Tuesday, January 6, 2015
ফের অবরুদ্ধ, গোটা দেশে সংঘাত-সংঘর্ষ
ফের অবরুদ্ধ, গোটা দেশে সংঘাত-সংঘর্ষ



অবরুদ্ধ
গোটা দেশ। সংঘাত-সংঘর্ষ জেলায় জেলায়। নিষেধাজ্ঞার পরও রাজধানীতে দুই জোটের
শক্তি প্রদর্শনের নিষেধাজ্ঞা। ঢাকায় বিরোধী জোটের সমাবেশ ঘিরে রোববার থেকে
সারা দেশ থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন ঢাকা। এমন অবস্থায় সারা দেশে কর্মসূচি
পালন করেছে বিরোধী জোট। ঘোষণা করা হয়েছে টানা অবরোধের। প্রশাসনের
নিষেধাজ্ঞা, পুলিশি বাধা, গুলিবর্ষণ ও সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের হামলা ও
অবস্থানের কারণে রাজধানীতে সমাবেশ করতে পারেনি বিরোধী জোট। গুলশানের
রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন ও বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতা খালেদা
জিয়াকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে পুলিশ। কার্যালয় থেকে বের হতে চাইলে তার গাড়ি
লক্ষ্য করে পিপার স্প্রে ছুড়ে পুলিশ। অন্যদিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিকালে
সংঘর্ষের পর সেখানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবও কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে আছেন।
তাকে গ্রেপ্তারের জন্য বাইরে অবস্থান করছে পুলিশ। ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে
রাজধানীসহ বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে ঝটিকা মিছিল করেছে বিএনপিসহ জোটের
নেতাকর্মীরা। সেসব মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে গিয়ে টিয়ার শেলের পাশাপাশি
গুলিবর্ষণ করেছে পুলিশ। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের পাশাপাশি
বিরোধী জোট নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে সরকারদলীয় কর্মীরা। এ সময় সারা
দেশে শতাধিক গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও শ’ শ’ ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএনপিপন্থি পেশাজীবী সংগঠনের নেতা ও
সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেছে প্রজন্মলীগ। সারা দেশে পুলিশের গুলিতে নাটোরের
২ ছাত্রদল ও রাজশাহী এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুই বিএনপিকর্মীসহ নিহত হয়েছেন
৪জন। পুলিশ ও সরকারদলীয় কর্মীদের যৌথ হামলায় আহত হয়েছে অন্তত ৫ শতাধিক
বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মী। রোববার রাত থেকে গতকাল দিনভর সারা দেশে চালানো
হয়েছে ব্যাপক ধরপাকড়।
গ্রেপ্তার করা হয়েছে- বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি লায়ন আসলাম চৌধুরী, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বাঘারপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুব, ডিসিসির সাবেক কমিশনার আলতাফ হোসেন, লক্ষ্মীপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন ভূইয়াসহ অন্তত সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নারায়ণগঞ্জ, সিলেট, লক্ষীপুর, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, দিনাজপুর, মৌলভীবাজার, যশোর, ঝিনাইদহ, সিরাজগঞ্জ, চাঁদপুর, ফেনী, গাজীপুর, খুলনা, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা, মেহেরপুর, বাগেরহাট, খাগড়াছড়ি, নরসিংদী, পাবনা, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ ৪০ জেলায় সংঘর্ষ ও গণগ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবাদে সারা দেশে টানা অবরোধের পাশাপাশি নাটোর, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে আজ সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ঢেকেছে ২০দলীয় জোট। দুই জোটের কর্মসূচি আর পাল্টা কর্মসূচি ঘিরে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে বন্ধ রয়েছে অধিকাংশ জেলার বাস চলাচল।
সারা দেশ অবরুদ্ধ: সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দিয়ে বিরোধী জোটের শীর্ষনেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা বলেছেন, আজ সারা দেশে যেভাবে বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত একই ধরনের কর্মসূচি চলবে। গতকাল বিকালে গুলশানের কার্যালয় থেকে বের হওয়ার চেষ্টার পর উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। খালেদা জিয়া বলেন, আমি গত পরশুদিন এসেছিলাম অফিস করতে। অফিস থেকে আমি অসুস্থ রিজভীকে দেখতে যাবো বলে পল্টনে যাওয়ার জন্য আমার গাড়ির মধ্যে বসেছি। তারপরেই দেখি যে পুলিশ এখানে গেট বন্ধ করে রেখেছে। গাড়ি টাড়ি দিয়ে সব অবরুদ্ধ করে রেখেছে। কেন- আমি জানি না। খালেদা জিয়া বলেন, আজ আমাদের কালো পতাকা কর্মসূচি ছিল। সমাবেশ করতে দেয়া হয়নি। পরবর্তী কর্মসূচি না দেয়া পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি চলবে। যখন আবার পরিবেশ পরিস্থিতি আসবে তখন আমরা সমাবেশ করবো। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা চেয়েছিলাম একটা সমাবেশ করবো। সরকার আমাদের সমাবেশ করতে দিলো না। সমাবেশ করতে না দেয়ার কারণ কি? খালেদা জিয়া বলেন, গতবার এই দিনে নির্বাচনের নামে প্রহসন হয়েছে। এই নির্বাচনে মানুষ ভোট দেয়নি। যারা ক্ষমতায় তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি। মানুষের মৌলিক অধিকার নেই। মানবাধিকার, আইনের শাসন নেই। আমার এখানে কাউকে আসতে দেয়া হচ্ছে না।
তিনি বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট বি. চৌধুরীকেও আসতে দেয়া হয়নি। আরও অনেকে আসতে চাইছেন। কিন্তু পারছেন না। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আমাকে বের হতে দেয়া হচ্ছে না। তারা বলছে, আমাকে নিরাপত্তা দিচ্ছে। এটি কিসের নিরাপত্তা। এত দিন নিরাপত্তা দেয়নি। কর্মসূচি এলেই নিরাপত্তা। এভাবে চলতে পারে না। আমি জনগণের কাছে নিরাপদ। আওয়ামী লীগই আমার নিরাপত্তাহীনতার প্রধান কারণ। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, বর্তমানে যারা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত, তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। এ সরকারের অধীনে দেশে সুশাসন বলে কিছু নেই। আজকে আমি শুধু অবরুদ্ধ নই, গোটা দেশটাই অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। আজকে এই সরকার একটা জালেমি সরকার। এই সরকার শুধু দেশকে অবরুদ্ধ করেনি, দেশকে একটা কারাগারে পরিণত করেছ। এই অবস্থা চলতে পারে না। দেশে বর্তমানে একটি অস্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে মন্তব্য করে খালেদা জিয়া বলেন, সারা দেশে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিএনপির কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আর আওয়ামী লীগের লোকজন পুলিশের সহায়তায় বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর আক্রমণ করছে। এটা কোন দেশে বাস করছি আমরা। আজকে এই দেশ বসবাসের অনুপযোগী করে ফেলেছে এই অবৈধ সরকার। দেখলে মনে হয়, দেশে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। জোর করে ক্ষমতায় থাকতে চাইছে। নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষ পরিবর্তন চায়। আজকের পরিস্থিতি থেকে মনে হচ্ছে জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে। তাদের সঙ্গে নেই। এজন্য তারা ভোট দিতে ভয় পায়। খালেদা জিয়া যখন কথা বলছিলেন তখন পুলিশ বাইরে থেকে ভেতরে পিপার স্প্রে করে। এতে খালেদা জিয়াসহ অন্য নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়তে হয়। এসময় দলীয় কয়েকজন মহিলা নেত্রী নিউজ পেপারে আগুন ধরিয়ে গ্যাস অপসারণের চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, কেন রে ভাই, গ্যাস কেন মারা হচ্ছে? আমি তো কথা বলছি। কথাও কি আপনারা বলতে দেবেন না? পুলিশ বাহিনীতে সরকারের এজেন্ট ঢুকে গেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, একটি বিশেষ জেলার লোককে পুলিশ বাহিনীতে ঢোকানো হয়েছে। পুলিশের কাজ নয় এমন কাজও পুলিশকে দিয়ে করানো হচ্ছে। তিনি ফটকের বাইরে দাঁড়ানো পুলিশের সদস্যদের উদ্দেশ্য করে বলেন, বেশি বাড়াবাড়ি করবেন না। বাড়াবাড়ি বেশি দিন টিকবে না। এর পরিণতি ভোগ করতে হবে। খালেদা জিয়া বলেন, এখানে এমন কি হলো যে নারীদের ওপর পিপার স্প্রে করতে হবে? তিনি পুলিশ সদস্যদের বলেন, তাদেরও মা-বোন আছে। তারা এই দৃশ্য দেখলে তাদের (পুলিশের) সম্পর্কে খারাপ ধারণা করবে। খালেদা জিয়া বলেন, দেশে গণতন্ত্র নির্বাসিত। অবৈধ সরকারের কারণে দেশের গণতন্ত্র বিপন্ন। আমাকে কার্যালয় থেকে বের হতে দেয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, শুধু আমি একা অবরুদ্ধ নই, পুরো দেশ আজ কারাগারে পরিণত হয়েছে। নিরাপত্তা দিলে পুলিশ নয়াপল্টনে নিয়ে যেতে পারত আমাকে। খালেদা জিয়া বলেন, দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য বারবার সরকারকে নির্বাচন নিয়ে আলোচনায় আসতে বললেও ক্ষমতাসীনরা তাতে সাড়া দেয়নি। নির্বাচন দিতে এরা ভয় পায় কেন?
একটা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে, সেটাও আমরা আলাপ আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করে নিতে পারি। যেটা অতীতে আমরা করেছি; ঠিক করে নেয়া যায়। কিন্তু তারা সেই পথে না গিয়ে আজকে শুধু গুলি, টিয়ার গ্যাস, হামলা মামলা এগুলো দিয়ে মানুষকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, আমাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে এজন্য যে, আমি কর্মসূচিতে গেলে জনগণের স্রোত নামবে। এই অবৈধ সরকার জনগণকে ভয় পায়। কারণ তাদের পায়ের নিচে মাটি নেই। খালেদা জিয়া বলেন, শুনেছি একুশে টিভি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এটা কোন সমাধান নয়। এর আগেও অনেকগুলো চ্যানেল বন্ধ করে দিয়েছে। তারা কথা বলবে, আর অন্যরা কথা বললে টেলিকাস্ট করতে দেবে না। এটা তো গণতন্ত্রের নমুনা নয়। কার্যালয়ের তালা খুলে দেয়ার দাবি জানিয়ে সরকারের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, আমরা চাই এখনই তারা সব তুলে দেবে, যাতে আমরা সমাবেশ করতে পারি।
অবরুদ্ধ খালেদার বের হওয়ার চেষ্টা
৫ই জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ উপলক্ষে পূর্ব ঘোষিত সমাবেশে যোগ দিতে অবরুদ্ধ তার গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। গতকাল সকাল থেকেই গণমাধ্যম কর্মীসহ দলের নেতাকর্মীরা অপেক্ষা করছিলেন- কখন খালেদা জিয়ার কার্যালয় থেকে বের হবেন। বেলা পৌনে ১২টার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়িচালক কার্যালয়ের ভেতরে রাখা গাড়িটি স্টার্ট দেন। এরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তোড়জোড় শুরু হয়। কার্যালয়ের গেটে কয়েকশ’ নারী পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। এর ঠিক পরের সারিতেই বেশ কয়েকজন ডিবি পুলিশ সদস্য অবস্থান নেন। এরপর শতাধিক সাধারণ পুলিশ ও র্যাব সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। কার্যালয়ের গেটের সামনে আনা হয় জলকামান। খালেদা জিয়ার বের হবেন- এমন খবর পেয়ে বেলা ১২টার দিকে কার্যালয়ের মূল ফটকে একটি চাইনিজ তালা ও পকেট গেটে একটি ছোট তালা লাগিয়ে দেয় পুলিশ। লাইভ সমপ্র্রচারের প্রস্তুতি নেন টিভি চ্যানেলগুলোও। এরপর থেকেই গণমাধ্যম কর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের শুরু হয় রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা। বেলা ১টার দিকে কার্যালয়ের দক্ষিণ দিক দিয়ে ঢোকার চেষ্টা করেন তিনজন মহিলা দলের কর্মী। এসময় পুলিশ তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
বেলা পৌনে ৪টায় অপেক্ষা পালা শেষ হয়। কার্যালয়ের দোতলা থেকে কালো পতাকা হাতে দলের মহিলা নেত্রীদের নিয়ে নিচে নামেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। উপস্থিত সাংবাদিকদের হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান তিনি। এরপর মহিলা নেত্রীরা কালো পতাকা হাতে খালেদা জিয়ার গাড়ির চারপাশে অবস্থান নেন। এসময় দলের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমানকে নিয়ে গাড়ি উঠেন খালেদা জিয়া। গাড়িটি কয়েক গজ এগিয়ে কার্যালয়ের গেটে অবস্থান নেয়। এরপর বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক পুলিশ মহাপরির্দশক আবদুল কাইয়ুম গেটের ফাঁক দিয়ে পুলিশকে তালা খুলে দেয়ার আহ্বান জানান। পুলিশ তাতে সাড়া না দিলে বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসও একই অনুরোধ করেন। তাতেও পুলিশ তালা না খোলায় সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন শিমুল বিশ্বাস। এরপর মহিলা নেত্রীরা সরকারের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন এবং কার্যালয়ের মূল ফটক খোলার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে লোহার রড দিয়ে ভেতর থেকে তালা ভাঙার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন মহিলা নেত্রীরা। এসময় জলকামান থেকে মহিলা নেত্রীদের ওপর পিপার সেপ্র ছোড়ে পুলিশ। গাড়ির দরজা খোলা থাকায় পিপার সেপ্রর গ্যাসে আক্রান্ত হন। এছাড়া পিপার সেপ্রতে খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী মাহবুবুর রহমান ডিউ, চেয়ারপারসন কার্যালয়ের কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার জসিম উদ্দিন, সাবেক এমপি সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া, নিলুফার চৌধুরী মনি, সাংবাদিকদের মধ্যে বিডিনিউজের জ্যেষ্ঠ রিপোর্টার সুমন মাহমুদ, ডেইলি স্টারের সিনিয়র রিপোর্টার রাশেদুল হাসান, চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং কর্মকর্তারাসহ বেশ কয়েক গণমাধ্যমকর্মী আহত হন। এসময় নিউজ পেপারে আগুন ধরিয়ে পিপার সেপ্রর গ্যাস অপসারণের চেষ্টা করেন মহিলা নেত্রীরা। মিনিট পনের পরে পিপার সেপ্রর ঝাঁজ কিছুটা কম হলে ফের মূল ফটক খোলার চেষ্টা করেন মহিলা নেত্রীরা। স্লোগান দিলে পুলিশ আরেক দফা পিপার স্প্রে নিক্ষেপ করে। খালেদা জিয়া তখনও গাড়ির ভেতরে বসে ছিলেন। দীর্ঘ প্রায় ৪৫ মিনিট গাড়িতে বসে থাকার পর দরজা খোলে নিচে নামেন তিনি। এসময় ছোট একটি টুলের ওপর দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেয়া শুরু করেন। এরপর প্রায় দীর্ঘ ২৫ মিনিট বক্তব্য রেখে ফের কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকে পড়েন তিনি।
গুলশান কার্যালয় এলাকায় যুদ্ধাবস্থা
গুলশান-২-এর ৮৬ নম্বর সড়কে ঢোকার সবগুলো পয়েন্টেই পুলিশের ব্যারিকেড। মোড়ে মোড়ে তল্লাশি চৌকি। ৮৬ নম্বর সড়কের ৬ নম্বর বাড়িটি হলো বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়। দলীয় কাজকর্ম সারতে শনিবার রাত ৮টা ২০ মিনিটে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এরপর থেকেই পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। বাড়ানো হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংখ্যা। তিন স্তরের পুলিশের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়। কার্যালয়ের সামনের রাস্তার দক্ষিণ পাশে একটি জলকামান, পুলিশ ভ্যান ও উত্তর পাশে আরেকটি জলকামান ও বেশ কয়েকটি পুলিশ ভ্যান দিয়ে ব্যারিকেড দেয়া হয়। খালেদা জিয়াকে নয়াপল্টনের সমাবেশে যাওয়া ঠেকাতে কার্যালয়ের গেটে ১১টি বালু ও ইটভর্তি ট্রাক এনে রাখা হয়। ওই এলাকায় সাধারণ মানুষ ও যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। বিপুল সংখ্যক নারী পুলিশ, সাধারণ পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। গতকাল পুলিশি নিরাপত্তা বলয় ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নজরদারি এড়িয়ে গুলশান এলাকায় প্রবেশ করতে পারেননি কোন নেতাকর্মী।
প্রতিটি মোড়ে মোড়েই চালানো হয় তল্লাশি। এছাড়া বারিধারার কানাডিয়ান অ্যাম্বাসির সামনের রাস্তা থেকে বনানীর পয়েন্টে চৌকি বসিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। এসময় গণপরিবহন থেকে যাত্রীদের নামিয়ে গাড়ি ফিরিয়ে দেয়া হয়। তবে সকাল ৯টার দিকে জার্মান দূতাবাসের এক কর্মকর্তা গুলশান কার্যালয়ে যেতে চাইলে পুলিশ তাকে ফিরিয়ে দেয়। এসময় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি। এর আগে শনিবার রাতে নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠকের পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে খালেদা জিয়া গুলশানের কার্যালয় থেকে নয়া পল্টনে অসুস্থ দলের যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদকে দেখতে যেতে চাইলে পুলিশ তার পথ আটকায়। রাত পৌনে ১২টার দিকে খালেদা বাসায় যাওয়ার জন্য পুলিশকে ব্যারিকেড সরাতে বলেন। কিন্তু তা না সরানোয় কিছুক্ষণ গাড়িতে অপেক্ষা করে ফের কার্যালয়ে যান তিনি। এরপর সেখানেই তার রাত কাটে। খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে এমন সংবাদ পেয়ে রোববার বিকালে তাকে দেখতে গুলশান কার্যালয়ের সামনে যান সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বিকল্পধারার সভাপতি অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী। তবে পুলিশ তাকে ভেতরে ঢুকতে দেয়নি। কিছুক্ষণ অবস্থানের পর তিনি সেখান থেকে চলে যান। এরপর সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদসহ পেশাজীবীদের একটি প্রতিনিধি দল গুলশান কার্যালয়ে যান। তবে পুলিশ তাদের ভেতরে ঢুকতে অনুমতি দেন। পরে তারা অবরুদ্ধ খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এদিকে দুপুরে মহিলা দল ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালাায় যুবলীগের কর্মীরা। এসময় পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এর আগে অর্ধশতাধিক মহিলা দলের নেতাকর্মী গুলশান কার্যালয়ের দক্ষিণ দিক থেকে পুলিশ বেষ্টনী ফাঁক করে ভেতরে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। এসময় তাদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এদিকে সকাল থেকে দলের নেতাকর্মীদের ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। বিকাল থেকে সাংবাদিকদেরও ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে বেশ কয়েক জন সাংবাদিক ভেতরে আটকা পড়েন। গুশলান এলাকায় কড়াকড়ি পাহারা বসানো হয়েছে। যান চলাচল ও সাধারণ মানুষের চলাচলের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। কিছুক্ষণ পরপর পুলিশ ও র্যাব টহল দিচ্ছে। এছাড়া পুলিশ ও র্যাবের বাইরে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা গুলশান এলাকার রাস্তায় অবস্থান করছেন। ওদিকে অবরুদ্ধ অবস্থায় খালেদা জিয়া বিবিসি বাংলাকে একটি টেলিফোন সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। রোববার রাত ১২টার পর থেকে একে একে ১১টি ট্রাক এনে কার্যালয়ের গেটের সামনে রাখা হয়। এক ট্রাক ড্রাইভার জানান, ট্রাকের কাগজপত্র দেখার কথা বলে আমাদের কাকলী সিগন্যাল থেকে নিয়ে এসেছে। তারা বলেছে, আমরা যেখানে নিয়ে যাই সেখানে নিয়ে যাবে। এরপর গুলশান কার্যালয়ে আনা হয়।
আটকা পড়েন শতাধিক মহিলা নেত্রী ও গণমাধ্যমকর্মী
শনিবার রাতেই খালেদা জিয়ার সঙ্গে গুলশান কার্যালয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন দলের বেশ কয়েকজন সিনিয়র ও মহিলা নেতাকর্মীরা। তাদের মধ্যে রয়েছেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল কাইয়ূম, বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান, মহিলা দলের সভানেত্রী নুরে আরা সাফা, সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, সাবেক এমপি রেহানা আখতার রানু, নিলুফার চৌধুরী মনি, রাশেদা বেগম হীরা, সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়া, সুলতানা আহমেদ, ফরিদা ইয়াসমীন, মহিলা দল নেত্রী ফারজানা রহমান হোসনা প্রমুখ। রোববার দুপুর থেকে গুলশান কার্যালয়ের ফটক বন্ধ করে দেয়া হলে ভেতরে আটকা পড়েন বেশ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী। অবরুদ্ধ অবস্থায় তারা অমানবিক জীবন কাটাচ্ছেন তারা। ঘুম ও গোসল করতে না পেরে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন তারা।
অসুস্থ খালেদার চিকিৎসায় কার্যালয়ে মেডিকেল টিম
পুলিশের ছোড়া পিপার সেপ্রতে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বিএনপি চেয়ারপাসন খালেদা জিয়া ও দলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী এবং গণমাধ্যম কর্মী। তাদের চিকিৎসা দিতে গুলশান কার্যালয়ে প্রবেশ করেন তিন সদস্যের একটি মেডিকেল টিম। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. শামীমের নেতৃত্বে মেডিকেল টিমের সদস্যরা কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ খান কামাল সোহেল মানবজমিনকে জানিয়েছেন, বিকালে পুলিশের ছোড়া পিপার সেপ্রতে ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এজন্য তার বক্তিগত চিকিৎসক ডা. শামীম এসেছেন। ম্যাডামকে তিনি চিকিৎসা দিচ্ছেন। ওদিকে পিপার সেপ্রতে আহত মহিলা দলের কয়েকজন নেত্রী ও সাংবাদিকদের চিকিৎসা দিচ্ছেন ডা. নাসিরে নেতৃত্বে একটি মেডিকেল টিম।
অবরুদ্ধ নয়াপল্টন
৫ই জানুয়ারি ২০ দলের সমাবেশকে কেন্দ্র করে নয়াপল্টনসহ আশেপাশের এলাকা সকাল থেকেই সিল করে দেয় পুলিশ। ভোরেই নাইটিঙ্গেল মোড় ও ফকিরাপুল মোড়ে ব্যারিকেড দিয়ে পুলিশ বন্ধ করে দেয় নয়াপল্টন ভিআইপি রোড। সেখানে মোতায়েন রাখা হয় জলকামান, প্রিজন ভ্যান ও সাঁজোয়া যান। নয়াপল্টন ভিআইপি রোডের প্রতিটি গলির মুখে বসানো হয় পুলিশি পাহারা। নয়াপল্টন বিএনপি কার্যালয়কে কেন্দ্র করে বিজয়নগর থেকে পুরানা পল্টন, ফকিরাপুর থেকে শান্তিনগর বাজারের হোটেল-রেস্টুরেন্টগুলো বন্ধ করে দেয় পুলিশ। তবে সকাল থেকে নয়াপল্টনকে কেন্দ্র করে আশেপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা ভেঙে দফায় দফায় মিছিল বের করেছে বিএনপি, অঙ্গদল ও ২০ দলের নেতাকর্মীরা। পুলিশ টিয়ার শেল ছুড়ে ও গুলি চালিয়ে প্রতিটি মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় পুলিশের গুলিতে আহত হয় অন্তত ২০ জন। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা কয়েকটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগসহ বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। সকাল ১০টার সময় বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাসের শাহজাহানপুরের বাসভবনে তল্লাশি চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ সময় মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস বাসায় ছিলেন। তার পারিবারিক সূত্র জানায়, তল্লাশিকালে মির্জা আব্বাসকে না পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাসা থেকে বেশ কিছু কাগজপত্র নিয়ে গেছে। দুপুর সোয়?া ১২টার দিকে সেগুনবাগিচার কালভার্ট এলাকায় একটি মিছিল বের করে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীরা।
পুলিশ টিয়ার শেল ও গুলি ছুড়ে মিছিলে বাধা দিলে দুইপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশের গুলিতে আহত হয় অন্তত ৫ জন। এ সময় এক সার্জেন্টের মোটরসাইকেলে আগুন দেয় বিক্ষুব্ধ কর্মীরা। ওদিকে দুপুর পৌনে ১টার দিকে পল্টন কালভার্ট রোডে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুস সালাম আজাদ, যুগ্ম সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল বারী বাবু, ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক মফিজুর রহমান আশিকের নেতৃত্বে যৌথভাবে একটি মিছিল করে মহানগর বিএনপি, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল। মিছিলটি কালভার্ট রোড থেকে বিজয় নগরের সড়কে আসার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ গুলি ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় গুলিবিদ্ধ একজনসহ ৫ জনকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানে পুলিশের লাঠিচার্জে ১৮-২০ জন আহত হয়। এদিকে দুপুর ১টার দিকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনের বিপরীত দিকে ঢাকা মহানগর বিএনপি’র আহ্বায়ক মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে বিএনপি নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি রাজারবাগ এলাকায় আল-বারাকা হাসপাতালের সামনে পৌঁছলে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ ও গুলি চালায়। এ সময় সাবেক কমিশনার হারুন, বিএনপি কর্মী লিটন, রাজু, রাসেলসহ ১২ জন নেতাকর্মী আহত হয়। মিছিল থেকে পুলিশ মোটরচালক দলের সাধারণ সম্পাদক হাজী রাব্বীসহ কয়েকজনকে আটক করে। একই সময় বেইলী রোডের হক বেকারির সামনে পরপর তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোটরসাইকেলযোগে এসে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ওদিকে দুপুর আড়াইটার দিকে সেগুনবাগিচা হাইস্কুলের গলি এলাকায় একটি মিছিল করে বিএনপি ও ছাত্রদল। মিছিল থেকে ৮/১০টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। পরে পুলিশ ও ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। একই সময় ফকিরাপুলে মিছিল বের করে শিবির। মিছিল থেকে দু’টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এ সময় কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে পুলিশ। বিকাল তিনটার দিকে ফকিরাপুলে ছাত্রদল মিছিল করে। এ সময় তারা পুলিশের একজন এসআই’র ওপর হামলা করে। এ সময় ফকিরাপুলের হোটেল ওয়ান্সের সামনে দু’টি মোটরসাইকেলে আগুন দেয় ছাত্রদলকর্মীরা। মোটরসাইকেল দু’টির একটি পুলিশের (ঢাকা মেট্রো-হ-১১-২৭৩৫) ও অন্যটি প্রেস স্টিকার লাগানো (ঢাকা মেট্রো-এ-০১-৪০৪২)।
এরপর ছাত্রদল কর্মীরা বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। জবাবে টিয়ার শেল ও গুলি ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। এ সময় পুলিশ সেখান থেকে আবুল কাশেম, রাহাতসহ ৬ জনকে আটক করে। এরপর ফকিরাপুলের শপিংমল ও বিভিন্ন অলিতে গলিতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। বিকাল তিনটার সময় পুরানা পল্টনে বায়তুল মোকাররমের বিপরীতে আজাদ প্রোডাক্টের গলিতে দু’টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া করে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এর আগে সকালে নয়াপল্টন থেকে আটক করা হয় ৪ জনকে। পুলিশ জানায়, ওই এলাকায় কেউ যেন নাশকতা করতে না পারে সে জন্য এ অভিযান চালানো হচ্ছে। পুরো এলাকা পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। উল্লেখ্য, ৫ই জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা দিবসে সমাবেশের অনুমতি না পেয়ে নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জমায়েতের সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দল। সে জমায়েতে বিএনপি চেয়ারপারসন ও জোটের শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণের কথা ছিল। কিন্তু শনিবার রাতে বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদকে গ্রেপ্তার ও কার্যালয়ের কর্মচারীদের বের করে দেয় পুলিশ। জনশূন্য বিএনপি কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
আইনজীবীদের বিক্ষোভ, সংঘর্ষ
এদিকে সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় দিনভর বিক্ষোভ করেছেন বিএনপি-জামায়াত সমর্থক আইনজীবীরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে আইনজীবীদের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া বিকালের দিকে আওয়ামী লীগ কর্মীরা সুপ্রিম কোর্টের বাইরে থেকে আইনজীবীদের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষোপ করে। তারা আইনজীবীদের ধাওয়া করে। বেলা ১২টার দিকে কালোপতাকা হাতে মিছিল বের করেন বিরোধী সমর্থক আইনজীবীরা। তারা হাইকোর্ট মাজার দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এতে মুস্তাফিজুর রহমান নামে এক পুলিশ সদস্য আহত হয়। মিছিলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, আইনজীবী নেতা মাহবুব উদ্দিন খোকন, বদরুদ্দোজা বাদল, সানাউল্লাহ মিয়া প্রমুখ অংশ নেন। পরে আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের পাশে বিক্ষোভ করতে থাকেন। ফটকে তালা দিয়ে বাইরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ অবস্থান নেয়। বিকাল সাড়ে চারটার দিকে প্রেস ক্লাব মোড়ে বিস্ফোরণের শব্দ হয়। এই শব্দে প্রেস ক্লাবের সামনে থাকা আওয়ামী লীগ কর্মীরা সুপ্রিম কোর্টের দিকে ছুটে যান। তারা ফটকের ভেতরে থাকা আইনজীবীদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। আইনজীবীরাও পাল্টা ইটপাটকেল ছুড়েন। একপর্যায়ে আওয়ামী লীগ কর্মীরা প্রধান ফটক খুলে সুপ্রিম কোর্ট এলাকার ভেতরে ঢুকে আইনজীবীদের ধাওয়া করে। পরে পুলিশ তাদের সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নাটোর প্রতিনিধি জানান, জেলার তেবারিয়ায় আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে দুই ছাত্রদল কর্মী নিহত হয়েছেন। এছাড়া এ ঘটনায় অন্তত আরও ১০জন আহত হয়েছেন। ঘটনার প্রতিবাদে নাটোর জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে জেলা বিএনপি। এতে নৈতিক সমর্থন জানিয়েছে জামায়াত। আহতদের নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে র্যাব, পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে জেলায়। ঘটনার পরপরই তেবারিয়া এলাকায় ভাঙচুর করা হয়েছে কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর। এদিকে জেলার গুরুদাসপুর উপজেলা চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা আবদুল আজিজের নয়াবাজার এলাকায় দ্বিতল বিশিষ্ট খামার বাড়ি এবং নয়াবাজার এলাকায় দুইটি বিএনপি অফিসে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি হিসাবে গণতন্ত্র মুক্ত দিবস পালন উপলক্ষে শহরে মিছিল সমাবেশ করেছে আওয়ামী লীগ। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সোমবার সকালে শহরের তেবারিয়া এলাকায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগ কর্মীরা দুই দলের আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও একপর্যায়ে সংঘর্ষ হয়।
এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেল যোগে একদল দুর্বৃত্ত এসে গুলি করে চলে যায়। এ সময় গুলিবিদ্ধসহ আহত হয় অনেকে। এদের মধ্যে আহত রাকিব আলী ও রায়হানকে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের দুই জনকে মৃত ঘোষণা করেন। রাকিব তেবারিয়া এলাকার চান মিয়ার ছেলে। নিহত দুই জনই বিএনপির অঙ্গসংগঠন ছাত্রদল কর্মী। ঘটনায় পর থেকে এলাকায় র্যাব, পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। আহত বাকিদের নাটোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। সোমবার সকালে শহরের আলাইপুর এলাকায় ৫ জানুয়ারিকে গণতন্ত্র হত্যা দিবস আখ্যা দিয়ে জেলা বিএনপি ও কানাইখালী এলাকায় গণতন্ত্র মুক্ত দিবস আখ্যা দিয়ে আওয়ামী লীগ পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি দেয়। এদিকে সকালে গুরুদাসপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল আজিজের দ্বিতলবিশিষ্ট খামারবাড়ি ও দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করেছে আওয়ামী লীগ কর্মীরা। এলাকাবাসী জানান, সোমবার সকালে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা নয়াবাজার বিএনপির অফিস ভাঙচুর করে। এ সময় তারা অফিসের চেয়ারটেবিল ও অন্যান্য মালামাল রাস্তায় বের করে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে তারা বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়ক সংলগ্ন পুকুর পাড় এলাকায় উপজেলা চেয়ারম্যানের দ্বিতল খামারবাড়ির দরজা ভেঙে ব্যাপক লুটপাট করে। বাড়ির দরজা-জানালাসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে ও পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তেই আগুন গোটা বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে বিকালে আওয়ামী লীগের এক সমাবেশ থেকে নিহত রাকিবকে নিজেদের কর্মী বলে দাবি করা হয়েছে। তবে তার পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন তিনি ছাত্রদল করতেন।
স্টাফ রিপোর্টার রাজশাহী থেকে জানান, জেলার পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বরে পুলিশের গুলিতে বিএনপির এক কর্মী নিহতসহ অন্তত ৬ নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। নিহত বিএনপি কর্মীর নাম মজের আলী (৫০)। তার গ্রামের বাড়ি উপজেলার মাড়িয়া গ্রামে। এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রাজশাহীতে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে জেলা বিএনপি। এর আগে মহানগর বিএনপির সমাবেশস্থলে যাওয়ার পথে সকাল ১০টার দিকে নগরীর গ্রেটার রোড় এলাকায় মিছিলে বাধা দিলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ অন্তত ৫ বিএনপি নেতাকর্মী আহত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল বিকাল ৩টার দিকে পুঠিয়া উপজেলা বিএনপি নেতাকর্মীরা বানেশ্বর বাজারে মিছিল বের করেন। এ সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা লাঠি হাতে পাল্টা মিছিল বের করলে সংর্ঘষ বেধে যায়। উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা পেট্রোল পাম্প এলাকায় ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা ট্রাফিক মোড় এবং তাদের মাঝে পুলিশ অবস্থান নেয়। পরে বিকাল ৪টার দিকে পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে এলাপাতাড়িভাবে শতাধিক রাউন্ড শটগানের গুলি, রাবার বুলেট, টেয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মজের আলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। আহত হয়েছে অন্তত ২৫ জন নেতাকর্মী। এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে বিএনপি। হরতালে বাধা দিলে বা গুলি করলে লাগাতার কর্মসূচি দেয়ারও হুমকি দেন নেতাকর্মী। এর আগে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্য দিয়ে রাজশাহী নগরীতে পৃথকভাবে সমাবেশ করেছে বিএনপি ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। গতকাল সকাল ১০টা থেকে নগরীর আলুপট্টি মোড়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয় মহানগর আওয়ামী। আগে সেখান থেকে শোভাযাত্রা বের করার ঘোষণা দিলেও সেই কর্মসূচি থেকে সরে আসে। পরে ১১টার দিকে একটি মিছিল সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে এসে ৫ জানুয়ারিকে গণতন্ত্র রক্ষা দিবস আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মহানগর সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। প্রায় একই সময়ে নগরীর ভুবনমোহন পার্ক এলাকায় গণতন্ত্র হত্যা দিবসের বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে মহানগর বিএনপি। এছাড়া সকাল সকাল ১০টায় জেলা বিএনপি রাজশাহী কলেজে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। অন্যদিকে সমাবেশস্থলে যাওয়ার পথে সকাল ১০টার দিকে নগরীর গ্রেটারমোড় এলাকায় বিএনপির মিছিলে বাধা দিলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় পুলিশের ছোড়া শর্টগানের গুলি ও টিয়ারশেলের আঘাতে অন্তত ৫/৭ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন। এছাড়া গতকাল সকাল ৭টার দিকে নগরীর উপশহর এলাকার অবস্থিত আওয়ামী লীগের উত্তর শাখা কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে ওই অফিসের ভেতরে থাকা দুইটি মোটরসাইকেল ও চেয়ারটেবিল পুড়ে গেছে। পরে নগরীর বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ৮ জনকে আটক করে পুলিশ। সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ৮ জনকে আটক করা হয়েছে।
চাঁপাই নবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সোমবার বিকালে চাঁপাই নবাবগঞ্জের কানসাটে পুলিশের গুলিতে জমশেদ (৪৮) নামে এক বিএনপি কর্মী মারা গেছেন। তিনি শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট ইউনিয়নের শিবনারায়ণপুর ইউনিয়নের মৃত মোন্তাজ আলীর ছেলে। জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি অধ্যাপক শাহজাহান মিয়া জমশেদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মৃত জমশেদ তাদের কর্মী। এ ঘটনার প্রতিবাদে জেলা ২০ দলীয় জোট আজ জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে। সূত্র জানায়, বিকাল ৩টার দিকে ২০দলীয় জোট মিছিল বের করে। কানসাট গোপালনগর মোড়ে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। পুলিশ শটগানের গুলি ছুড়ে। এতে এরফান ও জমশেদসহ অন্তত ৩৫জন আহত হন। আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ জমশেদকে রাজশাহী নেয়ার পর সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে মারা যায়। শিবগঞ্জ থানার ওসি ময়নুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, বেলা ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শিবগঞ্জ উপজেলার পৌর এলাকা, কানসাট কলেজ ও কানসাট এলাকায় ১৪৪ধারা জারি করা হয়। কিন্তু জামায়াত-বিএনপি কর্মীরা ১৪৪ধারা উপেক্ষা করে বিকাল ৩টার দিকে মিছিল বের করে এবং কানসাট গোপালনগর মোড়ে পুলিশের ওপর বোমা হামলা চালায়।
এছাড়া নারায়ণগঞ্জে পৃথকভাবে বিএনপি ও ছাত্রদলের মিছিলে গুলি চালিয়েছে পুলিশ। পুলিশ শতাধিক রাউন্ড গুলি ছুড়লে কমপক্ষে ১০ নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হন। এ সময় আরও আহত হয়েছেন ১০জন। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সোয়া ১১ পর্যন্ত শহরের মিশনপাড়া ও বন্দরে এ ঘটনা ঘটে। সিলেট জেলা বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। উভয়পক্ষের সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ১০ জন। ভাঙচুর করা হয় অন্তত ২০টি গাড়ি। এর মধ্যে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অন্তত ৫০ জনকে আটক করেছে। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সিলেটের কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় অবস্থান নেয় আওয়ামী লীগ। জেলার জকিগঞ্জ উপজেলায় জামায়াত, বিএনপি, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী, পুলিশ, ব্যবসায়ী, পথচারীসহ অন্তত প্রায় ৩০জন আহত হয়েছেন। ফেঞ্চুগঞ্জে জামায়াত ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে পুলিশের এক এসআই ও দুই সোর্সসহ ৫ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ জামায়াতে ইসলামীর ৩জন ও অপর দুই জন ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে। লক্ষ্মীপুরে সকালে বিএনপির মিছিলে পুলিশ ধাওয়া করে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন ভূইয়া, বিএনপি কর্মী আবদুল কাদেরসহ তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়া ভোর রাতে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে দুই শিবিরকর্মীসহ ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া রায়পুর উপজেলার বাস টার্মিনাল এলাকায় বিকালে বিএনপি-আওয়ামী লীগ ও পুলিশে ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় উভয়ের অন্তত ৩০জন আহত হয়েছে। মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন থানায় যুবদল ও জামায়াতে ১৩ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে শ্রীনগরে যুবদলের ৪ জন, সিরজদিখানে জামায়াতের ১ জনসহ ৫ ও মুন্সীগঞ্জ সদরে ৪ জন রয়েছে। রোববার রাতে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। রোববার রাতে মানিকগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপি ৫৬ নেতা-কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। বিশেষ অভিযানে মাগুরার ৪টি থানায় বিএনপি এবং জামায়াতের ১১ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ রাতভর জেলা বিএনপি ও তার অঙ্গ সংঠনের নেতাদের বাসা-বাড়িতে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়েছে বলে নেতাদের অভিযোগ পাওয়া গেছে। দিনাজপুরে জামায়াত-শিবির ও বিএনপির ১৩ নেতা-কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার গভীর রাত থেকে গতকাল ভোর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এছাড়া জেলার বোচাগঞ্জ থেকে আটক করা হয়েছে আরও ১৫ নেতাকর্মীকে। বিএনপি ও জামায়াতের অফিস ভাঙচুর এবং পৌর বিএনপির কার্যালয়ে আগুন দিয়েছে প্রতিপক্ষরা। মৌলভীবাজার শহরের চৌমুহনী এলাকা থেকে বিএনপি মিছিল বের করলে নেতা-কর্মীদের বাগবিতণ্ডা হয়।
এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ ও ফাঁকা গুলি করেছে। এতে ৪ পুলিশসহ অন্তত ৫ থেকে ৬ জন মিছিলকারী আহত হয়েছেন। মিছিল থেকে ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। দুপুরে জেলার বড়লেখা উপজেলা সদরে বিএনপি অফিস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পৌর মেয়রসহ কমপক্ষে বিএনপির ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। কমলগঞ্জে পুলিশ বাবুল মিয়া ও মাসুম মিয়া নামে বিএনপি-জামায়াতের দুই কর্মী আটক করে। এছাড়া জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। যশোরে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা টি এস আইয়ুবসহ বিএনপি জামাতের ৮১ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। শহরের ঘোপ এলাকা থেকে সোমবার সকালে জেলার বাঘারপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী সদস্য প্রকৌশলী টি এস আইয়ুবকে আটক করে ডিবি পুলিশ। অপরদিকে গতকাল দিনভর জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ বিএনপি জামায়াতের ৮১ নেতাকর্মীকে আটক করেছে। সুনামগঞ্জে আওয়ামী লীগ-বিএনপি-জামায়াত-পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ ৬ জন আহত হয়েছে। বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীরা বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করেছে। শহরের পুরাতন বাসস্টেশন থেকে ছাত্রদল মিছিল নিয়ে ট্রাফিক পয়েন্টের দিকে আসলে যুবলীগ-ছাত্রলীগের সাথে সংঘর্ষ বাধে। ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে উভয়পক্ষের নেতাকর্মীরা।
ঝিনাইদহ শহর ও শৈলকুপায় সাকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিএনপি-আওয়ামী লীগ এবং পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে দুই পুলিশ কনস্টেবলসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ সময় বিএনপি কর্মীরা ঝিনাইদহ শহরের এইচএসএস সড়কে জনতা ব্যাংকের একটি পাজেরো জিপ গাড়ি ভাঙচুর করে। এছাড়া জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ৩৮ বিএনপি জামায়াত নেতাকর্মীকে আটক করেছে। সিরাজগঞ্জ শহরে পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে ছাত্র ও যুবদলের ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। এ ঘটনার পর বেলা ১২টার দিকে শহরের হোসেনপুর ও ধানবান্ধি মহল্লায় অভিযান শুরু করে। হবিগঞ্জে ছাত্রদল ও পুলিশের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ মুশফিক আহমেদসহ ৫০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় পুলিশের ব্যবহৃত হিউম্যান হলার, ইজিবাইকসহ ১০-১৫টি যানবাহন ও জেলা শিক্ষা অফিস ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধরা। পুলিশ ৯ রাউন্ড শটগানের বুলেট ও ৩ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এছাড়া ৭ নেতার্মীকে আটক করা হয়েছে। চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে বিএনপির কালোপতাকা মিছিলকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ শটগান থেকে অন্তত ১৯ রাউন্ড গুলি ছোড়ে ও ১ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে। এতে ১ জন শিশুসহ ৪ জন গুলিবিদ্ধ ও অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া চাঁদপুরের বিভিন্ন এরাকা থেকে ২১ বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। ফেনীতে ২০ দলের মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জে নেতাকর্মী আহত হয়েছে। গতকাল দিনভর ছাত্রদল শহরের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল করে ককটেল বিস্ফোরণ করে। এ সময় যাত্রীবাহী বাসসহ অন্তত ১০টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পুলিশ বিভিন্ন স্থান থেকে ছাত্রদল নেতাসহ অন্তত ৭ জনকে আটক করেছে। গাজীপুরে কালোপতাকা মিছিল বের করা হলে গুলি ছোড়ে পুলিশ। এ সময় মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয়। দুপরে ছাত্রদল নগর ভবনের সামনে থেকে একটি মিছিল বের করলে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে মুজাহিদুল ইসলাম নামে একজনকে আটক করেছে। এর আগে রাতে গাজীপুরের বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে মোট ৫৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। বিএনপির দাবি এদের বেশীর ভাগই বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মী। চট্টগ্রামে পুলিশের ছোড়া গুলিতে বিদ্ধ হয়েছেন দু’জন। এছাড়া লাঠিচার্জে আহত হয়েছেন আরও ২০ জন। বিক্ষুব্ধ বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীরা ১০টি গাড়ি ভাঙচুর করেছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে নগরীর বাইরে অভিযান চালিয়ে বিএনপি-জামায়াতের ৩৯ কর্মী-সমর্থককে আটক করা হয়েছে। সীতাকুণ্ড উপজেলায় রোববার রাত ও গতকাল বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ও জামায়াত-বিএনপির কর্মীসহ ২১ জনকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার রাতে খুলনায় অভিযান চালিয়ে নগরী থেকে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের ৩৫ নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। কুষ্টিয়ার বিভিন্ন উপজেলায় অভিযান চালিয়ে বিএনপি-জামায়াতের ২৩ নেতাকর্মীকে আটক করেছে। রোববার রাতে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাদের আটক করে। সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন স্থানে পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিএনপি ও জামাত-শিবিরসহ ৫০ জন আটক করেছে। রোববার রাত থেকে গতকাল সকাল ৯টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। মেহেরপুরে ১০ বিএনপি কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। এর মধ্যে গাংনী থানা উপজেলা থেকে ৬ জন ও মুজিবনগর থেকে ৪ জন। রোববার রাতে বাগেরহাট জেলার ৯ উপজেলা থেকে বিএনপি-জামায়াতের ২৬ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতদের মধ্যে কচুয়া উপজেলার মঘিয়া ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি ফকির সাখাওয়াত হোসেন, কচুয়া উপজেলা জামায়াত নেতা জিয়া ফকির, চিতলমারীর ৩ ছাত্রদল নেতা সুমন শেখ, রুপম হোসেন ও রিফাত খান প্রমুখ। খাগড়াছড়িতে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও পুলিশের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ১৫ জন আহত হয়েছে। প্রতিবাদে আজ সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধের ডাক দিয়েছে বিএনপি। নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকনের নেতৃত্বে মিছিলটি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে উঠতে চাইলে বাধা দেয় পুলিশ। পরে পুলিশি বাধার মুখে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে নেতাকর্মীরা। এদিকে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বিএনপির ১২ নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ। সাভারে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছে অন্তত ১০ জন। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে সমাবেশ চলাকালীন এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পাবনায় পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে বিএনপির অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিদ্দিকুর রহমান জানান, ককটেল বিস্ফোরণ ও সংঘর্ষ শুরু হলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও ১২ রাউন্ড শটগানের গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে।
নোয়াখালীতে পুলিশ ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। বিএনপির মিছিলে পুলিশ বাধা দিয়েছে। কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়েছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে ৮ বিএনপি কর্মীকে আটক করেছে। পুলিশের গুলিতে ২ বিএনপি কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শহরের বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে ছাত্রদলের সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। পুলিশ বিএনপির ১২ জনকে আটক করেছে। এছাড়া জেলার কসবা উপজেলায় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। কক্সবাজারের ৭ উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ২০ দলীয় জোটের ১৪ জন নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার রাত ১২টা থেকে গতকাল সকাল ৯টা পর্যন্ত কক্সবাজার সদর, রামু, উখিয়া, চকরিয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী ও টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
বরগুনায় বিএনপি সকালে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল বের করতে চাইলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। কাটপট্টি এলাকায় বেলা সাড়ে ১১টায় ছাত্রদলের একটি মিছিল দলীয় কার্যালয়ে ঢোকার চেষ্টা করলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের পুলিশ ছত্রভঙ্গ করতে গেলে পুলিশের সাথে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ভোলায় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরের দরগাহ রোড এলাকায় বিএনপি মিছিল বের করলে পুলিশ বাধা দেয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় ঘন্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন পুলিশের ৩ সদস্যসহ অন্তত ২২ জন। এছাড়া শহরের বাংলা স্কুল মোড়ে ৩টি অটোরিকশা এবং ৫টি দোকান ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পটুয়াখালীতে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিএনপি কালো পতাকা মিছিল বের করলে পুলিশ মিছিলে বাধা দেয়। পুলিশ মিছিলে লাঠিচার্জ করে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় পুলিশের লাঠির আঘাতে ৭ নেতাকমী আহত হয়। রাঙামাটিতে সকাল সাড়ে ১০ টায় বিএনপির মিছিল বের করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের কার্যালয় চত্বরেই আটকে রাখে। অন্যদিকে শহরের কলেজ গেট এলাকায় বিএনপি মিছিলের চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া দেয়।
গ্রেপ্তার করা হয়েছে- বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি লায়ন আসলাম চৌধুরী, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বাঘারপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুব, ডিসিসির সাবেক কমিশনার আলতাফ হোসেন, লক্ষ্মীপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন ভূইয়াসহ অন্তত সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নারায়ণগঞ্জ, সিলেট, লক্ষীপুর, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, দিনাজপুর, মৌলভীবাজার, যশোর, ঝিনাইদহ, সিরাজগঞ্জ, চাঁদপুর, ফেনী, গাজীপুর, খুলনা, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা, মেহেরপুর, বাগেরহাট, খাগড়াছড়ি, নরসিংদী, পাবনা, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ ৪০ জেলায় সংঘর্ষ ও গণগ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবাদে সারা দেশে টানা অবরোধের পাশাপাশি নাটোর, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে আজ সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ঢেকেছে ২০দলীয় জোট। দুই জোটের কর্মসূচি আর পাল্টা কর্মসূচি ঘিরে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে বন্ধ রয়েছে অধিকাংশ জেলার বাস চলাচল।
সারা দেশ অবরুদ্ধ: সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দিয়ে বিরোধী জোটের শীর্ষনেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা বলেছেন, আজ সারা দেশে যেভাবে বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত একই ধরনের কর্মসূচি চলবে। গতকাল বিকালে গুলশানের কার্যালয় থেকে বের হওয়ার চেষ্টার পর উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। খালেদা জিয়া বলেন, আমি গত পরশুদিন এসেছিলাম অফিস করতে। অফিস থেকে আমি অসুস্থ রিজভীকে দেখতে যাবো বলে পল্টনে যাওয়ার জন্য আমার গাড়ির মধ্যে বসেছি। তারপরেই দেখি যে পুলিশ এখানে গেট বন্ধ করে রেখেছে। গাড়ি টাড়ি দিয়ে সব অবরুদ্ধ করে রেখেছে। কেন- আমি জানি না। খালেদা জিয়া বলেন, আজ আমাদের কালো পতাকা কর্মসূচি ছিল। সমাবেশ করতে দেয়া হয়নি। পরবর্তী কর্মসূচি না দেয়া পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি চলবে। যখন আবার পরিবেশ পরিস্থিতি আসবে তখন আমরা সমাবেশ করবো। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা চেয়েছিলাম একটা সমাবেশ করবো। সরকার আমাদের সমাবেশ করতে দিলো না। সমাবেশ করতে না দেয়ার কারণ কি? খালেদা জিয়া বলেন, গতবার এই দিনে নির্বাচনের নামে প্রহসন হয়েছে। এই নির্বাচনে মানুষ ভোট দেয়নি। যারা ক্ষমতায় তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি। মানুষের মৌলিক অধিকার নেই। মানবাধিকার, আইনের শাসন নেই। আমার এখানে কাউকে আসতে দেয়া হচ্ছে না।
তিনি বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট বি. চৌধুরীকেও আসতে দেয়া হয়নি। আরও অনেকে আসতে চাইছেন। কিন্তু পারছেন না। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আমাকে বের হতে দেয়া হচ্ছে না। তারা বলছে, আমাকে নিরাপত্তা দিচ্ছে। এটি কিসের নিরাপত্তা। এত দিন নিরাপত্তা দেয়নি। কর্মসূচি এলেই নিরাপত্তা। এভাবে চলতে পারে না। আমি জনগণের কাছে নিরাপদ। আওয়ামী লীগই আমার নিরাপত্তাহীনতার প্রধান কারণ। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, বর্তমানে যারা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত, তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। এ সরকারের অধীনে দেশে সুশাসন বলে কিছু নেই। আজকে আমি শুধু অবরুদ্ধ নই, গোটা দেশটাই অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। আজকে এই সরকার একটা জালেমি সরকার। এই সরকার শুধু দেশকে অবরুদ্ধ করেনি, দেশকে একটা কারাগারে পরিণত করেছ। এই অবস্থা চলতে পারে না। দেশে বর্তমানে একটি অস্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে মন্তব্য করে খালেদা জিয়া বলেন, সারা দেশে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিএনপির কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আর আওয়ামী লীগের লোকজন পুলিশের সহায়তায় বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর আক্রমণ করছে। এটা কোন দেশে বাস করছি আমরা। আজকে এই দেশ বসবাসের অনুপযোগী করে ফেলেছে এই অবৈধ সরকার। দেখলে মনে হয়, দেশে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। জোর করে ক্ষমতায় থাকতে চাইছে। নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষ পরিবর্তন চায়। আজকের পরিস্থিতি থেকে মনে হচ্ছে জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে। তাদের সঙ্গে নেই। এজন্য তারা ভোট দিতে ভয় পায়। খালেদা জিয়া যখন কথা বলছিলেন তখন পুলিশ বাইরে থেকে ভেতরে পিপার স্প্রে করে। এতে খালেদা জিয়াসহ অন্য নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়তে হয়। এসময় দলীয় কয়েকজন মহিলা নেত্রী নিউজ পেপারে আগুন ধরিয়ে গ্যাস অপসারণের চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, কেন রে ভাই, গ্যাস কেন মারা হচ্ছে? আমি তো কথা বলছি। কথাও কি আপনারা বলতে দেবেন না? পুলিশ বাহিনীতে সরকারের এজেন্ট ঢুকে গেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, একটি বিশেষ জেলার লোককে পুলিশ বাহিনীতে ঢোকানো হয়েছে। পুলিশের কাজ নয় এমন কাজও পুলিশকে দিয়ে করানো হচ্ছে। তিনি ফটকের বাইরে দাঁড়ানো পুলিশের সদস্যদের উদ্দেশ্য করে বলেন, বেশি বাড়াবাড়ি করবেন না। বাড়াবাড়ি বেশি দিন টিকবে না। এর পরিণতি ভোগ করতে হবে। খালেদা জিয়া বলেন, এখানে এমন কি হলো যে নারীদের ওপর পিপার স্প্রে করতে হবে? তিনি পুলিশ সদস্যদের বলেন, তাদেরও মা-বোন আছে। তারা এই দৃশ্য দেখলে তাদের (পুলিশের) সম্পর্কে খারাপ ধারণা করবে। খালেদা জিয়া বলেন, দেশে গণতন্ত্র নির্বাসিত। অবৈধ সরকারের কারণে দেশের গণতন্ত্র বিপন্ন। আমাকে কার্যালয় থেকে বের হতে দেয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, শুধু আমি একা অবরুদ্ধ নই, পুরো দেশ আজ কারাগারে পরিণত হয়েছে। নিরাপত্তা দিলে পুলিশ নয়াপল্টনে নিয়ে যেতে পারত আমাকে। খালেদা জিয়া বলেন, দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য বারবার সরকারকে নির্বাচন নিয়ে আলোচনায় আসতে বললেও ক্ষমতাসীনরা তাতে সাড়া দেয়নি। নির্বাচন দিতে এরা ভয় পায় কেন?
একটা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে, সেটাও আমরা আলাপ আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করে নিতে পারি। যেটা অতীতে আমরা করেছি; ঠিক করে নেয়া যায়। কিন্তু তারা সেই পথে না গিয়ে আজকে শুধু গুলি, টিয়ার গ্যাস, হামলা মামলা এগুলো দিয়ে মানুষকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, আমাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে এজন্য যে, আমি কর্মসূচিতে গেলে জনগণের স্রোত নামবে। এই অবৈধ সরকার জনগণকে ভয় পায়। কারণ তাদের পায়ের নিচে মাটি নেই। খালেদা জিয়া বলেন, শুনেছি একুশে টিভি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এটা কোন সমাধান নয়। এর আগেও অনেকগুলো চ্যানেল বন্ধ করে দিয়েছে। তারা কথা বলবে, আর অন্যরা কথা বললে টেলিকাস্ট করতে দেবে না। এটা তো গণতন্ত্রের নমুনা নয়। কার্যালয়ের তালা খুলে দেয়ার দাবি জানিয়ে সরকারের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, আমরা চাই এখনই তারা সব তুলে দেবে, যাতে আমরা সমাবেশ করতে পারি।
অবরুদ্ধ খালেদার বের হওয়ার চেষ্টা
৫ই জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ উপলক্ষে পূর্ব ঘোষিত সমাবেশে যোগ দিতে অবরুদ্ধ তার গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। গতকাল সকাল থেকেই গণমাধ্যম কর্মীসহ দলের নেতাকর্মীরা অপেক্ষা করছিলেন- কখন খালেদা জিয়ার কার্যালয় থেকে বের হবেন। বেলা পৌনে ১২টার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়িচালক কার্যালয়ের ভেতরে রাখা গাড়িটি স্টার্ট দেন। এরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তোড়জোড় শুরু হয়। কার্যালয়ের গেটে কয়েকশ’ নারী পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। এর ঠিক পরের সারিতেই বেশ কয়েকজন ডিবি পুলিশ সদস্য অবস্থান নেন। এরপর শতাধিক সাধারণ পুলিশ ও র্যাব সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। কার্যালয়ের গেটের সামনে আনা হয় জলকামান। খালেদা জিয়ার বের হবেন- এমন খবর পেয়ে বেলা ১২টার দিকে কার্যালয়ের মূল ফটকে একটি চাইনিজ তালা ও পকেট গেটে একটি ছোট তালা লাগিয়ে দেয় পুলিশ। লাইভ সমপ্র্রচারের প্রস্তুতি নেন টিভি চ্যানেলগুলোও। এরপর থেকেই গণমাধ্যম কর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের শুরু হয় রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা। বেলা ১টার দিকে কার্যালয়ের দক্ষিণ দিক দিয়ে ঢোকার চেষ্টা করেন তিনজন মহিলা দলের কর্মী। এসময় পুলিশ তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
বেলা পৌনে ৪টায় অপেক্ষা পালা শেষ হয়। কার্যালয়ের দোতলা থেকে কালো পতাকা হাতে দলের মহিলা নেত্রীদের নিয়ে নিচে নামেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। উপস্থিত সাংবাদিকদের হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান তিনি। এরপর মহিলা নেত্রীরা কালো পতাকা হাতে খালেদা জিয়ার গাড়ির চারপাশে অবস্থান নেন। এসময় দলের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমানকে নিয়ে গাড়ি উঠেন খালেদা জিয়া। গাড়িটি কয়েক গজ এগিয়ে কার্যালয়ের গেটে অবস্থান নেয়। এরপর বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক পুলিশ মহাপরির্দশক আবদুল কাইয়ুম গেটের ফাঁক দিয়ে পুলিশকে তালা খুলে দেয়ার আহ্বান জানান। পুলিশ তাতে সাড়া না দিলে বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসও একই অনুরোধ করেন। তাতেও পুলিশ তালা না খোলায় সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন শিমুল বিশ্বাস। এরপর মহিলা নেত্রীরা সরকারের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন এবং কার্যালয়ের মূল ফটক খোলার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে লোহার রড দিয়ে ভেতর থেকে তালা ভাঙার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন মহিলা নেত্রীরা। এসময় জলকামান থেকে মহিলা নেত্রীদের ওপর পিপার সেপ্র ছোড়ে পুলিশ। গাড়ির দরজা খোলা থাকায় পিপার সেপ্রর গ্যাসে আক্রান্ত হন। এছাড়া পিপার সেপ্রতে খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী মাহবুবুর রহমান ডিউ, চেয়ারপারসন কার্যালয়ের কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার জসিম উদ্দিন, সাবেক এমপি সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া, নিলুফার চৌধুরী মনি, সাংবাদিকদের মধ্যে বিডিনিউজের জ্যেষ্ঠ রিপোর্টার সুমন মাহমুদ, ডেইলি স্টারের সিনিয়র রিপোর্টার রাশেদুল হাসান, চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং কর্মকর্তারাসহ বেশ কয়েক গণমাধ্যমকর্মী আহত হন। এসময় নিউজ পেপারে আগুন ধরিয়ে পিপার সেপ্রর গ্যাস অপসারণের চেষ্টা করেন মহিলা নেত্রীরা। মিনিট পনের পরে পিপার সেপ্রর ঝাঁজ কিছুটা কম হলে ফের মূল ফটক খোলার চেষ্টা করেন মহিলা নেত্রীরা। স্লোগান দিলে পুলিশ আরেক দফা পিপার স্প্রে নিক্ষেপ করে। খালেদা জিয়া তখনও গাড়ির ভেতরে বসে ছিলেন। দীর্ঘ প্রায় ৪৫ মিনিট গাড়িতে বসে থাকার পর দরজা খোলে নিচে নামেন তিনি। এসময় ছোট একটি টুলের ওপর দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেয়া শুরু করেন। এরপর প্রায় দীর্ঘ ২৫ মিনিট বক্তব্য রেখে ফের কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকে পড়েন তিনি।
গুলশান কার্যালয় এলাকায় যুদ্ধাবস্থা
গুলশান-২-এর ৮৬ নম্বর সড়কে ঢোকার সবগুলো পয়েন্টেই পুলিশের ব্যারিকেড। মোড়ে মোড়ে তল্লাশি চৌকি। ৮৬ নম্বর সড়কের ৬ নম্বর বাড়িটি হলো বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়। দলীয় কাজকর্ম সারতে শনিবার রাত ৮টা ২০ মিনিটে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এরপর থেকেই পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। বাড়ানো হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংখ্যা। তিন স্তরের পুলিশের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়। কার্যালয়ের সামনের রাস্তার দক্ষিণ পাশে একটি জলকামান, পুলিশ ভ্যান ও উত্তর পাশে আরেকটি জলকামান ও বেশ কয়েকটি পুলিশ ভ্যান দিয়ে ব্যারিকেড দেয়া হয়। খালেদা জিয়াকে নয়াপল্টনের সমাবেশে যাওয়া ঠেকাতে কার্যালয়ের গেটে ১১টি বালু ও ইটভর্তি ট্রাক এনে রাখা হয়। ওই এলাকায় সাধারণ মানুষ ও যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। বিপুল সংখ্যক নারী পুলিশ, সাধারণ পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। গতকাল পুলিশি নিরাপত্তা বলয় ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নজরদারি এড়িয়ে গুলশান এলাকায় প্রবেশ করতে পারেননি কোন নেতাকর্মী।
প্রতিটি মোড়ে মোড়েই চালানো হয় তল্লাশি। এছাড়া বারিধারার কানাডিয়ান অ্যাম্বাসির সামনের রাস্তা থেকে বনানীর পয়েন্টে চৌকি বসিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। এসময় গণপরিবহন থেকে যাত্রীদের নামিয়ে গাড়ি ফিরিয়ে দেয়া হয়। তবে সকাল ৯টার দিকে জার্মান দূতাবাসের এক কর্মকর্তা গুলশান কার্যালয়ে যেতে চাইলে পুলিশ তাকে ফিরিয়ে দেয়। এসময় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি। এর আগে শনিবার রাতে নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠকের পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে খালেদা জিয়া গুলশানের কার্যালয় থেকে নয়া পল্টনে অসুস্থ দলের যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদকে দেখতে যেতে চাইলে পুলিশ তার পথ আটকায়। রাত পৌনে ১২টার দিকে খালেদা বাসায় যাওয়ার জন্য পুলিশকে ব্যারিকেড সরাতে বলেন। কিন্তু তা না সরানোয় কিছুক্ষণ গাড়িতে অপেক্ষা করে ফের কার্যালয়ে যান তিনি। এরপর সেখানেই তার রাত কাটে। খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে এমন সংবাদ পেয়ে রোববার বিকালে তাকে দেখতে গুলশান কার্যালয়ের সামনে যান সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বিকল্পধারার সভাপতি অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী। তবে পুলিশ তাকে ভেতরে ঢুকতে দেয়নি। কিছুক্ষণ অবস্থানের পর তিনি সেখান থেকে চলে যান। এরপর সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদসহ পেশাজীবীদের একটি প্রতিনিধি দল গুলশান কার্যালয়ে যান। তবে পুলিশ তাদের ভেতরে ঢুকতে অনুমতি দেন। পরে তারা অবরুদ্ধ খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এদিকে দুপুরে মহিলা দল ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালাায় যুবলীগের কর্মীরা। এসময় পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এর আগে অর্ধশতাধিক মহিলা দলের নেতাকর্মী গুলশান কার্যালয়ের দক্ষিণ দিক থেকে পুলিশ বেষ্টনী ফাঁক করে ভেতরে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। এসময় তাদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এদিকে সকাল থেকে দলের নেতাকর্মীদের ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। বিকাল থেকে সাংবাদিকদেরও ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে বেশ কয়েক জন সাংবাদিক ভেতরে আটকা পড়েন। গুশলান এলাকায় কড়াকড়ি পাহারা বসানো হয়েছে। যান চলাচল ও সাধারণ মানুষের চলাচলের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। কিছুক্ষণ পরপর পুলিশ ও র্যাব টহল দিচ্ছে। এছাড়া পুলিশ ও র্যাবের বাইরে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা গুলশান এলাকার রাস্তায় অবস্থান করছেন। ওদিকে অবরুদ্ধ অবস্থায় খালেদা জিয়া বিবিসি বাংলাকে একটি টেলিফোন সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। রোববার রাত ১২টার পর থেকে একে একে ১১টি ট্রাক এনে কার্যালয়ের গেটের সামনে রাখা হয়। এক ট্রাক ড্রাইভার জানান, ট্রাকের কাগজপত্র দেখার কথা বলে আমাদের কাকলী সিগন্যাল থেকে নিয়ে এসেছে। তারা বলেছে, আমরা যেখানে নিয়ে যাই সেখানে নিয়ে যাবে। এরপর গুলশান কার্যালয়ে আনা হয়।
আটকা পড়েন শতাধিক মহিলা নেত্রী ও গণমাধ্যমকর্মী
শনিবার রাতেই খালেদা জিয়ার সঙ্গে গুলশান কার্যালয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন দলের বেশ কয়েকজন সিনিয়র ও মহিলা নেতাকর্মীরা। তাদের মধ্যে রয়েছেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল কাইয়ূম, বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান, মহিলা দলের সভানেত্রী নুরে আরা সাফা, সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, সাবেক এমপি রেহানা আখতার রানু, নিলুফার চৌধুরী মনি, রাশেদা বেগম হীরা, সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়া, সুলতানা আহমেদ, ফরিদা ইয়াসমীন, মহিলা দল নেত্রী ফারজানা রহমান হোসনা প্রমুখ। রোববার দুপুর থেকে গুলশান কার্যালয়ের ফটক বন্ধ করে দেয়া হলে ভেতরে আটকা পড়েন বেশ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী। অবরুদ্ধ অবস্থায় তারা অমানবিক জীবন কাটাচ্ছেন তারা। ঘুম ও গোসল করতে না পেরে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন তারা।
অসুস্থ খালেদার চিকিৎসায় কার্যালয়ে মেডিকেল টিম
পুলিশের ছোড়া পিপার সেপ্রতে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বিএনপি চেয়ারপাসন খালেদা জিয়া ও দলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী এবং গণমাধ্যম কর্মী। তাদের চিকিৎসা দিতে গুলশান কার্যালয়ে প্রবেশ করেন তিন সদস্যের একটি মেডিকেল টিম। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. শামীমের নেতৃত্বে মেডিকেল টিমের সদস্যরা কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ খান কামাল সোহেল মানবজমিনকে জানিয়েছেন, বিকালে পুলিশের ছোড়া পিপার সেপ্রতে ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এজন্য তার বক্তিগত চিকিৎসক ডা. শামীম এসেছেন। ম্যাডামকে তিনি চিকিৎসা দিচ্ছেন। ওদিকে পিপার সেপ্রতে আহত মহিলা দলের কয়েকজন নেত্রী ও সাংবাদিকদের চিকিৎসা দিচ্ছেন ডা. নাসিরে নেতৃত্বে একটি মেডিকেল টিম।
অবরুদ্ধ নয়াপল্টন
৫ই জানুয়ারি ২০ দলের সমাবেশকে কেন্দ্র করে নয়াপল্টনসহ আশেপাশের এলাকা সকাল থেকেই সিল করে দেয় পুলিশ। ভোরেই নাইটিঙ্গেল মোড় ও ফকিরাপুল মোড়ে ব্যারিকেড দিয়ে পুলিশ বন্ধ করে দেয় নয়াপল্টন ভিআইপি রোড। সেখানে মোতায়েন রাখা হয় জলকামান, প্রিজন ভ্যান ও সাঁজোয়া যান। নয়াপল্টন ভিআইপি রোডের প্রতিটি গলির মুখে বসানো হয় পুলিশি পাহারা। নয়াপল্টন বিএনপি কার্যালয়কে কেন্দ্র করে বিজয়নগর থেকে পুরানা পল্টন, ফকিরাপুর থেকে শান্তিনগর বাজারের হোটেল-রেস্টুরেন্টগুলো বন্ধ করে দেয় পুলিশ। তবে সকাল থেকে নয়াপল্টনকে কেন্দ্র করে আশেপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা ভেঙে দফায় দফায় মিছিল বের করেছে বিএনপি, অঙ্গদল ও ২০ দলের নেতাকর্মীরা। পুলিশ টিয়ার শেল ছুড়ে ও গুলি চালিয়ে প্রতিটি মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় পুলিশের গুলিতে আহত হয় অন্তত ২০ জন। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা কয়েকটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগসহ বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। সকাল ১০টার সময় বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাসের শাহজাহানপুরের বাসভবনে তল্লাশি চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ সময় মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস বাসায় ছিলেন। তার পারিবারিক সূত্র জানায়, তল্লাশিকালে মির্জা আব্বাসকে না পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাসা থেকে বেশ কিছু কাগজপত্র নিয়ে গেছে। দুপুর সোয়?া ১২টার দিকে সেগুনবাগিচার কালভার্ট এলাকায় একটি মিছিল বের করে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীরা।
পুলিশ টিয়ার শেল ও গুলি ছুড়ে মিছিলে বাধা দিলে দুইপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশের গুলিতে আহত হয় অন্তত ৫ জন। এ সময় এক সার্জেন্টের মোটরসাইকেলে আগুন দেয় বিক্ষুব্ধ কর্মীরা। ওদিকে দুপুর পৌনে ১টার দিকে পল্টন কালভার্ট রোডে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুস সালাম আজাদ, যুগ্ম সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল বারী বাবু, ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক মফিজুর রহমান আশিকের নেতৃত্বে যৌথভাবে একটি মিছিল করে মহানগর বিএনপি, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল। মিছিলটি কালভার্ট রোড থেকে বিজয় নগরের সড়কে আসার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ গুলি ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় গুলিবিদ্ধ একজনসহ ৫ জনকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানে পুলিশের লাঠিচার্জে ১৮-২০ জন আহত হয়। এদিকে দুপুর ১টার দিকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনের বিপরীত দিকে ঢাকা মহানগর বিএনপি’র আহ্বায়ক মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে বিএনপি নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি রাজারবাগ এলাকায় আল-বারাকা হাসপাতালের সামনে পৌঁছলে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ ও গুলি চালায়। এ সময় সাবেক কমিশনার হারুন, বিএনপি কর্মী লিটন, রাজু, রাসেলসহ ১২ জন নেতাকর্মী আহত হয়। মিছিল থেকে পুলিশ মোটরচালক দলের সাধারণ সম্পাদক হাজী রাব্বীসহ কয়েকজনকে আটক করে। একই সময় বেইলী রোডের হক বেকারির সামনে পরপর তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোটরসাইকেলযোগে এসে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ওদিকে দুপুর আড়াইটার দিকে সেগুনবাগিচা হাইস্কুলের গলি এলাকায় একটি মিছিল করে বিএনপি ও ছাত্রদল। মিছিল থেকে ৮/১০টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। পরে পুলিশ ও ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। একই সময় ফকিরাপুলে মিছিল বের করে শিবির। মিছিল থেকে দু’টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এ সময় কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে পুলিশ। বিকাল তিনটার দিকে ফকিরাপুলে ছাত্রদল মিছিল করে। এ সময় তারা পুলিশের একজন এসআই’র ওপর হামলা করে। এ সময় ফকিরাপুলের হোটেল ওয়ান্সের সামনে দু’টি মোটরসাইকেলে আগুন দেয় ছাত্রদলকর্মীরা। মোটরসাইকেল দু’টির একটি পুলিশের (ঢাকা মেট্রো-হ-১১-২৭৩৫) ও অন্যটি প্রেস স্টিকার লাগানো (ঢাকা মেট্রো-এ-০১-৪০৪২)।
এরপর ছাত্রদল কর্মীরা বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। জবাবে টিয়ার শেল ও গুলি ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। এ সময় পুলিশ সেখান থেকে আবুল কাশেম, রাহাতসহ ৬ জনকে আটক করে। এরপর ফকিরাপুলের শপিংমল ও বিভিন্ন অলিতে গলিতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। বিকাল তিনটার সময় পুরানা পল্টনে বায়তুল মোকাররমের বিপরীতে আজাদ প্রোডাক্টের গলিতে দু’টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া করে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এর আগে সকালে নয়াপল্টন থেকে আটক করা হয় ৪ জনকে। পুলিশ জানায়, ওই এলাকায় কেউ যেন নাশকতা করতে না পারে সে জন্য এ অভিযান চালানো হচ্ছে। পুরো এলাকা পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। উল্লেখ্য, ৫ই জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা দিবসে সমাবেশের অনুমতি না পেয়ে নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জমায়েতের সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দল। সে জমায়েতে বিএনপি চেয়ারপারসন ও জোটের শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণের কথা ছিল। কিন্তু শনিবার রাতে বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদকে গ্রেপ্তার ও কার্যালয়ের কর্মচারীদের বের করে দেয় পুলিশ। জনশূন্য বিএনপি কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
আইনজীবীদের বিক্ষোভ, সংঘর্ষ
এদিকে সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় দিনভর বিক্ষোভ করেছেন বিএনপি-জামায়াত সমর্থক আইনজীবীরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে আইনজীবীদের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া বিকালের দিকে আওয়ামী লীগ কর্মীরা সুপ্রিম কোর্টের বাইরে থেকে আইনজীবীদের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষোপ করে। তারা আইনজীবীদের ধাওয়া করে। বেলা ১২টার দিকে কালোপতাকা হাতে মিছিল বের করেন বিরোধী সমর্থক আইনজীবীরা। তারা হাইকোর্ট মাজার দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এতে মুস্তাফিজুর রহমান নামে এক পুলিশ সদস্য আহত হয়। মিছিলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, আইনজীবী নেতা মাহবুব উদ্দিন খোকন, বদরুদ্দোজা বাদল, সানাউল্লাহ মিয়া প্রমুখ অংশ নেন। পরে আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের পাশে বিক্ষোভ করতে থাকেন। ফটকে তালা দিয়ে বাইরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ অবস্থান নেয়। বিকাল সাড়ে চারটার দিকে প্রেস ক্লাব মোড়ে বিস্ফোরণের শব্দ হয়। এই শব্দে প্রেস ক্লাবের সামনে থাকা আওয়ামী লীগ কর্মীরা সুপ্রিম কোর্টের দিকে ছুটে যান। তারা ফটকের ভেতরে থাকা আইনজীবীদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। আইনজীবীরাও পাল্টা ইটপাটকেল ছুড়েন। একপর্যায়ে আওয়ামী লীগ কর্মীরা প্রধান ফটক খুলে সুপ্রিম কোর্ট এলাকার ভেতরে ঢুকে আইনজীবীদের ধাওয়া করে। পরে পুলিশ তাদের সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নাটোর প্রতিনিধি জানান, জেলার তেবারিয়ায় আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে দুই ছাত্রদল কর্মী নিহত হয়েছেন। এছাড়া এ ঘটনায় অন্তত আরও ১০জন আহত হয়েছেন। ঘটনার প্রতিবাদে নাটোর জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে জেলা বিএনপি। এতে নৈতিক সমর্থন জানিয়েছে জামায়াত। আহতদের নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে র্যাব, পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে জেলায়। ঘটনার পরপরই তেবারিয়া এলাকায় ভাঙচুর করা হয়েছে কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর। এদিকে জেলার গুরুদাসপুর উপজেলা চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা আবদুল আজিজের নয়াবাজার এলাকায় দ্বিতল বিশিষ্ট খামার বাড়ি এবং নয়াবাজার এলাকায় দুইটি বিএনপি অফিসে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি হিসাবে গণতন্ত্র মুক্ত দিবস পালন উপলক্ষে শহরে মিছিল সমাবেশ করেছে আওয়ামী লীগ। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সোমবার সকালে শহরের তেবারিয়া এলাকায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগ কর্মীরা দুই দলের আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও একপর্যায়ে সংঘর্ষ হয়।
এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেল যোগে একদল দুর্বৃত্ত এসে গুলি করে চলে যায়। এ সময় গুলিবিদ্ধসহ আহত হয় অনেকে। এদের মধ্যে আহত রাকিব আলী ও রায়হানকে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের দুই জনকে মৃত ঘোষণা করেন। রাকিব তেবারিয়া এলাকার চান মিয়ার ছেলে। নিহত দুই জনই বিএনপির অঙ্গসংগঠন ছাত্রদল কর্মী। ঘটনায় পর থেকে এলাকায় র্যাব, পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। আহত বাকিদের নাটোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। সোমবার সকালে শহরের আলাইপুর এলাকায় ৫ জানুয়ারিকে গণতন্ত্র হত্যা দিবস আখ্যা দিয়ে জেলা বিএনপি ও কানাইখালী এলাকায় গণতন্ত্র মুক্ত দিবস আখ্যা দিয়ে আওয়ামী লীগ পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি দেয়। এদিকে সকালে গুরুদাসপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল আজিজের দ্বিতলবিশিষ্ট খামারবাড়ি ও দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করেছে আওয়ামী লীগ কর্মীরা। এলাকাবাসী জানান, সোমবার সকালে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা নয়াবাজার বিএনপির অফিস ভাঙচুর করে। এ সময় তারা অফিসের চেয়ারটেবিল ও অন্যান্য মালামাল রাস্তায় বের করে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে তারা বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়ক সংলগ্ন পুকুর পাড় এলাকায় উপজেলা চেয়ারম্যানের দ্বিতল খামারবাড়ির দরজা ভেঙে ব্যাপক লুটপাট করে। বাড়ির দরজা-জানালাসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে ও পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তেই আগুন গোটা বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে বিকালে আওয়ামী লীগের এক সমাবেশ থেকে নিহত রাকিবকে নিজেদের কর্মী বলে দাবি করা হয়েছে। তবে তার পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন তিনি ছাত্রদল করতেন।
স্টাফ রিপোর্টার রাজশাহী থেকে জানান, জেলার পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বরে পুলিশের গুলিতে বিএনপির এক কর্মী নিহতসহ অন্তত ৬ নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। নিহত বিএনপি কর্মীর নাম মজের আলী (৫০)। তার গ্রামের বাড়ি উপজেলার মাড়িয়া গ্রামে। এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রাজশাহীতে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে জেলা বিএনপি। এর আগে মহানগর বিএনপির সমাবেশস্থলে যাওয়ার পথে সকাল ১০টার দিকে নগরীর গ্রেটার রোড় এলাকায় মিছিলে বাধা দিলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ অন্তত ৫ বিএনপি নেতাকর্মী আহত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল বিকাল ৩টার দিকে পুঠিয়া উপজেলা বিএনপি নেতাকর্মীরা বানেশ্বর বাজারে মিছিল বের করেন। এ সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা লাঠি হাতে পাল্টা মিছিল বের করলে সংর্ঘষ বেধে যায়। উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা পেট্রোল পাম্প এলাকায় ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা ট্রাফিক মোড় এবং তাদের মাঝে পুলিশ অবস্থান নেয়। পরে বিকাল ৪টার দিকে পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে এলাপাতাড়িভাবে শতাধিক রাউন্ড শটগানের গুলি, রাবার বুলেট, টেয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মজের আলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। আহত হয়েছে অন্তত ২৫ জন নেতাকর্মী। এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে বিএনপি। হরতালে বাধা দিলে বা গুলি করলে লাগাতার কর্মসূচি দেয়ারও হুমকি দেন নেতাকর্মী। এর আগে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্য দিয়ে রাজশাহী নগরীতে পৃথকভাবে সমাবেশ করেছে বিএনপি ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। গতকাল সকাল ১০টা থেকে নগরীর আলুপট্টি মোড়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয় মহানগর আওয়ামী। আগে সেখান থেকে শোভাযাত্রা বের করার ঘোষণা দিলেও সেই কর্মসূচি থেকে সরে আসে। পরে ১১টার দিকে একটি মিছিল সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে এসে ৫ জানুয়ারিকে গণতন্ত্র রক্ষা দিবস আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মহানগর সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। প্রায় একই সময়ে নগরীর ভুবনমোহন পার্ক এলাকায় গণতন্ত্র হত্যা দিবসের বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে মহানগর বিএনপি। এছাড়া সকাল সকাল ১০টায় জেলা বিএনপি রাজশাহী কলেজে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। অন্যদিকে সমাবেশস্থলে যাওয়ার পথে সকাল ১০টার দিকে নগরীর গ্রেটারমোড় এলাকায় বিএনপির মিছিলে বাধা দিলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় পুলিশের ছোড়া শর্টগানের গুলি ও টিয়ারশেলের আঘাতে অন্তত ৫/৭ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন। এছাড়া গতকাল সকাল ৭টার দিকে নগরীর উপশহর এলাকার অবস্থিত আওয়ামী লীগের উত্তর শাখা কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে ওই অফিসের ভেতরে থাকা দুইটি মোটরসাইকেল ও চেয়ারটেবিল পুড়ে গেছে। পরে নগরীর বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ৮ জনকে আটক করে পুলিশ। সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ৮ জনকে আটক করা হয়েছে।
চাঁপাই নবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সোমবার বিকালে চাঁপাই নবাবগঞ্জের কানসাটে পুলিশের গুলিতে জমশেদ (৪৮) নামে এক বিএনপি কর্মী মারা গেছেন। তিনি শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট ইউনিয়নের শিবনারায়ণপুর ইউনিয়নের মৃত মোন্তাজ আলীর ছেলে। জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি অধ্যাপক শাহজাহান মিয়া জমশেদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মৃত জমশেদ তাদের কর্মী। এ ঘটনার প্রতিবাদে জেলা ২০ দলীয় জোট আজ জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে। সূত্র জানায়, বিকাল ৩টার দিকে ২০দলীয় জোট মিছিল বের করে। কানসাট গোপালনগর মোড়ে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। পুলিশ শটগানের গুলি ছুড়ে। এতে এরফান ও জমশেদসহ অন্তত ৩৫জন আহত হন। আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ জমশেদকে রাজশাহী নেয়ার পর সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে মারা যায়। শিবগঞ্জ থানার ওসি ময়নুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, বেলা ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শিবগঞ্জ উপজেলার পৌর এলাকা, কানসাট কলেজ ও কানসাট এলাকায় ১৪৪ধারা জারি করা হয়। কিন্তু জামায়াত-বিএনপি কর্মীরা ১৪৪ধারা উপেক্ষা করে বিকাল ৩টার দিকে মিছিল বের করে এবং কানসাট গোপালনগর মোড়ে পুলিশের ওপর বোমা হামলা চালায়।
এছাড়া নারায়ণগঞ্জে পৃথকভাবে বিএনপি ও ছাত্রদলের মিছিলে গুলি চালিয়েছে পুলিশ। পুলিশ শতাধিক রাউন্ড গুলি ছুড়লে কমপক্ষে ১০ নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হন। এ সময় আরও আহত হয়েছেন ১০জন। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সোয়া ১১ পর্যন্ত শহরের মিশনপাড়া ও বন্দরে এ ঘটনা ঘটে। সিলেট জেলা বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। উভয়পক্ষের সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ১০ জন। ভাঙচুর করা হয় অন্তত ২০টি গাড়ি। এর মধ্যে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অন্তত ৫০ জনকে আটক করেছে। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সিলেটের কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় অবস্থান নেয় আওয়ামী লীগ। জেলার জকিগঞ্জ উপজেলায় জামায়াত, বিএনপি, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী, পুলিশ, ব্যবসায়ী, পথচারীসহ অন্তত প্রায় ৩০জন আহত হয়েছেন। ফেঞ্চুগঞ্জে জামায়াত ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে পুলিশের এক এসআই ও দুই সোর্সসহ ৫ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ জামায়াতে ইসলামীর ৩জন ও অপর দুই জন ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে। লক্ষ্মীপুরে সকালে বিএনপির মিছিলে পুলিশ ধাওয়া করে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন ভূইয়া, বিএনপি কর্মী আবদুল কাদেরসহ তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়া ভোর রাতে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে দুই শিবিরকর্মীসহ ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া রায়পুর উপজেলার বাস টার্মিনাল এলাকায় বিকালে বিএনপি-আওয়ামী লীগ ও পুলিশে ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় উভয়ের অন্তত ৩০জন আহত হয়েছে। মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন থানায় যুবদল ও জামায়াতে ১৩ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে শ্রীনগরে যুবদলের ৪ জন, সিরজদিখানে জামায়াতের ১ জনসহ ৫ ও মুন্সীগঞ্জ সদরে ৪ জন রয়েছে। রোববার রাতে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। রোববার রাতে মানিকগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপি ৫৬ নেতা-কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। বিশেষ অভিযানে মাগুরার ৪টি থানায় বিএনপি এবং জামায়াতের ১১ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ রাতভর জেলা বিএনপি ও তার অঙ্গ সংঠনের নেতাদের বাসা-বাড়িতে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়েছে বলে নেতাদের অভিযোগ পাওয়া গেছে। দিনাজপুরে জামায়াত-শিবির ও বিএনপির ১৩ নেতা-কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার গভীর রাত থেকে গতকাল ভোর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এছাড়া জেলার বোচাগঞ্জ থেকে আটক করা হয়েছে আরও ১৫ নেতাকর্মীকে। বিএনপি ও জামায়াতের অফিস ভাঙচুর এবং পৌর বিএনপির কার্যালয়ে আগুন দিয়েছে প্রতিপক্ষরা। মৌলভীবাজার শহরের চৌমুহনী এলাকা থেকে বিএনপি মিছিল বের করলে নেতা-কর্মীদের বাগবিতণ্ডা হয়।
এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ ও ফাঁকা গুলি করেছে। এতে ৪ পুলিশসহ অন্তত ৫ থেকে ৬ জন মিছিলকারী আহত হয়েছেন। মিছিল থেকে ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। দুপুরে জেলার বড়লেখা উপজেলা সদরে বিএনপি অফিস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পৌর মেয়রসহ কমপক্ষে বিএনপির ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। কমলগঞ্জে পুলিশ বাবুল মিয়া ও মাসুম মিয়া নামে বিএনপি-জামায়াতের দুই কর্মী আটক করে। এছাড়া জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। যশোরে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা টি এস আইয়ুবসহ বিএনপি জামাতের ৮১ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। শহরের ঘোপ এলাকা থেকে সোমবার সকালে জেলার বাঘারপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী সদস্য প্রকৌশলী টি এস আইয়ুবকে আটক করে ডিবি পুলিশ। অপরদিকে গতকাল দিনভর জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ বিএনপি জামায়াতের ৮১ নেতাকর্মীকে আটক করেছে। সুনামগঞ্জে আওয়ামী লীগ-বিএনপি-জামায়াত-পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ ৬ জন আহত হয়েছে। বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীরা বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করেছে। শহরের পুরাতন বাসস্টেশন থেকে ছাত্রদল মিছিল নিয়ে ট্রাফিক পয়েন্টের দিকে আসলে যুবলীগ-ছাত্রলীগের সাথে সংঘর্ষ বাধে। ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে উভয়পক্ষের নেতাকর্মীরা।
ঝিনাইদহ শহর ও শৈলকুপায় সাকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিএনপি-আওয়ামী লীগ এবং পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে দুই পুলিশ কনস্টেবলসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ সময় বিএনপি কর্মীরা ঝিনাইদহ শহরের এইচএসএস সড়কে জনতা ব্যাংকের একটি পাজেরো জিপ গাড়ি ভাঙচুর করে। এছাড়া জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ৩৮ বিএনপি জামায়াত নেতাকর্মীকে আটক করেছে। সিরাজগঞ্জ শহরে পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে ছাত্র ও যুবদলের ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। এ ঘটনার পর বেলা ১২টার দিকে শহরের হোসেনপুর ও ধানবান্ধি মহল্লায় অভিযান শুরু করে। হবিগঞ্জে ছাত্রদল ও পুলিশের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ মুশফিক আহমেদসহ ৫০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় পুলিশের ব্যবহৃত হিউম্যান হলার, ইজিবাইকসহ ১০-১৫টি যানবাহন ও জেলা শিক্ষা অফিস ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধরা। পুলিশ ৯ রাউন্ড শটগানের বুলেট ও ৩ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এছাড়া ৭ নেতার্মীকে আটক করা হয়েছে। চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে বিএনপির কালোপতাকা মিছিলকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ শটগান থেকে অন্তত ১৯ রাউন্ড গুলি ছোড়ে ও ১ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে। এতে ১ জন শিশুসহ ৪ জন গুলিবিদ্ধ ও অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া চাঁদপুরের বিভিন্ন এরাকা থেকে ২১ বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। ফেনীতে ২০ দলের মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জে নেতাকর্মী আহত হয়েছে। গতকাল দিনভর ছাত্রদল শহরের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল করে ককটেল বিস্ফোরণ করে। এ সময় যাত্রীবাহী বাসসহ অন্তত ১০টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পুলিশ বিভিন্ন স্থান থেকে ছাত্রদল নেতাসহ অন্তত ৭ জনকে আটক করেছে। গাজীপুরে কালোপতাকা মিছিল বের করা হলে গুলি ছোড়ে পুলিশ। এ সময় মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয়। দুপরে ছাত্রদল নগর ভবনের সামনে থেকে একটি মিছিল বের করলে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে মুজাহিদুল ইসলাম নামে একজনকে আটক করেছে। এর আগে রাতে গাজীপুরের বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে মোট ৫৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। বিএনপির দাবি এদের বেশীর ভাগই বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মী। চট্টগ্রামে পুলিশের ছোড়া গুলিতে বিদ্ধ হয়েছেন দু’জন। এছাড়া লাঠিচার্জে আহত হয়েছেন আরও ২০ জন। বিক্ষুব্ধ বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীরা ১০টি গাড়ি ভাঙচুর করেছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে নগরীর বাইরে অভিযান চালিয়ে বিএনপি-জামায়াতের ৩৯ কর্মী-সমর্থককে আটক করা হয়েছে। সীতাকুণ্ড উপজেলায় রোববার রাত ও গতকাল বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ও জামায়াত-বিএনপির কর্মীসহ ২১ জনকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার রাতে খুলনায় অভিযান চালিয়ে নগরী থেকে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের ৩৫ নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। কুষ্টিয়ার বিভিন্ন উপজেলায় অভিযান চালিয়ে বিএনপি-জামায়াতের ২৩ নেতাকর্মীকে আটক করেছে। রোববার রাতে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাদের আটক করে। সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন স্থানে পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিএনপি ও জামাত-শিবিরসহ ৫০ জন আটক করেছে। রোববার রাত থেকে গতকাল সকাল ৯টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। মেহেরপুরে ১০ বিএনপি কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। এর মধ্যে গাংনী থানা উপজেলা থেকে ৬ জন ও মুজিবনগর থেকে ৪ জন। রোববার রাতে বাগেরহাট জেলার ৯ উপজেলা থেকে বিএনপি-জামায়াতের ২৬ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতদের মধ্যে কচুয়া উপজেলার মঘিয়া ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি ফকির সাখাওয়াত হোসেন, কচুয়া উপজেলা জামায়াত নেতা জিয়া ফকির, চিতলমারীর ৩ ছাত্রদল নেতা সুমন শেখ, রুপম হোসেন ও রিফাত খান প্রমুখ। খাগড়াছড়িতে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও পুলিশের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ১৫ জন আহত হয়েছে। প্রতিবাদে আজ সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধের ডাক দিয়েছে বিএনপি। নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকনের নেতৃত্বে মিছিলটি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে উঠতে চাইলে বাধা দেয় পুলিশ। পরে পুলিশি বাধার মুখে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে নেতাকর্মীরা। এদিকে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বিএনপির ১২ নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ। সাভারে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছে অন্তত ১০ জন। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে সমাবেশ চলাকালীন এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পাবনায় পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে বিএনপির অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিদ্দিকুর রহমান জানান, ককটেল বিস্ফোরণ ও সংঘর্ষ শুরু হলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও ১২ রাউন্ড শটগানের গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে।
নোয়াখালীতে পুলিশ ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। বিএনপির মিছিলে পুলিশ বাধা দিয়েছে। কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়েছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে ৮ বিএনপি কর্মীকে আটক করেছে। পুলিশের গুলিতে ২ বিএনপি কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শহরের বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে ছাত্রদলের সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। পুলিশ বিএনপির ১২ জনকে আটক করেছে। এছাড়া জেলার কসবা উপজেলায় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। কক্সবাজারের ৭ উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ২০ দলীয় জোটের ১৪ জন নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার রাত ১২টা থেকে গতকাল সকাল ৯টা পর্যন্ত কক্সবাজার সদর, রামু, উখিয়া, চকরিয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী ও টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
বরগুনায় বিএনপি সকালে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল বের করতে চাইলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। কাটপট্টি এলাকায় বেলা সাড়ে ১১টায় ছাত্রদলের একটি মিছিল দলীয় কার্যালয়ে ঢোকার চেষ্টা করলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের পুলিশ ছত্রভঙ্গ করতে গেলে পুলিশের সাথে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ভোলায় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরের দরগাহ রোড এলাকায় বিএনপি মিছিল বের করলে পুলিশ বাধা দেয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় ঘন্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন পুলিশের ৩ সদস্যসহ অন্তত ২২ জন। এছাড়া শহরের বাংলা স্কুল মোড়ে ৩টি অটোরিকশা এবং ৫টি দোকান ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পটুয়াখালীতে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিএনপি কালো পতাকা মিছিল বের করলে পুলিশ মিছিলে বাধা দেয়। পুলিশ মিছিলে লাঠিচার্জ করে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় পুলিশের লাঠির আঘাতে ৭ নেতাকমী আহত হয়। রাঙামাটিতে সকাল সাড়ে ১০ টায় বিএনপির মিছিল বের করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের কার্যালয় চত্বরেই আটকে রাখে। অন্যদিকে শহরের কলেজ গেট এলাকায় বিএনপি মিছিলের চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া দেয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1427)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
January
(1455)
-
▼
Jan 06
(57)
- ‘সরকারি অবরোধে’ ভোগান্তি, আজ থেকে বিরোধী জোটের লা...
- ‘গুরুতর’ অসুস্থ খালেদা, খালেদাকে রক্ষা করা হাসিনার...
- সারা দেশে নয়টি গাড়িতে আগুন
- বাংলাদেশে নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে বৃটিশ পার্লাম...
- শ্যালা নদীতে আবারও নৌ চলাচলের অনুমতি
- হ্যাপীর রিট খারিজ
- ‘গ্রেপ্তারের মহোৎসবে মেতে উঠেছে সরকার’
- বের হওয়ার পরই ফখরুল গ্রেপ্তার- ফখরুলের মুক্তি দাব...
- সঙ্কট সমাধানে আলোচনার আহবান এরশাদের
- মির্জা ফখরুল গ্রেফতার, খালেদার নিন্দা
- রাজশাহীতে শিবির-পুলিশ সংঘর্ষ
- রাজধানীতে তিন গাড়িতে আগুন
- নিরাপত্তার জন্যই প্রেসক্লাবে থাকতে হয়েছে: ফখরুল, প...
- প্রেসক্লাব ‘বহিরাগত’মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান
- মত প্রকাশের স্বাধীনতা এখন রুদ্ধ: খালেদা, ইটিভি চেয়...
- অবরোধে আটকে গেছে সবজি
- বিচ্ছিন্ন সহিংসতায় বিরোধী জোটের অবরোধ, তাঁতীবাজারে...
- প্রেস ক্লাবে মির্জা ফখরুল অবরুদ্ধ, পুলিশে দেয়ার আহ...
- একুশে টেলিভিশনের চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার
- রাজধানী থেকে দূরপাল্লার বাস ছাড়ছে না
- পুলিশ কইল, ‘চল’...
- কর্তৃত্ববাদী শাসন মানুষ মেনে নেবে না by মোহাম্মদ ব...
- সফরকারী বিজেপি নেতার বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন by ড. মাহ...
- দেশের স্বার্থকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে রাখতে হবে by সৈয়দ ...
- বর্তমানকে দখল করতে গিয়ে সরকার ভবিষ্যৎকে ভয়ংকর করে ...
- চট্টগ্রামে পুলিশের গুলি, ২০ দলের সভা পণ্ড- আসলাম চ...
- সরকারের আচরণে ফ্যাসিবাদের লক্ষণ by হায়দার আকবর খান...
- প্রেসক্লাবে দিনভর উত্তেজনা- মির্জা ফখরুল ক্লাবের ভ...
- বছর শেষে সরকারের অবস্থান কেমন
- ফেনীতে ককটেল বিস্ফোরণ স্কুলছাত্র আহত
- চট্টগ্রামে কাল সকাল-সন্ধ্যা হরতাল
- বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে গণতান্ত্রিক দেশগুল...
- অটোরিকশায় ৭ ঘাট ঘুরে লক্ষ্মীপুর থেকে ঢাকায়
- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুরো ভাষণ
- চট্টগ্রামে সোনা ছিনতাই- এক কোটি টাকা নিতে চেয়েছিল ...
- দরকার হলে তৃতীয়, চতুর্থবারও জাতিসংঘে যাবো: আব্বাস
- গায়ের জোরে কেউ ক্ষমতায় থাকতে পারবে না: ড. কামাল
- চট্টগ্রামে পুলিশের গুলিতে ২০ দলের সমাবেশ পণ্ড রণক্...
- ড. ইউনূসের প্রশংসায় মোদি
- পথে পথে দুর্ভোগ
- এক মনীষী বিচারপতির বিদায়
- একুশে টেলিভিশন সম্প্রচারে বাধা
- ‘হাসিনার পতন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন’ -তারেক রহমান...
- জাতীয় প্রেস ক্লাবে আটকে আছেন ফখরুল, বের হলেই গ্রেফতার
- রাজধানীজুড়ে উৎকণ্ঠা, নেই গণপরিবহন
- হরতাল অবরোধ করেই সরকারের পতন হয় -বিবিসি’র মূল্যায়ন
- ব্ল্যাকবক্সের সন্ধানে অভিযান চলছে, আরও লাশ উদ্ধার
- টালমাটাল বাংলাদেশ
- ফের অবরুদ্ধ, গোটা দেশে সংঘাত-সংঘর্ষ
- সময় নষ্ট করল ফিলিস্তিন -আল–জাজিরার বিশ্লেষণ
- নাশকতার পথ ছেড়ে শান্তির পথে আসুন -প্রধানমন্ত্রী
- ভয়ঙ্কর ভবিষ্যতের আলামত by জাহিদ হাসান
- সোফায় বসে বিনিদ্র রাত খালেদার
- নিষেধাজ্ঞা ভেঙে রাজপথে আওয়ামী লীগ
- প্রথম আলোর ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন মঞ্জুর
- ‘গেটে তালা লাগিয়ে গুলি চালিয়ে আন্দোলন দমন করা যাবে...
- প্রেস ক্লাবে হামলা, সংঘর্ষ
-
▼
Jan 06
(57)
-
▼
January
(1455)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ইরান
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
কালবেলা
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
রাশিয়া
মুক্তিযুদ্ধ
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
ইউক্রেন
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
হিন্দু
রুদ্র মিজান
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
স্বাস্থ্য
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
জ্যোতির্বিজ্ঞান
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
জীবনযাপন
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কলকাতা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
মসজিদ
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ইয়েমেন
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
Exclusive
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
জনস্বাস্থ্য
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
জোহরান মামদানি
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
ইহুদি
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
স্পেন
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
জর্দান
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
আহমেদ মুনির
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment