Monday, October 21, 2024
মনি কিশোরের মৃত্যু: গতকাল যা ঘটেছিল রামপুরার পপি ভবনে
মনি কিশোরের মৃত্যু: গতকাল যা ঘটেছিল রামপুরার পপি ভবনে
ছোট একটি গেট। সংকীর্ণ সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে হয়। তিনতলায় গিয়ে দেখা গেল মনি কিশোর যে ফ্ল্যাটে থাকতেন, সেই রুমে তালা দেওয়া। ‘প্রবেশ নিষেধ’ চিহ্ন দিয়ে রেখেছেন পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তারা। তালার একপাশে তখনই আগরবাতি জ্বালিয়ে রাখলেন পাশের রুমের প্রতিবেশী তাজুল মিয়া। এই প্রতিবেদককে দেখে তিনি বললেন, ‘স্যার তো এখানে একা থাকতেন। তাঁর কেউ নেই। আগরবাতি দেবে, দেখতে আসবে, তেমন কেউ ছিল না মনি স্যারের। কোনো দিন কাউকে আসতে দেখিনি।’
তাজুল জানান, ছয় দিন আগেও মনি কিশোরকে দেখেছিলেন। দেখা হলে সৌজন্য বিনিময় হয়। মাঝেমধ্যে মনিই খোঁজখবর নিতেন। কিন্তু তিন–চার দিন ধরে বাসার ভেতর থেকে লক করা দেখছেন তাঁরা। এটা কিছুটা কৌতূহলী করেছে তাঁদের। কারণ, মনি কিশোর প্রতিদিন বেলা ১১টার দিকে বাসা থেকে বের হতেন। বাসায় ফিরতেন রাত ১২টার দিকে। কিন্তু এই কয়েক দিন সব সময় রুমে লাইট জ্বালানো দেখে পরবর্তী সময়ে তাঁরা ধরে নিয়েছিলেন কোনো কাজ করছেন। কারণ, বাসায় থাকলে অনেকটা নীরবেই থাকেন। কখনো মৃদুস্বরে কিছুটা গানের শব্দ শোনা যেত। তবে চার থেকে পাঁচ দিন তাঁরা কোনো গান শোনেননি।
গত শুক্রবার তাজুল ও অন্যদের সন্দেহ হয়। সেটাও তেমন আমলে নেননি। তাজুলের স্ত্রী পাশ থেকে বললেন, ‘একা মানুষ থাকতেন, হয়তো ভেতরে কিছু করছেন, এই ভেবে আমি ডাকিনি। তিনি গানের মানুষ, গান আর অফিস নিয়ে থাকতেন। কিন্তু শুক্রবার রাত থেকেই গন্ধ পাচ্ছিলাম। হঠাৎ গতকাল শনিবার দুপুরের পরে গন্ধ বাড়তে থাকে।’
গতকাল দুপুর থেকেই পপি ভবন ও পাশের লাগোয়া ভবনের বাসিন্দারা গন্ধ নিয়ে সচেতন হন। সন্ধ্যার দিকে বাসার মালিকও বুঝতে চেষ্টা করেন, কোথা থেকে গন্ধ আসছে। কিন্তু কোথা থেকে, সেটা কেউই বুঝতে পারছিলেন না। পরে তাঁর সন্দেহ হয় মনি কিশোরের রুম বন্ধ। পাশের প্রতিবেশী ও মনি কিশোরের রুমের জানালার পাশে ভাড়াটেরাও একই কথা বলেন।
বাসার মালিক শামসুদ্দোহা তালুকদার নিচতলায় থাকেন। তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাবেক পরিচালক। সঙ্গে সঙ্গে তিনি মনি কিশোরের মুঠোফোন নম্বরে কল করেন। এক দিন আগেও তিনি ফোন করেছিলেন বকেয়া ভাড়ার জন্য, তখনো ফোন রিসিভ করেননি মনি কিশোর। ভেবেছিলেন, হয়তো কোনো কারণে ফোন ধরছেন না। কোনো অনুষ্ঠানে হয়তো ঢাকার বাইরে গিয়েছেন। কিন্তু নম্বরটি শুক্রবারে চালু থাকলেও পরে গতকাল সন্ধ্যার পর বন্ধ পান।
গতকাল সন্ধ্যার পর পপি ভবনের সামনে ভিড় জমে। পরিস্থিতি বোঝার জন্য শামসুদ্দোহা আরও কয়েকজনকে নিয়ে চলে যান মনি কিশোরের দরজার সামনে। তখন গন্ধে তাঁরা দাঁড়াতেই পারছিলেন না। ধরে নেন, মনি কিশোরের কিছু একটা হয়েছে। অনেক ডাকাডাকি করেন। শামসুদ্দোহা আজ রোববার দুপুরে প্রথম আলোকে জানান, সন্দেহ হলে তিনি মনি কিশোরের বন্ধু আদনান বাবুকে প্রথম ফোন দিয়ে দ্রুত আসতে বলেন। তখন আদনান পরামর্শ দেন দ্রুত ৯৯৯–এ ফোন করতে।
রাত ৯টা ৪৫ এর দিকে ৯৯৯ ফোন দিয়ে পুলিশকে ঘটনা জানান। রাত ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পরে বাড়ির মালিক ও পাশের বাসার প্রতিবেশীসহ আরও কয়েকজন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। দরজা খোলা হয়। তাঁরা দেখতে পান বিছানায় হাত-পা ছড়িয়ে শুয়ে আছেন মনি কিশোর। তিনি খালি গায়ে ছিলেন। পরনে ছিল প্যান্ট। তাঁর শরীর ফুলে গেছে। কিছু জায়গায় পচন ধরেছে। রাতেই লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
পাশের বাসার প্রতিবেশী তাজুল মিয়া জানান, মনি কিশোর বেশির ভাগ সময় বাইরে থেকেই খেয়ে আসতেন। আর মাঝেমধ্যে কাঁচাবাজার করে নিয়ে আসতেন। তবে সেগুলো তিনি নিজে তেমন রাখতেন না। এগুলো প্রতিবেশী অনেককেই দিয়ে দিতেন। তাঁদেরকেও অনেক সবজি দিয়েছেন। তাজুলের স্ত্রী পাশ থেকে বলেন, ‘মনি স্যারকে আমরা তিন বছর ধরে দেখছি এই বাসায়। এ সময় তাঁকে কখনোই খারাপ পাইনি। তিনি নিজের জন্য ফল কিনে আনতেন। একা মানুষ কত আর ফল খাবেন, অনেক ফল এটা–ওটা আমাদের দিয়ে দিতেন।’ এ সময় আফসোস করে তিনি আরও বলেন, ‘অনেকেই দেখতে আসছেন কিন্তু তাঁর আপন কেউ এখনো আসেনি। একটা মানুষ মরে গেল। কোথায় থাকত, কী অবস্থা কেউ দেখতে এল না। এমন মৃত্যু যেন কারও না হয়।’
বাসার মালিক শামসুদ্দোহা জানান, তিনি বিটিভির প্রযোজক হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। সেই নব্বইয়ের দশকের সময় থেকে তরুণ অনেককে দিয়ে গানের অনুষ্ঠান করিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছিল মনি কিশোর। সেই থেকে পরিচয় হলেও তিন বছর আগে তেমন যোগাযোগ ছিল না। তাঁর ওই বাসায় তিন বছর আগে থাকতেন আদনান। তিনি একদিন জানালেন, বাসায় তাঁর সঙ্গে থাকবে মনি কিশোর।
‘মনি কিশোর থাকবে শুনে খুশি হয়েছিলাম। আমাদেরই ছেলে। আমি মানা করিনি। মনিকে আমি সেই আগে থেকেই তুই বলতাম। সে আমাকে আব্বা বলত। ওকে মাঝেমধ্যে দেখতাম তিন-চার দিন কোনো খবর নেই। পরে বলত, শো করতে গিয়েছিল। সেটাও খুবই কম। এবার ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও ভাড়া দিচ্ছিল না। আমি নিয়মিত ফোন দিতাম। কিন্তু ধরত না। পরে ব্যাকও দিত না। ধরে নিয়েছিলাম এবারও শো করতে গেছে। প্রতিদিনই ফোন দিতাম। পরে কাল রাতে যখন ফোন বন্ধ পাই, তখন মনে হয় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছে। এভাবে ওর চলে যাওয়াটা খুবই দুঃখজনক’, বলেন শামসুদ্দোহা।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন মনি কিশোর। এ ছাড়া মানসিক চাপেও থাকতেন। পরিবারের সঙ্গে তাঁর তেমন যোগাযোগ ছিল না। আগেই বিচ্ছেদ হয়। পরে তাঁর সাবেক স্ত্রী শামীমা চৌধুরী ও একমাত্র কন্যা নিন্তি চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। শামসুদ্দোহা বলেন, ‘পরিবারের সঙ্গে তেমন একটা যোগাযোগ ছিল না, যত দূর জানি। মাঝে কিছু সময় মানসিকভাবেও চিন্তিত ছিল। আবার কয়েক দিন আগেই শোনাল, আবার নিয়মিত গানে ফিরছে। এটা নিয়ে কিছু সাক্ষাৎকারও দেখলাম। এর মধ্যেই ছেলেটি মারা গেল। বিটিভিতে থাকা অবস্থায় তরুণদের নিয়ে অনেক প্রোগ্রাম করেছি। সেসব আয়োজন দিয়ে তৈরি হয়েছিল মনি কিশোর। এখনো সেই সম্মান করত।’
জানা গেল, মনি কিশোর সম্প্রতি একটি টেলিভিশনে যোগদান করেছিলেন। সেই কাজেও তাঁকে ব্যস্ত দেখেছেন বন্ধু ও সহকর্মীরা। শামসুদ্দোহা জানান, মনি কিশোর রামপুরা বাজারের পাশে ‘তাল তরঙ্গ’ নামের একটি দোকানে নিয়মিত আড্ডা দিতেন। সেই আড্ডার এক সহকর্মী মুঠোফোনে বলেন, ‘মনি একসময় যে জনপ্রিয়তা পেয়েছিল, পরে সেভাবে ক্যারিয়ার দাঁড় করাতে পারেনি। এর জন্য বিভিন্নভাবে রাজনীতিরও শিকার হয়েছেন। এই নিয়ে মন খারাপ থাকত। পরে বিচ্ছেদ, আবার মেয়েটিও দেশের বাইরে থাকত। তার সঙ্গে তেমন কথা হতো না। সে অনেকটাই একা হয়ে গিয়েছিল। নিঃসঙ্গ জীবন যাপন করত। কিন্তু বাইরে থেকে কাউকে বুঝতে দিত না। চেয়েছিল গান নিয়ে আবার ফিরতে। সেটা আর হলো না। নিঃসঙ্গভাবেই মরে গেল।’
এই সময় আড্ডার ওই সহকর্মী আরও বলেন, ‘আজ মনি কিশোরকে আঞ্জুমান মুফিদুলের মাধ্যমে দাফন করতে হয় কেন? অথচ শিল্পীদের সংগঠনের কেউ কোনো খবরও রাখেননি। কেউ বলেনি লাশটা দায়িত্ব নিয়ে দাফন করা হোক। এর চেয়ে হতভাগ্য আর কোনো শিল্পীর হয়েছে। মনি নিজেও জানত, সে মরে গেলে এমনই হবে। শিল্পী হয়েই আমরা শিল্পীদের সম্মান দিতে পারি না।’
‘কী ছিলে আমার বলো না তুমি’, ‘মুখে বলো ভালোবাসা’, ‘আমি মরে গেলে তুমি জানি কাঁদবে না’, এমন বহু গানের এই শিল্পী নীরবেই থাকতে পছন্দ করতেন। চলতেন সাধারণ যেকোনো মানুষের মতো। ভক্তরাও তাঁকে চিনতে পারতেন না। পপি ভবনের পাশের বাসার দারোয়ান আসাদ আলী আফসোসের সুরে বলেন, ‘মনি স্যারকে বহুদিন ধরেই চিনি। কিন্তু তিনি যে গায়ক সেই মনি কিশোর, এটা জানতাম না। কলেজে পড়ার সময় তাঁর গান নিয়মিত শোনতাম। তাঁর অ্যালবাম কিনেছি। তিনি আমার পছন্দের শিল্পী। কিন্তু গতকাল জানতে পারলাম, তিনি সেই মনি কিশোর। আগে জানলে তো ছবি তুলে রাখতাম।’
মরদেহ কী করতে হবে মনি কিশোর জানিয়ে গেছেন
নব্বই দশক থেকেই গান গেয়ে শ্রোতার মন মাতিয়েছেন মনি কিশোর। সেই কবে গেয়েছিলেন ‘কী ছিলে আমার, বলো না তুমি’; তা আজও অনেক সংগীতপ্রেমী গেয়ে ওঠেন আপন মনে। সেই গানের স্রষ্টা মনি কিশোর দীর্ঘ সময় ধরে ছিলেন লোকচক্ষুর অন্তরালে। অনেকটা অভিমান থেকে নিজেকে আড়াল করে রেখেছিলেন। শেষ দিকে তো এমনও হয়েছে, কেউ যাতে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারে, নিজের ব্যবহৃত পুরোনো মুঠোফোন নম্বর বন্ধ করে দিয়েছিলেন।
রামপুরা টেলিভিশন ভবনের পাশে একটি ভাড়া বাসায় একা থাকতেন। গতকাল শনিবার রাতে চিরদিনের জন্য তাঁর শেষ পৃথিবী ভ্রমণের খবর পাওয়া যায়। পুলিশ কর্মকর্তারা তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেন। মারা যাওয়ার পর মরদেহ কী করতে হবে, তা বলে গিয়েছিলেন একমাত্র মেয়ে নিন্তিকে।
মনি কিশোর পাঁচ শতাধিক গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। রেডিও-টিভির তালিকাভুক্ত শিল্পী হলেও গান গেয়েছেন অল্প। সিনেমায়ও তেমন গাননি।
মূলত অডিওতে চুটিয়ে কাজ করেছেন। তাঁর জনপ্রিয় গানের মধ্যে ‘কী ছিলে আমার’, ‘সেই দুটি চোখ কোথায় তোমার’, ‘তুমি শুধু আমারই জন্য’, ‘মুখে বলো ভালোবাসি’, ‘আমি মরে গেলে জানি তুমি’ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। তাঁর সবচেয়ে শ্রোতাপ্রিয় গান ‘কী ছিলে আমার’ তাঁরই সুর করা ও লেখা। মাঝে দীর্ঘদিন নতুন গান প্রকাশ থেকে দূরে ছিলেন এই গায়ক। চলতি বছর এক সাক্ষাৎকারে জানান, তিনি আবারও গান করছেন। জানিয়েছিলেন, পুরোনো গানগুলো ইউটিউবে দিচ্ছেন পর্যায়ক্রমে। জনপ্রিয় গান ‘কী ছিলে আমার’ নতুন করে প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তাঁর ভাষ্য ছিল, এ প্রজন্মের শ্রোতারা গানটি শুনেছেন।
ইউটিউবে প্রচুর ভিউ। স্টেজে গেয়ে থাকেন তরুণেরা। কিন্তু গানের মূল গায়ককে তাঁরা চেনেন না। গানটির সুরকার ও গীতিকার কে, তা জানেন না। এ রকম জায়গা থেকে ভেবেছেন, এ প্রজন্মের কাছেও গানটি পরিচিত হোক। তাঁদের মধ্যে এটি ছড়িয়ে দেওয়া দরকার। এ ছাড়া আলাদা করে দেড় শ গান তৈরি করেছেন। তিনি বলেছিলেন, ‘গানগুলো আমার জীবদ্দশায় প্রকাশ করতে চাই না। কিছু গান মৃত্যুর পরও প্রকাশ পাবে।’ জীবদ্দশায় মনি কিশোর তাঁর এই গানগুলো প্রকাশের আগেই চলে গেলেন অনন্তযাত্রায়। এই শিল্পী যেমনটি চেয়েছিলেন, হয়তোবা সেই ইচ্ছা পূরণ করবে তাঁর পরিবার। তাঁর তৈরি হওয়া গানগুলো হয়তোবা সামনে প্রকাশিত হবে।
আজ রোববার সকালে কয়েক দফায় কথা হয় মনি কিশোরের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা অশোক কুমার মণ্ডলের সঙ্গে। তিনি জানালেন, মনি কিশোর তাঁর পোশাকি নাম। প্রকৃত নাম অরুণ কুমার মণ্ডল। পুলিশ কর্মকর্তা বাবা অনিল কুমার মণ্ডলের ছেলে অরুণ কুমার মণ্ডল ছিলেন কিশোর কুমারের ভক্ত। ডাকনাম ছিল মনি। কিশোর কুমারের ভক্ত ছিলেন বলে নামের সঙ্গে ‘কিশোর’ জুড়ে নিয়েছিলেন। জীবিত থাকা অবস্থায় মনি কিশোর প্রথম আলোকে মজা করে বলেছিলেন, ‘কুমার শানু নিয়েছেন “ওস্তাদের” নামের একাংশ। আমি নিয়েছি তাঁর নামের আরেক অংশ।’
নব্বই দশকের শুরুতে বিয়ে করেন মনি কিশোর। দেড় যুগ আগে তাঁদের দাম্পত্যজীবনের ইতি ঘটে। বিয়ের সময়ই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন মনি কিশোর। সে হিসেবে তাঁর মরদেহের দাফন করা হবে বলে জানালেন ভাই অশোক কুমার। তিনি জানালেন, মনি কিশোর বেঁচে থাকা অবস্থায় তাঁর দাফনের বিষয়টি একমাত্র মেয়ে নিন্তিকে জানিয়েছিলেন। অশোক কুমার বললেন, ‘মেয়ে আমার বড় ভাইকে জানিয়েছে, তাঁর বাবাকে যেন দাফন করা হয়। এটা নাকি ওর বাবা ওকে বলে গিয়েছিল। মেয়েকে যেহেতু বলে গিয়েছে, তাই তার ইচ্ছামতো দাফনের কাজটাই করা হবে। এটা নিয়ে আমরা অন্য কোনো ধরনের সিদ্ধান্তে যাব না।’
কোথায় দাফন করা হবে, জানতে চাইলে অশোক কুমার মণ্ডল বললেন, ‘আমাদের সেভাবে কোনো চাওয়া নেই। আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। এরপর ওরাই সিদ্ধান্ত নেবে, কোথায় মরদেহ দাফন করা হবে। থানা থেকে এটা যোগাযোগ করা হয়েছে বলে শুনেছি। মেয়ে শুধু এটুকু বলেছে, ওর বাবাকে যেখানে কবর দেওয়া হচ্ছে, সেখানে যেন একটা চিহ্ন রাখা হয়।’
অশোক কুমার মণ্ডল জানান, মনি কিশোর নানা রোগে ভুগছিলেন। এর মধ্যে হার্টের সমস্যা যেমন ছিল, তেমনি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও শ্বাসকষ্টের সমস্যাও। কয়েক মাস ধরে এ সমস্যা আরও প্রকট হয়।
পুলিশ কর্মকর্তা বাবার সাত সন্তানের মধ্যে মনি কিশোর চতুর্থ সন্তান। চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবচেয়ে বড় ভাই মারা গেছেন। দেড় যুগ আগে মনি কিশোরের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর বিচ্ছেদ হওয়ার পর থেকে একা থাকতেন। তাঁর একমাত্র মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী। নড়াইল জেলার লক্ষ্মীপুরে মামাবাড়িতে ১৯৬১ সালের ৯ জানুয়ারি জন্ম মনি কিশোরের। পুলিশ কর্মকর্তা বাবার চাকরিসূত্রে দেশের বিভিন্ন জেলায় থাকা হয়েছে তাঁর।
নব্বই দশকের শুরুতে ‘চার্মিং বউ’ অ্যালবামের ‘কী ছিলে আমার’ শিরোনামের একটি গান মনি কিশোরকে প্রতিষ্ঠিত ও ব্যাপক পরিচিত করে দেয় সংগীতাঙ্গনে। একে একে ৩০টির বেশি একক অ্যালবাম করে ফেলেন। তারপর একসময় অডিও জগৎ নানা উত্থান–পতনের মধ্য দিয়ে যেতে থাকল। একটা সময় মনি কিশোরের আর নিয়মিত দেখা মেলেনি।
![]() |
| মনি কিশোর। ছবি: সংগৃহীত |
![]() |
| মনি কিশোর পাঁচ শতাধিক গানে কণ্ঠ দিয়েছেন ছবি: সংগৃহীত |
![]() |
| মনি কিশোর। ছবি: সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1449)
- ► 2025 (3281)
-
▼
2024
(2551)
-
▼
October
(563)
-
▼
Oct 21
(17)
- ১১ সন্তান থাকলেও ভাত জোটে না শতবর্ষী বাবার
- জম্মু-কাশ্মীরে ‘সন্ত্রাসী’ হামলায় ৬ শ্রমিকসহ এক চি...
- হাসিনার পদত্যাগ ইস্যুতে রাষ্ট্রপতি মিথ্যাচার করেছে...
- ইসরাইল গাজায় গণহত্যা করছে : কমলা হ্যারিস
- ডালিম পেকে ফেটে গেলেও তুলতে পারছেন না লেবাননের কৃষকরা
- মনি কিশোরের মৃত্যু: গতকাল যা ঘটেছিল রামপুরার পপি ভবনে
- শেখ হাসিনা রাজনীতি করার জন্য আর দেশে ফিরতে পারবেন ...
- মুরাদনগরে যত অপকর্মে জড়িত সাবেক এমপি হারুন
- বিহারি ক্যাম্পে অস্থিরতা, ৪ খুন by সুদীপ অধিকারী
- পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে ভারতীয় দূতের একঘণ্টা বৈঠক
- ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে তুলকালাম: ফল পরিবর্তনের আন্দোলন
- সাকিব ইস্যুতে রণক্ষেত্র মিরপুর by ইশতিয়াক পারভেজ
- দুদকে থমকে গেছে পুরনো অনুসন্ধান by মারুফ কিবরিয়া
- অধ্যাদেশ দিয়ে চলবে সংসদ সচিবালয় by কাজী সোহাগ
- আন্দোলনের প্রভাবে শিশুদের আচরণিক পরিবর্তন
- সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পুনর্বহাল
- সিলেটে কার্যক্রম শুরু দুই পিপি’র: একাংশের ক্ষোভ
-
▼
Oct 21
(17)
-
▼
October
(563)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...



No comments:
Post a Comment