Monday, November 5, 2012
সাতঘরিয়া by প্রফুল্ল রায়
সাতঘরিয়া by প্রফুল্ল রায়
মনপত্থল গাঁয়ের সামনের দিকে সরকারি পাকা সড়ক; এখানে যাকে বলে পাক্কি। পেছনে দক্ষিণ কোয়েলের মরা খাত। কোয়েল এখন নামেই নদী। এই জেঠ মাহিনা অর্থাৎ জষ্ঠি মাসে বাদামি বালির পাহাড়ের তলায় যে জলটুকু রয়েছে তাতে হাঁটুও ডোবে না।
মনপত্থল জল-অচল অচ্ছুৎদের গাঁ। এর উত্তর দিকে থাকে ধাঙড়েরা, দক্ষিণে গঞ্জুরা, পশ্চিমে দোসাদরা।
ভোরবেলা দোসাদটোলার চাপিয়া কোয়েলের হাঁটুভর পানিতে নাহানা (স্নান) সেরে নিজের ধসেপড়া কোমর-বাঁকা ঘরটার দাওয়ায় বসে আছে। আর থেকে থেকেই থুতনি তুলে চনমন করে দূরে পাক্কির দিকে তাকাচ্ছে। ওই সড়কটা ধরে পুব দিক থেকে নাটোয়ারের আসার কথা।
এত ভোরে গঞ্জুটোলা ধাঙড়টোলা বা দোসাদটোলায় কারো ঘুম ভাঙেনি। তবে ধাঙড়পাড়ার পাল পাল শুয়োর এর মধ্যেই খাদ্যের খোঁজে বেরিয়ে পড়েছে। জানোয়ারগুলোর পেটে সারাক্ষণ রাহুর খিদে। শুয়োর ছাড়া আর যারা জেগেছে তারা হলো পাখি। ঝাঁকঝাঁক পরদেশি শুগা আর চোটা পাখি ডানায় বাতাস চিরে চিরে পাক্কির ওধারে ধু-ধু মাঠের দিকে উড়ে যাচ্ছে।
মনপত্থলের যে ধারেই তাকানো যাক, পরাস সিমার গাছের ছড়াছড়ি। তিন মাস আগে সেই যে গাছগুলো থোকায় থোকায় লাল ডগডগে ফুল ফোটাতে শুরু করেছিল, এখনো ফুটিয়েই যাচ্ছে। আর আছে সফেদিয়া গোলগোলি এবং মনরঙ্গোলি গাছের অজস্র ঝোপ। প্রতিটি ঝোপের মাথায় শুধু ফুল আর ফুল।
মনুষ্যজাতির সব চাইতে নিচের স্তরের যে অংশটি সারা পৃথিবী থেকে ভয়ে ভয়ে দূরে সরে এসে এই মনপত্থলে ঘাড় গুঁজে পড়ে আছে তাদের কেউ এই মুহূর্তে জেগে থাকলে, চাপিয়াকে দেখে একেবারে হাঁ হয়ে যেত।
দুসাদিন চাপিয়ার বয়স চলি্লশের কাছাকাছি। গায়ের রঙ পোড়া ঝামার মতো। চুল উঠে উঠে কপালটা প্রকাণ্ড মাঠ হয়ে গেছে। নাকটা খাটো এবং চাপা। থুতনিতে কাটা দাগের মতো খাঁজ। মোটা ভুরু, খসখসে চামড়া। তবু লক্ষ করলে টের পাওয়া যায়, চাপিয়ার লম্বাটে মুখে এককালে খানিকটা ছিরিছাঁদ ছিল। এই বয়সেও তার চোখ দুটো বড় সরল, বড় নিষ্পাপ এবং টানা টানা। বিশ-পঁচিশ সাল আগে যখন চাপিয়া সবে নঈ যুবতী হয়ে উঠেছে, সেই সময় গঞ্জুটোলার ফেকুমল প্রায়ই বলত, তার চোখ নাকি বনহরণা অর্থাৎ বনহরিণীর মতো। ছোকরা ছিল বেজায় ফুর্তিবাজ, আমুদে। নৌটঙ্কির দলে গান গাইত আর আজীব আজীব কথা বলে লোককে তাক লাগিয়ে দিত।
বনহরণার মতো চাপিয়ার চোখ হোক বা না হোক, তার গায়ে ছিল বনভৈসির তাকত। অসীম শক্তি আর অফুরন্ত স্বাস্থ্যই তাকে জীবনের লম্বা অনেকগুলো বছর এই পৃথিবীতে টিকিয়ে রেখেছিল। কিন্তু তিন বছর আগে খারাপ জাতের চেচকে (বসন্তে) চাপিয়ার অটুট শরীর ভেঙে গেছে। কণ্ঠার হাড় গজালের মতো ফুঁড়ে বেরিয়েছে। মুখে, ঘাড়ে, গলায় বসন্তের কালো কালো দাগ। হাতের শিরগুলো দড়ি হয়ে চামড়ার তলা থেকে ফুটে উঠেছে। আজকাল দুব্লা শরীরে অল্পতেই হাঁফ ধরে যায় তার।
একটা রোগা ভাঙাচোরা চেহারার আধবুড়ি দুসাদিনের দিকে তাকিয়ে গঞ্জুরা, ধাঙড়রা বা দোসাদরা নিশ্চয়ই হাঁ হয়ে যাবে না। তাদের অবাক হওয়ার কারণ হলো চাপিয়ার সাজগোজ। এই মুহূর্তে তার পরনে বাদরার ছাই (এক ধরনের ক্ষার) দিয়ে কাচা পরিষ্কার রঙিন একটা শাড়ি আর খাটো জামা। চোখে কাজলের লম্বা টান। চুলগুলো কাঠের কাকাই দিয়ে চুড়ো করে বেঁধে চারপাশে মনরঙ্গোলি ফুল বসিয়ে দিয়েছে। কপালের মাঝখানে মেটে সিঁদুরের ফোঁটা। গলায় চাঁদির হার, কানে চাঁদির করণফুল, হাতে চাঁদির কাঙনা। গত তিন সাল বড় কষ্টে গেছে চাঁদিয়ার, বহোত তখলিফ। কত দিন পেটে দানা পড়েনি, বিলকুল ভুখা থাকতে হয়েছে। তবু প্রাণ ধরে চাঁদির এই গহনা কটা সে যে বেচতে পারেনি তার কারণ একটাই। হাজার দুঃখেও চাপিয়ার আশা বা স্বপ্ন ছিল জীবন আরো একবার সে সাজাতে পারবে। আজ তার সেই সাজার দিন।
সেই পনের বছর বয়স থেকে এখন পর্যন্ত মোট ছ'বার এভাবে সেজেছে চাপিয়া। মনপত্থলের অচ্ছুতেরা তাকে শেষবার সাজতে দেখেছে পাঁচ সাল আগে। সেবার চাপিয়া তার ছ'নম্বর মরদের ঘর করতে যায়।
মনপত্থলকে ঘিরে দশ-বিশটা গাঁয়ে চাপিয়ার আরেক নাম ছেঘরিয়া অর্থাৎ চলি্লশ বছরের জীবনে মোট ছ'টি পুরুষের ঘর করেছে সে আজ পর্যন্ত।
ঘরের দাওয়ায় বসে ক্রমশ অস্থির হয়ে উঠতে থাকে চাপিয়া। চারপাশের দোসাটোলা, গঞ্জুটোলা, ধাঙড়টোলা, ঝাঁক ঝাঁক পরদেশি পাখি, পাল পাল শুয়োর, সিমার বা পরাস গাছের মাথায় থোকা থোকা আগুন, অনেক দূরে ধু-ধু ফাঁকা মাঠ_কোনোদিকেই লক্ষ নেই তার। পাকা সড়কের ওপর চাপিয়ার দুই চোখ স্থির হয়ে আছে।
কথা আছে, দু'মিল (দু'মাইল) পুবের ছোট টৌন ভকিলগঞ্জ থেকে সুরয উঠবার ঢের আগেই নাটোয়ার এসে তাকে নিয়ে সোজা চলে যাবে আড়াই 'কোশ' পশ্চিমে সুরথপুরার হাটে। নাটোয়ার তারই স্বজাত অর্থাৎ কিনা দোসাদ। বয়স কমসে কম পঞ্চাশ হবেই। ভকিলগঞ্জে এক ঠিকাদারের কাছে দিনমজুরিতে মাটি কাটে। ওদিকটায় এখন সড়ক তৈরির কাজ চলছে। তার জন্যই মাটি কাটা।
দেখতে দেখতে চারদিক দ্রুত ফর্সা হতে থাকে। অনেক, অনেক দূরে আকাশ যেখানে পিঠ বাঁকিয়ে দিগন্তে নেমেছে, ঠিক সেইখানে লাল টকটকে সূর্যটা একটু একটু করে মাথা তোলে। ধাঙড়, গঞ্জু আর দোসাদটোলা থেকে মানুষজনের গলা ভেসে আসে। টের পাওয়া যায় মনপত্থল গাঁ জাগতে শুরু করেছে।
সুরয উঠে গেল, অথচ এখনো নাটোয়ারের দেখা নেই। তবে কি সে আসবে না? ভাবতেই বুকের ভেতর চলি্লশ বছরের দুব্লা হৃৎপিণ্ড থমকে যায় চাপিয়ার। চোখ জলে ভরে যেতে থাকে। নাটোয়ার দোসাদ না এলে তার এত সাজ ব্যর্থ হয়ে যাবে।
আরো খানিকক্ষণ পর সূর্য যখন দিগন্তের তলা থেকে লাফ দিয়ে ওপরে উঠে আসে, সে সময় দেখা যায় পাক্কি ধরে নাটোয়ার এদিকেই আসছে। বুকের ভেতর থমকান হৃৎপিণ্ড বিপুল বেগে ছোটাছুটি শুরু করে। খুশিতে চোখমুখ চকচকিয়ে ওঠে চাপিয়ার।
একটু পরে ডাইনে এবং বাঁয়ে ধাঙড় আর গঞ্জুটোলা রেখে দোসাদটোলায় ঢুকে পড়ে নাটোয়ার। তারপর সামনের সিমার আর পরাস গাছগুলোর তলা দিয়ে সোজা চাপিয়ার কাছে এসে দাঁড়ায়। তার পা থেকে মাথা পর্যন্ত সাজের বাহার দেখতে দেখতে শুধোয়, 'কা রে চাপিয়া, রিডি?' 'রিডি' মানে রেডি। চাপিয়া প্রস্তুত হয়ে আছে কি না তা জানতে চাইছে নাটোয়ার। ঠিকাদারদের কাছে কাজ করে দু-চারটে আংরেজি বুলি শিখে ফেলেছে সে। কথায় কথায় হরদম সেগুলো বেরিয়ে আসে।
'হাঁ_', আস্তে ঘাড় হেলিয়ে দেয় চাপিয়া। নাটোয়ারের দিকে ভালো করে তাকাতে পারে না সে। পনের ষোল বছরের নঈ যুবতী সে আর নেই। তবু তার বুক সুখে এবং লজ্জায় থির থির করে কাঁপতে থাকে।
'আমার আসতে থোড়া দের হয়ে গেল।'
চাপিয়া কী উত্তরে দেবে, ভেবে পেল না।
নাটোয়ার ফের বলে, 'আর দাঁড়িয়ে থেকে কী হবে। সুরয চড়ে যাচ্ছে। জলদি চল্। সুরথপুরার হাটিয়ায় পেঁৗছতে দুফার হয়ে যাবে।'
আবছা গলায় চাপিয়া বলে, 'থোড়া ঠার যাও।' বলেই তার ভাঙাচোরা ফুটোফাটা ঘরের ভেতর ঢুকে একটা পুঁটলি নিয়ে বেরিয়ে আসে। পুঁটলিটা কাল রাতেই বেঁধে-ছেঁদে রেখেছিল সে। ওটার ভেতর রয়েছে তার যাবতীয় পার্থিব সম্পত্তি। মোট খান দুই সেলাই করা খাটো বহরের শাড়ি, তিনটে ছেঁড়া জামা, একটা কাঁথা, একটা কম্বল আর সিলভারের তোবড়ানো দু-তিনটে থালা-গেলাস।
নাটোয়ার পুঁটলিটার দিকে আঙুল বাড়িয়ে শুধোয়, 'এটা নিয়ে যাবি?' 'হাঁ_', চাপিয়া মাথা নাড়ে।
'ঠিক হ্যায়। চল্_'
কয়েক পা এগিয়ে একবার পেছন ফেরে চাপিয়া। হেলে-পড়া টুটাফুটা ঘরটা একবার দেখে নেয়। এটা তার বাপের ঘর। অবশ্য বাপ আর বেঁচে নেই; কবেই মরে ফৌত হয়ে গেছে। শুধু কি বাপ, মা-বোন কেউ নেই তার। এক ভাই ছিল; শাদির পর অনেক দূরের ভারি টৌন ঝরিয়ার চলে গেছে। সেখানে কয়লা খাদানে কাজ করত। দশ-বিশ সাল তার কোনো খবর পায় না চাপিয়া। মরে গেছে কী বেঁচে আছে, কে জানে।
বাপের এই ঘর থেকে এই প্রথম যাবতীয় অস্থাবর সম্পত্তি কাঁখে নিয়ে একজন মরদের পিছু পিছু চলে যাচ্ছে না চাপিয়া। আগেও ছ' ছ'বার পুরুষের সঙ্গে বেরিয়ে গেছে। যাবার সময় প্রতিবারই মনে মনে বলেছে, 'হো রামজি, হো কিষুণজি, আর যেন আমাকে বাপের ঘরে ফিরতে না হয়।' কিন্তু দো সাল, চার সাল পরপরই ছে-ঘরিয়া চাপিয়াকে ফিরে আসতে হয়েছে।
এবার হলো সপ্তম বার। ঘরটা দেখতে দেখতে মনে মনে হাত জোড় করে রামচন্দজি এবং কিষুণজির উদ্দেশ্যে চাপিয়া প্রার্থনা জানায়, এই যেন তার শেষ যাওয়া হয়।
নাটোয়ার তাড়া লাগায়, 'কী রে, দাঁড়িয়ে গেলি যে, দের নায় কর না_'
'নায়_' মুখ ফিরিয়ে নাটোয়ারের পিছু পিছু আবার হাঁটতে শুরু করে চাপিয়া। যেতে যেতে লক্ষ করে, হট্টাকট্টা চেহারার আধবুড়ো নাটোয়ারের সাজের বহরও আজ কম না। এমনিতে তার যা কাজ তাতে একরকম সারা দিনই মাটি মেখে পিরেত সেজে থাকে। কিন্তু আজ এর মধ্যেই সারা গায়ে প্রচুর তেল মেখে 'নাহানা' সেরে নিয়েছে নাটোয়ার। মাথায় এত কড়ুয়া তেল ঢেলেছে যে, এখনো কপাল বেয়ে চুঁইয়ে চুঁইয়ে নামছে। তার পরনে ক্ষারে-কাচা সফেদ ধুতি আর লাল জামা। পায়ে কাঁচা চামড়ার ভারি জুতো, কানে পেতলের মাকড়ি। কাঁধের ওপর নতুন কোরা গামছা।
দোসাদটোলা পেছনে ফেলে গঞ্জু আর ধাঙড়টোলার ভেতর দিয়ে দু'জনে এগিয়ে যেতে থাকে। এর মধ্যে মনপত্থল গাঁয়ের যাদেরই ঘুম ভেঙেছে দুলহনের সাজে চাপিয়াকে দেখে তারা তাজ্জব বনে যায়। জিজ্ঞেস করে, 'কা রে চাপিয়া, নয়া মরদ মিলল হো?'
মুখে কিছু বলে না চাপিয়া। চোখ নামিয়ে আস্তে মাথা নাড়ে শুধু।
'এবার তা হলে সাতঘরিয়া হবি!'
চাপিয়া চুপ।
মনপত্থলের বয়স্ক মানুষজনেরা তার হিতাকাঙ্ক্ষী। তারা চেঁচিয়ে পরামর্শ দেয়, 'দেখিস, এই শাদিটা যেন টুটে না যায়।'
এর আগে ছ' ছ'বার শাদি হয়েছে চাপিয়ার। ছ'বারই ভেঙে গেছে। মনে মনে তার ইচ্ছা শ্মশানে না চড়া পর্যন্ত এই শাদি যেন অটুটই থাকে। হো রামজি, হো কিষুণজি, তেরে কিরপা।
একসময় দু'জনের মনপত্থল গাঁ থেকে বেরিয়ে সোজা পাক্কিতে এসে ওঠে; তারপর সুরথপুরা হাটের দিকে যেতে থাকে। গাঁয়ের ভেতর দিয়ে যখন আসছিল তখন দু'জনে আগে-পিছে হাঁটছিল। যে মরদের সঙ্গে এখনো শাদি হয়নি, গাঁয়ের মানুষের চোখের সামনে তার গা ঘেঁষে চলা যায় নাকি? শরম লাগে না? এই শরমটা নাটোয়ারের মধ্যেও কাজ করছিল খুব সম্ভব। গাঁয়ের ভেতরে বরাবর চাপিয়ার কাছ থেকে খানিকটা ফারাক রেখে চলেছে সে। কিন্তু পাকা সড়কে জান-পয়চান কেউ নেই। এখানে চাপিয়ার পাশাপাশি হাঁটতে অসুবিধা কোথায়?
চলতে চলতে বারবার সঙ্গিনীর দিকে তাকায় নাটোয়ার। চাপিয়াও তার সঙ্গীকে আড়ে আড়ে দেখতে থাকে। এভাবে মাঝে মাঝে দু'জনের চোখাচোখি হয়ে যায়।
হাজার হোক, চাপিয়া একটা রক্তমাংসের জীবন্ত আওরত। মনুষ্যজাতি সম্পর্কে তার বিপুল অভিজ্ঞতা। নাটোয়ারের তাকান দেখে এক লহমায় বুঝে নেয়, তাকে 'পুরুখ' বা পুরুষটার মনে ধরেছে।
চাপিয়ার মনে পড়ে, প্রথমবার ছাড়া বাকি পাঁচবারই এভাবে একটা করে পুরুষের সঙ্গে সুরথপুরার হাটে গেছে। প্রথমবার যেতে হয়নি, তার কারণ তখন বাপ বেঁচে ছিল। সে-ই চারপাশের দশ-বিশটা তালুক চষে মনপছন্দ একটা ছেলে খুঁজে এনে তার শাদি দেয়। বিয়ের পর মনপত্থল থেকে আট 'মিল' উত্তরে হাথিয়াগঞ্জে মরদের ঘর করতে চলে যায় চাপিয়া।
জীবনের প্রথম 'পুরুখ' মুঙ্গিলাল ছিল বড়ই সাদাসিধে ভালো মানুষ গোছের আদমি। সংসারে সে আর তার একটা বুড়ি পিসি ছাড়া অন্য কেউ ছিল না। এক রাজপুত ক্ষত্রিয়ের জমিতে মুঙ্গিলাল ছিল কামিয়া অর্থাৎ খরিদি কিষাণ। তারা নানা জমি-মালিকের কাছ থেকে কোরা কাগজে অঙ্গুঠার ছাপ মেরে টাকা করজ নিয়েছিল। সে টাকা নিজে আর শোধ করে যেতে পারেনি। ফলে বাকি জীবন নানাকে মালিকের জমিতে স্রেফ পেটভাতায় ঘাড় গুঁজে খেটে যেতে হয়েছে। নানার পর বাপ মৃত্যু পর্যন্ত ওই মালিকেরই জমি চষে গেছে। তারপর মুঙ্গিলালের পালা। কিন্তু সুদে-আসলে করজের টাকা ফুলেফেঁপে এতই বিরাট হয়ে উঠেছে যে, তিন পুরুষ ধরে অবিরত খেটেও শোধ করা যাচ্ছিল না।
শাদির পর চাপিয়াকেও মালিকের ক্ষেতির কাজে লাগিয়ে দিয়েছিল মুঙ্গিলাল। দু'জনে খেটে যত তাড়াতাড়ি কামিয়াগিরি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়, এই ছিল তার ইচ্ছা। কিন্তু দুটো সাল ঘুরতে না ঘুরতেই দশ দিনের 'বোখারে' হঠাৎ মরে গেল মুঙ্গিলাল। মরদের মৃত্যুশোক সামাল দিয়ে উঠতে না উঠতে মালিকের মুন্শি আধবুড়ো পিঠবাঁকা চিমসে চেহারার টেড়ারাম সহায় একদিন রাত্রে তার কাছে এসে ফিসফিসিয়ে একটা প্রস্তাব দেয়। সে তাকে 'রাখনি' (রক্ষিতা) করতে চায়। এমনি এমনি মুফতে না। রীতিমতো সপরনার (সাজসজ্জা) জিনিস দেবে। নয়া শাড়ি দেবে, চাঁদির গয়না দেবে, এ ছাড়া পাইসা-রুপাইয়া তো আছেই।
অচ্ছুৎ ভূমিদাসদের ঘরের যুবতী মেয়েদের মালিক এবং তাদের লোকেরা চিরদিন ভোগদখল করে এসেছে। আবহমান কাল ধরে এ অঞ্চলে এ একটা চালু-প্রথা। এর বিরুদ্ধে কেউ কখনো মাথা তুলে দাঁড়ায়নি। কিন্তু চাপিয়া অন্য ধাতের তেজি মেয়ে। তা ছাড়া মুঙ্গিলালের শোকটা তখনো তার মনে বড়ই টাটকা। আচমকা তার মাথায় কী যেন হয়ে যায়। 'বুড়হা গিধ, তুহারকা মুহ্মে থুক থুক থুক_' গালাগাল দিয়ে এবং টেড়ারামের মুখে গুনে গুনে তিনবার থুতু ছিটিয়েই চাপিয়ার হুঁশ হয়, হাথিয়াগঞ্জে আর থাকা ঠিক হবে না। টেড়ারাম তাকে নির্ঘাত খুন করে ফেলবে।
একমুহূর্তও না দাঁড়িয়ে চাপিয়া রুদ্ধশ্বাসে ছুটতে শুরু করে এবং রাতারাতি ক্ষেতির পর ক্ষেতি পেরিয়ে সোজা মনপত্থলে বাপের ঘরে ফিরে আসে।
বাপ গণপৎ দোসাদ কমজোরি মানুষ। সে ছিল মরসুমি কিষাণ। ধান কি গেঁহু চাষের সময় আর ফসল কাটার মরসুমে দেড় আর দেড় মোট তিনটে মাস সে কাজ পেত। বাকি ন' মাস দক্ষিণ কোয়েলের পাড়ে যে মাইলের পর মাইল জুড়ে বা মহুয়ার গোটা তুলে এনে খেয়ে জীবন বাঁচাত। মুঙ্গিলালের সঙ্গে শাদির আগে বাপের পিছু পিছু খাদ্যের খোঁজে কতবার সে ওই জঙ্গলটায় গেছে। হাথিয়াগঞ্জ থেকে ফেরার পর রোজই সেখানে যেতে লাগল চাপিয়া।
দিন কেটে যাচ্ছিল। কিন্তু চাপিয়ার বরাত এমনই, মুঙ্গিলালের মৃত্যুর পর ছ'মাস ঘুরল না, বাপটা মরে ফৌত হয়ে গেল।
দুব্লা হোক, বুড়হা হোক, হাজামজা হোক, তবু মাথার ওপর একটা বাপ ছিল। সে চোখ বোজার পর রাতের অন্ধকারে কারা যেন ঘরের বেড়া আঁচড়াতে আর চাপা গলায় বলত, 'দরবাজা খোল চাপিয়া। তোর জন্যে লাড্ডুয়া এনেছি, বুনিয়া এনেছি, চাঁদির করণফুল এনেছি_'
বাপ মরার পর থেকেই শিয়রের কাছে একটা বাঁকানো দা নিয়ে শুতো চাপিয়া। দা'টা বাগিয়ে বিছানায় উঠে বসে সে গলার শির ছিঁড়ে চেঁচাত, 'ভাগ যা চুহাকা ছৌয়ারা। নইলে জানে খতম হয়ে যাবি।'
কিন্তু উৎপাতটা দিন দিন বেড়েই যাচ্ছিল। অতিষ্ঠ চাপিয়া শেষ পর্যন্ত মনপত্থলের পঞ্চ-এর কাছে গিয়ে নালিশ জানায়। 'পঞ্চ'-এর যে মাথা সে হলো গঞ্জুটোলার বুড়ো ধানপত। সব শুনে সে বলেছিল, যুবতী ছোকরির অরক্ষিত থাকা ঠিক না। চাপিয়ার উচিত তুরন্ত আরেকবার শাদি করে ফেলা। বেশির ভাগ 'পুরুখে'র (পুরুষের) মধ্যেই রয়েছে একটা করে জানবর। চাপিয়ার শরীরে এবং মনে তাকত কতটুকু? জানবরেরা তাকে ছিঁড়ে খেয়ে ফেলবে।
ধানপত ভালো লোক, বহোত সাচ্চা আদমি। তার কথাগুলো ফেলে দেবার মতো নয়। চাপিয়া বলেছিল, 'লেকেন আমি একঘরিয়া রাণ্ডি, আমাকে কে শাদি করবে?'
ধানপত বলেছিল, 'কা তাজ্জবকা বাত! আমাদের অচ্ছুতিয়াদের ঘরে একঘরিয়াদের নতুন করে শাদি হয় না! কেত্তে দোঘরিয়া চারঘরিয়া দশঘরিয়া চুমৌনা (সাঙ্গা) করে সম্সার করছে।'
কথাটা চাপিয়ার অজানা নয়। দোসাদ সমাজের যাবতীয় প্রথাই সে জানে। নিজের দ্বিতীয়বার শাদির প্রসঙ্গে ঠিক ওভাবে সে বলতেও চায়নি। দ্রুত শুধরে নিয়ে সে এবার বলেছে, 'জানি চাচা। লেকেন আমি একটা লেড়কি, মাথার ওপর বাপ নেই। কোই ভি নায়। লোকের দরজায় দরজায় ঘুরে কি বলতে পারি আমাকে শাদি কর। শরমকা বাত।'
'তুই রাজি থাকলে বল্। আমি ব্যওস্থা করব।'
'তোমার যা 'আচ্ছা' মনে হয়, কর।'
কয়েক দিনের মধ্যেই পাশের তালুক দুধলিগঞ্জ থেকে আধবুড়ো এক দোসাদকে এনে হাজির করেছিল ধানপত। লোকটার নাম চৌপটলাল। দু'জনের আলাপ-টালাপ করিয়ে দিয়ে ধানপত জানিয়েছিল, চৌপট পাক্কিতে সাইকেল রিকশা চালায়। আগে দু'বার বিয়ে করেছে। এক বউ মারা গেছে বোখারে, আরেক বিয়ে 'ছুট' হয়ে গেছে। ছেলেপুলে নেই, ঝাড়া হাত-পা লোক। চাপিয়াও তা-ই। এই চুমৌনা হলে দু'জনের পক্ষেই ভালো।
চাপিয়া মুখ নামিয়ে ধানপতকে শুধিয়েছে, 'চাচা, রিকশ গাড়িয়াটা কি ওর নিজের?'
চৌপটলাল প্রশ্নের উত্তরটা ধানপতকেই দিয়েছে, 'ওকে বলে দাও চাচা, ওটা মালিকের। রোজ চার রুপাইয়া তাকে কেরায়া দিতে হয়। তারপর যা থাকে সেটা আমার কামাই।' একটু থেমে ফের বলেছে, 'আউর একগো বাত ধানপত চাচা।'
ধানপত জানতে চেয়েছে, 'কা বাত?'
'তোমাদের লড়কিকে জানিয়ে দাও' আমার কামাইয়ের দিকে যেন নজর না দেয়। চুমৌনা হলে নিজের পেটের দানা নিজেকেই ওর জুটিয়ে নিতে হবে। আমার পেটের সওয়াল আমার, ওর পেটের সওয়াল ওর। রাজি হলে এ চুমৌনা হবে।'
'লেকেন তোর ঘরে গিয়ে নয়া জায়গায় চাপিয়া নিজের ব্যওস্থা কী করে করবে?'
'সেটা আমি দেখব। রাজি কিনা তুমি 'পুছে' নাও_'
ধানপত উত্তর দেবার আগেই চাপিয়া বলে উঠেছে, 'আমি রাজি।' আসলে একা একা থাকতে তার সাহস হচ্ছিল না; একটি পুরুখের আশ্রয় তার প্রয়োজন ছিল।
এবার সোজাসুজি তার দিকে তাকিয়ে চৌপটলাল বলেছে, 'তা হলে কাল সুবে সাফা কাপড়া-টাপড়া পরে থেকো। আমি এসে তোমাকে নিয়ে যাব।'
ধানপত শুধোয়, 'কোথায় নিয়ে যাবি?'
চৌপটলাল বলে, 'সুরথপুরার হাটিয়ায়।'
'সেখানে কী?'
চৌপটলাল যা উত্তর দেয় তা এই রকম। তখন চাষের মরসুম। চারপাশের দশ-বিশটা গাঁয়ের যত জমির মালিক আছে, তাদের সবার ক্ষেতিমজুর দরকার। সুরথপুরার হাটিয়ায় এ অঞ্চলের তাবৎ ভূমিহীন মেয়ে-পুরুষ এই সময়টা গিয়ে জড়ো হয়। জমির মালিকেরা তাদের ভেতর থেকে শক্তসমর্থ দেখে মজুর বেছে নিয়ে যায়। তেমন তেমন খাটিয়ে হলে মালিকের কাছে সালভর কাজ পাওয়া যায়। কাজের বদলে মেলে চাল, গেঁহু বা বজরা আর নগদ কিছু পাইসা। চাপিয়াকে যদি পসন্দ করে কোনো জমির মালিক কাজ দেয়, চৌপটলাল তাকে নিজের ঘরে নিয়ে তুলবে।
ধানপতের সন্দেহ হয়েছিল। সে শুধিয়েছে, 'তোর মতলব কী রে? চাপিয়াকে রাখনি বানিয়ে ঘরে বসাতে চাস?'
তাড়াতাড়ি জিভ কেটে কানে হাত দিয়ে চৌপটলাল বলছে, 'নায় নায় চাচা। ওরকম পাপকা চিন্তা মনে এনো না। তোমাদের লড়কি ক্ষেতিমালিকের কাম পেলেই চুমৌনার ব্যওস্থা করে ফেলব। তারপর ওকে ঘরে নিয়ে যাব। তবে একটা কথা_'
'কা?'
'কাম না পেলে কিন্তু চুমৌনা হবে না। তোমাদের লড়কিকে সুরথপুরার হাটিয়ে থেকে ফিরে আসতে হবে।'
ধানপতকে বিষণ্ন দেখিয়েছিল। চাপিয়ার দিকে ফিরে সে শুধিয়েছে, 'কা রে রাজি? ভাল করে ভেবে দ্যাখ।'
চাপিয়া বলেছে, 'ভাবনার কিছু নেই। আমি রাজি।'
কথামত পরের দিন ভোরে কোয়েলের হাঁটুভর জলে 'নাহানা' চুকিয়ে সেজেগুজে গয়না পরে নিজের ঘরে দাওয়ায় বসে থেকেছে চাপিয়া। মুঙ্গিলালের সঙ্গে পয়লা শাদির সময় বাপ অনেক চাঁদির গয়না দিয়েছিল। সে সব নিয়ে আসতে পারেনি সে। এক কাপড়ে তাকে মুঙ্গিলালদের গাঁ থেকে পালিয়ে আসতে হয়। পরে অবশ্য বুড়ি পিসিশাশুড়ি তার কাপড়জামা গয়নাগাটি, সব কিছু নিজে এসে দিয়ে গেছে।
যাই হোক, সুরুয উঠবার আগেই চৌপটলাল এসে চাপিয়াকে সঙ্গে করে সুরথপুরার হাটে নিয়ে গিয়েছিল। সেখানে এক ক্ষেতিমালিক তাকে দেখামাত্র পছন্দ করে ফেলে এবং সালভর কাজের ব্যবস্থা পাকা হয়ে যায়।
চৌপটলাল মরদকা ছৌয়া। তার বাত হাতিকা দাঁত। ওই হাটিয়াতেই অচ্ছুতিয়াদের বামহন ডেকে চুমৌনা সেরে নয়া বহুকে নিয়ে দুধলিগঞ্জে চলে যায়।
চৌপটলালের সঙ্গে তার বিবাহিত জীবনের আয়ু মোট চার সাল। এই কটা বছর মোটামুটি ভালই কেটেছে। শর্তানুয়ায়ী চৌপটলাল আর চাপিয়া নিজের নিজের পেটের দানা জোগাড় করত। তাদের জীবনে কোনোরকম ওঠানামা ছিল না। রোজ ভোরে উঠে বাসি রোটি কি পানিভাত্তা (পান্তাভাত) খেয়ে চুলা ধরিয়ে কালোয়া (দুপুরের খাবার) বানিয়ে নিত চাপিয়া। দুটো তোবড়ান সিলভারের কটোরায় কালোয়া ভরে একটা দিত চৌপটলালকে, একটা নিত নিজে। তারপর দু'জনে চলে যেত দু'দিকে। চাপিয়া মালিকের খামারে কিংবা ক্ষেতিতে। চৌপটলাল যেত সাইকেল রিকশা নিয়ে পাক্কিতে। সারা দিন পর রাত্রিবেলা দু'জনের দেখা হতো। গরম গরম মাড়ভাত্তা বা লিট্টি বানিয়ে খাওয়া-দাওয়া চুকিয়ে ঘন হয়ে পাশাপাশি শুয়ে ঘরের ফুটো ছাউনির ফাঁক দিয়ে আকাশ আর তারার মেলা দেখতে দেখতে কত যে গল্প করত চৌপটলাল।
চাপিয়ার এই চার বছরের বিবাহিত জীবনের একটা বড় ঘটনা হলো এক মরা বাচ্চার জন্মদান। এটুকু বাদ দিলে মনে হচ্ছিল, দিন এভাবেই কেটে যাবে।
কিন্তু চার সাল বাদে এদিকে এমন মারাত্মক খরা হয় যে মাইলের পর মাইল সব চাষের জমি টুটেফুটে গেল। না এক ফোঁটা মেঘ, না এক বুঁদি বারিষ। আকাশের চেহারা দেখে এদিকে আদৌ কোনো দিন যে বৃষ্টি নামবে, এমন ভরসা পাওয়া গেল না। জল না হলেও চাষও নেই। ক্ষেতিমালিক জানিয়ে দিল, সে আর চাপিয়াকে রাখতে পারবে না।
কাজটা চলে যাবার পর চৌপটলাল নিরানন্দ মুখে বলেছিল, 'মনমে বহোত দুখ হচ্ছে। তবু কথাটা তোকে বলতেই হয়।'
'কা?' ভয়ে ভয়ে স্বামীর মুখের দিকে তাকিয়েছে চাপিয়া।
'তুই মনপত্থলে ফিরে যা।'
'ফিরে যাব!'
'হাঁ।' বিষণ্নভাবে মাথা নেড়েছে চৌপটলাল, 'তোর কাম নেই, কামাই বন্দ্। এই খরার সময় মানুষের পয়সা নেই; কেউ রিকশ গাড়িয়ায় চড়তে চায় না। দিনভর আমার যা কামাই তাতে আমারই চলে না। তুই থাকলে দু'জনেই ভুখা মরে যাব।'
অগত্যা কাটান-ছাড়ান হয়ে গেল। নিজস্ব জামাকাপড় আর চাঁদির গয়নাগুলো নিয়ে চোখের জলে বুক ভাসাতে ভাসাতে আবার মনপত্থলে ফিরে এলো চাপিয়া।
বাপের ঘরটা অনেক দিন ফাঁকা পড়ে ছিল। মানুষজন না থাকায় হাঁটুভর ধুলোবালি আর জঞ্জাল জমে উঠেছিল সেখানে। সাগুয়ান কাঠের খুঁটিতে ঘুন ধরে এমন ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছিল যে, ঘরটা হুড়মুড় করে যেকোনো সময় পড়ে যেতে পারত। জঞ্জাল সাফসুতরো করে, জঙ্গল থেকে কাঠ জুটিয়ে এনে খুঁটিগুলো বদলে নিয়েছিল চাপিয়া।
এরপর একটা বছর বড়ই কষ্টে কেটেছে তার। চৌপটলালদের ওখানেই শুধু খরা হয়নি, মনপত্থলের চারপাশের চলি্লশ পঞ্চাশটা তালুকের তাবৎ জমি রোদে জ্বলে গিয়েছিল। বারিষের অভাবে চাষবাস যখন বন্ধ, তখন চাপিয়ার মতো মানুষদের কাজও বন্ধ। কাজেই দক্ষিণ কোয়েলের মরা খাতের দু'ধারের জঙ্গলটাই ওদের একমাত্র ভরসা। সেখান থেকে রোজ মহুয়ার গোটা, রামদানা আর সুথনি জোগাড় করে এনে সে সব সেদ্ধ করে খেয়ে কিভাবে যে পুরা একটা সাল কাটিয়ে দিয়েছে তা একমাত্র চাপিয়াই জানে। তার জীবনশক্তি যে প্রবল, এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। নইলে এই সব কচুঘেঁচু আগাছা খেয়ে কেউ বেঁচে থাকতে পারে!
এক বছর বাদে আকাশের দেওতা মুখ তুলে চাইল। জেঠ মাহিনা শেষ হতে না হতেই চারপাশ ঘন কালো মেঘে ছেয়ে গেল। চাপিয়া আকাশের দিকে তাকিয়ে হাতজোড় করে মাথায় ঠেকিয়েছে আর বলেছে, 'হে রামজি, হো কিষুণজি, তেরে কিরপা। কাম মিললে ভাত খেতে পাব। এক সাল ভাতের মুখ দেখি না।'
চাপিয়া ঠিক করে ফেলেছিল, দু-এক রোজের ভেতর সুরথপুরার হাটে গিয়ে সেই কড়াইয়া গাছগুলোর তলায় বসবে। ওখান থেকেই চারপাশের ক্ষেতি মালিকেরা মরসুমি কিষাণ জুটিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু যেদিন সে হাটে যাবে তার আগের দিন পাশের গাঁ হাতিয়াড়া থেকে জগন দোসাদ এসে হাজির। সুরথপুরার হাটে ধানচালের আড়তে সে মাল বয়। জগন বলেছিল, 'হামনি শুনা হ্যায়, তুহারকা ঘরমে মরদ নহি। চৌপটলালের সাথ তোর শাদি টুটে গেছে।'
জগন দোসাদকে ছোটবেলা থেকেই চিনত চাপিয়া। বাপ বেঁচে থাকতে প্রায়ই মনপত্থলে আসত সে। চাপিয়া ঘাড় কাত করে জানিয়েছিল, 'হ্যাঁ।'
'আমার ঘরেও জেনানা নেই। তোর মন হলে আমার ঘরে আসতে পারিস। মগর_'
জগন দোসাদের প্রস্তাবটি বুঝতে অসুবিধা হয় না চাপিয়ার। একটা তাগড়া তাকতওয়ালা জোয়ান মরদ যেচে এসে তাকে বিয়ের কথা বলছে শুনেও বুকের ভেতরটা উথালপাথল হয়ে ওঠে না। শান্ত চোখে জগনের দিকে তাকিয়ে নিরুত্তাপ গলায় সে শুধিয়েছে, 'মগর কা?'
জগন এবার যা বলেছে তা এই রকম_চাপিয়াকে সে নিজের ঘরে নিয়ে যেতে পারে একটিমাত্র শর্তে। কামাই করে নিজের পেটের দানা তাকে জোটাতে হবে।
এমন শর্ত চাপিয়ার অজানা নয়। এই কড়ারেই আগের বিয়েটা হয়েছে তার। সে বলেছে, 'ঠিক হ্যায়।' এ দেশের নিয়ম এবং সংস্কার অনুযায়ী চাপিয়া বুঝে নিয়েছে, সব ঔরতের জন্যই একটা করে পুরুখের প্রয়োজন। সে খেতে পরতে না দিক, অন্য নিরাপত্তার জন্যও তাকে একান্ত দরকার। মেয়েদের পক্ষে একা বেওয়ারিশ পড়ে থাকা খুবই বিপজ্জনক।
জগন এবার খুশি হয়ে বলেছে, 'এহি সাল আসমানে ঘটা দেখে ক্ষেতিমালিকেরা সুরথপুরার হাটিয়ায় কিষাণ নিতে আসছে। ওখানে গেলেই কাম জুটে যাবে।'
'জানি। আমি কাল সুরথপুরা যাব।'
জগনের উৎসহ এবার দশ গুণ বেড়ে গিয়েছিল। সে বলেছে, 'কাল সুবে তোর এখানে চলে আসব। হামনিলোগন একসাথ সুরুথপুরায় চলে যাব।'
'ঠিক হ্যায়।'
'তোর কাম জুটলে তোকে আমরা ঘরে নিয়ে যাব।'
পরের দিন ভোরে সুরয উঠবার আগে মনপত্থলের তাবৎ মানুষ দেখল চাপিয়া আরো একবার সেজেগুজে হাতিয়াড়া গাঁয়ের জগন দোসাদের পিছু পিছু সুরথপুরার হাটে চলেছে।
কড়াইয়া গাছের তলায় গিয়ে বসতে না বসতেই কাজ জুটে গিয়েছিল চাপিয়ার। ফলে চৌপটলাল যা যা করেছে এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। জগন কোত্থেকে এক টিকিওলা পণ্ডিত ধরে এনে নগদ পাঁচ টাকা দক্ষিণা দিয়ে বিয়েটা চুকিয়ে ফেলে। তারপর চাপিয়াকে নিয়ে সিধা নিজের ঘরে চলে যায়।
চাপিয়ার এই তিন নম্বর বিয়ের আয়ু পুরো দুই সালও নয়। পয়লা বছর ঘুরতে না ঘুরতেই পেটে ছৌয়া এসে গেল। কিন্তু সে জন্য কাজ বন্ধ করা যায় না। নায় কাম তো নায় খোরাকি। কাজেই ন' মাস পর্যন্ত বাচ্চা পেটে নিয়ে মালিকের ক্ষেতিতে কাজ করে গিয়েছিল চাপিয়া। তাতে যা হবার তাই হয়েছে। একদিন মুখ থুবড়ে মাটিতে পড়ে গেল সে। রক্তাক্ত বেহুঁশ চাপিয়াকে একটা গৈয়া গাড়িতে তুলে বিশ মাইল তফাতের এক টৌনে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে দেওয়া হয়েছিল। সেখানে তিন মাস মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে যখন সে বেরুল, শরীর বেজায় কমজোরি হয়ে গেছে। পেটের ছৌয়াটা তো আগেই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। হাসপাতালের ডাগদরসাব জানিয়ে দিয়েছে, তার আর ছৌয়া হবে না। সে জন্য খুব একটা দুর্ভাবনা ছিল না। চাপিয়ার ভয় তার শরীরটাকে নিয়ে। এই শরীর যদি একবার ভেঙে পড়ে, কাজকর্মের অযোগ্য হয়ে যায়, ভুখা মরে যেতে হবে।
হাসপাতাল থেকে বেরুবার পর সত্যি সত্যি বড় দুব্লা হয়েছিল চাপিয়া। ক্ষেতির কাজ তো দূরের কথা, একসঙ্গে দশ পা চলতে তার হাঁফ ধরে যেত। ফলে জমির কাজটা তার গেল। আর যে ঔরত নিজের পেটের দানা জুটিয়ে নিতে পারে না, তাকে বসিয়ে বসিয়ে খাওয়াবার মতো শৌখিন লোক জগন নয়। কাজেই চাপিয়ার তিন নম্বর বিয়েটাও টিকল না। নিজস্ব কাপড়জামা এবং অন্যান্য জিনিসপত্র গুছিয়ে আবার মনপত্থলে ফিরে এলো সে।
এরপর আরো তিনবার সেজেগুজে তিনজনের পিছু পিছু সুরথপুরার হাটিয়ায় গেছে চাপিয়া_সেই একই শর্তে। অর্থাৎ ক্ষেতির কাজ পেয়ে পেটের দানা জোটাতে পারলে তবেই শাদি হবে। কিন্তু তার চার-পাঁচ-ছ' নম্বর বিয়েও বেশি দিন টেকেনি। কোনটা চার সাল, কোনটা বা এক সাল। চার নম্বর বিয়েটা ভাঙল দক্ষিণ কোয়েলের বাঁড়ের জন্য। বন্যায় চাষের জমি ডুবে যাওয়ায় ক্ষেতিমালিক কাজ থেকে তাকে ছাড়িয়ে দেয়। সুতরাং বিয়েও বরবাদ। পাঁচ নম্বর বিয়েটা চৌপট হলো মরদ মরে যেতে। ছ' নম্বর বিয়ে ভাঙল অজন্মার জন্য।
তারপর এই পড়তি বয়সে চেচকে-ভোগা অশক্ত দুর্বল শরীরে জীবনের সাত নম্বর মরদ নাটোয়ারের সঙ্গে সুরথপুরায় চলেছে চাপিয়া।
আচমকা পাশ থেকে নাটোয়ারের গলা কানে আসে, 'এ ঔরত_'
এতক্ষণ দূরমনস্কর মতো হেঁটে যাচ্ছিল চাপিয়া। চমকে সে ঘাড় ফেরায়। বলে, 'কা?'
'সাফ সাফ দো-চারগো বাত তুহারকা সাথ হয়ে যাক।'
চাপিয়া উত্তর দেয় না। তবে কান খাড়া করে অপেক্ষা করতে থাকে।
এদিকে ঝাঁ ঝাঁ করে জেঠ মাহিনার বেলা চড়ে যাচ্ছে। রোদের ঝাঁজ দ্রুত চড়তে থাকে। বাস-ট্রাক, সাইকেল-রিকশা, গৈয়া এবং ভৈসা গাড়ির চলাচলও অনেক বেড়ে গেছে। হাইওয়েতে লাল ধুলো উড়িয়ে চাপিয়াদের পাশ দিয়ে সেগুলো একের পর এক বেরিয়ে যেতে থাকে। এখন রাস্তায় মানুষজনও প্রচুর।
নাটোয়ার বলে, 'আমার পেটে একেবারে দশগো জানবরের খিদে।'
চাপিয়া অবাক হয় না। নাটোয়ারের আগে যে ক'জনের সঙ্গে সে সুরথপুরার হাটিয়ায় গেছে তারা প্রায় সবাই এ কথা বলেছে। পেটে জানোয়ারের খিদে নিয়ে সবাই তাকে সাদি করতে আসে। যাই হোক চাপিয়া কিছু বলে না।
তীক্ষ্ন চোখে নাটোয়ার এবার চাপিয়ার দিকে তাকায়। তার কথা ঔরতটার কানে ঠিক ঠিক ঢুকেছে কিনা, সে সম্বন্ধে কিছুটা সন্দেহ হয়। সে শুধোয়, 'শুনা হামনিকো বাত?'
নিচু গলায় চাপিয়া বলে, 'শুনা হ্যায়।'
'আমার যা কামাই তাতে আমার পেটটাই শুধু চলে। সুরথপুরায় গিয়ে কাম তোকে জোটাতেই হবে।' নাটোয়ার শেষ কথাগুলোর ওপর যথেষ্ট জোর দেয়।
এ জাতীয় কথাও চাপিয়ার কাছে নতুন কিছু নয়। শান্ত মুখে সে বলে, 'জানি।'
এবার ডান হাতের আঙুল নেড়ে উথলে-ওঠা স্বরে নাটোয়ার বলে, 'তব্ হে;্যাঁ_'
ঈষৎ কৌতূহল নিয়ে চাপিয়া সঙ্গীর দিকে তাকায়। জিজ্ঞেস করে, 'কা?'
'তোর কামটা হয়ে গেলে একটা শাদির মতো শাদি করব। সবাই একেবারে তাজ্জব বনে যাবে।'
এই বয়সে জীবনের সাত নম্বর শাদিতে কতটা ঘটা হওয়া সম্ভব, চাপিয়া ভেবে পায় না। তবু নাটোয়ারের এই উচ্ছ্বাস একেবারে মন্দ লাগে না। বুকের ভেতর ঠাণ্ডা ঝিমান রক্ত একটু যেন ছলকেই ওঠে তার।
হাঁটতে হাঁটতে চাপিয়ার কাপড়চোপড় লক্ষ করে নাটোয়ার। শাড়ি আর জামা যদিও পরিষ্কার, তবে বহুকালের পুরনো। নানা জায়গায় পিঁজে পিঁজে গেছে; দু-চারটে তালিও চোখে পড়ে। নাটোয়ার জোরে জোরে মাথা নাড়তে নাড়তে বলে, 'নায় নায়, এহি কাপড়াউপড়া চলবে না। সুরথপুরায় গিয়ে দুকান থেকে অ্যায়সা জগমগ কগমগ কাপড়া আউর জামা কিনে দেব যে লোকের আঁখ ধাঁধিয়ে যাবে_হ্যাঁ!'
আগে আর এ জাতীয় কথা কেউ কখনো বলেনি। আশায় সুখে এবং উত্তেজনায় চাপিয়ার বুকের ভেতরটা দুলে ওঠে। নাটোয়ার তার উত্তেজনাটা আরেকটু উসকে দেয়। সে ফের বলে, 'বিলাইতি পাউডেল (পাউডার), সিনুর (সিঁদুর), খসবুদার তেল ভি কিনে দেব। আর কী কী দেব জানিস?'
'কা?'
চাঁদির বিছুয়া, করণফুল, পৈড়ি, কজরৌটি_'
বাধা দিয়ে মৃদু গলায় চাপিয়া বলে, 'আমার তো এসব আছে। আবার নতুন করে_'
হাত তুলে তাকে থামিয়ে দিতে দিতে নাটোয়ার বলে, 'তুই আমার ঘরে নয়া যাচ্ছিস। তোকে কিছু দিতে আমার ইচ্ছা করে না? হাঁ কি নায়_বাতা, বাতা_'
চোখ নামিয়ে চাপিয়া বলে, 'হাঁ।'
'তোকে নাজুক সুনহলা দুলহানিয়া বানিয়ে ঘর নিয়ে তুলব। বিলকুল পরি য্যায়সা_'
চড়া রঙে চাপিয়ার চোখের সামনে ঝকমকান স্বপ্নের একটি ছবি আঁকতে আঁকতে নাটোয়ার তাকে নিয়ে একসময় সুরথপুরায় পেঁৗছে যায়।
সুরথপুরা হাটের দক্ষিণ দিক ঘেঁষে যে বার চোদ্দটা কড়াইয়া গাছ গা-জড়াজড়ি করে দাঁড়িয়ে আছে তার তলায় বরাবর যেমন হয়, এবারও তেমনি মরসুমি ভূমিহীন ক্ষেতমজুররা জমা হয়েছে। তা পুরুষ এবং ঔরত মিলিয়ে দু-আড়াই শ লোক তো হবেই। মেয়েমানুষগুলোর বেশির ভাগেরই কোলে দু-একটা বাচ্চা ঝুলছে।
নাটোয়ার আর চাপিয়া সিধা সেখানে চলে আসে। ক্ষেতমজুরদের জটলাটার দিকে আঙুল বাড়িয়ে নাটোয়ার বলে, 'তুই ওখানে গিয়ে বোস।'
চাপিয়া শুধোয়, 'তুমি?'
নাটোয়ার বলে, 'আমি আর বসব না। দুকান থেকে চায়-পানি খেয়ে আসি।' তারপর আশ্বাস দিয়ে বলে, 'ডর নেই, একাই খাব না। তোর জন্যও নিয়ে আসব।'
নাটোয়ার দাঁড়ায় না। হাটের যে দিকটা দোকানপাট দিয়ে সাজান এবং মানুষের ভিড়ে জমজমাট সিধা সেখানে চলে যায়। আর আস্তে আস্তে চাপিয়া ক্ষেতমজুরদের পাশে গিয়ে বসে।
তার চারপাশে যারা আছে তাদের প্রায় সবাইকেই চেনে চাপিয়া। এদের কেউ দোসাদ, কেউ গঞ্জু, কেউ তাতমা, কেউ ধোবি, কেউ মুসহর। মোট কথা জাতপাতের দিক থেকে পুরোপুরি অচ্ছুৎ। এই জল-অচলরা ছাড়াও আর যারা আছে তারা হলো আদিবাসী মুণ্ডা, ওঁরাও, সাঁওতাল ইত্যাদি ইত্যাদি।
হাটের এই অংশটা ফাঁকা ফাঁকা, লোকজনের ভিড় কম। আসল হাট হলো খানিকটা তফাতে_উত্তর দিকটায়। সেখান থেকে ভনভনে মাছির মতো একটানা আওয়াজ আসছে।
আবছাভাবে নিজের চারপাশের ক্ষেতমজুরের দিকে একবার তাকায় চাপিয়া। পরক্ষণেই তার নজর গিয়ে পড়ে সামনের চালাঘরগুলোর তলায়। হাটের চালা হলেও ওখানে আজকাল দোকান টোকান বসে না; ওগুলো বাতিল করে হাটটা দূরে সরে গেছে।
পরিত্যক্ত চালাগুলোর তলায় এই মুহূর্তে এ অঞ্চলের ক্ষেতমালিক এবং তাদের লোকজনেরা বসে আছে। বোঝা যায়, এখনো মজুর বাছাবাছি শুরু হয়নি।
দুবলা শরীরে মনপত্থল থেকে এতটা হেঁটে আসার জন্য হাত-পা যেন ভেঙে আসছিল চাপিয়ার। তার ওপর এখন পর্যন্ত পেটে কিছুই পড়েনি। ক্ষ্যাপা জন্তুর মতো খিদেটা ধারাল দাঁতে পাকস্থলীটা যেন ক্রমাগত ফেঁড়ে ফেঁড়ে দিচ্ছে। নাটোয়ার অবশ্য ভরসা দিয়েছে, তার জন্য চায়-পানি নিয়ে আসবে। দেখাই যাক।
ক্ষেতমজুররা এধারে ওধারে কথা বলে যাচ্ছে। বাচ্চাকাচ্চাগুলো কেউ চিল্লাছে, কেউ লাল ধুলো মেখে হুটোপাটি করছে। চাপিয়া কিছুই যেন শুনতে পাচ্ছে না। এখন তার একটাই চিন্তা। যেভাবেই হোক, ক্ষেতির কাজ তাকে পেতেই হবে। মনে মনে বিড়বিড়িয়ে সে অনবরত বলতে থাকে, 'হো রামজি, হো কিষুণজি, অব তেরে কিরপা।'
আচমকা পেছন থেকে কে যেন ডেকে ওঠে, 'কৌন_চাপিয়া?'
ঘাড় ফিরিয়ে তাকায় চাপিয়া। হাত দশেক ফারাকে বসে আছে আটবুড়ো গৈবীনাথ। তাকে দেখামাত্র চমকে ওঠে চাপিয়া। চেহারার এ কী হাল করেছে লোকটা।
এখন থেকে অনেক সাল আগে প্রথম যেবার কাজের আশায় এই কড়াইয়া গাছগুলোর তলায় এসে চাপিয়া বসেছিল সেই তখন থেকেই গৈবীনাথকে চেনে সে। তারপর যতবার এখানে এসেছে ততবারই লোকটাকে দেখেছে। পাথর কি লোহা দিয়ে তৈরি ছিল তার শরীর। গায়ে ছিল দশটা বনভয়সার তাকত। ওকে দেখামাত্র জমি মালিকদের পছন্দ হয়ে যেত।
গৈবীনাথ জাতে ধোবি। অনেক সাল ধরে দেখাশোনার ফলে তার সঙ্গে খানিকটা ঘনিষ্ঠতাই হয়েছে চাপিয়ার। অন্য ক্ষেতমজুররা যখন নিজের নিজের ধান্দা ছাড়া আর কিছু বোঝে না, তখন গৈবীনাথের সঙ্গী দেখা হলেই সে তার খোঁজখবর করেছে; নতুন নতুন মরদদের কথা জানতে চেয়েছে। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে একের পর এক বিয়ে ভাঙার কারণগুলো জেনে আন্তরিক দুঃখ এবং সহানুভূতি জানিয়েছে। লোকটা এককথায় খুবই বড়মাপের দিলওয়ালা আদমি।
মাঝখানে তিন সাল সুরথপুরায় আসতে পারেনি চাপিয়া। এর ভেতর লোহা বা পাথরে বানান গৈবীনাথের চেহারাটা ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে যেন। গাল তুবড়ে চোয়ালের হাড় ফুটে বেরিয়েছে। গায়ে মাংস বলতে কিছুই নেই। পাঁজরাগুলো গুনে নেওয়া যায়। দেহের ওই বিশাল কাঠামোটায় এখন শুধু হাড্ডি আর হাড্ডি। চোখ দুটো এক আঙুল করে গর্তে ঢুকে গেছে। চামড়া ঢিলে হয়ে কুঁচকে গেছে। থেমে থেমে হাঁ করে একেকবার শ্বাস নেয় সে আর হাঁপায়। দেখেই বোঝা যায়, ফুসফুসের সঙ্গে বাইরের বাতাসের যোগাযোগ রাখতে ভয়ানক কষ্ট হচ্ছে গৈবীনাথের। অথচ কী এমন বয়েস! বড়জোর পঁচাশ কী তার চাইতে দু-এক সাল বেশি। কিন্তু এখন গৈবীনাথকে দেখে মনে হয় বয়েসটা সত্তর কী আশি পেরিয়ে গেছে।
চাপিয়া বলে, 'তুম!'
'হ্যাঁ রে_ 'গৈবীনাথ এগিয়ে এসে তার পাশে বসে।
'এ কী চেহারা করেছ!'
'কা করে! তিন চার সাল ধরে বুকের দোষ হয়েছে। তার সাথ সাথ হাঁপ আউর খাঁসি (কাশি)। তাতেই শরীরটা চৌপট হয়ে গেল।'
'ডাগদর দেখিয়ে দাওয়া খেয়েছ?
'পেটের দানা জোটে না তো ডাগদর, দাওয়া। আমাকে কী পেয়েছিস_রাজা মহারাজাকা ছৌয়া?'
চাপিয়া আর কিছু বলে না।
গৈবীনাথ এতক্ষণ ভালো করে লক্ষ করেনি। এবার জেল্লাহীন ঘোলাটে চোখে একদৃষ্টে চাপিয়াকে দেখতে দেখতে বলে, তুইও চেহারার কী হাল করেছিস!'
চাপিয়া বড় করে শ্বাস ফেলে। বলে, 'চেচক (বসন্ত) হল যে। তারপরই হাল বুরা হয়ে গেল।'
'তুই আমি, দু'জনেই বুখার কমজোরি হয়ে গেছি। ক্ষেতির কাম মিলবে কি না কে জানে।'
'ভগোয়ান কিষুণজিকা কিরপা_'
এই সময় মাটির খোরায় চা, গরম গরম সমোসা এবং পাঁউরুটি নিয়ে ফিরে আসে নাটোয়ার। রুটি-টুপি চাপিয়ার হাতে দিতে দিতে বলে, 'গরমাগরম খা লে। আমি আবার হাঁটিয়ায় যাচ্ছি।'
'কায়?' নিজের অজান্তেই চাপিয়ার মুখে থেকে কথাটা বেরিয়ে আসে যেন।
'পাক্কি ধরে আসতে আসতে বললাম না, নয়া জগমগ-জগমগ কাপড়া-উপড়া কিনে দেব। আমার মরদকা জবান_হ্যাঁ' বলে আর দাঁড়ায় না নাটোয়ার; ফের হাটের ভিড়ে মিশে যায়।
চায়ের ভাঁড়ে মুখ ঠেকাতে গিয়ে হঠাৎ চাপিয়ার চোখে পড়ে লুব্ধ দৃষ্টিতে খাবারগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে গৈবীনাথ আর সমানে ঢোক গিলছে। বোঝা যায় লোকটার পেটে এই মুহূর্তে মারাত্মক ভুখ। চাপিয়া শুধোয়, 'চায়-পানি খাবে?'
গৈবীনাথ উত্তর দেয় না তবে তার মুখচোখ দেখে মনে হয়, খাবার ষোল আনা ইচ্ছে।
ভাঁড়সুদ্ধ পুরো চা'টা দেবার মতো অতখানি মহানুভবতা চাপিয়ার অন্তত নেই। আলগোছে অর্ধেকটা চা খেয়ে বাকি ভাঁড়টা গৈবীনাথকে দেয় সে। সেই সঙ্গে সমোসা পাঁউরুটির ভাগও।
চায়ে ভিজিয়ে গোগ্রাসে খেতে খেতে গৈবীনাথ শুধোয়, 'ওই আদমিটা কে?'
'কার কথা বলছ,' চাপিয়া জানতে চায়।
'যে চায়-পানি আউর রোটি উটি দিয়ে গেল।'
'ওর নাম নাটোয়ার দুসাদ।'
কৌতূহলী চোখে চাপিয়ার দিকে তাকিয়ে গৈবীনাথ এবার জিজ্ঞেস করে, 'নাটোয়ার তোকে চায় রোটি খিলাচ্ছে কেন?'
চাপিয়া চুপ করে থাকে।
গৈবীনাথ এবার বলে, 'সমঝ গিয়া কাম মিললে নাটোয়ার তোকে শাদি করে নিয়ে যাবে_নায়?'
চাপিয়া মুখ নামিয়ে আস্তে আস্তে মাথা নাড়ে।
গৈবীনাথ ফের বলে, আগে তো তের ছে ছে'গো (ছ ছ'টা) শাদি হয়ে গেছে।'
চাপিয়া সম্পর্কে সব খবরই রাখে গৈবীনাথ। চাপিয়া বলে, 'হাঁ।'
ওদের কথাবার্তার মধ্যেই নাটোয়ার আবার ফিরে আসে। তার হাতে জগমগ-জগমগ নতুন শাড়ি। চাপিয়াকে সেটা দিতে দিতে বলে, 'কাছে রাখ। আমি তোর সপরনার (সাজগোজের) জিনিসগুলো নিয়ে আসি।' বলেই সে চলে যায়।
একসময় সামনের চালাগুলোর তলা থেকে ক্ষেতিমালিক এবং তাদের লোকজন উঠে এসে কিষাণ বাছতে শুরু করে। গৈয়াহাটা, ছাগরিহাটা কি মুরগিহাটায় যেভাবে গরুবাছুর ছাগল বা মুরগির গা টিপে টিপে পরখ করে নেওয়া হয় অবিকল সেই ভাবেই কড়াইয়া গাছগুলোর তলায় ঘুরে ঘুরে তারা ভূমিহীন ওঁরাও-মুণ্ডা এবং অচ্ছুৎদের যাচিয়ে বাজিয়ে নিচ্ছে। ক্ষেতি চষার মতো মারাত্মক খাটুনির কাজের তাকত যাদের আছে জমিমালিকেরা শুধু তাদেরই বেছে নিচ্ছে। দুর্বল অশক্ত লোক নিয়ে কী লাভ?
হট্টাকাট্টা চেহারার পুরুষ আর ঔরতেরা প্রথমেই কাজ পেয়ে যায়। ওদের নিয়ে কিছু কিছু জমিমালিক চলে যেতে থাকে। কড়াইয়া গাছগুলোর তলা ক্রমশ ফাঁকা হয়ে আসে।
ঝড়তি পড়তি পঞ্চাশ ষাটটা আদিবাসী আর অচ্ছুৎ ধোবি দোসাদের ভেতর চাপিয়া এখনো বসে আছে। তার পাশে গৈবীনাথ। লোকটা সমানে হাঁপিয়ে যাচ্ছে। জলহীন ফাঁক হুকো টানার মতো অদ্ভুত একটা শব্দ একটানা কানে ঢুকতে থাকে চাপিয়ার।
অন্য সব বছর দেখামাত্রই জমিমালিকরা চাপিয়াকে পছন্দ করে ফেলত। কিন্তু এবার বরাত খারাপ। কিষাণ বাছাবাছি শুরু হবার পর কত ক্ষেতিমালিক তার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এক পলক তাকে দেখেই চলে গেছে। গৈবীনাথেরও সেই একই হাল।
তবু আশা একেবারে ছেড়ে দেয়নি চাপিয়া। এখনও জনকয়েক ক্ষেতিমালিক রয়েছে। এই চাষের মরসুমে প্রচুর কিষাণ দরকার। নিশ্চয়ই কেউ না, কেউ তাকে কাজ দেবে। মনে মনে অনবরত চাপিয়া বিড় বিড় করতে থাকে। 'হো কিষুণজি, হো রামজি তেরে কিরপা।'
জেঠ মাহিনার সূর্য এখন খাড়া মাথার ওপর উঠে এসেছে। চারদিকে ঝাঁ ঝাঁ করছে রোদ।
যে ক'জন জমিমালিক এখনো রয়েছে তারা কড়াইয়া গাছগুলোর তলায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। এদের মধ্যে যেই কেউ কাছে এসে দাঁড়ায়, বুকের ভেতর শ্বাস আটকে আসে চাপিয়ার। বেশির ভাগই কিছু না বলে সরে যায়। তবে এক আধজন জিজ্ঞেস করে, 'কা রে, ক্ষেতির কাজ পারবি?'
রুদ্ধশ্বাসে চাপিয়া উত্তর দেয়, 'পারব হুজৌর।'
তীক্ষ্ন চোখে জমিমালিক লক্ষ করতে থাকে। চাপিয়া সারা গায়ে শাড়ি জড়িয়ে জড়সড় হয়ে আছে। জমিমালিক বলে, 'কাপড়া হটা_'
শাড়ি সরালে আসল চেহারা বেরিয়ে পড়বে। এমনিতেও যেটুকু আশা আছে, শরীরের হাল দেখলে কেউ তাকে পছন্দ করবে না। সে ভয়ে ভয়ে বলে, 'নায় নায় হুজৌর_'
জমিমালিক ভাবে, লজ্জায় ও সঙ্কোচে চাপিয়া গা থেকে কাপড় সরাতে চাইছে না। কুৎসিত একটা খিস্তি ঝেড়ে সে বলে, 'রাজা মহারাজের বিটিয়া সব_' বলেই এক টানে শাড়ির খানিকটা খুলে ফেলতেই চাপিয়ার দুর্বল রোগা শরীরের অনেকটা দেখতে পায়! বলে, 'ইসে লিয়ে কাপড়া জড়িয়ে আছিস।' তারপর আঙুল দিয়ে চাপিয়ার হাত টিপতে টিপতে বলে, 'তোর গায়ে তো কিছু নেই রে। তোকে দিয়ে চলবে না।'
চাপিয়া বলে, 'ঠিকই বলছি। মাথা আমার ঠিকই আছে।'
'তুই একা থাকিস। আমাকে নিয়ে তুললে গাঁওবালারা কী বলবে হুঁশ আছে?'
এ দিকটা খেয়াল করেনি চাপিয়া। অনেকক্ষণ চুপ করে থাকে সে। মনে মনে ভাব, এতকাল নিজের নিরাপত্তা ছাড়া আর কোনো চিন্তাই তার মাথায় ঢুকত না। এ জন্য একের পর এক পুরুষের পিছু পিছু সুরথপুরার হাটে এসেছে। কিন্তু তার চাইতেও দুর্বল, তার চাইতেও কমজোরি অসহায় বিমারি আদমিও রয়েছে। লক্ষ কোটি মানুষের পৃথিবীতে গৈবীনাথকেই একমাত্র তার বড় আপন মনে হয়। চাপিয়া মন স্থির করে ফেলে। বলে, 'মনপত্থলে যাবার আগে বামহনের কাছে গিয়ে সাদিটা চুকিয়ে ফেলব। চাঁদির পৈড়ি বেচে বামহনের পাইসা দেব।'
ফুসফুস ফাটিয়া চিৎকার করে ওঠে গৈবীনাথ, 'নায় নায়, এ নহি হোগা_'
চাপিয়া বলে, 'তুমনি চুপ হো যাও। রামজি কসম_'
সন্ধ্যের পর মনপত্থলের দোসাদরা, গঞ্জুরা, ধোবিরা চমকে উঠে দেখতে পায় চাপিয়া দুসাদিন ভোরে সেজেগুজে একজনের সঙ্গে চলে গিয়েছিল, কিন্তু ফিরে এলো আরেকজনের সঙ্গে।
এতদিন ছ' ছ'টা পুরুষ চাপিয়াকে শাদি করে নিয়ে গেছে। কিন্তু জীবনে এই প্রথম সে স্বয়ম্বরা হলো।
একসময় সবার অবাক চোখের সামনে দিয়ে দু'টি বাতিল মানুষ মনপত্থলের শেষ মাথায় বহুকালের প্রাচীন একটা কোমর-বাঁকা ধসেপড়া ঘরে গিয়ে ওঠে।
ভোরবেলা দোসাদটোলার চাপিয়া কোয়েলের হাঁটুভর পানিতে নাহানা (স্নান) সেরে নিজের ধসেপড়া কোমর-বাঁকা ঘরটার দাওয়ায় বসে আছে। আর থেকে থেকেই থুতনি তুলে চনমন করে দূরে পাক্কির দিকে তাকাচ্ছে। ওই সড়কটা ধরে পুব দিক থেকে নাটোয়ারের আসার কথা।
এত ভোরে গঞ্জুটোলা ধাঙড়টোলা বা দোসাদটোলায় কারো ঘুম ভাঙেনি। তবে ধাঙড়পাড়ার পাল পাল শুয়োর এর মধ্যেই খাদ্যের খোঁজে বেরিয়ে পড়েছে। জানোয়ারগুলোর পেটে সারাক্ষণ রাহুর খিদে। শুয়োর ছাড়া আর যারা জেগেছে তারা হলো পাখি। ঝাঁকঝাঁক পরদেশি শুগা আর চোটা পাখি ডানায় বাতাস চিরে চিরে পাক্কির ওধারে ধু-ধু মাঠের দিকে উড়ে যাচ্ছে।
মনপত্থলের যে ধারেই তাকানো যাক, পরাস সিমার গাছের ছড়াছড়ি। তিন মাস আগে সেই যে গাছগুলো থোকায় থোকায় লাল ডগডগে ফুল ফোটাতে শুরু করেছিল, এখনো ফুটিয়েই যাচ্ছে। আর আছে সফেদিয়া গোলগোলি এবং মনরঙ্গোলি গাছের অজস্র ঝোপ। প্রতিটি ঝোপের মাথায় শুধু ফুল আর ফুল।
মনুষ্যজাতির সব চাইতে নিচের স্তরের যে অংশটি সারা পৃথিবী থেকে ভয়ে ভয়ে দূরে সরে এসে এই মনপত্থলে ঘাড় গুঁজে পড়ে আছে তাদের কেউ এই মুহূর্তে জেগে থাকলে, চাপিয়াকে দেখে একেবারে হাঁ হয়ে যেত।
দুসাদিন চাপিয়ার বয়স চলি্লশের কাছাকাছি। গায়ের রঙ পোড়া ঝামার মতো। চুল উঠে উঠে কপালটা প্রকাণ্ড মাঠ হয়ে গেছে। নাকটা খাটো এবং চাপা। থুতনিতে কাটা দাগের মতো খাঁজ। মোটা ভুরু, খসখসে চামড়া। তবু লক্ষ করলে টের পাওয়া যায়, চাপিয়ার লম্বাটে মুখে এককালে খানিকটা ছিরিছাঁদ ছিল। এই বয়সেও তার চোখ দুটো বড় সরল, বড় নিষ্পাপ এবং টানা টানা। বিশ-পঁচিশ সাল আগে যখন চাপিয়া সবে নঈ যুবতী হয়ে উঠেছে, সেই সময় গঞ্জুটোলার ফেকুমল প্রায়ই বলত, তার চোখ নাকি বনহরণা অর্থাৎ বনহরিণীর মতো। ছোকরা ছিল বেজায় ফুর্তিবাজ, আমুদে। নৌটঙ্কির দলে গান গাইত আর আজীব আজীব কথা বলে লোককে তাক লাগিয়ে দিত।
বনহরণার মতো চাপিয়ার চোখ হোক বা না হোক, তার গায়ে ছিল বনভৈসির তাকত। অসীম শক্তি আর অফুরন্ত স্বাস্থ্যই তাকে জীবনের লম্বা অনেকগুলো বছর এই পৃথিবীতে টিকিয়ে রেখেছিল। কিন্তু তিন বছর আগে খারাপ জাতের চেচকে (বসন্তে) চাপিয়ার অটুট শরীর ভেঙে গেছে। কণ্ঠার হাড় গজালের মতো ফুঁড়ে বেরিয়েছে। মুখে, ঘাড়ে, গলায় বসন্তের কালো কালো দাগ। হাতের শিরগুলো দড়ি হয়ে চামড়ার তলা থেকে ফুটে উঠেছে। আজকাল দুব্লা শরীরে অল্পতেই হাঁফ ধরে যায় তার।
একটা রোগা ভাঙাচোরা চেহারার আধবুড়ি দুসাদিনের দিকে তাকিয়ে গঞ্জুরা, ধাঙড়রা বা দোসাদরা নিশ্চয়ই হাঁ হয়ে যাবে না। তাদের অবাক হওয়ার কারণ হলো চাপিয়ার সাজগোজ। এই মুহূর্তে তার পরনে বাদরার ছাই (এক ধরনের ক্ষার) দিয়ে কাচা পরিষ্কার রঙিন একটা শাড়ি আর খাটো জামা। চোখে কাজলের লম্বা টান। চুলগুলো কাঠের কাকাই দিয়ে চুড়ো করে বেঁধে চারপাশে মনরঙ্গোলি ফুল বসিয়ে দিয়েছে। কপালের মাঝখানে মেটে সিঁদুরের ফোঁটা। গলায় চাঁদির হার, কানে চাঁদির করণফুল, হাতে চাঁদির কাঙনা। গত তিন সাল বড় কষ্টে গেছে চাঁদিয়ার, বহোত তখলিফ। কত দিন পেটে দানা পড়েনি, বিলকুল ভুখা থাকতে হয়েছে। তবু প্রাণ ধরে চাঁদির এই গহনা কটা সে যে বেচতে পারেনি তার কারণ একটাই। হাজার দুঃখেও চাপিয়ার আশা বা স্বপ্ন ছিল জীবন আরো একবার সে সাজাতে পারবে। আজ তার সেই সাজার দিন।
সেই পনের বছর বয়স থেকে এখন পর্যন্ত মোট ছ'বার এভাবে সেজেছে চাপিয়া। মনপত্থলের অচ্ছুতেরা তাকে শেষবার সাজতে দেখেছে পাঁচ সাল আগে। সেবার চাপিয়া তার ছ'নম্বর মরদের ঘর করতে যায়।
মনপত্থলকে ঘিরে দশ-বিশটা গাঁয়ে চাপিয়ার আরেক নাম ছেঘরিয়া অর্থাৎ চলি্লশ বছরের জীবনে মোট ছ'টি পুরুষের ঘর করেছে সে আজ পর্যন্ত।
ঘরের দাওয়ায় বসে ক্রমশ অস্থির হয়ে উঠতে থাকে চাপিয়া। চারপাশের দোসাটোলা, গঞ্জুটোলা, ধাঙড়টোলা, ঝাঁক ঝাঁক পরদেশি পাখি, পাল পাল শুয়োর, সিমার বা পরাস গাছের মাথায় থোকা থোকা আগুন, অনেক দূরে ধু-ধু ফাঁকা মাঠ_কোনোদিকেই লক্ষ নেই তার। পাকা সড়কের ওপর চাপিয়ার দুই চোখ স্থির হয়ে আছে।
কথা আছে, দু'মিল (দু'মাইল) পুবের ছোট টৌন ভকিলগঞ্জ থেকে সুরয উঠবার ঢের আগেই নাটোয়ার এসে তাকে নিয়ে সোজা চলে যাবে আড়াই 'কোশ' পশ্চিমে সুরথপুরার হাটে। নাটোয়ার তারই স্বজাত অর্থাৎ কিনা দোসাদ। বয়স কমসে কম পঞ্চাশ হবেই। ভকিলগঞ্জে এক ঠিকাদারের কাছে দিনমজুরিতে মাটি কাটে। ওদিকটায় এখন সড়ক তৈরির কাজ চলছে। তার জন্যই মাটি কাটা।
দেখতে দেখতে চারদিক দ্রুত ফর্সা হতে থাকে। অনেক, অনেক দূরে আকাশ যেখানে পিঠ বাঁকিয়ে দিগন্তে নেমেছে, ঠিক সেইখানে লাল টকটকে সূর্যটা একটু একটু করে মাথা তোলে। ধাঙড়, গঞ্জু আর দোসাদটোলা থেকে মানুষজনের গলা ভেসে আসে। টের পাওয়া যায় মনপত্থল গাঁ জাগতে শুরু করেছে।
সুরয উঠে গেল, অথচ এখনো নাটোয়ারের দেখা নেই। তবে কি সে আসবে না? ভাবতেই বুকের ভেতর চলি্লশ বছরের দুব্লা হৃৎপিণ্ড থমকে যায় চাপিয়ার। চোখ জলে ভরে যেতে থাকে। নাটোয়ার দোসাদ না এলে তার এত সাজ ব্যর্থ হয়ে যাবে।
আরো খানিকক্ষণ পর সূর্য যখন দিগন্তের তলা থেকে লাফ দিয়ে ওপরে উঠে আসে, সে সময় দেখা যায় পাক্কি ধরে নাটোয়ার এদিকেই আসছে। বুকের ভেতর থমকান হৃৎপিণ্ড বিপুল বেগে ছোটাছুটি শুরু করে। খুশিতে চোখমুখ চকচকিয়ে ওঠে চাপিয়ার।
একটু পরে ডাইনে এবং বাঁয়ে ধাঙড় আর গঞ্জুটোলা রেখে দোসাদটোলায় ঢুকে পড়ে নাটোয়ার। তারপর সামনের সিমার আর পরাস গাছগুলোর তলা দিয়ে সোজা চাপিয়ার কাছে এসে দাঁড়ায়। তার পা থেকে মাথা পর্যন্ত সাজের বাহার দেখতে দেখতে শুধোয়, 'কা রে চাপিয়া, রিডি?' 'রিডি' মানে রেডি। চাপিয়া প্রস্তুত হয়ে আছে কি না তা জানতে চাইছে নাটোয়ার। ঠিকাদারদের কাছে কাজ করে দু-চারটে আংরেজি বুলি শিখে ফেলেছে সে। কথায় কথায় হরদম সেগুলো বেরিয়ে আসে।
'হাঁ_', আস্তে ঘাড় হেলিয়ে দেয় চাপিয়া। নাটোয়ারের দিকে ভালো করে তাকাতে পারে না সে। পনের ষোল বছরের নঈ যুবতী সে আর নেই। তবু তার বুক সুখে এবং লজ্জায় থির থির করে কাঁপতে থাকে।
'আমার আসতে থোড়া দের হয়ে গেল।'
চাপিয়া কী উত্তরে দেবে, ভেবে পেল না।
নাটোয়ার ফের বলে, 'আর দাঁড়িয়ে থেকে কী হবে। সুরয চড়ে যাচ্ছে। জলদি চল্। সুরথপুরার হাটিয়ায় পেঁৗছতে দুফার হয়ে যাবে।'
আবছা গলায় চাপিয়া বলে, 'থোড়া ঠার যাও।' বলেই তার ভাঙাচোরা ফুটোফাটা ঘরের ভেতর ঢুকে একটা পুঁটলি নিয়ে বেরিয়ে আসে। পুঁটলিটা কাল রাতেই বেঁধে-ছেঁদে রেখেছিল সে। ওটার ভেতর রয়েছে তার যাবতীয় পার্থিব সম্পত্তি। মোট খান দুই সেলাই করা খাটো বহরের শাড়ি, তিনটে ছেঁড়া জামা, একটা কাঁথা, একটা কম্বল আর সিলভারের তোবড়ানো দু-তিনটে থালা-গেলাস।
নাটোয়ার পুঁটলিটার দিকে আঙুল বাড়িয়ে শুধোয়, 'এটা নিয়ে যাবি?' 'হাঁ_', চাপিয়া মাথা নাড়ে।
'ঠিক হ্যায়। চল্_'
কয়েক পা এগিয়ে একবার পেছন ফেরে চাপিয়া। হেলে-পড়া টুটাফুটা ঘরটা একবার দেখে নেয়। এটা তার বাপের ঘর। অবশ্য বাপ আর বেঁচে নেই; কবেই মরে ফৌত হয়ে গেছে। শুধু কি বাপ, মা-বোন কেউ নেই তার। এক ভাই ছিল; শাদির পর অনেক দূরের ভারি টৌন ঝরিয়ার চলে গেছে। সেখানে কয়লা খাদানে কাজ করত। দশ-বিশ সাল তার কোনো খবর পায় না চাপিয়া। মরে গেছে কী বেঁচে আছে, কে জানে।
বাপের এই ঘর থেকে এই প্রথম যাবতীয় অস্থাবর সম্পত্তি কাঁখে নিয়ে একজন মরদের পিছু পিছু চলে যাচ্ছে না চাপিয়া। আগেও ছ' ছ'বার পুরুষের সঙ্গে বেরিয়ে গেছে। যাবার সময় প্রতিবারই মনে মনে বলেছে, 'হো রামজি, হো কিষুণজি, আর যেন আমাকে বাপের ঘরে ফিরতে না হয়।' কিন্তু দো সাল, চার সাল পরপরই ছে-ঘরিয়া চাপিয়াকে ফিরে আসতে হয়েছে।
এবার হলো সপ্তম বার। ঘরটা দেখতে দেখতে মনে মনে হাত জোড় করে রামচন্দজি এবং কিষুণজির উদ্দেশ্যে চাপিয়া প্রার্থনা জানায়, এই যেন তার শেষ যাওয়া হয়।
নাটোয়ার তাড়া লাগায়, 'কী রে, দাঁড়িয়ে গেলি যে, দের নায় কর না_'
'নায়_' মুখ ফিরিয়ে নাটোয়ারের পিছু পিছু আবার হাঁটতে শুরু করে চাপিয়া। যেতে যেতে লক্ষ করে, হট্টাকট্টা চেহারার আধবুড়ো নাটোয়ারের সাজের বহরও আজ কম না। এমনিতে তার যা কাজ তাতে একরকম সারা দিনই মাটি মেখে পিরেত সেজে থাকে। কিন্তু আজ এর মধ্যেই সারা গায়ে প্রচুর তেল মেখে 'নাহানা' সেরে নিয়েছে নাটোয়ার। মাথায় এত কড়ুয়া তেল ঢেলেছে যে, এখনো কপাল বেয়ে চুঁইয়ে চুঁইয়ে নামছে। তার পরনে ক্ষারে-কাচা সফেদ ধুতি আর লাল জামা। পায়ে কাঁচা চামড়ার ভারি জুতো, কানে পেতলের মাকড়ি। কাঁধের ওপর নতুন কোরা গামছা।
দোসাদটোলা পেছনে ফেলে গঞ্জু আর ধাঙড়টোলার ভেতর দিয়ে দু'জনে এগিয়ে যেতে থাকে। এর মধ্যে মনপত্থল গাঁয়ের যাদেরই ঘুম ভেঙেছে দুলহনের সাজে চাপিয়াকে দেখে তারা তাজ্জব বনে যায়। জিজ্ঞেস করে, 'কা রে চাপিয়া, নয়া মরদ মিলল হো?'
মুখে কিছু বলে না চাপিয়া। চোখ নামিয়ে আস্তে মাথা নাড়ে শুধু।
'এবার তা হলে সাতঘরিয়া হবি!'
চাপিয়া চুপ।
মনপত্থলের বয়স্ক মানুষজনেরা তার হিতাকাঙ্ক্ষী। তারা চেঁচিয়ে পরামর্শ দেয়, 'দেখিস, এই শাদিটা যেন টুটে না যায়।'
এর আগে ছ' ছ'বার শাদি হয়েছে চাপিয়ার। ছ'বারই ভেঙে গেছে। মনে মনে তার ইচ্ছা শ্মশানে না চড়া পর্যন্ত এই শাদি যেন অটুটই থাকে। হো রামজি, হো কিষুণজি, তেরে কিরপা।
একসময় দু'জনের মনপত্থল গাঁ থেকে বেরিয়ে সোজা পাক্কিতে এসে ওঠে; তারপর সুরথপুরা হাটের দিকে যেতে থাকে। গাঁয়ের ভেতর দিয়ে যখন আসছিল তখন দু'জনে আগে-পিছে হাঁটছিল। যে মরদের সঙ্গে এখনো শাদি হয়নি, গাঁয়ের মানুষের চোখের সামনে তার গা ঘেঁষে চলা যায় নাকি? শরম লাগে না? এই শরমটা নাটোয়ারের মধ্যেও কাজ করছিল খুব সম্ভব। গাঁয়ের ভেতরে বরাবর চাপিয়ার কাছ থেকে খানিকটা ফারাক রেখে চলেছে সে। কিন্তু পাকা সড়কে জান-পয়চান কেউ নেই। এখানে চাপিয়ার পাশাপাশি হাঁটতে অসুবিধা কোথায়?
চলতে চলতে বারবার সঙ্গিনীর দিকে তাকায় নাটোয়ার। চাপিয়াও তার সঙ্গীকে আড়ে আড়ে দেখতে থাকে। এভাবে মাঝে মাঝে দু'জনের চোখাচোখি হয়ে যায়।
হাজার হোক, চাপিয়া একটা রক্তমাংসের জীবন্ত আওরত। মনুষ্যজাতি সম্পর্কে তার বিপুল অভিজ্ঞতা। নাটোয়ারের তাকান দেখে এক লহমায় বুঝে নেয়, তাকে 'পুরুখ' বা পুরুষটার মনে ধরেছে।
চাপিয়ার মনে পড়ে, প্রথমবার ছাড়া বাকি পাঁচবারই এভাবে একটা করে পুরুষের সঙ্গে সুরথপুরার হাটে গেছে। প্রথমবার যেতে হয়নি, তার কারণ তখন বাপ বেঁচে ছিল। সে-ই চারপাশের দশ-বিশটা তালুক চষে মনপছন্দ একটা ছেলে খুঁজে এনে তার শাদি দেয়। বিয়ের পর মনপত্থল থেকে আট 'মিল' উত্তরে হাথিয়াগঞ্জে মরদের ঘর করতে চলে যায় চাপিয়া।
জীবনের প্রথম 'পুরুখ' মুঙ্গিলাল ছিল বড়ই সাদাসিধে ভালো মানুষ গোছের আদমি। সংসারে সে আর তার একটা বুড়ি পিসি ছাড়া অন্য কেউ ছিল না। এক রাজপুত ক্ষত্রিয়ের জমিতে মুঙ্গিলাল ছিল কামিয়া অর্থাৎ খরিদি কিষাণ। তারা নানা জমি-মালিকের কাছ থেকে কোরা কাগজে অঙ্গুঠার ছাপ মেরে টাকা করজ নিয়েছিল। সে টাকা নিজে আর শোধ করে যেতে পারেনি। ফলে বাকি জীবন নানাকে মালিকের জমিতে স্রেফ পেটভাতায় ঘাড় গুঁজে খেটে যেতে হয়েছে। নানার পর বাপ মৃত্যু পর্যন্ত ওই মালিকেরই জমি চষে গেছে। তারপর মুঙ্গিলালের পালা। কিন্তু সুদে-আসলে করজের টাকা ফুলেফেঁপে এতই বিরাট হয়ে উঠেছে যে, তিন পুরুষ ধরে অবিরত খেটেও শোধ করা যাচ্ছিল না।
শাদির পর চাপিয়াকেও মালিকের ক্ষেতির কাজে লাগিয়ে দিয়েছিল মুঙ্গিলাল। দু'জনে খেটে যত তাড়াতাড়ি কামিয়াগিরি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়, এই ছিল তার ইচ্ছা। কিন্তু দুটো সাল ঘুরতে না ঘুরতেই দশ দিনের 'বোখারে' হঠাৎ মরে গেল মুঙ্গিলাল। মরদের মৃত্যুশোক সামাল দিয়ে উঠতে না উঠতে মালিকের মুন্শি আধবুড়ো পিঠবাঁকা চিমসে চেহারার টেড়ারাম সহায় একদিন রাত্রে তার কাছে এসে ফিসফিসিয়ে একটা প্রস্তাব দেয়। সে তাকে 'রাখনি' (রক্ষিতা) করতে চায়। এমনি এমনি মুফতে না। রীতিমতো সপরনার (সাজসজ্জা) জিনিস দেবে। নয়া শাড়ি দেবে, চাঁদির গয়না দেবে, এ ছাড়া পাইসা-রুপাইয়া তো আছেই।
অচ্ছুৎ ভূমিদাসদের ঘরের যুবতী মেয়েদের মালিক এবং তাদের লোকেরা চিরদিন ভোগদখল করে এসেছে। আবহমান কাল ধরে এ অঞ্চলে এ একটা চালু-প্রথা। এর বিরুদ্ধে কেউ কখনো মাথা তুলে দাঁড়ায়নি। কিন্তু চাপিয়া অন্য ধাতের তেজি মেয়ে। তা ছাড়া মুঙ্গিলালের শোকটা তখনো তার মনে বড়ই টাটকা। আচমকা তার মাথায় কী যেন হয়ে যায়। 'বুড়হা গিধ, তুহারকা মুহ্মে থুক থুক থুক_' গালাগাল দিয়ে এবং টেড়ারামের মুখে গুনে গুনে তিনবার থুতু ছিটিয়েই চাপিয়ার হুঁশ হয়, হাথিয়াগঞ্জে আর থাকা ঠিক হবে না। টেড়ারাম তাকে নির্ঘাত খুন করে ফেলবে।
একমুহূর্তও না দাঁড়িয়ে চাপিয়া রুদ্ধশ্বাসে ছুটতে শুরু করে এবং রাতারাতি ক্ষেতির পর ক্ষেতি পেরিয়ে সোজা মনপত্থলে বাপের ঘরে ফিরে আসে।
বাপ গণপৎ দোসাদ কমজোরি মানুষ। সে ছিল মরসুমি কিষাণ। ধান কি গেঁহু চাষের সময় আর ফসল কাটার মরসুমে দেড় আর দেড় মোট তিনটে মাস সে কাজ পেত। বাকি ন' মাস দক্ষিণ কোয়েলের পাড়ে যে মাইলের পর মাইল জুড়ে বা মহুয়ার গোটা তুলে এনে খেয়ে জীবন বাঁচাত। মুঙ্গিলালের সঙ্গে শাদির আগে বাপের পিছু পিছু খাদ্যের খোঁজে কতবার সে ওই জঙ্গলটায় গেছে। হাথিয়াগঞ্জ থেকে ফেরার পর রোজই সেখানে যেতে লাগল চাপিয়া।
দিন কেটে যাচ্ছিল। কিন্তু চাপিয়ার বরাত এমনই, মুঙ্গিলালের মৃত্যুর পর ছ'মাস ঘুরল না, বাপটা মরে ফৌত হয়ে গেল।
দুব্লা হোক, বুড়হা হোক, হাজামজা হোক, তবু মাথার ওপর একটা বাপ ছিল। সে চোখ বোজার পর রাতের অন্ধকারে কারা যেন ঘরের বেড়া আঁচড়াতে আর চাপা গলায় বলত, 'দরবাজা খোল চাপিয়া। তোর জন্যে লাড্ডুয়া এনেছি, বুনিয়া এনেছি, চাঁদির করণফুল এনেছি_'
বাপ মরার পর থেকেই শিয়রের কাছে একটা বাঁকানো দা নিয়ে শুতো চাপিয়া। দা'টা বাগিয়ে বিছানায় উঠে বসে সে গলার শির ছিঁড়ে চেঁচাত, 'ভাগ যা চুহাকা ছৌয়ারা। নইলে জানে খতম হয়ে যাবি।'
কিন্তু উৎপাতটা দিন দিন বেড়েই যাচ্ছিল। অতিষ্ঠ চাপিয়া শেষ পর্যন্ত মনপত্থলের পঞ্চ-এর কাছে গিয়ে নালিশ জানায়। 'পঞ্চ'-এর যে মাথা সে হলো গঞ্জুটোলার বুড়ো ধানপত। সব শুনে সে বলেছিল, যুবতী ছোকরির অরক্ষিত থাকা ঠিক না। চাপিয়ার উচিত তুরন্ত আরেকবার শাদি করে ফেলা। বেশির ভাগ 'পুরুখে'র (পুরুষের) মধ্যেই রয়েছে একটা করে জানবর। চাপিয়ার শরীরে এবং মনে তাকত কতটুকু? জানবরেরা তাকে ছিঁড়ে খেয়ে ফেলবে।
ধানপত ভালো লোক, বহোত সাচ্চা আদমি। তার কথাগুলো ফেলে দেবার মতো নয়। চাপিয়া বলেছিল, 'লেকেন আমি একঘরিয়া রাণ্ডি, আমাকে কে শাদি করবে?'
ধানপত বলেছিল, 'কা তাজ্জবকা বাত! আমাদের অচ্ছুতিয়াদের ঘরে একঘরিয়াদের নতুন করে শাদি হয় না! কেত্তে দোঘরিয়া চারঘরিয়া দশঘরিয়া চুমৌনা (সাঙ্গা) করে সম্সার করছে।'
কথাটা চাপিয়ার অজানা নয়। দোসাদ সমাজের যাবতীয় প্রথাই সে জানে। নিজের দ্বিতীয়বার শাদির প্রসঙ্গে ঠিক ওভাবে সে বলতেও চায়নি। দ্রুত শুধরে নিয়ে সে এবার বলেছে, 'জানি চাচা। লেকেন আমি একটা লেড়কি, মাথার ওপর বাপ নেই। কোই ভি নায়। লোকের দরজায় দরজায় ঘুরে কি বলতে পারি আমাকে শাদি কর। শরমকা বাত।'
'তুই রাজি থাকলে বল্। আমি ব্যওস্থা করব।'
'তোমার যা 'আচ্ছা' মনে হয়, কর।'
কয়েক দিনের মধ্যেই পাশের তালুক দুধলিগঞ্জ থেকে আধবুড়ো এক দোসাদকে এনে হাজির করেছিল ধানপত। লোকটার নাম চৌপটলাল। দু'জনের আলাপ-টালাপ করিয়ে দিয়ে ধানপত জানিয়েছিল, চৌপট পাক্কিতে সাইকেল রিকশা চালায়। আগে দু'বার বিয়ে করেছে। এক বউ মারা গেছে বোখারে, আরেক বিয়ে 'ছুট' হয়ে গেছে। ছেলেপুলে নেই, ঝাড়া হাত-পা লোক। চাপিয়াও তা-ই। এই চুমৌনা হলে দু'জনের পক্ষেই ভালো।
চাপিয়া মুখ নামিয়ে ধানপতকে শুধিয়েছে, 'চাচা, রিকশ গাড়িয়াটা কি ওর নিজের?'
চৌপটলাল প্রশ্নের উত্তরটা ধানপতকেই দিয়েছে, 'ওকে বলে দাও চাচা, ওটা মালিকের। রোজ চার রুপাইয়া তাকে কেরায়া দিতে হয়। তারপর যা থাকে সেটা আমার কামাই।' একটু থেমে ফের বলেছে, 'আউর একগো বাত ধানপত চাচা।'
ধানপত জানতে চেয়েছে, 'কা বাত?'
'তোমাদের লড়কিকে জানিয়ে দাও' আমার কামাইয়ের দিকে যেন নজর না দেয়। চুমৌনা হলে নিজের পেটের দানা নিজেকেই ওর জুটিয়ে নিতে হবে। আমার পেটের সওয়াল আমার, ওর পেটের সওয়াল ওর। রাজি হলে এ চুমৌনা হবে।'
'লেকেন তোর ঘরে গিয়ে নয়া জায়গায় চাপিয়া নিজের ব্যওস্থা কী করে করবে?'
'সেটা আমি দেখব। রাজি কিনা তুমি 'পুছে' নাও_'
ধানপত উত্তর দেবার আগেই চাপিয়া বলে উঠেছে, 'আমি রাজি।' আসলে একা একা থাকতে তার সাহস হচ্ছিল না; একটি পুরুখের আশ্রয় তার প্রয়োজন ছিল।
এবার সোজাসুজি তার দিকে তাকিয়ে চৌপটলাল বলেছে, 'তা হলে কাল সুবে সাফা কাপড়া-টাপড়া পরে থেকো। আমি এসে তোমাকে নিয়ে যাব।'
ধানপত শুধোয়, 'কোথায় নিয়ে যাবি?'
চৌপটলাল বলে, 'সুরথপুরার হাটিয়ায়।'
'সেখানে কী?'
চৌপটলাল যা উত্তর দেয় তা এই রকম। তখন চাষের মরসুম। চারপাশের দশ-বিশটা গাঁয়ের যত জমির মালিক আছে, তাদের সবার ক্ষেতিমজুর দরকার। সুরথপুরার হাটিয়ায় এ অঞ্চলের তাবৎ ভূমিহীন মেয়ে-পুরুষ এই সময়টা গিয়ে জড়ো হয়। জমির মালিকেরা তাদের ভেতর থেকে শক্তসমর্থ দেখে মজুর বেছে নিয়ে যায়। তেমন তেমন খাটিয়ে হলে মালিকের কাছে সালভর কাজ পাওয়া যায়। কাজের বদলে মেলে চাল, গেঁহু বা বজরা আর নগদ কিছু পাইসা। চাপিয়াকে যদি পসন্দ করে কোনো জমির মালিক কাজ দেয়, চৌপটলাল তাকে নিজের ঘরে নিয়ে তুলবে।
ধানপতের সন্দেহ হয়েছিল। সে শুধিয়েছে, 'তোর মতলব কী রে? চাপিয়াকে রাখনি বানিয়ে ঘরে বসাতে চাস?'
তাড়াতাড়ি জিভ কেটে কানে হাত দিয়ে চৌপটলাল বলছে, 'নায় নায় চাচা। ওরকম পাপকা চিন্তা মনে এনো না। তোমাদের লড়কি ক্ষেতিমালিকের কাম পেলেই চুমৌনার ব্যওস্থা করে ফেলব। তারপর ওকে ঘরে নিয়ে যাব। তবে একটা কথা_'
'কা?'
'কাম না পেলে কিন্তু চুমৌনা হবে না। তোমাদের লড়কিকে সুরথপুরার হাটিয়ে থেকে ফিরে আসতে হবে।'
ধানপতকে বিষণ্ন দেখিয়েছিল। চাপিয়ার দিকে ফিরে সে শুধিয়েছে, 'কা রে রাজি? ভাল করে ভেবে দ্যাখ।'
চাপিয়া বলেছে, 'ভাবনার কিছু নেই। আমি রাজি।'
কথামত পরের দিন ভোরে কোয়েলের হাঁটুভর জলে 'নাহানা' চুকিয়ে সেজেগুজে গয়না পরে নিজের ঘরে দাওয়ায় বসে থেকেছে চাপিয়া। মুঙ্গিলালের সঙ্গে পয়লা শাদির সময় বাপ অনেক চাঁদির গয়না দিয়েছিল। সে সব নিয়ে আসতে পারেনি সে। এক কাপড়ে তাকে মুঙ্গিলালদের গাঁ থেকে পালিয়ে আসতে হয়। পরে অবশ্য বুড়ি পিসিশাশুড়ি তার কাপড়জামা গয়নাগাটি, সব কিছু নিজে এসে দিয়ে গেছে।
যাই হোক, সুরুয উঠবার আগেই চৌপটলাল এসে চাপিয়াকে সঙ্গে করে সুরথপুরার হাটে নিয়ে গিয়েছিল। সেখানে এক ক্ষেতিমালিক তাকে দেখামাত্র পছন্দ করে ফেলে এবং সালভর কাজের ব্যবস্থা পাকা হয়ে যায়।
চৌপটলাল মরদকা ছৌয়া। তার বাত হাতিকা দাঁত। ওই হাটিয়াতেই অচ্ছুতিয়াদের বামহন ডেকে চুমৌনা সেরে নয়া বহুকে নিয়ে দুধলিগঞ্জে চলে যায়।
চৌপটলালের সঙ্গে তার বিবাহিত জীবনের আয়ু মোট চার সাল। এই কটা বছর মোটামুটি ভালই কেটেছে। শর্তানুয়ায়ী চৌপটলাল আর চাপিয়া নিজের নিজের পেটের দানা জোগাড় করত। তাদের জীবনে কোনোরকম ওঠানামা ছিল না। রোজ ভোরে উঠে বাসি রোটি কি পানিভাত্তা (পান্তাভাত) খেয়ে চুলা ধরিয়ে কালোয়া (দুপুরের খাবার) বানিয়ে নিত চাপিয়া। দুটো তোবড়ান সিলভারের কটোরায় কালোয়া ভরে একটা দিত চৌপটলালকে, একটা নিত নিজে। তারপর দু'জনে চলে যেত দু'দিকে। চাপিয়া মালিকের খামারে কিংবা ক্ষেতিতে। চৌপটলাল যেত সাইকেল রিকশা নিয়ে পাক্কিতে। সারা দিন পর রাত্রিবেলা দু'জনের দেখা হতো। গরম গরম মাড়ভাত্তা বা লিট্টি বানিয়ে খাওয়া-দাওয়া চুকিয়ে ঘন হয়ে পাশাপাশি শুয়ে ঘরের ফুটো ছাউনির ফাঁক দিয়ে আকাশ আর তারার মেলা দেখতে দেখতে কত যে গল্প করত চৌপটলাল।
চাপিয়ার এই চার বছরের বিবাহিত জীবনের একটা বড় ঘটনা হলো এক মরা বাচ্চার জন্মদান। এটুকু বাদ দিলে মনে হচ্ছিল, দিন এভাবেই কেটে যাবে।
কিন্তু চার সাল বাদে এদিকে এমন মারাত্মক খরা হয় যে মাইলের পর মাইল সব চাষের জমি টুটেফুটে গেল। না এক ফোঁটা মেঘ, না এক বুঁদি বারিষ। আকাশের চেহারা দেখে এদিকে আদৌ কোনো দিন যে বৃষ্টি নামবে, এমন ভরসা পাওয়া গেল না। জল না হলেও চাষও নেই। ক্ষেতিমালিক জানিয়ে দিল, সে আর চাপিয়াকে রাখতে পারবে না।
কাজটা চলে যাবার পর চৌপটলাল নিরানন্দ মুখে বলেছিল, 'মনমে বহোত দুখ হচ্ছে। তবু কথাটা তোকে বলতেই হয়।'
'কা?' ভয়ে ভয়ে স্বামীর মুখের দিকে তাকিয়েছে চাপিয়া।
'তুই মনপত্থলে ফিরে যা।'
'ফিরে যাব!'
'হাঁ।' বিষণ্নভাবে মাথা নেড়েছে চৌপটলাল, 'তোর কাম নেই, কামাই বন্দ্। এই খরার সময় মানুষের পয়সা নেই; কেউ রিকশ গাড়িয়ায় চড়তে চায় না। দিনভর আমার যা কামাই তাতে আমারই চলে না। তুই থাকলে দু'জনেই ভুখা মরে যাব।'
অগত্যা কাটান-ছাড়ান হয়ে গেল। নিজস্ব জামাকাপড় আর চাঁদির গয়নাগুলো নিয়ে চোখের জলে বুক ভাসাতে ভাসাতে আবার মনপত্থলে ফিরে এলো চাপিয়া।
বাপের ঘরটা অনেক দিন ফাঁকা পড়ে ছিল। মানুষজন না থাকায় হাঁটুভর ধুলোবালি আর জঞ্জাল জমে উঠেছিল সেখানে। সাগুয়ান কাঠের খুঁটিতে ঘুন ধরে এমন ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছিল যে, ঘরটা হুড়মুড় করে যেকোনো সময় পড়ে যেতে পারত। জঞ্জাল সাফসুতরো করে, জঙ্গল থেকে কাঠ জুটিয়ে এনে খুঁটিগুলো বদলে নিয়েছিল চাপিয়া।
এরপর একটা বছর বড়ই কষ্টে কেটেছে তার। চৌপটলালদের ওখানেই শুধু খরা হয়নি, মনপত্থলের চারপাশের চলি্লশ পঞ্চাশটা তালুকের তাবৎ জমি রোদে জ্বলে গিয়েছিল। বারিষের অভাবে চাষবাস যখন বন্ধ, তখন চাপিয়ার মতো মানুষদের কাজও বন্ধ। কাজেই দক্ষিণ কোয়েলের মরা খাতের দু'ধারের জঙ্গলটাই ওদের একমাত্র ভরসা। সেখান থেকে রোজ মহুয়ার গোটা, রামদানা আর সুথনি জোগাড় করে এনে সে সব সেদ্ধ করে খেয়ে কিভাবে যে পুরা একটা সাল কাটিয়ে দিয়েছে তা একমাত্র চাপিয়াই জানে। তার জীবনশক্তি যে প্রবল, এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। নইলে এই সব কচুঘেঁচু আগাছা খেয়ে কেউ বেঁচে থাকতে পারে!
এক বছর বাদে আকাশের দেওতা মুখ তুলে চাইল। জেঠ মাহিনা শেষ হতে না হতেই চারপাশ ঘন কালো মেঘে ছেয়ে গেল। চাপিয়া আকাশের দিকে তাকিয়ে হাতজোড় করে মাথায় ঠেকিয়েছে আর বলেছে, 'হে রামজি, হো কিষুণজি, তেরে কিরপা। কাম মিললে ভাত খেতে পাব। এক সাল ভাতের মুখ দেখি না।'
চাপিয়া ঠিক করে ফেলেছিল, দু-এক রোজের ভেতর সুরথপুরার হাটে গিয়ে সেই কড়াইয়া গাছগুলোর তলায় বসবে। ওখান থেকেই চারপাশের ক্ষেতি মালিকেরা মরসুমি কিষাণ জুটিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু যেদিন সে হাটে যাবে তার আগের দিন পাশের গাঁ হাতিয়াড়া থেকে জগন দোসাদ এসে হাজির। সুরথপুরার হাটে ধানচালের আড়তে সে মাল বয়। জগন বলেছিল, 'হামনি শুনা হ্যায়, তুহারকা ঘরমে মরদ নহি। চৌপটলালের সাথ তোর শাদি টুটে গেছে।'
জগন দোসাদকে ছোটবেলা থেকেই চিনত চাপিয়া। বাপ বেঁচে থাকতে প্রায়ই মনপত্থলে আসত সে। চাপিয়া ঘাড় কাত করে জানিয়েছিল, 'হ্যাঁ।'
'আমার ঘরেও জেনানা নেই। তোর মন হলে আমার ঘরে আসতে পারিস। মগর_'
জগন দোসাদের প্রস্তাবটি বুঝতে অসুবিধা হয় না চাপিয়ার। একটা তাগড়া তাকতওয়ালা জোয়ান মরদ যেচে এসে তাকে বিয়ের কথা বলছে শুনেও বুকের ভেতরটা উথালপাথল হয়ে ওঠে না। শান্ত চোখে জগনের দিকে তাকিয়ে নিরুত্তাপ গলায় সে শুধিয়েছে, 'মগর কা?'
জগন এবার যা বলেছে তা এই রকম_চাপিয়াকে সে নিজের ঘরে নিয়ে যেতে পারে একটিমাত্র শর্তে। কামাই করে নিজের পেটের দানা তাকে জোটাতে হবে।
এমন শর্ত চাপিয়ার অজানা নয়। এই কড়ারেই আগের বিয়েটা হয়েছে তার। সে বলেছে, 'ঠিক হ্যায়।' এ দেশের নিয়ম এবং সংস্কার অনুযায়ী চাপিয়া বুঝে নিয়েছে, সব ঔরতের জন্যই একটা করে পুরুখের প্রয়োজন। সে খেতে পরতে না দিক, অন্য নিরাপত্তার জন্যও তাকে একান্ত দরকার। মেয়েদের পক্ষে একা বেওয়ারিশ পড়ে থাকা খুবই বিপজ্জনক।
জগন এবার খুশি হয়ে বলেছে, 'এহি সাল আসমানে ঘটা দেখে ক্ষেতিমালিকেরা সুরথপুরার হাটিয়ায় কিষাণ নিতে আসছে। ওখানে গেলেই কাম জুটে যাবে।'
'জানি। আমি কাল সুরথপুরা যাব।'
জগনের উৎসহ এবার দশ গুণ বেড়ে গিয়েছিল। সে বলেছে, 'কাল সুবে তোর এখানে চলে আসব। হামনিলোগন একসাথ সুরুথপুরায় চলে যাব।'
'ঠিক হ্যায়।'
'তোর কাম জুটলে তোকে আমরা ঘরে নিয়ে যাব।'
পরের দিন ভোরে সুরয উঠবার আগে মনপত্থলের তাবৎ মানুষ দেখল চাপিয়া আরো একবার সেজেগুজে হাতিয়াড়া গাঁয়ের জগন দোসাদের পিছু পিছু সুরথপুরার হাটে চলেছে।
কড়াইয়া গাছের তলায় গিয়ে বসতে না বসতেই কাজ জুটে গিয়েছিল চাপিয়ার। ফলে চৌপটলাল যা যা করেছে এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। জগন কোত্থেকে এক টিকিওলা পণ্ডিত ধরে এনে নগদ পাঁচ টাকা দক্ষিণা দিয়ে বিয়েটা চুকিয়ে ফেলে। তারপর চাপিয়াকে নিয়ে সিধা নিজের ঘরে চলে যায়।
চাপিয়ার এই তিন নম্বর বিয়ের আয়ু পুরো দুই সালও নয়। পয়লা বছর ঘুরতে না ঘুরতেই পেটে ছৌয়া এসে গেল। কিন্তু সে জন্য কাজ বন্ধ করা যায় না। নায় কাম তো নায় খোরাকি। কাজেই ন' মাস পর্যন্ত বাচ্চা পেটে নিয়ে মালিকের ক্ষেতিতে কাজ করে গিয়েছিল চাপিয়া। তাতে যা হবার তাই হয়েছে। একদিন মুখ থুবড়ে মাটিতে পড়ে গেল সে। রক্তাক্ত বেহুঁশ চাপিয়াকে একটা গৈয়া গাড়িতে তুলে বিশ মাইল তফাতের এক টৌনে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে দেওয়া হয়েছিল। সেখানে তিন মাস মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে যখন সে বেরুল, শরীর বেজায় কমজোরি হয়ে গেছে। পেটের ছৌয়াটা তো আগেই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। হাসপাতালের ডাগদরসাব জানিয়ে দিয়েছে, তার আর ছৌয়া হবে না। সে জন্য খুব একটা দুর্ভাবনা ছিল না। চাপিয়ার ভয় তার শরীরটাকে নিয়ে। এই শরীর যদি একবার ভেঙে পড়ে, কাজকর্মের অযোগ্য হয়ে যায়, ভুখা মরে যেতে হবে।
হাসপাতাল থেকে বেরুবার পর সত্যি সত্যি বড় দুব্লা হয়েছিল চাপিয়া। ক্ষেতির কাজ তো দূরের কথা, একসঙ্গে দশ পা চলতে তার হাঁফ ধরে যেত। ফলে জমির কাজটা তার গেল। আর যে ঔরত নিজের পেটের দানা জুটিয়ে নিতে পারে না, তাকে বসিয়ে বসিয়ে খাওয়াবার মতো শৌখিন লোক জগন নয়। কাজেই চাপিয়ার তিন নম্বর বিয়েটাও টিকল না। নিজস্ব কাপড়জামা এবং অন্যান্য জিনিসপত্র গুছিয়ে আবার মনপত্থলে ফিরে এলো সে।
এরপর আরো তিনবার সেজেগুজে তিনজনের পিছু পিছু সুরথপুরার হাটিয়ায় গেছে চাপিয়া_সেই একই শর্তে। অর্থাৎ ক্ষেতির কাজ পেয়ে পেটের দানা জোটাতে পারলে তবেই শাদি হবে। কিন্তু তার চার-পাঁচ-ছ' নম্বর বিয়েও বেশি দিন টেকেনি। কোনটা চার সাল, কোনটা বা এক সাল। চার নম্বর বিয়েটা ভাঙল দক্ষিণ কোয়েলের বাঁড়ের জন্য। বন্যায় চাষের জমি ডুবে যাওয়ায় ক্ষেতিমালিক কাজ থেকে তাকে ছাড়িয়ে দেয়। সুতরাং বিয়েও বরবাদ। পাঁচ নম্বর বিয়েটা চৌপট হলো মরদ মরে যেতে। ছ' নম্বর বিয়ে ভাঙল অজন্মার জন্য।
তারপর এই পড়তি বয়সে চেচকে-ভোগা অশক্ত দুর্বল শরীরে জীবনের সাত নম্বর মরদ নাটোয়ারের সঙ্গে সুরথপুরায় চলেছে চাপিয়া।
আচমকা পাশ থেকে নাটোয়ারের গলা কানে আসে, 'এ ঔরত_'
এতক্ষণ দূরমনস্কর মতো হেঁটে যাচ্ছিল চাপিয়া। চমকে সে ঘাড় ফেরায়। বলে, 'কা?'
'সাফ সাফ দো-চারগো বাত তুহারকা সাথ হয়ে যাক।'
চাপিয়া উত্তর দেয় না। তবে কান খাড়া করে অপেক্ষা করতে থাকে।
এদিকে ঝাঁ ঝাঁ করে জেঠ মাহিনার বেলা চড়ে যাচ্ছে। রোদের ঝাঁজ দ্রুত চড়তে থাকে। বাস-ট্রাক, সাইকেল-রিকশা, গৈয়া এবং ভৈসা গাড়ির চলাচলও অনেক বেড়ে গেছে। হাইওয়েতে লাল ধুলো উড়িয়ে চাপিয়াদের পাশ দিয়ে সেগুলো একের পর এক বেরিয়ে যেতে থাকে। এখন রাস্তায় মানুষজনও প্রচুর।
নাটোয়ার বলে, 'আমার পেটে একেবারে দশগো জানবরের খিদে।'
চাপিয়া অবাক হয় না। নাটোয়ারের আগে যে ক'জনের সঙ্গে সে সুরথপুরার হাটিয়ায় গেছে তারা প্রায় সবাই এ কথা বলেছে। পেটে জানোয়ারের খিদে নিয়ে সবাই তাকে সাদি করতে আসে। যাই হোক চাপিয়া কিছু বলে না।
তীক্ষ্ন চোখে নাটোয়ার এবার চাপিয়ার দিকে তাকায়। তার কথা ঔরতটার কানে ঠিক ঠিক ঢুকেছে কিনা, সে সম্বন্ধে কিছুটা সন্দেহ হয়। সে শুধোয়, 'শুনা হামনিকো বাত?'
নিচু গলায় চাপিয়া বলে, 'শুনা হ্যায়।'
'আমার যা কামাই তাতে আমার পেটটাই শুধু চলে। সুরথপুরায় গিয়ে কাম তোকে জোটাতেই হবে।' নাটোয়ার শেষ কথাগুলোর ওপর যথেষ্ট জোর দেয়।
এ জাতীয় কথাও চাপিয়ার কাছে নতুন কিছু নয়। শান্ত মুখে সে বলে, 'জানি।'
এবার ডান হাতের আঙুল নেড়ে উথলে-ওঠা স্বরে নাটোয়ার বলে, 'তব্ হে;্যাঁ_'
ঈষৎ কৌতূহল নিয়ে চাপিয়া সঙ্গীর দিকে তাকায়। জিজ্ঞেস করে, 'কা?'
'তোর কামটা হয়ে গেলে একটা শাদির মতো শাদি করব। সবাই একেবারে তাজ্জব বনে যাবে।'
এই বয়সে জীবনের সাত নম্বর শাদিতে কতটা ঘটা হওয়া সম্ভব, চাপিয়া ভেবে পায় না। তবু নাটোয়ারের এই উচ্ছ্বাস একেবারে মন্দ লাগে না। বুকের ভেতর ঠাণ্ডা ঝিমান রক্ত একটু যেন ছলকেই ওঠে তার।
হাঁটতে হাঁটতে চাপিয়ার কাপড়চোপড় লক্ষ করে নাটোয়ার। শাড়ি আর জামা যদিও পরিষ্কার, তবে বহুকালের পুরনো। নানা জায়গায় পিঁজে পিঁজে গেছে; দু-চারটে তালিও চোখে পড়ে। নাটোয়ার জোরে জোরে মাথা নাড়তে নাড়তে বলে, 'নায় নায়, এহি কাপড়াউপড়া চলবে না। সুরথপুরায় গিয়ে দুকান থেকে অ্যায়সা জগমগ কগমগ কাপড়া আউর জামা কিনে দেব যে লোকের আঁখ ধাঁধিয়ে যাবে_হ্যাঁ!'
আগে আর এ জাতীয় কথা কেউ কখনো বলেনি। আশায় সুখে এবং উত্তেজনায় চাপিয়ার বুকের ভেতরটা দুলে ওঠে। নাটোয়ার তার উত্তেজনাটা আরেকটু উসকে দেয়। সে ফের বলে, 'বিলাইতি পাউডেল (পাউডার), সিনুর (সিঁদুর), খসবুদার তেল ভি কিনে দেব। আর কী কী দেব জানিস?'
'কা?'
চাঁদির বিছুয়া, করণফুল, পৈড়ি, কজরৌটি_'
বাধা দিয়ে মৃদু গলায় চাপিয়া বলে, 'আমার তো এসব আছে। আবার নতুন করে_'
হাত তুলে তাকে থামিয়ে দিতে দিতে নাটোয়ার বলে, 'তুই আমার ঘরে নয়া যাচ্ছিস। তোকে কিছু দিতে আমার ইচ্ছা করে না? হাঁ কি নায়_বাতা, বাতা_'
চোখ নামিয়ে চাপিয়া বলে, 'হাঁ।'
'তোকে নাজুক সুনহলা দুলহানিয়া বানিয়ে ঘর নিয়ে তুলব। বিলকুল পরি য্যায়সা_'
চড়া রঙে চাপিয়ার চোখের সামনে ঝকমকান স্বপ্নের একটি ছবি আঁকতে আঁকতে নাটোয়ার তাকে নিয়ে একসময় সুরথপুরায় পেঁৗছে যায়।
সুরথপুরা হাটের দক্ষিণ দিক ঘেঁষে যে বার চোদ্দটা কড়াইয়া গাছ গা-জড়াজড়ি করে দাঁড়িয়ে আছে তার তলায় বরাবর যেমন হয়, এবারও তেমনি মরসুমি ভূমিহীন ক্ষেতমজুররা জমা হয়েছে। তা পুরুষ এবং ঔরত মিলিয়ে দু-আড়াই শ লোক তো হবেই। মেয়েমানুষগুলোর বেশির ভাগেরই কোলে দু-একটা বাচ্চা ঝুলছে।
নাটোয়ার আর চাপিয়া সিধা সেখানে চলে আসে। ক্ষেতমজুরদের জটলাটার দিকে আঙুল বাড়িয়ে নাটোয়ার বলে, 'তুই ওখানে গিয়ে বোস।'
চাপিয়া শুধোয়, 'তুমি?'
নাটোয়ার বলে, 'আমি আর বসব না। দুকান থেকে চায়-পানি খেয়ে আসি।' তারপর আশ্বাস দিয়ে বলে, 'ডর নেই, একাই খাব না। তোর জন্যও নিয়ে আসব।'
নাটোয়ার দাঁড়ায় না। হাটের যে দিকটা দোকানপাট দিয়ে সাজান এবং মানুষের ভিড়ে জমজমাট সিধা সেখানে চলে যায়। আর আস্তে আস্তে চাপিয়া ক্ষেতমজুরদের পাশে গিয়ে বসে।
তার চারপাশে যারা আছে তাদের প্রায় সবাইকেই চেনে চাপিয়া। এদের কেউ দোসাদ, কেউ গঞ্জু, কেউ তাতমা, কেউ ধোবি, কেউ মুসহর। মোট কথা জাতপাতের দিক থেকে পুরোপুরি অচ্ছুৎ। এই জল-অচলরা ছাড়াও আর যারা আছে তারা হলো আদিবাসী মুণ্ডা, ওঁরাও, সাঁওতাল ইত্যাদি ইত্যাদি।
হাটের এই অংশটা ফাঁকা ফাঁকা, লোকজনের ভিড় কম। আসল হাট হলো খানিকটা তফাতে_উত্তর দিকটায়। সেখান থেকে ভনভনে মাছির মতো একটানা আওয়াজ আসছে।
আবছাভাবে নিজের চারপাশের ক্ষেতমজুরের দিকে একবার তাকায় চাপিয়া। পরক্ষণেই তার নজর গিয়ে পড়ে সামনের চালাঘরগুলোর তলায়। হাটের চালা হলেও ওখানে আজকাল দোকান টোকান বসে না; ওগুলো বাতিল করে হাটটা দূরে সরে গেছে।
পরিত্যক্ত চালাগুলোর তলায় এই মুহূর্তে এ অঞ্চলের ক্ষেতমালিক এবং তাদের লোকজনেরা বসে আছে। বোঝা যায়, এখনো মজুর বাছাবাছি শুরু হয়নি।
দুবলা শরীরে মনপত্থল থেকে এতটা হেঁটে আসার জন্য হাত-পা যেন ভেঙে আসছিল চাপিয়ার। তার ওপর এখন পর্যন্ত পেটে কিছুই পড়েনি। ক্ষ্যাপা জন্তুর মতো খিদেটা ধারাল দাঁতে পাকস্থলীটা যেন ক্রমাগত ফেঁড়ে ফেঁড়ে দিচ্ছে। নাটোয়ার অবশ্য ভরসা দিয়েছে, তার জন্য চায়-পানি নিয়ে আসবে। দেখাই যাক।
ক্ষেতমজুররা এধারে ওধারে কথা বলে যাচ্ছে। বাচ্চাকাচ্চাগুলো কেউ চিল্লাছে, কেউ লাল ধুলো মেখে হুটোপাটি করছে। চাপিয়া কিছুই যেন শুনতে পাচ্ছে না। এখন তার একটাই চিন্তা। যেভাবেই হোক, ক্ষেতির কাজ তাকে পেতেই হবে। মনে মনে বিড়বিড়িয়ে সে অনবরত বলতে থাকে, 'হো রামজি, হো কিষুণজি, অব তেরে কিরপা।'
আচমকা পেছন থেকে কে যেন ডেকে ওঠে, 'কৌন_চাপিয়া?'
ঘাড় ফিরিয়ে তাকায় চাপিয়া। হাত দশেক ফারাকে বসে আছে আটবুড়ো গৈবীনাথ। তাকে দেখামাত্র চমকে ওঠে চাপিয়া। চেহারার এ কী হাল করেছে লোকটা।
এখন থেকে অনেক সাল আগে প্রথম যেবার কাজের আশায় এই কড়াইয়া গাছগুলোর তলায় এসে চাপিয়া বসেছিল সেই তখন থেকেই গৈবীনাথকে চেনে সে। তারপর যতবার এখানে এসেছে ততবারই লোকটাকে দেখেছে। পাথর কি লোহা দিয়ে তৈরি ছিল তার শরীর। গায়ে ছিল দশটা বনভয়সার তাকত। ওকে দেখামাত্র জমি মালিকদের পছন্দ হয়ে যেত।
গৈবীনাথ জাতে ধোবি। অনেক সাল ধরে দেখাশোনার ফলে তার সঙ্গে খানিকটা ঘনিষ্ঠতাই হয়েছে চাপিয়ার। অন্য ক্ষেতমজুররা যখন নিজের নিজের ধান্দা ছাড়া আর কিছু বোঝে না, তখন গৈবীনাথের সঙ্গী দেখা হলেই সে তার খোঁজখবর করেছে; নতুন নতুন মরদদের কথা জানতে চেয়েছে। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে একের পর এক বিয়ে ভাঙার কারণগুলো জেনে আন্তরিক দুঃখ এবং সহানুভূতি জানিয়েছে। লোকটা এককথায় খুবই বড়মাপের দিলওয়ালা আদমি।
মাঝখানে তিন সাল সুরথপুরায় আসতে পারেনি চাপিয়া। এর ভেতর লোহা বা পাথরে বানান গৈবীনাথের চেহারাটা ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে যেন। গাল তুবড়ে চোয়ালের হাড় ফুটে বেরিয়েছে। গায়ে মাংস বলতে কিছুই নেই। পাঁজরাগুলো গুনে নেওয়া যায়। দেহের ওই বিশাল কাঠামোটায় এখন শুধু হাড্ডি আর হাড্ডি। চোখ দুটো এক আঙুল করে গর্তে ঢুকে গেছে। চামড়া ঢিলে হয়ে কুঁচকে গেছে। থেমে থেমে হাঁ করে একেকবার শ্বাস নেয় সে আর হাঁপায়। দেখেই বোঝা যায়, ফুসফুসের সঙ্গে বাইরের বাতাসের যোগাযোগ রাখতে ভয়ানক কষ্ট হচ্ছে গৈবীনাথের। অথচ কী এমন বয়েস! বড়জোর পঁচাশ কী তার চাইতে দু-এক সাল বেশি। কিন্তু এখন গৈবীনাথকে দেখে মনে হয় বয়েসটা সত্তর কী আশি পেরিয়ে গেছে।
চাপিয়া বলে, 'তুম!'
'হ্যাঁ রে_ 'গৈবীনাথ এগিয়ে এসে তার পাশে বসে।
'এ কী চেহারা করেছ!'
'কা করে! তিন চার সাল ধরে বুকের দোষ হয়েছে। তার সাথ সাথ হাঁপ আউর খাঁসি (কাশি)। তাতেই শরীরটা চৌপট হয়ে গেল।'
'ডাগদর দেখিয়ে দাওয়া খেয়েছ?
'পেটের দানা জোটে না তো ডাগদর, দাওয়া। আমাকে কী পেয়েছিস_রাজা মহারাজাকা ছৌয়া?'
চাপিয়া আর কিছু বলে না।
গৈবীনাথ এতক্ষণ ভালো করে লক্ষ করেনি। এবার জেল্লাহীন ঘোলাটে চোখে একদৃষ্টে চাপিয়াকে দেখতে দেখতে বলে, তুইও চেহারার কী হাল করেছিস!'
চাপিয়া বড় করে শ্বাস ফেলে। বলে, 'চেচক (বসন্ত) হল যে। তারপরই হাল বুরা হয়ে গেল।'
'তুই আমি, দু'জনেই বুখার কমজোরি হয়ে গেছি। ক্ষেতির কাম মিলবে কি না কে জানে।'
'ভগোয়ান কিষুণজিকা কিরপা_'
এই সময় মাটির খোরায় চা, গরম গরম সমোসা এবং পাঁউরুটি নিয়ে ফিরে আসে নাটোয়ার। রুটি-টুপি চাপিয়ার হাতে দিতে দিতে বলে, 'গরমাগরম খা লে। আমি আবার হাঁটিয়ায় যাচ্ছি।'
'কায়?' নিজের অজান্তেই চাপিয়ার মুখে থেকে কথাটা বেরিয়ে আসে যেন।
'পাক্কি ধরে আসতে আসতে বললাম না, নয়া জগমগ-জগমগ কাপড়া-উপড়া কিনে দেব। আমার মরদকা জবান_হ্যাঁ' বলে আর দাঁড়ায় না নাটোয়ার; ফের হাটের ভিড়ে মিশে যায়।
চায়ের ভাঁড়ে মুখ ঠেকাতে গিয়ে হঠাৎ চাপিয়ার চোখে পড়ে লুব্ধ দৃষ্টিতে খাবারগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে গৈবীনাথ আর সমানে ঢোক গিলছে। বোঝা যায় লোকটার পেটে এই মুহূর্তে মারাত্মক ভুখ। চাপিয়া শুধোয়, 'চায়-পানি খাবে?'
গৈবীনাথ উত্তর দেয় না তবে তার মুখচোখ দেখে মনে হয়, খাবার ষোল আনা ইচ্ছে।
ভাঁড়সুদ্ধ পুরো চা'টা দেবার মতো অতখানি মহানুভবতা চাপিয়ার অন্তত নেই। আলগোছে অর্ধেকটা চা খেয়ে বাকি ভাঁড়টা গৈবীনাথকে দেয় সে। সেই সঙ্গে সমোসা পাঁউরুটির ভাগও।
চায়ে ভিজিয়ে গোগ্রাসে খেতে খেতে গৈবীনাথ শুধোয়, 'ওই আদমিটা কে?'
'কার কথা বলছ,' চাপিয়া জানতে চায়।
'যে চায়-পানি আউর রোটি উটি দিয়ে গেল।'
'ওর নাম নাটোয়ার দুসাদ।'
কৌতূহলী চোখে চাপিয়ার দিকে তাকিয়ে গৈবীনাথ এবার জিজ্ঞেস করে, 'নাটোয়ার তোকে চায় রোটি খিলাচ্ছে কেন?'
চাপিয়া চুপ করে থাকে।
গৈবীনাথ এবার বলে, 'সমঝ গিয়া কাম মিললে নাটোয়ার তোকে শাদি করে নিয়ে যাবে_নায়?'
চাপিয়া মুখ নামিয়ে আস্তে আস্তে মাথা নাড়ে।
গৈবীনাথ ফের বলে, আগে তো তের ছে ছে'গো (ছ ছ'টা) শাদি হয়ে গেছে।'
চাপিয়া সম্পর্কে সব খবরই রাখে গৈবীনাথ। চাপিয়া বলে, 'হাঁ।'
ওদের কথাবার্তার মধ্যেই নাটোয়ার আবার ফিরে আসে। তার হাতে জগমগ-জগমগ নতুন শাড়ি। চাপিয়াকে সেটা দিতে দিতে বলে, 'কাছে রাখ। আমি তোর সপরনার (সাজগোজের) জিনিসগুলো নিয়ে আসি।' বলেই সে চলে যায়।
একসময় সামনের চালাগুলোর তলা থেকে ক্ষেতিমালিক এবং তাদের লোকজন উঠে এসে কিষাণ বাছতে শুরু করে। গৈয়াহাটা, ছাগরিহাটা কি মুরগিহাটায় যেভাবে গরুবাছুর ছাগল বা মুরগির গা টিপে টিপে পরখ করে নেওয়া হয় অবিকল সেই ভাবেই কড়াইয়া গাছগুলোর তলায় ঘুরে ঘুরে তারা ভূমিহীন ওঁরাও-মুণ্ডা এবং অচ্ছুৎদের যাচিয়ে বাজিয়ে নিচ্ছে। ক্ষেতি চষার মতো মারাত্মক খাটুনির কাজের তাকত যাদের আছে জমিমালিকেরা শুধু তাদেরই বেছে নিচ্ছে। দুর্বল অশক্ত লোক নিয়ে কী লাভ?
হট্টাকাট্টা চেহারার পুরুষ আর ঔরতেরা প্রথমেই কাজ পেয়ে যায়। ওদের নিয়ে কিছু কিছু জমিমালিক চলে যেতে থাকে। কড়াইয়া গাছগুলোর তলা ক্রমশ ফাঁকা হয়ে আসে।
ঝড়তি পড়তি পঞ্চাশ ষাটটা আদিবাসী আর অচ্ছুৎ ধোবি দোসাদের ভেতর চাপিয়া এখনো বসে আছে। তার পাশে গৈবীনাথ। লোকটা সমানে হাঁপিয়ে যাচ্ছে। জলহীন ফাঁক হুকো টানার মতো অদ্ভুত একটা শব্দ একটানা কানে ঢুকতে থাকে চাপিয়ার।
অন্য সব বছর দেখামাত্রই জমিমালিকরা চাপিয়াকে পছন্দ করে ফেলত। কিন্তু এবার বরাত খারাপ। কিষাণ বাছাবাছি শুরু হবার পর কত ক্ষেতিমালিক তার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এক পলক তাকে দেখেই চলে গেছে। গৈবীনাথেরও সেই একই হাল।
তবু আশা একেবারে ছেড়ে দেয়নি চাপিয়া। এখনও জনকয়েক ক্ষেতিমালিক রয়েছে। এই চাষের মরসুমে প্রচুর কিষাণ দরকার। নিশ্চয়ই কেউ না, কেউ তাকে কাজ দেবে। মনে মনে অনবরত চাপিয়া বিড় বিড় করতে থাকে। 'হো কিষুণজি, হো রামজি তেরে কিরপা।'
জেঠ মাহিনার সূর্য এখন খাড়া মাথার ওপর উঠে এসেছে। চারদিকে ঝাঁ ঝাঁ করছে রোদ।
যে ক'জন জমিমালিক এখনো রয়েছে তারা কড়াইয়া গাছগুলোর তলায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। এদের মধ্যে যেই কেউ কাছে এসে দাঁড়ায়, বুকের ভেতর শ্বাস আটকে আসে চাপিয়ার। বেশির ভাগই কিছু না বলে সরে যায়। তবে এক আধজন জিজ্ঞেস করে, 'কা রে, ক্ষেতির কাজ পারবি?'
রুদ্ধশ্বাসে চাপিয়া উত্তর দেয়, 'পারব হুজৌর।'
তীক্ষ্ন চোখে জমিমালিক লক্ষ করতে থাকে। চাপিয়া সারা গায়ে শাড়ি জড়িয়ে জড়সড় হয়ে আছে। জমিমালিক বলে, 'কাপড়া হটা_'
শাড়ি সরালে আসল চেহারা বেরিয়ে পড়বে। এমনিতেও যেটুকু আশা আছে, শরীরের হাল দেখলে কেউ তাকে পছন্দ করবে না। সে ভয়ে ভয়ে বলে, 'নায় নায় হুজৌর_'
জমিমালিক ভাবে, লজ্জায় ও সঙ্কোচে চাপিয়া গা থেকে কাপড় সরাতে চাইছে না। কুৎসিত একটা খিস্তি ঝেড়ে সে বলে, 'রাজা মহারাজের বিটিয়া সব_' বলেই এক টানে শাড়ির খানিকটা খুলে ফেলতেই চাপিয়ার দুর্বল রোগা শরীরের অনেকটা দেখতে পায়! বলে, 'ইসে লিয়ে কাপড়া জড়িয়ে আছিস।' তারপর আঙুল দিয়ে চাপিয়ার হাত টিপতে টিপতে বলে, 'তোর গায়ে তো কিছু নেই রে। তোকে দিয়ে চলবে না।'
চাপিয়া বলে, 'ঠিকই বলছি। মাথা আমার ঠিকই আছে।'
'তুই একা থাকিস। আমাকে নিয়ে তুললে গাঁওবালারা কী বলবে হুঁশ আছে?'
এ দিকটা খেয়াল করেনি চাপিয়া। অনেকক্ষণ চুপ করে থাকে সে। মনে মনে ভাব, এতকাল নিজের নিরাপত্তা ছাড়া আর কোনো চিন্তাই তার মাথায় ঢুকত না। এ জন্য একের পর এক পুরুষের পিছু পিছু সুরথপুরার হাটে এসেছে। কিন্তু তার চাইতেও দুর্বল, তার চাইতেও কমজোরি অসহায় বিমারি আদমিও রয়েছে। লক্ষ কোটি মানুষের পৃথিবীতে গৈবীনাথকেই একমাত্র তার বড় আপন মনে হয়। চাপিয়া মন স্থির করে ফেলে। বলে, 'মনপত্থলে যাবার আগে বামহনের কাছে গিয়ে সাদিটা চুকিয়ে ফেলব। চাঁদির পৈড়ি বেচে বামহনের পাইসা দেব।'
ফুসফুস ফাটিয়া চিৎকার করে ওঠে গৈবীনাথ, 'নায় নায়, এ নহি হোগা_'
চাপিয়া বলে, 'তুমনি চুপ হো যাও। রামজি কসম_'
সন্ধ্যের পর মনপত্থলের দোসাদরা, গঞ্জুরা, ধোবিরা চমকে উঠে দেখতে পায় চাপিয়া দুসাদিন ভোরে সেজেগুজে একজনের সঙ্গে চলে গিয়েছিল, কিন্তু ফিরে এলো আরেকজনের সঙ্গে।
এতদিন ছ' ছ'টা পুরুষ চাপিয়াকে শাদি করে নিয়ে গেছে। কিন্তু জীবনে এই প্রথম সে স্বয়ম্বরা হলো।
একসময় সবার অবাক চোখের সামনে দিয়ে দু'টি বাতিল মানুষ মনপত্থলের শেষ মাথায় বহুকালের প্রাচীন একটা কোমর-বাঁকা ধসেপড়া ঘরে গিয়ে ওঠে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1332)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
-
▼
2012
(33842)
-
▼
November
(2002)
-
▼
Nov 05
(88)
- মতিঝিলে জামায়াত-পুলিশ সংঘর্ষ
- খালেদার সফরে আ’লীগের পরিকল্পনা ধূলিস্যাৎ
- বিশ্বব্যাংকের অভিযোগ ভিত্তিহীন নয়ঃ দুদক চেয়ারম্যান
- বিয়ে নয় শুধু কাজ!
- অ্যাকশনধর্মী ছবিতে আগ্রহ এশার
- জামায়াত-পুলিশ সংঘর্ষে মতিঝিল রণক্ষেত্র
- জামায়াত-পুলিশ সংঘর্ষে দৈনিক বাংলা মোড় রণক্ষেত্র
- জামায়াত-পুলিশ সংঘর্ষঃ আগুন
- তাজমহল by বনফুল
- জাপানে পারমাণবিক চুল্লি বন্ধের পরিকল্পনার আংশিক অন...
- বিশ্লেষণ- তৃণমূল সরলে ছোট দলই ভরসা ইউপিএ জোটের
- ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন রমনি?
- পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্র থাকা না থাকা নিয়ে বিতর্ক
- রমনির ভিডিওর সমালোচনায় ওবামা- প্রেসিডেন্ট হতে হবে ...
- বজলুলের মনোনয়নপত্র গ্রহণের আদেশ স্থগিত
- গাজীপুর-৪ উপনির্বাচন- রিমির পক্ষে ভোট চাইলেন মাহবু...
- ফরিদপুর পৌরসভার সব সড়কই বেহাল
- আ.লীগ নেতার সৌজন্যে থানার ফটক
- প্রথম হাসি by ফরিদুর রেজা সাগর
- টাঙ্গাইলে ইউপি সদস্যকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা
- ছত্রাকের জীবনরহস্য কী ও কেন?
- পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে দুদক চেয়ারম্যান- কানাডা সরকার ...
- ‘আলোর মুখ দেখলাম’
- তেলেনাপোতা আবিষ্কার by প্রেমেন্দ্র মিত্র
- সাতঘরিয়া by প্রফুল্ল রায়
- ব্লগ থেকে...
- ব দ লে যা ও ব দ লে দা ও মি ছি ল- বাড়িভাড়া: চট্টগ্র...
- দুই দু’গুণে পাঁচ- মিথ্যা তুমি দশ পিঁপড়া by আতাউর...
- প্রয়োজনীয় শিক্ষক ছাড়া স্নাতক সম্মান কোর্স চালু নয়-...
- অদক্ষ ব্যবস্থাপনা-কাঠামো ঢেলে সাজাতে হবে- বিমানের ...
- চারদিক- ‘আমার কাজ বন্ধ তো দুনিয়া বন্ধ’ by সুচিত্রা...
- ‘প্রবৃদ্ধি বাড়াতে কাজ করবে মন্ত্রিসভা’
- কমিউনিস্ট পার্টির সম্মেলন ৮ নভেম্বর- পরিবর্তন আসছে...
- আলোচনায় পেনসিলভানিয়া মিশিগান ও মিনেসোটা
- নতুন জীবনের সন্ধানে চীনারা
- যুক্তরাষ্ট্রে স্যান্ডির আঘাত- বিপর্যস্ত উত্তর-পূর্...
- নয়টি ইস্যুতেদুই প্রার্থীর অবস্থান
- অনেক কিছু করতে রাজি থাকলেও...
- ড্রোন হামলা- যুক্তরাষ্ট্রকে চুক্তি করার পরামর্শ
- ওবামার পক্ষে কেটি পেরি, স্কারলেট জোহানসন রমনির সমর...
- ভাগ্য নির্ধারক ১১ অঙ্গরাজ্য
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন- দুই শিবিরই স্নায়ুচাপে
- পুনমের ‘নেশা’ হবে প্রাপ্ত বয়স্কদের
- নারায়ণগঞ্জে অস্ত্রসহ স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা গ্রেপ...
- স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে প্রতারণা যুক্তরাষ্ট্রে বাংলা...
- ফতুল্লায় যুবদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা
- সাভারে নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ হাসপাতালে
- বিশ্বজুড়ে বাংলা, বিশ্বজুড়ে প্রথম আলো- সামাজিক আন্দ...
- খালেদার ভারত সফরকে বিতর্কিত করার ষড়যন্ত্র চলছেঃ ফখরুল
- খালেদার ভারত সফর ভিন্ন খাতে নিতে চায় কুচক্রীরা: ফখরুল
- উখিয়া থেকে আরেকটি বুদ্ধ মূর্তি উদ্ধার
- প্রথম আলো কার্যালয়ে প্রীতি সম্মিলন- সমৃদ্ধ বাংলাদে...
- নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে সম্মত ঢাকা...
- পাঠকের মন্তব্য: অনলাইন থেকে- বাংলাদেশ আরও মনোযোগ দ...
- দূরদেশ- কোন দিকে যাবে ওহাইও অঙ্গরাজ্য? by আলী রীয়াজ
- ‘আমরাই বা কম কিসে?’- যুবদল নেতার অস্ত্রবাজি
- ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই অগ্রাধিকার হোক- চাঞ্চল্যকর...
- শ্রদ্ধাঞ্জলি- মৃত্যুঞ্জয়ী স্বপ্না রায় by গাজীউল হক
- রেস্টুরেন্টে একদিন
- গাইতে গিয়ে গান
- দৈবদুর্বিপাক
- রসকারণ- এক কাপ কফি কি আপনার মাথাব্যথা সারাতে পারে?...
- সবকিছুই ভুলে যাচ্ছে মানুষ- পদক্ষেপ নেওয়ার এখনই সময়
- বীর মুক্তিযোদ্ধা- তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না
- প্রতিক্রিয়া- ‘আকাশে আলো নেই, আছে প্রথম আলো’
- প্রথম আলোর বর্ষপূর্তির মিলনমেলা- শুরু হলো, হলো না শেষ
- প্রাণের জুস উৎপাদন ও বিপণন বিষয়ে হাইকোর্টের রুল
- নির্মাণযজ্ঞ চলছে কাতারে, কর্মী পাঠানোর বড় সুযোগ by...
- কালের পুরাণ- দিল্লিতে ‘জাতীয় ঐক্য’, ঢাকায় বিভেদ! b...
- সফরসঙ্গী স্ত্রী বা স্বামীও একই ভাতা পাবেন- মন্ত্রী...
- ২০১২ মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন কাল- আগাম ভোটের ...
- সীমানা পুনর্নির্ধারণ ও ছবিসহ ভোটার তালিকা হালনাগাদ...
- বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতার কোনো ব্যত্যয় হয়নি: ইআর...
- সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যাতে বিনষ্ট না হয়
- পবিত্র কোরআনের আলো-ন্যায় ও শান্তির জন্য যুদ্ধ ফরজ ...
- ইইউর নোবেল শান্তি পুরস্কার ২০১২ প্রাপ্তির যৌক্তিক...
- চালচিত্র-ক্ষমতার রাজনীতি ও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে...
- চরাচর-চা শ্রমিকের বিয়ে by বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
- পরিকল্পিতভাবেই জনদুর্ভোগ দূর করতে হবে by এ কে এম শ...
- সুখী মানুষের দেশে অসুখী মানুষ by জিতেন্দ্র লাল বড়ুয়া
- ধ্বংস ছাড়া সৃষ্টি কিংবা এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় by ড....
- প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক চাই
- মানবতার কণ্ঠস্বর ভূপেন হাজারিকা by ফকির আলমগীর
- এখনও গেল না বর্ণবৈষম্য! by মানিক সরেন
- মার্কিন নির্বাচনে চরমপন্থার ঠাঁই নেই by টমাস এল ফ্...
- সাম্প্রতিক প্রসঙ্গ-রামু ও উখিয়া থেকে ফিরে by মো. আ...
- মিলন ও সুমাইয়া-একটি বিয়োগান্ত নাটক
- উপজেলা পরিষদ-দুর্নীতির অভিযোগ গুরুতর
-
▼
Nov 05
(88)
-
▼
November
(2002)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
দুর্নীতি
শিশু
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
তরুণ প্রজন্ম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আলী যাকের
আইন ও বিচার
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
মালয়েশিয়া
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
স্বাস্থ্য
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
জ্যোতির্বিজ্ঞান
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
শিল্প ও সাহিত্য
সংবিধান ও রাষ্ট্র
বগুড়া
মিয়ানমার
ঢাকা
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
গবেষণা
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
জীবনযাপন
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
মেহেদী হাসান
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
মানসুরা হোসাইন
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
ইয়েমেন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
Exclusive
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
উচ্চশিক্ষা
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিজ্ঞান
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
জনস্বাস্থ্য
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
ফরিদপুর
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লাতিন আমেরিকা
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মহাকাশচারী
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
জোহরান মামদানি
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
ইহুদি
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
স্পেন
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
বিশ্বকাপ ফুটবল
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment