Sunday, March 29, 2026
জাতিসংঘের পাল্টা ট্রাম্পের ‘শান্তি পর্ষদ’ কি নতুন বিশ্বব্যবস্থার ইঙ্গিত by মো. আবু হুরাইরাহ্
জাতিসংঘের পাল্টা ট্রাম্পের ‘শান্তি পর্ষদ’ কি নতুন বিশ্বব্যবস্থার ইঙ্গিত by মো. আবু হুরাইরাহ্
সুইজারল্যান্ডের বরফঢাকা দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) জাঁকজমকপূর্ণ মঞ্চে গত ২২ জানুয়ারি এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী হলো বিশ্ব। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর বহুল আলোচিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদ-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উজ্জ্বল আলোকচ্ছটার নিচে কয়েক ডজন দেশের নেতার উপস্থিতিতে এ ঘোষণা এলেও, এর গভীরে লুকিয়ে আছে এক বড় ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত।
বিশ্লেষকেরা মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ উদ্যোগকে শুধু একটি শান্তি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন না; বরং একে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী জাতিসংঘ কেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে হটিয়ে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক প্রভাবাধীন নতুন ‘ঔপনিবেশিক কাঠামো’ হিসেবে বর্ণনা করছেন।
এ পর্ষদের উৎপত্তির পেছনে রয়েছে এক দীর্ঘ ও সুচতুর কূটনৈতিক পরিকল্পনা; যাকে অনেকে ‘বেইট-অ্যান্ড-সুইচ’ বা টোপ দেখিয়ে প্রতারণা হিসেবে দেখছেন। গত ১৮ নভেম্বর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ‘রেজোল্যুশন ২৮০৩’ পাস হয়েছিল ১৩-০ ভোটে।
তখন বিশ্বনেতারা এবং ইউরোপ ও আরব দেশগুলো এ ভেবে ওই প্রস্তাবে সমর্থন দিয়েছিল যে এটি গাজায় ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতিকে একটি আন্তর্জাতিক বৈধতা দেবে, সেখানকার পরিস্থিতি স্থায়ীভাবে শান্ত করবে, উপত্যকাটিতে প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি হবে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় গাজার পুনর্গঠন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এমনকি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতি অন্তত নামমাত্র বা কাগুজে সমর্থন বজায় রাখার শর্তে এতে রাজি হয়েছিল অনেক দেশ।
কিন্তু দুই মাস যেতে না যেতেই দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র। ঘোষিত এ পর্ষদের যে সনদ (চার্টার) সদস্য দেশগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে; সেখানে ‘গাজা’ শব্দটির কোনো উল্লেখ পর্যন্ত নেই। এর পরিবর্তে পর্ষদকে ‘বিশ্বজুড়ে’ শান্তি ও সুশাসন প্রচারের ‘একটি স্থায়ী প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘকে ব্যর্থ ও অকেজো সংস্থা হিসেবে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে কটাক্ষ করে শান্তি পর্ষদ নিজেকে আরও তৎপর ও কার্যকর হিসেবে জাহির করছে। ট্রাম্পের দাবি, এটি পূর্ণাঙ্গভাবে গঠিত হয়ে গেলে তাঁরা যা খুশি তা-ই করতে পারবেন এবং তা হবে জাতিসংঘের সমান্তরালে।
এ প্রসঙ্গে গত ২০ জানুয়ারি হোয়াইট হাউসে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তাঁর প্রস্তাবিত শান্তি পর্ষদ জাতিসংঘের স্থলাভিষিক্ত হবে বলে তিনি মনে করেন কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘হতে পারে। জাতিসংঘ খুব একটা কাজের নয়।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, এ সংস্থার (জাতিসংঘ) সম্ভাবনা আছে, কিন্তু কোনো যুদ্ধ মীমাংসার জন্য তাদের কাছে যাওয়ার কথা তিনি কখনো ভাবেননি।
চেয়ারম্যান যখন সর্বেসর্বা
জাতিসংঘের ১৯৪৫ সালের সনদের মূল ভিত্তি ছিল, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার সাম্য। কিন্তু ট্রাম্পের এ শান্তি পর্ষদের সনদ সম্পূর্ণ ব্যক্তিকেন্দ্রিক। এ সনদে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম অন্তত ৩৫ বার উল্লেখ করা হয়েছে; যা কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার সনদের ক্ষেত্রে অত্যন্ত নজিরবিহীন।
আবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পই এ পর্ষদের একমাত্র চেয়ারম্যান ও ‘সর্বময় ক্ষমতা’র অধিকারী। সনদে তাঁকে একাধারে বিচারক, জুরি, দণ্ডদানকারী, অর্থ নিয়ন্ত্রক, এমনকি অর্থায়ন ও পর্ষদের প্রচারমূলক কাজের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণও তাঁর হাতে রাখা হয়েছে।
সনদ অনুযায়ী, চেয়ারম্যানের পদ শুধু তখনই শূন্য হতে পারে; যদি তিনি নিজে পদত্যাগ করেন অথবা পর্ষদের সদস্যরা তাঁকে সর্বসম্মতিক্রমে অযোগ্য ঘোষণা করে। এটি কার্যত অসম্ভব একটি প্রক্রিয়া। ট্রাম্প একাই যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন এবং তাঁর হাতে থাকবে নিরঙ্কুশ ভেটো ক্ষমতা।
যেকোনো সফল বহুপক্ষীয় সংস্থা যেখানে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে চলে; সেখানে এ পর্ষদ চলবে একক নেতার ব্র্যান্ড ও ব্যক্তিগত কর্তৃত্বের ওপর ভিত্তি করে।
বিলিয়ন ডলারের সদস্যপদ: ‘পে-টু-প্লে’ ক্লাব
এই নতুন পর্ষদের সদস্যপদ পাওয়ার শর্ত অত্যন্ত বিতর্কিত এবং আর্থিক বৈষম্যে ভরা। এতে যোগ দিতে হলে সদস্য দেশগুলোকে নগদ ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলার ‘হার্ড কারেন্সি’তে দিতে হবে। এটি অন্তত তিন বছর বা এর বেশি সময়ের সদস্যপদ নিশ্চিত করবে।
বিশ্লেষকেরা এ শর্তকে একটি ‘পে-টু-প্লে’ ক্লাব হিসেবে দেখছেন; যেখানে শুধু ধনী রাষ্ট্রগুলোই প্রাধান্য পাবে এবং দরিদ্র বা স্বল্পোন্নত দেশগুলো প্রান্তিক হয়ে পড়বে। ট্রাম্পের এ মডেলে ‘করদ রাষ্ট্রগুলো’ নগদ অর্থের বিনিময়ে তাঁর আনুগত্য স্বীকার এবং তাঁর ব্যক্তিগত অনুকম্পা লাভের চেষ্টা করবে।
ইতিমধ্যে, ইতালির মতো দেশের জন্য এ অর্থ পরিশোধ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, এর ফলে তাদের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ বাজেট বা জাতিসংঘের জন্য বরাদ্দকৃত বাজেট কাটছাঁট করতে হচ্ছে। অন্যদিকে, যারা এতে যোগ দিতে অস্বীকার করছে, যেমন ফ্রান্স; তাদের ওপর শাস্তিমূলক ট্যারিফ বা শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
থাকছে নিজস্ব বাহিনী আইএসএফ
ট্রাম্পের এ পরিকল্পনায় শুধু কূটনৈতিক বা আর্থিক শর্তই নেই; বরং একটি নিজস্ব সামরিক কাঠামোও রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত ‘আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স/আইএসএফ) সরাসরি একজন মার্কিন মেজর জেনারেলের অধীনে পরিচালিত হবে।
এ বাহিনী জাতিসংঘের চিরাচরিত শান্তিরক্ষী বাহিনীর আদলে তৈরি হলেও এর মূল দর্শনে বিশাল পার্থক্য রয়েছে। যেখানে জাতিসংঘের বাহিনী ‘নিরপেক্ষতা’ এবং সব পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে কাজ করে; সেখানে ট্রাম্পের এ বাহিনী কোনো আন্তর্জাতিক আইনি ভিত্তি ছাড়াই মিত্র দেশগুলোর সমন্বয়ে একতরফা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে।
মিত্রদের অনীহা ও বৈশ্বিক বিভাজন
ট্রাম্পের এ উদ্যোগ বিদ্যমান বহুপাক্ষিকতাবাদ ও আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিকে বড় ধরনের হুমকির মুখে ফেলেছে। ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও কানাডার মতো ঘনিষ্ঠ মার্কিন পশ্চিমা মিত্ররা এ বোর্ড থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখছে।
ফরাসি কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, এ পর্ষদ জাতিসংঘের কার্যক্রমে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটাবে। কানাডার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে ট্রাম্প দুই দেশের সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ সেতু বন্ধের হুমকি পর্যন্ত দিয়েছেন। এটি পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে দ্বিধা ও আতঙ্ক বাড়িয়ে দিয়েছে।
তবে নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ পর্ষদের ‘অসীম সম্ভাবনা’র প্রশংসা করে লিখেছেন, ‘শান্তি পর্ষদ ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে প্রমাণিত হবে।’
কিন্তু সমালোচকেরা এ পর্ষদকে ট্রাম্পের ‘সাম্রাজ্যবাদী এজেন্ডা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, এটি কার্যত জাতিসংঘকে চ্যালেঞ্জ জানাতেই তৈরি করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউস মোট ৫০টি দেশকে শান্তি পর্ষদে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানালেও এ পর্যন্ত ৩৫টি দেশ আগ্রহ দেখিয়েছে। এর মধ্যে ২৬টি দেশ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে নাম লিখিয়েছে। অন্যদিকে ১৪টি দেশ আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছে।
যোগ দেওয়া দেশের তালিকার কয়েকটি—আলবেনিয়া, আর্জেন্টিনা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহরাইন, বেলারুশ, বুলগেরিয়া, মিসর, হাঙ্গেরি, ইন্দোনেশিয়া, ইসরায়েল, জর্ডান, কাজাখস্তান, কসোভো, মঙ্গোলিয়া, মরক্কো, পাকিস্তান, প্যারাগুয়ে, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, উজবেকিস্তান ও ভিয়েতনাম। লক্ষণীয় বিষয় হলো, এতে গণতান্ত্রিক দেশের সংখ্যা খুব কম।
এদিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে আন্তর্জাতিক আইনের নির্ধারক নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রই শুধু এ পর্ষদে আছে। রাশিয়া জানিয়েছে, তারা প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মস্কোর জব্দকৃত মার্কিন সম্পদ থেকে ১ বিলিয়ন ডলার ‘ফিলিস্তিনিদের সহায়তায়’ দিতে প্রস্তুত।
চীন এখনো তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেনি। ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য এই মুহূর্তে পর্ষদে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
ব্যবসায়িক বলয় ও ব্যক্তিগত স্বার্থের প্রভাব
পর্ষদের গঠন কাঠামো ও নেতৃত্বের তালিকা স্পষ্ট করছে যে এটি রাজনীতির চেয়ে ব্যবসায়িক স্বার্থ ও ‘ব্যক্তিগত ক্লাব’ সংস্কৃতিকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে।
সদস্য হিসেবে যাদের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে, তারা মূলত ট্রাম্পের ব্যক্তিগত মিত্র বা অর্থলগ্নি জগতের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। এ তালিকায় আছেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, ধনাঢ্য আবাসন ব্যবসায়ী স্টিভ উইটকফ এবং মার্ক রোয়ান ও অজয় বাঙ্গার মতো ব্যক্তিরা।
জ্যারেড কুশনার জানিয়েছেন, এ পর্ষদের মাধ্যমে গাজার পুনর্গঠনে অর্থায়ন ও ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে কাজ করা হবে। তাঁর মতে, হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ না করলে এ পুরো পরিকল্পনা থমকে যাবে।
আবার গাজার পুনর্গঠনে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো হটিয়ে সেখানে ‘মুনাফাভিত্তিক ব্যবসায়িক উদ্যোগ’ চালুর ইঙ্গিত রয়েছে পর্ষদের সনদে।
যখন পর্ষদের বিলিয়ন ডলারের হিসাব আর প্রশাসনিক ছক নিয়ে তোলপাড় চলছে, তখন গাজার সাধারণ মানুষের জন্য কোনো বাস্তব পরিবর্তন আসেনি। ফিলিস্তিনিদের অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে শুধু সর্বনিম্ন স্তরের ‘ন্যাশনাল কমিটি’তে।
অতিসম্প্রতি গাজার মূল প্রবেশপথ রাফাহ সীমান্ত খুলে দেওয়া হয়েছে। তবু গাজার মানুষ এখনো ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ এবং খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনের শিকার হচ্ছেন। তাঁদের জন্য এ পরিস্থিতি দুঃসহ নরক যন্ত্রণার মতো। আর তাঁদেরই ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করছে ট্রাম্পের এই তথাকথিত শান্তি পর্ষদ।
বহুপাক্ষিকতার সংকট ও ভবিষ্যৎ
সমালোচকদের মতে, এ পর্ষদ আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে কোনো নির্দিষ্ট আইনি মর্যাদা বা জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা ছাড়াই গঠিত হয়েছে। এটি মূলত একটি ‘যুক্তরাষ্ট্র-কেন্দ্রিক ক্লাব’ তৈরির ঝুঁকি তৈরি করছে; যা ভিন্নমত পোষণকারী দেশগুলোকে কোণঠাসা করবে।
সাধারণত কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা তৈরিতে বছরের পর বছর সময় লাগে, যেমন জাতিসংঘ গঠনে লেগেছিল চার বছর। কিন্তু ট্রাম্প মাত্র দুই মাসেই তাঁর ওই ‘চটপটে’ সংস্থাটি দাঁড় করিয়েছেন এবং দেশগুলোকে সিদ্ধান্ত নিতে খুব অল্প সময় দিয়েছেন।
পরিশেষে বলতে হয়, যদি এই পর্ষদ তার কাঠামো ও লক্ষ্যতে আমূল পরিবর্তন না আনে; অর্থাৎ ম্যান্ডেট স্পষ্ট করা এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ না করে; তবে এটি কোনো ঐতিহাসিক উদ্যোগ হিসেবে নয়; বরং দাভোসের একটি ‘ফটো সেশন’ হিসেবেই ইতিহাসে থেকে যাবে।
এ ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই ট্রাম্পের এ উদ্যোগ একটি সত্যিকারের কিছু গড়ার দুর্লভ সুযোগকে স্রেফ অপচয় করবে। মনে রাখতে হবে, টেকসই শান্তি আসে ক্ষমতার অংশীদারত্ব, কার্যকর নিয়মনীতি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কাঠামোর মাধ্যমে; এক নেতার ইমেজ কিংবা ইচ্ছার ওপর ভিত্তি করে তৈরি কোনো অতি-রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মাধ্যমে নয়।
[তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, রয়টার্স, আল–জাজিরা, দ্য হিল ও রিনিউঅ্যাবল ম্যাটার]
![]() |
| সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ৫৬তম বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে বৈশ্বিক সংঘাত নিরসনে ‘শান্তি পর্ষদ’ গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় পর্ষদের সনদ তুলে ধরেন তিনি। ২২ জানুয়ারি ২০২৬, দাভোস, সুইজারল্যান্ড. ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
-
▼
2026
(1426)
-
▼
March
(202)
-
▼
Mar 29
(6)
- জাতিসংঘের পাল্টা ট্রাম্পের ‘শান্তি পর্ষদ’ কি নতুন ...
- নামের আগে ‘ডক্টর’ লাগাতে মরিয়া কেন তাঁরা by ইমদাদু...
- প্রতিদিন কয়টি ফল খাওয়া ভালো? by ফাহমিদা মাহমুদ
- বাজারে নকল ও মানহীন কনডম, জনস্বাস্থ্য হুমকিতে by প...
- দ্রুত গতিতে সাবমেরিন নির্মাণ করছে চীন, দুশ্চিন্তায়...
- মঙ্গল গ্রহে যেখানে মানুষ অবতরণ করতে পারে
-
▼
Mar 29
(6)
-
▼
March
(202)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

No comments:
Post a Comment