Tuesday, October 14, 2014
টেক্সাসে খুন ও ক্ষমা এবং নিয়তির টানে একজন বাংলাদেশী by শফিক রেহমান
টেক্সাসে খুন ও ক্ষমা এবং নিয়তির টানে একজন বাংলাদেশী by শফিক রেহমান
রইসউদ্দিন ভূইয়ার জন্ম হয়েছিল বাংলাদেশে।
সিলেট ক্যাডেট কলেজে পড়াশোনার পর তিনি বাংলাদেশ এয়ার ফোর্সে অফিসার পদে যোগ
দেন। যে গুটিকয়েক বাংলাদেশী আমেরিকায় বসবাসের জন্য ২০০০ সালে গৃন কার্ড
লটারিতে বিজয়ী হয়েছিলেন, রইস ছিলেন তাদের অন্যতম। চাকরি করা এবং পাশাপাশি
কমপিউটার টেকনলজি শেখার লক্ষ্যে ২৭ বছর বয়সে রইস চলে যান ম্যানহাটান, নিউ
ইয়র্কে। সেখান থেকে তিনি যান আমেরিকার দক্ষিণে ডালাস, টেক্সাসে। ডালাসে
বসবাসকারী বাংলাদেশিরা তাকে সাবধান করে দিয়েছিলেন টেক্সাসে সহিংসতার সংখ্যা
বেশি। তবুও রইস বেছে নিয়েছিলেন ডালাস সিটিকে। কারণ ম্যানহাটানের তুলনায়
সেখানে জীবনযাত্রার খরচ ছিল কম এবং জব অপরচুনিটি ছিল বেশি। এক বন্ধুর সঙ্গে
পার্টনারশিপে একটি পেট্রলপাম্প স্টেশনে ডালাসে কাজ শুরু করেন রইস।
যে শহর ছেড়ে রইস চলে যান ডালাসে, সেই নিউ ইয়র্ক সিটিতে ১১ সেপ্টেম্বর ২০০১-এ দুটি সন্ত্রাসী প্লেন এটাকে ম্যানহাটানে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ার ধ্বংস হয়। প্রায় একই সময়ে রাজধানী ওয়াশিংটনে এবং পেনসেলভানিয়াতে আরো দুটি সন্ত্রাসী প্লেন এটাক হয়। এই চারটি এটাকে চারটি প্লেনের ১৯ জন হাইজ্যাকার এবং সব প্লেনের সব যাত্রী ও বিভিন্ন ভবনের ২,৯৭৭ অধিবাসীসহ, সেই দিন মোট ২,৯৯৬ মানুষ নিহত হয়। আহত হয় ৬,০০০-এর বেশি। ধারণা করা হয় ১৯ জন হাইজ্যাকারই ছিল আল কায়েদা সংস্থার সদস্য আরব মুসলিম।
সারা আমেরিকায় মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার আকাংক্ষা কিছু আমেরিকানের মধ্যে প্রবল হয়ে ওঠে। এই ুব্ধ আমেরিকানদের অন্যতম ছিল ডালাসের এক ডে লেবারার বা দিনমজুর, মার্ক এন্টনি স্ট্রোম্যান (৩১)। সে প্রতিশোধ নিতে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হয়।
১৫ সেপ্টেম্বর ২০০১-এ ডালাসে ইলাম রোডে একটি গ্রোসারি স্টোরে কাজ করছিলেন পাকিস্তানি বংশ উদ্ভূত ওয়াকার হাসান (৪৬)। স্ট্রোম্যান সেই দোকানে ঢুকে গুলি করে ওয়াকারকে খুন করে।
এর ছয় দিন পরে স্ট্রোম্যান তার দ্বিতীয় শিকারের লক্ষ্যে যায় ডালাসের সাউথ বাকনার বুলেভাতে পেট্রলপাম্প সংলগ্ন একটি মিনিমার্টে। সেখানে ক্যাশিয়ারের কাজ করছিলেন রইস। রইসকে তার বস বলে রেখেছিল, কখনো কোনো আগন্তুক এসে যদি বন্দুক দেখিয়ে ডলার চায়, তাহলে ক্যাশে দেড় শ ডলার রেখে বাকি সব ডলার বিনা বাক্য ব্যয়ে আগন্তুককে দিয়ে দিতে।
রইসের মিনিমার্টে মাঝেমধ্যে আগন্তুকরা আসত চোরাই ল্যাপটপ, টিভি প্রভৃতি বিক্রির আশায়। সেদিন ভরদুপুরে ওই আগন্তুকের হাতে ল্যাপটপ বা টিভি ছিল না। ছিল একটি শটগান। তার মাথা ছিল ন্যাড়া। দেহে ছিল উল্কি বা ট্যাটু আকা।
পূর্বনির্দেশ অনুযায়ী রইস তার ক্যাশ বক্স খোলেন। কাউন্টারের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে স্ট্রোম্যান জিজ্ঞাসা করে, ‘তোর দেশ কোথায়? হোয়ার আর ইউ ফ্রম?’
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর রইস দেওয়ার আগেই স্ট্রোম্যান সরাসরি তার মুখে গুলি করে। সে মারা গিয়েছে ভেবে স্ট্রোম্যান চলে যায়। রক্তাক্ত রইস কোনো রকমে পাশের দোকান, একটি হেয়ার ড্রেসিং শপে যান। সেখান থেকে পুলিশে ফোন করা হয়।
এরপর পুলিশ যখন আততায়ীকে খুজছিল তখন স্ট্রোম্যান তার তৃতীয় শিকারের লক্ষ্যে তৎপর হয়। ৪ অক্টোবর ২০০১-এ টেক্সাসের মেসকিট শহরে ইনডিয়ান বংশ উদ্ভূত বাসুদেব প্যাটেলকে (৪৯) সে খুন করে।
এর কিছু দিন পর স্ট্রোম্যান ধরা পড়ে। হাজতে থাকা অবস্থায় স্ট্রোম্যান বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে ফোন করে দাবি করে যে এসব হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে দিয়েছে সে একজন সত্যিকার দেশপ্রেমিক, এ ট্রু আমেরিকান। ২০০২-এ জেল থেকে এক বন্ধুর কাছে একটি চিঠিতে স্ট্রোম্যান নিজের সম্পর্কে লেখে, ‘এখানে আছে আরব হত্যাকারী। আমি যা করেছি তার পুরস্কারস্বরূপ তোমাদের মেয়র করা উচিত আমাকে। আমি একজন দেশপ্রেমিক, সত্যিকার আমেরিকান এবং খুবই স্পেশাল ধরনের।’
গুরুতর আহত রইসকে হসপিটালে নেওয়া হলে কয়েকবার সার্জারির পর ডাক্তাররা তাকে ব্রেইন ড্যামেজ থেকে বাচাতে পারেনÑ কিন্তু তার এক চোখের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে যায়। এ বিষয়ে পরে রইস বলেন, ‘আমার মুখের ডান দিকে এখনো ৩৮টি পেলেট আছে। আমার মুখে ছুলেই বুঝবেন এটা কত এবড়োখেবড়ো। একটার পর একটা সার্জারি হয়েছিল আমার মুখে। এসব সার্জারি ছিল খুবই যন্ত্রণাদায়ক।’
সাধারণত এই ধরনের খুন ও খুনের চেষ্টা কিছু দিন পরে অন্যান্য খবরের আড়ালে পড়ে যায়। কিন্তু রইসের বেলায় সেটা হয়নি। কারণ এত কষ্ট পাওয়া সত্ত্বেও রইস ক্ষমা করে দিয়েছিলেন স্ট্রোম্যানকে এবং স্ট্রোম্যান মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হলে, সেই দণ্ড যাতে কার্যকর না হয় তার জন্য আন্দোলন শুরু করেছিলেন।
রইসের এই মহানুভবতায় স্ট্রোম্যানের মানসিক চিন্তাধারা বদলে যায়। নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া একটি ইন্টারভিউতে (নিচে দেখুন) স্ট্রোম্যান বলে, ‘ঘৃণা-প্রতিহিংসা বন্ধ করতে হবেÑ কারণ এই পৃথিবীতে আমরা সবাই এক সঙ্গে আছি।’
স্ট্রোম্যানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবার কয়েক ঘণ্টা আগে তার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন রইস। গুলিবিদ্ধ হবার পর সেটাই ছিল তার সঙ্গে রইসের প্রথম এবং শেষ কথোপকথন। রইস বলেন, ‘আমি আপনাকে ক্ষমা করে দিয়েছি। আমি আপনাকে ঘৃণা করি না।’
এ কথার উত্তরে স্ট্রোম্যান বলেন, ‘থ্যাংক ইউ। আমার হৃদয় থেকে আপনাকে ধন্যবাদ দিচ্ছি। আমি আপনাকে ভালোবাসি, ব্রাদার... আপনি আমার হৃদয় ছুয়ে গিয়েছেন। এমনটা আমি কখনোই আশা করিনি।’
‘আপনিও আমার হৃদয় ছুয়েছেন।’ রইস উত্তর দেন।
স্ট্রোম্যানের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত রাখার জন্য রইস ফেডারাল কোর্টে শেষ আপিল করেছিলেন। কিন্তু সেটা নাকচ হয়ে যাবার পর ২০ জুলাই ২০১১-তে স্ট্রোম্যানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
নিউ ইয়র্ক টাইমসে ইন্টারভিউ
রইসের ক্ষমা করার দৃষ্টান্ত আমেরিকাকে আলোড়িত করে। স্ট্রোম্যানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবার দুই দিন আগে ১৮ জুলাই ২০১১-তে নিউ ইয়র্ক টাইমসে রইস ও স্ট্রোম্যান, উভয়ের ইন্টারভিউ প্রকাশিত হয়। ইন্টারভিউ নিয়েছিলেন টিমথি উইলিয়ামস এবং তার এই রিপোর্টের শিরোনাম ছিল, দি হেইটেড অ্যান্ড দি হেইটার, বোথ টাচড বাই ক্রাইম (The Hated and the Hater, Both Touched by Crime, অর্থাৎ, ঘৃণিত এবং ঘৃণাকারী-দুজনকেই ছুয়েছে একই অপরাধ)।
প্রশ্ন : ২১ সেপ্টেম্বর ২০০১-এ আপনি আপনার বন্ধুর একটি পেট্রলপাম্পে কনভিনিয়েন্স স্টোরে কাজ করছিলেন। সেই দিনের ঘটনা সম্পর্কে কি মনে পড়ে?
উত্তর : এর আগে দুইবার আমি চোর ডাকাতের মুখে পড়েছিলাম। ওই এলাকায় অনেক খুনখারাবি হতো। আমাদের দোকানে চোরাই টিভি আর কমপিউটার তারা নিয়ে আসত। একবার একটা লোক এসেছিল বন্দুক হাতে। আমি ভেবেছিলাম সেই লোকটা তার বন্দুক বিক্রি করতে এসেছে। কিন্তু সে বলেছিল, ‘যদি তোমার ক্যাশের টাকা না দাও, তাহলে গুলি করে তোমার খুলি উড়িয়ে দেব।’ এ রকম অভিজ্ঞতা আমার ছিল।
২১ সেপ্টেম্বর ২০০১। তখন বেলা প্রায় সাড়ে বারোটা। বিজনেস বেশ স্লো যাচ্ছিল। বাইরে মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছিল। পাশের হেয়ারড্রেসিং শপের বারবার (নাপিত) এসে চিপস আর ডৃংকস কিনে নিয়ে গিয়েছিল। হঠাৎ দেখি, হ্যাট আর সানগ্লাস পরে একটা লোক দোকানে ঢুকল। তার হাতে ছিল বন্দুক। আমি ভাবলাম লোকটা ডাকাতি করতে এসেছে। তাড়াতাড়ি বললাম, ‘আমাকে গুলি কোরো না, প্লিজ। সব টাকা তুমি নিয়ে যাও।’
সে বলল, ‘তুই কোন দেশের?’
সে আমার কাছ থেকে চার-পাচ ফিট দূরে ছিল।
আমি শিউরে উঠলাম।
উত্তর দিলাম, ‘কি বলছেন আপনি?’
ওটা ছিল দোনলা বন্দুক। হঠাৎ মনে হলো কয়েক লক্ষ মৌমাছি যেন আমার মুখে হুল ফুটিয়ে দিয়েছে। তারপর একটা বিস্ফোরণের শব্দ শুনলাম। আব্বা-আম্মার, ভাইবোনের আমার ভালোবাসার মেয়েটির মুখগুলো যেন দেখলাম। তারপর দেখলাম একটি কবরস্থান। ভাবলাম, আমি কি আজই মরে যাচ্ছি? নিচের দিকে তাকিয়ে দেখলাম রক্তে ভেসে যাচ্ছে মেঝে। আমার মাথা থেকে গল গল করে রক্ত পড়ছে। ভাবলাম মগজ কি বেরিয়ে যাচ্ছে? দুই হাতে আমার মাথা চেপে ধরে চিৎকার করে উঠলাম, মা। আমি দেখলাম ওই লোকটা তখনো দাড়িয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। ভাবলাম মেঝেতে না পড়লে ওই লোকটা মনে করবে আমি বেচে আছি। আমি মেঝেতে পড়ে গেলাম। মেঝে ভেসে যাচ্ছিল আমার রক্তে। তারপর ওই লোকটা চলে গেল। আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না লোকটা আমাকে গুলি করেছে। আমি ভাবছিলাম হয়তো কোনো দুঃস্বপ্ন দেখছি। আমি তো খারাপ কিছু করি নি। আমি তো তাকে কোনো হুমকি দেই নি। আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না এভাবে বিনা কারণে কেউ কাউকে গুলি করতে পারে।
প্রশ্ন : তারপর কি হলো?
উত্তর : আমি ওখান থেকে বের হতে চাচ্ছিলাম। আমি পাশের হেয়ারড্রেসিং শপে গেলাম। ওরা আমাকে দেখে ভয়ে পালিয়ে গেল। একটা জবাই করা মুরগির মতো আমার মুখ থেকে রক্ত পড়ছিল। ওরা ভেবেছিল হামলাকারী আমার পেছনে তেড়ে আসছে। আমি হেয়ারড্রেসিং শপের আয়নায় আমার মুখ দেখলাম। বিশ্বাস করতে পারছিলাম না সেটা আমি (এই সময়ে রইস কাদতে শুরু করেন)। এক মিনিট আগেও আমি ছিলাম টি-শার্ট, হাফ প্যান্ট আর টেনিস শু পরা এক তরুণ (রইস আরো জোরে কাদতে শুরু করেন)। সরি, গত নয় বছর এভাবে আমি কাদি নি। আমি লাকি ছিলাম। কারণ ওই এলাকায় ঠিক তখনই একটা এমবুলেন্স ছিল। আল্লাহর কাছে মোনাজাত করছিলাম, আল্লাহ আমাকে মাফ করে দিও। আমি ভালো পথে চলবো। সুরা আউড়ে আমি বললাম, আমার জীবনটা আমি গরিবদের জন্য উৎসর্গ করবো। আমি বুঝতে পারছিলাম আমার চোখ বন্ধ হয়ে আসছে। মনে হলো আমার ব্রেইনের সব কাজ আস্তে আস্তে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
প্রশ্ন : আপনার কত ইনজুরি হয়েছিল?
উত্তর : আমার মুখে এখনো ৩৮টি পেলেট আছে। আহত হবার পর আমি চোখ খুলতে পারতাম না। কথা বলতে পারতাম না। মুখ হা করতে পারতাম না। কোনো কিছু গিলতে খুব কষ্ট হতো। কারণ আমার গলাতেও গুলি লেগেছিল। হসপিটালে কিছুক্ষণ থাকার পর শুধু বাম চোখটা খুলতে পারি। মুখটা খুব ফুলে গিয়েছিল। ক্ষতবিক্ষত মুখটা ভয়ংকর বিশ্রী হয়ে গিয়েছিল। আমি বিশ্বাস করতে পারতাম না, ওটা ছিল আমারই মুখ। আল্লাহকে শুধু বলতাম, প্লিজ আল্লাহ, আমার মুখটা আমাকে ফিরিয়ে দাও।
(রইসকে পরদিন হসপিটাল থেকে ডিসচার্জ করা হয়েছিল। কারণ তার কোনো হেলথ ইনশিওরেন্স ছিল না। একপর্যায়ের পর হসপিটাল তার চিকিৎসা করতে চায় নি। এর পরের কয়েক মাস তাকে বিভিন্ন বাড়িতে বন্ধুদের অনুগ্রহে কোনো রকমে শুয়ে কাটাতে হয়। স্যাম্পল রূপে যেসব ওষুধ ডাক্তাররা পান, সেসব জোগাড় করে রইস তার চিকিৎসা চালিয়ে যান। পেইনকিলার এবং আইড্রপসও রইস এভাবে জোগাড় করেন। তার ডান চোখে কয়েকবার সার্জারির পর এখন শুধু সেই চোখে তার সীমিত দৃষ্টিশক্তি আছে।)
প্রশ্ন : মি. স্ট্রোম্যান স্বীকার করেছেন তিনি আপনাকে খুন করতে চেয়েছিলেন। তার জীবন বাচানোর জন্য আপনি কেন চেষ্টা করছেন?
উত্তর : আমার আব্বা-আম্মা এবং আমার টিচাররা আমাকে ভালো শিক্ষা দিয়েছিলেন। তারা নীতিকথা শিখিয়েছিলেন। তারা আমার ইমান শক্ত করেছিলেন। তারা বলেছিলেন, তুমি নিজেকে অপরের অবস্থায় বসিয়ে চিন্তা করবে। তারা তোমাকে আহত করলেও তুমি প্রতিশোধ নিও না। তাদের ক্ষমা করে দিও। তারপর সামনের দিকে এগিয়ে যেও। এর ফলে তোমার জীবনে ভালো কিছু ঘটবেÑ এবং তাদের জীবনেও। আমার ইসলামি শিক্ষা এটাই শিখিয়েছে। ওই লোকটা একটা যুদ্ধ হিসাবে এই কাজটা করেছিল। অনেক আমেরিকান এটাই করতে চেয়েছিল। কিন্তু তাদের সাহস হয়নি। ওই লোকটার সাহস হয়েছিলÑ মুসলিমদের গুলি করার সাহস। এই ঘটনাটি ঘটে যাবার পর আমি এই দেশে বেচে থাকার যুদ্ধ করছি। আমি মনে করি, ক্ষমা করে দেওয়াটা যথেষ্ট নয়। ওই লোকটা তার অজ্ঞতা থেকে কাজটা করেছিল। আমি সিদ্ধান্ত নিই ওই লোকটার জীবন বাচাতে হবে। ১১ সেপ্টেম্বরে যা ঘটেছে তার বদলে ডালাসে কাউকে খুন করাটা ঠিক নয়।
প্রশ্ন : মি. স্ট্রোম্যানের সঙ্গে আপনার দেখা করার সুযোগ যদি হয় তাহলে কি করবেন?
উত্তর : স্ট্রোম্যানের সঙ্গে দেখা করার জন্য আমি এপ্লিকেশন করেছিলাম। জেলে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করে তার মানসিকতা বুঝতে চাই। ভালোবাসা আর ক্ষমা বিষয়ে কথা বলতে চাই। আমরা সবাই তো ভুল করি। আমারই মতো, সে-ও আরেকটা মানুষ মাত্র। পাপকে ঘৃণা করোÑ পাপীকে নয়। তাই জেলে গিয়ে তাকে আমার এই অনুভূতিগুলো বোঝাতে চাই। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি তাকে বেচে থাকার সেকেন্ড চান্স দেওয়া উচিত। আমি বলতে চাই, আমি কখনোই আমেরিকাকে ঘৃণা করিনি। তাকে বাচিয়ে রাখলে সে হয়তো অনেক মানুষকে তার কথা বলবে। তাদের সুপথে আনতে পারবে। তার কি হবে এটা ভেবে আমি খুব ইমোশনাল হয়ে যাইÑ আবেগপ্রবণ হয়ে যাই। আমি ঘুমোতে পারি না। যখন আমি বিছানায় শুতে যাই, তখন ভাবি আরেকটি মানুষকে আমি জানি, যে এখন বিছানায় শুয়ে ভাবছে তার কি পরিণতি হবেÑ তার হাত পা বিছানায় বেধে তাকে হত্যা করা হবে। আমি আরো ইমোশনাল হয়ে পড়ি। দুঃখে ভেঙে পড়ি। তাকে বাচানোর জন্য আরো কিছু করতে চাই।
স্ট্রোম্যানের ইন্টারভিউ
প্রশ্ন : কেমন আছেন মি. স্ট্রোম্যান?
উত্তর : আমার আর মাত্র পচিশ দিন বাকি আছে। তারপর একটা বিছানায় আমাকে বেধে ফেলে শরীরে বিষ ঢুকিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু কথাটা একইÑ আমাদের সবাইকেই কোনো এক সময়ে শেষ মুহূর্তের মুখোমুখি হতে হয়। এখন সবই ঠিকঠাক চলছে। ফুরফুরে মেজাজে আছি। এক কাপ কফি খাচ্ছি আর রেডিওতে হারানো দিনের গান শুনছি। তবে একটা নিষ্ঠুর রসিকতাও হচ্ছে। যে গানটি শুনছি সেটা হলো লিনার্ড স্কিনার্ড-এর গাওয়া, ফৃ বার্ড (Free Bird, মুক্ত পাখি)!
প্রশ্ন : রইস ভূইয়া যে আপনার প্রাণদণ্ড কার্যকর করার বিরুদ্ধে চেষ্টা করছেন, সে বিষয়ে আপনি কি মনে করেন?
উত্তর : হ্যা, রইস ভূইয়াÑ এক আশ্চর্য মানুষ। সে প্রেরণা দিতে পারে। আমি যা করেছি তারপর রইসের এই চেষ্টার প্রশংসা হাজারটা বই লিখেও করা যাবে না। সে আমার হৃদয় ছুয়েছে... বিশ্বজুড়ে বহু মানুষের হৃদয় ছুয়েছে। বিশেষত গত দশ বছর যাবৎ যখন আমরা শুধু শুনেছি ইসলামি বিশ্বাস কত মন্দ হতে পারে... (তখন রইসের এই আন্দোলন) প্রমাণ করে দিয়েছে সব কিছুই মন্দ নয়, শয়তানি নয়।
প্রশ্ন : আপনার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবার আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি আছে। আমাকে বলুন, আপনি এখন কি চিন্তা করছেন?
উত্তর : শুধু আমার সব বন্ধুই এবং আমার সব সাপোর্টারই যে আমার জীবন বাচানোর জন্য চেষ্টা করছেন তা নয়Ñ এখন আমাকে বাচানোর লক্ষ্যে ইসলামি সম্প্রদায়ও চেষ্টা করছে। ... আর এই ইসলামি আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন রইস ভূইয়া নামে এক অতি অসাধারণ মানুষ, যে আমার ঘৃণা থেকে বেচে যাওয়া মানুষ। ইসলামি মূল্যবোধে তার গভীর বিশ্বাস তাকে শক্তি দিয়েছে ক্ষমার অযোগ্য মানুষকেও ক্ষমা করে দিতে... এটা সত্যিই আমাকে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে। এটা সবার জন্যই একটা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। ঘৃণা বন্ধ করতে হবেÑ আমরা এই পৃথিবীতে সবাই এক সঙ্গে আছি। আমি যিশুর ধর্মে বিশ্বাসী এবং টেক্সাসের তৃণমূলপর্যায়ের মানুষ। এই দুই কারণেও আমি এখন অনেক কিছু গভীরভাবে বুঝতে পারছি। পৃথিবীটা ঘুরছে। কিন্তু আমার জন্য প্রায় দশ বছর হলো পৃথিবীর সেই ঘোরাটা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ১১ সেপ্টেম্বরে যা ঘটেছিল সেটা জাতি হিসাবে আমরা কখনোই ভুলবো না। সেদিন আমরা সবাই যেটা অনুভব করেছিলাম, সেটাও কেউ ভুলবো না। আমিও না। কিন্তু আমি বলতে পারি আজ আমি কি অনুভব করছি। আর সেটা হলো রইস ভূইয়ার জীবন শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা আমি করেছিলাম। তারপর আমার জীবন বাচানোর জন্য যে চেষ্টা সে করছে, তাতে আমি তার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা বোধ করছি। আমি জানি বাইরে অনেকেই আছেন, যারা এখনো টুইন টাওয়ারের ঘটনায় আহত বোধ করছেন, যারা এখনো ঘৃণায় ভুগছেন। আর আমি এখনো টেক্সাসের ডেথ সেলে বসে নিজের মৃত্যুর অপেক্ষায় দিন গুনছি। কিন্তু আমি আশা করি এর একটা শুভ পরিণতি হবে। আমাদের দরকার আরো ক্ষমাপরায়ণতা এবং আরো বুঝতে পারাÑ এবং কম ঘৃণা করা টেক্সাস জীবিত, টেক্সাস গর্বিত... আমি একজন সত্যিকার আমেরিকান... বেচে আছি মরার জন্যÑ মরছি বেচে থাকার জন্য। (We need more forgiveness and understanding and less hate... Texas loud and Texas proud... True American... Living to die Dying to live).
আমেরিকানদের অশেষ কৌতূহল
বিচারের সময়ে স্ট্রোম্যান কোনো অনুশোচনা দেখান নি এবং কোনো অনুকম্পা প্রার্থনা করেননি। স্ট্রোম্যানের মৃত্যুর পরে রইস আরো জোরালো আন্দোলন শুরু করেন। এই অতি অসাধারণ ঘটনায় আমেরিকানদের অশেষ কৌতূহল হয়। তারা জানতে চান রইসের অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্ল্যান। আর সেই কৌতূহল মেটাতে এগিয়ে আসেন একাধিক রিপোর্টার ও লেখক। একাধিক ডেইলি নিউজ পেপার ও ম্যাগাজিন। একাধিক রেডিও-টিভি চ্যানেল।
ডিসেম্বর ২০১১তে আমেরিকার প্রেস্টিজিয়াস ম্যাগাজিন স্কোয়ার (Esquire)-এ প্রকাশিত হয় মাইক সেগার-এর দি ফেইস অফ ফরগিভনেস (The Face of Forgiveness) শীর্ষক রচনা। ফেব্রুয়ারি ২০১৩-তে এই রচনাটি সংক্ষেপিতভাবে প্রকাশিত হয় দি রিডার্স ডাইজেস্ট ম্যাগাজিনে।
মে ২০১৪-তে নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক আনন্দ গিরিধরদাস-এর লেখা দি ট্রু আমেরিকান : মার্ডার অ্যান্ড মার্সি ইন টেক্সাস (The True American : Murder and Merci in Texas, সত্যিকার আমেরিকান : টেক্সাসে খুন ও ক্ষমা) নামে বইটি প্রকাশিত হবার পর রইসউদ্দিন ভূইয়ার সম্পর্কে আমেরিকান কৌতূহল আরো বেড়ে যায়। ডাবলিউ ডাবলিউ নর্টন (W W Norton) কর্তৃক ৩৩৬ পৃষ্ঠার এই বইটির দাম ২৭ ডলার ৯৫ সেন্ট অথবা ১৮ পাউন্ড ৯৯ পেন্স, আমাজন দাম ১৫ পাউন্ড ৯০ পেন্স। বইটির মুভি মেকিং রাইটস বা স্বত্ব নিয়ে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় আমেরিকায়। শেষ পর্যন্ত এই বইটির মুভি স্বত্ব কিনেছেন নারী মুভি ডিরেক্টর ক্যাথরিন বিগেলো (৬২)। তিনি এখন পর্যন্ত একমাত্র নারী মুভি ডিরেক্টর যিনি অস্কার প্রাইজ বিজয়ী হয়েছেন।
২০০৯-এর সেরা মুভি ডিরেক্টর পুরস্কার প্রাইজটি পান ক্যাথরিন বিগেলো ইরাকে যুদ্ধ-পরবর্তী অবস্থার ওপর তার পরিচালিত হার্ট লকার (Hurt Locker) মুভিটির জন্য। এরপরে ২০১২-তে তার পরিচালিত জিরো ডার্ক থার্টি (Zero Dark Thirty) সেই বছরের সেরা মুভির এবং আরো অনেক অস্কার নমিনেশন পায়। এই মুভির বিষয় ছিল টুইন টাওয়ার ধ্বংস হবার পরে ওসামা বিন লাদেন-এর যুগ। ক্যাথরিন বিগেলো (টাইটানিক মুভি নির্মাতা জেমস ক্যামেরনের সাবেক স্ত্রী) দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন রইসউদ্দিনের ওপর মুভি নির্মাণের জন্য। তাই তিনি বেশি দাম দিয়ে মুভি মেকিং রাইটস কিনেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, বিগেলোর এই মুভিটিও বহু অস্কারের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
রইসের আমেরিকান স্বপ্ন হলো দুঃস্বপ্ন
আমেরিকা ইমিগ্রান্টদের দেশ। আদি অধিবাসীদের (যাদের বলা হয় রেড ইনডিয়ান) অধিকাংশকে নিশ্চিহ্ন করে আমেরিকা হয়েছে বহিরাগতদের নতুন দেশ। ওবামার পূর্বপুরুষ এসেছিলেন আফৃকা (কেনিয়া) থেকে। জন কেনেডির পূর্বপুরুষ এসেছিলেন ইওরোপ (আয়ারল্যান্ড) থেকে। তাদেরই মতো অন্যান্য বহিরাগতের স্বপ্ন হলো পরিশ্রম করে গরিব থেকে ধনী হওয়া, অখ্যাত থেকে খ্যাতনামা হওয়া, দুর্বল থেকে শক্তিমান হওয়া। এখনো আমেরিকাতে এটা সম্ভব। সাধারণভাবে এটাকে বলা হয় আমেরিকান ডৃম বা আমেরিকান স্বপ্ন।
বাংলাদেশে সিলেটে রইসউদ্দিন ভূইয়া একই স্বপ্ন দেখছিলেন ২০০০ সালে। সেই বছর আমেরিকার ন্যাশনাল গৃন কার্ড লটারিতে যে গুটিকয়েক মানুষ বাংলাদেশে পেয়েছিলেন, তাদের অন্যতম ছিলেন রইস। তিনি তখন বাংলাদেশ এয়ার ফোর্সে কাজ করছিলেন এবং এক তরুণীর প্রেমে বিভোর ছিলেন। এই চাকরিটি ছেড়ে দিয়ে রইস তার আমেরিকান স্বপ্ন সফল করার লক্ষ্যে ২০০১-এ টেক্সাসে যখন পৌঁছান তখন তার বয়স ছিল সাতাশ। তিনি আইটিতে পড়াশোনা করতে চান এবং পড়াশোনার খরচ মেটানোর জন্য তার এক বন্ধুর পেট্রলপাম্প স্টেশনে (আমেরিকায় যাকে বলে গ্যাস স্টেশন) কাজ শুরু করেন। আমেরিকায় কিছু পেট্রলপাম্প স্টেশনের সঙ্গেই থাকে মিনিমার্ট (কনভিনিয়েন্স স্টোর) যেখানে অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সঙ্গে বিভিন্ন ফুড অ্যান্ড ডৃংকস বিক্রি হয় কার-কোচ-ট্রাক ড্রাইভারদের জন্য। অনেক সময় একই ব্যক্তিকে পেট্রল এবং ফুড ও ডৃংকস বিক্রির দায়িত্ব নিতে হয়।
১১ সেপ্টেম্বর ২০০১-এ নিউ ইয়র্ক পেনসেলভানিয়া-ওয়াশিংটনে সন্ত্রাসী হামলার দশ দিন পরে যখন রইস তার পেট্রলপাম্প সংলগ্ন মিনিমার্টে কাজ করছিলেন, ঠিক সেই সময়ে টেক্সাসের এক দিনমজুর, মার্ক এন্টনি স্ট্রোম্যান, প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য বেরিয়েছিল আরব শিকারে। তখন ধারণা করা হয়েছিল টুইন টাওয়ারে হামলার জন্য আরবরাই দায়ী। স্ট্রোম্যান পাকিস্তানি বংশ উদ্ভূত ওয়াকার হাসানকে হত্যা করে ১৫ সেপ্টেম্বরে।
এর ছয় দিন পর ২১ সেপ্টেম্বরে স্ট্রোম্যান যায় রইসকে খুন করতে। রইস গুরুতর আহত হলেও বেচে যান।
৪ অক্টোবরে ইনডিয়ান বংশ উদ্ভূত বাসুদেব প্যাটেলকে হত্যা করে স্ট্রোম্যান।
রইসের মিনিমার্টে ঢুকে স্ট্রোম্যান প্রশ্ন করেছিল, তোর দেশ কোথায়?
রইসের কাছে প্রশ্নটি অস্বাভাবিক মনে হয়নি। কারণ তার দোকানে শ্বেতাঙ্গরা এলে কেউ কেউ এ রকম প্রশ্ন করতেন। মাত্র এক দিন আগেও কয়েকজন বন্ধুপ্রতিম শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসার দোকানে এসে ইসলাম ও ভূগোল বিষয়ে তার সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। স্ট্রোম্যানের ন্যাড়া মাথা এবং ঊর্ধ্বাংশ ছিল নিরাবরণ। তার গায়ে ছিল উল্কি আকা।
স্ট্রোম্যানকে তার বন্দুকের টৃগার চাপতে দেখে রইস দ্রুত তার ক্যাশ বক্সের শুধু দেড় শ ডলার রেখে বাদবাকি সব ডলার দিতে চান। মৃত্যুদূত স্ট্রোম্যান আর কোনো কথা না বলে রইসের আরো কাছে এগিয়ে আসে এবং তার মুখে গুলি করে।
আহত রইসের পূর্ণচিকিৎসার সামর্থ্য ছিল না। ঘটনাটি জানতে পারে বাংলাদেশে তার জন্য অপেক্ষমাণ বাগদত্তা তরুণীটি। কিন্তু তার পক্ষে আর অপেক্ষা করা সম্ভব হয় না। রইসের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়।
প্রবল আত্মসম্মান ও দৃঢ় সংকল্পবোধ
বাংলাদেশে রইস হারান তার ভালোবাসার মেয়েটিকে। আমেরিকায় রইস হারান তার চাকরি এবং এক চোখের দৃষ্টি শক্তি। তার মেডিকাল বিল হতে থাকে বিশাল। ইতিমধ্যে নাইন-ইলেভেনে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য যে ফান্ড সরকার প্রতিষ্ঠা করেছিল, সেই তহবিল থেকে তিনি কিছু পাবেন না এই দুঃসংবাদটি রেড ক্রস তাকে দেয়। তবে রেড ক্রস বলে, তাকে ফৃ খাবার সাপ্লাইয়ের ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু রইসের আত্মসম্মানবোধ ছিল প্রবল। তিনি সেই সাহায্য নিতে চান না।
আহত হবার পরে পথম দিকে রইস পথে বেরোতে ভয় পেতেন। সারা দিন নিজের রুমে থাকতেন এবং নিয়মিত নামাজ পড়তেন। তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন সব প্রতিকূলতা তাকে কাটিয়ে উঠতেই হবে। তাই শারীরিকভাবে কিছুটা সুস্থ এবং মানসিকভাবে কিছুটা সবল হবার পরে রইস সিদ্ধান্ত নিলেন কোনো রেস্টুরেন্টে কাজ করার। কারণ এভাবেই অপরিচিত মানুষ সম্পর্কে তার ভয় কাটানো সম্ভব ছিল। ২০০৩-এ অলিভ গার্ডেন নামে একটি রেস্টুরেন্টে ওয়েটারের চাকরি শুরু করেন রইস।
এর পরে এক বন্ধুসুলভ ডাক্তারের সাহায্যে এই ধরনের ক্রাইমে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারি তহবিল থেকে তিনি কিছু টাকা পান। এই টাকায় রইস অধিকাংশ মেডিকাল ও অন্যান্য ঋণ শোধ করতে পারেন। তিনি বাকি টাকায় একটি ব্যাংক একাউন্ট খোলেন, একটি ফ্যাট ভাড়া নেন এবং একটি গাড়ি কিস্তিতে কিনতে পারেন। এ জন্য একটি ক্রেডিট কার্ড কম্পানি রইসকে ক্রেডিট কার্ড দেয়।
হজে নতুন উপলব্ধি
কিন্তু রইস তো আমেরিকায় আইটিতে পড়াশোনা করতে চেয়েছিলেন। তিনি সেদিকেও এগিয়ে যান। স্থানীয় মসজিদে পরিচয় হওয়ার সুবাদে এক মুসলিমের সুপারিশে ২০০৯-এ রইস একটি কম্পিউটার স্কুলে ফৃ পড়াশোনার সুযোগ পান। সেখানে তার টিচারের সহযোগিতায় রেস্টুরেন্ট ভালোভাবে চালানোর জন্য একটি সফটওয়্যার ডিজাইন করেন। রেস্টুরেন্টে কাজ করার পাশাপাশি এই সফটওয়্যার বিক্রির কাজ তিনি শুরু করেন। একপর্যায়ে রইসের হঠাৎ মনে পড়ে মরণাপন্ন অবস্থায় যখন ছিলেন তখন সৃষ্টিকর্তার কাছে তিনি ওয়াদা করেছিলেন হজব্রত পালন করবেন।
রইসের পিতা ইতিমধ্যে তিনবার হজে গিয়েছিলেন। রইস স্থির করেন এবার তিনি হজে তার মাকে নিয়ে যাবেন. যিনি আগে কখনো হজ করেন নি। ইসলাম ধর্মের মূল পাচটি স্তম্ভের অন্যতম হজ পালন করার গভীর ইচ্ছা ছিল তার মা-র।
২০০৯-এ রইস ও তার মা এক মাস মক্কায় ছিলেন। তারা হজ করেন এবং মিশে যান সব পুণ্যার্থীর সাথে।
রইস ফিরে আসেন ডালাস, টেক্সাসে। তবে ভিন্ন মানুষ রূপে।
পরে রইস বুঝিয়ে বলেন, “হজে গিয়ে আমি অনুভব করলাম, আমি আর নিজের সম্পর্কে শংকিত নই। বরং আমি ভাবতে থাকলাম মার্ক স্ট্রোম্যান সম্পর্কে, যে নয় বছর ধরে জেলখানায় তার মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছিল। একত্রিশ বছর বয়সী এবং চার সন্তানের জনক এই লোকটি তো আমারই মতো আরেকজন মানুষ। সে একটা ভয়ংকর ভুল করেছিল। সে বিষয়ে কোনো তর্ক নেই। কিন্তু কোরআন খুব স্পষ্টভাবে বলছে, আমার মতো একটা পরিস্থিতিতে, আপনি ইচ্ছা করলে ন্যায়বিচার চাইতে পারেন, অথবা আপনি আর্থিক ক্ষতিপূরণ চাইতে পারেন, অথবা আপনি ক্ষমা করে দিতে পারেন। আর আপনি যদি তাকে ক্ষমা করে দেন তাহলে তার মানে হচ্ছে, সে ক্ষমাপ্রাপ্ত এবং জেলের মধ্যে তার সময় কাটানোর প্রয়োজন নেই। আমি তাকে ক্ষমা করে দিলে তার শাস্তি ভোগের কোনো কারণ থাকতে পারে না। এটাই ইসলামি শিক্ষা। সবচেয়ে বেশি যে যন্ত্রণা আমি পেতে পারতামÑ সেই যন্ত্রণা আমি পেয়েছি। ওয়াকার আর বাসুদেবের বৌরা তাদের স্বামীকে হারিয়েছেন। তাদের ছয়টি ছেলেমেয়ে কষ্ট পেয়েছে। কিন্তু এখন মার্ক স্ট্রোম্যানকে হত্যা করে আমরা কি পাবো? কিছুই না। সুতরাং তাকে বাচাতেই হবে।”
মৃত্যুদণ্ডবিরোধী আন্দোলনের সূচনা
কিন্তু রইসের এই অভিযান ছিল প্রায় দুঃসাধ্য। তিনি বিনয়ী এবং কিছুটা মুখচোরা। তবে তার মুখে লেগে থাকে একটি আকর্ষণীয় লাজুক হাসি।
তিনি মানুষের মন জয় করতে কাজে লেগে গেলেন। ইন্টারনেটে ঘাটাঘাটি করে রিসার্চ করতে থাকলেন। আন্দোলনের জন্য বিভিন্ন ফান্ড রেইজিং বা তহবিল সংগ্রহের কর্মসূচি শুরু করলেন। তিনি সারা দেশে একটা নেটওয়ার্ক তৈরিতে মনোযোগী হলেন।
তার এই নতুন চলার পথে হঠাৎ তার পরিচয় হলো একটি কৃশ্চিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের, সাদার্ন মেথডিস্ট ইউনিভার্সিটির, প্রফেসর রিক হ্যালপারিনের সঙ্গে। প্রফেসর হ্যালপারিন বহু বছর যাবৎ লড়াই করছিলেন টেক্সাসে মৃত্যুদণ্ড বন্ধ করার লক্ষ্যে। গত এক যুগে টেক্সাসের সহিংস ক্রাইম কমে গেলেও আমেরিকার এই অঙ্গরাজ্যে বছরে গড়ে ২৫টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডের আধুনিক ইতিহাসে এটাই বছরওয়ারি সর্বোচ্চ সংখ্যা।
এমনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইউএসএ-র সাবেক চেয়ারম্যান হ্যালপারিনের সাহায্যে রইসের হজের প্রায় দেড় বছর পরে ১৬ মে ২০১১-তে ডালাস মর্নিং নিউজ পত্রিকায় একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয় যার শিরোনাম ছিল : “বাংলাদেশ ইমিগ্রান্ট সিকস স্টে অফ একজিকিউশন ফর ম্যান হু শট হিম ইন ৯/১১ রিভেঞ্জ এটাক” (Bangladesh immigrant seeks stay of execution for man who shot him in 9/11 revenge attack, ৯/১১ প্রতিশোধ হামলায় গুলিবিদ্ধ বাংলাদেশী ইমিগ্রান্ট চায় হামলাকারীর মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করতে)।
এই রিপোর্টের কয়েক দিন পরে ডালাস মর্নিং নিউজে প্রকাশিত আরেকটি রিপোর্টে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে স্ট্রোম্যানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার আহ্বান জানান রইস। এই রিপোর্টে রইস বলেন, “আমি স্ট্রোম্যানকে কয়েক বছর আগেই ক্ষমা করে দিয়েছি। আমি বিশ্বাস করি সে ছিল অজ্ঞ। ভালো ও মন্দের মধ্যে তফাৎটা সে বুঝতে পারত না। যদি সে বুঝত তাহলে এমন কাজ করত না।... আমি বিশ্বাস করি স্ট্রোম্যানকে বাচিয়ে রাখলে, সময়ের বিবর্তনে এবং তার ম্যাচিওরিটিতে সে বুঝবে কোনো পরিস্থিতিতেই ঘৃণা শান্তিপূর্ণ সমাধান দিতে পারে না। যদি সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে এই ঘটনার সুপ্রভাবে স্ট্রোম্যান হয়তো ক্রাইম ও পাপকে ঘৃণার একজন মুখপাত্র হতে পারে।”
ইন্টারন্যাশনাল সেলিবৃটি
কিন্তু সমস্যা ছিল একটাই।
ঠিক দুই মাস পরেই ২০ জুলাই ২০১১-তে স্ট্রোম্যানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবার শেডিউল ছিল।
ডালাস মর্নিং নিউজে পরপর দুটি রিপোর্টে রইসের ক্ষমার বাণী প্রকাশিত হবার পর আন্তর্জাতিকভাবে তাকে নিয়ে সাড়া পড়ে যায়।
আমেরিকা ও ইওরোপে এই ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন টিভি রিপোর্ট, ইন্টারভিউ প্রকাশিত হয়। ব্লগে তার সম্পর্কে মিলিয়ন কথা লেখা হয়।
বাংলাদেশের রইস উদ্দিন ভূইয়া হয়ে যান ইন্টারন্যাশনাল সেলিবৃটি!
কিন্তু এই নতুন স্টেটাসে রইস আত্মপ্রসাদে আচ্ছন্ন হননি।
মৃত্যুমুখী রইস পুনর্জন্মে হয়েছিলেন জীবনমুখী।
তিনি দুশ্চিন্তায় ছিলেন কিভাবে স্ট্রোম্যানের জীবন বাচানো সম্ভব?
সময় যে ফুরিয়ে যাচ্ছিল।
কোয়ার্টজ ঘড়ির কাটা নিঃশব্দে ঘুরছিল।
স্ট্রোম্যানের প্রাণদণ্ড কার্যকর করার দিন ক্রমেই এগিয়ে আসছিল।
রইস দৌড়াদৌড়ি করছিলেন স্ট্রোম্যানের উকিলদের কাছে। রাষ্ট্রীয় কর্মচারীদের কাছে। এমনেস্টির কর্মীদের কাছে।
কেউ তাকে আইনের শাসনের কথা শোনাচ্ছিলেন। কেউ তাকে লাল ফিতার দৌরাত্ম্যের কথা বলছিলেন।
শেষ পর্যন্ত খুররম ওয়াহিদ নামে একজন এটর্নিকে তিনি খুজে পেলেন যিনি সর্বাত্মক সাহায্যে এগিয়ে আসতে রাজি হলেন। সাধারণত আমেরিকায় উকিলরা এটর্নি নামে পরিচিত।
ওয়াহিদ আর রইস যোগাযোগ করলেন মৃত্যুদণ্ডবিরোধী সংস্থা গ্রেইসের (Grace) সঙ্গে। তাদের সহায়তা ও উপদেশে ভিকটিম-এর (এক্ষেত্রে ভিকটিম ছিলেন রইস) অধিকারের ভিত্তিতে ওয়াহিদ আদালতে মামলা চালিয়ে যেতে থাকলেন।
তারা চাচ্ছিলেন টেক্সাসের গভর্নর রিক পেরি-র সাথে দেখা করে সব কিছু বুঝিয়ে বলতে। সেটা যদি সম্ভব না হয়, তাহলে অন্তত স্ট্রোম্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সাক্ষাতের অনুমতি পেতে। একবার তার সঙ্গে কথা বলতে। কিন্তু এসব চেষ্টা বৃথা হয়।
শেষ সময়ে ফোনে কথা
হান্টসভিলে জেলে থেকে স্ট্রোম্যান সংবাদগুলো পাচ্ছিল।
শেষ মুহূর্তে রইস চেষ্টা করতে থাকেন সরাসরি হান্টসভিল জেলে স্ট্রোম্যানের সঙ্গে কথা বলতে।
রইস জেনেছিলেন আইলান জিভ নামে একজন ইসরেলি ডকুমেন্টারি মুভিমেকার স্ট্রোম্যান বিষয়ে দীর্ঘকাল যাবৎ রিসার্চ করেছেন এবং স্ট্রোম্যানের অন্তিম মুহূর্তে তিনি জেলখানায় তার সঙ্গে কথা বলার অনুমতি পেয়েছেন।
রইস ও তার টিম দ্রুত সংগ্রহ করেন জিভের মোবাইল ফোন নাম্বার।
রইস ফোন করেন জিভকে।
জিভ তাকে জানালেন, স্ট্রোম্যান তার বর্ণবাদী বিশ্বাস ও কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতাপ প্রকাশ করেছে। বিশেষত রইস যে নিঃস্বার্থপরভাবে তাকে বাচানোর চেষ্টা করে চলেছে তাতে সে আবেগ আপ্লুত হয়েছে।
জিভ বলেন তিনি চেষ্টা করছেন, স্ট্রোম্যানের সঙ্গে স্পিকার ফোনে রইসের কথা বলিয়ে দিতে।
রইস ও তার উদগ্রীব এটর্নিরা অপেক্ষা করতে থাকেন।
তাদের দুজনার মধ্যে কথা হয়।
জিভ সেটা টেপ রেকর্ড করেন।
তাদের কথোপকথনের কিছু অংশ :
দক্ষিণ আমেরিকার আঞ্চলিক টানে স্ট্রোম্যান বলেন, “কেমন আছেন? আপনি আমার জন্য অনেক করেছেন। থ্যাংক ইউ। আপনি আমাকে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছেন। আশার আলো দেখিয়েছেন। মন থেকে বলছি। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, মিস্টার।”
রইস উত্তর দেন, “মার্ক, আপনি জেনে রাখেন, আমি গডের কাছে প্রার্থনা করে চলেছি। কারণ তিনি সবচেয়ে মহান। সবচেয়ে ক্ষমাপরায়ণ। তাকে বলেছি, আমি আপনাকে ক্ষমা করে দিয়েছি এবং আমি আপনাকে ঘৃণা করি না। আমি কখনোই আপনাকে ঘৃণা করি নি...’’
“রইস, ওরা আমাকে ফোন ছেড়ে দিতে বলছে। আমি চেষ্টা করবো আবার ফোন করতে।”
ওদের লাইন কেটে যায়।
রইস খুব হতাশ হয়ে বলেন, “তাকে যে কেন আমি ক্ষমা করেছিলাম, সেটা বলার সুযোগ আমি পেলাম না। কিন্তু সেটা ছিল আসল কথা। সেই আসল কথাটা বলার চান্স আমি পেলাম না। এমনটা তো আমি চাই নি।”
রাত ৮:৫৩ মিনিটে বিষাক্ত ইনজেকশনে স্ট্রোম্যানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
ঘৃণামুক্ত পৃথিবীর আন্দোলন
স্ট্রোম্যানের মৃত্যুর পর আরো বেশি মৃত্যুদণ্ডবিরোধী আন্দোলনের কাজে ঝাপিয়ে পড়েন রইস। আন্দোলনের অংশ রূপে ওয়ার্র্ল্ড উইদাউট হেইট (World Without Hate, ঘৃণামুক্ত পৃথিবী) নামে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। প্রায় প্রতি উইকএন্ডে (সাপ্তাহিক ছুটির দুই দিন, শনি ও রবিবারে) রইস প্লেনে আমেরিকার এক শহর থেকে আরেক শহরে ভাষণ দিতে যেতে থাকেন। পাশাপাশি তিনি স্ট্রোম্যানের পরিবারকেও সাহায্য করতে থাকেন। অন্য দিকে নিহত ওয়াকার ও বাসুদেবের পরিবারকেও সাহায্য করতে থাকেন। হাজার হাজার ই-মেইলের উত্তর দেওয়া, মিডিয়া রিপোর্টারদের সঙ্গে কথা বলা, প্রভৃতিতে রইস ব্যস্ত থাকেন।
রইসউদ্দিন ভূইয়া প্রতিষ্ঠিত ওয়েবসাইট :
World Without Hate.org
(http://worldwithouthate.org)
স্ট্রোম্যানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবার দুই মাস পরে একটি ইন্টারভিউতে রইস বলেন, “জীবনের চলার পথে মার্ক স্ট্রোম্যানের মতো অনেকেই আছে। আর আছে প্রচণ্ড ঘৃণাÑ এই দেশে এবং বিশ্বজুড়ে অন্য দেশেও। এটা হতে পারে যে আমার গায়ের রং, অথবা আমার ধর্ম, অথবা আমার উচ্চারণ আপনি পছন্দ করেন না। কিন্তু আমি নিরুপায়। আমি তো জন্মসূত্রে ওসব পেয়েছি। আমি তো ওসব বদলাতে পারবো না। তবে প্রতিটি মানুষেরই বোঝা উচিত কোনো ভিন্নতার কারণে পারস্পরিক ঘৃণা করা উচিত নয়। যদি আপনি সত্যিই ঘৃণা করতে চান, তাহলে ওই মনমানসিকতাকে ঘৃণা করুন।”
নিয়তির টানে
রইস এখন আইটি জবে লক্ষাধিক ডলার বেতন পাচ্ছেন। তিনি দ্বন্দ্বে পড়েছেন। এই ভালো চাকরিটা ছেড়ে ওয়ার্ল্ড উইদাউট হেইট বা ঘৃণামুক্ত পৃথিবীর আন্দোলনে ফুলটাইম কাজ করবেন কি না সেটা ভাবছেন। তিনি বলেন, “আমার নিয়তি আমাকে টানছে ঘৃণামুক্ত পৃথিবীর দিকে।”
রইস এই মুহূর্তে জানেন না নিয়তি তাকে শেষ পর্যন্ত কোথায় টেনে নিয়ে যাবে।
ক্যাথরিন বিগেলো একজন খ্যাতনামা ও সফল মুভিমেকার। রইসের জীবনীনির্ভর মুভি, দি ট্রু আমেরিকান, যদি বক্স অফিস হিট হয় তাহলে তার ঘৃণামুক্ত পৃথিবীর আন্দোলন বেগবান হবে।
বিশ্বে মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা কমে আসবে।
হয়তো বাংলাদেশেও মৃত্যুদণ্ড রহিত হয়ে যাবে।
আমেরিকা প্রবাসী এক বাংলাদেশীর নিয়তি বাংলাদেশকে মানবিকতা ও সভ্যতার দিকে টেনে নিয়ে যাবে।
১৩ অক্টোবর ২০১৪
facebook.com/ShafikRehmanPresents
যে শহর ছেড়ে রইস চলে যান ডালাসে, সেই নিউ ইয়র্ক সিটিতে ১১ সেপ্টেম্বর ২০০১-এ দুটি সন্ত্রাসী প্লেন এটাকে ম্যানহাটানে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ার ধ্বংস হয়। প্রায় একই সময়ে রাজধানী ওয়াশিংটনে এবং পেনসেলভানিয়াতে আরো দুটি সন্ত্রাসী প্লেন এটাক হয়। এই চারটি এটাকে চারটি প্লেনের ১৯ জন হাইজ্যাকার এবং সব প্লেনের সব যাত্রী ও বিভিন্ন ভবনের ২,৯৭৭ অধিবাসীসহ, সেই দিন মোট ২,৯৯৬ মানুষ নিহত হয়। আহত হয় ৬,০০০-এর বেশি। ধারণা করা হয় ১৯ জন হাইজ্যাকারই ছিল আল কায়েদা সংস্থার সদস্য আরব মুসলিম।
সারা আমেরিকায় মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার আকাংক্ষা কিছু আমেরিকানের মধ্যে প্রবল হয়ে ওঠে। এই ুব্ধ আমেরিকানদের অন্যতম ছিল ডালাসের এক ডে লেবারার বা দিনমজুর, মার্ক এন্টনি স্ট্রোম্যান (৩১)। সে প্রতিশোধ নিতে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হয়।
১৫ সেপ্টেম্বর ২০০১-এ ডালাসে ইলাম রোডে একটি গ্রোসারি স্টোরে কাজ করছিলেন পাকিস্তানি বংশ উদ্ভূত ওয়াকার হাসান (৪৬)। স্ট্রোম্যান সেই দোকানে ঢুকে গুলি করে ওয়াকারকে খুন করে।
এর ছয় দিন পরে স্ট্রোম্যান তার দ্বিতীয় শিকারের লক্ষ্যে যায় ডালাসের সাউথ বাকনার বুলেভাতে পেট্রলপাম্প সংলগ্ন একটি মিনিমার্টে। সেখানে ক্যাশিয়ারের কাজ করছিলেন রইস। রইসকে তার বস বলে রেখেছিল, কখনো কোনো আগন্তুক এসে যদি বন্দুক দেখিয়ে ডলার চায়, তাহলে ক্যাশে দেড় শ ডলার রেখে বাকি সব ডলার বিনা বাক্য ব্যয়ে আগন্তুককে দিয়ে দিতে।
রইসের মিনিমার্টে মাঝেমধ্যে আগন্তুকরা আসত চোরাই ল্যাপটপ, টিভি প্রভৃতি বিক্রির আশায়। সেদিন ভরদুপুরে ওই আগন্তুকের হাতে ল্যাপটপ বা টিভি ছিল না। ছিল একটি শটগান। তার মাথা ছিল ন্যাড়া। দেহে ছিল উল্কি বা ট্যাটু আকা।
পূর্বনির্দেশ অনুযায়ী রইস তার ক্যাশ বক্স খোলেন। কাউন্টারের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে স্ট্রোম্যান জিজ্ঞাসা করে, ‘তোর দেশ কোথায়? হোয়ার আর ইউ ফ্রম?’
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর রইস দেওয়ার আগেই স্ট্রোম্যান সরাসরি তার মুখে গুলি করে। সে মারা গিয়েছে ভেবে স্ট্রোম্যান চলে যায়। রক্তাক্ত রইস কোনো রকমে পাশের দোকান, একটি হেয়ার ড্রেসিং শপে যান। সেখান থেকে পুলিশে ফোন করা হয়।
এরপর পুলিশ যখন আততায়ীকে খুজছিল তখন স্ট্রোম্যান তার তৃতীয় শিকারের লক্ষ্যে তৎপর হয়। ৪ অক্টোবর ২০০১-এ টেক্সাসের মেসকিট শহরে ইনডিয়ান বংশ উদ্ভূত বাসুদেব প্যাটেলকে (৪৯) সে খুন করে।
এর কিছু দিন পর স্ট্রোম্যান ধরা পড়ে। হাজতে থাকা অবস্থায় স্ট্রোম্যান বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে ফোন করে দাবি করে যে এসব হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে দিয়েছে সে একজন সত্যিকার দেশপ্রেমিক, এ ট্রু আমেরিকান। ২০০২-এ জেল থেকে এক বন্ধুর কাছে একটি চিঠিতে স্ট্রোম্যান নিজের সম্পর্কে লেখে, ‘এখানে আছে আরব হত্যাকারী। আমি যা করেছি তার পুরস্কারস্বরূপ তোমাদের মেয়র করা উচিত আমাকে। আমি একজন দেশপ্রেমিক, সত্যিকার আমেরিকান এবং খুবই স্পেশাল ধরনের।’
গুরুতর আহত রইসকে হসপিটালে নেওয়া হলে কয়েকবার সার্জারির পর ডাক্তাররা তাকে ব্রেইন ড্যামেজ থেকে বাচাতে পারেনÑ কিন্তু তার এক চোখের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে যায়। এ বিষয়ে পরে রইস বলেন, ‘আমার মুখের ডান দিকে এখনো ৩৮টি পেলেট আছে। আমার মুখে ছুলেই বুঝবেন এটা কত এবড়োখেবড়ো। একটার পর একটা সার্জারি হয়েছিল আমার মুখে। এসব সার্জারি ছিল খুবই যন্ত্রণাদায়ক।’
সাধারণত এই ধরনের খুন ও খুনের চেষ্টা কিছু দিন পরে অন্যান্য খবরের আড়ালে পড়ে যায়। কিন্তু রইসের বেলায় সেটা হয়নি। কারণ এত কষ্ট পাওয়া সত্ত্বেও রইস ক্ষমা করে দিয়েছিলেন স্ট্রোম্যানকে এবং স্ট্রোম্যান মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হলে, সেই দণ্ড যাতে কার্যকর না হয় তার জন্য আন্দোলন শুরু করেছিলেন।
রইসের এই মহানুভবতায় স্ট্রোম্যানের মানসিক চিন্তাধারা বদলে যায়। নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া একটি ইন্টারভিউতে (নিচে দেখুন) স্ট্রোম্যান বলে, ‘ঘৃণা-প্রতিহিংসা বন্ধ করতে হবেÑ কারণ এই পৃথিবীতে আমরা সবাই এক সঙ্গে আছি।’
স্ট্রোম্যানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবার কয়েক ঘণ্টা আগে তার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন রইস। গুলিবিদ্ধ হবার পর সেটাই ছিল তার সঙ্গে রইসের প্রথম এবং শেষ কথোপকথন। রইস বলেন, ‘আমি আপনাকে ক্ষমা করে দিয়েছি। আমি আপনাকে ঘৃণা করি না।’
এ কথার উত্তরে স্ট্রোম্যান বলেন, ‘থ্যাংক ইউ। আমার হৃদয় থেকে আপনাকে ধন্যবাদ দিচ্ছি। আমি আপনাকে ভালোবাসি, ব্রাদার... আপনি আমার হৃদয় ছুয়ে গিয়েছেন। এমনটা আমি কখনোই আশা করিনি।’
‘আপনিও আমার হৃদয় ছুয়েছেন।’ রইস উত্তর দেন।
স্ট্রোম্যানের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত রাখার জন্য রইস ফেডারাল কোর্টে শেষ আপিল করেছিলেন। কিন্তু সেটা নাকচ হয়ে যাবার পর ২০ জুলাই ২০১১-তে স্ট্রোম্যানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
নিউ ইয়র্ক টাইমসে ইন্টারভিউ
রইসের ক্ষমা করার দৃষ্টান্ত আমেরিকাকে আলোড়িত করে। স্ট্রোম্যানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবার দুই দিন আগে ১৮ জুলাই ২০১১-তে নিউ ইয়র্ক টাইমসে রইস ও স্ট্রোম্যান, উভয়ের ইন্টারভিউ প্রকাশিত হয়। ইন্টারভিউ নিয়েছিলেন টিমথি উইলিয়ামস এবং তার এই রিপোর্টের শিরোনাম ছিল, দি হেইটেড অ্যান্ড দি হেইটার, বোথ টাচড বাই ক্রাইম (The Hated and the Hater, Both Touched by Crime, অর্থাৎ, ঘৃণিত এবং ঘৃণাকারী-দুজনকেই ছুয়েছে একই অপরাধ)।
প্রশ্ন : ২১ সেপ্টেম্বর ২০০১-এ আপনি আপনার বন্ধুর একটি পেট্রলপাম্পে কনভিনিয়েন্স স্টোরে কাজ করছিলেন। সেই দিনের ঘটনা সম্পর্কে কি মনে পড়ে?
উত্তর : এর আগে দুইবার আমি চোর ডাকাতের মুখে পড়েছিলাম। ওই এলাকায় অনেক খুনখারাবি হতো। আমাদের দোকানে চোরাই টিভি আর কমপিউটার তারা নিয়ে আসত। একবার একটা লোক এসেছিল বন্দুক হাতে। আমি ভেবেছিলাম সেই লোকটা তার বন্দুক বিক্রি করতে এসেছে। কিন্তু সে বলেছিল, ‘যদি তোমার ক্যাশের টাকা না দাও, তাহলে গুলি করে তোমার খুলি উড়িয়ে দেব।’ এ রকম অভিজ্ঞতা আমার ছিল।
২১ সেপ্টেম্বর ২০০১। তখন বেলা প্রায় সাড়ে বারোটা। বিজনেস বেশ স্লো যাচ্ছিল। বাইরে মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছিল। পাশের হেয়ারড্রেসিং শপের বারবার (নাপিত) এসে চিপস আর ডৃংকস কিনে নিয়ে গিয়েছিল। হঠাৎ দেখি, হ্যাট আর সানগ্লাস পরে একটা লোক দোকানে ঢুকল। তার হাতে ছিল বন্দুক। আমি ভাবলাম লোকটা ডাকাতি করতে এসেছে। তাড়াতাড়ি বললাম, ‘আমাকে গুলি কোরো না, প্লিজ। সব টাকা তুমি নিয়ে যাও।’
সে বলল, ‘তুই কোন দেশের?’
সে আমার কাছ থেকে চার-পাচ ফিট দূরে ছিল।
আমি শিউরে উঠলাম।
উত্তর দিলাম, ‘কি বলছেন আপনি?’
ওটা ছিল দোনলা বন্দুক। হঠাৎ মনে হলো কয়েক লক্ষ মৌমাছি যেন আমার মুখে হুল ফুটিয়ে দিয়েছে। তারপর একটা বিস্ফোরণের শব্দ শুনলাম। আব্বা-আম্মার, ভাইবোনের আমার ভালোবাসার মেয়েটির মুখগুলো যেন দেখলাম। তারপর দেখলাম একটি কবরস্থান। ভাবলাম, আমি কি আজই মরে যাচ্ছি? নিচের দিকে তাকিয়ে দেখলাম রক্তে ভেসে যাচ্ছে মেঝে। আমার মাথা থেকে গল গল করে রক্ত পড়ছে। ভাবলাম মগজ কি বেরিয়ে যাচ্ছে? দুই হাতে আমার মাথা চেপে ধরে চিৎকার করে উঠলাম, মা। আমি দেখলাম ওই লোকটা তখনো দাড়িয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। ভাবলাম মেঝেতে না পড়লে ওই লোকটা মনে করবে আমি বেচে আছি। আমি মেঝেতে পড়ে গেলাম। মেঝে ভেসে যাচ্ছিল আমার রক্তে। তারপর ওই লোকটা চলে গেল। আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না লোকটা আমাকে গুলি করেছে। আমি ভাবছিলাম হয়তো কোনো দুঃস্বপ্ন দেখছি। আমি তো খারাপ কিছু করি নি। আমি তো তাকে কোনো হুমকি দেই নি। আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না এভাবে বিনা কারণে কেউ কাউকে গুলি করতে পারে।
প্রশ্ন : তারপর কি হলো?
উত্তর : আমি ওখান থেকে বের হতে চাচ্ছিলাম। আমি পাশের হেয়ারড্রেসিং শপে গেলাম। ওরা আমাকে দেখে ভয়ে পালিয়ে গেল। একটা জবাই করা মুরগির মতো আমার মুখ থেকে রক্ত পড়ছিল। ওরা ভেবেছিল হামলাকারী আমার পেছনে তেড়ে আসছে। আমি হেয়ারড্রেসিং শপের আয়নায় আমার মুখ দেখলাম। বিশ্বাস করতে পারছিলাম না সেটা আমি (এই সময়ে রইস কাদতে শুরু করেন)। এক মিনিট আগেও আমি ছিলাম টি-শার্ট, হাফ প্যান্ট আর টেনিস শু পরা এক তরুণ (রইস আরো জোরে কাদতে শুরু করেন)। সরি, গত নয় বছর এভাবে আমি কাদি নি। আমি লাকি ছিলাম। কারণ ওই এলাকায় ঠিক তখনই একটা এমবুলেন্স ছিল। আল্লাহর কাছে মোনাজাত করছিলাম, আল্লাহ আমাকে মাফ করে দিও। আমি ভালো পথে চলবো। সুরা আউড়ে আমি বললাম, আমার জীবনটা আমি গরিবদের জন্য উৎসর্গ করবো। আমি বুঝতে পারছিলাম আমার চোখ বন্ধ হয়ে আসছে। মনে হলো আমার ব্রেইনের সব কাজ আস্তে আস্তে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
প্রশ্ন : আপনার কত ইনজুরি হয়েছিল?
উত্তর : আমার মুখে এখনো ৩৮টি পেলেট আছে। আহত হবার পর আমি চোখ খুলতে পারতাম না। কথা বলতে পারতাম না। মুখ হা করতে পারতাম না। কোনো কিছু গিলতে খুব কষ্ট হতো। কারণ আমার গলাতেও গুলি লেগেছিল। হসপিটালে কিছুক্ষণ থাকার পর শুধু বাম চোখটা খুলতে পারি। মুখটা খুব ফুলে গিয়েছিল। ক্ষতবিক্ষত মুখটা ভয়ংকর বিশ্রী হয়ে গিয়েছিল। আমি বিশ্বাস করতে পারতাম না, ওটা ছিল আমারই মুখ। আল্লাহকে শুধু বলতাম, প্লিজ আল্লাহ, আমার মুখটা আমাকে ফিরিয়ে দাও।
(রইসকে পরদিন হসপিটাল থেকে ডিসচার্জ করা হয়েছিল। কারণ তার কোনো হেলথ ইনশিওরেন্স ছিল না। একপর্যায়ের পর হসপিটাল তার চিকিৎসা করতে চায় নি। এর পরের কয়েক মাস তাকে বিভিন্ন বাড়িতে বন্ধুদের অনুগ্রহে কোনো রকমে শুয়ে কাটাতে হয়। স্যাম্পল রূপে যেসব ওষুধ ডাক্তাররা পান, সেসব জোগাড় করে রইস তার চিকিৎসা চালিয়ে যান। পেইনকিলার এবং আইড্রপসও রইস এভাবে জোগাড় করেন। তার ডান চোখে কয়েকবার সার্জারির পর এখন শুধু সেই চোখে তার সীমিত দৃষ্টিশক্তি আছে।)
প্রশ্ন : মি. স্ট্রোম্যান স্বীকার করেছেন তিনি আপনাকে খুন করতে চেয়েছিলেন। তার জীবন বাচানোর জন্য আপনি কেন চেষ্টা করছেন?
উত্তর : আমার আব্বা-আম্মা এবং আমার টিচাররা আমাকে ভালো শিক্ষা দিয়েছিলেন। তারা নীতিকথা শিখিয়েছিলেন। তারা আমার ইমান শক্ত করেছিলেন। তারা বলেছিলেন, তুমি নিজেকে অপরের অবস্থায় বসিয়ে চিন্তা করবে। তারা তোমাকে আহত করলেও তুমি প্রতিশোধ নিও না। তাদের ক্ষমা করে দিও। তারপর সামনের দিকে এগিয়ে যেও। এর ফলে তোমার জীবনে ভালো কিছু ঘটবেÑ এবং তাদের জীবনেও। আমার ইসলামি শিক্ষা এটাই শিখিয়েছে। ওই লোকটা একটা যুদ্ধ হিসাবে এই কাজটা করেছিল। অনেক আমেরিকান এটাই করতে চেয়েছিল। কিন্তু তাদের সাহস হয়নি। ওই লোকটার সাহস হয়েছিলÑ মুসলিমদের গুলি করার সাহস। এই ঘটনাটি ঘটে যাবার পর আমি এই দেশে বেচে থাকার যুদ্ধ করছি। আমি মনে করি, ক্ষমা করে দেওয়াটা যথেষ্ট নয়। ওই লোকটা তার অজ্ঞতা থেকে কাজটা করেছিল। আমি সিদ্ধান্ত নিই ওই লোকটার জীবন বাচাতে হবে। ১১ সেপ্টেম্বরে যা ঘটেছে তার বদলে ডালাসে কাউকে খুন করাটা ঠিক নয়।
প্রশ্ন : মি. স্ট্রোম্যানের সঙ্গে আপনার দেখা করার সুযোগ যদি হয় তাহলে কি করবেন?
উত্তর : স্ট্রোম্যানের সঙ্গে দেখা করার জন্য আমি এপ্লিকেশন করেছিলাম। জেলে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করে তার মানসিকতা বুঝতে চাই। ভালোবাসা আর ক্ষমা বিষয়ে কথা বলতে চাই। আমরা সবাই তো ভুল করি। আমারই মতো, সে-ও আরেকটা মানুষ মাত্র। পাপকে ঘৃণা করোÑ পাপীকে নয়। তাই জেলে গিয়ে তাকে আমার এই অনুভূতিগুলো বোঝাতে চাই। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি তাকে বেচে থাকার সেকেন্ড চান্স দেওয়া উচিত। আমি বলতে চাই, আমি কখনোই আমেরিকাকে ঘৃণা করিনি। তাকে বাচিয়ে রাখলে সে হয়তো অনেক মানুষকে তার কথা বলবে। তাদের সুপথে আনতে পারবে। তার কি হবে এটা ভেবে আমি খুব ইমোশনাল হয়ে যাইÑ আবেগপ্রবণ হয়ে যাই। আমি ঘুমোতে পারি না। যখন আমি বিছানায় শুতে যাই, তখন ভাবি আরেকটি মানুষকে আমি জানি, যে এখন বিছানায় শুয়ে ভাবছে তার কি পরিণতি হবেÑ তার হাত পা বিছানায় বেধে তাকে হত্যা করা হবে। আমি আরো ইমোশনাল হয়ে পড়ি। দুঃখে ভেঙে পড়ি। তাকে বাচানোর জন্য আরো কিছু করতে চাই।
স্ট্রোম্যানের ইন্টারভিউ
প্রশ্ন : কেমন আছেন মি. স্ট্রোম্যান?
উত্তর : আমার আর মাত্র পচিশ দিন বাকি আছে। তারপর একটা বিছানায় আমাকে বেধে ফেলে শরীরে বিষ ঢুকিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু কথাটা একইÑ আমাদের সবাইকেই কোনো এক সময়ে শেষ মুহূর্তের মুখোমুখি হতে হয়। এখন সবই ঠিকঠাক চলছে। ফুরফুরে মেজাজে আছি। এক কাপ কফি খাচ্ছি আর রেডিওতে হারানো দিনের গান শুনছি। তবে একটা নিষ্ঠুর রসিকতাও হচ্ছে। যে গানটি শুনছি সেটা হলো লিনার্ড স্কিনার্ড-এর গাওয়া, ফৃ বার্ড (Free Bird, মুক্ত পাখি)!
প্রশ্ন : রইস ভূইয়া যে আপনার প্রাণদণ্ড কার্যকর করার বিরুদ্ধে চেষ্টা করছেন, সে বিষয়ে আপনি কি মনে করেন?
উত্তর : হ্যা, রইস ভূইয়াÑ এক আশ্চর্য মানুষ। সে প্রেরণা দিতে পারে। আমি যা করেছি তারপর রইসের এই চেষ্টার প্রশংসা হাজারটা বই লিখেও করা যাবে না। সে আমার হৃদয় ছুয়েছে... বিশ্বজুড়ে বহু মানুষের হৃদয় ছুয়েছে। বিশেষত গত দশ বছর যাবৎ যখন আমরা শুধু শুনেছি ইসলামি বিশ্বাস কত মন্দ হতে পারে... (তখন রইসের এই আন্দোলন) প্রমাণ করে দিয়েছে সব কিছুই মন্দ নয়, শয়তানি নয়।
প্রশ্ন : আপনার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবার আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি আছে। আমাকে বলুন, আপনি এখন কি চিন্তা করছেন?
উত্তর : শুধু আমার সব বন্ধুই এবং আমার সব সাপোর্টারই যে আমার জীবন বাচানোর জন্য চেষ্টা করছেন তা নয়Ñ এখন আমাকে বাচানোর লক্ষ্যে ইসলামি সম্প্রদায়ও চেষ্টা করছে। ... আর এই ইসলামি আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন রইস ভূইয়া নামে এক অতি অসাধারণ মানুষ, যে আমার ঘৃণা থেকে বেচে যাওয়া মানুষ। ইসলামি মূল্যবোধে তার গভীর বিশ্বাস তাকে শক্তি দিয়েছে ক্ষমার অযোগ্য মানুষকেও ক্ষমা করে দিতে... এটা সত্যিই আমাকে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে। এটা সবার জন্যই একটা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। ঘৃণা বন্ধ করতে হবেÑ আমরা এই পৃথিবীতে সবাই এক সঙ্গে আছি। আমি যিশুর ধর্মে বিশ্বাসী এবং টেক্সাসের তৃণমূলপর্যায়ের মানুষ। এই দুই কারণেও আমি এখন অনেক কিছু গভীরভাবে বুঝতে পারছি। পৃথিবীটা ঘুরছে। কিন্তু আমার জন্য প্রায় দশ বছর হলো পৃথিবীর সেই ঘোরাটা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ১১ সেপ্টেম্বরে যা ঘটেছিল সেটা জাতি হিসাবে আমরা কখনোই ভুলবো না। সেদিন আমরা সবাই যেটা অনুভব করেছিলাম, সেটাও কেউ ভুলবো না। আমিও না। কিন্তু আমি বলতে পারি আজ আমি কি অনুভব করছি। আর সেটা হলো রইস ভূইয়ার জীবন শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা আমি করেছিলাম। তারপর আমার জীবন বাচানোর জন্য যে চেষ্টা সে করছে, তাতে আমি তার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা বোধ করছি। আমি জানি বাইরে অনেকেই আছেন, যারা এখনো টুইন টাওয়ারের ঘটনায় আহত বোধ করছেন, যারা এখনো ঘৃণায় ভুগছেন। আর আমি এখনো টেক্সাসের ডেথ সেলে বসে নিজের মৃত্যুর অপেক্ষায় দিন গুনছি। কিন্তু আমি আশা করি এর একটা শুভ পরিণতি হবে। আমাদের দরকার আরো ক্ষমাপরায়ণতা এবং আরো বুঝতে পারাÑ এবং কম ঘৃণা করা টেক্সাস জীবিত, টেক্সাস গর্বিত... আমি একজন সত্যিকার আমেরিকান... বেচে আছি মরার জন্যÑ মরছি বেচে থাকার জন্য। (We need more forgiveness and understanding and less hate... Texas loud and Texas proud... True American... Living to die Dying to live).
আমেরিকানদের অশেষ কৌতূহল
বিচারের সময়ে স্ট্রোম্যান কোনো অনুশোচনা দেখান নি এবং কোনো অনুকম্পা প্রার্থনা করেননি। স্ট্রোম্যানের মৃত্যুর পরে রইস আরো জোরালো আন্দোলন শুরু করেন। এই অতি অসাধারণ ঘটনায় আমেরিকানদের অশেষ কৌতূহল হয়। তারা জানতে চান রইসের অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্ল্যান। আর সেই কৌতূহল মেটাতে এগিয়ে আসেন একাধিক রিপোর্টার ও লেখক। একাধিক ডেইলি নিউজ পেপার ও ম্যাগাজিন। একাধিক রেডিও-টিভি চ্যানেল।
ডিসেম্বর ২০১১তে আমেরিকার প্রেস্টিজিয়াস ম্যাগাজিন স্কোয়ার (Esquire)-এ প্রকাশিত হয় মাইক সেগার-এর দি ফেইস অফ ফরগিভনেস (The Face of Forgiveness) শীর্ষক রচনা। ফেব্রুয়ারি ২০১৩-তে এই রচনাটি সংক্ষেপিতভাবে প্রকাশিত হয় দি রিডার্স ডাইজেস্ট ম্যাগাজিনে।
মে ২০১৪-তে নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক আনন্দ গিরিধরদাস-এর লেখা দি ট্রু আমেরিকান : মার্ডার অ্যান্ড মার্সি ইন টেক্সাস (The True American : Murder and Merci in Texas, সত্যিকার আমেরিকান : টেক্সাসে খুন ও ক্ষমা) নামে বইটি প্রকাশিত হবার পর রইসউদ্দিন ভূইয়ার সম্পর্কে আমেরিকান কৌতূহল আরো বেড়ে যায়। ডাবলিউ ডাবলিউ নর্টন (W W Norton) কর্তৃক ৩৩৬ পৃষ্ঠার এই বইটির দাম ২৭ ডলার ৯৫ সেন্ট অথবা ১৮ পাউন্ড ৯৯ পেন্স, আমাজন দাম ১৫ পাউন্ড ৯০ পেন্স। বইটির মুভি মেকিং রাইটস বা স্বত্ব নিয়ে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় আমেরিকায়। শেষ পর্যন্ত এই বইটির মুভি স্বত্ব কিনেছেন নারী মুভি ডিরেক্টর ক্যাথরিন বিগেলো (৬২)। তিনি এখন পর্যন্ত একমাত্র নারী মুভি ডিরেক্টর যিনি অস্কার প্রাইজ বিজয়ী হয়েছেন।
২০০৯-এর সেরা মুভি ডিরেক্টর পুরস্কার প্রাইজটি পান ক্যাথরিন বিগেলো ইরাকে যুদ্ধ-পরবর্তী অবস্থার ওপর তার পরিচালিত হার্ট লকার (Hurt Locker) মুভিটির জন্য। এরপরে ২০১২-তে তার পরিচালিত জিরো ডার্ক থার্টি (Zero Dark Thirty) সেই বছরের সেরা মুভির এবং আরো অনেক অস্কার নমিনেশন পায়। এই মুভির বিষয় ছিল টুইন টাওয়ার ধ্বংস হবার পরে ওসামা বিন লাদেন-এর যুগ। ক্যাথরিন বিগেলো (টাইটানিক মুভি নির্মাতা জেমস ক্যামেরনের সাবেক স্ত্রী) দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন রইসউদ্দিনের ওপর মুভি নির্মাণের জন্য। তাই তিনি বেশি দাম দিয়ে মুভি মেকিং রাইটস কিনেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, বিগেলোর এই মুভিটিও বহু অস্কারের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
রইসের আমেরিকান স্বপ্ন হলো দুঃস্বপ্ন
আমেরিকা ইমিগ্রান্টদের দেশ। আদি অধিবাসীদের (যাদের বলা হয় রেড ইনডিয়ান) অধিকাংশকে নিশ্চিহ্ন করে আমেরিকা হয়েছে বহিরাগতদের নতুন দেশ। ওবামার পূর্বপুরুষ এসেছিলেন আফৃকা (কেনিয়া) থেকে। জন কেনেডির পূর্বপুরুষ এসেছিলেন ইওরোপ (আয়ারল্যান্ড) থেকে। তাদেরই মতো অন্যান্য বহিরাগতের স্বপ্ন হলো পরিশ্রম করে গরিব থেকে ধনী হওয়া, অখ্যাত থেকে খ্যাতনামা হওয়া, দুর্বল থেকে শক্তিমান হওয়া। এখনো আমেরিকাতে এটা সম্ভব। সাধারণভাবে এটাকে বলা হয় আমেরিকান ডৃম বা আমেরিকান স্বপ্ন।
বাংলাদেশে সিলেটে রইসউদ্দিন ভূইয়া একই স্বপ্ন দেখছিলেন ২০০০ সালে। সেই বছর আমেরিকার ন্যাশনাল গৃন কার্ড লটারিতে যে গুটিকয়েক মানুষ বাংলাদেশে পেয়েছিলেন, তাদের অন্যতম ছিলেন রইস। তিনি তখন বাংলাদেশ এয়ার ফোর্সে কাজ করছিলেন এবং এক তরুণীর প্রেমে বিভোর ছিলেন। এই চাকরিটি ছেড়ে দিয়ে রইস তার আমেরিকান স্বপ্ন সফল করার লক্ষ্যে ২০০১-এ টেক্সাসে যখন পৌঁছান তখন তার বয়স ছিল সাতাশ। তিনি আইটিতে পড়াশোনা করতে চান এবং পড়াশোনার খরচ মেটানোর জন্য তার এক বন্ধুর পেট্রলপাম্প স্টেশনে (আমেরিকায় যাকে বলে গ্যাস স্টেশন) কাজ শুরু করেন। আমেরিকায় কিছু পেট্রলপাম্প স্টেশনের সঙ্গেই থাকে মিনিমার্ট (কনভিনিয়েন্স স্টোর) যেখানে অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সঙ্গে বিভিন্ন ফুড অ্যান্ড ডৃংকস বিক্রি হয় কার-কোচ-ট্রাক ড্রাইভারদের জন্য। অনেক সময় একই ব্যক্তিকে পেট্রল এবং ফুড ও ডৃংকস বিক্রির দায়িত্ব নিতে হয়।
১১ সেপ্টেম্বর ২০০১-এ নিউ ইয়র্ক পেনসেলভানিয়া-ওয়াশিংটনে সন্ত্রাসী হামলার দশ দিন পরে যখন রইস তার পেট্রলপাম্প সংলগ্ন মিনিমার্টে কাজ করছিলেন, ঠিক সেই সময়ে টেক্সাসের এক দিনমজুর, মার্ক এন্টনি স্ট্রোম্যান, প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য বেরিয়েছিল আরব শিকারে। তখন ধারণা করা হয়েছিল টুইন টাওয়ারে হামলার জন্য আরবরাই দায়ী। স্ট্রোম্যান পাকিস্তানি বংশ উদ্ভূত ওয়াকার হাসানকে হত্যা করে ১৫ সেপ্টেম্বরে।
এর ছয় দিন পর ২১ সেপ্টেম্বরে স্ট্রোম্যান যায় রইসকে খুন করতে। রইস গুরুতর আহত হলেও বেচে যান।
৪ অক্টোবরে ইনডিয়ান বংশ উদ্ভূত বাসুদেব প্যাটেলকে হত্যা করে স্ট্রোম্যান।
রইসের মিনিমার্টে ঢুকে স্ট্রোম্যান প্রশ্ন করেছিল, তোর দেশ কোথায়?
রইসের কাছে প্রশ্নটি অস্বাভাবিক মনে হয়নি। কারণ তার দোকানে শ্বেতাঙ্গরা এলে কেউ কেউ এ রকম প্রশ্ন করতেন। মাত্র এক দিন আগেও কয়েকজন বন্ধুপ্রতিম শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসার দোকানে এসে ইসলাম ও ভূগোল বিষয়ে তার সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। স্ট্রোম্যানের ন্যাড়া মাথা এবং ঊর্ধ্বাংশ ছিল নিরাবরণ। তার গায়ে ছিল উল্কি আকা।
স্ট্রোম্যানকে তার বন্দুকের টৃগার চাপতে দেখে রইস দ্রুত তার ক্যাশ বক্সের শুধু দেড় শ ডলার রেখে বাদবাকি সব ডলার দিতে চান। মৃত্যুদূত স্ট্রোম্যান আর কোনো কথা না বলে রইসের আরো কাছে এগিয়ে আসে এবং তার মুখে গুলি করে।
আহত রইসের পূর্ণচিকিৎসার সামর্থ্য ছিল না। ঘটনাটি জানতে পারে বাংলাদেশে তার জন্য অপেক্ষমাণ বাগদত্তা তরুণীটি। কিন্তু তার পক্ষে আর অপেক্ষা করা সম্ভব হয় না। রইসের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়।
প্রবল আত্মসম্মান ও দৃঢ় সংকল্পবোধ
বাংলাদেশে রইস হারান তার ভালোবাসার মেয়েটিকে। আমেরিকায় রইস হারান তার চাকরি এবং এক চোখের দৃষ্টি শক্তি। তার মেডিকাল বিল হতে থাকে বিশাল। ইতিমধ্যে নাইন-ইলেভেনে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য যে ফান্ড সরকার প্রতিষ্ঠা করেছিল, সেই তহবিল থেকে তিনি কিছু পাবেন না এই দুঃসংবাদটি রেড ক্রস তাকে দেয়। তবে রেড ক্রস বলে, তাকে ফৃ খাবার সাপ্লাইয়ের ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু রইসের আত্মসম্মানবোধ ছিল প্রবল। তিনি সেই সাহায্য নিতে চান না।
আহত হবার পরে পথম দিকে রইস পথে বেরোতে ভয় পেতেন। সারা দিন নিজের রুমে থাকতেন এবং নিয়মিত নামাজ পড়তেন। তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন সব প্রতিকূলতা তাকে কাটিয়ে উঠতেই হবে। তাই শারীরিকভাবে কিছুটা সুস্থ এবং মানসিকভাবে কিছুটা সবল হবার পরে রইস সিদ্ধান্ত নিলেন কোনো রেস্টুরেন্টে কাজ করার। কারণ এভাবেই অপরিচিত মানুষ সম্পর্কে তার ভয় কাটানো সম্ভব ছিল। ২০০৩-এ অলিভ গার্ডেন নামে একটি রেস্টুরেন্টে ওয়েটারের চাকরি শুরু করেন রইস।
এর পরে এক বন্ধুসুলভ ডাক্তারের সাহায্যে এই ধরনের ক্রাইমে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারি তহবিল থেকে তিনি কিছু টাকা পান। এই টাকায় রইস অধিকাংশ মেডিকাল ও অন্যান্য ঋণ শোধ করতে পারেন। তিনি বাকি টাকায় একটি ব্যাংক একাউন্ট খোলেন, একটি ফ্যাট ভাড়া নেন এবং একটি গাড়ি কিস্তিতে কিনতে পারেন। এ জন্য একটি ক্রেডিট কার্ড কম্পানি রইসকে ক্রেডিট কার্ড দেয়।
হজে নতুন উপলব্ধি
কিন্তু রইস তো আমেরিকায় আইটিতে পড়াশোনা করতে চেয়েছিলেন। তিনি সেদিকেও এগিয়ে যান। স্থানীয় মসজিদে পরিচয় হওয়ার সুবাদে এক মুসলিমের সুপারিশে ২০০৯-এ রইস একটি কম্পিউটার স্কুলে ফৃ পড়াশোনার সুযোগ পান। সেখানে তার টিচারের সহযোগিতায় রেস্টুরেন্ট ভালোভাবে চালানোর জন্য একটি সফটওয়্যার ডিজাইন করেন। রেস্টুরেন্টে কাজ করার পাশাপাশি এই সফটওয়্যার বিক্রির কাজ তিনি শুরু করেন। একপর্যায়ে রইসের হঠাৎ মনে পড়ে মরণাপন্ন অবস্থায় যখন ছিলেন তখন সৃষ্টিকর্তার কাছে তিনি ওয়াদা করেছিলেন হজব্রত পালন করবেন।
রইসের পিতা ইতিমধ্যে তিনবার হজে গিয়েছিলেন। রইস স্থির করেন এবার তিনি হজে তার মাকে নিয়ে যাবেন. যিনি আগে কখনো হজ করেন নি। ইসলাম ধর্মের মূল পাচটি স্তম্ভের অন্যতম হজ পালন করার গভীর ইচ্ছা ছিল তার মা-র।
২০০৯-এ রইস ও তার মা এক মাস মক্কায় ছিলেন। তারা হজ করেন এবং মিশে যান সব পুণ্যার্থীর সাথে।
রইস ফিরে আসেন ডালাস, টেক্সাসে। তবে ভিন্ন মানুষ রূপে।
পরে রইস বুঝিয়ে বলেন, “হজে গিয়ে আমি অনুভব করলাম, আমি আর নিজের সম্পর্কে শংকিত নই। বরং আমি ভাবতে থাকলাম মার্ক স্ট্রোম্যান সম্পর্কে, যে নয় বছর ধরে জেলখানায় তার মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছিল। একত্রিশ বছর বয়সী এবং চার সন্তানের জনক এই লোকটি তো আমারই মতো আরেকজন মানুষ। সে একটা ভয়ংকর ভুল করেছিল। সে বিষয়ে কোনো তর্ক নেই। কিন্তু কোরআন খুব স্পষ্টভাবে বলছে, আমার মতো একটা পরিস্থিতিতে, আপনি ইচ্ছা করলে ন্যায়বিচার চাইতে পারেন, অথবা আপনি আর্থিক ক্ষতিপূরণ চাইতে পারেন, অথবা আপনি ক্ষমা করে দিতে পারেন। আর আপনি যদি তাকে ক্ষমা করে দেন তাহলে তার মানে হচ্ছে, সে ক্ষমাপ্রাপ্ত এবং জেলের মধ্যে তার সময় কাটানোর প্রয়োজন নেই। আমি তাকে ক্ষমা করে দিলে তার শাস্তি ভোগের কোনো কারণ থাকতে পারে না। এটাই ইসলামি শিক্ষা। সবচেয়ে বেশি যে যন্ত্রণা আমি পেতে পারতামÑ সেই যন্ত্রণা আমি পেয়েছি। ওয়াকার আর বাসুদেবের বৌরা তাদের স্বামীকে হারিয়েছেন। তাদের ছয়টি ছেলেমেয়ে কষ্ট পেয়েছে। কিন্তু এখন মার্ক স্ট্রোম্যানকে হত্যা করে আমরা কি পাবো? কিছুই না। সুতরাং তাকে বাচাতেই হবে।”
মৃত্যুদণ্ডবিরোধী আন্দোলনের সূচনা
কিন্তু রইসের এই অভিযান ছিল প্রায় দুঃসাধ্য। তিনি বিনয়ী এবং কিছুটা মুখচোরা। তবে তার মুখে লেগে থাকে একটি আকর্ষণীয় লাজুক হাসি।
তিনি মানুষের মন জয় করতে কাজে লেগে গেলেন। ইন্টারনেটে ঘাটাঘাটি করে রিসার্চ করতে থাকলেন। আন্দোলনের জন্য বিভিন্ন ফান্ড রেইজিং বা তহবিল সংগ্রহের কর্মসূচি শুরু করলেন। তিনি সারা দেশে একটা নেটওয়ার্ক তৈরিতে মনোযোগী হলেন।
তার এই নতুন চলার পথে হঠাৎ তার পরিচয় হলো একটি কৃশ্চিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের, সাদার্ন মেথডিস্ট ইউনিভার্সিটির, প্রফেসর রিক হ্যালপারিনের সঙ্গে। প্রফেসর হ্যালপারিন বহু বছর যাবৎ লড়াই করছিলেন টেক্সাসে মৃত্যুদণ্ড বন্ধ করার লক্ষ্যে। গত এক যুগে টেক্সাসের সহিংস ক্রাইম কমে গেলেও আমেরিকার এই অঙ্গরাজ্যে বছরে গড়ে ২৫টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডের আধুনিক ইতিহাসে এটাই বছরওয়ারি সর্বোচ্চ সংখ্যা।
এমনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইউএসএ-র সাবেক চেয়ারম্যান হ্যালপারিনের সাহায্যে রইসের হজের প্রায় দেড় বছর পরে ১৬ মে ২০১১-তে ডালাস মর্নিং নিউজ পত্রিকায় একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয় যার শিরোনাম ছিল : “বাংলাদেশ ইমিগ্রান্ট সিকস স্টে অফ একজিকিউশন ফর ম্যান হু শট হিম ইন ৯/১১ রিভেঞ্জ এটাক” (Bangladesh immigrant seeks stay of execution for man who shot him in 9/11 revenge attack, ৯/১১ প্রতিশোধ হামলায় গুলিবিদ্ধ বাংলাদেশী ইমিগ্রান্ট চায় হামলাকারীর মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করতে)।
এই রিপোর্টের কয়েক দিন পরে ডালাস মর্নিং নিউজে প্রকাশিত আরেকটি রিপোর্টে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে স্ট্রোম্যানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার আহ্বান জানান রইস। এই রিপোর্টে রইস বলেন, “আমি স্ট্রোম্যানকে কয়েক বছর আগেই ক্ষমা করে দিয়েছি। আমি বিশ্বাস করি সে ছিল অজ্ঞ। ভালো ও মন্দের মধ্যে তফাৎটা সে বুঝতে পারত না। যদি সে বুঝত তাহলে এমন কাজ করত না।... আমি বিশ্বাস করি স্ট্রোম্যানকে বাচিয়ে রাখলে, সময়ের বিবর্তনে এবং তার ম্যাচিওরিটিতে সে বুঝবে কোনো পরিস্থিতিতেই ঘৃণা শান্তিপূর্ণ সমাধান দিতে পারে না। যদি সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে এই ঘটনার সুপ্রভাবে স্ট্রোম্যান হয়তো ক্রাইম ও পাপকে ঘৃণার একজন মুখপাত্র হতে পারে।”
ইন্টারন্যাশনাল সেলিবৃটি
কিন্তু সমস্যা ছিল একটাই।
ঠিক দুই মাস পরেই ২০ জুলাই ২০১১-তে স্ট্রোম্যানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবার শেডিউল ছিল।
ডালাস মর্নিং নিউজে পরপর দুটি রিপোর্টে রইসের ক্ষমার বাণী প্রকাশিত হবার পর আন্তর্জাতিকভাবে তাকে নিয়ে সাড়া পড়ে যায়।
আমেরিকা ও ইওরোপে এই ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন টিভি রিপোর্ট, ইন্টারভিউ প্রকাশিত হয়। ব্লগে তার সম্পর্কে মিলিয়ন কথা লেখা হয়।
বাংলাদেশের রইস উদ্দিন ভূইয়া হয়ে যান ইন্টারন্যাশনাল সেলিবৃটি!
কিন্তু এই নতুন স্টেটাসে রইস আত্মপ্রসাদে আচ্ছন্ন হননি।
মৃত্যুমুখী রইস পুনর্জন্মে হয়েছিলেন জীবনমুখী।
তিনি দুশ্চিন্তায় ছিলেন কিভাবে স্ট্রোম্যানের জীবন বাচানো সম্ভব?
সময় যে ফুরিয়ে যাচ্ছিল।
কোয়ার্টজ ঘড়ির কাটা নিঃশব্দে ঘুরছিল।
স্ট্রোম্যানের প্রাণদণ্ড কার্যকর করার দিন ক্রমেই এগিয়ে আসছিল।
রইস দৌড়াদৌড়ি করছিলেন স্ট্রোম্যানের উকিলদের কাছে। রাষ্ট্রীয় কর্মচারীদের কাছে। এমনেস্টির কর্মীদের কাছে।
কেউ তাকে আইনের শাসনের কথা শোনাচ্ছিলেন। কেউ তাকে লাল ফিতার দৌরাত্ম্যের কথা বলছিলেন।
শেষ পর্যন্ত খুররম ওয়াহিদ নামে একজন এটর্নিকে তিনি খুজে পেলেন যিনি সর্বাত্মক সাহায্যে এগিয়ে আসতে রাজি হলেন। সাধারণত আমেরিকায় উকিলরা এটর্নি নামে পরিচিত।
ওয়াহিদ আর রইস যোগাযোগ করলেন মৃত্যুদণ্ডবিরোধী সংস্থা গ্রেইসের (Grace) সঙ্গে। তাদের সহায়তা ও উপদেশে ভিকটিম-এর (এক্ষেত্রে ভিকটিম ছিলেন রইস) অধিকারের ভিত্তিতে ওয়াহিদ আদালতে মামলা চালিয়ে যেতে থাকলেন।
তারা চাচ্ছিলেন টেক্সাসের গভর্নর রিক পেরি-র সাথে দেখা করে সব কিছু বুঝিয়ে বলতে। সেটা যদি সম্ভব না হয়, তাহলে অন্তত স্ট্রোম্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সাক্ষাতের অনুমতি পেতে। একবার তার সঙ্গে কথা বলতে। কিন্তু এসব চেষ্টা বৃথা হয়।
শেষ সময়ে ফোনে কথা
হান্টসভিলে জেলে থেকে স্ট্রোম্যান সংবাদগুলো পাচ্ছিল।
শেষ মুহূর্তে রইস চেষ্টা করতে থাকেন সরাসরি হান্টসভিল জেলে স্ট্রোম্যানের সঙ্গে কথা বলতে।
রইস জেনেছিলেন আইলান জিভ নামে একজন ইসরেলি ডকুমেন্টারি মুভিমেকার স্ট্রোম্যান বিষয়ে দীর্ঘকাল যাবৎ রিসার্চ করেছেন এবং স্ট্রোম্যানের অন্তিম মুহূর্তে তিনি জেলখানায় তার সঙ্গে কথা বলার অনুমতি পেয়েছেন।
রইস ও তার টিম দ্রুত সংগ্রহ করেন জিভের মোবাইল ফোন নাম্বার।
রইস ফোন করেন জিভকে।
জিভ তাকে জানালেন, স্ট্রোম্যান তার বর্ণবাদী বিশ্বাস ও কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতাপ প্রকাশ করেছে। বিশেষত রইস যে নিঃস্বার্থপরভাবে তাকে বাচানোর চেষ্টা করে চলেছে তাতে সে আবেগ আপ্লুত হয়েছে।
জিভ বলেন তিনি চেষ্টা করছেন, স্ট্রোম্যানের সঙ্গে স্পিকার ফোনে রইসের কথা বলিয়ে দিতে।
রইস ও তার উদগ্রীব এটর্নিরা অপেক্ষা করতে থাকেন।
তাদের দুজনার মধ্যে কথা হয়।
জিভ সেটা টেপ রেকর্ড করেন।
তাদের কথোপকথনের কিছু অংশ :
দক্ষিণ আমেরিকার আঞ্চলিক টানে স্ট্রোম্যান বলেন, “কেমন আছেন? আপনি আমার জন্য অনেক করেছেন। থ্যাংক ইউ। আপনি আমাকে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছেন। আশার আলো দেখিয়েছেন। মন থেকে বলছি। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, মিস্টার।”
রইস উত্তর দেন, “মার্ক, আপনি জেনে রাখেন, আমি গডের কাছে প্রার্থনা করে চলেছি। কারণ তিনি সবচেয়ে মহান। সবচেয়ে ক্ষমাপরায়ণ। তাকে বলেছি, আমি আপনাকে ক্ষমা করে দিয়েছি এবং আমি আপনাকে ঘৃণা করি না। আমি কখনোই আপনাকে ঘৃণা করি নি...’’
“রইস, ওরা আমাকে ফোন ছেড়ে দিতে বলছে। আমি চেষ্টা করবো আবার ফোন করতে।”
ওদের লাইন কেটে যায়।
রইস খুব হতাশ হয়ে বলেন, “তাকে যে কেন আমি ক্ষমা করেছিলাম, সেটা বলার সুযোগ আমি পেলাম না। কিন্তু সেটা ছিল আসল কথা। সেই আসল কথাটা বলার চান্স আমি পেলাম না। এমনটা তো আমি চাই নি।”
রাত ৮:৫৩ মিনিটে বিষাক্ত ইনজেকশনে স্ট্রোম্যানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
ঘৃণামুক্ত পৃথিবীর আন্দোলন
স্ট্রোম্যানের মৃত্যুর পর আরো বেশি মৃত্যুদণ্ডবিরোধী আন্দোলনের কাজে ঝাপিয়ে পড়েন রইস। আন্দোলনের অংশ রূপে ওয়ার্র্ল্ড উইদাউট হেইট (World Without Hate, ঘৃণামুক্ত পৃথিবী) নামে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। প্রায় প্রতি উইকএন্ডে (সাপ্তাহিক ছুটির দুই দিন, শনি ও রবিবারে) রইস প্লেনে আমেরিকার এক শহর থেকে আরেক শহরে ভাষণ দিতে যেতে থাকেন। পাশাপাশি তিনি স্ট্রোম্যানের পরিবারকেও সাহায্য করতে থাকেন। অন্য দিকে নিহত ওয়াকার ও বাসুদেবের পরিবারকেও সাহায্য করতে থাকেন। হাজার হাজার ই-মেইলের উত্তর দেওয়া, মিডিয়া রিপোর্টারদের সঙ্গে কথা বলা, প্রভৃতিতে রইস ব্যস্ত থাকেন।
রইসউদ্দিন ভূইয়া প্রতিষ্ঠিত ওয়েবসাইট :
World Without Hate.org
(http://worldwithouthate.org)
স্ট্রোম্যানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবার দুই মাস পরে একটি ইন্টারভিউতে রইস বলেন, “জীবনের চলার পথে মার্ক স্ট্রোম্যানের মতো অনেকেই আছে। আর আছে প্রচণ্ড ঘৃণাÑ এই দেশে এবং বিশ্বজুড়ে অন্য দেশেও। এটা হতে পারে যে আমার গায়ের রং, অথবা আমার ধর্ম, অথবা আমার উচ্চারণ আপনি পছন্দ করেন না। কিন্তু আমি নিরুপায়। আমি তো জন্মসূত্রে ওসব পেয়েছি। আমি তো ওসব বদলাতে পারবো না। তবে প্রতিটি মানুষেরই বোঝা উচিত কোনো ভিন্নতার কারণে পারস্পরিক ঘৃণা করা উচিত নয়। যদি আপনি সত্যিই ঘৃণা করতে চান, তাহলে ওই মনমানসিকতাকে ঘৃণা করুন।”
নিয়তির টানে
রইস এখন আইটি জবে লক্ষাধিক ডলার বেতন পাচ্ছেন। তিনি দ্বন্দ্বে পড়েছেন। এই ভালো চাকরিটা ছেড়ে ওয়ার্ল্ড উইদাউট হেইট বা ঘৃণামুক্ত পৃথিবীর আন্দোলনে ফুলটাইম কাজ করবেন কি না সেটা ভাবছেন। তিনি বলেন, “আমার নিয়তি আমাকে টানছে ঘৃণামুক্ত পৃথিবীর দিকে।”
রইস এই মুহূর্তে জানেন না নিয়তি তাকে শেষ পর্যন্ত কোথায় টেনে নিয়ে যাবে।
ক্যাথরিন বিগেলো একজন খ্যাতনামা ও সফল মুভিমেকার। রইসের জীবনীনির্ভর মুভি, দি ট্রু আমেরিকান, যদি বক্স অফিস হিট হয় তাহলে তার ঘৃণামুক্ত পৃথিবীর আন্দোলন বেগবান হবে।
বিশ্বে মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা কমে আসবে।
হয়তো বাংলাদেশেও মৃত্যুদণ্ড রহিত হয়ে যাবে।
আমেরিকা প্রবাসী এক বাংলাদেশীর নিয়তি বাংলাদেশকে মানবিকতা ও সভ্যতার দিকে টেনে নিয়ে যাবে।
১৩ অক্টোবর ২০১৪
facebook.com/ShafikRehmanPresents
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1452)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
-
▼
2014
(9799)
-
▼
October
(1240)
-
▼
Oct 14
(40)
- হয়ে উঠুন গ্রাফিক্স ডিজাইনার by সোহানুর রহমান অনন্ত
- লতিফ সিদ্দিকীকে অপসারণ -আইনগত ব্যবস্থা নেয়া জরুরি
- এমপির ক্ষমতার দাপট -দেশ কি নৈরাজ্যের কবলে পড়েছে
- রঙের ঝলক- ঘরে বসে শপিং by নাজমুল হোসেন
- আইএসের হাতে ইরাকের হিত শহরের পতন -যুক্তরাষ্ট্রকে ঘ...
- টাইমসের প্রভাবশালী টিন তালিকায় মালালা, ওবামার মেয়েরা
- শুক্রবার পিয়াস করিমের দাফন- লাশ শহীদ মিনারে নিতে আ...
- ভারতেই থাকতে চান লতিফ সিদ্দিকী
- শিক্ষাব্যবস্থার ফাউন্ডেশনেই গলদ by সাহস রতন
- ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতির পক্ষে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট -জ...
- বৈশ্বিক অর্থনীতিতে গতি আনতে সংস্কারের তাগিদ -আইএমএ...
- চট্টগ্রাম বন্দর: আমদানি পণ্য খালাস করতেই ১১ দিন ৯ ...
- জিপিএ-৫ দিয়ে হাজার হাজার ‘মাকাল ফল’ -গোলটেবিল আলো...
- শিক্ষার মান আগে ছিলই না: শিক্ষামন্ত্রী
- তৃতীয় দফায় ইভো মোরালেস! -রাষ্ট্রপ্রধান হওয়া এক ...
- আবার আলোচনায় দীপিকা পাডুকোন
- টেক্সাসে খুন ও ক্ষমা এবং নিয়তির টানে একজন বাংলাদেশ...
- বাংলাদেশে ধর্মবিশ্বাস ও রাজনীতি by এরশাদ মজুমদার
- স্মরণ- প্রফেসর আর আই চৌধুরী by মীযানুল করীম
- ধর্মঘটে যাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা
- যৌন হয়রানির প্রতিবাদে হ্যাশট্যাগ #সেক্সুয়ালহেরেসমেন্ট
- মুখোশধারীদের হামলা
- মোদির প্রশংসা করে বাদ পড়লেন শশী থারুর
- তৃতীয় দফায় মোরালেস!
- শিশুসন্তানকে হত্যার নৃশংস বর্ণনা সৎমায়ের by নুরুজ্...
- ‘আলহাজ কমরেড’
- ফের কমলো পোশাক রপ্তানি
- বিক্রি হওয়া এক বালিকার কাহিনী
- আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ by মিজানুর রহমান খান
- ১৩ বছরের বালিকার ভাষ্যে ইবোলা by বিন্টু সানোহ
- পিঁপড়াপুরাণ by সৈয়দ আবুল মকসুদ
- ভর্তি পরীক্ষা ও মেধা যাচাই by মো. শফিকুল ইসলাম
- পানি বাণিজ্যিকীকরণ ও সর্বজনের বিপদ by আনু মুহাম্মদ
- বিদেশি ঋণ- শঙ্কা ও সম্ভাবনা by ফারুক মঈনউদ্দীন
- টেকনাফে সাড়ে তিন কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার
- কাতারের জিহাদ by ব্রহ্ম চেলানি
- যারা ‘নায়ক’ হতে চেয়েছিল by বিশ্বজিৎ চৌধুরী
- তিনজনই আশ্রয় চেয়েছিলেন ভারতে by আহমেদ জামাল
- ড. পিয়াস করিমের ইন্তিকাল -সাহসী কণ্ঠস্বরের বিদায়
- দম্ভ আর বিত্তে পতন by দীন ইসলাম
-
▼
Oct 14
(40)
-
▼
October
(1240)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
ইরান
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
কালবেলা
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
মুসলিম
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
জাতিসংঘ
রাশিয়া
মুক্তিযুদ্ধ
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সংখ্যালঘু
সৈয়দ আবুল মকসুদ
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
ইউক্রেন
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
হিন্দু
রুদ্র মিজান
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
স্বাস্থ্য
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
জ্যোতির্বিজ্ঞান
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
শুভ্র দেব
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
জীবনযাপন
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
তথ্য প্রযুক্তি
অস্ট্রেলিয়া
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
মসজিদ
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ইয়েমেন
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
Exclusive
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
জনস্বাস্থ্য
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
জোহরান মামদানি
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
ইহুদি
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
স্পেন
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
বেলজিয়াম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
জর্দান
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
আহমেদ মুনির
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment