Monday, February 10, 2020
আল মাহমুদের কবিতা : সত্তার ভারমুক্ততার ভাষ্য by মহীবুল আজিজ
আল মাহমুদের কবিতা : সত্তার ভারমুক্ততার ভাষ্য by মহীবুল আজিজ

সিক্স
মেমোজ ফর দ্য নেঙট মিলেনিয়াম-সিরিজের বক্তৃতায় ইতালো ক্যালভিনো লিখেছিলেন,
চার দশককালের লেখালেখির প্রেক্ষাপটে একটা কাজই তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে
মনে হয়েছে – সত্তার ভারমুক্তি। মানবসত্তার আয়তন প্রভূত ভারে আক্রান্ত। তার
সেই ভারাক্রান্ত অবস্থান থেকে, তার সামগ্রিক পরিপার্শ্ব থেকে, এমনকি হয়তো
তাকে নিয়ে গড়া সাহিত্যের কাঠামো এবং ভাষা থেকেও ভার সরিয়ে নেওয়ার কাজটাই
তিনি করতে চেয়েছেন। ক্যালভিনোর কথার সূত্র ধরে বলা যায়, হয়তো মানবের সত্তায়
প্রলিপ্ত থাকা উদ্বেগ, আশংকা, স্বপ্নহীনতা কিংবা দুঃস্বপ্নের চাপ থেকে
মুক্তির আকাঙ্ক্ষা লেখক তাঁর চরিত্র ভাব দর্শন এসবের মধ্যে প্রকাশ করেন।
‘লিখেছিলেন’ কথাটা বলতে হয় এজন্যে, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘চার্লস
এলিয়ট নর্টন পোয়েট্রি লেকচার্সে’র জন্যে ছয়টি বক্তৃতা রচনা সমাপ্ত করে,
প্রদানের আগেই ক্যালভিনো মৃত্যুবরণ করেছিলেন। পরে, সেই বক্তৃতামালা তাঁর
স্ত্রী এস্থার ক্যালভিনোর সৌজন্যে প্রকাশিত হয় গ্রন্থাকারে। কথাশিল্পী
ক্যালভিনোর উপর্যুক্ত বক্তব্য বৃহত্তর দৃষ্টিতে সৃজনশীল সাহিত্যক্ষেত্রে
নিবেদিত যে-কোনো সাহিত্য-রচনার অভিমুখ হিসেবে বিবেচ্য হতে পারে। এমনকি হতে
পারে দুর্বোধ্য-দূরান্বয়ী রূপক-প্রতীকে মোড়ানো কাব্যভুবনের ক্ষেত্রেও।
চকিতে আমাদের মনে পড়ে যায় পুশকিন, লেরমেন্তভ, আখমাতোভা, ইয়েভতুশেংকু, পোপা,
হোলুব, মিয়োজ, ওসিপ মানডেলস্টাম, জর্জ ফালুদি, গিন্সবার্গ, হিনি এরকম সব
বোধ্য-দুর্বোধ্য কাব্যরচয়িতাদের নাম। সেদিক থেকে আল মাহমুদের কবিতা অনেক
বেশি স্পষ্ট এবং লক্ষ্যসচেতন।
দ্রম্নতধাবমান তরঙ্গ হয়ে ছুটতে থাকে কবিতা, অজস্র কবিতা – আল মাহমুদকে তাঁর প্রয়াণের পরে মনে করতেই কতকাল আগেকার সেসব কবিতা ভিড় করে। কবিতারা জ্বলে আর নেভে কিন্তু একেবারে নির্বাপিত হয় না। বরং কবিতাগুলো উপলক্ষের অপেক্ষাতেই থেকে যায় ফের জেগে ওঠার জন্য। দেখতে পাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘দুঃসময়’, কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’, জীবনানন্দ দাশের ‘আবার আসিব ফিরে’, অমিয় চক্রবর্তীর ‘চিরদিন’, সুধীন্দ্রনাথ দত্তের ‘যযাতি’, বুদ্ধদেব বসুর ‘ধৃতরাষ্ট্রের বিলাপ’, বিষ্ণু দে-র ‘ঘোড়সওয়ার’, দিনেশ দাশের ‘কাস্তে’, জসীম উদ্দীনের ‘কবর’, ফররুখ আহমদের ‘ডাহুক’, আহসান হাবীবের ‘আমি কোনো আগন্তুক নই’, আবদুল গনি হাজারীর ‘কতিপয় আমলার স্ত্রী’, সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ‘মে-দিনের কবিতা’, শামসুর রাহমানের ‘বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা’, শঙ্খ ঘোষের ‘বাবরের প্রার্থনা’, শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের ‘ভালোবাসা ছাড়া’, শহীদ কাদরীর ‘উত্তরাধিকার’, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘কেউ কথা রাখে নি’, রফিক আজাদের ‘চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া’, মোহাম্মদ রফিকের ‘সারা বিষ্ণুপুর জুড়ে’, মহাদেব সাহার ‘চিঠি দিও’, নির্মলেন্দু গুণের ‘আমি আজ কারো রক্ত চাইতে আসি নি’, হুমায়ুন আজাদের ‘সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে’, আবুল হাসানের ‘উদিত দুঃখের দেশ’, হুমায়ুন কবিরের ‘এ কেমন শহর’, আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর ‘আমি কিংবদমত্মীর কথা বলছি’, সৈয়দ শামসুল হকের ‘নৈশভোজে রক্তপাত’ এসব কবিতার সঙ্গে একজোটে ঘূর্ণাবর্ত সৃষ্টি করছে আল মাহমুদের ‘কালের কলস’, ‘রবীন্দ্রনাথ’, ‘ভারতবর্ষ’। হ্যাঁ, ক্যালভিনো যেমনটি বলেছিলেন, কবি আল মাহমুদ সত্তাকে ভারমুক্ত করার প্রচেষ্টায় আকুল –
লোকালয় থেকে দূরে, ধোঁয়া অগ্নি মশলার গন্ধ থেকে দূরে
এই দলকলসের ঝোপে আমার কাফন পরে আমি কতকাল
কাত হয়ে শুয়ে থেকে দেখে যাবো সোনার কলস আর বৃষের বিবাদ।
(‘কালের কলস’, কালের কলস)
একদিক থেকে বিবেচনা করলে কবিতা এক বিশেষ ধরনের ভাষিকতা, যেখানে বিন্যাস আর সজ্জার সীমানায় স্বয়ং কবি অধীশ্বরের মতো বিরাজমান। একমাত্র কবিতাতেই ঘটতে পারে রচয়িতা ‘আমি’র আত্মম্ভর প্রক্ষেপ। কিন্তু কবিতা কেবল ভাষা নয়, নয় কেবল আঙ্গিকও। কবিতা সংস্কৃতিও বটে। কবিতা সেই সংস্কৃতি যেটির অভ্যন্তরে বয়ে চলে এক জীবনপ্রবাহ। সেখানে থাকে মানুষ, প্রকৃতি, সময়, সমকাল, ইতিহাস এবং এসবের অতিরেক বহু কিছু। কবির সুচয়নে সেই জীবনের প্রবাহ স্ফূর্ততা পায়। কবিতা-অভ্যন্তরীণ এসব উপাদানের মধ্যে কোন কোন উপাদান কবির সংবেদনা ও মনোযোগের কেন্দ্র সেটা অনুভব করা যায় কবিকে পাঠ করলে। এসব উপাদানকে অবলম্বন করে কবি হয়ে ওঠেন এক জীবন-প্রতিনিধি এবং তাঁর শব্দজগৎও তখন সংযোগ রক্ষাকারী সেতু হয়ে দাঁড়ায়। এমনকি সেই জগতের কবি যদি হন তথাকথিত সভ্যতার মানদ–র অক্ষরজ্ঞানবিহীন কোনো বেদুইন তবু তাঁর উচ্চারণ অর্থপূর্ণ। লেখা নয়, শুধু শব্দের উচ্চারণই তাঁর পৃথিবীকে করে তোলে প্রতিনিধিত্বপূর্ণ। লায়লা আবু-লুঘোড তাঁর বেদুইন সমাজবিষয়ক গ্রন্থে তাই জানান, বেদুইনদের কবিতা গোত্রসমূহের পারস্পরিক সম্পর্ক, দূরত্ব, ঐতিহ্য, বর্তমান সবকিছুকে প্রকাশ করে। অথচ, বেদুইনদের সেসব কবিতা লিখিত হয়নি, হয়েছে গীত। সেদিক থেকে বিবেচনা করলে রচিত কবিতার পরিপ্রেক্ষিতে থাকে চিন্তা, পরিকল্পনা এবং দর্শনের সুস্পষ্ট স্বাক্ষর। আর সেই কবিতা যদি হয় আল মাহমুদের ক্ষীণকায় একটি নমুনা তবু তার মুকুরে ঘটে নির্বিশেষের প্রতিফলন – ‘ট্রাক! ট্রাক! ট্রাক!/ শুয়োরমুখো ট্রাক আসবে/ দুয়োর বেঁধে রাখ।/ কেন বাঁধবো দোর জানালা/ তুলবো কেন খিল?/ আসাদ গেছে মিছিল নিয়ে/ ফিরবে সে মিছিল।/ ট্রাক! ট্রাক! ট্রাক!/ ট্রাকের মুখে আগুন দিতে/ মতিয়ুরকে ডাক।/ কোথায় পাবো মতিয়ুরকে/ ঘুমিয়ে আছে সে!/ তোরাই তবে সোনামাণিক/ আগুন জ্বেলে দে।’ (‘উনসত্তরের ছড়া-১’, পাখির কাছে ফুলের কাছে)। কবি আল মাহমুদ এখানে একই সঙ্গে সমকাল, ইতিহাস, দেশ ও জাতির প্রতিনিধি। কিংবা আরো স্পষ্টভাবে বললে এক ঐতিহাসিক জীবনপ্রবাহের প্রতিনিধি। দীর্ঘকালীন কাব্যিক পর্যটনের পটভূমিতে আল মাহমুদের কবিতা জাগিয়ে তোলে নানামাত্রিক বিচিত্রতা ও দ্বান্দ্বিকতার আভাস।
বাংলাদেশের সাহিত্যে পূর্ববঙ্গ-সচেতনতার দুই সার্থক রূপকার সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ এবং আল মাহমুদ। একজন কথাসাহিত্যে এবং অন্যজন কবিতায় প্রয়োগ ঘটান সেই সচেতনতার। মানিক-তারাশঙ্কর-বিভূতিভূষণের সূত্রে বাংলা কথাসাহিত্য জনজীবনের গভীর প্রদেশসঞ্চারী হলেও বাংলাদেশের এই পূর্ব প্রান্তিকতায় যেখানে জাতিত্ব প্রতিষ্ঠার মতো বিশাল সংগ্রামে মানুষ একদিন জোটবদ্ধ হবে, সেই জনপদের স্পন্দন থেকে যায় অশ্রম্নত। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্র উপন্যাসে উঠে এলো পূর্ব প্রামেত্মর সমষ্টিবদ্ধ মানুষের কাহিনি, যে-মানুষেরা একেবারে মৃত্তিকাসংলগ্ন এবং যাদের দিনানুদিনের বাস্তবতার প্রতি নজর ছিল না কারো। ওয়ালীউল্লাহ্ তাদের রোজকার জীবনের কাহিনিই শুধু উপস্থাপন করলেন না, অনুসন্ধান করলেন তাদের বর্তমানতার নেপথ্যে থাকা সুদীর্ঘ পরম্পরার ঐতিহাসিক বাস্তবতা। পরবর্তীকালে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্র অনুসন্ধান সমষ্টি থেকে ক্রমে ব্যক্তিসত্তার সামাজিক চৈতন্যের দিকে কেন্দ্রীভূত হয়। সেটা করতে গিয়ে তিনি অস্তিত্ববাদ এবং চৈতন্যপ্রবাহরীতির আশ্রয় নেন। তবে সমষ্টিবদ্ধ জীবনের আয়তনটিকে তিনি কখনো ছেড়ে যান না। বাংলা কাব্যভুবন তিরিশের পাঁচ কবির পদচারণায় জাগিয়েছিল এক নতুন মুখরতা। তাঁদের কাব্যচেতনা পরিস্নাত হয়েছিল ইউরোপীয় নান্দনিকতার প্রেক্ষণাভিজ্ঞতায়। যদিও জীবনানন্দ দাশ (এবং খানিকটা বিষ্ণু দে) তাঁদের কাব্যে পূর্ব প্রান্তিকতায় থাকা মানুষদের সমষ্টিবদ্ধ জীবনকে স্পর্শ করতে চেয়েছিলেন। জীবনানন্দ দাশকে বাদ দিলে বাংলা কাব্যে নিম্নবঙ্গের দৈশিক চেতনার উপস্থিতি খুব ঝাপসা আর অস্পষ্ট। সেই ঝাপসা আর অস্পষ্ট আভাস উজ্জ্বলতা পেতে শুরু করল যখন একে-একে প্রকাশিত হতে লাগল লোক লোকান্তর, কালের কলস ও সোনালি কাবিন। অবশ্য আল মাহমুদই আবার তাঁর উপর্যুক্ত ত্রয়ী-কাব্যের সামষ্টিকতার চেতনা ছেড়ে কালক্রমে যাত্রা করবেন এক ব্যক্তিক-দার্শনিক অনুসন্ধানের দিকে। এমনকি তাঁর কাব্যচেতনা যে তাঁরই সচেতন কবিতাকর্মের পরিণতিতে ক্ষেত্রবিশেষে প্রসারণের পরিবর্তে গ্রহণ করবে সংকোচনকে, সেই দর্পিত স্বাক্ষরও তিনি রেখে যান তাঁর পাঠকদের জন্য।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ যেমন তাঁর সৃষ্ট মহববতনগর গ্রামের অবলম্বনে মৃত্তিকাসংলগ্ন মানবম-লীর জীবনকে ধারণ করেন, তেমনি কবি আল মাহমুদ সেই জীবনকে ধারণ করেন তাঁর তিতাস-বিধৌত পরিক্রমায়। মহববতনগর একমাত্র ওয়ালীউল্লাহ্রই এবং তিতাস আল মাহমুদের। (অদ্বৈতর তিতাসকে আমরা ভুলি না – সেই তিতাস কাব্যের নয়, কথাসাহিত্যের।) বাংলাদেশের মানুষ, প্রকৃতি এবং ঘটনাপুঞ্জ আল মাহমুদের কাব্যবিশ্বের মৌল উপাদান। অন্তত তাঁর প্রথম তিনটি কাব্যগ্রন্থের। প্রকৃতি তাঁর কাব্যে আরো পূর্ববঙ্গময় হয়ে উঠেছে নদীর মুহুর্মুহু আবির্ভাবে। এবং প্রথম থেকেই
প্রকৃতি-আঁকিয়ে কবি শক্তিমান এবং অতুলনীয়। তাঁর তিতাসের সক্রিয়তা তাঁর কবিতাকে করে সজীব, নবপলিময় ও গতিগৌরবী। তাঁর ‘তিতাস’ (লোক লোকান্তর) শিরোনামের কবিতা থেকে কবির অসাধারণ সেই জীবনোপলব্ধির দেখা মেলে – ‘এ আমার শৈশবের নদী এই জলের প্রহার/ সারাদিন তীর ভাঙে, পাক খায় ঘোলা স্রোত টানে/ যৌবনের প্রতীকের মতো অসংখ্য নৌকার পালে/ গতির প্রবাহ টানে। মাটির কলসে জল ভরে/ ঘরে ফিরে সলিমের বউ তার ভিজে দুটি পায়।/ অদূরের বিল থেকে পানকৌড়ি, মাছরাঙা, বক/ পাখায় জলের ফোঁটা ফেলে দিয়ে উড়ে যায় দূরে;/ জনপদে কি অধীর কোলাহল মায়াবী এ নদী/ এনেছে স্রোতের মতো, আমি তার খুঁজিনি কিছুই।’ অনন্তর এই তিতাস নামে-বেনামে বয়েই যেতে থাকে তাঁর কবিতার জনপদ ধরে। আল মাহমুদের এই নদীই স্বতন্ত্র এক চরিত্র হয়ে ওঠে এবং তা ‘বাংলাদেশের কবিতা’চিহ্নিত মানচিত্রে। দিনেশ দাশের কাস্তে যেমন তেভাগার স্থানিকতার মাত্রা ছাড়িয়ে সর্বজনীনতায় উত্তীর্ণ হয়, তেমনি আল মাহমুদের তিতাস বাংলা কাব্যের নদীমাতৃকতায় এর স্থানীয়তাকে সংযুক্ত করে চিরন্তনতার স্রোতে। এমনকি আল মাহমুদের নদী-প্রকৃতিকে ইংরেজ কবি টিএস এলিয়টের নদীর কাব্যিক সন্দর্শনের চাইতেও অনেক বেশি বাঙ্ময় মনে হয়। এলিয়টের যেমন টেমস আল মাহমুদের তেমনই তিতাস। এলিয়টের ওয়েস্ট ল্যান্ড কাব্যে ঘুরেফিরে আসে টেমস নদী। মধুর সুরের রিফ্রেনে (‘মধুর টেমস, ধীরে বয়ে যায়, যতক্ষণ আমি গেয়ে যাই গান’) টেমস দেখা দেয়। দেখাই দেয় কেবল এবং কবিও অবলোকন করতে থাকেন সেই নদীকে; কিন্তু তা আল মাহমুদের তিতাসবহতার মতো স্পন্দিত হয় না। তিতাস বয়ে চলে যেন কবির সত্তার মধ্য দিয়ে, সুদূর অতীত থেকে বর্তমান হয়ে হয়তো অনাগত কালের দিকে। আর সেই বহমানতায় একা কবি নন, স্পৃষ্ট হতে থাকে এক বিপুল জীবনজঙ্গমতা।
আল মাহমুদের কবিতার এই জীবনজঙ্গমতার অঙ্গীকার সময়ের খাতে বিবর্তিত হতে থাকে। জনজীবনের অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ কবির আত্মতায় ছাপ পড়ে সময়ের ও সমকালের। সেই ছাপ রূপান্তরিত হয় তাঁর কাব্যাভিজ্ঞতায়। লোকজীবনের বার্তাবাহক কবি তাঁর সময়, সমকাল এবং পরিপার্শ্বকে পর্যবেক্ষণ করেন এক দর্শনোত্তীর্ণ অবস্থান থেকে। প্রথমদিককার কাব্যালোকনে যা ছিল দর্শন বা দেখা, বিশেষ করে সমষ্টির জীবনকে দেখা, পরের দিককার কাব্যালোকনে তা হয়ে উঠল জীবনদর্শন বা তাঁর নিজের জীবনের অবস্থান থেকে দেখা। এখানে প্রসঙ্গত তাঁরই এক কাব্য-সহযাত্রী শামসুর রাহমানের সঙ্গে তুলনা করলে দেখব, রাহমান তাঁর প্রথমদিককার আধেয়বদ্ধতাকে অতিক্রম করে যেতে থাকেন ক্রমপ্রসারণের মাধ্যমে। সেই প্রসারণে আল মাহমুদের বিপরীত ধরনে শামসুর রাহমান তাঁর নগরাবদ্ধ জীবনচেতনা থেকে ছড়িয়ে পড়তে থাকেন বৃহত্তর জনচেতনা, হয়তোবা জাতিগত চেতনার দিকে। তাঁর সেই কাব্যপরিক্রমায় বিশেষ ভূমিকা রাখে তাঁর কাব্যে সমকালীন জীবনোদ্যাপন। সমকালীন জীবনপ্রবাহের বিচিত্র সব ঘটনা কাব্যিক উপাদানে পরিণত হয়ে শামসুর রাহমানের কবিতাবিশ্বকে দেয় আশ্চর্য এক সম্প্রসারণ। সেখানে থাকে মানুষের সংগ্রাম, লড়াই, প্রতিরোধ যার একটি বিশাল চিত্রণ ঘটে বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাধারার মধ্য দিয়ে। ভাষা-আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ এবং সেই প্রেক্ষাপট ছাড়িয়ে অনন্তর বাঙালির স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলন, গণতন্ত্রের লড়াই এসব বিষয়ের কাব্যিক নির্মাণ শামসুর রাহমানের কবিতাভুবনকে বাঙালির ইতিহাসের সমান্তরাল সৃজনকল্পে পৌঁছে দেয়। শুধু শব্দের মাধ্যমে একজন কবির পক্ষেও যে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর হয়ে লড়াই করা সম্ভব শামসুর রাহমানের অসংখ্য কবিতা তার প্রমাণ। সমকালীন ঘটনার প্রতিক্রিয়াজাত কাব্যনির্মাণের দিক থেকে শামসুর রাহমান কেবল আল মাহমুদ নন, ছাড়িয়ে যান তাঁর সমকালীন অন্য অনেক কবিকেও।
সমকালীন ঘটনার প্রতিফলনজাত কাব্যনির্মাণই কাব্যবিচারে উৎকৃষ্টতার মাপকাঠি নয়। একই সমকালীন দুজন কবির পারস্পরিক অবস্থানের বাস্তবতা বোঝানোর জন্যেই সে-প্রসঙ্গের অবতারণা। কবিতা নিশ্চয়ই এক নিতান্ত ব্যক্তিগত কর্মকা- কিন্তু কবি কখনোই এমন কোনো অমত্মঃপুরবাসী নন যেটি সমস্ত রকম সামাজিকতার স্পর্শশূন্য। বরং কবিদের ‘মানব জাতির আইনসংগত প্রতিনিধি’ বলে অভিহিত করেন কবি মিলটন। যে-ব্যক্তি একটি জাতিত্বের প্রতিনিধি হয়ে তাঁর কর্মতৎপরতা চালাবেন তা যতই নিভৃতচারী হোক না কেন তার থাকে বৃহত্তর চেতনামুখী আত্মপ্রকাশ। এটি হয়তো শেষ পর্যন্ত তর্ক-প্রতর্কেরও বিষয়। মার্কিন লেখক টনি মরিসন বলেছেন, কল্পনার ব্যক্তিগত অনুশীলন বলে কিছু নেই, লেখা ব্যাপারটাই হলো রাজনৈতিক। মরিসন দেখান যে, আত্মজৈবনিক রচনার রীতিও প্রবলভাবে সামাজিক চেতনার পরিবাহী হতে পারে। মরিসনের দৃষ্টিতে মার্কিন কৃষ্ণাঙ্গ লেখকদের অনেক রচনাই আত্মজৈবনিক ধরনের; কিন্তু আত্মজৈবনিক সেসব রচনাই হয়ে উঠেছে বহুস্বর-‘প্রতিনিধিত্বপূর্ণ’। এসব রচনায় প্রতিফলিত ব্যক্তির জীবন একই সঙ্গে নিজস্ব নির্জনতা এবং পরস্ব প্রতিবেশিতায় খচিত। বলা যায় মার্কিন কবি অ্যালেন্স গিন্সবার্গের কথা, যাঁর কাব্যের শিরোনামই (হাউল) তাঁর ধরন বলে দেয়। প্যারিস রিভিউকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ব্রিটিশ কবিদের কাব্যভঙ্গিকে ‘কাপুরুষোচিত ভঙ্গি’ বলে অভিহিত করেন। বস্ত্তত ব্রিটিশ কবিদের ‘আপারটোন’ ‘হাই ক্লাস’ ধরনের স্বর তাঁর অপছন্দ ছিল। বৈরী প্রতিপক্ষতাকে একমাত্র উচ্চকণ্ঠ ভঙ্গিতেই প্রকাশ করা যায় – গিন্সবার্গ তাঁর কাব্যে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকে আক্রমণ করবার জন্যে প্রচুর খিস্তিখেউড়-শব্দ ব্যবহার করেন যেগুলোকে ‘গালাগাল’ আখ্যা দেওয়া যায়। শামসুর রাহমানের অনেক কবিতা আছে যেগুলোর বিষয়বস্ত্ত আন্দোলন-সংগ্রাম এবং যেগুলো স্বভাবত উচ্চকণ্ঠ বা ঘোষণাধর্মী। আবার, আল মাহমুদের তেমন কবিতা প্রায় দুর্লভ, যদিও তিনি ‘শুয়োরমুখো’র মতো খিস্তি-শব্দের দারুণ ব্যবহৃতি দেখিয়েছেন।
তবে ঘোষণাধর্মী কবিতা আল মাহমুদও লিখেছেন এবং সেই কবিতার সূত্র ধরে প্রথমে খানিকটা পিছিয়ে গিয়ে তারপর আবার সামনের দিকে আসা যেতে পারে। এক অর্থে গোটা বিশ্বই কবির বিষয়। কবি তাঁর স্থানগত সীমাবদ্ধতাকে পেরিয়ে যান তাঁর অভিজ্ঞতার আয়তন দিয়ে। ফলে, প্যালেস্টাইনে, আফ্রিকায়, মধ্যপ্রাচ্যের নানা দেশে কিংবা বিশ্বের যেখানেই মানুষের বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায় তা-ই অনুপ্রেরণা জোগায় কবিকে। অচেনা, একেবারে সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতার বিষয়বস্ত্তও হতে পারে কবির উপজীব্যতার লক্ষ্য। সুইডেনের কবি টমাস ট্রান্সটোমার যখন ইজমির, সাংহাই কিংবা আফ্রিকা নিয়ে কবিতা লেখেন অথবা হাঙ্গেরীয় কবি জর্জ ফালুদি লেখেন তাঞ্জিয়ের ভ্রমণের অভিজ্ঞতাজাত তাঁর ‘কসবাহ্’ নামক কবিতা, তখন কবির বিষয়বস্ত্তর অসীমতাই প্রমাণিত হয়। এমনকি অদেখা উপাদানও অভিজ্ঞতার বিষয়ে পরিণত হতে পারে। গ্রিক সম্রাট আলেকজান্ডার জেলেদের বলতেন, মাছেদের সম্পর্কে কোনো বিশেষ আকর্ষণীয় বা বিবেচনাযোগ্য কিছু লক্ষ করলে তারা যেন তা অ্যারিস্টটলকে জানায়। শামসুর রাহমান যখন আগামেমনন বা ইলেক্ট্রার প্রতীকে কাব্য রচনা করেন তখন তাঁর সেই গ্রিসমুখিতা নিয়ে কেউ প্রশ্ন করে না। কেননা, কবিরা এক সম্প্রসারিত বিশ্বের নাগরিক। বেঞ্জামিন মলয়ঁসের ফাঁসি হলে কি কেন্ সারউইয়ার মৃত্যুদ- হলে বাঙালি কবির কাব্যিক সাড়া প্রাসঙ্গিকতা পায়। তুরস্কের কামাল আতাতুর্ককে বাংলা কবিতায় অমর করে রাখেন কাজী নজরুল ইসলাম। বিষয় ছাড়াও বলা যায়, সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপটের কাব্যাঙ্গিক বা কাব্যভাবনাও হতে পারে কবির সৃজনশীলতার অনুপ্রেরণা। ইংরেজ কবি টিএস এলিয়ট বলেছিলেন, এডওয়ার্ড ফিটজেরাল্ডের রুবাইয়াৎ পাঠই ছিল তাঁর চার পঙ্ক্তির ‘কোয়ার্টেট’ (‘ফোর কোয়ার্টেট’) কবিতা রচনার অনুপ্রেরণা। কবি এজরা পাউন্ড জানান, চৈনিক দার্শনিক কনফুশিয়াসের
চিন্তা-দর্শনের প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে তিনি তাঁর ক্যান্টোজ-কবিতাবলি রচনা করেছিলেন। কাজী নজরুল ইসলামের পরে কবি ফররুখ আহমদ এবং সৈয়দ আলী আহসানের কথা বলা যায়, যাঁদের কবিতায় আরবি-ফারসি বিষয় ও আঙ্গিকের প্রভাব উল্লেখযোগ্য। পৃথিবীর নানান দেশের বিষয়বস্ত্ত আল মাহমুদের কবিতাতেও উপজীব্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সক্রেটিস, গোর্কি, হজরত মুহাম্মদ, বখতিয়ার, বেঞ্জামিন মোলয়েসি, ঈশপ, ইকবাল, বেদুইন, লায়লা – এইসব বিষয় নিয়ে কবিতা লিখেছেন তিনি। অর্থাৎ বিশ্বদৃষ্টির আয়ত অন্বেষণে ব্যাপৃত থেকে আল মাহমুদ তাঁর কাব্য-উপাদান সংগ্রহ করেছেন। তা সত্ত্বেও অনুসন্ধিৎসু পাঠকের কাব্যপাঠের অভিজ্ঞতা ঘটাতে পারে ভিন্ন আলোকসম্পাত।
১৯৮০ সালে প্রকাশিত হয় আল মাহমুদের পঞ্চম কাব্যগ্রন্থ অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না। এ-গ্রন্থের একটি কবিতা ‘ইহুদিরা’। পঁচিশ পঙ্ক্তির কবিতাটির দশটি পঙ্ক্তির উদ্ধৃতি অনুসরণ করি –
অনিষ্টকর অন্ধকারে যখন পৃথিবী
আচ্ছন্ন হয়ে যায়। চারদিকে ডাইনীদের
ফুৎকারের মতো হাওয়ার ফিসফাস,
আর পাখিরা গুপ্ত সাপের আতঙ্কে
আশ্রয় ছেড়ে অন্ধকারে ঝাঁপ দেয়
ঠিক তখুনি, ইহুদিরা হেসে ওঠে। …
ইহুদিরা হাসুক,
তবু সম্পদের সুষম বণ্টন অনিবার্য।
ইহুদিরা নাচুক, তবু
ধনতন্ত্রের পতন আসন্ন।
কবিতার সর্বশেষ পঙ্ক্তি ‘মানুষ মানুষের ভাই’ হলেও কবি আল মাহমুদের উপর্যুক্ত কাব্যিক স্বীকারোক্তি থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যাবে তিনি সমগ্র মানবজাতির প্রতিনিধি নন। কেননা, কবিতাটিতে মূল প্রতিপক্ষ ‘ইহুদিরা’ আর ধনতন্ত্র এবং ‘ইহুদিরা’ হয়ে পড়ে সমার্থক। এমনও মনে হওয়াটা স্বাভাবিক, বিশ্বে সম্পদের সুষম বণ্টন হওয়ার পথে বাধা ইহুদিরাই। এমন অভিজ্ঞতা আমাদের নতুন নয়। গবেষক অ্যান্থনি জুলিয়াস তাঁর কবি টিএস এলিয়ট বিষয়ক গবেষণাকর্মে (১৯৯৫ সালে প্রকাশিত) দেখান, এলিয়টের কবিতায় প্রতিফলিত হয়েছে স্পষ্ট জাতিবিদ্বেষ। তাঁর অনেক কবিতায় এলিয়ট প্রত্যক্ষভাবে ইহুদিদের প্রতি ঘৃণা-অশ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন। ‘বারব্যাংক উইথ আ ব্যাডেকার : বস্ন্যাইস্টাইন উইথ আ সিগার’, ‘সুইনি অ্যামাং দ্য নাইটিংগেইলস্’ কিংবা ‘আ কুকিং এগ’ প্রভৃতি কবিতার বিশেস্নষণে এলিয়টের জাতিবিদ্বেষ ধরা পড়ে। কবির ধর্মাশ্রয় বা ধর্মাশ্রিত ভাবধারানির্ভর কবিতারচনা কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। স্বয়ং এলিয়টই বলেছেন (প্যারিস রিভিউ পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে), বাইবেলের কাব্যিকতা ধর্মীয় অভিজ্ঞতার সমান্তরালে আসাটা স্বাভাবিক। বিশেষ করে, এলিয়টের মতে, বাইবেলের ‘সাম’ কিংবা ‘ইসাইয়াহ্’ অংশ তেমন অভিজ্ঞতার জন্ম দেয়। এলিয়ট অবশ্য এমনও বলেন যে, বাইবেলকে সাহিত্য হিসেবে বিবেচনা না করে বরং সেটিকে শব্দের অভিজ্ঞতা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। কিন্তু বাইবেলের অভিজ্ঞতাকে জাতিবিদ্বেষের লক্ষ্যে পরিচালনা করাটা সৃজনশীল কবিস্বভাবের জন্যে বেমানান। গবেষক অ্যান্থনি জুলিয়াসের গবেষণাকর্ম সেরকম ধারণাই দেয় আমাদের। ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয় আল মাহমুদের ষষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ বখতিয়ারের ঘোড়া। গ্রন্থের একটি কবিতায় (‘হত্যাকারীদের মানচিত্র’) কবি জানান, ‘আফগানিস্তান আমার দেশ আমার/ ভালোবাসা …/ আফগানিস্তান আজ কার দেশ নয়? আফগানিস্তান/ সব স্বাধীন মানুষের অপহৃত মাতৃভূমি।’ কবিতাটিতে তখনকার আফগানিস্তানে সোভিয়েত ইউনিয়নের উপস্থিতি ‘সাম্রাজ্যবাদ’ হিসেবে চিহ্নিত এবং তখন এমন কবিতা বাংলা ভাষা ছাড়াও বিশ্বের বহু ভাষার কবিরা রচনা করেছিলেন। আবার ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত আল মাহমুদের একাদশ কাব্যগ্রন্থের ‘রাফাতের লাশের ওপর জুঁইফুল’ কবিতাটি পাঠ করলে দেখব কবি ভাবছেন ‘ইসলামকে কবর দিতে’ হত্যা করা হয়েছে ‘রাফাত মাহমুদ ও তার উনত্রিশ সহযাত্রী’কে। এই কবিতাটাই এক সরব ঘোষণা হয়ে দাঁড়ায় অন্তিমে যখন কবির কণ্ঠে ধ্বনিত হতে থাকে –
খুঁড়ে ফ্যালো গোটা আফ্রিকা কালো মহাদেশ। কায়রোর
কবরখানায় পবিত্র কোরআনকে পুঁতে ফেলে
যারা হোটেলগুলোতে মদের গস্নাস হাতে উদর নৃত্যে মশগুল
এখন পশ্চিম আফ্রিকা তাদের বিভীষিকা দেখাচ্ছে।
মহাদেশের মাটি চৌচির করে আলজেরিয়ায় বেরিয়ে এসেছে
আল্লার এই অদ্ভুত কিতাব।
আপন বিশ্বাসে স্থির আল মাহমুদকে আমরা সবশেষে এমন নির্দ্বান্দ্বিকভাবে পাই।
আল মাহমুদের কবিতা পাঠ করি। একদা ১৯৬৩ সালে তিনি প্রত্ন-মহেঞ্জোদারোর মৃৎপাত্রে গাঁথা অক্ষরের দিকে দৃষ্টিপাত করেছিলেন। যদিও ‘মানুষের শিল্প’কে তাঁর কাছে ‘নির্বোধের নিত্য কারিগরি’ মনে হয়েছে, তবু শব্দশিল্পের গায়ে তিনি তাঁর স্বাক্ষর রেখে যান। তিতাস নদী বেয়ে চলে তাঁর ‘সোনার বৈঠার ঘায়ে পবনের নাও’। কিন্তু আসে দুর্দিন আর খরাগ্রস্ততা, তাই তাঁর ‘সমস্ত গন্তব্যে একটি একটি তালা’ ঝোলে। কবির অন্তরের সর্বত্র বাসা বাঁধে প্রবল অবিশ্বাস। সেটা ছিল প্রত্যাশিতই। পাকিস্তানি সামরিক শাসনামলের বন্ধ্যত্বকে তিনি বিদ্ধ করেছিলেন দারুণ করণ-কুশলতায় – ‘শুনুন, রবীন্দ্রনাথ আপনার সমস্ত কবিতা/ আমি যদি পুঁতে রেখে দিনরাত পানি ঢালতে থাকি/ নিশ্চিত বিশ্বাস এই, একটিও উদ্ভিদ হবে না/ আপনার বাংলাদেশ এ রকম নিষ্ফলা, ঠাকুর!’ আবার, দেশ মুক্ত-স্বাধীন হলেও কবি আল মাহমুদ দেখতে পান ‘বন্দুকের নল’ তাঁর ‘মাথার দিকেই তাক করা’। এবং ১৯৮৫ সালে বাঙালি কবি আল মাহমুদের সোৎসাহী কণ্ঠে ধ্বনিত হয় নতুন এক প্রণোদনা এবং কবিকে তখন সেই উৎসাহ প্রকাশ করার জন্য আশ্রয় নিতে হয় বাংলার পরিবর্তে বিদেশি ভাষার –
আজ আবার হৃদয়ে কেবল যুদ্ধের দামামা
মনে হয় রক্তেই ফয়সালা।
বারুদই বিচারক। আর
স্বপ্নের ভেতর জেহাদ জেহাদ বলে জেগে ওঠা।
(‘বখতিয়ারের ঘোড়া’, বখতিয়ারের ঘোড়া)
উপর্যুক্ত উচ্চারণে আমরা সংশয়ে পড়ি – এ-কবির বিশ্বাস নাকি অবিশ্বাসের প্রকাশ!
দ্রম্নতধাবমান তরঙ্গ হয়ে ছুটতে থাকে কবিতা, অজস্র কবিতা – আল মাহমুদকে তাঁর প্রয়াণের পরে মনে করতেই কতকাল আগেকার সেসব কবিতা ভিড় করে। কবিতারা জ্বলে আর নেভে কিন্তু একেবারে নির্বাপিত হয় না। বরং কবিতাগুলো উপলক্ষের অপেক্ষাতেই থেকে যায় ফের জেগে ওঠার জন্য। দেখতে পাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘দুঃসময়’, কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’, জীবনানন্দ দাশের ‘আবার আসিব ফিরে’, অমিয় চক্রবর্তীর ‘চিরদিন’, সুধীন্দ্রনাথ দত্তের ‘যযাতি’, বুদ্ধদেব বসুর ‘ধৃতরাষ্ট্রের বিলাপ’, বিষ্ণু দে-র ‘ঘোড়সওয়ার’, দিনেশ দাশের ‘কাস্তে’, জসীম উদ্দীনের ‘কবর’, ফররুখ আহমদের ‘ডাহুক’, আহসান হাবীবের ‘আমি কোনো আগন্তুক নই’, আবদুল গনি হাজারীর ‘কতিপয় আমলার স্ত্রী’, সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ‘মে-দিনের কবিতা’, শামসুর রাহমানের ‘বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা’, শঙ্খ ঘোষের ‘বাবরের প্রার্থনা’, শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের ‘ভালোবাসা ছাড়া’, শহীদ কাদরীর ‘উত্তরাধিকার’, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘কেউ কথা রাখে নি’, রফিক আজাদের ‘চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া’, মোহাম্মদ রফিকের ‘সারা বিষ্ণুপুর জুড়ে’, মহাদেব সাহার ‘চিঠি দিও’, নির্মলেন্দু গুণের ‘আমি আজ কারো রক্ত চাইতে আসি নি’, হুমায়ুন আজাদের ‘সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে’, আবুল হাসানের ‘উদিত দুঃখের দেশ’, হুমায়ুন কবিরের ‘এ কেমন শহর’, আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর ‘আমি কিংবদমত্মীর কথা বলছি’, সৈয়দ শামসুল হকের ‘নৈশভোজে রক্তপাত’ এসব কবিতার সঙ্গে একজোটে ঘূর্ণাবর্ত সৃষ্টি করছে আল মাহমুদের ‘কালের কলস’, ‘রবীন্দ্রনাথ’, ‘ভারতবর্ষ’। হ্যাঁ, ক্যালভিনো যেমনটি বলেছিলেন, কবি আল মাহমুদ সত্তাকে ভারমুক্ত করার প্রচেষ্টায় আকুল –
লোকালয় থেকে দূরে, ধোঁয়া অগ্নি মশলার গন্ধ থেকে দূরে
এই দলকলসের ঝোপে আমার কাফন পরে আমি কতকাল
কাত হয়ে শুয়ে থেকে দেখে যাবো সোনার কলস আর বৃষের বিবাদ।
(‘কালের কলস’, কালের কলস)
একদিক থেকে বিবেচনা করলে কবিতা এক বিশেষ ধরনের ভাষিকতা, যেখানে বিন্যাস আর সজ্জার সীমানায় স্বয়ং কবি অধীশ্বরের মতো বিরাজমান। একমাত্র কবিতাতেই ঘটতে পারে রচয়িতা ‘আমি’র আত্মম্ভর প্রক্ষেপ। কিন্তু কবিতা কেবল ভাষা নয়, নয় কেবল আঙ্গিকও। কবিতা সংস্কৃতিও বটে। কবিতা সেই সংস্কৃতি যেটির অভ্যন্তরে বয়ে চলে এক জীবনপ্রবাহ। সেখানে থাকে মানুষ, প্রকৃতি, সময়, সমকাল, ইতিহাস এবং এসবের অতিরেক বহু কিছু। কবির সুচয়নে সেই জীবনের প্রবাহ স্ফূর্ততা পায়। কবিতা-অভ্যন্তরীণ এসব উপাদানের মধ্যে কোন কোন উপাদান কবির সংবেদনা ও মনোযোগের কেন্দ্র সেটা অনুভব করা যায় কবিকে পাঠ করলে। এসব উপাদানকে অবলম্বন করে কবি হয়ে ওঠেন এক জীবন-প্রতিনিধি এবং তাঁর শব্দজগৎও তখন সংযোগ রক্ষাকারী সেতু হয়ে দাঁড়ায়। এমনকি সেই জগতের কবি যদি হন তথাকথিত সভ্যতার মানদ–র অক্ষরজ্ঞানবিহীন কোনো বেদুইন তবু তাঁর উচ্চারণ অর্থপূর্ণ। লেখা নয়, শুধু শব্দের উচ্চারণই তাঁর পৃথিবীকে করে তোলে প্রতিনিধিত্বপূর্ণ। লায়লা আবু-লুঘোড তাঁর বেদুইন সমাজবিষয়ক গ্রন্থে তাই জানান, বেদুইনদের কবিতা গোত্রসমূহের পারস্পরিক সম্পর্ক, দূরত্ব, ঐতিহ্য, বর্তমান সবকিছুকে প্রকাশ করে। অথচ, বেদুইনদের সেসব কবিতা লিখিত হয়নি, হয়েছে গীত। সেদিক থেকে বিবেচনা করলে রচিত কবিতার পরিপ্রেক্ষিতে থাকে চিন্তা, পরিকল্পনা এবং দর্শনের সুস্পষ্ট স্বাক্ষর। আর সেই কবিতা যদি হয় আল মাহমুদের ক্ষীণকায় একটি নমুনা তবু তার মুকুরে ঘটে নির্বিশেষের প্রতিফলন – ‘ট্রাক! ট্রাক! ট্রাক!/ শুয়োরমুখো ট্রাক আসবে/ দুয়োর বেঁধে রাখ।/ কেন বাঁধবো দোর জানালা/ তুলবো কেন খিল?/ আসাদ গেছে মিছিল নিয়ে/ ফিরবে সে মিছিল।/ ট্রাক! ট্রাক! ট্রাক!/ ট্রাকের মুখে আগুন দিতে/ মতিয়ুরকে ডাক।/ কোথায় পাবো মতিয়ুরকে/ ঘুমিয়ে আছে সে!/ তোরাই তবে সোনামাণিক/ আগুন জ্বেলে দে।’ (‘উনসত্তরের ছড়া-১’, পাখির কাছে ফুলের কাছে)। কবি আল মাহমুদ এখানে একই সঙ্গে সমকাল, ইতিহাস, দেশ ও জাতির প্রতিনিধি। কিংবা আরো স্পষ্টভাবে বললে এক ঐতিহাসিক জীবনপ্রবাহের প্রতিনিধি। দীর্ঘকালীন কাব্যিক পর্যটনের পটভূমিতে আল মাহমুদের কবিতা জাগিয়ে তোলে নানামাত্রিক বিচিত্রতা ও দ্বান্দ্বিকতার আভাস।
বাংলাদেশের সাহিত্যে পূর্ববঙ্গ-সচেতনতার দুই সার্থক রূপকার সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ এবং আল মাহমুদ। একজন কথাসাহিত্যে এবং অন্যজন কবিতায় প্রয়োগ ঘটান সেই সচেতনতার। মানিক-তারাশঙ্কর-বিভূতিভূষণের সূত্রে বাংলা কথাসাহিত্য জনজীবনের গভীর প্রদেশসঞ্চারী হলেও বাংলাদেশের এই পূর্ব প্রান্তিকতায় যেখানে জাতিত্ব প্রতিষ্ঠার মতো বিশাল সংগ্রামে মানুষ একদিন জোটবদ্ধ হবে, সেই জনপদের স্পন্দন থেকে যায় অশ্রম্নত। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্র উপন্যাসে উঠে এলো পূর্ব প্রামেত্মর সমষ্টিবদ্ধ মানুষের কাহিনি, যে-মানুষেরা একেবারে মৃত্তিকাসংলগ্ন এবং যাদের দিনানুদিনের বাস্তবতার প্রতি নজর ছিল না কারো। ওয়ালীউল্লাহ্ তাদের রোজকার জীবনের কাহিনিই শুধু উপস্থাপন করলেন না, অনুসন্ধান করলেন তাদের বর্তমানতার নেপথ্যে থাকা সুদীর্ঘ পরম্পরার ঐতিহাসিক বাস্তবতা। পরবর্তীকালে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্র অনুসন্ধান সমষ্টি থেকে ক্রমে ব্যক্তিসত্তার সামাজিক চৈতন্যের দিকে কেন্দ্রীভূত হয়। সেটা করতে গিয়ে তিনি অস্তিত্ববাদ এবং চৈতন্যপ্রবাহরীতির আশ্রয় নেন। তবে সমষ্টিবদ্ধ জীবনের আয়তনটিকে তিনি কখনো ছেড়ে যান না। বাংলা কাব্যভুবন তিরিশের পাঁচ কবির পদচারণায় জাগিয়েছিল এক নতুন মুখরতা। তাঁদের কাব্যচেতনা পরিস্নাত হয়েছিল ইউরোপীয় নান্দনিকতার প্রেক্ষণাভিজ্ঞতায়। যদিও জীবনানন্দ দাশ (এবং খানিকটা বিষ্ণু দে) তাঁদের কাব্যে পূর্ব প্রান্তিকতায় থাকা মানুষদের সমষ্টিবদ্ধ জীবনকে স্পর্শ করতে চেয়েছিলেন। জীবনানন্দ দাশকে বাদ দিলে বাংলা কাব্যে নিম্নবঙ্গের দৈশিক চেতনার উপস্থিতি খুব ঝাপসা আর অস্পষ্ট। সেই ঝাপসা আর অস্পষ্ট আভাস উজ্জ্বলতা পেতে শুরু করল যখন একে-একে প্রকাশিত হতে লাগল লোক লোকান্তর, কালের কলস ও সোনালি কাবিন। অবশ্য আল মাহমুদই আবার তাঁর উপর্যুক্ত ত্রয়ী-কাব্যের সামষ্টিকতার চেতনা ছেড়ে কালক্রমে যাত্রা করবেন এক ব্যক্তিক-দার্শনিক অনুসন্ধানের দিকে। এমনকি তাঁর কাব্যচেতনা যে তাঁরই সচেতন কবিতাকর্মের পরিণতিতে ক্ষেত্রবিশেষে প্রসারণের পরিবর্তে গ্রহণ করবে সংকোচনকে, সেই দর্পিত স্বাক্ষরও তিনি রেখে যান তাঁর পাঠকদের জন্য।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ যেমন তাঁর সৃষ্ট মহববতনগর গ্রামের অবলম্বনে মৃত্তিকাসংলগ্ন মানবম-লীর জীবনকে ধারণ করেন, তেমনি কবি আল মাহমুদ সেই জীবনকে ধারণ করেন তাঁর তিতাস-বিধৌত পরিক্রমায়। মহববতনগর একমাত্র ওয়ালীউল্লাহ্রই এবং তিতাস আল মাহমুদের। (অদ্বৈতর তিতাসকে আমরা ভুলি না – সেই তিতাস কাব্যের নয়, কথাসাহিত্যের।) বাংলাদেশের মানুষ, প্রকৃতি এবং ঘটনাপুঞ্জ আল মাহমুদের কাব্যবিশ্বের মৌল উপাদান। অন্তত তাঁর প্রথম তিনটি কাব্যগ্রন্থের। প্রকৃতি তাঁর কাব্যে আরো পূর্ববঙ্গময় হয়ে উঠেছে নদীর মুহুর্মুহু আবির্ভাবে। এবং প্রথম থেকেই
প্রকৃতি-আঁকিয়ে কবি শক্তিমান এবং অতুলনীয়। তাঁর তিতাসের সক্রিয়তা তাঁর কবিতাকে করে সজীব, নবপলিময় ও গতিগৌরবী। তাঁর ‘তিতাস’ (লোক লোকান্তর) শিরোনামের কবিতা থেকে কবির অসাধারণ সেই জীবনোপলব্ধির দেখা মেলে – ‘এ আমার শৈশবের নদী এই জলের প্রহার/ সারাদিন তীর ভাঙে, পাক খায় ঘোলা স্রোত টানে/ যৌবনের প্রতীকের মতো অসংখ্য নৌকার পালে/ গতির প্রবাহ টানে। মাটির কলসে জল ভরে/ ঘরে ফিরে সলিমের বউ তার ভিজে দুটি পায়।/ অদূরের বিল থেকে পানকৌড়ি, মাছরাঙা, বক/ পাখায় জলের ফোঁটা ফেলে দিয়ে উড়ে যায় দূরে;/ জনপদে কি অধীর কোলাহল মায়াবী এ নদী/ এনেছে স্রোতের মতো, আমি তার খুঁজিনি কিছুই।’ অনন্তর এই তিতাস নামে-বেনামে বয়েই যেতে থাকে তাঁর কবিতার জনপদ ধরে। আল মাহমুদের এই নদীই স্বতন্ত্র এক চরিত্র হয়ে ওঠে এবং তা ‘বাংলাদেশের কবিতা’চিহ্নিত মানচিত্রে। দিনেশ দাশের কাস্তে যেমন তেভাগার স্থানিকতার মাত্রা ছাড়িয়ে সর্বজনীনতায় উত্তীর্ণ হয়, তেমনি আল মাহমুদের তিতাস বাংলা কাব্যের নদীমাতৃকতায় এর স্থানীয়তাকে সংযুক্ত করে চিরন্তনতার স্রোতে। এমনকি আল মাহমুদের নদী-প্রকৃতিকে ইংরেজ কবি টিএস এলিয়টের নদীর কাব্যিক সন্দর্শনের চাইতেও অনেক বেশি বাঙ্ময় মনে হয়। এলিয়টের যেমন টেমস আল মাহমুদের তেমনই তিতাস। এলিয়টের ওয়েস্ট ল্যান্ড কাব্যে ঘুরেফিরে আসে টেমস নদী। মধুর সুরের রিফ্রেনে (‘মধুর টেমস, ধীরে বয়ে যায়, যতক্ষণ আমি গেয়ে যাই গান’) টেমস দেখা দেয়। দেখাই দেয় কেবল এবং কবিও অবলোকন করতে থাকেন সেই নদীকে; কিন্তু তা আল মাহমুদের তিতাসবহতার মতো স্পন্দিত হয় না। তিতাস বয়ে চলে যেন কবির সত্তার মধ্য দিয়ে, সুদূর অতীত থেকে বর্তমান হয়ে হয়তো অনাগত কালের দিকে। আর সেই বহমানতায় একা কবি নন, স্পৃষ্ট হতে থাকে এক বিপুল জীবনজঙ্গমতা।
আল মাহমুদের কবিতার এই জীবনজঙ্গমতার অঙ্গীকার সময়ের খাতে বিবর্তিত হতে থাকে। জনজীবনের অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ কবির আত্মতায় ছাপ পড়ে সময়ের ও সমকালের। সেই ছাপ রূপান্তরিত হয় তাঁর কাব্যাভিজ্ঞতায়। লোকজীবনের বার্তাবাহক কবি তাঁর সময়, সমকাল এবং পরিপার্শ্বকে পর্যবেক্ষণ করেন এক দর্শনোত্তীর্ণ অবস্থান থেকে। প্রথমদিককার কাব্যালোকনে যা ছিল দর্শন বা দেখা, বিশেষ করে সমষ্টির জীবনকে দেখা, পরের দিককার কাব্যালোকনে তা হয়ে উঠল জীবনদর্শন বা তাঁর নিজের জীবনের অবস্থান থেকে দেখা। এখানে প্রসঙ্গত তাঁরই এক কাব্য-সহযাত্রী শামসুর রাহমানের সঙ্গে তুলনা করলে দেখব, রাহমান তাঁর প্রথমদিককার আধেয়বদ্ধতাকে অতিক্রম করে যেতে থাকেন ক্রমপ্রসারণের মাধ্যমে। সেই প্রসারণে আল মাহমুদের বিপরীত ধরনে শামসুর রাহমান তাঁর নগরাবদ্ধ জীবনচেতনা থেকে ছড়িয়ে পড়তে থাকেন বৃহত্তর জনচেতনা, হয়তোবা জাতিগত চেতনার দিকে। তাঁর সেই কাব্যপরিক্রমায় বিশেষ ভূমিকা রাখে তাঁর কাব্যে সমকালীন জীবনোদ্যাপন। সমকালীন জীবনপ্রবাহের বিচিত্র সব ঘটনা কাব্যিক উপাদানে পরিণত হয়ে শামসুর রাহমানের কবিতাবিশ্বকে দেয় আশ্চর্য এক সম্প্রসারণ। সেখানে থাকে মানুষের সংগ্রাম, লড়াই, প্রতিরোধ যার একটি বিশাল চিত্রণ ঘটে বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাধারার মধ্য দিয়ে। ভাষা-আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ এবং সেই প্রেক্ষাপট ছাড়িয়ে অনন্তর বাঙালির স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলন, গণতন্ত্রের লড়াই এসব বিষয়ের কাব্যিক নির্মাণ শামসুর রাহমানের কবিতাভুবনকে বাঙালির ইতিহাসের সমান্তরাল সৃজনকল্পে পৌঁছে দেয়। শুধু শব্দের মাধ্যমে একজন কবির পক্ষেও যে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর হয়ে লড়াই করা সম্ভব শামসুর রাহমানের অসংখ্য কবিতা তার প্রমাণ। সমকালীন ঘটনার প্রতিক্রিয়াজাত কাব্যনির্মাণের দিক থেকে শামসুর রাহমান কেবল আল মাহমুদ নন, ছাড়িয়ে যান তাঁর সমকালীন অন্য অনেক কবিকেও।
সমকালীন ঘটনার প্রতিফলনজাত কাব্যনির্মাণই কাব্যবিচারে উৎকৃষ্টতার মাপকাঠি নয়। একই সমকালীন দুজন কবির পারস্পরিক অবস্থানের বাস্তবতা বোঝানোর জন্যেই সে-প্রসঙ্গের অবতারণা। কবিতা নিশ্চয়ই এক নিতান্ত ব্যক্তিগত কর্মকা- কিন্তু কবি কখনোই এমন কোনো অমত্মঃপুরবাসী নন যেটি সমস্ত রকম সামাজিকতার স্পর্শশূন্য। বরং কবিদের ‘মানব জাতির আইনসংগত প্রতিনিধি’ বলে অভিহিত করেন কবি মিলটন। যে-ব্যক্তি একটি জাতিত্বের প্রতিনিধি হয়ে তাঁর কর্মতৎপরতা চালাবেন তা যতই নিভৃতচারী হোক না কেন তার থাকে বৃহত্তর চেতনামুখী আত্মপ্রকাশ। এটি হয়তো শেষ পর্যন্ত তর্ক-প্রতর্কেরও বিষয়। মার্কিন লেখক টনি মরিসন বলেছেন, কল্পনার ব্যক্তিগত অনুশীলন বলে কিছু নেই, লেখা ব্যাপারটাই হলো রাজনৈতিক। মরিসন দেখান যে, আত্মজৈবনিক রচনার রীতিও প্রবলভাবে সামাজিক চেতনার পরিবাহী হতে পারে। মরিসনের দৃষ্টিতে মার্কিন কৃষ্ণাঙ্গ লেখকদের অনেক রচনাই আত্মজৈবনিক ধরনের; কিন্তু আত্মজৈবনিক সেসব রচনাই হয়ে উঠেছে বহুস্বর-‘প্রতিনিধিত্বপূর্ণ’। এসব রচনায় প্রতিফলিত ব্যক্তির জীবন একই সঙ্গে নিজস্ব নির্জনতা এবং পরস্ব প্রতিবেশিতায় খচিত। বলা যায় মার্কিন কবি অ্যালেন্স গিন্সবার্গের কথা, যাঁর কাব্যের শিরোনামই (হাউল) তাঁর ধরন বলে দেয়। প্যারিস রিভিউকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ব্রিটিশ কবিদের কাব্যভঙ্গিকে ‘কাপুরুষোচিত ভঙ্গি’ বলে অভিহিত করেন। বস্ত্তত ব্রিটিশ কবিদের ‘আপারটোন’ ‘হাই ক্লাস’ ধরনের স্বর তাঁর অপছন্দ ছিল। বৈরী প্রতিপক্ষতাকে একমাত্র উচ্চকণ্ঠ ভঙ্গিতেই প্রকাশ করা যায় – গিন্সবার্গ তাঁর কাব্যে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকে আক্রমণ করবার জন্যে প্রচুর খিস্তিখেউড়-শব্দ ব্যবহার করেন যেগুলোকে ‘গালাগাল’ আখ্যা দেওয়া যায়। শামসুর রাহমানের অনেক কবিতা আছে যেগুলোর বিষয়বস্ত্ত আন্দোলন-সংগ্রাম এবং যেগুলো স্বভাবত উচ্চকণ্ঠ বা ঘোষণাধর্মী। আবার, আল মাহমুদের তেমন কবিতা প্রায় দুর্লভ, যদিও তিনি ‘শুয়োরমুখো’র মতো খিস্তি-শব্দের দারুণ ব্যবহৃতি দেখিয়েছেন।
তবে ঘোষণাধর্মী কবিতা আল মাহমুদও লিখেছেন এবং সেই কবিতার সূত্র ধরে প্রথমে খানিকটা পিছিয়ে গিয়ে তারপর আবার সামনের দিকে আসা যেতে পারে। এক অর্থে গোটা বিশ্বই কবির বিষয়। কবি তাঁর স্থানগত সীমাবদ্ধতাকে পেরিয়ে যান তাঁর অভিজ্ঞতার আয়তন দিয়ে। ফলে, প্যালেস্টাইনে, আফ্রিকায়, মধ্যপ্রাচ্যের নানা দেশে কিংবা বিশ্বের যেখানেই মানুষের বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায় তা-ই অনুপ্রেরণা জোগায় কবিকে। অচেনা, একেবারে সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতার বিষয়বস্ত্তও হতে পারে কবির উপজীব্যতার লক্ষ্য। সুইডেনের কবি টমাস ট্রান্সটোমার যখন ইজমির, সাংহাই কিংবা আফ্রিকা নিয়ে কবিতা লেখেন অথবা হাঙ্গেরীয় কবি জর্জ ফালুদি লেখেন তাঞ্জিয়ের ভ্রমণের অভিজ্ঞতাজাত তাঁর ‘কসবাহ্’ নামক কবিতা, তখন কবির বিষয়বস্ত্তর অসীমতাই প্রমাণিত হয়। এমনকি অদেখা উপাদানও অভিজ্ঞতার বিষয়ে পরিণত হতে পারে। গ্রিক সম্রাট আলেকজান্ডার জেলেদের বলতেন, মাছেদের সম্পর্কে কোনো বিশেষ আকর্ষণীয় বা বিবেচনাযোগ্য কিছু লক্ষ করলে তারা যেন তা অ্যারিস্টটলকে জানায়। শামসুর রাহমান যখন আগামেমনন বা ইলেক্ট্রার প্রতীকে কাব্য রচনা করেন তখন তাঁর সেই গ্রিসমুখিতা নিয়ে কেউ প্রশ্ন করে না। কেননা, কবিরা এক সম্প্রসারিত বিশ্বের নাগরিক। বেঞ্জামিন মলয়ঁসের ফাঁসি হলে কি কেন্ সারউইয়ার মৃত্যুদ- হলে বাঙালি কবির কাব্যিক সাড়া প্রাসঙ্গিকতা পায়। তুরস্কের কামাল আতাতুর্ককে বাংলা কবিতায় অমর করে রাখেন কাজী নজরুল ইসলাম। বিষয় ছাড়াও বলা যায়, সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপটের কাব্যাঙ্গিক বা কাব্যভাবনাও হতে পারে কবির সৃজনশীলতার অনুপ্রেরণা। ইংরেজ কবি টিএস এলিয়ট বলেছিলেন, এডওয়ার্ড ফিটজেরাল্ডের রুবাইয়াৎ পাঠই ছিল তাঁর চার পঙ্ক্তির ‘কোয়ার্টেট’ (‘ফোর কোয়ার্টেট’) কবিতা রচনার অনুপ্রেরণা। কবি এজরা পাউন্ড জানান, চৈনিক দার্শনিক কনফুশিয়াসের
চিন্তা-দর্শনের প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে তিনি তাঁর ক্যান্টোজ-কবিতাবলি রচনা করেছিলেন। কাজী নজরুল ইসলামের পরে কবি ফররুখ আহমদ এবং সৈয়দ আলী আহসানের কথা বলা যায়, যাঁদের কবিতায় আরবি-ফারসি বিষয় ও আঙ্গিকের প্রভাব উল্লেখযোগ্য। পৃথিবীর নানান দেশের বিষয়বস্ত্ত আল মাহমুদের কবিতাতেও উপজীব্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সক্রেটিস, গোর্কি, হজরত মুহাম্মদ, বখতিয়ার, বেঞ্জামিন মোলয়েসি, ঈশপ, ইকবাল, বেদুইন, লায়লা – এইসব বিষয় নিয়ে কবিতা লিখেছেন তিনি। অর্থাৎ বিশ্বদৃষ্টির আয়ত অন্বেষণে ব্যাপৃত থেকে আল মাহমুদ তাঁর কাব্য-উপাদান সংগ্রহ করেছেন। তা সত্ত্বেও অনুসন্ধিৎসু পাঠকের কাব্যপাঠের অভিজ্ঞতা ঘটাতে পারে ভিন্ন আলোকসম্পাত।
১৯৮০ সালে প্রকাশিত হয় আল মাহমুদের পঞ্চম কাব্যগ্রন্থ অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না। এ-গ্রন্থের একটি কবিতা ‘ইহুদিরা’। পঁচিশ পঙ্ক্তির কবিতাটির দশটি পঙ্ক্তির উদ্ধৃতি অনুসরণ করি –
অনিষ্টকর অন্ধকারে যখন পৃথিবী
আচ্ছন্ন হয়ে যায়। চারদিকে ডাইনীদের
ফুৎকারের মতো হাওয়ার ফিসফাস,
আর পাখিরা গুপ্ত সাপের আতঙ্কে
আশ্রয় ছেড়ে অন্ধকারে ঝাঁপ দেয়
ঠিক তখুনি, ইহুদিরা হেসে ওঠে। …
ইহুদিরা হাসুক,
তবু সম্পদের সুষম বণ্টন অনিবার্য।
ইহুদিরা নাচুক, তবু
ধনতন্ত্রের পতন আসন্ন।
কবিতার সর্বশেষ পঙ্ক্তি ‘মানুষ মানুষের ভাই’ হলেও কবি আল মাহমুদের উপর্যুক্ত কাব্যিক স্বীকারোক্তি থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যাবে তিনি সমগ্র মানবজাতির প্রতিনিধি নন। কেননা, কবিতাটিতে মূল প্রতিপক্ষ ‘ইহুদিরা’ আর ধনতন্ত্র এবং ‘ইহুদিরা’ হয়ে পড়ে সমার্থক। এমনও মনে হওয়াটা স্বাভাবিক, বিশ্বে সম্পদের সুষম বণ্টন হওয়ার পথে বাধা ইহুদিরাই। এমন অভিজ্ঞতা আমাদের নতুন নয়। গবেষক অ্যান্থনি জুলিয়াস তাঁর কবি টিএস এলিয়ট বিষয়ক গবেষণাকর্মে (১৯৯৫ সালে প্রকাশিত) দেখান, এলিয়টের কবিতায় প্রতিফলিত হয়েছে স্পষ্ট জাতিবিদ্বেষ। তাঁর অনেক কবিতায় এলিয়ট প্রত্যক্ষভাবে ইহুদিদের প্রতি ঘৃণা-অশ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন। ‘বারব্যাংক উইথ আ ব্যাডেকার : বস্ন্যাইস্টাইন উইথ আ সিগার’, ‘সুইনি অ্যামাং দ্য নাইটিংগেইলস্’ কিংবা ‘আ কুকিং এগ’ প্রভৃতি কবিতার বিশেস্নষণে এলিয়টের জাতিবিদ্বেষ ধরা পড়ে। কবির ধর্মাশ্রয় বা ধর্মাশ্রিত ভাবধারানির্ভর কবিতারচনা কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। স্বয়ং এলিয়টই বলেছেন (প্যারিস রিভিউ পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে), বাইবেলের কাব্যিকতা ধর্মীয় অভিজ্ঞতার সমান্তরালে আসাটা স্বাভাবিক। বিশেষ করে, এলিয়টের মতে, বাইবেলের ‘সাম’ কিংবা ‘ইসাইয়াহ্’ অংশ তেমন অভিজ্ঞতার জন্ম দেয়। এলিয়ট অবশ্য এমনও বলেন যে, বাইবেলকে সাহিত্য হিসেবে বিবেচনা না করে বরং সেটিকে শব্দের অভিজ্ঞতা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। কিন্তু বাইবেলের অভিজ্ঞতাকে জাতিবিদ্বেষের লক্ষ্যে পরিচালনা করাটা সৃজনশীল কবিস্বভাবের জন্যে বেমানান। গবেষক অ্যান্থনি জুলিয়াসের গবেষণাকর্ম সেরকম ধারণাই দেয় আমাদের। ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয় আল মাহমুদের ষষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ বখতিয়ারের ঘোড়া। গ্রন্থের একটি কবিতায় (‘হত্যাকারীদের মানচিত্র’) কবি জানান, ‘আফগানিস্তান আমার দেশ আমার/ ভালোবাসা …/ আফগানিস্তান আজ কার দেশ নয়? আফগানিস্তান/ সব স্বাধীন মানুষের অপহৃত মাতৃভূমি।’ কবিতাটিতে তখনকার আফগানিস্তানে সোভিয়েত ইউনিয়নের উপস্থিতি ‘সাম্রাজ্যবাদ’ হিসেবে চিহ্নিত এবং তখন এমন কবিতা বাংলা ভাষা ছাড়াও বিশ্বের বহু ভাষার কবিরা রচনা করেছিলেন। আবার ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত আল মাহমুদের একাদশ কাব্যগ্রন্থের ‘রাফাতের লাশের ওপর জুঁইফুল’ কবিতাটি পাঠ করলে দেখব কবি ভাবছেন ‘ইসলামকে কবর দিতে’ হত্যা করা হয়েছে ‘রাফাত মাহমুদ ও তার উনত্রিশ সহযাত্রী’কে। এই কবিতাটাই এক সরব ঘোষণা হয়ে দাঁড়ায় অন্তিমে যখন কবির কণ্ঠে ধ্বনিত হতে থাকে –
খুঁড়ে ফ্যালো গোটা আফ্রিকা কালো মহাদেশ। কায়রোর
কবরখানায় পবিত্র কোরআনকে পুঁতে ফেলে
যারা হোটেলগুলোতে মদের গস্নাস হাতে উদর নৃত্যে মশগুল
এখন পশ্চিম আফ্রিকা তাদের বিভীষিকা দেখাচ্ছে।
মহাদেশের মাটি চৌচির করে আলজেরিয়ায় বেরিয়ে এসেছে
আল্লার এই অদ্ভুত কিতাব।
আপন বিশ্বাসে স্থির আল মাহমুদকে আমরা সবশেষে এমন নির্দ্বান্দ্বিকভাবে পাই।
আল মাহমুদের কবিতা পাঠ করি। একদা ১৯৬৩ সালে তিনি প্রত্ন-মহেঞ্জোদারোর মৃৎপাত্রে গাঁথা অক্ষরের দিকে দৃষ্টিপাত করেছিলেন। যদিও ‘মানুষের শিল্প’কে তাঁর কাছে ‘নির্বোধের নিত্য কারিগরি’ মনে হয়েছে, তবু শব্দশিল্পের গায়ে তিনি তাঁর স্বাক্ষর রেখে যান। তিতাস নদী বেয়ে চলে তাঁর ‘সোনার বৈঠার ঘায়ে পবনের নাও’। কিন্তু আসে দুর্দিন আর খরাগ্রস্ততা, তাই তাঁর ‘সমস্ত গন্তব্যে একটি একটি তালা’ ঝোলে। কবির অন্তরের সর্বত্র বাসা বাঁধে প্রবল অবিশ্বাস। সেটা ছিল প্রত্যাশিতই। পাকিস্তানি সামরিক শাসনামলের বন্ধ্যত্বকে তিনি বিদ্ধ করেছিলেন দারুণ করণ-কুশলতায় – ‘শুনুন, রবীন্দ্রনাথ আপনার সমস্ত কবিতা/ আমি যদি পুঁতে রেখে দিনরাত পানি ঢালতে থাকি/ নিশ্চিত বিশ্বাস এই, একটিও উদ্ভিদ হবে না/ আপনার বাংলাদেশ এ রকম নিষ্ফলা, ঠাকুর!’ আবার, দেশ মুক্ত-স্বাধীন হলেও কবি আল মাহমুদ দেখতে পান ‘বন্দুকের নল’ তাঁর ‘মাথার দিকেই তাক করা’। এবং ১৯৮৫ সালে বাঙালি কবি আল মাহমুদের সোৎসাহী কণ্ঠে ধ্বনিত হয় নতুন এক প্রণোদনা এবং কবিকে তখন সেই উৎসাহ প্রকাশ করার জন্য আশ্রয় নিতে হয় বাংলার পরিবর্তে বিদেশি ভাষার –
আজ আবার হৃদয়ে কেবল যুদ্ধের দামামা
মনে হয় রক্তেই ফয়সালা।
বারুদই বিচারক। আর
স্বপ্নের ভেতর জেহাদ জেহাদ বলে জেগে ওঠা।
(‘বখতিয়ারের ঘোড়া’, বখতিয়ারের ঘোড়া)
উপর্যুক্ত উচ্চারণে আমরা সংশয়ে পড়ি – এ-কবির বিশ্বাস নাকি অবিশ্বাসের প্রকাশ!
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1406)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ▼ 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ইরান
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
কালবেলা
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
ইউক্রেন
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
স্বাস্থ্য
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
জ্যোতির্বিজ্ঞান
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
জীবনযাপন
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
মসজিদ
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
ইয়েমেন
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
Exclusive
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
জনস্বাস্থ্য
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
জোহরান মামদানি
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
ইহুদি
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
স্পেন
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment