সীমিত পরিসরে গাজার রাফাহ সীমান্ত পুনরায় খুলছে ইসরাইল

গাজা ও মিশরের মধ্যকার রাফাহ সীমান্ত পারাপার সোমবার থেকে সীমিত আকারে ‘পাইলট পর্যায়ে’ পুনরায় চালু করার কথা জানিয়েছে ইসরাইল। ওদিকে হাজার হাজার আহত ও অসুস্থ ফিলিস্তিনি বিদেশে জরুরি চিকিৎসার অপেক্ষায় রয়েছেন। গাজায় ত্রাণ প্রবেশ ও চলাচল নিয়ন্ত্রণকারী ইসরাইলি সামরিক সংস্থা সিওজিএটি বা কোগাট রোববার এক বিবৃতিতে জানায়, রাফাহ ক্রসিংটি পায়ে হেঁটে চলাচলের জন্য গাজার বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে উভয় দিকেই খুলে দেওয়া হবে। এ কার্যক্রম মিশর ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। বিবৃতিতে বলা হয়, ক্রসিংটির কার্যক্রম পরীক্ষা ও মূল্যায়নের জন্য একটি পাইলট পর্ব চালানো হচ্ছে সোমবার। গাজায় প্রবেশ ও গাজা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাসিন্দাদের চলাচল এদিন শুরু হওয়ার কথা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে রাফাহ সীমান্ত দিয়ে গাজায় প্রবেশ ও প্রস্থানের জন্য ফিলিস্তিনিদের স্ক্রিনিংয়ের উদ্দেশ্যে একটি জটিল কমপ্লেক্স নির্মাণ শেষ করা হয়েছে। রাফাহ হলো গাজার একমাত্র সীমান্ত পারাপার, যা ইসরাইলের ভেতর দিয়ে যায় না। যুদ্ধ শুরুর আগে এটি ফিলিস্তিনি ও মিশরীয় কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে পরিচালনা করত ইসরাইলের সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে। কিন্তু ২০২৪ সালের মে মাসে গাজায় ইসরাইলের গণহত্যামূলক যুদ্ধ চলাকালে ইসরাইলি বাহিনী রাফাহ দখল করার পর থেকে প্রায় দুই বছর ধরে সীমান্তটি বন্ধ ছিল। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক হানি মাহমুদ বলেন, ফিলিস্তিনিরা গাজা ছাড়তে চান। কিন্তু একই সঙ্গে তারা আতঙ্কিত আর ফিরতে পারবেন কি না, তা নিয়ে। অনেকে বলেছেন, তারা কেবল চিকিৎসা বা পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্যই যেতে চান এবং পরে আবার ফিরে আসতে চান।

গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের পরিচালক ইসমাইল আল-থাওয়াবতা আল জাজিরাকে জানান, ইসরাইলের যুদ্ধে গাজা ছাড়তে বাধ্য হওয়া প্রায় ৮০ হাজার ফিলিস্তিনি এখন ফিরে আসতে চাইছেন। তিনি আরও বলেন, প্রায় ২২ হাজার আহত ও গুরুতর অসুস্থ মানুষ জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসার জন্য গাজা ছাড়তে চান। রয়টার্সকে দু’জন মিশরীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রোববারই কমপক্ষে ৫০ জন ফিলিস্তিনি রোগীকে চিকিৎসার জন্য মিশরে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রথম কয়েক দিনে প্রতিদিন প্রায় ২০০ রোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা রাফাহ সীমান্ত দিয়ে মিশরে যাবেন। একই সময়ে প্রতিদিন ৫০ জন করে গাজায় ফিরে আসবেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্ত পার হওয়ার জন্য নির্ধারিত ফিলিস্তিনিদের তালিকা মিশর জমা দিয়েছে এবং ইসরাইল তা অনুমোদন করেছে। গাজা ছাড়তে চাওয়া মানুষের মধ্যে রয়েছেন ৬৫ বছর বয়সী আবেদ আল হালিম আবু আসকার। তিনি চার বছর ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়ছেন। তার অস্ত্রোপচার নির্ধারিত ছিল ১০ অক্টোবর ২০২৩। কিন্তু তার ঠিক কয়েক দিন আগেই যুদ্ধ শুরু হওয়ায় চিকিৎসা স্থগিত হয়ে যায়। যুদ্ধের প্রথম মাসেই ইসরাইলি বিমান হামলায় গাজা সিটিতে নিহত হন তার ২৮ বছর বয়সী মেয়ে শাইমা, সঙ্গে মারা যান তার স্বামী ও দুই কন্যা। 

mzamin

No comments

Powered by Blogger.