Monday, February 10, 2020
প্রেমে-অপ্রেমে ইসমত-মান্টো by মহুয়া ভট্টাচার্য
প্রেমে-অপ্রেমে ইসমত-মান্টো by মহুয়া ভট্টাচার্য

ইসমত
একদিন মান্টোকে বলছেন-‘ও মান্টো সাহেব! একটা বেশ গরমাগরম প্রেমের গল্প
শোনান না! যা আপনার জীবনে ঘটেছিলো।’ মান্টো বলতে লাগলেন- ‘পূর্ব পুরুষের
দেশ কাশ্মীর গেলাম টিবি রোগ সারানোর জন্য হাওয়া বদল করতে। কাশ্মীর
উপত্যাকায় রোজ কম্বল গায়ে রোদ্দুরে গিয়ে বসে থাকতাম, জ্বর আসতো বলে। একটা
বাচ্চা মেয়ে অদূরে ভেড়া চড়াতো। আমি খালি তার কাফতানের ফাঁকে কনুইয়ের অংশ
দেখতে পেতাম। আমার সঙ্গে চোখে চোখ পড়লে হেসে পালিয়ে যেতো। একদিন সাহস করে
কাছে এলো। হাতটা পেছনে মুঠো করে রাখা। আমি জোর করে হাত থেকে কেড়ে নিয়ে দেখি
একটা মিছরির ডেলা-আমার জন্য এনেছে।’
গল্প শেষ। মান্টো চুপ।
ইসমত বললেন- ‘আরে মেয়েটার কি হলো ?’
মান্টো বললেন, ‘ও, আমিতো শরীর সেরে যাওয়ায় চলে এলাম। আর মিছরির ডেলা? ও ড্রয়ারে রাখা ছিলো। একদিন দেখি পিঁপড়ে খেয়ে নিয়েছে।’
ইসমত বললেন- ‘ধ্যাত্তেরি! এই আপনার গরমাগরম প্রেম!? এমন ভিজে ন্যাতা ন্যাতা প্রেম জীবনে শুনিনি। বড় বাহাদূর! প্রেম করতে গিয়ে কনুই দেখে ফিরে এলো! হাতে মিছরির ডেলা! ছোঃ!’
মান্টো রেগে কাঁই! বললেন- ‘কীরকম হলে খুশি হতেন? এই বাচ্চা মেয়েটিকে অবৈধ সন্তানের মা বানিয়ে এলে?’
এই হলেন মান্টো! যিনি এক নির্জন পাহাড়ি উপত্যকায় একটি মেয়ের কনুইটুকু দেখার জন্য সারাজীবন অপেক্ষারত থাকতে পারতেন। তার বিরুদ্ধে সেই চল্লিশের দশকে অশ্লীল লেখার দায়ে মামলা হয়েছিল। অথচ মান্টো ছিলেন বাস্তবতার কাছে দায়বদ্ধ এক লেখক, অশ্লীলতা ছিল কেবল তার শব্দের গাঁথুনিতে, তিনি ছিলেন সমাজের অসঙ্গতি প্রকাশে বদ্ধপরিকর এক অসাধারণ লেখক। তিনি তাঁর যুগের চাইতে এগিয়ে ছিলেন বহুগুণ।
আর ইসমত? সিভিল সার্ভেন্ট পিতা, প্রতিষ্ঠিত লেখক মির্জা আজিম বেগ চুঘতাই এর বোন আর চলচ্চিত্র পরিচালক স্বামী শহীদ লতিফের স্ত্রী ইসমত। একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পারিবারিক বলয়ে জীবন যাপন করেও নিজের লেখায় তুলে এনেছিলেন সমকামীতা, যৌনতা। এতে তাঁকেও পোহাতে হয় মামলা। হতে হয়েছে বিতর্কিত। আর নিবিড় প্রেমে জড়িয়েছিলেন আরেক বিতর্কিত, চাল-চুলোহীন, সুরায় আসক্ত?, ব্রীজপ্রেমী মান্টোর সাথে।
উর্দূ সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখক জুটি ইসমত চুঘতাই এবং সাদাত হাসান মান্টো। আজকাল আধুনিক সাহিত্য জগতে লেখক-লেখিকাদের যেমন একটি ভক্তকুল, ফ্যানক্লাব গড়ে ওঠে, ইসমত-মান্টোরও তেমনি একটি বিস্তৃত পরিসরের ভক্তকুল ছিলো। তাদের ভক্তরা তাদের লেখা, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে চর্চা করত। তাঁরা দুজনেই দীর্ঘদিনের বিবাহিত জীবনে আবদ্ধ থাকা সত্ত্বেও, তাঁদের প্রেম ছিলো প্রকাশ্য। ভক্তকুল আশা করতেন ইসমত- মান্টোর প্রেমের পরিণতির। উর্দু সাহিত্যের কালজয়ী এই দুজন সাহিত্যিকের সৃষ্টি সম্পর্কে জানা নেই এমন পাঠক কমই আছে। তবে তাদের মধ্যে পারস্পারিক মতানৈক্য, দ্বন্দ্ব সংকুল ঈর্ষা কাতরতা- সবকিছুর সাথেই সমান্তরালভাবে চলত প্রেম। এ এক রহস্যময় সম্পর্কের গাঁথুনি। দুজনের মতাদর্শের, যাপিত জীবনের হাজারও পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও তাদের দুজনের অখন্ড মিল ছিলো উচ্চকন্ঠে প্রতিবাদ, আবেগহীন বাস্তবতার চিত্র পট অঙ্কন আর নান্দনিক দৃষ্টিতে যৌনতার উপস্থাপনে। দেশ বিভাগের সময়টাতে এ-বিষয় নিয়ে লেখা, কোন লেখকের পক্ষে তো বিপদজনক ছিলোই- একজন নারী লেখকের জন্য তো আরো বেশি বৈপ্লবিক।
তাঁরা দুজনই লেখার সময় নারী না পুরুষ, কোন পরিবারে জন্ম এসব নিয়ে মাথা ঘামাতেন না। তাঁরা দায়বদ্ধ ছিলেন বাস্তবতা ও শিল্পের প্রতি। তেমনি পরস্পরের প্রেমের সম্পর্কেও তাঁরা ছিলেন উদার। মামলার শুনানির জন্য লাহোর গিয়ে দুজনে ঘুরে বেড়িয়েছেন অবাধ। নিজেদের প্রেমকে তাদের নানা সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেছেন অকপট।

ইসমত চুঘতাইকে বলা হত উর্দু সাহিত্যের ‘চেঙ্গিস খান’। লেখক হিসেবে তিনি সমসাময়িক নারী লেখক তো বটেই, পুরুষ লেখকদেরও টেক্কা দিতে সক্ষম হন। তিনি ছিলেন সেই সময়কার উর্দু সাহিত্যের কিংবদন্তি মান্টোর প্রায় সমপর্যায়ের। ফলে অহর্নিশ প্রতিদ্বন্দ্বিতার তুমুল ঝড় উঠতো দুজনের মধ্যে। ‘লিহাফ’ বা ‘লেপ’ ইসমতের বহুল আলোচিত সমালোচিত গল্প। এই গল্পের জন্য তাকে আদালত অব্দি যেতে হয়েছে। তৎকালীন সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের নারীর জন্য এযে কতখানি বিপদসঙ্কুল, দুর্গম পথ ছিল তা বলাবাহুল্য। এমনকি এ সময়টাতে তিনি তাঁর আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত চলচ্চিত্র পরিচালক স্বামী শহীদ লতিফের নির্ভরতাও পাননি। তিনি তাঁর বিভিন্ন সাক্ষাৎকারেও বলেছেন, সে সময় তাঁর স্বামী আদালতের বিষয়টি আপোষে নিষ্পত্তির প্ররোচনা দিতেন। পরবর্তী সময়ে এই ‘লিহাফ’ গল্পেকে কেন্দ্র করে বিতর্কের কারণে তাঁর বিবাহিত জীবনেও তালাকের সংশয় দেখা দিয়েছিল। ইসমত তখন দুই কন্যা সন্তানের জননী এবং সর্বদা কুন্ঠিত থাকতেন লতিফের তালাক প্রদানের আশংকায়। মান্টো ইসমতের সকল নারীসুলভ ভীরুতা নিয়ে চরম ভর্ৎসনা করলেও তিনিই ছিলেন মূলত ইসমতের যোগ্য সহচর। মান্টো পারিবারিক মজলিসে, বন্ধু বান্ধবের সামনে ইসমতকে জেদী, একরোখা আখ্যায়িত করে ইসমতের সামনেই তার চরিত্রের নেতিবাচক দিক নিয়ে পরস্পর প্রচন্ড বাত-বিতন্ডায় লিপ্ত হতেন। এমনও হত তাঁদের ভক্তকুল ভাবত এরপর থেকে হয়তো দুজনকে আর ইহজনমে একসাথে দেখা যাবে না। কিন্তু পরদিন অথবা হপ্তাখানেক পর হয়তো মাঝরাতে ইসমত আইসক্রিম কামড়ে-কামড়ে তুফান বেগে লিখে চলেছেন। সেই সময়ই শব্দ আর ইসমতের মধ্যকার শেলক ছিন্নভিন্ন করে দিয়ে সুরার বোতল হাতে মান্টো উপস্থিত হয়ে যেতেন সস্ত্রীক। তারপর কোনকিছু ধার না ধরে ইসমতের রান্নাঘরে মান্টো তাঁর স্ত্রী আরো কয়েকজন সঙ্গী সাথী জুটিয়ে নিজেরা রুটি গোশত বানিয়ে উদরপূর্তি করে নিতেন! শেষে সুরার বেতলের শেষ ফোঁটাটুকুও গলায় ঢেলে ফের ইসমতের লেখার খাতার দিকে তাকিয়ে তার আঁকাবাঁকা লেখার জন্য যারপরনাই হেনস্তা করে সে রাতের মতো ক্ষান্ত হতেন।

আবার এই মান্টোই ছিলেন ইসমতের লেখার প্রবল অনুরাগী। ইসমতের বিরুদ্ধে মামলা রজু হওয়ার প্রথম থেকে শেষদিন অব্দি তিনি ছিলেন ইসমতের পাশে।
অশ্লীলতার দায়ে দায়ের করা মামলার শুনানিতে উপস্থিত হতে ইসমত চুঘতাই এবং সাদাত মান্টো দুজনেই লাহোর গিয়েছিলেন। সেসময় তাদের জুটি এত জনপ্রিয় ছিল যে, লাহোর আদালতে দলবেঁধে ছাত্র-ছাত্রীরা আসতো তাদের দেখতে। ইসমত ও মান্টোর বন্ধুত্ব ও প্রেমের সম্পর্ক উদার পাঠকের মনে এক ভিন্নতর চিন্তার স্ফুরণ ঘটায়। ইসমতের ‘লিহাফ’ গল্পটি অভিযুক্ত হয় অশ্লীলতার দায়ে, ঠিক ঐ সময়েই মান্টোও অভিযুক্ত হন একই অভিযোগে। যদিও মান্টো পরপর ছয়বার আদালতে অভিযুক্ত হয়েছিলেন তাঁর লেখার জন্য। ইসমতের কোলে তখন তার শিশুকন্যা। এই অবস্থাতেই তাকে মামলা লড়ে যেতে হয়। পরিবার এবং রাষ্ট্রপক্ষও ইসমতকে চাপ দিচ্ছিল মামলাটি আপোষে নিষ্পত্তির কিন্তু তিনি তা করেননি।আর মান্টো? তিনি তাঁর খামখেয়ালি জীবন, অপরিমিত মদ্যপান এবং ফলশ্রুতিতে নিদারুণ দারিদ্র বয়ে চলা জীবনে মামলার খরচ যোগানোর মতো অর্থ যোগাড় করতে পারেননি, পারেননি কোন চৌকস উকিল ধরতে। কিন্তু মৃত্যুর আগ অব্ধি কলম থামেনি তাঁর। এই সময় ইসমত চুঘতাই নিজের মামলা চলাকালে আদালতেও মান্টোকে সমর্থন করে বলেছিলেন, ‘সমাজে বাজে জিনিসের অস্তিত্ব আছে বলেই মান্টো তা লিখছেন।’ সাদাত ইসমতের এই ক্ষুরধার, আপোষহীন চরিত্রকে ভালোবাসতেন। তিনি ইসমতকে দেখতে চাইতেন, ‘যে নারী পুরুষের পাশাপাশি যুদ্ধের মাঠে লড়ে, পাহাড় কাটে আর গল্প লিখতে লিখতে ইসমত চুঘতাই হয়। সেই নারী আবার হাতে মেহেন্দিও পড়ে।’ মান্টো ইসমতকে ভালোবাসতেন। মান্টো লিখেছেন- ‘ইসমতের ক্রোধ শিশুসুলভ। তবে তার কলম এবং মুখ দুটোই ধারালো’ (গাঞ্জে ফরিস্তে)। ইসমতের তীক্ষ্ম নজরে রান্নাঘরের খবরদারি থেকে শুরু করে, স্থির, অবিচল অধ্যাবসায়ে বাচ্চার ফ্রক সেলাই-কোনটাই মান্টোর চোখ এড়াতো না। একি কেবল গল্পের খোঁজে! না! আসলে মান্টোর চোখই ইসমতে মুগ্ধ ছিল। দর্জি হিসেবেও ইসমতের দক্ষতা পাঠককের সামনে মান্টোই এনেছিলেন। নিজের বাচ্চাদের ফ্রক তিনি নিজেই সেলাই করতেন। মান্টো বলতেন, ইসমতের পাতার পর পাতা আঁকাবাঁকা হাতের লেখায় দুএকটা বা তারও বেশি ভুল বানান থাকতেই পারে, কিন্তু বাচ্চার ফ্রক সেলাইয়ে ফোঁড়ের এদিক-ওদিক হয়না কখনো! কোথাও এক ইঞ্চি ঝুল মাপে কমবেশি হচ্ছে না। চারপেয়েতে কনুইয়ে ভর দিয়ে কাত হয়ে বালিশের ওপর কাগজ নিয়ে ইসমত লিখতেন। একহাতে ফাউন্টেনপেন অন্যহাতে আইসক্রিমের ডাঁটি।
ইসমত বরফ খুব পছন্দ করতেন। আইসক্রিম খেতে খেতে তিনি তাঁর বহু গল্প লিখেছেন। শিশুদের মতো চিবিয়ে চিবিয়ে তিনি আইসক্রিম খেতেন। এই সমস্ত বিবরনই মান্টো তাঁর ‘গাঞ্জে ফরিস্তে’ বইটিতে লিখে গিয়েছেন। মান্টো অনেক লিখেছেন ইসমতকে নিয়ে, সে তুলানায় ইসমতের লেখায় ‘মান্টো ভাই’ কিংবা ‘মান্টো সাহাব’ কেই বেশি পাওয়া গেছে। ব্যক্তি মান্টো-যাঁকে ঘিরে ইসমতের প্রেম ও নিবিড় বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল অথবা ইসমত যে মান্টোর সৃষ্টির প্রেরণা ছিলেন, তাঁকে নিয়ে ইসমত খুব কমই লিখেছেন। অথচ নিজে কিন্তু লেখার সময় পেয়েছিলেন মান্টোর চেয়ে বেশি! ইসমতকে জানতে জানতে পাঠক মান্টোকেই ভালোবেসে ফেলবে অবশ্যম্ভাবী। কারণ ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশে মান্টো ছিলেন অবিচল। নিজেকে তিনি পাঠকের সামনে তুলে ধরেছেন অকপট। মান্টো অন্য কারো চিন্তা দ্বারা প্রভাবিত হতে ঘেন্না করে। তার ধারণা যারা তাকে শিক্ষা দিতে যায়, তারা ইডিয়ট ছাড়া আর কিছু নয়। ‘আমি তোমাদের খুব জোর গলায় বলতে পারি যে মান্টো, যার বিরুদ্ধে এত অশ্লীলতার অভিযোগ রয়েছে, আদতে সে আগামাথা ভদ্রলোক। কিন্ত এ-কথাও বলে রাখি এর সঙ্গে যে, সে আসলে নিরন্তর ঝাড়পোছ করে চলেছে নিজেকে।’ এই হল মান্টোর নিজের সম্পর্কে নিজের ব্যাখ্যা! যে মানুষ নিজকে এতটা ভালো চেনে তারপক্ষেই তো সম্ভব অন্যের মন বোঝা। হাতের কাছে পেয়েওছিলেন ইসমতের মত একজনকে। মান্টোতো লিখেইছেন- ইসমতের মধ্যে নারীসত্তা ও পুরুষ প্রকৃতির মধ্যে আজব ধরণের জেদ ও অসম্মতি বিদ্যমান। হয়তো প্রেমে একেবারে হাবুডুবু খাচ্ছে কিন্তু প্রকাশ্যে অনীহা প্রকাশ করে যাচ্ছে। চুমো খাবার জন্য হয়তো প্রাণ তার মাথা কুটে মরছে, কিন্তু চুমোর বদলে সে গালে সুঁচ চালিয়ে দিয়ে তামাশা দেখবে। তার প্রেম খেলাচ্ছলে শুরু হয়ে ক্রমান্বয়ে তা ফল্গুধারা হয়ে পরিণতি প্রাপ্ত হয়। ুপ্রথমদিন দেখা সেই ববছাঁট, চিকনপাড়ের শাড়ি আর আঁটসাট ব্লাউজ পরনের নারীটি, যার নাকি অল্প হাসিতেই গালে টোল পড়ত- মান্টো আজীবন সেই নারীর লাবণ্যময়তাকে অন্তরে ধারণ করেছিলেন। আর ইসমতের কথা তেমন জানিনা, কারণ মান্টো নিজেই তো বলেছেন, ইসমত চুমু খাওয়ার সময়ও গালে সুঁচ ফুটিয়ে মজা দেখার মত গভীরেই লুকিয়ে রাখতেন সমস্ত মনোবাসনা!
ইসমত মান্টোর বিয়ের বিষয়টি ছিল বহুল আলোচিত। ভক্তদের কৌতূহল ছিল মান্টো ইসমতকে বিয়ে করছেন না কেন! আশ্চর্যজনকভাবে এই বিষয়ে দুজনেই ছিলেন উদাসীন। ইসমতকে বিয়ে করা না করা নিয়ে মান্টো একটি সুন্দর উপমা দিয়েছিলেন- ‘ক্লিওপেট্রার নাক যদি এক ইঞ্চির আঠারো ভাগের একভাগ বড় হত, তাহলে তার প্রভাবে নীলনদের ইতিহাসের কি প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করত।’ সংবেদনশীল পাঠক ভক্ত এই কথার অন্তর্নিহিত রস গ্রহণ করতে পারলেও বহু আলোচক সমালোচকের চক্ষুশূল ছিল তাদের এই উদাসীনতা। এক হায়দ্রাবাদী বন্ধুর চিঠির জবাবে মান্টো তাকে একটি উত্তর পাঠিয়েছিলেন। সেখানে তিনি ইসমতকে নিকাহ করা না করা নিয়ে লিখেছিলেন, “Had we thought of getting married, than instead of drowing others in wonder and agitation we ourselves would have been drowned in it. And when we would have come to our sense after the initial shock, than our wonderments and agitation would have changed not in to joy but sorrow. Ismat and Manto nikha and marriage -what a ludicrous idea!” মান্টোকে জানতে জানতে মনে হতেই পারে মান্টো শুধুই সুরাসক্ত, ব্রীজপ্রেমী আর ইসমতের একনিষ্ঠ প্রেমে মজে থাকা এক পুরুষ। আসলে কিন্তু তা নয়! মান্টো ছিলেন উদার স্বামী, প্রেমময় পিতা। তিনি তাঁর স্ত্রীর কাপড় ইস্তিরি করে দিতেন। সে যুগে যখন পুরুষ জল গড়িয়ে খেতে সম্মানহানি ভাবতো মান্টো তখন রান্না করতেন। তিনি তাঁর সৃষ্টিতে ও যাপিত জীবনে আধুনিক ছিলেন। তেমনি ইসমতের সাথেও মান্টোর স্ত্রী সাফিয়ার গভীর সখ্যতা ছিল। সাফিয়া প্রায় ইসমতকে বলতেন, সা’সাহাব (সাদাত সাহেব) এর কথা তিনি বলতে পারবেন না, তবে নিজে ইসমতের প্রেমে মুগ্ধ। আর ইসমত তার স্বভাবজাত ক্ষুরধার জবাবে বলতেন, ‘তোমার বয়েসী মেয়ের বাপেরা অব্দি আমার প্রেমে পড়ে! ’ বম্বে টকিজ-এ ইসমত মান্টো একসাথে বহু কাজ করেছেন। বলা যায় সেই সময়টা তাদের শ্রেষ্ঠ সময় ছিল। ইসমতের প্রতি মান্টোর প্রচ্ছন্ন প্রশ্রয় ছিল সবার চেয়ে বেশি। ইসমতের বড়ভাই মির্জা আজিম বেগ চুঘতাইকে নিয়ে ইসমত একটি গল্প লিখেছিলেন, নাম ‘দোজখী’। কিছু অকাট সত্যকথনের জন্য গল্পটি নিন্দিতও হয়েছিল তখনকার সময়ে। মান্টোর বোন-ইকবাল বলেছিলেন, ‘হতচ্ছাড়ি নিজের মৃত বড়ভাইকেও রেহাই দিলনা।’ মান্টো তখন বলেন,চইকবাল, আমার মৃত্যুর পর এমন একটি গল্প যদি তুমি লিখবে বলে কথা দাও, আমি আজ, এক্ষনি মরতে প্রস্তুত।’
মান্টো ইসমতের প্রথম যে গল্পটি পড়েন, সেটি হল ‘লিহাফ’। যেহেতু তাদের দুজনারই লেখার বিষয় মূলত সমাজের রন্ধ্রে লুকিয়ে থাকা অসংগতি, মান্টোর নজর কাড়ে গল্পটি। মান্টো চাইলেন এই গল্পের লেখকের সাথে আলাপ করতে। দেখা হতেই মান্টো ইসমতকে বললেন, ‘আপনার লেহাপ গল্পটি পড়েছি। গল্পের বর্ণনায় আপনার সংযম অতুলনীয়। কিন্তু আমি ভেবে পাইনা আপনি গল্পের শেষে এই কথাটা কেন লিখলেন যে-“এক ইঞ্চি উপরের দিকে উঠানে লেপের ফাঁকে দিয়ে আমি কি দেখেছি, লক্ষ টাকা দিলেও আমি কাউকে তা বলব না।” ইসমত তখন বললেন,‘কেন এ লাইনটায় অসংগতি কোথায় ?’ মান্টো ফের কিছু বলতে যাবার আগেই ইসমত মান্টোর কথার মর্মার্থ বুঝে ফেলেন, আর লজ্জিত হন। আসলে ইসমত সেই সময়কার সমাজের দৃষ্টিতে অনৈতিক অথচ নিত্য ঘটে যাওয়া সত্যের বিবরণ তার লেখনীতে প্রকাশ করতেন নানা উপমায়। যৌনতা, সমকামিতা, নারীর প্রতি পুরুষের বৈষম্যমূলক আচরণ সবই তুলে ধরেছেন তার গল্পে একটি সংযত ভাষাশৈলীর আড়ালে। কিন্তু মান্টোর লেখার ধাঁচ ছিল তাঁর মুখের মতই আড়হীন। তাঁর কলম ছিল উলঙ্গ। হিন্দুস্থানে নানা চরাই-উৎরাই পেড়িয়ে ইসমত শক্তপোক্ত স্থান দখল করে নিলেন বটে, মান্টোর তা হলো না। দেশবিভাগের পর ইসমত হিন্দুস্থানে রয়ে গেলেন, মান্টো তার বন্ধুদের আপত্তি সত্ত্বে চলে যান লাহোর। তিনি কেন যে এতটা বেতাব ছিলেন লাহোর যাবার জন্য তা রহস্যময়। অথচ তখন বম্বে ফিল্ম ইন্ড্রাস্টিতে মান্টোর ক্যারিয়ার তুঙ্গে। তখন খুব কম শিল্পী, সাহিত্যিকই হিন্দুস্থান ছেড়ে ছিলেন। দেশবিভাগের সাথে সাথেই মান্টো লাহোর চলে আসেন। আর লাহোরে কাটানো জীবনের বাকি সময়টুকুই ছিল তাঁর জীবনের অগ্নিপরীক্ষা। ইংরেজ সরকার কর্তৃক দায়ের করা অশ্লীলতার অভিযোগে নবগঠিত পাকিস্তান সরকারও তুলে নিলেন না। ফলত লাহোর গিয়েও মান্টের রাষ্ট্র ও ধর্মব্যবসায়ী চক্রের ক্ষোভের হাত থেকে মুক্তি মেলেনি। মান্টোর সত্য প্রকাশের দুর্নিবার আকর্ষণ তাকে প্রগতিশীল লেখক সংঘেরও বিরুদ্ধ করে তুলেছিল। সে সময় কোন সংবাদপত্রই মান্টোর লেখা প্রকাশ করতে আগ্রহী হত না, মামলার ভয়ে। অথচ তখন এটাই ছিল মান্টোর উপার্জনের একমাত্র রাস্তা। নিম্নমানের সুরাপান, দারিদ্র্য, একের পর এক মামলা, গ্রেফতারি পরোয়ানা মান্টোর জীবন অতিষ্ঠ করে তোলে। দেশবিভাগের রক্তাক্ত দলিল বসে গেল দুটি দেশের মানুষের অন্তরে। প্রেম, সমপ্রতি, ভ্রাতৃত্বের মাঝখানের কাঁটাতারের বেড়া দুর্বল তো হলোই না , পরতে-পরতে বেড়েই গেল। বাড়লো ধর্মের নামে হানাহানি। মান্টোর কলম সেখানেও থামেনি। লাহোর গিয়ে শুরু হয় মান্টোর নতুন জীবন, নতুন সংগ্রাম। একদিকে মামলা, গ্রেফতারী পরোয়ানা, অন্যদিকে সংসারের নিদারুণ দারিদ্র্যের কষাঘাত। মান্টো এতটাই বেপর্দাভাবে সমাজের কুলীন সমাজের নোংরা কাহিনী ও দেশবিভাগের পরবর্তী সহিংসতা তুলে আনছিলেন যে, তিনি সকলের চক্ষুশূল হয়ে গেলেন। তাঁর নতুন প্রকাশিত কোন গল্পের কাহিনী পত্রিকায় এলেই সুশীল সমাজ ভয়ে তটস্থ হত- না জানি এবার কার ভান্ড উজাড় হল এই ভেবে!
লাহোরে এসে মান্টোর জীবনে নেমে আসে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ, সীমাহীন অর্থকষ্ট। একসময় মান্টো মানসিক ভারসাম্য হারান। তাঁকে মেন্টাল এস্যাইলামে রেখেও সুস্থ করার চেষ্টা চালান স্ত্রী সাফিয়া। দেশ বিভাগের বিয়োগান্তক স্মৃতি, চারপাশের নির্বান্ধব পরিবেশ, পদে পদে চতুর সম্রাজ্যবাদী মুদ্রাওয়ালাদের কাছে হেরে যাওয়া মান্টোর কাছে বিষবত মনে হচ্ছিলো। মান্টোর লেখার ভক্ত ছিল, মান্টোর বইয়ের কাটতি ছিলো কিন্তু রাষ্ট্র ও ধর্মব্যবসায়ী সুবিধাবাদী চক্রকে টেক্কা দিয়ে মান্টোর লেখা ছাপানোর মতো সাহসী প্রকাশক, সম্পাদক ছিল না। আবার অনেকে মান্টোর বিষয়বুদ্ধিহীনতার সুযোগ নিয়ে তাকে না জানিয়েই তার বইয়ের সংস্করণ বের করে অর্থ লুটে নেয়। মান্টো এসব কিছুই বুঝতেন না। কাগজ, কলম আর সুরা ছাড়া মান্টোর কোনো আসক্তি ছিলোনা। ফিল্মের নামী হিরোইন থেকে শুরু করে মজলিসের নৃত্য শিল্পী অব্দি মান্টোর গল্পের প্রেমে মুগ্ধ ছিলো। পতিতার শয়নকক্ষ থেকে পর্দার আড়ালে অন্তরীণ গৃহবধূর অলস দুপুরেও মান্টোর বই রাজত্ব করত। মান্টো এসব নারীর কথাই তার লেখনীতে তুলে আনতে পেরেছিলেন, যা একজন পুরুষ লেখকের জন্য বিস্ময়। তিনি নারীর শরীর, নারীর প্রতি মোহকে ছাপিয়ে নারীর চোখের জল দেখেছিলেন। এত জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও মান্টোর দারিদ্র্য তাকে রেহাই দেয়নি। জীবনের শেষদিকে তিনি লিভারসিরোসিসে আক্রান্ত হন। মান্টোর লাহোরে আসার পরের যে নিদারুণ দুর্ভোগ এতে আর ইসমতকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি সশরীরে। চিঠিপত্রের আদান প্রদানের একপর্যায়ে হতোদম্য মান্টো বারবার ইসমতকে লিখেছেন-‘আমাকে যে করেই হোক এখান থেকে নিয়ে যাও, এখানে আমার দম বন্ধ হয়ে আসে।’ অথচ ইসমতের তেমন কোন ভূমিকা আর দেখা যায়নি। মান্টো ঠকতে ঠকতে বুঝে গিয়েছিলেন বিষয়বুদ্ধি তার এ জীবনে হবে না। তাই তার সমস্ত বইয়ের স্বত্বাধিকারী করে যান তার স্ত্রী সাফিয়াকে। মাত্র ৪৩ বছর বয়সে লিভারসিরোসিসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন মান্টো। জীবিতকালে নিজের সৃষ্টির কোনো মূল্যায়ন দেখে যেতে পারেননি। ইসমত পেয়েছেন দীর্ঘজীবন। তাকে নিয়ে বায়োপিক, সচিত্র প্রতিবেদন কম হয়নি। এত যুগ পেরিয়েও পাঠকের মনে ইসমত-মান্টোর গ্রহণযোগ্যতা কমেনি এতটুকু। সবকিছু ছাপিয়ে মান্টো এখনও হৃদয়রাজা!
গল্প শেষ। মান্টো চুপ।
ইসমত বললেন- ‘আরে মেয়েটার কি হলো ?’
মান্টো বললেন, ‘ও, আমিতো শরীর সেরে যাওয়ায় চলে এলাম। আর মিছরির ডেলা? ও ড্রয়ারে রাখা ছিলো। একদিন দেখি পিঁপড়ে খেয়ে নিয়েছে।’
ইসমত বললেন- ‘ধ্যাত্তেরি! এই আপনার গরমাগরম প্রেম!? এমন ভিজে ন্যাতা ন্যাতা প্রেম জীবনে শুনিনি। বড় বাহাদূর! প্রেম করতে গিয়ে কনুই দেখে ফিরে এলো! হাতে মিছরির ডেলা! ছোঃ!’
মান্টো রেগে কাঁই! বললেন- ‘কীরকম হলে খুশি হতেন? এই বাচ্চা মেয়েটিকে অবৈধ সন্তানের মা বানিয়ে এলে?’
এই হলেন মান্টো! যিনি এক নির্জন পাহাড়ি উপত্যকায় একটি মেয়ের কনুইটুকু দেখার জন্য সারাজীবন অপেক্ষারত থাকতে পারতেন। তার বিরুদ্ধে সেই চল্লিশের দশকে অশ্লীল লেখার দায়ে মামলা হয়েছিল। অথচ মান্টো ছিলেন বাস্তবতার কাছে দায়বদ্ধ এক লেখক, অশ্লীলতা ছিল কেবল তার শব্দের গাঁথুনিতে, তিনি ছিলেন সমাজের অসঙ্গতি প্রকাশে বদ্ধপরিকর এক অসাধারণ লেখক। তিনি তাঁর যুগের চাইতে এগিয়ে ছিলেন বহুগুণ।
আর ইসমত? সিভিল সার্ভেন্ট পিতা, প্রতিষ্ঠিত লেখক মির্জা আজিম বেগ চুঘতাই এর বোন আর চলচ্চিত্র পরিচালক স্বামী শহীদ লতিফের স্ত্রী ইসমত। একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পারিবারিক বলয়ে জীবন যাপন করেও নিজের লেখায় তুলে এনেছিলেন সমকামীতা, যৌনতা। এতে তাঁকেও পোহাতে হয় মামলা। হতে হয়েছে বিতর্কিত। আর নিবিড় প্রেমে জড়িয়েছিলেন আরেক বিতর্কিত, চাল-চুলোহীন, সুরায় আসক্ত?, ব্রীজপ্রেমী মান্টোর সাথে।
উর্দূ সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখক জুটি ইসমত চুঘতাই এবং সাদাত হাসান মান্টো। আজকাল আধুনিক সাহিত্য জগতে লেখক-লেখিকাদের যেমন একটি ভক্তকুল, ফ্যানক্লাব গড়ে ওঠে, ইসমত-মান্টোরও তেমনি একটি বিস্তৃত পরিসরের ভক্তকুল ছিলো। তাদের ভক্তরা তাদের লেখা, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে চর্চা করত। তাঁরা দুজনেই দীর্ঘদিনের বিবাহিত জীবনে আবদ্ধ থাকা সত্ত্বেও, তাঁদের প্রেম ছিলো প্রকাশ্য। ভক্তকুল আশা করতেন ইসমত- মান্টোর প্রেমের পরিণতির। উর্দু সাহিত্যের কালজয়ী এই দুজন সাহিত্যিকের সৃষ্টি সম্পর্কে জানা নেই এমন পাঠক কমই আছে। তবে তাদের মধ্যে পারস্পারিক মতানৈক্য, দ্বন্দ্ব সংকুল ঈর্ষা কাতরতা- সবকিছুর সাথেই সমান্তরালভাবে চলত প্রেম। এ এক রহস্যময় সম্পর্কের গাঁথুনি। দুজনের মতাদর্শের, যাপিত জীবনের হাজারও পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও তাদের দুজনের অখন্ড মিল ছিলো উচ্চকন্ঠে প্রতিবাদ, আবেগহীন বাস্তবতার চিত্র পট অঙ্কন আর নান্দনিক দৃষ্টিতে যৌনতার উপস্থাপনে। দেশ বিভাগের সময়টাতে এ-বিষয় নিয়ে লেখা, কোন লেখকের পক্ষে তো বিপদজনক ছিলোই- একজন নারী লেখকের জন্য তো আরো বেশি বৈপ্লবিক।
তাঁরা দুজনই লেখার সময় নারী না পুরুষ, কোন পরিবারে জন্ম এসব নিয়ে মাথা ঘামাতেন না। তাঁরা দায়বদ্ধ ছিলেন বাস্তবতা ও শিল্পের প্রতি। তেমনি পরস্পরের প্রেমের সম্পর্কেও তাঁরা ছিলেন উদার। মামলার শুনানির জন্য লাহোর গিয়ে দুজনে ঘুরে বেড়িয়েছেন অবাধ। নিজেদের প্রেমকে তাদের নানা সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেছেন অকপট।

ইসমত চুঘতাইকে বলা হত উর্দু সাহিত্যের ‘চেঙ্গিস খান’। লেখক হিসেবে তিনি সমসাময়িক নারী লেখক তো বটেই, পুরুষ লেখকদেরও টেক্কা দিতে সক্ষম হন। তিনি ছিলেন সেই সময়কার উর্দু সাহিত্যের কিংবদন্তি মান্টোর প্রায় সমপর্যায়ের। ফলে অহর্নিশ প্রতিদ্বন্দ্বিতার তুমুল ঝড় উঠতো দুজনের মধ্যে। ‘লিহাফ’ বা ‘লেপ’ ইসমতের বহুল আলোচিত সমালোচিত গল্প। এই গল্পের জন্য তাকে আদালত অব্দি যেতে হয়েছে। তৎকালীন সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের নারীর জন্য এযে কতখানি বিপদসঙ্কুল, দুর্গম পথ ছিল তা বলাবাহুল্য। এমনকি এ সময়টাতে তিনি তাঁর আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত চলচ্চিত্র পরিচালক স্বামী শহীদ লতিফের নির্ভরতাও পাননি। তিনি তাঁর বিভিন্ন সাক্ষাৎকারেও বলেছেন, সে সময় তাঁর স্বামী আদালতের বিষয়টি আপোষে নিষ্পত্তির প্ররোচনা দিতেন। পরবর্তী সময়ে এই ‘লিহাফ’ গল্পেকে কেন্দ্র করে বিতর্কের কারণে তাঁর বিবাহিত জীবনেও তালাকের সংশয় দেখা দিয়েছিল। ইসমত তখন দুই কন্যা সন্তানের জননী এবং সর্বদা কুন্ঠিত থাকতেন লতিফের তালাক প্রদানের আশংকায়। মান্টো ইসমতের সকল নারীসুলভ ভীরুতা নিয়ে চরম ভর্ৎসনা করলেও তিনিই ছিলেন মূলত ইসমতের যোগ্য সহচর। মান্টো পারিবারিক মজলিসে, বন্ধু বান্ধবের সামনে ইসমতকে জেদী, একরোখা আখ্যায়িত করে ইসমতের সামনেই তার চরিত্রের নেতিবাচক দিক নিয়ে পরস্পর প্রচন্ড বাত-বিতন্ডায় লিপ্ত হতেন। এমনও হত তাঁদের ভক্তকুল ভাবত এরপর থেকে হয়তো দুজনকে আর ইহজনমে একসাথে দেখা যাবে না। কিন্তু পরদিন অথবা হপ্তাখানেক পর হয়তো মাঝরাতে ইসমত আইসক্রিম কামড়ে-কামড়ে তুফান বেগে লিখে চলেছেন। সেই সময়ই শব্দ আর ইসমতের মধ্যকার শেলক ছিন্নভিন্ন করে দিয়ে সুরার বোতল হাতে মান্টো উপস্থিত হয়ে যেতেন সস্ত্রীক। তারপর কোনকিছু ধার না ধরে ইসমতের রান্নাঘরে মান্টো তাঁর স্ত্রী আরো কয়েকজন সঙ্গী সাথী জুটিয়ে নিজেরা রুটি গোশত বানিয়ে উদরপূর্তি করে নিতেন! শেষে সুরার বেতলের শেষ ফোঁটাটুকুও গলায় ঢেলে ফের ইসমতের লেখার খাতার দিকে তাকিয়ে তার আঁকাবাঁকা লেখার জন্য যারপরনাই হেনস্তা করে সে রাতের মতো ক্ষান্ত হতেন।

আবার এই মান্টোই ছিলেন ইসমতের লেখার প্রবল অনুরাগী। ইসমতের বিরুদ্ধে মামলা রজু হওয়ার প্রথম থেকে শেষদিন অব্দি তিনি ছিলেন ইসমতের পাশে।
অশ্লীলতার দায়ে দায়ের করা মামলার শুনানিতে উপস্থিত হতে ইসমত চুঘতাই এবং সাদাত মান্টো দুজনেই লাহোর গিয়েছিলেন। সেসময় তাদের জুটি এত জনপ্রিয় ছিল যে, লাহোর আদালতে দলবেঁধে ছাত্র-ছাত্রীরা আসতো তাদের দেখতে। ইসমত ও মান্টোর বন্ধুত্ব ও প্রেমের সম্পর্ক উদার পাঠকের মনে এক ভিন্নতর চিন্তার স্ফুরণ ঘটায়। ইসমতের ‘লিহাফ’ গল্পটি অভিযুক্ত হয় অশ্লীলতার দায়ে, ঠিক ঐ সময়েই মান্টোও অভিযুক্ত হন একই অভিযোগে। যদিও মান্টো পরপর ছয়বার আদালতে অভিযুক্ত হয়েছিলেন তাঁর লেখার জন্য। ইসমতের কোলে তখন তার শিশুকন্যা। এই অবস্থাতেই তাকে মামলা লড়ে যেতে হয়। পরিবার এবং রাষ্ট্রপক্ষও ইসমতকে চাপ দিচ্ছিল মামলাটি আপোষে নিষ্পত্তির কিন্তু তিনি তা করেননি।আর মান্টো? তিনি তাঁর খামখেয়ালি জীবন, অপরিমিত মদ্যপান এবং ফলশ্রুতিতে নিদারুণ দারিদ্র বয়ে চলা জীবনে মামলার খরচ যোগানোর মতো অর্থ যোগাড় করতে পারেননি, পারেননি কোন চৌকস উকিল ধরতে। কিন্তু মৃত্যুর আগ অব্ধি কলম থামেনি তাঁর। এই সময় ইসমত চুঘতাই নিজের মামলা চলাকালে আদালতেও মান্টোকে সমর্থন করে বলেছিলেন, ‘সমাজে বাজে জিনিসের অস্তিত্ব আছে বলেই মান্টো তা লিখছেন।’ সাদাত ইসমতের এই ক্ষুরধার, আপোষহীন চরিত্রকে ভালোবাসতেন। তিনি ইসমতকে দেখতে চাইতেন, ‘যে নারী পুরুষের পাশাপাশি যুদ্ধের মাঠে লড়ে, পাহাড় কাটে আর গল্প লিখতে লিখতে ইসমত চুঘতাই হয়। সেই নারী আবার হাতে মেহেন্দিও পড়ে।’ মান্টো ইসমতকে ভালোবাসতেন। মান্টো লিখেছেন- ‘ইসমতের ক্রোধ শিশুসুলভ। তবে তার কলম এবং মুখ দুটোই ধারালো’ (গাঞ্জে ফরিস্তে)। ইসমতের তীক্ষ্ম নজরে রান্নাঘরের খবরদারি থেকে শুরু করে, স্থির, অবিচল অধ্যাবসায়ে বাচ্চার ফ্রক সেলাই-কোনটাই মান্টোর চোখ এড়াতো না। একি কেবল গল্পের খোঁজে! না! আসলে মান্টোর চোখই ইসমতে মুগ্ধ ছিল। দর্জি হিসেবেও ইসমতের দক্ষতা পাঠককের সামনে মান্টোই এনেছিলেন। নিজের বাচ্চাদের ফ্রক তিনি নিজেই সেলাই করতেন। মান্টো বলতেন, ইসমতের পাতার পর পাতা আঁকাবাঁকা হাতের লেখায় দুএকটা বা তারও বেশি ভুল বানান থাকতেই পারে, কিন্তু বাচ্চার ফ্রক সেলাইয়ে ফোঁড়ের এদিক-ওদিক হয়না কখনো! কোথাও এক ইঞ্চি ঝুল মাপে কমবেশি হচ্ছে না। চারপেয়েতে কনুইয়ে ভর দিয়ে কাত হয়ে বালিশের ওপর কাগজ নিয়ে ইসমত লিখতেন। একহাতে ফাউন্টেনপেন অন্যহাতে আইসক্রিমের ডাঁটি।
ইসমত বরফ খুব পছন্দ করতেন। আইসক্রিম খেতে খেতে তিনি তাঁর বহু গল্প লিখেছেন। শিশুদের মতো চিবিয়ে চিবিয়ে তিনি আইসক্রিম খেতেন। এই সমস্ত বিবরনই মান্টো তাঁর ‘গাঞ্জে ফরিস্তে’ বইটিতে লিখে গিয়েছেন। মান্টো অনেক লিখেছেন ইসমতকে নিয়ে, সে তুলানায় ইসমতের লেখায় ‘মান্টো ভাই’ কিংবা ‘মান্টো সাহাব’ কেই বেশি পাওয়া গেছে। ব্যক্তি মান্টো-যাঁকে ঘিরে ইসমতের প্রেম ও নিবিড় বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল অথবা ইসমত যে মান্টোর সৃষ্টির প্রেরণা ছিলেন, তাঁকে নিয়ে ইসমত খুব কমই লিখেছেন। অথচ নিজে কিন্তু লেখার সময় পেয়েছিলেন মান্টোর চেয়ে বেশি! ইসমতকে জানতে জানতে পাঠক মান্টোকেই ভালোবেসে ফেলবে অবশ্যম্ভাবী। কারণ ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশে মান্টো ছিলেন অবিচল। নিজেকে তিনি পাঠকের সামনে তুলে ধরেছেন অকপট। মান্টো অন্য কারো চিন্তা দ্বারা প্রভাবিত হতে ঘেন্না করে। তার ধারণা যারা তাকে শিক্ষা দিতে যায়, তারা ইডিয়ট ছাড়া আর কিছু নয়। ‘আমি তোমাদের খুব জোর গলায় বলতে পারি যে মান্টো, যার বিরুদ্ধে এত অশ্লীলতার অভিযোগ রয়েছে, আদতে সে আগামাথা ভদ্রলোক। কিন্ত এ-কথাও বলে রাখি এর সঙ্গে যে, সে আসলে নিরন্তর ঝাড়পোছ করে চলেছে নিজেকে।’ এই হল মান্টোর নিজের সম্পর্কে নিজের ব্যাখ্যা! যে মানুষ নিজকে এতটা ভালো চেনে তারপক্ষেই তো সম্ভব অন্যের মন বোঝা। হাতের কাছে পেয়েওছিলেন ইসমতের মত একজনকে। মান্টোতো লিখেইছেন- ইসমতের মধ্যে নারীসত্তা ও পুরুষ প্রকৃতির মধ্যে আজব ধরণের জেদ ও অসম্মতি বিদ্যমান। হয়তো প্রেমে একেবারে হাবুডুবু খাচ্ছে কিন্তু প্রকাশ্যে অনীহা প্রকাশ করে যাচ্ছে। চুমো খাবার জন্য হয়তো প্রাণ তার মাথা কুটে মরছে, কিন্তু চুমোর বদলে সে গালে সুঁচ চালিয়ে দিয়ে তামাশা দেখবে। তার প্রেম খেলাচ্ছলে শুরু হয়ে ক্রমান্বয়ে তা ফল্গুধারা হয়ে পরিণতি প্রাপ্ত হয়। ুপ্রথমদিন দেখা সেই ববছাঁট, চিকনপাড়ের শাড়ি আর আঁটসাট ব্লাউজ পরনের নারীটি, যার নাকি অল্প হাসিতেই গালে টোল পড়ত- মান্টো আজীবন সেই নারীর লাবণ্যময়তাকে অন্তরে ধারণ করেছিলেন। আর ইসমতের কথা তেমন জানিনা, কারণ মান্টো নিজেই তো বলেছেন, ইসমত চুমু খাওয়ার সময়ও গালে সুঁচ ফুটিয়ে মজা দেখার মত গভীরেই লুকিয়ে রাখতেন সমস্ত মনোবাসনা!
ইসমত মান্টোর বিয়ের বিষয়টি ছিল বহুল আলোচিত। ভক্তদের কৌতূহল ছিল মান্টো ইসমতকে বিয়ে করছেন না কেন! আশ্চর্যজনকভাবে এই বিষয়ে দুজনেই ছিলেন উদাসীন। ইসমতকে বিয়ে করা না করা নিয়ে মান্টো একটি সুন্দর উপমা দিয়েছিলেন- ‘ক্লিওপেট্রার নাক যদি এক ইঞ্চির আঠারো ভাগের একভাগ বড় হত, তাহলে তার প্রভাবে নীলনদের ইতিহাসের কি প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করত।’ সংবেদনশীল পাঠক ভক্ত এই কথার অন্তর্নিহিত রস গ্রহণ করতে পারলেও বহু আলোচক সমালোচকের চক্ষুশূল ছিল তাদের এই উদাসীনতা। এক হায়দ্রাবাদী বন্ধুর চিঠির জবাবে মান্টো তাকে একটি উত্তর পাঠিয়েছিলেন। সেখানে তিনি ইসমতকে নিকাহ করা না করা নিয়ে লিখেছিলেন, “Had we thought of getting married, than instead of drowing others in wonder and agitation we ourselves would have been drowned in it. And when we would have come to our sense after the initial shock, than our wonderments and agitation would have changed not in to joy but sorrow. Ismat and Manto nikha and marriage -what a ludicrous idea!” মান্টোকে জানতে জানতে মনে হতেই পারে মান্টো শুধুই সুরাসক্ত, ব্রীজপ্রেমী আর ইসমতের একনিষ্ঠ প্রেমে মজে থাকা এক পুরুষ। আসলে কিন্তু তা নয়! মান্টো ছিলেন উদার স্বামী, প্রেমময় পিতা। তিনি তাঁর স্ত্রীর কাপড় ইস্তিরি করে দিতেন। সে যুগে যখন পুরুষ জল গড়িয়ে খেতে সম্মানহানি ভাবতো মান্টো তখন রান্না করতেন। তিনি তাঁর সৃষ্টিতে ও যাপিত জীবনে আধুনিক ছিলেন। তেমনি ইসমতের সাথেও মান্টোর স্ত্রী সাফিয়ার গভীর সখ্যতা ছিল। সাফিয়া প্রায় ইসমতকে বলতেন, সা’সাহাব (সাদাত সাহেব) এর কথা তিনি বলতে পারবেন না, তবে নিজে ইসমতের প্রেমে মুগ্ধ। আর ইসমত তার স্বভাবজাত ক্ষুরধার জবাবে বলতেন, ‘তোমার বয়েসী মেয়ের বাপেরা অব্দি আমার প্রেমে পড়ে! ’ বম্বে টকিজ-এ ইসমত মান্টো একসাথে বহু কাজ করেছেন। বলা যায় সেই সময়টা তাদের শ্রেষ্ঠ সময় ছিল। ইসমতের প্রতি মান্টোর প্রচ্ছন্ন প্রশ্রয় ছিল সবার চেয়ে বেশি। ইসমতের বড়ভাই মির্জা আজিম বেগ চুঘতাইকে নিয়ে ইসমত একটি গল্প লিখেছিলেন, নাম ‘দোজখী’। কিছু অকাট সত্যকথনের জন্য গল্পটি নিন্দিতও হয়েছিল তখনকার সময়ে। মান্টোর বোন-ইকবাল বলেছিলেন, ‘হতচ্ছাড়ি নিজের মৃত বড়ভাইকেও রেহাই দিলনা।’ মান্টো তখন বলেন,চইকবাল, আমার মৃত্যুর পর এমন একটি গল্প যদি তুমি লিখবে বলে কথা দাও, আমি আজ, এক্ষনি মরতে প্রস্তুত।’
মান্টো ইসমতের প্রথম যে গল্পটি পড়েন, সেটি হল ‘লিহাফ’। যেহেতু তাদের দুজনারই লেখার বিষয় মূলত সমাজের রন্ধ্রে লুকিয়ে থাকা অসংগতি, মান্টোর নজর কাড়ে গল্পটি। মান্টো চাইলেন এই গল্পের লেখকের সাথে আলাপ করতে। দেখা হতেই মান্টো ইসমতকে বললেন, ‘আপনার লেহাপ গল্পটি পড়েছি। গল্পের বর্ণনায় আপনার সংযম অতুলনীয়। কিন্তু আমি ভেবে পাইনা আপনি গল্পের শেষে এই কথাটা কেন লিখলেন যে-“এক ইঞ্চি উপরের দিকে উঠানে লেপের ফাঁকে দিয়ে আমি কি দেখেছি, লক্ষ টাকা দিলেও আমি কাউকে তা বলব না।” ইসমত তখন বললেন,‘কেন এ লাইনটায় অসংগতি কোথায় ?’ মান্টো ফের কিছু বলতে যাবার আগেই ইসমত মান্টোর কথার মর্মার্থ বুঝে ফেলেন, আর লজ্জিত হন। আসলে ইসমত সেই সময়কার সমাজের দৃষ্টিতে অনৈতিক অথচ নিত্য ঘটে যাওয়া সত্যের বিবরণ তার লেখনীতে প্রকাশ করতেন নানা উপমায়। যৌনতা, সমকামিতা, নারীর প্রতি পুরুষের বৈষম্যমূলক আচরণ সবই তুলে ধরেছেন তার গল্পে একটি সংযত ভাষাশৈলীর আড়ালে। কিন্তু মান্টোর লেখার ধাঁচ ছিল তাঁর মুখের মতই আড়হীন। তাঁর কলম ছিল উলঙ্গ। হিন্দুস্থানে নানা চরাই-উৎরাই পেড়িয়ে ইসমত শক্তপোক্ত স্থান দখল করে নিলেন বটে, মান্টোর তা হলো না। দেশবিভাগের পর ইসমত হিন্দুস্থানে রয়ে গেলেন, মান্টো তার বন্ধুদের আপত্তি সত্ত্বে চলে যান লাহোর। তিনি কেন যে এতটা বেতাব ছিলেন লাহোর যাবার জন্য তা রহস্যময়। অথচ তখন বম্বে ফিল্ম ইন্ড্রাস্টিতে মান্টোর ক্যারিয়ার তুঙ্গে। তখন খুব কম শিল্পী, সাহিত্যিকই হিন্দুস্থান ছেড়ে ছিলেন। দেশবিভাগের সাথে সাথেই মান্টো লাহোর চলে আসেন। আর লাহোরে কাটানো জীবনের বাকি সময়টুকুই ছিল তাঁর জীবনের অগ্নিপরীক্ষা। ইংরেজ সরকার কর্তৃক দায়ের করা অশ্লীলতার অভিযোগে নবগঠিত পাকিস্তান সরকারও তুলে নিলেন না। ফলত লাহোর গিয়েও মান্টের রাষ্ট্র ও ধর্মব্যবসায়ী চক্রের ক্ষোভের হাত থেকে মুক্তি মেলেনি। মান্টোর সত্য প্রকাশের দুর্নিবার আকর্ষণ তাকে প্রগতিশীল লেখক সংঘেরও বিরুদ্ধ করে তুলেছিল। সে সময় কোন সংবাদপত্রই মান্টোর লেখা প্রকাশ করতে আগ্রহী হত না, মামলার ভয়ে। অথচ তখন এটাই ছিল মান্টোর উপার্জনের একমাত্র রাস্তা। নিম্নমানের সুরাপান, দারিদ্র্য, একের পর এক মামলা, গ্রেফতারি পরোয়ানা মান্টোর জীবন অতিষ্ঠ করে তোলে। দেশবিভাগের রক্তাক্ত দলিল বসে গেল দুটি দেশের মানুষের অন্তরে। প্রেম, সমপ্রতি, ভ্রাতৃত্বের মাঝখানের কাঁটাতারের বেড়া দুর্বল তো হলোই না , পরতে-পরতে বেড়েই গেল। বাড়লো ধর্মের নামে হানাহানি। মান্টোর কলম সেখানেও থামেনি। লাহোর গিয়ে শুরু হয় মান্টোর নতুন জীবন, নতুন সংগ্রাম। একদিকে মামলা, গ্রেফতারী পরোয়ানা, অন্যদিকে সংসারের নিদারুণ দারিদ্র্যের কষাঘাত। মান্টো এতটাই বেপর্দাভাবে সমাজের কুলীন সমাজের নোংরা কাহিনী ও দেশবিভাগের পরবর্তী সহিংসতা তুলে আনছিলেন যে, তিনি সকলের চক্ষুশূল হয়ে গেলেন। তাঁর নতুন প্রকাশিত কোন গল্পের কাহিনী পত্রিকায় এলেই সুশীল সমাজ ভয়ে তটস্থ হত- না জানি এবার কার ভান্ড উজাড় হল এই ভেবে!
লাহোরে এসে মান্টোর জীবনে নেমে আসে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ, সীমাহীন অর্থকষ্ট। একসময় মান্টো মানসিক ভারসাম্য হারান। তাঁকে মেন্টাল এস্যাইলামে রেখেও সুস্থ করার চেষ্টা চালান স্ত্রী সাফিয়া। দেশ বিভাগের বিয়োগান্তক স্মৃতি, চারপাশের নির্বান্ধব পরিবেশ, পদে পদে চতুর সম্রাজ্যবাদী মুদ্রাওয়ালাদের কাছে হেরে যাওয়া মান্টোর কাছে বিষবত মনে হচ্ছিলো। মান্টোর লেখার ভক্ত ছিল, মান্টোর বইয়ের কাটতি ছিলো কিন্তু রাষ্ট্র ও ধর্মব্যবসায়ী সুবিধাবাদী চক্রকে টেক্কা দিয়ে মান্টোর লেখা ছাপানোর মতো সাহসী প্রকাশক, সম্পাদক ছিল না। আবার অনেকে মান্টোর বিষয়বুদ্ধিহীনতার সুযোগ নিয়ে তাকে না জানিয়েই তার বইয়ের সংস্করণ বের করে অর্থ লুটে নেয়। মান্টো এসব কিছুই বুঝতেন না। কাগজ, কলম আর সুরা ছাড়া মান্টোর কোনো আসক্তি ছিলোনা। ফিল্মের নামী হিরোইন থেকে শুরু করে মজলিসের নৃত্য শিল্পী অব্দি মান্টোর গল্পের প্রেমে মুগ্ধ ছিলো। পতিতার শয়নকক্ষ থেকে পর্দার আড়ালে অন্তরীণ গৃহবধূর অলস দুপুরেও মান্টোর বই রাজত্ব করত। মান্টো এসব নারীর কথাই তার লেখনীতে তুলে আনতে পেরেছিলেন, যা একজন পুরুষ লেখকের জন্য বিস্ময়। তিনি নারীর শরীর, নারীর প্রতি মোহকে ছাপিয়ে নারীর চোখের জল দেখেছিলেন। এত জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও মান্টোর দারিদ্র্য তাকে রেহাই দেয়নি। জীবনের শেষদিকে তিনি লিভারসিরোসিসে আক্রান্ত হন। মান্টোর লাহোরে আসার পরের যে নিদারুণ দুর্ভোগ এতে আর ইসমতকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি সশরীরে। চিঠিপত্রের আদান প্রদানের একপর্যায়ে হতোদম্য মান্টো বারবার ইসমতকে লিখেছেন-‘আমাকে যে করেই হোক এখান থেকে নিয়ে যাও, এখানে আমার দম বন্ধ হয়ে আসে।’ অথচ ইসমতের তেমন কোন ভূমিকা আর দেখা যায়নি। মান্টো ঠকতে ঠকতে বুঝে গিয়েছিলেন বিষয়বুদ্ধি তার এ জীবনে হবে না। তাই তার সমস্ত বইয়ের স্বত্বাধিকারী করে যান তার স্ত্রী সাফিয়াকে। মাত্র ৪৩ বছর বয়সে লিভারসিরোসিসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন মান্টো। জীবিতকালে নিজের সৃষ্টির কোনো মূল্যায়ন দেখে যেতে পারেননি। ইসমত পেয়েছেন দীর্ঘজীবন। তাকে নিয়ে বায়োপিক, সচিত্র প্রতিবেদন কম হয়নি। এত যুগ পেরিয়েও পাঠকের মনে ইসমত-মান্টোর গ্রহণযোগ্যতা কমেনি এতটুকু। সবকিছু ছাপিয়ে মান্টো এখনও হৃদয়রাজা!
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1406)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ▼ 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ইরান
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
কালবেলা
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
ইউক্রেন
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
স্বাস্থ্য
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
জ্যোতির্বিজ্ঞান
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
জীবনযাপন
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
মসজিদ
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
ইয়েমেন
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
Exclusive
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
জনস্বাস্থ্য
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
জোহরান মামদানি
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
ইহুদি
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
স্পেন
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment