সীমিত পরিসরে গাজার রাফাহ সীমান্ত পুনরায় খুলছে ইসরাইল
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে রাফাহ সীমান্ত দিয়ে গাজায় প্রবেশ ও প্রস্থানের জন্য ফিলিস্তিনিদের স্ক্রিনিংয়ের উদ্দেশ্যে একটি জটিল কমপ্লেক্স নির্মাণ শেষ করা হয়েছে। রাফাহ হলো গাজার একমাত্র সীমান্ত পারাপার, যা ইসরাইলের ভেতর দিয়ে যায় না। যুদ্ধ শুরুর আগে এটি ফিলিস্তিনি ও মিশরীয় কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে পরিচালনা করত ইসরাইলের সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে। কিন্তু ২০২৪ সালের মে মাসে গাজায় ইসরাইলের গণহত্যামূলক যুদ্ধ চলাকালে ইসরাইলি বাহিনী রাফাহ দখল করার পর থেকে প্রায় দুই বছর ধরে সীমান্তটি বন্ধ ছিল। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক হানি মাহমুদ বলেন, ফিলিস্তিনিরা গাজা ছাড়তে চান। কিন্তু একই সঙ্গে তারা আতঙ্কিত আর ফিরতে পারবেন কি না, তা নিয়ে। অনেকে বলেছেন, তারা কেবল চিকিৎসা বা পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্যই যেতে চান এবং পরে আবার ফিরে আসতে চান।
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের পরিচালক ইসমাইল আল-থাওয়াবতা আল জাজিরাকে জানান, ইসরাইলের যুদ্ধে গাজা ছাড়তে বাধ্য হওয়া প্রায় ৮০ হাজার ফিলিস্তিনি এখন ফিরে আসতে চাইছেন। তিনি আরও বলেন, প্রায় ২২ হাজার আহত ও গুরুতর অসুস্থ মানুষ জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসার জন্য গাজা ছাড়তে চান। রয়টার্সকে দু’জন মিশরীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রোববারই কমপক্ষে ৫০ জন ফিলিস্তিনি রোগীকে চিকিৎসার জন্য মিশরে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রথম কয়েক দিনে প্রতিদিন প্রায় ২০০ রোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা রাফাহ সীমান্ত দিয়ে মিশরে যাবেন। একই সময়ে প্রতিদিন ৫০ জন করে গাজায় ফিরে আসবেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্ত পার হওয়ার জন্য নির্ধারিত ফিলিস্তিনিদের তালিকা মিশর জমা দিয়েছে এবং ইসরাইল তা অনুমোদন করেছে। গাজা ছাড়তে চাওয়া মানুষের মধ্যে রয়েছেন ৬৫ বছর বয়সী আবেদ আল হালিম আবু আসকার। তিনি চার বছর ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়ছেন। তার অস্ত্রোপচার নির্ধারিত ছিল ১০ অক্টোবর ২০২৩। কিন্তু তার ঠিক কয়েক দিন আগেই যুদ্ধ শুরু হওয়ায় চিকিৎসা স্থগিত হয়ে যায়। যুদ্ধের প্রথম মাসেই ইসরাইলি বিমান হামলায় গাজা সিটিতে নিহত হন তার ২৮ বছর বয়সী মেয়ে শাইমা, সঙ্গে মারা যান তার স্বামী ও দুই কন্যা।

No comments