Sunday, July 20, 2025
ইসরায়েল কি আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে হওয়ার পথে: আল-জাজিরার এক্সপ্লেইনার
ইসরায়েল কি আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে হওয়ার পথে: আল-জাজিরার এক্সপ্লেইনার
গত কয়েক সপ্তাহে একাধিক পশ্চিমা দেশ ইসরায়েলের মন্ত্রীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডা এক যৌথ বিবৃতিতে গাজায় অসহনীয় মানবিক বিপর্যয়ের নিন্দা জানিয়েছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে গ্লোবাল সাউথভুক্ত কয়েকটি দেশ (সম্মিলিতভাবে ‘দ্য হেগ গ্রুপ’) অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের হামলা রোধে বেশ কিছু ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে গাজায় একটি ক্যাথলিক গির্জায় ইসরায়েলি হামলার পর ধর্মীয় নেতারাও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। বাড়ছে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ।
তাহলে কি ইসরায়েলকে থামাতে আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি হচ্ছে? চলুন জেনে নেওয়া যাক, আসলে কী ঘটছে:
দ্য হেগ গ্রুপ
দ্য হেগ গ্রুপের নিজস্ব ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এটি একটি আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রীয় জোট। এ জোট আন্তর্জাতিক আইন রক্ষা এবং ফিলিস্তিনিদের পাশে থাকার লক্ষ্যে ‘সমন্বিত কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপ’ নেওয়ার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ।
এ গ্রুপে আছে আটটি দেশ—দক্ষিণ আফ্রিকা, বলিভিয়া, কলম্বিয়া, কিউবা, হন্ডুরাস, মালয়েশিয়া, নামিবিয়া ও সেনেগাল। তাদের লক্ষ্য জাতিসংঘ সনদের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক আইন, আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারসহ সব মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা করা।
চলতি সপ্তাহেই কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোটায় এ গ্রুপ এক বৈঠক আয়োজন করে। বৈঠকে চীন, স্পেন, কাতারসহ প্রায় ৩০টি দেশ অংশ নেয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি ফ্রানচেসকা আলবানিজ। এ বৈঠককে ‘গত ২০ মাসের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অগ্রগতি’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অভিযানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে প্রতিবেদন দেওয়ায় জাতিসংঘের বিশেষ দূত আলবানিজের ওপর সম্প্রতি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।
দুই দিনের এ সম্মেলন শেষে ১২টি দেশ ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে ছয়টি পদক্ষেপের ব্যাপারে সম্মত হয়। এর মধ্যে আছে ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া, অস্ত্র বহনকারী জাহাজ চলাচলে বাধা প্রদান এবং ইসরায়েলি দখলদারি থেকে উপকৃত প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সরকারি চুক্তি পর্যালোচনা করা।
কোন কোন দেশ ব্যবস্থা নিয়েছে
গত বুধবার স্লোভেনিয়া ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও চরমপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচকে তাদের ভূখণ্ডে প্রবেশে বাধা দেয়। কারণ, বৃহত্তর ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ মোকাবিলায় ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
এর আগে গত জুন মাসে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও নরওয়ে এ দুই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এ দুই মন্ত্রী গাজায় অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনের পক্ষে ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণে অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন।
গত মে মাসে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডা যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলের গাজা অভিযানের নিন্দা জানিয়ে একে ‘সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ বলে আখ্যায়িত করে এবং ইসরায়েল যদি হামলা বন্ধ না করে তবে তাদের বিরুদ্ধে ‘জোরালো পদক্ষেপ’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়।
পরে যুক্তরাজ্য তাদের সতর্কবার্তা অনুসরণ করে কিছু বসতি স্থাপনকারী সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় এবং ইসরায়েলের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য আলোচনায় ‘বিরতি’ ঘোষণা করে।
তুরস্কও মে মাসে জানিয়েছে, গাজায় মানবিক পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তারা ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ রাখবে।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনে মামলা করে। এরপর কলম্বিয়া, চিলি, স্পেন, আয়ারল্যান্ড ও তুরস্ক দক্ষিণ আফ্রিকাকে সমর্থন জানায়।
গত বছরের জানুয়ারিতে আইসিজে অস্থায়ী রায়ে বলেছেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যার সম্ভাব্য ভিত্তি’ আছে। সেই সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করাসহ জরুরি পদক্ষেপ নিতে ইসরায়েলকে নির্দেশ দেন আদালত, যা ইসরায়েল চলতি বছরের মার্চ থেকে বন্ধ করে রেখেছে।
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আরও যেসব সমালোচনা
গত বৃহস্পতিবার গাজা শহরের হলি ফ্যামিলি গির্জায় ইসরায়েলের বোমা হামলায় তিনজন নিহত হন। এ কারণে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রও নিন্দা জানিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ নিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক ‘ক্ষুব্ধ’ ফোনালাপ করেন। এরপর নেতানিয়াহুর কার্যালয় এক বিবৃতিতে এ হামলার জন্য ‘গভীর দুঃখ’ প্রকাশ করেছে।
ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত গাজায় ৫৮ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তাঁদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলের বিরোধিতা
গাজায় ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে গণবিক্ষোভ চলছে। যুদ্ধে ইসরায়েলের বর্বরতা এবং গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর এর প্রভাব দেখে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ক্ষোভ ক্রমে বাড়ছে।
পশ্চিম ইউরোপে গত জুনে জরিপকারী প্রতিষ্ঠান ইউগভের এক জরিপে দেখা গেছে, ইসরায়েলের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নজিরবিহীনভাবে কমে গেছে।
চলতি সপ্তাহে মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএনে প্রকাশিত একই ধরনের আরেক জরিপে মার্কিনদের মধ্যেও একই রকম ফলাফল পাওয়া গেছে। সেখানে মাত্র ২৩ শতাংশ মানুষ মনে করছেন, গাজায় ইসরায়েলের পদক্ষেপ ‘সম্পূর্ণ ন্যায্য’। এটি ২০২৩ সালের অক্টোবরে ছিল ৫০ শতাংশ।
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বিভিন্ন সংগীত উৎসবেও ছড়িয়ে পড়েছে, যেমন জার্মানির ফিউশন ফেস্টিভ্যাল, পোল্যান্ডের ওপেন’আর ফেস্টিভ্যাল এবং যুক্তরাজ্যের গ্লাস্টোনবেরি ফেস্টিভ্যালে শিল্পী ও দর্শকেরা গাজা যুদ্ধের নিন্দা জানিয়ে বিরোধিতা করেছেন।
ইসরায়েলের ভেতর যে পরিবর্তন হচ্ছে
গাজার যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ এখনো ছোট আকারে আছে, কিন্তু বাড়ছে। ‘স্ট্যান্ডিং টুগেদার’ নামের একটি সংগঠন ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি নাগরিকদের একত্র করে আন্দোলন করছে।
গত এপ্রিলে ইসরায়েলি সাময়িকী +৯৭২ (প্লাস নাইন সেভেন টু)–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এক লাখের বেশি ইসরায়েলি রিজার্ভ সেনা দায়িত্ব পালন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেনাবাহিনীর ভেতর থেকেও খোলাচিঠির মাধ্যমে যুদ্ধবিরোধী বার্তা দেওয়া হচ্ছে।
ফলাফল কী হতে পারে
দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে অজনপ্রিয় হলেও নেতানিয়াহুর কট্টরপন্থী জোট সরকার গাজায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে।
সরকারের সর্বশেষ প্রস্তাবে গাজার সব মানুষকে একটি তথাকথিত ‘মানবিক শহরে’ আটকে রাখার পরিকল্পনা করা হয়। অনেকেই এ পরিকল্পনাকে একটি ‘কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন। ইসরায়েল যে আন্তর্জাতিক আইন বা বিশ্ব মতামতের কোনো পরোয়া করে না, এটিকে তার প্রমাণ হিসাবে গ্রহণ করেছেন অনেক সমালোচক।
আন্তর্জাতিকভাবে গাজার একমাত্র ক্যাথলিক গির্জায় বোমা হামলার জন্য সাম্প্রতিক সমালোচনা সত্ত্বেও ইসরায়েলের প্রতি মার্কিন সমর্থন এখনো দৃঢ়। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন এখনো ইসরায়েলের প্রধান কূটনৈতিক ভরসা। ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের জন্য জাতিসংঘে ভেটো দেয়, সামরিক সাহায্য জোগায় ও ইসরায়েলের সমালোচকদের (যেমন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত—আইসিসি) ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
যুক্তরাষ্ট্রের এ সমর্থন ইসরায়েলকে আপাতত রক্ষা করছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যখন আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে হয়ে পড়বে ইসরায়েল, তখন অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা মোকাবিলা করা তার জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
![]() |
| ইসরায়েলের উগ্রবাদী দুই মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির (বাঁয়ে) ও বেজালেল স্মোট্রিচকে স্লোভেনিয়ার আইনপ্রণেতারা ‘অবাঞ্ছিত ব্যক্তি’ ঘোষণা করেছেন। ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1413)
- ▼ 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

No comments:
Post a Comment