পেছনে ফিরে দেখা বলিউডের স্বপ্নকন্যা

বলিউডের 'স্বপ্নকন্যা' উপাধি হেমা মালিনী এমনি এমনি পাননি। '৪৮ সালের ১৬ অক্টোবর ভারতের তামিলনাড়ুতে জন্ম নেয়া এই ভারতনাট্যম কন্যা রাজ কাপুর পরিচালিত 'স্বপ্ন কা সওদাগর' ছবিতে দুরন্ত অভিনয় করে দর্শকের মানসকন্যা হয়ে উঠেন।
সেই সময়ের সেক্সসিম্বল নায়িকা হিসেবে তার খ্যাতি তখন তুঙ্গে। বিশেষ করে 'ড্রিম গার্ল' ছবিতে সমুদ্র সৈকতে বিকিনি পরে হেমার অভিনয়ের সেই দৃশ্য আজও অনেকের বুকে কাঁপন তোলে। 'জনি মেরা নাম', 'সীতা আউর গীতা' , 'শোলে' ইত্যাদি ছবিতে অভিনয় করে খুব অল্প সময়ে তিনি হিন্দি ছবির দর্শকদের মনে জায়গা করে নেন। '৭৩ সালে 'সীতা আউর গীতা' ছবির দুর্দানত্ম অভিনয় হেমাকে পাইয়ে দেয় ফিল্মফেয়ারের বিচারে সেরা অভিনেত্রীর খেতাব। সঞ্জীব কুমার, জিতেন্দ্রর মতো বলিউড তারকাদের বুকে আগুন লাগিয়ে '৮০ সালে ধর্মেন্দ্রকেই জীবনসঙ্গীনি করেন এই অভিনেত্রী। তখন হয়ত বহু হেমা প্রেমিকের বুকেও বিরহের আগুন জ্বলেছিল দাউ দাই করে।
বাসত্মব জীবনের 'ধর্মেন্দ্র-হেমা মালিনী' জুটি সে সময়ের রূপালী পর্দারও সবচেয়ে আলোচিত জুটি। তাদের ছবি মানেই ছিল হিট! প্রতিটি হলে হাউজফুল বুকিং ছিল। দর্শকদের মধ্যে প্রতিযোগীতাও চলত কে আগে দেখবে হেমা মালিনীর ছবি। এই জুটি অভিনীত 'রাজা জানি', 'প্রতিজ্ঞা', 'পান্ডেবাজ', 'ড্রিম গার্ল' ও 'আজাদ' ছবি ছিল অত্যনত্ম ব্যবসাসফল। নিজের কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ 'ফিল্মফেয়ার লাইফটাইম এ্যাচিভমেন্ট এ্যাওয়ার্ড '০০' অর্জন করেন তিনি।
হালের জনপ্রিয় নায়িকা এশা দেওল হেমা মালিনীর সনত্মান। তবে আরেক মেয়ে অহনা দেওল এখনও বলিউডে পা রাখেনি। '০৪ সালে হেমা ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) নাম লিখিয়ে সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত হন। ডানপন্থী এই দলের ব্যানারে হেমা রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হন। তবে প্রগতিশীল সমর্থকদের সমালোচনা তাকে সহ্য করতে হয়েছে। ষাটোর্ধ হেমা এখনও বলিউডে কাজ করছেন।