Saturday, July 26, 2025
গাজায় কুকুরেরা মরদেহ ভক্ষণ করছে, পশু অধিকার নিয়ে সোচ্চাররা কোথায় by ওদেহ বিশারাত
গাজায় কুকুরেরা মরদেহ ভক্ষণ করছে, পশু অধিকার নিয়ে সোচ্চাররা কোথায় by ওদেহ বিশারাত
স্বীকৃত সংজ্ঞা [হিব্রু বাইবেলের আদি পুস্তক] অনুসারে, গাজার ভুক্তভোগীরা অন্য সব মানুষের মতোই জন্ম নিয়েছে এবং তা ‘তাঁর প্রতিমূর্তি’ হিসেবে। এটা এক বিরাট সমস্যা। কারণ, যারা ‘তাঁর প্রতিমূর্তি’ হিসেবে জন্ম নিয়েছে, তাদের হত্যা করা জঘন্য পাপ। যদি ঈশ্বরের প্রতিমূর্তি ধ্বংস করা হয়, তাহলেতো ঈশ্বর খুনিদের হৃদয় পরিত্যাগ করবেন।
বিষয়টা তাহলে উভয়সংকট তৈরি করেছে। আমি অবশ্য ধারণা করি যা সময়ের পরিক্রমায় তা কেটে যাবে। তার আগে অবশ্য এক চাতুর্যপূর্ণ ব্যবধানের তত্ত্ব হাজির করা হবে এই ব্যাখ্যা দিয়ে যে সকল মানুষ ঠিক ‘তাঁর প্রতিমূর্তি’ হিসেবে জন্ম নেয়নি; কিছু মানুষ ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে জন্ম নিয়েছে, আর বাকিদের জন্ম হয়েছে কোনো দানবের প্রতিমূর্তিতে।
এখানে অবশ্য একটা প্রশ্ন করা যেতে পারে যে আমালেক জাতির মানুষেরা কার প্রতিমূর্তিতে জন্ম নিয়েছিল? [আমালেক হচ্ছে মুসা নবীর সময় কেনানে (আজকের ইসরায়েল, ফিলিস্তিন ও জর্ডানের কিছু এলাকা) বসবাসকারী এক শক্তিধর জনগোষ্ঠী যাদের হিব্রু বাইবেলে ইহুদির অন্যতম শত্রু হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।]
বলতে গেলে উল্লিখিত উভয়সংকট উত্তরণের কাজ শুরু হয়ে গেছে। নতুন ইসরায়েলি অভিধানে ঈশ্বরকে তাঁর প্রতিমূর্তি থেকে আলাদা করার জন্য একের পর এক পরিভাষা যোগ করা হয়েছে। এসব নতুন সংজ্ঞা অনুসারে, ফিলিস্তিনিরা তো ঈশ্বরের প্রতিমূর্তি হওয়া থেকে অনেক দূরে; তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে ’সন্ত্রাসী’, ’জঙ্গি’, ‘গাজায় নিরীহ কেউ নেই’ ইত্যাদি হিসেবে। বেশি দিন আগের কথা নয়, ফিলিস্তিনিদের ‘দু’পেয়ে জানোয়ার’ হিসেবেও পরিচয় দেওয়া হয়েছে। কারণ, জৈবগত এক মারাত্মক ভুলে তাদের মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে!
হিব্রু ভাষা বিকশিত হচ্ছে। আর ফিলিস্তিনি জনগণকে বিবর্ণ ও কলঙ্কিত করার গতিও বেড়ে চলেছে। ইসরায়েল সরকারের অনানুষ্ঠানিক মুখপত্র হিসেবে পরিচিত চ্যানেল ফোরটিন দেখলেই যে কেউ বুঝবে যে ঘটনাটা কী ঘটছে।
তারপর এখানে-সেখানে সমস্যা লেগেই আছে। গাজার কসাইখানায় এত বিপুল সংখ্যক জবাই করা দেহ সামাল দেওয়ার মতো কোনো সুব্যবস্থা নেই। ফলে স্বাস্থ্য বিধিগত ও পরিচ্ছন্নতাজনিত বিরাট সমস্যা দেখা দিয়েছে।
সংবাদপত্রের প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে কুকুররা ফিলিস্তিনিদের মরদেহ ভক্ষণ করছে। একটি আধুনিক রাষ্ট্র হোক বা তৃতীয় বিশ্বের দেশ হোক, আজকে এ ধরনের ঘটনা কি লজ্জাজনক নয়? পশু অধিকার রক্ষায় সোচ্চার সংগঠনগুলো আজ কোথায়? কীভাবে আমরা এমন একপর্যায়ে পৌঁছালাম যে কুকুরের মানুষের মরদেহের স্তূপে খাবার খুঁজে বেড়ায়?
কিন্তু আমাদেরতো উচিত মূল বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া। খবরে একশজন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করার বিষয়টি শোনা তাদের পরিণতি দেখার বিকল্প হতে পারে না। ঘটনার সত্যিকার গভীরতা উপলব্ধির জন্য স্বচক্ষে দেখাও যথেষ্ট নয়। ‘একশজন নিহত হয়েছে’ বলার মানে হলো মুখ থেকে কানে পৌঁছাতে কথাটি বাতাসে ভাসিয়ে দেওয়ার পর দ্রুত তা উবে যাওয়া।
একটি ভিডিও হয়তো [জনমানসে] শক্তিশালী ছাপ ফেলতে পারে। কিন্তু নরকের বিবরণ নিখুঁতভাবে তুলে ধরতে হলে সেখানে আসলে সাংবাদিকদের যেতে হবে এবং দেখতে হবে ক্ষতবিক্ষত দেহ, প্রবহমান রক্ত আর দেয়ালে ঝুলে থাকা একটি হাত। এটি কার হাত? বা কার ছিন্নভিন্ন পা? দেখতে হবে যে মাথাতো আর মাথা নেই, নিজ কানে শুনতে হবে অসহনীয় যন্ত্রণার কাতর আর্তনাদ। দেখতে হবে ক্ষতিগ্রস্ত-বিকৃত অঙ্গপ্রত্যঙ্গের প্রদর্শনীর মাঝে প্রাণের স্পন্দন আর লক্ষ্য করতে হবে কীভাবে তাদের নিচে বালু রক্ত শুষে নেওয়া থামিয়ে দিয়েছে। এটাই প্রতীয়মান হবে যে সোনার বালু এহেন নিষ্ঠুর কাজের জন্য জন্ম নেয়নি।
আরেকটি প্রশ্ন হলো: কীভাবে কেউ এই শ খানেক মৃত ও আহতদের সামাল দেবে? আমরা কি নিশ্চিত যে একটি দেহ সত্যিই প্রাণহীন হয়ে পড়েছে? অথবা এটি আহত কোনো ব্যক্তির যে অজ্ঞান হয়ে পড়লের প্রাণের স্পন্দন ফুরিয়ে যায়নি? তাছাড়া গাজাতো বিশ্বের সবচেয়ে গরম স্থানগুলোর একটি। তাহলে এটা ভাবা যে এহেন উত্তাপ মরদেহগুলোর, জমাট বাধা রক্তের এবং মশা ও মাছি ঘিরে ধরা আহতদের কী অবস্থা করেছে? ঠিক এখানেইতো নরক।
গাজায় হত্যার ময়দানগুলো এবং সারা দুনিয়া আচ্ছন্ন হয়ে আছে এক রহস্যদাঘটন আবহে। [১৯৯৮ সালে সাহিত্যে নোবেলজয়ী] পর্তুগিজ লেখক হোসে সারামাগো তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস বালতাসার অ্যান্ড ব্লিমুডা-তে লিখেছিলেন: ‘কেউ স্বর্গ ও নরক আবিষ্কার করতে চাইলে তাকে অবশ্যই মানবদেহ সম্পর্কে জানতে হবে।’ গাজা উপত্যকায় নরক তার জায়গা খুঁজে পেয়েছে; আর স্বর্গ এই এলাকা থেকে অনেক দূরে রয়েছে।
* ওদেহ বিশারাত, আরব-ইসরায়েলি লেখক ও রাজনৈতিক কর্মী। ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজে প্রকাশিত লেখাটি ইংরেজি থেকে বাংলায় রূপান্তর করেছন আসজাদুল কিবরিয়া
![]() |
| খাদ্য সহায়তা নিতে গিয়েও ইসরায়েলি হামলায় হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন গাজাবাসী। ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1407)
- ▼ 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

No comments:
Post a Comment