শর্ষের ভূত বন বিভাগ নিজেই- সংরক্ষিত বনে স্থাপনা

বন সংরক্ষণ যাদের দায়িত্ব, তারাই যখন বনের জন্য ক্ষতিকর কাজে উদ্যোগী হয়ে পড়ে, তখন বোঝা যায় যে ভূত রয়েছে শর্ষের মধ্যেই। আমাদের দুর্ভাগ্য এমন কর্তৃপক্ষ বন রক্ষার দায়িত্বে রয়েছে, যাদের বন নিয়ে না আছে কোনো ধরনের সংবেদনশীলতা, না আছে আধুনিক জ্ঞান বা ধ্যানধারণা। অথবা স্বার্থ ও নানা হিসাব-নিকাশের কারণে এগুলো সবই তাদের কাছে গৌণ।
দেশে বন বলতে খুব বেশি কিছু এখন আর টিকে নেই। এ অবস্থায় ‘সংরক্ষিত’ ঘোষণা দিয়ে কিছু বন টিকিয়ে রাখার আনুষ্ঠানিক নানা আয়োজন চলছে। এমনই দুটি বন হবিগঞ্জের সংরক্ষিত সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান ও বরগুনার সংরক্ষিত হরিণঘাটা (লালদিয়া) বনে উন্নয়নের নামে আসলে বন ধ্বংসের উদ্যোগই চলছে। এসব ‘উন্নয়নের’ ফলে বনের গাছ কাটা বা তাৎক্ষণিক দৃশ্যমান ক্ষতির বাইরেও দীর্ঘ মেয়াদে যে ক্ষতি হবে, সেটা সত্যিই গুরুতর।
পর্যটকদের জন্য এ দুটি বনের মধ্যে পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, রাস্তা, কালভার্ট, বিশ্রামাগার নির্মাণসহ নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলছে। এসব নিয়ে নাগরিক প্রতিবাদ, পরিবেশবাদীদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা কোনো কিছুই কাজে দেয়নি। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘আন্তর্জাতিক উন্নয়ন প্রকল্প’ ও জলবায়ু ট্রাস্টের তহবিল খরচ করে বনের বারোটা বাজানোর এই উদ্যোগ এগিয়ে চলেছে।
সংরক্ষিত বনে নিয়ম অনুযায়ী এ ধরনের কোনো স্থাপনা তৈরি করা যায় না। আমাদের বন বিভাগকে কে বোঝাবে যে এ ধরনের বনে পর্যটকদের নিরুৎসাহিত করাই হচ্ছে বিধেয়। বন যত দুর্গম ও অগম্য থাকবে ততই তা রক্ষা পাবে ও নিরাপদ থাকবে। এখন পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, রাস্তা, কালভার্ট বা বিশ্রামাগার বানাতে গিয়ে গাছ কাটা বা এ ধরনের যে ক্ষতি হচ্ছে তার চেয়েও বড় ক্ষতি হবে নিয়মিত সেখানে পর্যটক যাতায়াত শুরু করলে।
বনকে নামেই ‘সংরক্ষিত’ ঘোষণা না করে তা সংরক্ষণের জন্য দরকারি দিকগুলো মেনে চলাই বেশি জরুরি। আমরা চাই, বন বিভাগ এই আত্মঘাতী পদক্ষেপ থেকে সরে আসুক।