Sunday, September 1, 2024
আন্দোলনে শহীদ সন্তান: স্মৃতি বুকে জড়িয়ে কেঁদেই যাচ্ছেন বাবা by ফাহিমা আক্তার সুমি
আন্দোলনে শহীদ সন্তান: স্মৃতি বুকে জড়িয়ে কেঁদেই যাচ্ছেন বাবা by ফাহিমা আক্তার সুমি
ওর মাথায় গুলি লেগে পেছন দিক থেকে বের হয়ে যায়। আমি সেদিন কাজে বাইরে ছিলাম। বাইরে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই এই ঘটনা ঘটে। মোহাম্মদপুর ক্লাবের কাছে গুলিবিদ্ধ হয়। আমার দুই ছেলে এক মেয়ে। দুই ছেলের মধ্যে রাকিব ছিল ছোট। ওর মা গ্রামের বাড়িতে থাকে। কখনো আমার সন্তানদের গায়ে হাত তুলিনি। আমার সেই আদরের মানিকটার মাথা গুলিতে ঝাঁজরা করে দিলো। রাকিব বলতো আব্বু ফুটবল খেলা শিখবো, একদিন বড় খেলোয়াড় হবো। আমার ইচ্ছা ছিল ছেলেকে বুয়েটে পড়াবো সেইভাবে এখন থেকে গাইড দিতাম। এখন আমার বাসায় আসতে মন চায় না, জীবনটা এলোমেলো হয়ে গেছে। ৪৩ বছর ধরে ঢাকায় থাকি এমন অমানবিকভাবে মৃত্যু আর কখনো দেখিনি। ৯ বছর বয়সে রাকিবকে ঢাকায় নিয়ে আসি। কতো শত বাবা-মায়ের বুক খালি হয়েছে তার ঠিক নেই। ছেলে তো আর ফিরে আসবে না সারাজীবন বুকে পাথর চেপে থাকতে হবে। আমার সন্তান হারিয়ে ফেলেছি আর এই শহর ভালো লাগে না।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জাকির হোসেন রোডের আবুল খায়েরের ভাড়া বাসায় গিয়ে দেখা যায়, সন্তানদের নিয়ে জীর্ণশীর্ণভাবে এক রুমে ভাড়া থাকেন তিনি। সেখানে থাকা রাকিবের জামা-কাপড়, ছবি-বই, স্কুলের আইডি কার্ড ধরে কেঁদে যাচ্ছেন। দুই সন্তানকে নিজ হাতে রান্না করে খাওয়াতেন। রাকিব ছোট হওয়ায় তাকে স্কুলে আনা-নেয়া করতেন। মোহাম্মদপুরের আইটিজেড স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ছিল রাকিব। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বিদ্যুৎ বিভাগের লাইনম্যানের চাকরি করেন রাকিবের বাবা। লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে তাদের বাড়ি। আবুল খায়ের বলেন, আমার সন্তান অনেক মেধাবী ছিল। বুকের মানিকটা এখন আর আমার কোলে ঘুমায় না। সন্তানের সব জামা-কাপড়গুলো যত্ন করে রেখেছি। বড় ছেলে মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজে পড়ে। দুই ভাই একসঙ্গে জড়িয়ে থাকতো। ওদের লেখাপড়া করার জন্য ঢাকায় নিয়ে আসি। রাকিবকে স্কুলে আনা-নেয়া করতাম। আমি এখন কাকে হাত ধরে স্কুলে নিয়ে যাবো। কে আমাকে বাবা বলে ডাকবে। কে আমার কাছে আবদার করবে। সেদিন মাঠে খেলার কথা বলে বাইরে বেরিয়েছিল রাকিব।
তিনি বলেন, ঘটনার দিন দুপুরে খাবারের পর রাকিবকে বলি আব্বু একটু রেস্ট নাও বাইরে ঝামেলা। তখন সে চুপ করে ছিল। আমি বাইরে যাওয়ার পর শুনি রাকিব বাইরে গেছে। তখন আমি বাসায় নিয়ে আসার জন্য খুঁজতে বের হই। কিছুক্ষণ পরে আমার বড় ছেলে ফোন দিয়ে বলে আব্বু রাকিব তো আর নেই মারা গেছে। তখন আমি বিশ্বাস করতে পারিনি। রাকিবের মাথায় গুলি করে সরাসরি। পরে পথচারীরা কয়েকজন মোবাইলে ভিডিও করে রাখে সেইটা দেখে আমি ছেলেকে চিনতে পারি। তারা জানায় রাকিবকে সিটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সিটি হাসপাতালের দিকে যখন যাওয়ার জন্য রওনা দেই তখন পথে কিছু অপরিচিত লোক আমাদের আটকায়। সিটি হাসপাতালে গিয়ে খুঁজে পাইনি ছেলেকে তখন রাত ১০টা বাজে। বাইরের পরিস্থিতি ছিল অনেক ভয়াবহ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়লাম। রাত ১২টায় নিউরোসাইন্স হাসপাতালে যাই সেখানে গিয়ে দেখি আমার বাবার লাশ মর্গে রাখা। তাদের অনেক রিকুয়েস্ট করি আমার ছেলেটাকে দিয়ে দেন। কিন্তু তারা বার বার থানায় ফোন দিয়ে কোনো সাড়া না পেয়ে আমাদেরও কিছু বলেনি। অনেক চেষ্টা করার পরেও আমার ছেলের মরদেহ ওই রাতে পেলাম না। রাত আড়াইটার সময় হাসপাতাল থেকে আমাকে বলে আজ আর পাবেন না আগামীকাল আসেন।
আবুল খায়ের বলেন, রাত তিনটা-সাড়ে তিনটার দিকে থানায় যাই কোনো কাজ হয়নি। পরের দিন সকালে আবার মোহাম্মদপুর থানায় যাই। সেখান থেকে বলে এটা শেরেবাংলা নগর থানার কেস। এরপরে যাই শেরেবাংলা নগর থানায়। সেখান থেকে তারা আবার বলে এটা মোহাম্মদপুর থানার কেস। এভাবে চার-পাঁচবার এক থানা থেকে আরেক থানায় ঘুরতে থাকি। তখন মনে হয়েছে আমার বুকে পাথর চেপে সন্তানের লাশের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। ওদিকে ওর মায়ের অবস্থা খুবই খারাপ ছিল ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে।
তিনি বলেন, নিউরোসাইন্স থেকে পাঠায় সোহরাওয়ার্দীতে সেখান থেকে মরদেহ নিতে হবে। সেখানের মর্গে গেলে বলে এখন তো ডাক্তার নেই। এখন লাশ নিতে হলে ডাক্তার আনতে হবে। তখন এমন পরিস্থিতি ছিল কোনো যানবাহন ছিল না বাধ্য হয়ে একটা এম্বুলেন্স ঠিক করি দেড় হাজার টাকা দিয়ে। সেটি নিয়ে ফার্মগেট এসে একজন চিকিৎসককে নিয়ে যাই। নিজের সন্তানের লাশ নিতে এতো যন্ত্রণা পোহাতে হবে বুঝতে পারিনি। মনে হয়েছে আমি ভিন্ন দেশের মানুষ কোনো যুদ্ধের মধ্যে পড়েছি। আমাদের কোনো নিরাপত্তা ছিল না। এম্বুলেন্স দেখতে পেয়েও রাস্তায় বিভিন্ন জায়গায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটকায়। ছেলের রিপোর্টগুলো দেখালেও বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। শেষে দেড় ঘণ্টা পর রাস্তায় ঝামেলা শেষ করে ডাক্তার নিয়ে হাসপাতালে ফিরি। সে সময় কোনো এম্বুলেন্সও যেতে রাজি হতো না যদি কেউ রাজি হয় তারা অতিরিক্ত ভাড়া চেয়ে বসে থাকে। পরে ছেলের মরদেহ গ্রামে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিশ হাজার টাকা দিয়ে একটি এম্বুলেন্স ঠিক করি। গত ২০শে জুলাই গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় রাকিবকে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1410)
- ► 2025 (3281)
-
▼
2024
(2551)
-
▼
September
(772)
-
▼
Sep 01
(28)
- ঢামেকে চিকিৎসকের ওপর হামলা নিয়ে সারজিসের কড়া বার্তা
- শেখ হাসিনাকে নিয়ে কূটনৈতিক উভয় সঙ্কটে ভারত -টেলিগ্...
- ভ্যানে লাশের স্তূপ ভয়ঙ্কর ভিডিও একটি অনুসন্ধান by ...
- মনিরুলের আনা ২৫ কোটি টাকা গেল কোথায়? by মরিয়ম চম্পা
- বিদ্যমান সংবিধান দিয়ে কোনো গণতান্ত্রিক সরকার চলতে ...
- উচ্চ শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতির রক্তক্ষরণ
- ছোট গল্প: জীবন নামক গহীন জঙ্গলে ডানপিটে মেয়ে আর ল...
- শ্বেতপত্র কী এবং কী কাজে আসবে?
- নিষিদ্ধ ও গভীর রহস্যের দেশ তিব্বত
- নির্বাচন আয়োজনে অযৌক্তিক সময় নষ্ট করা হবে না : প্...
- শিগগিরই সংস্কারের রূপরেখা দেবেন প্রধান উপদেষ্টা
- সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা
- ভ্যানে লাশ তোলার ভাইরাল ভিডিওর পুলিশ কর্মকর্তা আ.ল...
- গণমাধ্যমের স্বাধীনতাবিরোধী সব কালাকানুন বাতিলের দা...
- যুবদলের নামে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে ছাত্রলীগ নেতা ধরা
- ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে প্রতিরক্...
- একের পর এক বিলাসবহুল গাড়ি বের হওয়ার ভিডিও, যা জানা...
- ভ্যানে লাশের স্তুপ করা ভিডিও আশুলিয়া থানা রোডের by...
- সংস্কার ও নির্বাচনের সময়সীমা নিয়ে আলোচনা: দলগুলোর ...
- হাসিনাকে ফেরত দিলে বাংলাদেশ ভারত নতুন অধ্যায়ের সূচ...
- আন্দোলনে শহীদ সন্তান: স্মৃতি বুকে জড়িয়ে কেঁদেই যাচ...
- ১ লাখ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: এস আলমের বিরুদ্ধে ...
- দুর্নীতির স্বার্থে গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করা হ...
- মৌলভীবাজারে বন্যা: কমছে পানি, বাড়ছে দুশ্চিন্তা by ...
- ফেনীতে বন্যায় তছনছ বাড়িঘর-সড়ক by নাজমুল হক শামীম
- গণতন্ত্রকে নির্বাসন থেকে ফিরিয়ে আনার সময় এসেছে: তা...
- পান্নার মৃত্যু নিয়ে রহস্য, আসলে কতো টাকা ছিল?
- সড়কে শৃঙ্খলা নেই, যানজট আর ভোগান্তি by নাজমুল হুদা
-
▼
Sep 01
(28)
-
▼
September
(772)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
No comments:
Post a Comment