Wednesday, July 18, 2012
গোলটেবিল বৈঠক-শিশু সুরক্ষায় করণীয়
গোলটেবিল বৈঠক-শিশু সুরক্ষায় করণীয়
২৮ জুন ২০১২ প্রথম আলোর উদ্যোগে ‘শিশু সুরক্ষায় করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সহযোগিতায়ছিল ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’। এতে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা আলোচনায় অংশ নেন। তাঁদের বক্তব্য এখানে সংক্ষিপ্ত আকারে ছাপা হলো।
যাঁরা অংশ নিলেন
মেহের আফরোজ চুমকি
সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ
তারানা হালিম
সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ
নায়োমি কাননানগারা
পরিচালক, শিশু সুরক্ষা, সেভ দ্য চিলড্রেন
কাজী রিয়াজুল হক
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান
শাহ আলম
চেয়ারম্যান, আইন কমিশন
সাদেকা হালিম
সদস্য, তথ্য অধিকার কমিশন
এ এস এম আমানউল্লাহ
অধ্যাপক সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
মো. ওমর ফারুক
উপসচিব, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়
কাজী জিয়াউদ্দিন
সহকারী মহাপরিদর্শক, পুলিশ হেড কোয়ার্টার্স
মেহতাব খানম
অধ্যাপক, মনোবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সালমা আলী
নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি
সারা যাকের
নাট্যব্যক্তিত্ব, প্রকল্প পরিচালক, সিসিমপুর
মুমিনুন নেছা
ভিকটিম সাপোর্ট এক্সপার্ট, পুলিশ রিফর্ম প্রোগ্রাম, ইউএনডিপি
এহছানুর রহমান
সহসভাপতি, বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম
এম এম আমিনুল ইসলাম
শিশু সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ, ইউনিসেফ বাংলাদেশ
এ কে এম মাসুদ আলী
নির্বাহী পরিচালক, ইনসিডিন
সুমনা শারমীন
সাংবাদিক
সঞ্চালক
আব্দুল কাইয়ুম: যুগ্ম সম্পাদক, প্রথম আলো
আলোচনা
আব্দুল কাইয়ুম
বিশ্বের প্রায় সব দেশেই কমবেশি শিশু নির্যাতন হয়ে থাকে। আমাদের মতো দেশগুলোতে শিশুরা অতিমাত্রায় নির্যাতিত হয়। নানা সমস্যার মধ্যে শিশুদের দিন কাটে। শিশুরা গৃহে, কর্মক্ষেত্রে নির্যাতিত হচ্ছে। তাদের খেলার মাঠ নেই, টেলিভিশনে বিনোদনের সুযোগ নেই। ‘ডরিমন’ কার্টুন দেখে তারা হিন্দিতে কথা বলতে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে, অথচ এত সুন্দর এবং শিশুদের জন্য আকর্ষণীয় কার্টুনটি বাংলায় করা হচ্ছে না। এক কথায়, শিশুদের বেড়ে ওঠার উপযুক্ত পরিবেশ আমরা দিতে পারছি না। এ বিষয়ে আজ আলোচনা হবে। প্রথমে আলোচনার জন্য মেহের আফরোজ চুমকিকে অনুরোধ করছি।
মেহের আফরোজ চুমকি
শিশুদের কথা বললে একটি সুন্দর বাংলাদেশের চিত্র ভেসে ওঠে। দেশের মোট জনসংখ্যার ৪৫ শতাংশ শিশু। সংবিধানের ২৮(৪) ধারায় সব ধর্ম-বর্ণের শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।
আজকের প্রথম আলোয় একটা সংবাদ দেখলাম, শিশু আইনের খসড়ায় শিশুর বয়স ১৮ থেকে কমিয়ে ১৬ করা হয়েছে। আমি খুবই বিস্মিত হয়েছি। আমি শিশুদের নিয়ে কাজ করছি এবং মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান। আমি বিষয়টি দেখব। শিশুদের বয়সসীমা ১৬ বছর থাকলে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এখানে অনেক বিশেষজ্ঞ আছেন, তাঁরা এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করবেন। এই আলোচনা থেকে অনেক দিকনির্দেশনা বেরিয়ে আসবে এবং এর আলোকে আমরা আমাদের কর্মপরিকল্পনা ঠিক করব।
আব্দুল কাইয়ুম
আন্তর্জাতিক ও বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে এবার বলবেন নায়োমি কাননানগারা।
নায়োমি কাননানগারা
ভালো লাগছে যে আপনারা শিশু সুরক্ষার বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন। আর এই অনুষ্ঠানে আমি উপস্থিত থাকতে পেরে আনন্দিত বোধ করছি। আজকের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলতে চাই, দীর্ঘদিন ধরে সেভ দ্য চিলড্রেন বিশ্বব্যাপী শিশুদের সুরক্ষার ব্যাপারে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে, ১৯৮৯ সালের জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদে শিশুদের অপব্যবহার, শোষণ, বঞ্চনা, সহিংসতা ইত্যাদি ক্ষেত্রে কীভাবে তাদের রক্ষা করতে হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলা হয়েছে। সেভ দ্য চিলড্রেন বিশ্বে শিশু সুরক্ষার ব্যাপারে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করে আসছে। আমরা দুই ধরনের কাজ করি।
আমরা সব ধরনের নির্যাতন, শোষণ, অবহেলা ও বৈষম্য থেকে শিশুদের প্রতিরোধ করার জন্য কাজ করে থাকি এবং প্রয়োজনে সাড়া দিয়ে থাকি। এ ছাড়া জরুরি অবস্থায় শিশুদের নির্যাতন, সহিংসতা ও অপব্যবহার থেকে রক্ষা করার জন্য কাজ করে থাকি। শিশুদের জন্য যে আন্তর্জাতিক সনদ আছে, সব দেশ সেটা মেনে চলে। বাংলাদেশও শিশু সুরক্ষার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। আমরা এবং বাংলাদেশ সরকার সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করলে এ ক্ষেত্রে ব্যাপক সফলতা অর্জন করা সম্ভব। আমরা কীভাবে সরকারের সঙ্গে কাজ করব, তার ভালো উপায় খুঁজছি। কারণ, আমরা বিশ্বাস করি, একসঙ্গে কাজ করলে কমিউনিটি স্তরে নির্যাতন, সহিংসতাসহ সব দিক থেকে শিশুদের রক্ষা করা সম্ভব হবে।
এভাবে কমিউনিটি থেকে কাজ করতে করতে আমরা জাতীয় পর্যায়ে পরিবর্তন আনতে পারব। আমি বিশ্বাস করি, আজকের আলোচনা বাংলাদেশের শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে সাহায্য করবে। বাংলাদেশে সেভ দ্য চিলড্রেন দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করছে এবং করে যাবে।
এ কে এম মাসুদ আলী
আমাদের দেশে শিশুদের জন্য কিছু আইন আছে। এ আইন আসলে শিশু সনদের প্রতিফলন। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে সাইভাক নামে শিশুদের জন্য একটি আঞ্চলিক সংগঠন গড়ে উঠেছে। আফগানিস্তানসহ এই সংগঠনের সব দেশ বলছে যে তারা সব ধরনের শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে আইনি উদ্যোগ গ্রহণের জন্য একমত পোষণ করেছে। অন্যদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব নিজ উদ্যোগে বিশ্বে শিশুদের অবস্থা কী, সে বিষয়ে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন। এটা হচ্ছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক অবস্থা নির্ধারণের জন্য একটি মাইলফলক গবেষণা।
আজকে বিশ্বায়ন নৈতিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। প্রযুক্তিকে সাংস্কৃতিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে উন্মুক্ত করেছে। কিন্তু তাকে নিয়ন্ত্রণ করেনি। দেশীয় একটি শিশু প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্ব পরিমণ্ডলের সাইবার বা কাল্পনিক জগতে প্রবেশ করছে। তাদের অনেকে অনৈতিক বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। এতে শিশুদের মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় হচ্ছে। রাষ্ট্র, সংগঠন, এমনকি জাতিসংঘ—কেউ এই বিষয়কে নিয়ন্ত্রণ করেনি। তবে এখানে আশার কথা হলো, এখন বিশ্বব্যাপী শিশুরা সংগঠিত হচ্ছে। শুধু আইন ও রাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার সময় শেষ হয়েছে। এখন শিশুদের পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য সামাজিক আন্দোলনের চাহিদা তৈরি হয়েছে। এই সামাজিক আন্দোলন ছাড়া রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও বড় সংগঠন কাউকে কাছে পাওয়া যাবে না। সেভ দ্য চিলড্রেনকে ধন্যবাদ জানাব একটি সামাজিক পরিসরে বিষয়টি আলোচনার আয়োজন করার জন্য।
আব্দুল কাইয়ুম
তারানা হালিম শিশুদের নিয়ে অনেক কাজ করেছেন, তাঁকে বলার জন্য অনুরোধ করছি।
তারানা হালিম
শিশুদের জন্য অনেক কিছু করার আছে। সংসদে থাকায় শিশুদের নিয়ে আমার নিজস্ব কিছু ভাবনা কাজে লাগাতে পারছি। যেমন: আমার একটি দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল স্কুল ফিডিং কর্মসূচির। স্বল্প পরিসরে হলেও সেটা বাস্তবায়ন করা গেছে। গৃহে শিশুদের নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতেই আমি কাজ করে যাচ্ছি। সংসদে এসে এ ব্যাপারে আইন পাসের ক্ষেত্রে ভূমিকা নিয়েছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী একজন মা এবং নারী হওয়ায় তিনি সবকিছু মানবিক দৃষ্টি দিয়ে দেখেন। এ জন্য অটিজমের ওপর আমরা অনেক বেশি কাজ করতে পেরেছি। শিশুদের জন্য স্কুল অবৈতনিক করা হয়েছে। এতিমদের জন্য ভাতা বাড়ানো হয়েছে। উপবৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। শিশুমৃত্যুর হার কমাতে পেরেছি। তার পরও যা করতে পারিনি, মনে হয় তা-ই আজকে আলোচনার বিষয় হওয়া উচিত।
এ ক্ষেত্রে প্রথমত আমার মনে হয়, আমরা এমন একটি দেশের নাগরিক, যেখানে আইনের অভাব নেই। কিন্তু প্রয়োগ হয় না বললেই চলে। আমি ওয়েল্ডিংসহ বিভিন্ন কারখানায় গিয়ে দেখেছি, সেখানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, গরমে মাথার ওপর ফ্যান নেই, সময়ের অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। আরও নানা সমস্যা। অথচ আইনে বলা আছে, মালিককে শ্রমিকের কাজের পরিবেশ দিতে হবে। এখানে আইনের কোনো প্রয়োগ নেই। আজকে অসংখ্য শিশু মাদকাসক্ত হয়ে যাচ্ছে। আইনের প্রয়োগ নেই। আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মেয়েদের ১৮ বছর এবং ছেলেদের ২১ বছরের আগে বিয়ে হলে তারা শাস্তির আওতায় আসবে। বিবাহটা কিন্তু বৈধ থেকে যাচ্ছে। ফলে মেয়েটি স্বামিত্বের দাবি নিয়ে শেষ পর্যন্ত টিকে যাচ্ছে। আমরা স্বীকার করি আর না করি, দেশে যৌনকর্মী আছে। তাদের সন্তানেরা সহিংসতার শিকার হচ্ছে। বঞ্চিত হচ্ছে সামাজিক সুবিধা থেকে। তাদের জন্য কিছু করার উদ্যোগ গ্রহণ করছি। আপনারাও এদিকে এগিয়ে আসুন।
আব্দুল কাইয়ুম
জেনে ভালো লাগল, তারানা হালিম শিশুদের জন্য নিজেই কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এবার শুনব সাদেকা হালিমের কাছ থেকে।
সাদেকা হালিম
তারানা হালিমকে অনেক ধন্যবাদ। কারণ, কোনো সাংসদের মুখ থেকে যৌনকর্মীদের কথা শোনা যায় না। আমরা শিশু সুরক্ষার কথা বলছি। ২০০৫ সালের মধ্যে শিশুশিক্ষার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছি। কিন্তু শিক্ষার ক্ষেত্রে যেসব শিশু ঝরে পড়ছে, তাদের ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আমরা শিশুদের এখনো সামাজিক নিরাপত্তা দিতে পারিনি। আরও একটি আতঙ্কের বিষয় হলো, যদি শিশুদের বয়সসীমা ১৮ থেকে ১৬তে নেমে আসে, তাহলে গ্রামে বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে বিপর্যয় নেমে আসবে। বিবাহের ক্ষেত্রে কাজিরা দুটো রেজিস্টার রাখেন। একটাতে তাঁরা বয়স কম হলে ১৮ লেখেন। অন্যটিতে ঠিক বয়স লেখেন। স্থানীয় সাংসদেরাও কাজিদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানেন। আইন মন্ত্রণালয়কে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে হবে।
৫৯ শতাংশ শিশুর কোনো তথ্যই আমরা জানি না। ৪১ শতাংশ শিশুর কোনো খাদ্য, আশ্রয় ও শিক্ষা নেই। সামাজের অসমতা শিশুদের বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ব্রাজিলসহ অনেক দেশের কাছাকাছি আমাদের প্রবৃদ্ধি। কিন্তু সমতাহীনতা এত বেশি যে একটা শ্রেণী আমাদের প্রবৃদ্ধিকে গ্রাস করে ফেলছে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কথা বলছি। কিন্তু আন্তর্জাতিকভাবে পুরস্কারপ্রাপ্ত আনিলা নামের এক মেধাবী অটিজম মেয়েকে একটি নামকরা ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে ভর্তি করাতে পারছি না। স্কুলের প্রধান দায়িত্বে আছেন একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষক। যেখানে দেশের প্রধানমন্ত্রী সব প্রতিবন্ধী শিশুর কথা গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছেন, সেখানে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষক তাদের স্কুলে ভর্তি করতে চাইছেন না। তাহলে অন্যদের থেকে কী আশা করা যেতে পারে, এ থেকে সেটি সহজে বোঝা যায়। লালবাগ থানায় শিশুদের ধর্ষণসহ ২৫টি ঘটনার তদন্ত করেছিলাম। তখন শিশুরা বলেছিল, ওয়ার্ড কমিশনার থাকলে আমরা কোনো কথা বলব না। কারণ, তাঁর উপস্থিতিতে সরাসরি কিছু বলতে তারা নিরাপদ বোধ করে না। এসব বিষয়ে আমাদের চোখ বন্ধ করে থাকার সময় শেষ হয়ে এসেছে।
সালমা আলী
শারীরিক ও মানসিক বিভিন্নভাবে শিশুরা নির্যাতিত হচ্ছে। আমি বিশেষভাবে দুই ধরনের শিশুর কথা বলতে চাই। ঝুঁকিপূর্ণ শিশু ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু। শিশুরা ঘরে-বাইরে সব জায়গায় ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। শিশুদের প্রতি সরকার ও মা-বাবা উভয়ের দায়িত্ব রয়েছে। কোনো শিশুকে সুরক্ষার জন্য কেস করলে তখন আবার তার পরিবার বা কমিউনিটি থেকে কেস তুলে নেওয়ার চাপ আসে। শিশু সুরক্ষার ক্ষেত্রে এটি একটি সমস্যা। শিশুর কাজের একটা বয়সসীমা নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে।
পারিবারিক সুরক্ষা আইনের নিয়মাবলি এখনো তৈরি হয়নি। এই সরকার অনেক ভালো আইন করেছে। শিশু পাচার প্রতিরোধ ও পর্নোগ্রাফির বিরুদ্ধে আইন হয়েছে। ভবঘুরে আইন হচ্ছে। ভবঘুরে নামটি পরিবর্তনের কথা বলেছি। বাল্যবিবাহের আইন আছে, সেটা মানা হচ্ছে না। আমি জনস্বার্থে মামলা করেছি। সেখানে কাবিননামার কয়েকটি জায়গায় পরিবর্তনের কথা বলেছি। বিয়ের সময় অবশ্যই ভোটার আইডি কার্ড জমা দেওয়ার কথা বলেছি। এই দুটি কাজ করতে পারলে কাজিদের বাল্যবিবাহ করানোর সুযোগ কমে যাবে। সর্বোপরি বাবা-মায়ের ভালো আচরণ থেকে শুরু করে শিশুদের কাজকর্ম ও বিনোদনের ক্ষেত্রগুলো সুরক্ষিত করতে পারলে শিশু সুরক্ষা হবে বলে আশা করি।
কাজী রিয়াজুল হক
স্বাধীনতার মাত্র দুই বছরের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শিশু ও নারীদের জন্য আইন করেছিলেন। সে সময় পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশেও এ রকম আইন ছিল না। শিশু অধিকারবিষয়ক সিআরসিতে, ২০১২ সালের প্রস্তাবিত আইনে সব জায়গায় শিশুদের বয়সসীমা ১৮ ধরা হয়েছে। হঠাৎ করে সংশ্লিষ্ট অনেকের অজান্তে কীভাবে বয়সসীমা ১৬ হলো, সেটা ভাবনার বিষয়। আমরা প্রতিটি থানায় শিশুবান্ধব কর্মকর্তা থাকার প্রস্তাব করেছি।
আমাদের দেশে শিশুকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করার বয়স নয় বছর। কিন্তু আমরা বলেছি, কোনো শিশুকে ১২ বছরের আগে হাজত বা জেলে নেওয়া যাবে না। শিশুদের সরাসরি বিচারের প্রক্রিয়ার মধ্যে আনা যাবে না। শিশুদের বিচারিক ব্যবস্থা হবে বন্ধুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশে যে শিশু উন্নয়নকেন্দ্র আছে, তার প্রাচীরের উচ্চতা কিন্তু জেলখানার প্রাচীর থেকে উঁচু। এই প্রাচীরের মধ্যে কীভাবে তার মানসিক ও শারীরিক বিচার হবে, সেটা বুঝতে কষ্ট হয়। আমার প্রস্তাব হলো, শিশুর সব প্রক্রিয়া হবে শিশুবান্ধব ও বন্ধুসুলভ।
আব্দুল কাইয়ুম
ড. শাহ আলম হয়তো বলতে পারবেন শিশুদের বিষয়ে আইন ও আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ নিশ্চিত করার কথা।
শাহ আলম
প্রথমে বলে নিই, আইন কমিশন এখনো পর্যন্ত শিশুবিষয়ক আইন নিয়ে কোনো কাজ করেনি। তবে আমাদের কিছু কাজ হয়েছে, যেগুলো পরোক্ষভাবে শিশুদের প্রভাবিত করে। আমি জনকণ্ঠ পত্রিকার একটা খবরে দেখলাম, আমাদের পথশিশুদের সংখ্যা ১০ লাখ। এই ১০ লাখ শিশু অমানবিক জীবন যাপন করছে।
প্রশ্ন হচ্ছে, এদের জন্য সরকার অতি সত্বর কী করছে। সব ক্ষেত্রে বয়সসীমা ১৮ বছর প্রযোজ্য না-ও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ১৮ বছরকে ঠিক রেখে কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরিবর্তন হতে পারে। আইন যথেষ্ট আছে। আমাদের দেশে আইনের অভাব নেই। আইনের প্রয়োগই বড় কথা। আইনের সঠিক প্রয়োগ না থাকলে শিশুদের অধিকার রক্ষা করা যাবে না।
মুমিনুন নেছা
হঠাৎ করে শিশুদের বয়সসীমা ১৬তে নেমে আশায় খুবই হতাশ হয়েছি। আরেকটি কথা শোনা যায়, ইদানীং আমাদের শিশুরা বেশি অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে। দেশে তিনটি কিশোর উন্নয়নকেন্দ্র আছে—একটি মেয়েদের, দুটি ছেলেদের। পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, বছরে ৪০০ থেকে ৫০০ ছেলেমেয়ে এই কেন্দ্রগুলোতে আসে। তাদের মধ্যে সবাই আবার অপরাধী নয়। তাহলে শিশুরা যে বেশি অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে, সেটা ঠিক নয়। গত তিন বছরে আমরা ৩৫ জন শিশুকে রক্ষা করতে পেরেছি। এর জন্য আমাদের অনেক সমস্যা হয়েছে। যেমন: আইন ও সালিশ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে অনুরোধ করে পুনর্বাসন করতে হয়েছে। তার ওপর প্রতিবন্ধী শিশুদের কেউ নিতে চায় না। ১০ লাখ পথশিশুর ব্যাপারে আমার মত হলো, এরা কোনো রকমেই পথশিশু নয়।
এদের কোনো না কোনো অভিভাবক আছেন। এর একটি বাস্তব উদাহরণ হলো, প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছর পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে উটের জকি হিসেবে ব্যবহূত ১১৫টি শিশু বাংলাদেশে ফিরে আসে। তখন তাদের প্রত্যেককেই অভিভাবকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছিল। আমাদের কমিউনিটি-ভিত্তিক শিশু সুরক্ষার কর্মসূচি নিতে হবে। এর জন্য একটা গাইডলাইন করেছিলাম। এখন সেটা কী অবস্থায় আছে জানি না। শিশুদের সুরক্ষার ব্যাপারে সবাইকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।
এহছানুর রহমান
আমাদের শিশুনীতি ও সিআরসির মধ্যে শিশু সুরক্ষার বিষয়ে আলাদা আলাদা অনুচ্ছেদ আছে। গত বছর ইউনিসেফের বিশ্ব শিশুবিষয়ক প্রতিবেদনে চারটি বিষয়ের কথা বলা হয়েছে। যেমন: শিশুদের সহিংসতা, বাল্যবিবাহ, ঝুঁকিপূর্ণ কাজে অংশগ্রহণ ও গমনাগমন (ট্রাফিকিং)। কমিউনিটি-ভিত্তিক শিশু সুরক্ষার বিষয়টি এখন জরুরি। কমিউনিটি-ভিত্তিক শিশু সুরক্ষা কী হতে পারে? কমিউনিটিতে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের সংগঠন আছে। এরা শিশুদের বিষয়ে কথা বলছে। এরা সহিংসতা, বাল্যবিবাহসহ বিভিন্ন বিষয় প্রতিরোধ করার চেষ্টা করছে। তবে এটি বড় আকারে আমাদের দেশে এখনো শুরু হয়নি।
একে একটি সামাজিক আন্দোলনের মধ্যে আনতে হবে। শিশু অধিকার ফোরামসহ বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে শিশু-সাহায্যের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কোনো ভুক্তভোগী শিশুর সাহায্য নেওয়ার জন্য যে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো থাকা দরকার, সরকারের সেটা নেই। কমিউনিটি থেকে সুরক্ষা শুরু করতে হবে। তাহলে ব্যবস্থাটি পরিবারে, নিয়োগকারী মালিকদের কাছে—সব জায়গায় পৌঁছে যাবে। সব শেষে বসয়সীমা ১৬ বছরের বিরোধিতা করছি।
এ এস এম আমানউল্লাহ
বাংলাদেশে শিশুনীতি ও আইনের সহিংসতা চলছে। ১৯৭৪ ও ২০১১ সালের শিশু আইন এবং নারী ও শিশু অধিকার আইনের মধ্যে প্রচণ্ড বৈষম্য রয়েছে। ১৯৮২ সালের আইএলও, রিয়াদ ও হাভানা সম্মেলনকে বাংলাদেশ সমর্থন করেছিল। কিন্তু এর প্রয়োগ, নীতি ও নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে না। দেশে শিশুর ক্ষেত্রে একধরনের নীতি ও আইনি সহিংসতা চলছে। থানার সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, শিশুদের জন্য পৃথক হাজতখানা নেই। বয়স্ক অপরাধীদের সঙ্গে তাদের জেলে আনা-নেওয়া করা হয়। একই সঙ্গে হাতকড়া পরানো হচ্ছে। বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায় শিশুবান্ধব বিচারব্যবস্থা চাই। নোটারি পাবলিকের বিষয়টি এখানে কেউ আনেননি। তারা অনেক শিশুর বয়স ১৮ বছরের বেশি হিসেবে প্রত্যয়ন করে। এভাবে বয়স বাড়িয়ে অনেক শিশুকে যৌন কাজে নিয়োজিত করা হয়।
এ বিষয়টি খুবই গুরুত্বের সঙ্গে সবার ভাবা উচিত। শিশুদের পর্নোগ্রাফি নিয়ে আমার একটি গবেষণায় দেখা যায়, ঢাকা শহরে মাসে দুই থেকে আড়াই কোটি টাকার পর্নোগ্রাফি শিশুরা ডাউনলোড করে। এবং স্কুলে বসে এগুলো দেখে। কথা হচ্ছে, পর্নোগ্রাফি আইন ও রুলস যেটা করা হলো, তার শিশুবান্ধব কোনো প্রয়োগ আমরা দেখতে পেলাম না। আরেকটি বিষয় হলো, দেশে প্রচুর পরিমাণে মাদক (ড্রাগস) আসছে। ইয়াবায় বাজার ছেয়ে গেছে। ইদানীং আবার সেনেগ্রাসহ নতুন নতুন ড্রাগ যুক্ত হচ্ছে ইয়াবার সঙ্গে। ঢাকায় মাসে ১০ থেকে ১২ লাখ পিস ইয়াবার চাহিদা রয়েছে। শিশুদের মধ্যে এই চাহিদা বেশি। এ ক্ষেত্রে আইন, নীতি—সবই আছে। কিন্তু প্রয়োগের অভাবে শিশুরা ইয়াবার রাজ্যে ডুবে আছে। এ থেকে পরিত্রাণের জন্য এখনই আমাদের গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করতে হবে। তা না হলে আমরা বড় রকমের সংকটের মুখে পড়ে যাব।
এম এম আমিনুল ইসলাম
অন্যদের মতো শিশুদের বয়সসীমা ১৬ বছর কোনোভাবে মানি না। শিশু সুরক্ষার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বলতে চাই, জাতীয় ও কমিউনিটি পর্যায়ে দুই জায়গাতেই বাংলাদেশে আদৌ শিশু সুরক্ষার কোনো ব্যবস্থা আছে কি না, সেটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। যদি প্রশ্ন করি, কে শিশুদের সুরক্ষার বিষয়টি দেখে? মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়? সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়? না স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়? এই প্রশ্নের সঠিক কোনো উত্তর পাওয়া যাবে না।
জাতীয় নারী ও শিশুবিষয়ক পরিষদমণ্ডলী আছে। আমার জানামতে, গত দুই বছর সেখানে কোনো সভা হয়নি। আর ওই পরিষদের ৯০ শতাংশ কথা হয় নারীকে নিয়ে। তারপর শিশুদের কথা আসে। যে কারণে শিশুদের বয়স যখন ১৮ থেকে ১৬ হয়ে যায়, তখন নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি সেটা জানতে পারেন না। বাজেটের ১২ থেকে ১৫ শতাংশ সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ। এখানেও শিশুদের জন্য কিছু নেই। মাত্র শূন্য দশমিক ৬৭ শতাংশ শিশুর জন্য বরাদ্দ। দারিদ্র্যের জন্য বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম হয়। দারিদ্র্য বিমোচনে বরাদ্দ পর্যাপ্ত নেই। সবকিছু মিলিয়ে শিশুদের বিষয়টি সর্বক্ষেত্রে দৃষ্টির আড়ালে রয়ে গেছে।
আব্দুল কাইয়ুম
এবার গণমাধ্যমে শিশুদের সমস্যা ও প্রতিকারের প্রতিফলন কতটুকু ঘটে, সে বিষয়ে বলবেন সুমনা শারমীন। নারী-শিশু বিষয়ে তাঁর অনেক লেখা বেরিয়েছে।
সুমনা শারমীন
আমাদের ফিচার পাতায় শিশুদের জন্য অনেক কিছু থাকে। দরকার হলে আরও কিছু করতে পারি। কিন্তু মূল পাতায় তেমন কিছু থাকে না। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, সব পত্রিকা মিলে মূল পাতায় শিশুদের জন্য খবর থাকে ৩ শতাংশ। এগুলো আবার সব দুর্ঘটনাজনিত খবর। যেমন: কেউ পানিতে পড়ে গেছে; কাউকে সাপে কেটেছে; কেউ অপরাধ ও সহিংসতার শিকার; কেউ আবার অগ্নিদগ্ধ ইত্যাদি। অর্থাৎ শিশুকে খবর হতে হলে হয় তাকে অপরাধী হতে হবে, অথবা মানবিক বিপর্যয়ে পড়তে হবে। এমন মন খারাপ করা খবর আমরা ছাপতে চাই না। ইদানীং শিশুদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের মতো খুব স্পর্শকাতর খবর ছাপতে হচ্ছে। এখন শিশুরা হয়েছে মুক্তিপণের পণ্য। তার অপরাধ? অপরাধ হলো, বাবা মধ্যপ্রাচ্য থেকে কিছু টাকা এনেছেন। অপরাধ হলো, বাবার সঙ্গে জমিজমা নিয়ে পাশের বাড়ির বিরোধ। অপরাধ হলো, শিক্ষক তাকে পড়াতেন। অপরাধ হলো, বাবার ঢাকা শহরে বাড়ি আছে। তিনি অনেক টাকা ভাড়া পান। এ রকম অনেক ঘটনা আছে।
এসব খবর ছাপার সময় ভীষণ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ি। কারণ, এদের ছবি ছাপা যায় না। মা-বাবার সঙ্গে কথা বলা যায় না। তাঁরা চিৎকার করে সন্তানের জন্য আহাজারি করতে থাকেন। শুধু সাধারণ মানুষই নয়, সাংবাদিক এবং পুলিশও এই নৃশংসতার বাইরে নয়। আমাদেরই এক সাংবাদিকের বোনের সন্তানকে অপহরণ করা হয়েছে। এই পরিবারে পুলিশের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আছেন। সাংবাদিক, পুলিশ—সবাই খুঁজতে খুঁজতে হয়রান। কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। শুধু ফোন করে বলছে, এখানে টাকা রেখে যাও, ওখানে টাকা রেখে যাও। টাকাও রাখা হচ্ছে, কিন্তু শিশু ফিরে আসছে না। পরদিন একটি কবরস্থানে তাকে এমনভাবে পাওয়া গেল যে শিশুটি আর কোনো দিন মায়ের দিকে চোখ তুলে তাকাবে না। আমরা খুব কাছ থেকে এই পরিবারটির হাহাকার দেখেছি। দেখেছি সন্তান হারানোর কী বেদনা! শিশু সুরক্ষার বিষয়ে অনেক কথা হয়েছে। আমি মনে করি, অন্যদের মতো সাংবাদিকদেরও এ ক্ষেত্রে অনেক দায়িত্ব রয়েছে। আমরা প্রথম আলো এ ক্ষেত্রে কিছু নীতিমালা মেনে চলার চেষ্টা করি।
সারা যাকের
শিশু সুরক্ষা ও করণীয় নিয়ে আলোচনা শুনলাম। ১৯৭৪ সালে আমাদের দেশে শিশু সুরক্ষার আইন ছিল। আবার ২০১২ সালে নতুন করে হবে। আইন, নীতি, নিয়ম—সবই প্রয়োজন। এবং সেটা আছেও। শুধু নেই প্রয়োগ। এর সঙ্গে যুক্ত করতে চাই অ্যাডভোকেসি ও সচেতনতা। দেশব্যাপী শিশু সুরক্ষার বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি জোরদার করতে হবে। তাহলে মানুষ এসব বিষয়ে জানতে ও বুঝতে পারবে।
এ ক্ষেত্রে শিশুদের প্রতি সহিংসতা কমে আসবে। পাশাপাশি সুরক্ষা জোরদার হবে। আরেকটি বড় বিষয় হলো, শিশুদের মাদক গ্রহণ, অপব্যবহার, পর্নোগ্রাফি, সহিংসতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ হচ্ছে। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত এগুলো সামাজিক আন্দোলন হিসেবে সামনে না আসবে, ততক্ষণ ফলপ্রসূ কিছু অর্জিত হবে না। আমি মনে করি, সেভ দ্য চিলড্রেন ও অন্য যারা কাজ করছে, সে ক্ষেত্রে কাজের পরিধি বাড়বে। কিন্তু এই অবস্থার পরিবর্তনের জন্য দরকার সামাজিক আন্দোলন।
মেহতাব খানম
বারবার শুধু সন্তানদের সঙ্গে মা-বাবার সম্পর্কোন্নয়নের কথা বলি। আমার কাছে মনে হয়, পরিবারই সব। আমাকেসহ সব বাবা-মাকে বলতে চাই, আমরা মা-বাবা হওয়ার যোগ্যতা রাখি কি না। চাল-চুলা নেই, এমন মা-বাবা পাঁচ থেকে সাতটি সন্তান পৃথিবীতে এনেছেন। প্রত্যেক সন্তানকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে দিয়ে নিজেদের আয়ের হাতিয়ার বানিয়েছেন। শুধু দরিদ্ররা নয়, সবাই নিজেদের স্বার্থে পৃথিবীতে সন্তান এনেছি। নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য তাদের ব্যবহার করছি। এই দেশটা মোটেই শিশুবান্ধব নয়। এটা প্রাপ্তবয়স্কদের দেশ।
সম্প্রতি মেঘ নামের মেয়েটিকে গণমাধ্যম যেভাবে ব্যবহার করেছে, সে ক্ষেত্রে তাদের ওপর ন্যূনতম আস্থা রাখার কোনো কারণ নেই। আজকে শিশুর বয়স ১৬ না ১৮, এটা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আমার তো মনে হয়, সবাই আমরা শিশুর মতো আচরণ করছি। বয়স ১৬ ও ১৮-এর মধ্যে অবশ্য আমি কোনো পার্থক্য দেখি না। আমাদের বিত্তবান ব্যক্তিরা বাড়াবাড়ি রকমের আদর-আহ্লাদ দিয়ে সন্তানদের বড় করছেন। এই সন্তানেরা ২০-২২ বছর পর্যন্ত শিশু থেকে যাচ্ছে। শিশুবান্ধব কর্মকর্তা প্রসঙ্গে আমার মত হলো, এদের অন্য গ্রহ থেকে আনতে হবে। সংসারে একজন নারী যখন স্বামী বা শাশুড়ির দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছেন, তখন ওই নারী তাঁর সন্তানকে মেরে সব প্রতিশোধ নিচ্ছেন। শিশু সুরক্ষার জন্য অভিভাবকদের আইনের আওতায় আনতে হবে। সবশেষে বলব, গুড প্যারেন্টিংয়ের কোনো বিকল্প নেই।
কাজী জিয়াউদ্দিন
আমাদের দেশে দিনের শেষে সব অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে যায়। অভিযোগ স্বীকার করেই কথা বলছি। একটি বিষয় হলো, যেখানে আইন বেশি, সেখানে আইন ভাঙার প্রবণতাও বেশি। আজকে মানবতা, সভ্যতা, শিক্ষা, শিল্প, সংস্কৃতি—সবকিছু বাণিজ্যিকীকরণ হয়েছে। সবকিছু থেকে সুবিধা খুঁজতে গিয়ে আমাদের আসল কাজ হচ্ছে না। মধ্যযুগের এক কবি বলেছিলেন, ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে’। আমাদের সন্তানকে দুধে-ভাতে রাখতে হলে সব ক্ষেত্রে একটা ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হবে। পরিবর্তন আনার জন্য সবার আগে নিজেদের পরিবর্তন করতে হবে। পরিবর্তিত হওয়ার জন্য আমাদের আচরণ, শিক্ষা, ব্যক্তিত্ব, অর্থাৎ সম্পূর্ণ মানসকাঠামোর পরিবর্তন করতে হবে। আমরা ভালো মানুষ হলে আমাদের শিশুরা হবে আলোকিত শিশু। সমাজের সব স্তর থেকে ভালো মানুষ হওয়ার ধ্বনি উচ্চারিত না হলে ভালো হওয়া সম্ভব নয়। আমাদের শিশুরা রূপকথার সিনডারেলার মতো উপেক্ষিত।
এ অবস্থা থেকে তাদের মুক্ত করার জন্য সমাজের সব শ্রেণী-পেশার মানুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে, হাতে হাত রেখে এগিয়ে আসতে হবে। কারও একার পক্ষে এটা করা সম্ভব নয়। শিশুদের বহুমুখী সমস্যা। একটা একটা করে সমস্যা চিহ্নিত করতে হবে এবং সমাধানের জন্য সমাজের বিত্তবানদের সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। সিঙ্গাপুরে শিশুদের স্কুলে লাইফ স্কিল প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। জাপানে অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের মাদার ক্লাব আছে। শিশুরা পৃথিবীতে আসার আগেই এখান থেকে মায়েরা শিশুর পরিচর্যা শিখে নেন। শিশু স্কুলে যাওয়া পর্যন্ত ক্লাবের নির্দেশাবলি মেনে চলার শিক্ষা দেওয়া হয়। শিশুরা সমাজে কত মহিমান্বিত, আমরা সেটা বুঝতে পারি না। আমাদের সমাজবোধের মধ্যে এটা নেই। ওয়ার্ডস ওয়ার্থ শিশুদের মধ্যে দেখেছিলেন ‘স্বর্গীয় দ্যুতি’। বিদেশে অনেক জায়গায় শিশুদের ‘ঈশ্বরের দূত’, ‘শান্তির বার্তাবাহক’ ইত্যদি বলে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ এক জায়গায় বলেছিলেন, ‘প্রতিটি শিশু জানান দিয়ে যাচ্ছে যে আমি একটি নতুন পৃথিবী সৃষ্টি করতে যাচ্ছি।’ শিশুদের এই ধারণাগুলো মাথায় নিয়ে সুশীল সমাজ, বিত্তবান মানুষেরা, গণমাধ্যম—সবাই যদি একসঙ্গে কাজ করি, তাহলে এই সংকট থেকে উত্তরণ হওয়া অসম্ভব নয়। কারণ, শিশুদের সমস্যা এখনো আমাদের নিয়ন্ত্রণসীমাকে অতিক্রম করেনি। একজন দার্শনিক বলেছিলেন, মানুষের কোনো পরাজয় নেই। সবাইকে আশাবাদী হতে হবে। শেষ করতে চাই বঙ্গবন্ধুর উচ্চারণ দিয়ে, ‘এটা অন্ধকার থেকে আলোর পথে যাত্রা। বিপন্নতা থেকে ঘরে ফেরার যাত্রা। বন্দিত্ব থেকে মুক্তির পথে যাত্রা। সঠিক জীবন গড়ার জন্য প্রতিটি পদক্ষেপ হবে একসঙ্গে।’
আব্দুল কাইয়ুম
আজকে সব মন্ত্রণালয়ের সভা ছিল। উপসচিব মো. ওমর ফারুক হয়তো কষ্ট করেই আজকের আলোচনায় এসেছেন। এখন তাঁর কাছ থেকে শুনব।
মো. ওমর ফারুক
শিশু সুরক্ষার বিষয়টি আমাদের মন্ত্রণালয়ের বিষয়। শিশু আইনও আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে তৈরি করা হয়। আমরা অনেক সময় ও শ্রম ব্যয় করে শিশু আইনের বিষয়গুলো তৈরি করেছিলাম। এটি ছিল যুগোপযোগী ও আধুনিক। এ আইনে আমরা ৮০টি ধারা সংযোজন করেছিলাম। কিন্তু শেষ রক্ষা করতে পারিনি। তবে আমাদের মন্ত্রণালয়ে এটার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। আমরা একটি তুলনামূলক বিবরণী তৈরি করছি। মূল বিষয়টি সামনে আনতে ছয় মাসের মতো সময় লাগবে। আমাদের কাছে যেটা ফেরত এসেছে, সেখানে ১০০ ধারা আছে। বয়সসহ আমাদের পাঠানো ধারার অনেক কিছু পরিবর্তন করে ফেলেছে।
আমরা কোনোক্রমেই বয়সসীমা ১৮-এর নিচে নামাব না। আমরা কয়েক দিন আগে ভবঘুরে ও নিরাশ্রয় আইন করেছি। সেখানেও শিশুদের বয়স ১৮ রেখেছি। শিশু সুরক্ষা ও করণীয় বিষয়ে আমাদের আইনে কিছু বলা নেই। তবে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ১৩টি কারণ বলা আছে। মাতৃগর্ভ থেকে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত একজন মানুষ শিশু থাকে। একা সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ২০৫টি শিশুসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান আমাদের অধীনে রয়েছে। ৮৫টি শিশু পরিবার আছে। ১০ লাখ পথশিশুর কথা বলা হয়েছে। এই হিসাবটি ঠিক নয়। কারণ, ছয়টি বিভাগীয় শহরে ছয়টি শিশু বিকাশকেন্দ্র আছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ২৫০ জনের থাকার ব্যবস্থা আছে। কিন্তু শিশু পাওয়া যাচ্ছে না। ইউনিয়ন পর্যায়ে আমাদের সামাজিক কর্মী আছেন। তাঁদের বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিশু সুরক্ষায় কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছি। আমার শেষ কথা হলো, শুধু সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় নয়, সবাই মিলে শিশু সুরক্ষার একটি বলয় তৈরি করতে হবে।
মেহের আফরোজ চুমকি
শিশুরা যাতে সমস্যায় না পড়ে, সেই জায়গাগুলো ঠিক করতে হবে। উন্নত বিশ্বের মতো অভিভাবকদের আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা করতে হবে। অভিভাবকেরা সচেতন হলে শিশুর সুরক্ষা অনেকাংশে নিশ্চিত হয়। গরিব মা-বাবার সামর্থ্য নেই পাঁচ থেকে সাতটি সন্তান লালন-পালনের। প্রত্যেক সন্তান ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করে মা-বাবাকে টাকা দিচ্ছে। এই মা-বাবার আইনের আওতায় আসা উচিত। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি—সব ক্ষেত্রে শিশুরা যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে। ব্রেস্ট ফিডিংয়ে আমরা লক্ষ্যমাত্রা থেকে বেশি এগিয়েছি। শিশুর বয়স ১৬ হওয়ায় আমি নিজে বিস্মিত হয়েছি। এ ব্যাপারে জোরালো প্রতিবাদ করব। শিশুরা যেন আগামী দিনে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে পারে, তার জন্য যা যা দরকার, তার সবকিছু করার চেষ্টা করব।
আব্দুল কাইয়ুম
আপনারা সবাই দীর্ঘ সময় নিয়ে শিশু সুরক্ষা ও করণীয় বিষয়ে মূল্যবান আলোচনা করেছেন। আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা ও তথ্য উঠে এসেছে। সবাইকে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
মেহের আফরোজ চুমকি
সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ
তারানা হালিম
সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ
নায়োমি কাননানগারা
পরিচালক, শিশু সুরক্ষা, সেভ দ্য চিলড্রেন
কাজী রিয়াজুল হক
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান
শাহ আলম
চেয়ারম্যান, আইন কমিশন
সাদেকা হালিম
সদস্য, তথ্য অধিকার কমিশন
এ এস এম আমানউল্লাহ
অধ্যাপক সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
মো. ওমর ফারুক
উপসচিব, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়
কাজী জিয়াউদ্দিন
সহকারী মহাপরিদর্শক, পুলিশ হেড কোয়ার্টার্স
মেহতাব খানম
অধ্যাপক, মনোবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সালমা আলী
নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি
সারা যাকের
নাট্যব্যক্তিত্ব, প্রকল্প পরিচালক, সিসিমপুর
মুমিনুন নেছা
ভিকটিম সাপোর্ট এক্সপার্ট, পুলিশ রিফর্ম প্রোগ্রাম, ইউএনডিপি
এহছানুর রহমান
সহসভাপতি, বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম
এম এম আমিনুল ইসলাম
শিশু সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ, ইউনিসেফ বাংলাদেশ
এ কে এম মাসুদ আলী
নির্বাহী পরিচালক, ইনসিডিন
সুমনা শারমীন
সাংবাদিক
সঞ্চালক
আব্দুল কাইয়ুম: যুগ্ম সম্পাদক, প্রথম আলো
আলোচনা
আব্দুল কাইয়ুম
বিশ্বের প্রায় সব দেশেই কমবেশি শিশু নির্যাতন হয়ে থাকে। আমাদের মতো দেশগুলোতে শিশুরা অতিমাত্রায় নির্যাতিত হয়। নানা সমস্যার মধ্যে শিশুদের দিন কাটে। শিশুরা গৃহে, কর্মক্ষেত্রে নির্যাতিত হচ্ছে। তাদের খেলার মাঠ নেই, টেলিভিশনে বিনোদনের সুযোগ নেই। ‘ডরিমন’ কার্টুন দেখে তারা হিন্দিতে কথা বলতে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে, অথচ এত সুন্দর এবং শিশুদের জন্য আকর্ষণীয় কার্টুনটি বাংলায় করা হচ্ছে না। এক কথায়, শিশুদের বেড়ে ওঠার উপযুক্ত পরিবেশ আমরা দিতে পারছি না। এ বিষয়ে আজ আলোচনা হবে। প্রথমে আলোচনার জন্য মেহের আফরোজ চুমকিকে অনুরোধ করছি।
মেহের আফরোজ চুমকি
শিশুদের কথা বললে একটি সুন্দর বাংলাদেশের চিত্র ভেসে ওঠে। দেশের মোট জনসংখ্যার ৪৫ শতাংশ শিশু। সংবিধানের ২৮(৪) ধারায় সব ধর্ম-বর্ণের শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।
আজকের প্রথম আলোয় একটা সংবাদ দেখলাম, শিশু আইনের খসড়ায় শিশুর বয়স ১৮ থেকে কমিয়ে ১৬ করা হয়েছে। আমি খুবই বিস্মিত হয়েছি। আমি শিশুদের নিয়ে কাজ করছি এবং মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান। আমি বিষয়টি দেখব। শিশুদের বয়সসীমা ১৬ বছর থাকলে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এখানে অনেক বিশেষজ্ঞ আছেন, তাঁরা এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করবেন। এই আলোচনা থেকে অনেক দিকনির্দেশনা বেরিয়ে আসবে এবং এর আলোকে আমরা আমাদের কর্মপরিকল্পনা ঠিক করব।
আব্দুল কাইয়ুম
আন্তর্জাতিক ও বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে এবার বলবেন নায়োমি কাননানগারা।
নায়োমি কাননানগারা
ভালো লাগছে যে আপনারা শিশু সুরক্ষার বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন। আর এই অনুষ্ঠানে আমি উপস্থিত থাকতে পেরে আনন্দিত বোধ করছি। আজকের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলতে চাই, দীর্ঘদিন ধরে সেভ দ্য চিলড্রেন বিশ্বব্যাপী শিশুদের সুরক্ষার ব্যাপারে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে, ১৯৮৯ সালের জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদে শিশুদের অপব্যবহার, শোষণ, বঞ্চনা, সহিংসতা ইত্যাদি ক্ষেত্রে কীভাবে তাদের রক্ষা করতে হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলা হয়েছে। সেভ দ্য চিলড্রেন বিশ্বে শিশু সুরক্ষার ব্যাপারে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করে আসছে। আমরা দুই ধরনের কাজ করি।
আমরা সব ধরনের নির্যাতন, শোষণ, অবহেলা ও বৈষম্য থেকে শিশুদের প্রতিরোধ করার জন্য কাজ করে থাকি এবং প্রয়োজনে সাড়া দিয়ে থাকি। এ ছাড়া জরুরি অবস্থায় শিশুদের নির্যাতন, সহিংসতা ও অপব্যবহার থেকে রক্ষা করার জন্য কাজ করে থাকি। শিশুদের জন্য যে আন্তর্জাতিক সনদ আছে, সব দেশ সেটা মেনে চলে। বাংলাদেশও শিশু সুরক্ষার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। আমরা এবং বাংলাদেশ সরকার সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করলে এ ক্ষেত্রে ব্যাপক সফলতা অর্জন করা সম্ভব। আমরা কীভাবে সরকারের সঙ্গে কাজ করব, তার ভালো উপায় খুঁজছি। কারণ, আমরা বিশ্বাস করি, একসঙ্গে কাজ করলে কমিউনিটি স্তরে নির্যাতন, সহিংসতাসহ সব দিক থেকে শিশুদের রক্ষা করা সম্ভব হবে।
এভাবে কমিউনিটি থেকে কাজ করতে করতে আমরা জাতীয় পর্যায়ে পরিবর্তন আনতে পারব। আমি বিশ্বাস করি, আজকের আলোচনা বাংলাদেশের শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে সাহায্য করবে। বাংলাদেশে সেভ দ্য চিলড্রেন দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করছে এবং করে যাবে।
এ কে এম মাসুদ আলী
আমাদের দেশে শিশুদের জন্য কিছু আইন আছে। এ আইন আসলে শিশু সনদের প্রতিফলন। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে সাইভাক নামে শিশুদের জন্য একটি আঞ্চলিক সংগঠন গড়ে উঠেছে। আফগানিস্তানসহ এই সংগঠনের সব দেশ বলছে যে তারা সব ধরনের শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে আইনি উদ্যোগ গ্রহণের জন্য একমত পোষণ করেছে। অন্যদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব নিজ উদ্যোগে বিশ্বে শিশুদের অবস্থা কী, সে বিষয়ে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন। এটা হচ্ছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক অবস্থা নির্ধারণের জন্য একটি মাইলফলক গবেষণা।
আজকে বিশ্বায়ন নৈতিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। প্রযুক্তিকে সাংস্কৃতিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে উন্মুক্ত করেছে। কিন্তু তাকে নিয়ন্ত্রণ করেনি। দেশীয় একটি শিশু প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্ব পরিমণ্ডলের সাইবার বা কাল্পনিক জগতে প্রবেশ করছে। তাদের অনেকে অনৈতিক বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। এতে শিশুদের মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় হচ্ছে। রাষ্ট্র, সংগঠন, এমনকি জাতিসংঘ—কেউ এই বিষয়কে নিয়ন্ত্রণ করেনি। তবে এখানে আশার কথা হলো, এখন বিশ্বব্যাপী শিশুরা সংগঠিত হচ্ছে। শুধু আইন ও রাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার সময় শেষ হয়েছে। এখন শিশুদের পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য সামাজিক আন্দোলনের চাহিদা তৈরি হয়েছে। এই সামাজিক আন্দোলন ছাড়া রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও বড় সংগঠন কাউকে কাছে পাওয়া যাবে না। সেভ দ্য চিলড্রেনকে ধন্যবাদ জানাব একটি সামাজিক পরিসরে বিষয়টি আলোচনার আয়োজন করার জন্য।
আব্দুল কাইয়ুম
তারানা হালিম শিশুদের নিয়ে অনেক কাজ করেছেন, তাঁকে বলার জন্য অনুরোধ করছি।
তারানা হালিম
শিশুদের জন্য অনেক কিছু করার আছে। সংসদে থাকায় শিশুদের নিয়ে আমার নিজস্ব কিছু ভাবনা কাজে লাগাতে পারছি। যেমন: আমার একটি দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল স্কুল ফিডিং কর্মসূচির। স্বল্প পরিসরে হলেও সেটা বাস্তবায়ন করা গেছে। গৃহে শিশুদের নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতেই আমি কাজ করে যাচ্ছি। সংসদে এসে এ ব্যাপারে আইন পাসের ক্ষেত্রে ভূমিকা নিয়েছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী একজন মা এবং নারী হওয়ায় তিনি সবকিছু মানবিক দৃষ্টি দিয়ে দেখেন। এ জন্য অটিজমের ওপর আমরা অনেক বেশি কাজ করতে পেরেছি। শিশুদের জন্য স্কুল অবৈতনিক করা হয়েছে। এতিমদের জন্য ভাতা বাড়ানো হয়েছে। উপবৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। শিশুমৃত্যুর হার কমাতে পেরেছি। তার পরও যা করতে পারিনি, মনে হয় তা-ই আজকে আলোচনার বিষয় হওয়া উচিত।
এ ক্ষেত্রে প্রথমত আমার মনে হয়, আমরা এমন একটি দেশের নাগরিক, যেখানে আইনের অভাব নেই। কিন্তু প্রয়োগ হয় না বললেই চলে। আমি ওয়েল্ডিংসহ বিভিন্ন কারখানায় গিয়ে দেখেছি, সেখানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, গরমে মাথার ওপর ফ্যান নেই, সময়ের অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। আরও নানা সমস্যা। অথচ আইনে বলা আছে, মালিককে শ্রমিকের কাজের পরিবেশ দিতে হবে। এখানে আইনের কোনো প্রয়োগ নেই। আজকে অসংখ্য শিশু মাদকাসক্ত হয়ে যাচ্ছে। আইনের প্রয়োগ নেই। আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মেয়েদের ১৮ বছর এবং ছেলেদের ২১ বছরের আগে বিয়ে হলে তারা শাস্তির আওতায় আসবে। বিবাহটা কিন্তু বৈধ থেকে যাচ্ছে। ফলে মেয়েটি স্বামিত্বের দাবি নিয়ে শেষ পর্যন্ত টিকে যাচ্ছে। আমরা স্বীকার করি আর না করি, দেশে যৌনকর্মী আছে। তাদের সন্তানেরা সহিংসতার শিকার হচ্ছে। বঞ্চিত হচ্ছে সামাজিক সুবিধা থেকে। তাদের জন্য কিছু করার উদ্যোগ গ্রহণ করছি। আপনারাও এদিকে এগিয়ে আসুন।
আব্দুল কাইয়ুম
জেনে ভালো লাগল, তারানা হালিম শিশুদের জন্য নিজেই কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এবার শুনব সাদেকা হালিমের কাছ থেকে।
সাদেকা হালিম
তারানা হালিমকে অনেক ধন্যবাদ। কারণ, কোনো সাংসদের মুখ থেকে যৌনকর্মীদের কথা শোনা যায় না। আমরা শিশু সুরক্ষার কথা বলছি। ২০০৫ সালের মধ্যে শিশুশিক্ষার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছি। কিন্তু শিক্ষার ক্ষেত্রে যেসব শিশু ঝরে পড়ছে, তাদের ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আমরা শিশুদের এখনো সামাজিক নিরাপত্তা দিতে পারিনি। আরও একটি আতঙ্কের বিষয় হলো, যদি শিশুদের বয়সসীমা ১৮ থেকে ১৬তে নেমে আসে, তাহলে গ্রামে বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে বিপর্যয় নেমে আসবে। বিবাহের ক্ষেত্রে কাজিরা দুটো রেজিস্টার রাখেন। একটাতে তাঁরা বয়স কম হলে ১৮ লেখেন। অন্যটিতে ঠিক বয়স লেখেন। স্থানীয় সাংসদেরাও কাজিদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানেন। আইন মন্ত্রণালয়কে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে হবে।
৫৯ শতাংশ শিশুর কোনো তথ্যই আমরা জানি না। ৪১ শতাংশ শিশুর কোনো খাদ্য, আশ্রয় ও শিক্ষা নেই। সামাজের অসমতা শিশুদের বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ব্রাজিলসহ অনেক দেশের কাছাকাছি আমাদের প্রবৃদ্ধি। কিন্তু সমতাহীনতা এত বেশি যে একটা শ্রেণী আমাদের প্রবৃদ্ধিকে গ্রাস করে ফেলছে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কথা বলছি। কিন্তু আন্তর্জাতিকভাবে পুরস্কারপ্রাপ্ত আনিলা নামের এক মেধাবী অটিজম মেয়েকে একটি নামকরা ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে ভর্তি করাতে পারছি না। স্কুলের প্রধান দায়িত্বে আছেন একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষক। যেখানে দেশের প্রধানমন্ত্রী সব প্রতিবন্ধী শিশুর কথা গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছেন, সেখানে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষক তাদের স্কুলে ভর্তি করতে চাইছেন না। তাহলে অন্যদের থেকে কী আশা করা যেতে পারে, এ থেকে সেটি সহজে বোঝা যায়। লালবাগ থানায় শিশুদের ধর্ষণসহ ২৫টি ঘটনার তদন্ত করেছিলাম। তখন শিশুরা বলেছিল, ওয়ার্ড কমিশনার থাকলে আমরা কোনো কথা বলব না। কারণ, তাঁর উপস্থিতিতে সরাসরি কিছু বলতে তারা নিরাপদ বোধ করে না। এসব বিষয়ে আমাদের চোখ বন্ধ করে থাকার সময় শেষ হয়ে এসেছে।
সালমা আলী
শারীরিক ও মানসিক বিভিন্নভাবে শিশুরা নির্যাতিত হচ্ছে। আমি বিশেষভাবে দুই ধরনের শিশুর কথা বলতে চাই। ঝুঁকিপূর্ণ শিশু ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু। শিশুরা ঘরে-বাইরে সব জায়গায় ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। শিশুদের প্রতি সরকার ও মা-বাবা উভয়ের দায়িত্ব রয়েছে। কোনো শিশুকে সুরক্ষার জন্য কেস করলে তখন আবার তার পরিবার বা কমিউনিটি থেকে কেস তুলে নেওয়ার চাপ আসে। শিশু সুরক্ষার ক্ষেত্রে এটি একটি সমস্যা। শিশুর কাজের একটা বয়সসীমা নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে।
পারিবারিক সুরক্ষা আইনের নিয়মাবলি এখনো তৈরি হয়নি। এই সরকার অনেক ভালো আইন করেছে। শিশু পাচার প্রতিরোধ ও পর্নোগ্রাফির বিরুদ্ধে আইন হয়েছে। ভবঘুরে আইন হচ্ছে। ভবঘুরে নামটি পরিবর্তনের কথা বলেছি। বাল্যবিবাহের আইন আছে, সেটা মানা হচ্ছে না। আমি জনস্বার্থে মামলা করেছি। সেখানে কাবিননামার কয়েকটি জায়গায় পরিবর্তনের কথা বলেছি। বিয়ের সময় অবশ্যই ভোটার আইডি কার্ড জমা দেওয়ার কথা বলেছি। এই দুটি কাজ করতে পারলে কাজিদের বাল্যবিবাহ করানোর সুযোগ কমে যাবে। সর্বোপরি বাবা-মায়ের ভালো আচরণ থেকে শুরু করে শিশুদের কাজকর্ম ও বিনোদনের ক্ষেত্রগুলো সুরক্ষিত করতে পারলে শিশু সুরক্ষা হবে বলে আশা করি।
কাজী রিয়াজুল হক
স্বাধীনতার মাত্র দুই বছরের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শিশু ও নারীদের জন্য আইন করেছিলেন। সে সময় পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশেও এ রকম আইন ছিল না। শিশু অধিকারবিষয়ক সিআরসিতে, ২০১২ সালের প্রস্তাবিত আইনে সব জায়গায় শিশুদের বয়সসীমা ১৮ ধরা হয়েছে। হঠাৎ করে সংশ্লিষ্ট অনেকের অজান্তে কীভাবে বয়সসীমা ১৬ হলো, সেটা ভাবনার বিষয়। আমরা প্রতিটি থানায় শিশুবান্ধব কর্মকর্তা থাকার প্রস্তাব করেছি।
আমাদের দেশে শিশুকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করার বয়স নয় বছর। কিন্তু আমরা বলেছি, কোনো শিশুকে ১২ বছরের আগে হাজত বা জেলে নেওয়া যাবে না। শিশুদের সরাসরি বিচারের প্রক্রিয়ার মধ্যে আনা যাবে না। শিশুদের বিচারিক ব্যবস্থা হবে বন্ধুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশে যে শিশু উন্নয়নকেন্দ্র আছে, তার প্রাচীরের উচ্চতা কিন্তু জেলখানার প্রাচীর থেকে উঁচু। এই প্রাচীরের মধ্যে কীভাবে তার মানসিক ও শারীরিক বিচার হবে, সেটা বুঝতে কষ্ট হয়। আমার প্রস্তাব হলো, শিশুর সব প্রক্রিয়া হবে শিশুবান্ধব ও বন্ধুসুলভ।
আব্দুল কাইয়ুম
ড. শাহ আলম হয়তো বলতে পারবেন শিশুদের বিষয়ে আইন ও আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ নিশ্চিত করার কথা।
শাহ আলম
প্রথমে বলে নিই, আইন কমিশন এখনো পর্যন্ত শিশুবিষয়ক আইন নিয়ে কোনো কাজ করেনি। তবে আমাদের কিছু কাজ হয়েছে, যেগুলো পরোক্ষভাবে শিশুদের প্রভাবিত করে। আমি জনকণ্ঠ পত্রিকার একটা খবরে দেখলাম, আমাদের পথশিশুদের সংখ্যা ১০ লাখ। এই ১০ লাখ শিশু অমানবিক জীবন যাপন করছে।
প্রশ্ন হচ্ছে, এদের জন্য সরকার অতি সত্বর কী করছে। সব ক্ষেত্রে বয়সসীমা ১৮ বছর প্রযোজ্য না-ও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ১৮ বছরকে ঠিক রেখে কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরিবর্তন হতে পারে। আইন যথেষ্ট আছে। আমাদের দেশে আইনের অভাব নেই। আইনের প্রয়োগই বড় কথা। আইনের সঠিক প্রয়োগ না থাকলে শিশুদের অধিকার রক্ষা করা যাবে না।
মুমিনুন নেছা
হঠাৎ করে শিশুদের বয়সসীমা ১৬তে নেমে আশায় খুবই হতাশ হয়েছি। আরেকটি কথা শোনা যায়, ইদানীং আমাদের শিশুরা বেশি অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে। দেশে তিনটি কিশোর উন্নয়নকেন্দ্র আছে—একটি মেয়েদের, দুটি ছেলেদের। পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, বছরে ৪০০ থেকে ৫০০ ছেলেমেয়ে এই কেন্দ্রগুলোতে আসে। তাদের মধ্যে সবাই আবার অপরাধী নয়। তাহলে শিশুরা যে বেশি অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে, সেটা ঠিক নয়। গত তিন বছরে আমরা ৩৫ জন শিশুকে রক্ষা করতে পেরেছি। এর জন্য আমাদের অনেক সমস্যা হয়েছে। যেমন: আইন ও সালিশ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে অনুরোধ করে পুনর্বাসন করতে হয়েছে। তার ওপর প্রতিবন্ধী শিশুদের কেউ নিতে চায় না। ১০ লাখ পথশিশুর ব্যাপারে আমার মত হলো, এরা কোনো রকমেই পথশিশু নয়।
এদের কোনো না কোনো অভিভাবক আছেন। এর একটি বাস্তব উদাহরণ হলো, প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছর পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে উটের জকি হিসেবে ব্যবহূত ১১৫টি শিশু বাংলাদেশে ফিরে আসে। তখন তাদের প্রত্যেককেই অভিভাবকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছিল। আমাদের কমিউনিটি-ভিত্তিক শিশু সুরক্ষার কর্মসূচি নিতে হবে। এর জন্য একটা গাইডলাইন করেছিলাম। এখন সেটা কী অবস্থায় আছে জানি না। শিশুদের সুরক্ষার ব্যাপারে সবাইকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।
এহছানুর রহমান
আমাদের শিশুনীতি ও সিআরসির মধ্যে শিশু সুরক্ষার বিষয়ে আলাদা আলাদা অনুচ্ছেদ আছে। গত বছর ইউনিসেফের বিশ্ব শিশুবিষয়ক প্রতিবেদনে চারটি বিষয়ের কথা বলা হয়েছে। যেমন: শিশুদের সহিংসতা, বাল্যবিবাহ, ঝুঁকিপূর্ণ কাজে অংশগ্রহণ ও গমনাগমন (ট্রাফিকিং)। কমিউনিটি-ভিত্তিক শিশু সুরক্ষার বিষয়টি এখন জরুরি। কমিউনিটি-ভিত্তিক শিশু সুরক্ষা কী হতে পারে? কমিউনিটিতে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের সংগঠন আছে। এরা শিশুদের বিষয়ে কথা বলছে। এরা সহিংসতা, বাল্যবিবাহসহ বিভিন্ন বিষয় প্রতিরোধ করার চেষ্টা করছে। তবে এটি বড় আকারে আমাদের দেশে এখনো শুরু হয়নি।
একে একটি সামাজিক আন্দোলনের মধ্যে আনতে হবে। শিশু অধিকার ফোরামসহ বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে শিশু-সাহায্যের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কোনো ভুক্তভোগী শিশুর সাহায্য নেওয়ার জন্য যে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো থাকা দরকার, সরকারের সেটা নেই। কমিউনিটি থেকে সুরক্ষা শুরু করতে হবে। তাহলে ব্যবস্থাটি পরিবারে, নিয়োগকারী মালিকদের কাছে—সব জায়গায় পৌঁছে যাবে। সব শেষে বসয়সীমা ১৬ বছরের বিরোধিতা করছি।
এ এস এম আমানউল্লাহ
বাংলাদেশে শিশুনীতি ও আইনের সহিংসতা চলছে। ১৯৭৪ ও ২০১১ সালের শিশু আইন এবং নারী ও শিশু অধিকার আইনের মধ্যে প্রচণ্ড বৈষম্য রয়েছে। ১৯৮২ সালের আইএলও, রিয়াদ ও হাভানা সম্মেলনকে বাংলাদেশ সমর্থন করেছিল। কিন্তু এর প্রয়োগ, নীতি ও নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে না। দেশে শিশুর ক্ষেত্রে একধরনের নীতি ও আইনি সহিংসতা চলছে। থানার সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, শিশুদের জন্য পৃথক হাজতখানা নেই। বয়স্ক অপরাধীদের সঙ্গে তাদের জেলে আনা-নেওয়া করা হয়। একই সঙ্গে হাতকড়া পরানো হচ্ছে। বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায় শিশুবান্ধব বিচারব্যবস্থা চাই। নোটারি পাবলিকের বিষয়টি এখানে কেউ আনেননি। তারা অনেক শিশুর বয়স ১৮ বছরের বেশি হিসেবে প্রত্যয়ন করে। এভাবে বয়স বাড়িয়ে অনেক শিশুকে যৌন কাজে নিয়োজিত করা হয়।
এ বিষয়টি খুবই গুরুত্বের সঙ্গে সবার ভাবা উচিত। শিশুদের পর্নোগ্রাফি নিয়ে আমার একটি গবেষণায় দেখা যায়, ঢাকা শহরে মাসে দুই থেকে আড়াই কোটি টাকার পর্নোগ্রাফি শিশুরা ডাউনলোড করে। এবং স্কুলে বসে এগুলো দেখে। কথা হচ্ছে, পর্নোগ্রাফি আইন ও রুলস যেটা করা হলো, তার শিশুবান্ধব কোনো প্রয়োগ আমরা দেখতে পেলাম না। আরেকটি বিষয় হলো, দেশে প্রচুর পরিমাণে মাদক (ড্রাগস) আসছে। ইয়াবায় বাজার ছেয়ে গেছে। ইদানীং আবার সেনেগ্রাসহ নতুন নতুন ড্রাগ যুক্ত হচ্ছে ইয়াবার সঙ্গে। ঢাকায় মাসে ১০ থেকে ১২ লাখ পিস ইয়াবার চাহিদা রয়েছে। শিশুদের মধ্যে এই চাহিদা বেশি। এ ক্ষেত্রে আইন, নীতি—সবই আছে। কিন্তু প্রয়োগের অভাবে শিশুরা ইয়াবার রাজ্যে ডুবে আছে। এ থেকে পরিত্রাণের জন্য এখনই আমাদের গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করতে হবে। তা না হলে আমরা বড় রকমের সংকটের মুখে পড়ে যাব।
এম এম আমিনুল ইসলাম
অন্যদের মতো শিশুদের বয়সসীমা ১৬ বছর কোনোভাবে মানি না। শিশু সুরক্ষার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বলতে চাই, জাতীয় ও কমিউনিটি পর্যায়ে দুই জায়গাতেই বাংলাদেশে আদৌ শিশু সুরক্ষার কোনো ব্যবস্থা আছে কি না, সেটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। যদি প্রশ্ন করি, কে শিশুদের সুরক্ষার বিষয়টি দেখে? মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়? সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়? না স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়? এই প্রশ্নের সঠিক কোনো উত্তর পাওয়া যাবে না।
জাতীয় নারী ও শিশুবিষয়ক পরিষদমণ্ডলী আছে। আমার জানামতে, গত দুই বছর সেখানে কোনো সভা হয়নি। আর ওই পরিষদের ৯০ শতাংশ কথা হয় নারীকে নিয়ে। তারপর শিশুদের কথা আসে। যে কারণে শিশুদের বয়স যখন ১৮ থেকে ১৬ হয়ে যায়, তখন নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি সেটা জানতে পারেন না। বাজেটের ১২ থেকে ১৫ শতাংশ সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ। এখানেও শিশুদের জন্য কিছু নেই। মাত্র শূন্য দশমিক ৬৭ শতাংশ শিশুর জন্য বরাদ্দ। দারিদ্র্যের জন্য বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম হয়। দারিদ্র্য বিমোচনে বরাদ্দ পর্যাপ্ত নেই। সবকিছু মিলিয়ে শিশুদের বিষয়টি সর্বক্ষেত্রে দৃষ্টির আড়ালে রয়ে গেছে।
আব্দুল কাইয়ুম
এবার গণমাধ্যমে শিশুদের সমস্যা ও প্রতিকারের প্রতিফলন কতটুকু ঘটে, সে বিষয়ে বলবেন সুমনা শারমীন। নারী-শিশু বিষয়ে তাঁর অনেক লেখা বেরিয়েছে।
সুমনা শারমীন
আমাদের ফিচার পাতায় শিশুদের জন্য অনেক কিছু থাকে। দরকার হলে আরও কিছু করতে পারি। কিন্তু মূল পাতায় তেমন কিছু থাকে না। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, সব পত্রিকা মিলে মূল পাতায় শিশুদের জন্য খবর থাকে ৩ শতাংশ। এগুলো আবার সব দুর্ঘটনাজনিত খবর। যেমন: কেউ পানিতে পড়ে গেছে; কাউকে সাপে কেটেছে; কেউ অপরাধ ও সহিংসতার শিকার; কেউ আবার অগ্নিদগ্ধ ইত্যাদি। অর্থাৎ শিশুকে খবর হতে হলে হয় তাকে অপরাধী হতে হবে, অথবা মানবিক বিপর্যয়ে পড়তে হবে। এমন মন খারাপ করা খবর আমরা ছাপতে চাই না। ইদানীং শিশুদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের মতো খুব স্পর্শকাতর খবর ছাপতে হচ্ছে। এখন শিশুরা হয়েছে মুক্তিপণের পণ্য। তার অপরাধ? অপরাধ হলো, বাবা মধ্যপ্রাচ্য থেকে কিছু টাকা এনেছেন। অপরাধ হলো, বাবার সঙ্গে জমিজমা নিয়ে পাশের বাড়ির বিরোধ। অপরাধ হলো, শিক্ষক তাকে পড়াতেন। অপরাধ হলো, বাবার ঢাকা শহরে বাড়ি আছে। তিনি অনেক টাকা ভাড়া পান। এ রকম অনেক ঘটনা আছে।
এসব খবর ছাপার সময় ভীষণ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ি। কারণ, এদের ছবি ছাপা যায় না। মা-বাবার সঙ্গে কথা বলা যায় না। তাঁরা চিৎকার করে সন্তানের জন্য আহাজারি করতে থাকেন। শুধু সাধারণ মানুষই নয়, সাংবাদিক এবং পুলিশও এই নৃশংসতার বাইরে নয়। আমাদেরই এক সাংবাদিকের বোনের সন্তানকে অপহরণ করা হয়েছে। এই পরিবারে পুলিশের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আছেন। সাংবাদিক, পুলিশ—সবাই খুঁজতে খুঁজতে হয়রান। কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। শুধু ফোন করে বলছে, এখানে টাকা রেখে যাও, ওখানে টাকা রেখে যাও। টাকাও রাখা হচ্ছে, কিন্তু শিশু ফিরে আসছে না। পরদিন একটি কবরস্থানে তাকে এমনভাবে পাওয়া গেল যে শিশুটি আর কোনো দিন মায়ের দিকে চোখ তুলে তাকাবে না। আমরা খুব কাছ থেকে এই পরিবারটির হাহাকার দেখেছি। দেখেছি সন্তান হারানোর কী বেদনা! শিশু সুরক্ষার বিষয়ে অনেক কথা হয়েছে। আমি মনে করি, অন্যদের মতো সাংবাদিকদেরও এ ক্ষেত্রে অনেক দায়িত্ব রয়েছে। আমরা প্রথম আলো এ ক্ষেত্রে কিছু নীতিমালা মেনে চলার চেষ্টা করি।
সারা যাকের
শিশু সুরক্ষা ও করণীয় নিয়ে আলোচনা শুনলাম। ১৯৭৪ সালে আমাদের দেশে শিশু সুরক্ষার আইন ছিল। আবার ২০১২ সালে নতুন করে হবে। আইন, নীতি, নিয়ম—সবই প্রয়োজন। এবং সেটা আছেও। শুধু নেই প্রয়োগ। এর সঙ্গে যুক্ত করতে চাই অ্যাডভোকেসি ও সচেতনতা। দেশব্যাপী শিশু সুরক্ষার বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি জোরদার করতে হবে। তাহলে মানুষ এসব বিষয়ে জানতে ও বুঝতে পারবে।
এ ক্ষেত্রে শিশুদের প্রতি সহিংসতা কমে আসবে। পাশাপাশি সুরক্ষা জোরদার হবে। আরেকটি বড় বিষয় হলো, শিশুদের মাদক গ্রহণ, অপব্যবহার, পর্নোগ্রাফি, সহিংসতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ হচ্ছে। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত এগুলো সামাজিক আন্দোলন হিসেবে সামনে না আসবে, ততক্ষণ ফলপ্রসূ কিছু অর্জিত হবে না। আমি মনে করি, সেভ দ্য চিলড্রেন ও অন্য যারা কাজ করছে, সে ক্ষেত্রে কাজের পরিধি বাড়বে। কিন্তু এই অবস্থার পরিবর্তনের জন্য দরকার সামাজিক আন্দোলন।
মেহতাব খানম
বারবার শুধু সন্তানদের সঙ্গে মা-বাবার সম্পর্কোন্নয়নের কথা বলি। আমার কাছে মনে হয়, পরিবারই সব। আমাকেসহ সব বাবা-মাকে বলতে চাই, আমরা মা-বাবা হওয়ার যোগ্যতা রাখি কি না। চাল-চুলা নেই, এমন মা-বাবা পাঁচ থেকে সাতটি সন্তান পৃথিবীতে এনেছেন। প্রত্যেক সন্তানকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে দিয়ে নিজেদের আয়ের হাতিয়ার বানিয়েছেন। শুধু দরিদ্ররা নয়, সবাই নিজেদের স্বার্থে পৃথিবীতে সন্তান এনেছি। নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য তাদের ব্যবহার করছি। এই দেশটা মোটেই শিশুবান্ধব নয়। এটা প্রাপ্তবয়স্কদের দেশ।
সম্প্রতি মেঘ নামের মেয়েটিকে গণমাধ্যম যেভাবে ব্যবহার করেছে, সে ক্ষেত্রে তাদের ওপর ন্যূনতম আস্থা রাখার কোনো কারণ নেই। আজকে শিশুর বয়স ১৬ না ১৮, এটা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আমার তো মনে হয়, সবাই আমরা শিশুর মতো আচরণ করছি। বয়স ১৬ ও ১৮-এর মধ্যে অবশ্য আমি কোনো পার্থক্য দেখি না। আমাদের বিত্তবান ব্যক্তিরা বাড়াবাড়ি রকমের আদর-আহ্লাদ দিয়ে সন্তানদের বড় করছেন। এই সন্তানেরা ২০-২২ বছর পর্যন্ত শিশু থেকে যাচ্ছে। শিশুবান্ধব কর্মকর্তা প্রসঙ্গে আমার মত হলো, এদের অন্য গ্রহ থেকে আনতে হবে। সংসারে একজন নারী যখন স্বামী বা শাশুড়ির দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছেন, তখন ওই নারী তাঁর সন্তানকে মেরে সব প্রতিশোধ নিচ্ছেন। শিশু সুরক্ষার জন্য অভিভাবকদের আইনের আওতায় আনতে হবে। সবশেষে বলব, গুড প্যারেন্টিংয়ের কোনো বিকল্প নেই।
কাজী জিয়াউদ্দিন
আমাদের দেশে দিনের শেষে সব অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে যায়। অভিযোগ স্বীকার করেই কথা বলছি। একটি বিষয় হলো, যেখানে আইন বেশি, সেখানে আইন ভাঙার প্রবণতাও বেশি। আজকে মানবতা, সভ্যতা, শিক্ষা, শিল্প, সংস্কৃতি—সবকিছু বাণিজ্যিকীকরণ হয়েছে। সবকিছু থেকে সুবিধা খুঁজতে গিয়ে আমাদের আসল কাজ হচ্ছে না। মধ্যযুগের এক কবি বলেছিলেন, ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে’। আমাদের সন্তানকে দুধে-ভাতে রাখতে হলে সব ক্ষেত্রে একটা ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হবে। পরিবর্তন আনার জন্য সবার আগে নিজেদের পরিবর্তন করতে হবে। পরিবর্তিত হওয়ার জন্য আমাদের আচরণ, শিক্ষা, ব্যক্তিত্ব, অর্থাৎ সম্পূর্ণ মানসকাঠামোর পরিবর্তন করতে হবে। আমরা ভালো মানুষ হলে আমাদের শিশুরা হবে আলোকিত শিশু। সমাজের সব স্তর থেকে ভালো মানুষ হওয়ার ধ্বনি উচ্চারিত না হলে ভালো হওয়া সম্ভব নয়। আমাদের শিশুরা রূপকথার সিনডারেলার মতো উপেক্ষিত।
এ অবস্থা থেকে তাদের মুক্ত করার জন্য সমাজের সব শ্রেণী-পেশার মানুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে, হাতে হাত রেখে এগিয়ে আসতে হবে। কারও একার পক্ষে এটা করা সম্ভব নয়। শিশুদের বহুমুখী সমস্যা। একটা একটা করে সমস্যা চিহ্নিত করতে হবে এবং সমাধানের জন্য সমাজের বিত্তবানদের সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। সিঙ্গাপুরে শিশুদের স্কুলে লাইফ স্কিল প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। জাপানে অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের মাদার ক্লাব আছে। শিশুরা পৃথিবীতে আসার আগেই এখান থেকে মায়েরা শিশুর পরিচর্যা শিখে নেন। শিশু স্কুলে যাওয়া পর্যন্ত ক্লাবের নির্দেশাবলি মেনে চলার শিক্ষা দেওয়া হয়। শিশুরা সমাজে কত মহিমান্বিত, আমরা সেটা বুঝতে পারি না। আমাদের সমাজবোধের মধ্যে এটা নেই। ওয়ার্ডস ওয়ার্থ শিশুদের মধ্যে দেখেছিলেন ‘স্বর্গীয় দ্যুতি’। বিদেশে অনেক জায়গায় শিশুদের ‘ঈশ্বরের দূত’, ‘শান্তির বার্তাবাহক’ ইত্যদি বলে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ এক জায়গায় বলেছিলেন, ‘প্রতিটি শিশু জানান দিয়ে যাচ্ছে যে আমি একটি নতুন পৃথিবী সৃষ্টি করতে যাচ্ছি।’ শিশুদের এই ধারণাগুলো মাথায় নিয়ে সুশীল সমাজ, বিত্তবান মানুষেরা, গণমাধ্যম—সবাই যদি একসঙ্গে কাজ করি, তাহলে এই সংকট থেকে উত্তরণ হওয়া অসম্ভব নয়। কারণ, শিশুদের সমস্যা এখনো আমাদের নিয়ন্ত্রণসীমাকে অতিক্রম করেনি। একজন দার্শনিক বলেছিলেন, মানুষের কোনো পরাজয় নেই। সবাইকে আশাবাদী হতে হবে। শেষ করতে চাই বঙ্গবন্ধুর উচ্চারণ দিয়ে, ‘এটা অন্ধকার থেকে আলোর পথে যাত্রা। বিপন্নতা থেকে ঘরে ফেরার যাত্রা। বন্দিত্ব থেকে মুক্তির পথে যাত্রা। সঠিক জীবন গড়ার জন্য প্রতিটি পদক্ষেপ হবে একসঙ্গে।’
আব্দুল কাইয়ুম
আজকে সব মন্ত্রণালয়ের সভা ছিল। উপসচিব মো. ওমর ফারুক হয়তো কষ্ট করেই আজকের আলোচনায় এসেছেন। এখন তাঁর কাছ থেকে শুনব।
মো. ওমর ফারুক
শিশু সুরক্ষার বিষয়টি আমাদের মন্ত্রণালয়ের বিষয়। শিশু আইনও আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে তৈরি করা হয়। আমরা অনেক সময় ও শ্রম ব্যয় করে শিশু আইনের বিষয়গুলো তৈরি করেছিলাম। এটি ছিল যুগোপযোগী ও আধুনিক। এ আইনে আমরা ৮০টি ধারা সংযোজন করেছিলাম। কিন্তু শেষ রক্ষা করতে পারিনি। তবে আমাদের মন্ত্রণালয়ে এটার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। আমরা একটি তুলনামূলক বিবরণী তৈরি করছি। মূল বিষয়টি সামনে আনতে ছয় মাসের মতো সময় লাগবে। আমাদের কাছে যেটা ফেরত এসেছে, সেখানে ১০০ ধারা আছে। বয়সসহ আমাদের পাঠানো ধারার অনেক কিছু পরিবর্তন করে ফেলেছে।
আমরা কোনোক্রমেই বয়সসীমা ১৮-এর নিচে নামাব না। আমরা কয়েক দিন আগে ভবঘুরে ও নিরাশ্রয় আইন করেছি। সেখানেও শিশুদের বয়স ১৮ রেখেছি। শিশু সুরক্ষা ও করণীয় বিষয়ে আমাদের আইনে কিছু বলা নেই। তবে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ১৩টি কারণ বলা আছে। মাতৃগর্ভ থেকে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত একজন মানুষ শিশু থাকে। একা সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ২০৫টি শিশুসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান আমাদের অধীনে রয়েছে। ৮৫টি শিশু পরিবার আছে। ১০ লাখ পথশিশুর কথা বলা হয়েছে। এই হিসাবটি ঠিক নয়। কারণ, ছয়টি বিভাগীয় শহরে ছয়টি শিশু বিকাশকেন্দ্র আছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ২৫০ জনের থাকার ব্যবস্থা আছে। কিন্তু শিশু পাওয়া যাচ্ছে না। ইউনিয়ন পর্যায়ে আমাদের সামাজিক কর্মী আছেন। তাঁদের বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিশু সুরক্ষায় কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছি। আমার শেষ কথা হলো, শুধু সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় নয়, সবাই মিলে শিশু সুরক্ষার একটি বলয় তৈরি করতে হবে।
মেহের আফরোজ চুমকি
শিশুরা যাতে সমস্যায় না পড়ে, সেই জায়গাগুলো ঠিক করতে হবে। উন্নত বিশ্বের মতো অভিভাবকদের আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা করতে হবে। অভিভাবকেরা সচেতন হলে শিশুর সুরক্ষা অনেকাংশে নিশ্চিত হয়। গরিব মা-বাবার সামর্থ্য নেই পাঁচ থেকে সাতটি সন্তান লালন-পালনের। প্রত্যেক সন্তান ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করে মা-বাবাকে টাকা দিচ্ছে। এই মা-বাবার আইনের আওতায় আসা উচিত। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি—সব ক্ষেত্রে শিশুরা যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে। ব্রেস্ট ফিডিংয়ে আমরা লক্ষ্যমাত্রা থেকে বেশি এগিয়েছি। শিশুর বয়স ১৬ হওয়ায় আমি নিজে বিস্মিত হয়েছি। এ ব্যাপারে জোরালো প্রতিবাদ করব। শিশুরা যেন আগামী দিনে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে পারে, তার জন্য যা যা দরকার, তার সবকিছু করার চেষ্টা করব।
আব্দুল কাইয়ুম
আপনারা সবাই দীর্ঘ সময় নিয়ে শিশু সুরক্ষা ও করণীয় বিষয়ে মূল্যবান আলোচনা করেছেন। আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা ও তথ্য উঠে এসেছে। সবাইকে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1347)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
-
▼
2012
(33842)
-
▼
July
(2459)
-
▼
Jul 18
(109)
- পাঁচ ফরাসি সেনাকে হত্যার দায়ে আফগান সেনার মৃত্যুদণ্ড
- ভারতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কাল-অবশেষে প্রণবই মমতার ...
- তেহরানের পরমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি-ইরানকে বিরত রাখত...
- হিলারির দুঃখ
- এ যুগের টাইটানিক
- জনবল নিয়োগ না দিয়েই উদ্বোধন-ছয় বছরেও চালু হয়নি নন্...
- বন্যাদুর্গতরা বাঁধ ও রাস্তায়
- নরসিংদীর লটকন যাচ্ছে বিদেশে
- কালুখালী-ভাটিয়াপাড়া রেলপথ-কাদার ওপর রেললাইন by পান...
- সিলেটে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা-‘ইলিয়াসকে গুম করে ...
- পদ্মা সেতুর নামে চাঁদাবাজি শুরু হয়ে গেছে: ফখরুল
- অহেতুক অপবাদ বরদাশত করা হবে না: প্রধানমন্ত্রী
- শিশু শিক্ষা-ছবি গান আর সুর-ছন্দে বিকশিত শৈশব by কা...
- ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক-পারস্পরিক অনাস্থা কবে দূর হ...
- অল্পবিদ্যা-টক শো: বড়ুয়া-তত্ত্ব by আসিফ নজরুল
- জনপ্রশাসন-কোটার নিষ্পেষণে মেধাবীরা কোণঠাসা by আলী ...
- এখন সোনা জয়ের অপেক্ষা-গণিত অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের ...
- উপাচার্য ও সহ-উপাচার্য অবিলম্বে সরে যান-বুয়েটের অচ...
- চারদিক-কারও দয়ায় পাওয়া নয়
- গোলটেবিল বৈঠক-শিশু সুরক্ষায় করণীয়
- সপ্তাহের হালচাল-পাকিস্তানেও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়...
- আজ আবিদের জন্মদিন-আবিদ একাই এক শ by মোহিত কামাল
- জন্মদিনে মায়ের খোলাচিঠি
- বদলে যাও বদলে দাও মিছিল-বিষমুক্ত খাদ্যের জন্য by র...
- আসমান ভাইঙা জোছনা পড়ে by সুমনকুমার দাশ
- স প্তা হে র বা ছা ই চা ক রি
- চাকরি খুঁজছেন?
- পেশা-পরামর্শ-গ্রাহকসেবা
- এবিসি রেডিও-প্রথম আলো জবস ‘হতে চাই পেতে চাই’-জনসংয...
- সহকারী থানা শিক্ষা অফিসার পদে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে by...
- ঢাকা ইমপেরিয়াল কলেজ-নতুন দিনের শুরু... by রাকিব মো...
- অনেক স্বপ্ন, কঠিন লড়াই by কিঙ্কর আহ্সান
- কেনেডি সেন্টারে শুরুর আগে by জাহীদ রেজা নূর
- সফলদের স্বপ্নগাথা-জানার জন্যই জানতে চাই by মাইক বেকার
- ব্যাংকার হতে চাই by ফয়সাল হাসান
- হেলথ টিপস-পেয়ারার পুষ্টিকথা
- জনপ্রিয় নাশতা হতে পারে অসুখের কারণ by অধ্যাপক শুভা...
- শিশুকে ওষুধ খাওয়াবেন কীভাবে by প্রণব কুমার চৌধুরী
- রমজান ও ডায়াবেটিস by তানজিনা হোসেন
- দোষ তোমাদের বিকৃত মানসিকতার
- আমি কি ভাবছি-আবার তোরা মানুষ হ
- প্রযুক্তিতে নারী-তিনটি দল
- আকাশীর খেলার আকাশ by বদিউজ্জামান
- জেসিকার মহাসাগর জয় by পল্লব মোহাইমেন
- বীর মুক্তিযোদ্ধা-তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না
- ট্রাইব্যুনালে ‘ক্যামেরা ট্রায়ালে’ সাক্ষ্য দিলেন এক...
- আদালতের রায় পেয়ে চাকরি ফিরে পেতে ৩০০ কর্মীর আবেদন-...
- গোলাম আযমের জামিনের আবেদন খারিজ
- কুমিল্লায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ বেড়েছে
- দুই দিনের জন্য বুয়েটের আন্দোলন স্থগিত
- পাসে মেয়েরা, জিপিএ-৫-এ ছেলেরা এগিয়ে
- খাদ্য ও পোশাকে বিষাক্ত রাসায়নিক ঠেকাতে রুল
- সরকারের কারণেই চিনির বাজারে অস্থিরতা by ফারজানা লাবনী
- শাহজালাল বিমানবন্দর-রাতে ফ্লাইট বন্ধ থাকবে ছয় মাস
- র্যাবের মাদক মামলা-৭৯ বছর জেল ইয়াবা সম্রাট আমিন হ...
- সংসদীয় কমিটিতে তথ্য-মাত্র পাঁচ রুটে বিমান লাভজনক b...
- ট্যারিফ কমিশনের বিশ্লেষণ-ভোজ্য তেলের দাম হওয়ার কথা...
- রাষ্ট্রপতিকে বুয়েট শিক্ষক সমিতির স্মারকলিপি-শিক্ষা...
- রমজানের পর বিএনপির দুর্বার আন্দোলন-নয়াপল্টনের বিক্...
- পিলখানা হত্যা মামলা-মইন ও নূর মোহাম্মদ সাক্ষ্য দিত...
- গুলশানের এই বাড়িটি ওয়াসার এমডির জন্য-ভাড়া মাত্র ২২...
- ইলিয়াস আলী নিখোঁজ রহস্য-হতাশায় ডুবে আছে ইলিয়াস-পরি...
- পরিচালকরা শেয়ার ধারণ নিয়ে মিথ্যা তথ্য দিলেন by রাশ...
- আকিজ বিড়ি কারখানায় গুলি, দুই শ্রমিক নিহত
- মন্ত্রী ও এমপিরা তদবিরে ব্যস্ত by আশরাফুল হক রাজীব
- পিউ রিসার্চের জরিপ-৯৫ শতাংশ পাকিস্তানি নিজেদের সংক...
- মির্জা ফখরুল বললেন-ড. ইউনূসকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ...
- ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে তেতে উঠছে ক্যাম্পাস
- শেষ পর্যন্ত প্রণবেই আস্থা মমতার by সুব্রত আচার্য্য
- সোহেল হত্যা-রাবি ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার, দুই দিনে...
- পদ্মা সেতুর নামে চাঁদা নিলেই গ্রেপ্তার
- বাড্ডায় আশিয়ানের মোশারফ বাহিনীর তাণ্ডব, কপোতাক্ষের...
- ঢাকা-চট্টগ্রামে সংসদীয় আসন আরো বাড়বে! by কাজী হাফিজ
- সহকর্মীর গছিয়ে দেওয়া বোমায় নারী আহত
- পদ্মা সেতু প্রকল্প বাতিল বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের বক্তব...
- রেলে দুর্নীতি-রেলে চলে নম্বর ঘষামাজা নিয়োগ পান অনু...
- 'হঠাৎ' আন্দোলন নিয়ে সন্দেহ শিক্ষামন্ত্রীর-বাইরে থে...
- 'আমার এখন হাজারটা পা'
- গণমাধ্যম-সংবাদপত্রের ভূত-ভবিষ্যৎ by সাখাওয়াত আলী খান
- সেই সত্য যা রচিবে তুমি... by গোলাম সারওয়ার
- 'আমার এখন হাজারটা পা'
- খাল না কেটেও... by আসিফ আহমেদ
- জনপরিবহন-বাস শ্রমিকরাই যেন নন্দঘোষ by শেখ রোকন
- সমকালীন প্রসঙ্গ-সমকালের সপ্তম বর্ষ ও সংবাদপত্রের স...
- ক্যামেরাবন্দি অপরাধ-সাবধান, অন্য চোখ রয়েছে!
- পুলিশি সেবা-এই যদি হয় মডেল থানা...
- ক্রান্তিলগ্নে বারবার আবির্ভূত by আবদুল্লাহ আল নোমান
- দুর্যোগ-এমন কিছু কি করা যায় না? by মকবুলা পারভীন
- আরেক আলোকে-শহীদ জিয়া স্মরণে by ইনাম আহমদ চৌধুরী
- এভারেস্ট জয়ের পর by আনোয়ার হোসেন
- বাজেট-পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য বিশেষ বরাদ্দ চাই b...
- ঐতিহ্য-পুরাকীর্তি ধ্বংসের প্রক্রিয়া রুখতে হবে by আ...
- মালদ্বীপে বিশ্ববিদ্যালয়-জ্ঞানের প্রসারে সহযোগিতা
- টিকাদান কর্মসূচি-স্বাস্থ্যোজ্জ্বল বাংলাদেশের প্রে...
- আনোয়ারায় অবৈধভাবে জমি অধিগ্রহণ করেছে সরকার-হাইকোর্...
- ২৮ ভাষায় কোরআন তেলাওয়াতকারী যন্ত্র
- উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনীতে নতুন ভাইস মার্শাল
- ৫৬ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ খরায় যুক্তরাষ্ট্র
- বিচারককে গ্রেপ্তারের নির্দেশ-নাশিদের বিরুদ্ধে অভিয...
- জেরুজালেমে হিলারি-ইরানকে বিরত রাখতে 'তূণের সব অস্ত...
- 'নির্বাচনের আগে বিদ্রোহীদের সাহায্য করবে না ওয়াশিংটন'
- বিদ্যুতের দাম ও সরবরাহ-অযৌক্তিক বিলের ভোগান্তি আর নয়
- রাবিতে ছাত্রলীগকর্মী খুন
- পবিত্র কোরআনের আলো-প্রত্যেক ইবাদতের সময়ই পোশাকে যথ...
- বিশেষ সাক্ষাৎকার : ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন-সরকার ...
- চরাচর-অতীশ দীপংকরের স্মৃতিসৌধ by আলম শাইন
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিরতার নেপথ্যে কারা? by ড. মি...
- লিবিয়ার নির্বাচনোত্তর চ্যালেঞ্জগুলো by মুহাম্মদ রু...
- সময়ের প্রতিধ্বনি-জনগণের নয়, দুর্নীতির টাকায় পদ্মা ...
-
▼
Jul 18
(109)
-
▼
July
(2459)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
তরুণ প্রজন্ম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আলী যাকের
আইন ও বিচার
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
তারেক শামসুর রেহমান
মালয়েশিয়া
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
স্বাস্থ্য
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
জ্যোতির্বিজ্ঞান
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
শিল্প ও সাহিত্য
সংবিধান ও রাষ্ট্র
বগুড়া
মিয়ানমার
ঢাকা
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
গবেষণা
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
জীবনযাপন
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
মেহেদী হাসান
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
মানসুরা হোসাইন
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
ইয়েমেন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
Exclusive
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিজ্ঞান
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
জনস্বাস্থ্য
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
ফরিদপুর
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লাতিন আমেরিকা
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মহাকাশচারী
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
জোহরান মামদানি
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
ইহুদি
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
স্পেন
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
বিশ্বকাপ ফুটবল
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment