Tuesday, October 22, 2024
পথের চাঁদা কমেছে বাজারে আগের মতোই by সুদীপ অধিকারী
পথের চাঁদা কমেছে বাজারে আগের মতোই by সুদীপ অধিকারী
সরজমিন দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সবজি বোঝাই করে একের পর এক ট্রাক এসে থামছে কাওরান বাজারের ওয়াসা, জনতা টাওয়ার, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স ভবন, ইত্তেফাক ভবনসহ বিভিন্ন রাস্তায়। কিছু গাড়ি আবার প্রধান সড়কে পার্কিং করে সেখান থেকে ভ্যানে করে আড়তগুলোতে পণ্য নিয়ে আসছে। এমনই এক গাড়ির চালক মো. সাগর। তিনি নীলফামারীর সৈয়দপুর থেকে সবজি বোঝাই করে কাওরান বাজারের আড়তে নিয়ে এসেছেন। সাগর বলেন, ৫ই আগস্টের আগে আমার এই ট্রাকটি কাওরান বাজার আসতে পাগলাপীর বাজার, বালাবাড়ী হাইওয়ে পুলিশ তল্লাশি চৌকি, সৈয়দপুর উপজেলা শহর, রংপুর নার্সিং কলেজ এলাকা, রংপুর-বগুড়া মহাসড়কের শঠিবাড়ী, গোবিন্দগঞ্জ, মোকামতলা, বগুড়ার প্রথম বাইপাস, মাটিডালি, চারমাথা, ভবেরবাজার, হাটিকুমরুল, টাঙ্গাইল, এলেঙ্গা, মীরেরবাজারসহ অন্তত ১৪ স্থানে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হতো। কিছু কিছু স্পটে মাসিক চুক্তি ছিল। নির্দিষ্ট মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে মাসে ২ থেকে ৪ হাজার টাকা দেয়া লাগতো। পুলিশ থেকে রাজনৈতিক নেতা সকলে ওই টাকার ভাগ পেতো। তবে এখন আর পথে আগের মতো চাঁদা দেয়া লাগছে না। সাগরের মতোই চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থেকে সবজির ট্রাক নিয়ে এসেছেন রায়হান। সড়কে চাঁদাবাজির বিষয়ে তিনি বলেন, এখন পথে গাড়িতে কোনো চাঁদা দেয়া লাগে না। আগে যার কাছ থেকে যেমন পারতো চাঁদা নিতো। গাড়ি আটকালেই চাঁদা দেয়া লাগতো। একটা ট্রিপ নিয়ে ঢাকায় আসতে আগে ১ হাজার থেকে ১৫শ’ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দেয়া লাগতো। হাতে লাঠি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতো। চাঁদা না দিলেই গাড়ির গ্লাস ভেঙে দিতো। ২-৩শ’ টাকার জন্য ৮-১০ হাজার টাকার গ্লাস ভেঙে দেবে বলে কেউ কিছু বলতো না। এ ছাড়া পুলিশের উৎপাত তো ছিলই। যেই জেলা পার করতাম সেসব হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির নামে চাঁদা নেয়া হতো। রাতে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশির নামেও টাকা আদায় করা হতো প্রতি গাড়ি থেকে। এখন এসব বন্ধ হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় আছে, তবে আগের মতো না। তিনি বলেন, মাঝে কিছুদিন বন্ধ থাকলেও এখন আবারো কাওরান বাজারে সিটি করপোরেশনের গাড়ি পার্কিংয়ের নামে ২০০-৩০০ টাকা চাঁদা নেয়া হচ্ছে। এই টাকা না দিলে কেউ কাওরান বাজারে গাড়ি ঢোকাতে পারে না। সুমন নামে আরেক ট্রাকচালক বগুড়া থেকে সবজি নিয়ে নিয়মিত আসেন ঢাকাতে। সড়কের চাঁদাবাজির বিষয়ে তিনি বলেন, আগে পুলিশের নামে, শ্রমিক ইউনিয়নের নামে, মালিক সমিতির নামে, সিটি করপোরেশন, পৌরসভার নামে, এই টোল, ওই টোল বিভিন্ন বাহানায় চাঁদা নেয়া হতো। রাতে রাস্তায় মাঝে মধ্যে পুলিশের লোক আমাদের চোখে টর্চলাইট, লেজার লাইট মেরে সিগন্যাল দিতো। কোথাও কোথাও লাল পতাকা বাঁধা লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে থাকতো। মালবাহী ট্রাক দেখলেই ডাউন দিতো, দৌড়ে চলে আসতো। তাদেরকে টাকা না দিয়ে কেউ গাড়ি নিয়ে যেতে পারতো না। তিনি বলেন, ঢাকায় ঢোকার পরও শ্যামবাজারে মাল নামিয়ে কাওরান বাজারে আসতে আসতে এই সাত কিলোমিটার রাস্তায় তিনটি স্থানে চাঁদা দেয়া লাগতো। তবে পট পরিবর্তনের পর থেকে সড়কের মোড়ে মোড়ে চাঁদা নেয়া বেশির ভাগই বন্ধ আছে। তবে এখনো যাত্রাবাড়ী ও কাওরান বাজারে সিটি করপোরেশনের নামে স্লিপ দিয়ে টাকা নেয়া হয়। সড়কের চাঁদা নেয়া বন্ধ ও তেলের দাম কম হওয়ায় ট্রাক ভাড়া কমেছে কিনা- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ট্রাক ভাড়া সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করেন ট্রাকের মালিকরা। আর তেলের দাম কমেছে সীমিত। তাই পণ্য পরিবহনে ভাড়া আগের মতোই আছে। সাগর, রায়হান, সুমনের মতো সাতক্ষীরা থেকে নিয়মিত কাওরান বাজারে সবজি নিয়ে আসেন ইসরাফিল হোসেন। তিনি বলেন, আগে সাতক্ষীরা থেকে শুরু করে খুলনা, যশোর, ফরিদপুর, ঢাকা পর্যন্ত কয়েকটি স্পটে রাস্তায় চাঁদা দেয়া লাগতো। পুলিশও টাকা নিতো। তিনি বলেন, কেউ যদি রাতে সবজির ট্রাকে ঢাকায় আসতো সে বুঝতো কোথায় কোথায় চালকদের টাকা দেয়া লাগতো। আর ওসব চাঁদাবাজের যে কি খারাপ ব্যবহার তা শুধু আমরাই জানি। তিনি বলেন, আল্লাহ্র রহমতে এখন আপাতত তেমন একটা চাঁদা দেয়া লাগছে না। পুলিশেরও ঝামেলা নেই। তবে এমন কতো দিন থাকবে তার নিশ্চয়তা নেই।
এদিকে মিরাজ সহ কাওরান বাজারের একাধিক আড়তদার বলেন- রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, জয়পুরহাট, ময়মনসিংহ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বগুড়া, যশোর, ফরিদপুর, মাদারীপুর, সাভারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানভর্তি আলু, পিয়াজ, পেঁপে, মিষ্টি কুমড়া, টমেটো, মুখিকচু, ফুলকপি, মরিচ, গাজর, বেগুন, ধনেপাতা, শসা, করলা, লাউসহ বিভিন্ন শাক-সবজি আমাদের বাজারে আসে। এ ছাড়াও পাহাড়ি এলাকা থেকে আনারস, কলা সহ বিভিন্ন ফলমূল আসে আমাদের আড়তে। যারা নিয়মিত আড়তে মাল নিয়ে আসেন তারা ক্ষেত থেকে সবজি সংগ্রহের আগে আড়তদারদের ফোন দিয়ে জেনে নেন বাজারদর। তারপর পণ্য ট্রাকে করে রাতে কাওরান বাজারে নিয়ে আসেন। এখানে আসার পর প্রথমে ট্রাকপ্রতি পার্কিং বাবদ ২-৩ শ’ টাকা দেয়া লাগে। এরপর ট্রাক থেকে মাল নামাতে গাড়ি প্রতি ২৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা লেবার খরচ দিতে হয়। আর ভ্যানে মাল নামলে সেই খরচ আলাদা। এরপর যেই আড়তের মাধ্যমে মাল নামাবে সেই আড়তের মালিককে লাখে ১০ হাজার অর্থাৎ একশ’ টাকার মাল নিয়ে আসলে আড়তদারকে ১০ টাকা খরচ দিতে হবে। লাভ-লসের হিসাব পড়ে। এই খরচগুলো দেয়ার পর মাল বিক্রি করে যা বাঁচবে সেটাই পাবে ব্যাপারী। মাল বিক্রি হোক আর না হোক সবজির ট্রাক ঢুকলে এই খরচগুলো দেয়াই লাগবে। আর কেউ যদি সম্পূর্ণ মাল একবারে আড়তদারের কাছে বিক্রি করে দেয় তাকেও এই খরচ দেয়া লাগে। আবার হাতে কেটে অর্থাৎ নিজের মাল নিজে বিক্রি করবে তাকেও এই খরচ দিতে হয়। কারণ আড়তদারের বাইরে কেউ কাওরান বাজারে পণ্য বিক্রি করতে পারে না। বিশ বছর আগে যেই নিয়ম ছিল এখনো তাই আছে। সবই আগের মতোই চলছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1413)
- ► 2025 (3281)
-
▼
2024
(2551)
-
▼
October
(563)
-
▼
Oct 22
(20)
- অবশেষে আমরণ অনশন প্রত্যাহার করলেন জুনিয়র ডাক্তাররা
- বৈরুতে হিজবুল্লাহর গোপন সম্পদের তথ্য প্রকাশ করল ইস...
- দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও লন্ডনে সাইফুজ্জামান ...
- আত্মহত্যা করছেন গাজাফেরত অনেক ইসরায়েলি সেনা, ‘আমি ...
- আবাসিক এলাকায় নির্বিচার গোলা বর্ষণ, আরও ৮৭ ফিলিস্ত...
- ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর অত্যাধুনিক মার্কিন প্রযুক্তি...
- এভিয়েশন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী ১০ দেশ
- গাজার শিশুদের এমন হাসি দীর্ঘদিন দেখেনি বিশ্ব
- শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র: ভারতীয় গণমাধ্যমে যেভাবে এ...
- শুধু তেল বিক্রি করে ইরানের আয় কত?
- ডিএনএ নমুনা দিয়ে হারিছ কন্যা: ‘আমার অধিকার ছিল না ...
- ‘নির্দেশ আছে তোকে ক্রস ফায়ারে মেরে ফেলার’ by রাশিম...
- কেন পূর্বাভাস দেয়া কঠিন এবার
- প্রেসিডেন্টের বক্তব্য মিথ্যাচার, শপথ লঙ্ঘনের শামিল
- গুলিতে এফোঁড়-ওফোঁড় হাত: স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আকুত...
- এরদোগানকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রে অভিযুক্ত ফেতুল্লাহ গুল...
- ডেঙ্গুর উল্লম্ফন শিশুদের কান্না
- মীমাংসিত বিষয়ে বিতর্ক সৃষ্টি না করার আহ্বান প্রেসি...
- জৈন্তায় ইমরানের ‘জমিদারি’ শাসন by ওয়েছ খছরু
- পথের চাঁদা কমেছে বাজারে আগের মতোই by সুদীপ অধিকারী
-
▼
Oct 22
(20)
-
▼
October
(563)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
No comments:
Post a Comment