একা লড়ে ৪৪ হাজারের বেশি ভোট পেলেন তাসনিম জারা
কোনো দলের ছায়া ছাড়া নির্বাচনে নতুন প্রার্থী হিসেবে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ ছিল তাঁর সামনে। নির্বাচনে তিনি জয় পাননি। তবে একা লড়াই করে, প্রচলিত নির্বাচনী প্রচারের বিরুদ্ধে গিয়ে ভিন্নভাবে প্রচার করে তিনি পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট। যত ভোট পড়েছে, তার প্রায় ২১ শতাংশ ভোট পেয়েছেন তিনি।
ঢাকা–৯ আসনে প্রাপ্ত ভোটের দিক দিয়ে তাসনিম জারার অবস্থান তৃতীয়। এই আসন থেকে ১ লাখ ১১ হাজার ২১২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন বিএনপির হাবিবুর রশিদ। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির মোহাম্মদ জাবেদ মিয়া। তিনি পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৪৬০ ভোট।
তাসনিম জারা ভিন্ন ধরনের নির্বাচনী প্রচার নিয়ে প্রশংসিতও হয়েছিলেন। তাঁর প্রচারে লাউড স্পিকার, মাইকের ব্যবহার ছিল না। তিনি গত ২৫ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাঁর পক্ষে ভোট চাইতে ৩০ হাজার স্বেচ্ছাসেবী প্রয়োজন বলে জানিয়েছিলেন। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে তাঁর নির্বাচনী পোর্টালে ১৯ হাজার ৭৩১ জন স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে নিবন্ধন করেছিলেন।
নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আজ শুক্রবার তাসনিম জারার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিন ৯ ফেব্রুয়ারি তাসনিম জারা যখন খিলগাঁওয়ের গৌড়নগর পূর্বপাড়া (পানির ট্যাংক সংলগ্ন) ও নাগদারপাড় এলাকায় ভোট চাইছিলেন, তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর প্রতিবেদক। ওই সময় তিনি নির্বাচনে জয়ের বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছিলেন। ভোটারদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, অর্থ ও পেশিশক্তি ছাড়া রাজনীতি করা যায় না, এমন ধারণা রয়েছে। নির্বাচনে প্রার্থী হলে পোস্টার দিয়ে ছেয়ে ফেলতে হবে, শোডাউন করতে হবে, মাইকিং করতে হবে—এগুলো আসলে জনগণের সেবা দেওয়ার জন্য করা হয় না। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ভোট নেওয়ার চিন্তা করা হয়। তিনি বলেন, ‘আমরা ভেবেছি, এসব ছাড়া কীভাবে মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়। আমরা মানুষের ওপর বিশ্বাস রেখেছি। একজনের অপরজনের প্রতি যে আস্থা, সেটার ওপর ভরসা রেখেছি। মানুষ খুঁজে খুঁজে পরিচিত মানুষকে বের করে আমার জন্য ভোট চাইছেন। এর পাশাপাশি পায়ে হেঁটে ভোটারদের কাছে পৌঁছাচ্ছি। অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি মানুষের কাছ থেকে।’
তাসনিম জারা পেশায় চিকিৎসক। তাঁর ফেসবুক অনুসারী ৭২ লাখ। এ দুটো বিষয় প্রার্থী হিসেবে তাঁকে সুবিধা দিচ্ছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা সুবিধা দিচ্ছে। অনেক বছর ধরে অনেকে কাজ দেখেছেন, আমাকে চিনেছেন। আমার প্রতি তাঁদের ভরসা তৈরি হয়েছে।’
তাসনিম জারা ঢাকা-৯ আসনের ভোটার ছিলেন না। তাঁর ভোট ছিল ঢাকা-১১ আসনে।
ঢাকা-৯ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৩৫৬। ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ১৭ হাজার ৬৮৮ জন। অর্থাৎ প্রায় ২১ শতাংশ ভোট পেয়েছেন তাসনিম জারা।
এবার ওই আসন থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন মোট ১২ জন। এর মধ্যে তাসনিম জারাসহ দুজন নারী প্রার্থী ছিলেন। অপর নারী গণফোরামের নাজমা আক্তার পেয়েছেন ১৭১ ভোট। অপর আট প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শাহ ইফতেখার আহসান পেয়েছেন ৫ হাজার ৮২৭ ভোট, জাতীয় পার্টির কাজী আবুল খায়ের ১ হাজার ২০২, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মো. মনিরুজ্জামান ৪৬২, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) শাহীন খান ২০৪, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) মোহাম্মদ শফি উল্লাহ চৌধুরী ১২৪, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের নাহিদ হাসান চৌধুরী জুনায়েদ ১৩১, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মাসুদ হোসেন ১১৮ এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্ক্সবাদী) খন্দকার মিজানুর রহমান ৯৩ ভোট পেয়েছেন।
নির্বাচন পরবর্তী ভাবনা জানালেন তাসনিম জারা, বললেন সেরা সময় সামনে
আজ শুক্রবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে নির্বাচন পরবর্তী ভাবনা জানিয়েছেন তাসনিম জারা। বিকেল পৌনে চারটার দিকে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে জারা জানান, তিনি তাঁর আসনে বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশীদ হাবিবকে ফোন করে শুভকামনা জানিয়েছেন। তাঁরা গঠনমূলক শক্তি হিসেবে কাজ করবেন। তবে ক্ষতিকর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকবেন। একটিমাত্র নির্বাচনের জন্য পথচলা শুরু করেননি বলে জানান তাসনিম জারা। তিনি জানান, রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনই তাঁদের লক্ষ্য এবং এটি দীর্ঘ পথ। জটিল সময়ে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও তাঁর দল এবং নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানান তিনি। পোস্টে তাসনিম জারা আরও লেখেন, ক্যাম্পেইনে নারীদের অভূতপূর্ব অংশগ্রহণ ছিল তাঁদের জন্য বড় এক প্রাপ্তি। তিনি লেখেন, ‘অনেক নীতিনির্ধারণী আলোচনায় আমি দেখেছি যে সিদ্ধান্ত গ্রহণের টেবিলে নারীরা থাকলে আলোচনার মান বদলে যায়।’ সেরা সময় এখনো সামনে বলে ওই পোস্টে জানান তাসনিম জারা।
![]() |
| রাজধানীর খিলগাঁও মডেল কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শনে এসেছেন ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা। বৃহস্পতিবার সকালে। ছবি: শুভ্র কান্তি দাশ |

No comments