Sunday, February 2, 2025
ট্রাম্পইজম যুক্তরাষ্ট্রকে কোথায় নেবে? by মোহাম্মদ আবুল হোসেন
ট্রাম্পইজম যুক্তরাষ্ট্রকে কোথায় নেবে? by মোহাম্মদ আবুল হোসেন
ডনাল্ড ট্রাম্প যা করছেন তাকে কেউ কেউ ট্রাম্পইজম বলে অভিহিত করছেন। তিনি বিগত সময়ে এবং এখনো বেশ কিছু তথ্য দিয়েছেন। এসব তথ্যকে আন্তর্জাতিক মিডিয়া মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বলে অভিহিত করছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে অভিবাসনবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে। এর মধ্যে আছেন বাংলাদেশ ও ভারতের অভিবাসীরাও। ভারতীয় মিডিয়ায় প্রকাশ ভারত ১৮ হাজার অভিবাসীকে ফেরত নেয়ার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এ সংখ্যা পরিষ্কার করে বলেননি। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ক্ষমতায় আসার পর প্রথম কোনো বিদেশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে দ্বিপক্ষীয় বিষয়, আঞ্চলিক ও বিশ্ব নিরাপত্তার ইস্যু আলোচিত হয়েছে। উঠেছে প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ, ওই সংলাপে নাকি বাংলাদেশ ইস্যুও উঠেছিল। তবে বাংলাদেশ নিয়ে কি আলোচনা হয়েছে তা জানা যায়নি। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার দহরম মহরম সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। এবারো কি তাই হবে? ট্রাম্প যখন ভারতীয় অবৈধ অভিবাসীদের বের করে দেবেন, তখনই এ সম্পর্ক সম্পর্কে আন্দাজ করা যাবে। তাছাড়া সবেমাত্র ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু। এখনই ভারতের সঙ্গে তার সমীকরণ কেমন হয় তা বোঝা দুরূহ।
ডনাল্ড ট্রাম্প ২০শে জানুয়ারি শপথ নিয়ে হোয়াইট হাউসে দ্বিতীয় মেয়াদে ফিরে যান। এ সময়ে বিশ্বের বহু দেশ আন্দাজ করে নিয়েছে তার অধীনে তাদের প্রত্যাশা কি হবে এবং তাদের সামনে যা আসতে চলেছে তার জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। তিনি ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ পলিসি নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন। এই পলিসির মধ্যে তিনি যেসব নীতি গ্রহণ করেছেন তাতে কি যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের শক্তিধর এক নম্বর আসন ধরে রাখতে পারবে! অথবা তারা কি যে অবস্থায় আছে তার থেকে আরও উপরে উঠে আরও শক্তিশালী হবে! নাকি যুক্তরাষ্ট্র নিজে নিজেই ধসে পড়বে! বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এখন এই আলোচনা। কারণ, ট্রাম্প শপথ নেয়ার পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। তার দাবি, এই সংস্থায় যুক্তরাষ্ট্র একাই সবচেয়ে বেশি অর্থ দিয়ে আসছে। অন্যদেরকেও তাদের আর্থিক অনুদানে ভারসাম্য রক্ষার আবেদন দীর্ঘদিন ধরে করে আসছেন তিনি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় ২০২৩-২০২৪ সময়কালে বাজেট ছিল ৬২০ কোটি ডলার। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র একাই দিয়েছে শতকরা ১৮ ভাগ। যার পরিমাণ দাঁড়ায় কমপক্ষে ১২২ কোটি ডলারের অনেক বেশি। ট্রাম্প চাইছেন এই অর্থ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে না দিয়ে তার দেশের মানুষের সেবায় ব্যবহার করতে। তাতে যুক্তরাষ্ট্র সমৃদ্ধ হবে। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের যে শূন্য আসন তৈরি হবে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে, তা ওই অর্থ দিয়ে পূরণ করা যাবে না। এ বিষয়টি যখন ট্রাম্প প্রশাসনে আলোচনা হচ্ছে, তখন শোনা যাচ্ছে তিনি এ সিদ্ধান্তটি বিবেচনা করছেন। এর বাইরে ক্ষমতার প্রথম মেয়াদে তিনি প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। ২০২০ সালের নির্বাচনে জো বাইডেন নির্বাচিত হয়ে এসে সেই চুক্তিতে ফিরে গেছেন। আবারো ট্রাম্প ওই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেয়ার কথা ভাবছেন। তিনি এবার ক্ষমতায় এসেছেন জাতীয়তাবাদকে পুঁজি করে। অর্থাৎ মার্কিনিদের স্বার্থকে বড় করে দেখিয়েছেন। তিনি মার্কিনিদের স্বপ্ন দেখিয়েছেন বেশ কয়েকটি। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো- অবৈধ লাখ লাখ অভিবাসীদের বের করে দেবেন। মেক্সিকো-যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তে বেড়া নির্মাণ করবেন। পানামা ক্যানেল, গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসবেন। গালফ অব মেক্সিকোর নাম পাল্টে দিয়ে নতুন নাম রাখবেন গালফ অব আমেরিকা। কানাডা, চীন, মেক্সিকো সহ বিভিন্ন দেশ থেকে পণ্য আমদানিতে বিপুল পরিমাণে শুল্ক আরোপ করবেন। যুক্তরাষ্ট্রে কোনো অভিবাসীর সন্তান জন্ম নিলে তারা জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাবে না। একদিনের মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করে দেবেন। ইত্যাকার প্রতিশ্রুতিতে মার্কিনিরা তাকে ক্ষমতায় এনেছে। ট্রাম্প ২০শে জানুয়ারি শপথ নেয়ার পরই প্রথম ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের সীমানাকে বর্ধিত করার কথা বলেছেন। আসলে এর মধ্যদিয়ে তিনি গ্রিনল্যান্ডকে দখল করে নেয়ার কথা বুঝিয়েছেন। ২৫শে জানুয়ারি তিনি গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের কাছে ট্রাম্প ওই দ্বীপটিকে দখল করে নেয়া সম্পর্কে বলেছেন- আমরা মনে করি এটা আমরা নিয়ে নেবো। এই দ্বীপে বসবাস করেন প্রায় ৫৭ হাজার মানুষ। তাদেরকে আমরা আমাদের সঙ্গে পেতে চাই। এর আগে ট্রাম্প যখন এই দ্বীপকে যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে নেয়ার দাবি করেছিলেন, তখন ডেনমার্ক এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে তার বক্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে এক ফোনকলে কথা বলেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মিত্তি ফ্রেডারিকসেন। ফোনালাপটি ছিল উত্তপ্ত। সেখানে ফ্রেডারিকসেন জানান, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়। উল্লেখ্য, ডনাল্ড ট্রাম্প ২০১৯ সালে প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার সময় আর্কটিক অঞ্চলের এই বিশ্বাল দ্বীপটি কেনার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তখন তিনি বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে থাকা অত্যাবশ্যকীয় হয়ে গেছে। তবে তিনি এয়ারফোর্স ওয়ানের প্রেসরুমে সাংবাদিকদের সঙ্গে এ নিয়ে নতুন করে কথা বলেন। ট্রাম্প বলেন, আমি জানি না ডেনমার্ক কেন এটার দাবি করছে। যদি তারা এটা (যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে) হতে না দেয়, তাহলে তা হবে খুবই অবন্ধুত্বসুলভ কাজ। কারণ, এই গ্রিনল্যান্ডের সুরক্ষাটা মুক্ত বিশ্বের জন্য প্রয়োজন। বিশ্বকে স্বাধীনতা দেয়ার জন্য আমি মনে করি আমরা গ্রিনল্যান্ড নিয়ে নেবো। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু করার নেই। কারণ, শুধু যুক্তরাষ্ট্রই সেখানে স্বাধীনতা দিতে পারে। তারা (ডেনমার্ক) পারে না। শুধু গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করার হুমকি দিয়েই তিনি ক্ষান্ত থাকেননি। একই সঙ্গে কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম রাজ্য বানানোর হুমকি দেন। বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য কানাডাকে অঙ্গরাজ্য বানাতে অর্থনৈতিক শক্তি ব্যবহার করতে পারেন। তারও কড়া জবাব দিয়েছে কানাডা। এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি ক্ষমতার প্রথম দিনেই থামিয়ে দিতে পারবেন ইউক্রেন যুদ্ধ। অবশ্য, তিনি এ নিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলেছেন।
চীন-রাশিয়া কী এক হচ্ছে: ডনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি মোকাবিলা করতে চীন ও রাশিয়া কি এক হচ্ছে? ২০শে জানুয়ারি ট্রাম্প শপথ নেয়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই ভিডিওকলে কথা বলেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তারা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে সবচেয়ে উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শি জিনপিংকে একজন ‘প্রিয় বন্ধু’ সম্বোধন করে পুতিন বলেছেন- বাইরের চাপ থাকা সত্ত্বেও বন্ধুত্ব, পারস্পরিক আস্থা এবং সমর্থনের ভিত্তিতে রাশিয়া ও চীন তাদের সম্পর্ক গড়ে তুলবে। পক্ষান্তরে পুতিনকে কৌশলগত সহযোগিতা গভীর করতে, পারস্পরিক সমর্থনকে উন্নত করতে এবং বৈধ স্বার্থের সেফগার্ড দেয়া অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান শি জিনপিং। ওদিকে বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি চীনকে একটি নির্যাতনকারী বা অপব্যবহারকারী (অ্যাবিউজার) হিসেবে আখ্যায়িত করেন। সতর্ক করেন এই বলে যে, যদি ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে চুক্তি করতে ব্যর্থ হয় তাহলে মস্কোর সামনে বড় বিপদ আসতে চলেছে। শি জিনপিংকে পুতিন বলেন, ইউক্রেন নিয়ে যেকোনো সমাধান হতে হবে রাশিয়ার স্বার্থকে সম্মান জানিয়ে। ওই ফোনকলের পর সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন পুতিনের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ। বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে যে, ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোকে যুদ্ধ সরঞ্জাম সরবরাহ দিচ্ছে তারা। চীন ও রাশিয়ার মধ্যে ২০২৩ সালে রেকর্ড ২৪০০০ কোটি ডলারের বাণিজ্য হয়েছে। ২০২১ সালের পর এই পরিমাণ শতকরা কমপক্ষে ৬৪ ভাগ বেশি। উশাকভ বলেন- যদি ট্রাম্প টিম আগ্রহ দেখায় তাহলে পারস্পরিক সুবিধা এবং সম্মানের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে প্রস্তুত পুতিন ও শি জিনপিং। তিনি আরও জানান- এই দুই নেতার মধ্যে ফোনকলের কোনো সম্পর্ক নেই ট্রাম্পের শপথ অনুষ্ঠানের। তাদের মধ্যে কল স্থায়ী হয় প্রায় দেড় ঘণ্টা। এমন এক প্রেক্ষাপটে টেলিফোনে কথা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র। যত যাই বলা হোক, চীনের মন পাওয়া বা রাশিয়ার মন পাওয়া এতটা সহজ হবে না ট্রাম্পের জন্য। কারণ, এদের কারও বিষয়ে তার নীতি সুখকর নয়। ফলে তাকে মোকাবিলা করতে একজোট হতে পারে চীন ও রাশিয়া।
যুক্তরাষ্ট্র-চীন কি কথা হলো: কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনের সঙ্গে প্রথম আলোচনা করেছে চীন। দুই দেশকে সব দিক থেকে ঠিক উল্টো পিঠের বলে বিবেচনা করা হয়। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে চীনের বিরুদ্ধে তিনি বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করেছিলেন। কিন্তু এবার দ্বিতীয় মেয়াদে এসে কী করবেন! আগেই তিনি ঘোষণা দিয়েছেন চীনা পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপ করবেন। কিন্তু বেইজিং আশা প্রকাশ করেছে যে, সুপরিচিত চীন বিশেষজ্ঞ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দুই দেশের জনগণের কল্যাণের জন্য গঠনমূলক পদক্ষেপ নেবেন। এ নিয়ে শুক্রবার মার্কো রুবিওর সঙ্গে আলোচনা করেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। এ সময় তিনি নিজেদের নেতাদের নির্দেশনা অনুসরণ করে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক সঠিক পথে নেয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। শুক্রবার ওয়াং ই’র সঙ্গে প্রথম টেলিফোনে কথা বলেন মার্কো রুবিও। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে নতুন প্রশাসনে এই দুই শীর্ষ কূটনীতিকের এটাই প্রথম টেলিসংলাপ। এতে ওয়াং ই’কে মার্কো রুবিও বলেন, চীনের সঙ্গে একটি সম্পর্ক গড়ে তুলবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের স্বার্থ থাকবে সর্বাগ্রে। এ তথ্য জানানো হয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে। এতে আরও বলা হয়, এই অঞ্চলে মিত্রদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি জোর দিয়ে তুলে ধরেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সঙ্গে তাইওয়ান এবং দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের ক্ষতিকর পদক্ষেপের বিষয়ে গুরুতর উদ্বেগ জানিয়েছেন। তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এই দুই নেতা যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক এবং তাইওয়ান ইস্যুতে আলোচনা করেছেন। ওয়াং ই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিওকে বলেছেন, চীন এবং মার্কিন জনগণের জন্য, শান্তিপূর্ণ বিশ্ব ও স্থিতিশীলতার জন্য ভবিষ্যতে গঠনমূলক পদক্ষেপ নেবেন বলে আমি আশা করি। কিন্তু ফেনটালাইন বাণিজ্যে বেইজিংয়ের ভূমিকার কারণে চীনা পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র শতকরা ১০ ভাগ শুল্ক আরোপের কথা বিবেচনা করছে বলে বুধবার জানান ট্রাম্প। এরপর দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই টেলিসংলাপ অনুষ্ঠিত হলো। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, রুবিওকে ওয়াং বলেছেন, তাদের রাষ্ট্রের প্রধানরা চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এবং সম্পর্ক কেমন হবে তার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ওয়াং ই বলেন, দুই দেশের টিমের উচিত তাদের রাষ্ট্রের প্রধানদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে যোগাযোগ অব্যাহত রাখা, মতপার্থক্য দূর করা, সহযোগিতা বৃদ্ধি করা, স্থিতিশীলতাকে উৎসাহিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে একটি সুস্থ ও টেকসই সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটানো। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে যেন একটি নতুন যুগের সূচনা হয়, তেমন সঠিক পথ খুঁজে বের করার তাগিদ দেন তিনি। গত সোমবার শপথ নিয়ে ক্ষমতায় বসেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তার আগে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে তিনি ফোন করেন। এই ফোনকলে দুই নেতা একমত হন যে, বড় সব সমস্যা সমাধানে তারা একটি কৌশলগত যোগাযোগ চ্যানেল সৃষ্টি করবেন। বৃহস্পতিবার ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে বক্তব্য রাখেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে অত্যন্ত সুসম্পর্ক চান তিনি। তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে, ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ বন্ধে সাহায্য করতে পারে চীন। বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার খুব ভালো ও বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। তিনি আশা করেন এর ফলে বেইজিংয়ের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছতে পারবেন। সোমবার তিনি বলেন, চীন সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন তিনি। এ বছর খুব তাড়াতাড়ি তিনি চীন সফরে যাবেন। এর আগে ক্ষমতার প্রথম মেয়াদের প্রথম বছরে দ্রুততার সঙ্গে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন ট্রাম্প। উভয়ে উভয়কে যথাক্রমে ফ্লোরিডা এবং বেইজিংয়ে বিলাসবহুল অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সম্পর্ক একটি বাণিজ্য যুদ্ধ থামাতে পারেনি। পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ করেছে এক দেশ অন্য দেশের বিরুদ্ধে। এতে বিশ্ব জুড়ে সরবরাহ চেইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিনেটে কনফার্মেশন শুনানিতে মার্কো রুবিও বলেছেন, চীন বিশ্বাস করে যুক্তরাষ্ট্র আগামী ২০ থেকে ৩০ বছর বিশ্বে আধিপত্যবাদী শক্তি হিসেবে থাকবে। তবে ওয়াং ই বলেন, কাউকে ছাড়িয়ে যেতে বা কারও স্থান দখল করার মানসিকতা নেই চীনের। তিনি বলেন, তবে আমাদের উন্নয়নের বৈধ অধিকারকে সুরক্ষিত রাখবোই আমরা। তাইওয়ান ইস্যুতে তিনি বলেন, প্রাচীনকাল থেকেই ওই দ্বীপটি চীনের অংশ। চীনের কাছ থেকে তাকে কখনো বিচ্ছিন্ন হতে দেবে না চীন। ওদিকে গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত তাইওয়ান বেইজিংয়ের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলেছে, চীনের কমিউনিস্ট পার্টি কখনোই ওই দ্বীপরাষ্ট্রকে শাসন করেনি। অন্যদিকে তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে যুক্তরাষ্ট্র। নিজেদের আইনের অধীনেই তারা এই অস্ত্র বিক্রি করে। কিন্তু তা নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বেইজিংয়ের সম্পর্কে টান ধরেছে।
সৌদি আরব আগেই নতজানু: সৌদি আরবকে হুমকি দেয়ার আগেই সে নতজানু হয়ে গেছে। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের চার বছর ক্ষমতার মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রে বিস্তৃতক্ষেত্রে এবং বাণিজ্যে ৬০,০০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সৌদি আরব। ট্রাম্পকে এরই মধ্যে এ কথা জানিয়ে দিয়েছেন ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। সৌদি আরবের সরকারি বার্তা সংস্থা এ খবর প্রচার করেছে। তার ওপর ভিত্তি করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, দুই নেতা টেলিফোনে কথা বলেছেন। ক্রাউন প্রিন্স বলেছেন- তিনি আশা করেন ট্রাম্প প্রশাসন আগে দেখা যায়নি এমন অর্থনৈতিক সুযোগ ও সমৃদ্ধি সৃষ্টি করতে সংস্কার করবেন। তবে ৬০ হাজার কোটি ডলারের সূত্র কি সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলেননি মোহাম্মদ বিন সালমান। বলেননি এই অর্থ সরকারি নাকি বেসরকারি খাত থেকে আসবে। কীভাবে সেই অর্থ বিনিয়োগ হবে তাও বিস্তারিত বলেননি তিনি। ক্রাউন প্রিন্স যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বলেছেন, যদি আরও সুযোগ আসে তাহলে এই বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। উল্লেখ্য, ক্ষমতার প্রথম মেয়াদে সৌদি আরব সহ উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক গাঢ় করেছিলেন ডনাল্ড ট্রাম্প। বিশেষ করে ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল দহরম মহরম। সৌদি আরব সফরে এসে সেই সম্পর্ককে আরও জোরালো করেন দুই নেতা। ট্রাম্পকে অভূতপূর্ব সংবর্ধনা দেয়া হয় সৌদি আরবে। তার মধ্যে তিনি সোর্ড ড্যান্স (তরবারি হাতে বিশেষ নাচ) দেন। বিমান বাহিনীর জেট বিমান ফ্লাইপাস্ট দেয় তাকে। ট্রাম্পের জামাই এবং সাবেক সহযোগী জারেড কুশনারের গঠন করা একটি প্রতিষ্ঠান এই দেশে বিনিয়োগ করেছে দুইশত কোটি ডলার।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1389)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
February
(308)
-
▼
Feb 02
(7)
- ট্রাম্পইজম যুক্তরাষ্ট্রকে কোথায় নেবে? by মোহাম্মদ ...
- মানবাধিকার সুরক্ষায় করণীয় by আব্দুল কাইয়ুম
- ততদিন ট্রেন স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকবে তো? by শামীমুল হক
- টিউলিপের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে বৃটিশ গোয়েন্দা দলের ঢ...
- তোফায়েল আহমেদ এখন নির্বাক, ভাবলেশহীন
- তোষামোদ নয়, উন্নয়নে প্রয়োজন দেশপ্রেম by প্রণব মজুমদার
- ড. ইউনূস: না বললেও চলতো
-
▼
Feb 02
(7)
-
▼
February
(308)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
No comments:
Post a Comment