ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারির পর ইরানে মার্কিন হামলা, উত্তেজনা নতুন মাত্রায়

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে দেশটির বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ইরানের হামলার পর এই প্রতিশোধমূলক অভিযান চালানো হয় বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত সপ্তাহে আলোচনার সুযোগ করে দিতে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যে সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিলেন, তার পর এটিই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সরাসরি হামলা। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বুধবার স্থানীয় সময় রাত ৮টা থেকে হামলা শুরু হয়।

এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানি হামলার জবাবে এটি একটি শক্তিশালী জবাব। হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোর জবাব দেয়ার ঘোষণা দেন। ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি অশালীন শব্দ ব্যবহার করে বলেন, আমরা তাদের কঠোরভাবে আঘাত করব। এবার আমাদের পালা। তারা বড় ধরনের মূল্য দেবে। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, হামলার দায় স্বীকার করে ইরান কৌশলগত ভুল করেছে।

শুক্রবার ট্রাম্প সামরিক অভিযান স্থগিত করে কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ দেয়ার ঘোষণা দেন। তবে পাঁচ দিন পর জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্য দিয়ে সেই বিরতি ভেঙে যায়। ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানঘাঁটি এবং একটি কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়েছে। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, ছোড়া সব ক্ষেপণাস্ত্রই প্রতিহত করা হয়েছে এবং কোনোটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারেনি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যতদিন হুমকি ও সামরিক চাপ অব্যাহত রাখবে, ততদিন তেহরানের প্রতিরোধও চলবে। একই সঙ্গে তারা মার্কিন কর্মকর্তাদের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দেয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে আইআরজিসির নৌবাহিনী দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির দিকে ইরানের অনুমোদনহীন পথ ব্যবহার করে এগিয়ে আসা তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারকে তারা লক্ষ্যবস্তু করেছে। সর্বশেষ এই হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে আঞ্চলিক সংঘাত বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারির পর ইরানে মার্কিন হামলা, উত্তেজনা নতুন মাত্রায়