাইলকে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে হবে। শেষ পর্যন্ত ১৯৪২ সালের ৪ঠা জুন লাইল সামরিক প্রশিক্ষণ শিবির থেকে তিন দিনের ছুটি পেয়ে বিয়ে করেন এলিনরকে। বিয়ের দিনই লাইল প্রথমবারের মতো এলিনরের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন।
তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, সেই সময় যুক্তরাষ্ট্রে জাতিগত বিভাজনের কারণে তাকে কৃষ্ণাঙ্গ যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত ট্রেনের কামরায় যাত্রা করতে হয়েছিল- দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর সেই ভ্রমণটিও তার কাছে সার্থক মনে হয়েছিল। কারণ শেষে পৌঁছে তিনি পেয়েছিলেন এলিনরকে। এরপর লাইল ইতালিতে মার্কিন সেনাবাহিনীর ৯২তম ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের সদস্য হিসেবে যুদ্ধে যান। সেই সময় এলিনর প্রথম সন্তানসম্ভবা ছিলেন এবং নিউ ইয়র্কে চলে যান।
সেখানে তিনি প্রথমবারের মতো স্বামীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। এলিনর এক বিমানযন্ত্রাংশ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে বেতন ব্যবস্থাপনা বিভাগে কাজ করতেন। যুদ্ধের সময় তিনি ও লাইল একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন চিঠির মাধ্যমে। তবে সেনাবাহিনীর কঠোর সেন্সরশিপে লাইলের চিঠির অনেক অংশই কালো দাগে ঢাকা থাকত। যুদ্ধশেষে তারা নিউ ইয়র্কে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।
একসঙ্গে সরকারি চাকরির পরীক্ষা দেন এবং সরকারি দপ্তরে কাজ শুরু করেন। তারা প্রায়ই ভ্রমণে যেতেন। এর মধ্যে এলিনরের সবচেয়ে প্রিয় স্থান ছিল ক্যারিবীয় দ্বীপ গুয়াডেলুপ। এলিনর ৬৯ বছর বয়সে নিউ ইয়র্কের ফোর্ডহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নগর শিক্ষাবিদ্যায় ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে ক্লার্ক আটলান্টার অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনে সক্রিয় সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে তারা মিয়ামিতে চলে যান মেয়ে অ্যানজেলার কাছাকাছি থাকতে। লাইল বলেন, তিনি নিউ ইয়র্ককে মিস করেন।
তবে বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় যে তাদের বিবাহজীবন এখন বিশ্বরেকর্ড। তবুও, তিনি খুশি। কারণ এখনো এলিনরের পাশে আছেন। লংঘিভিকোয়েস্টের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক ভিডিওতে লাইল বনে, আমি এখানে থাকতে পেরে আনন্দিত। আমরা একসঙ্গে সময় কাটাই, একসঙ্গে অনেক কিছু করেছি এবং এখনো করছি।

No comments