Tuesday, April 22, 2025
দুই কন্যার বাইরে পড়ানো নিয়ে অনেক কথা শুনেছি: অভিনেত্রী ছন্দা by মনজুরুল আলম
দুই কন্যার বাইরে পড়ানো নিয়ে অনেক কথা শুনেছি: অভিনেত্রী ছন্দা by মনজুরুল আলম
অভিনেত্রী ছন্দার দুই মেয়ে টাপুর ও টুপুর। তাঁরাও মায়ের মতো অভিনয়ের জগতে এসেছেন। নাম লিখিয়েছেন সিনেমায়। তবে শখের বসে এই অভিনয় শুধুই পড়াশোনার ফাঁকে। ছুটিতে দেশে এলেই তাঁদের বড় বা ছোট পর্দায় পাওয়া যেত। পড়াশোনায় ব্যস্ত সেই টাপুর ও টুপুর এবার ভারত থেকে পড়াশোনা শেষ করে এখন অপেক্ষা রয়েছেন ফলাফলের। বর্তমানে তাঁরা দেশেই রয়েছেন। তাঁদের মা ছন্দা জানালেন, তাঁদের আপাতত ভারতে পড়াশোনার পর্ব শেষ। এই সময় তিনি ফিরে গেলেন মেয়েদের দেশের বাইরে পড়াশোনা করানোর ‘কঠিন’ দিনগুলোতে।
ছন্দাকে তখন নিয়মিত ছুটতে হতো শুটিংয়ে। যে কারণে চাইছিলেন মেয়েদের ভালো কোনো বোর্ডিং স্কুলে পাঠাতে। সেই সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে শুরুতেই হোঁচট খেলেন। কারণ, অনেকেই তাঁর এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নন। ছন্দা বলেন, ‘আমার পরিবারের অনেকে আমার সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা কথা বলতে শুরু করলেন। মেয়েদের পড়াশোনার জন্য দেশের বাইরে পাঠাব, এটা কেউ কেউ মানতেই পারেননি। আমার সহকর্মীদেরও অনেকেই বলছেন, কেন ভারতে পড়াশোনা করতে পাঠাচ্ছি মেয়েদের। অনেকেই মনে করত, ভারতে কেন পাঠাচ্ছি। তারপরে ছোট মেয়ে। সবকিছু মিলিয়ে নানান কথা শুনতে হয়েছে। সময়টা ছিল অনেক কঠিন।’
সবার কাছ থেকে নানা কথা শুনলেও নিজের ইচ্ছাতেই মেয়েদের দার্জিলিংয়ের একটি স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন। তখন দেশে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ত দুই মেয়ে। কঠিন সেই সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে ছন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি খুঁজছিলেন এমন একটা স্কুল, যেখানে একসঙ্গে পড়াশোনা করানো হয়, সঙ্গে গান, ড্রয়িং, সাঁতার-নাচ-অভিনয় শেখানো হয়, আবার থাকার ব্যবস্থা আছে, তেমন একটি স্কুলে ভর্তি করাতে।
‘দেখলাম, এই স্কুল, এই কোচিং—এগুলো করানো তো আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। যাঁরা গৃহিণী, তাঁরা হয়তো সন্তানদের নিয়ে দৌড়াতে পারেন, আমার তো সেই উপায় ছিল না। একটি করতে গিয়ে অন্যটি হচ্ছিল না। তখন তাদের বাইরে বোর্ডিং স্কুলে পাঠিয়ে দিই। তারপরে যা দেখলাম, সেটা আমার জন্য সুবিধা হয়েছে।’
সেই সুবিধাটা কেমন ছিল, সেই প্রসঙ্গে এই অভিনেত্রী বলেন,‘দেখা যেত, আমি বিরতি নিয়ে এক–দুই মাসের জন্য মাঝেমধ্যেই তাদের কাছে যেতাম। তখন পুরোটা সময় তাদের দিতে পারতাম। আবার দেশে এলেও তাদের কোয়ালিটি সময়টা দিতে পারতাম। তখন কাজ কম করতাম। আমি তাদের জন্য যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, সেটা সঠিক ছিল। যে কারণে, অনেকের কথা শুনেছি, কিন্তু দুই মেয়েকে নিয়ে আমার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসিনি। শুরু থেকেই আমি ফলাফলটা ঠিকমতো পাচ্ছিলাম।’—কথাগুলো বলেন টাপুর ও টুপুরের মা।
কালিম্পং, দার্জিলিংয়ের একটি স্কুল থেকে বর্তমানে তাঁরা এ লেভেল শেষ করেছেন। এখন ঢাকাতেই রয়েছেন। পরীক্ষার ফলাফল হলেই সিদ্ধান্ত নেবেন অন্য কোনো দেশে পড়তে যাওয়ার। তবে সেই সিদ্ধান্ত মেয়েরাই নেবেন। টুপুর জানান, মায়ের সংগ্রামের সঙ্গে তাঁরা দুই বোন শুরু থেকেই পরিচিত। সেটা তাঁরা কখনোই ভোলেননি।
টাপুর বলেন, ‘আমরা যখন বোর্ডিং স্কুলে ভর্তি হই, তখনো তো অনেক ছোট ছিলাম। মায়ের এমন সিদ্ধান্তে অনেক শকড হয়েছিলাম। অনেক মন খারাপ হয়েছিল। ওই বয়সে পরিবার থেকে দূরে থাকাটা যেকোনো শিশুর জন্য কষ্টের। পরে অভ্যস্ত হয়ে যাই। তখন বুঝতে পারি মা ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমাদের আর বাইরে পড়াশোনা করতে খুব বেশি সমস্যা হয় না। সব সময়ই মায়ের স্ট্রাগলের কথাগুলো মনে থাকত। ভালো করতে হবে, সেই চেষ্টাই সব সময় করেছি।’
দেশের বাইরে পড়াশোনা করলেও টাপুর-টুপুর ছুটি পেলেই দেশে চলে আসতেন। তাঁদের বাবা নাট্যপরিচালক সতীর্থ রহমান। মা অভিনেত্রী। বলা যায়, শৈশব থেকেই তাঁরা লাইট–ক্যামেরা দেখে বড় হয়েছেন। কখনো বাড়িতে হতো শুটিং। আবার বাবা-মায়ের সঙ্গে চলে যেতেন শুটিংয়ে। একসময় আফসানা মিমি এই যমজ বোনকে অভিনয়ের প্রস্তাব দেন। মেয়েদের না নেই। এভাবেই ২০১৬ সালে বাবার ‘খোলস’ নাটক দিয়ে শুরু। তারপর অমিতাভ রেজা চৌধুরী, মাতিয়া বানু শুকু, চয়নিকা চৌধুরী, শুভ্র খানসহ অনেকের নাটক ও বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন। কিন্তু পড়াশোনার জন্য দার্জিলিংয়ে থাকার কারণে অভিনয়ে নিয়মিত হওয়া হতো না। টাপুর প্রথম আলোচনায় আসেন অনুদানের ছবি ‘দেশান্তর’-এ নাম লিখিয়ে। পরবর্তী সময় দুই বোনই একাধিক নাটকে অভিনয় করেছেন।
টাপুর জানান, পড়াশোনার জন্য তিন সিনেমা ছাড়তে হয়েছে। ঈদে মুক্তি পাওয়া ‘দাগি’ সিনেমায় অভিনয় করার কথা ছিল। ‘এখন আমরা আপাতত টুয়েলভ গ্রেডের পড়াশোনা শেষ করেছি। রেজাল্ট হয়নি। এখন কিছুটা সময় হাতে রয়েছে। বেশ কিছু কাজ নিয়ে কথা হচ্ছে, সেগুলোতে অভিনয় করব।’
মেয়েদের চাওয়াকেই সব সময় প্রাধান্য দিতে চান ছন্দা। দুই মেয়ে পরবর্তী সময় কোন দেশে পড়াশোনার জন্য যেতে চায়, সেখানেও পূর্ণ সহায়তা ও স্বাধীনতা দিতে চান। সবশেষে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘দুই মেয়ে নিয়ে একা কতটা যুদ্ধ করেছি, তা কেবল আমিই জানি। সেটা আমার কন্যারাও অন্তর দিয়ে ধারণ করতে পেরেছে। কারণ, তারা সহযোগিতা না করলে ১০ বছরের বোর্ডিং লাইফ শেষ হতো না। এই পথচলায় আমার একটা চ্যালেঞ্জ ছিল নিজের সঙ্গে। সেখানে আমি পেরেছি। এই পারাটা সহজ ছিল না, পথ ছিল অনেক কঠিন।’
![]() |
| মায়ের সঙ্গে টাপুর টুপুর। ছবি: ফেসবুক |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1442)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
April
(427)
-
▼
Apr 22
(10)
- ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের কেনার চেষ্টা, কারা আছে পেছনে?
- তুরস্কের ভয়ংকর ড্রোনের জনক কে এই সেলচুক বায়রাকতার
- চিকিৎসাকর্মীদের হত্যাকাণ্ড নিয়ে ইসরায়েলি বক্তব্য ম...
- গাজাবাসীও কি সুবর্ণরেখার মতো ঘরের স্বপ্ন দেখে by স...
- শেষ ভাষণে ফিলিস্তিনিদের নিয়ে যা বলেছিলেন পোপ ফ্রান...
- যুদ্ধের বিপক্ষে ইসরায়েলের ৭০ শতাংশ মানুষ, তবুও হাম...
- দুই কন্যার বাইরে পড়ানো নিয়ে অনেক কথা শুনেছি: অভিনে...
- জুঁইকে ধর্ষণের পর হত্যা: লোমহর্ষক বর্ণনা চার কিশোর...
- ভারতের নির্বাচন কমিশন অন্যায়ের সঙ্গে আপোস করে চলেছ...
- বিশ্বের সবচেয়ে উষ্ণতম স্থান যেখানে তাপমাত্রা ৫৭ ড...
-
▼
Apr 22
(10)
-
▼
April
(427)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

No comments:
Post a Comment