আ.লীগ নেতার সৌজন্যে থানার ফটক

রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার নতুন অস্থায়ী থানার প্রধান ফটক নির্মাণ করা হয়েছে আওয়ামী লীগ নেতার সৌজন্যে। আজ বৃহস্পতিবার পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) হাসান মাহমুদ খন্দকার থানার কার্যক্রম উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।


সরেজমিনে দেখা যায়, রতনদিয়া রজনীকান্ত উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠের পূর্বপাশে ৪১ শতাংশ জমির ওপর নির্মাণ করা হয়েছে কালুখালী থানা। ১৬৯ দশমিক ৫৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই থানার লোকসংখ্যা এক লাখ ৫৫ হাজার ৪৪ জন। পাংশা ও বালিয়াকান্দির সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হয়েছে এই অস্থায়ী থানা। থানার প্রধান ফটকের সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে ‘বাংলাদেশ পুলিশ, কালুখালী থানা, রাজবাড়ী। সৌজন্যে: টিটু চৌধুরী।’
কালুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুর রহমান জানান, থানাটি বেসরকারি উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছে। থানার সাইনবোর্ডে কোনো ব্যক্তির নাম থাকার সুযোগ নেই। তবে কেন নাম রয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাইনবোর্ডে কারও নাম নেই। এরপর ফটকে গিয়ে দেখা যায় (বেলা সাড়ে ১১টার দিকে), রং দিয়ে লেখাটি (সৌজন্যে: টিটু চৌধুরী) মুছে ফেলা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে কালুখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও রতনদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলিউজ্জামান চৌধুরী ওরফে টিটু চৌধুরী বলেন, ‘এই থানার নির্মাণে ৪০ জন ডোনার রয়েছে। গেটটি আমার টাকায় নির্মাণ করা হয়েছে। তাই সৌজন্যে আমার নাম লেখা। কিন্তু এমপি সাহেব সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করার পরও সৌজন্যে তাঁর নাম দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমি আমার নাম মুছে ফেলছি।’
রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. রেজাউল হক গতকাল বুধবার প্রথম আলোকে জানান, থানার সাইনবোর্ডে কারও নাম থাকার সুযোগ নেই। তবে থানার নির্মাণের সময় তিনি (টিটু চৌধুরী) বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন। তাই সৌজন্যে তাঁর নাম লেখা ছিল। লেখাটি অবশ্যই মুছে ফেলা হবে।