ফরমালিনমুক্ত আনারসের হাট by একেএম মহিম

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার রঙ্গারচর ইউনিয়নের একটি গ্রাম আশাউড়া। বেশ কয়েক বছর ধরে এ গ্রামে উৎপাদিত হচ্ছে ফরমালিনমুক্ত সুস্বাদু আনারস। আর এখানকার উৎপাদিত আনারস নিয়ে শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন বসে ফরমালিনমুক্ত আনারসের হাট। বিষমুক্ত এ আনারসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে জেলাজুড়ে। দেখা গেছে, মওসুমি ফল কিনতে ফরমালিনের জন্য যখন ক্রেতারা দ্বিধায় থাকেন তখন আশাউড়া গ্রামের এ আনারস নিঃসন্দেহে কিনছে তারা। ফরমালিনমুক্ত হওয়ায় আনারসের বিক্রিও বেশি। প্রতিদিন আনারস হাটে লক্ষাধিক টাকার উপর বিক্রি হয়। আনারস বাগান মালিকরা জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর আনারসের ফলন বিপর্যয় হয়েছে। সেচের অভাবে ফলন নেমে এসেছে অর্ধেকে। আনারসের আকারও হয়েছে ছোট। সরজমিন ঘুরে জানা যায়, প্রায় ৪০ বছর আগে এখানে আনারস চাষ শুরু হয়। বাগান মালিকরা নিজ উদ্যোগেই আনারসের চাষ শুরু করেন। আশাউড়া ও দর্পগ্রামের ২শ’ হেক্টর জমিতে কালেংগা বা করাতি জাতের স্থানীয় এই আনারসের চাষ হয়। কেন আনারসের ফলন বিপর্যয় হয়েছে এ বিষয়ে বাগান মালিকরা জানান, ফাল্গুন মাসে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এ বছর আনারসের ফলন অর্ধেকে নেমে এসেছে। আনারসের আকারও হয়েছে ছোট। এতে লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। তারা জানান, আনারস বাগানে প্রয়োজনীয় সেচ প্রদানের জন্য গভীর নলকূপ স্থাপন করলে এ সমস্যা হতো না। সরকারি উদ্যোগে গভীর নলকূপ স্থাপনের দাবি তাদের। আশাউড়া গ্রামের আনারস চাষি মকবুল মিয়া জানান, এখানের আনারস খুবই মিষ্টি হয়। তাই রসালো আনারসের কদর সুনামগঞ্জের বাইরেও ব্যাপক। আনারস চাষি জুবের আহমদ জানান, একশ’ আনারস তারা প্রথমদিকে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি করেন। পরে তা কমতে কমতে এক হাজার টাকায় আসে। ফরমালিনমুক্ত সুস্বাদু এখানকার আনারসের বাজারজাতকরণেরও রয়েছে সমস্যা। সরাসরি সড়ক যোগাযোগ না থাকায় উৎপন্ন আনারস দু’দফা নৌকা বদল করে আনারস বাজারে বিক্রির জন্য আনা হয়। হাটবাজারগুলোতে চাষীরা সরাসরি আনারস বিক্রি করতে না পারায় স্বত্বভোগীরা বেশি লাভ করছে। আব্দুল মতিন নামে আনারস চাষী জানান, আমরা কষ্ট করে বাগানে আনারস ফলাই। আমরা আনারস বিক্রি করে যা পাই পাইকাররা তার চেয়েও বেশি লাভ করে। দেখা গেছে, জেলার ১শ’ ২০ কি.মি. সীমান্ত এলাকায় ছোট ছোট পাহাড়ঘেরা গ্রাম রয়েছে। এ গ্রামগুলোতে আনারস চাষের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু কৃষি অফিস কোন উদ্যোগ না নেয়ায় এর সমপ্রসারণ হচ্ছে না। আনারস বাগান মালিকরা বলেন, বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষের সঠিক উদ্যোগ এখনও নিচ্ছে না স্থানীয় কৃষি অফিস। উদ্যোগ নিলে উপকৃত হতেন বাগান মালিকরা। এখানকার আনারস সুনামগঞ্জের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানি করা যেত। বাণিজ্যিকভাবে কেন আনারস চাষের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক স্বপন কুমার সাহা জানান, আনারস চাষ নিয়ে একটি প্রকল্প চালু ছিল। বর্তমানে এ প্রকল্প বন্ধ থাকায় সম্প্রসারণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়াও লোকবল সংকট রয়েছে বলে তিনি জানান।