Tuesday, July 21, 2026
ইরান কোন ভয় থেকে আবার যুদ্ধ করল by সানাম ভাকিল
ইরান কোন ভয় থেকে আবার যুদ্ধ করল by সানাম ভাকিল
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে দেওয়া নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সুবিধা তুলে নিয়েছে। আবার ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ জারি করেছে। দেশের ভেতরে এক শরও বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে তীব্র বিমান হামলা চালিয়েছে। জবাবে ইরান আমেরিকার মিত্রদেশ—কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে আঘাত হেনেছে। এত দ্রুত এই ভাঙন দেখিয়ে দিল, শুরুতেই দুই দেশ আসলে ঠিক করেনি এই সমঝোতার লক্ষ্য কী।
ওয়াশিংটনের কাছে এই চুক্তি ছিল একটি বড় প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ। তাদের লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনা, অর্থনৈতিক চাপ কমানো এবং ধীরে ধীরে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করার ক্ষমতা বাড়ানো। কিন্তু তেহরানের কাছে এটি ছিল এক বিরতি। তারা দেখতে চেয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন কতটা আন্তরিক এবং বড় চুক্তিতে যেতে কতটা প্রস্তুত। ইরান কখনোই মানেনি যে এই চুক্তির মানে হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের প্রভাব ছেড়ে দেওয়া বা বাধাহীন জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা।
এই ব্যাখ্যার ফারাক দ্রুত অবিশ্বাসে পরিণত হয়। ইরানের কর্মকর্তারা মনে করতে শুরু করেন, আমেরিকা এই বিরতিকে ব্যবহার করছে তাদের ধীরে ধীরে দুর্বল করার জন্য।
তেহরানের দৃষ্টিতে এই চুক্তি ছাড় আদায়ের হাতিয়ার হয়ে উঠেছিল। তাই তারা আবার জাহাজে হামলা শুরু করে এবং সামুদ্রিক পথ বিঘ্নিত করে। ওয়াশিংটন এটিকে চুক্তি ভঙ্গ হিসেবে দেখে আবার সামরিক অভিযান শুরু করে।
এই সংঘাত শুধু হরমুজ প্রণালি নিয়ে নয়। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা বৃহত্তর কূটনীতির শর্ত। আর ইরানের কাছে সেটাই দর-কষাকষির অস্ত্র, যা কেবল বড় কোনো সমঝোতার বিনিময়ে ছাড়া সম্ভব। ফলে দুই দেশ আসলে একই বিষয়ে আলোচনা করছিল না।
ইরানের এই সংঘাতে ফেরার সিদ্ধান্তকে অনেকেই হিসেবি ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন। তাঁদের ধারণা, ধীরে ধীরে শক্তি ক্ষয় হওয়ার চেয়ে সরাসরি সংঘর্ষ কম বিপজ্জনক। বিশেষ করে ইসরায়েলের একতরফা হামলার সম্ভাবনাও এই হিসাবের অংশ।
ইরানের সবচেয়ে বড় ভয় হলো, ধীরে ধীরে তাদের প্রভাব কমে যাবে। তারা যদি এখনই জাহাজে হামলা বন্ধ করে, তাহলে ভবিষ্যতে সেই শক্তি আবার ফিরে পাওয়া কঠিন হবে। তাই তারা ইচ্ছা করেই উত্তেজনা বাড়াচ্ছে, যাতে আমেরিকাকে বড় শর্তে আবার আলোচনায় বসতে বাধ্য করা যায়।
এই কৌশল অনেকটাই ট্রাম্পকে ঘিরে। ইরান মনে করে, তেলের দাম বেড়ে যাওয়া, আমেরিকান সেনাদের মৃত্যু এবং দীর্ঘ যুদ্ধ—এসব ট্রাম্প এড়াতে চাইবেন। বিশেষ করে নির্বাচন সামনে থাকায় তিনি বড় ঝুঁকি নিতে চাইবেন না। তাই ইরান এখনই চাপ বাড়াতে চাইছে।
কিন্তু এখানে ভুলও হতে পারে। ট্রাম্প শক্তি দেখাতে পছন্দ করেন। তিনি ভাবতে পারেন, বেশি চাপ দিলে ইরান নতি স্বীকার করবে—যেমনটা তিনি অন্য দেশগুলোর ক্ষেত্রে ভেবেছিলেন। কিন্তু ইরানকে তিনি যতটা দুর্বল ভাবছেন, আসলে ততটা নয়। আর ট্রাম্প অপমান মেনে নেওয়ার মানুষ নন। তাই চাপ কাজ না করলে তিনি আরও আক্রমণাত্মক হতে পারেন।
ইরানের ভেতরের রাজনীতিও পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে। পুরোনো নেতার মৃত্যুর পর বাইরে থেকে স্থিতিশীলতা দেখালেও ভেতরে অনিশ্চয়তা আছে। নতুন নেতৃত্ব পুরোপুরি দৃশ্যমান নয়, আর ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়েও প্রশ্ন আছে।
আগে সীমিতভাবে সবাই মিলে সমঝোতায় রাজি হয়েছিল। কিন্তু এখন সেই ঐকমত্য নেই। কেউই আগে এগোতে চায় না, কারণ এতে তাদের দুর্বল মনে হতে পারে বা ট্রাম্পকে জিতিয়ে দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠতে পারে।
ধর্মীয় নেতাদের কঠোর অবস্থানও পরিস্থিতি কঠিন করেছে। এতে ট্রাম্পকে শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নয়, ধর্মীয় শত্রু হিসেবেও দেখা হচ্ছে। ফলে সমঝোতা করা আরও কঠিন হয়ে গেছে।
এই অবস্থায় সবচেয়ে লাভবান হচ্ছে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী। তারা যত বেশি সংঘাত থাকবে, তত বেশি প্রভাবশালী থাকবে।
তবে এই কৌশল ঝুঁকিপূর্ণ। এখন হয়তো লাভ হচ্ছে, কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষতি হতে পারে। উপসাগরীয় দেশগুলো বারবার হামলা সহ্য করবে না। তারা এত দিন ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করেছে, কিন্তু বারবার আঘাত পেলে তারা আমেরিকার দিকেই বেশি ঝুঁকবে। ইতিমধ্যেই কিছু দেশ বিকল্প পথ তৈরি করছে, যাতে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমে।
এতে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর ভূমিকাও কমে যাচ্ছে। আগে কাতার, ওমান বা পাকিস্তান দুই পক্ষকে আলোচনায় আনতে পারত। কিন্তু সংঘাত বাড়লে সেই সুযোগও কমে যায়। ফলে ইরানের নিজেরই বেরিয়ে আসার পথ কঠিন হয়ে পড়ে।
ইরান আসলে পুরোনো কৌশল ব্যবহার করছে—সংঘাত বাড়িয়ে পরে সমঝোতা করা। তারা দেখাতে চায়, তাদের ছাড়া এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়। কিন্তু এই কৌশল তখনই কাজ করে, যখন আলোচনায় ফেরার পথ খোলা থাকে। যদি সেই পথ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে শুধু সংঘাতই বাড়বে। কঠোর অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে, আর সমঝোতা করা আরও কঠিন হয়ে যাবে।
বাস্তবতা হলো—ইরান আমেরিকাকে পুরোপুরি হটাতে পারবে না। আবার আমেরিকাও বড় যুদ্ধ ছাড়া ইরানকে পুরোপুরি থামাতে পারবে না।
তাই একমাত্র সমাধান হলো নতুন করে স্পষ্ট চুক্তি করা। সেখানে জাহাজ চলাচল, নিষেধাজ্ঞা, পরমাণু কর্মসূচি এবং সামরিক আচরণ—সবকিছু পরিষ্কারভাবে ঠিক করতে হবে। নিয়ম মানা হচ্ছে কি না তা দেখার ব্যবস্থা থাকতে হবে, আর সমস্যা হলে দ্রুত কথা বলার পথও থাকতে হবে।
নাহলে একই ঘটনা বারবার ঘটবে—সংঘাত, যুদ্ধবিরতি, আবার সংঘাত। কোনো স্থায়ী সমাধান আসবে না।
* সানাম ভাকিল, চ্যাটাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকাবিষয়ক গবেষণা কর্মসূচির পরিচালক।
- টাইম থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনূদিত।
![]() |
| ইরানের ড্রোন হামলার পর কুয়েত বিমানবন্দরে ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে। ছবি: রয়টার্স |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
-
▼
2026
(1373)
-
▼
July
(176)
-
▼
Jul 21
(8)
- বিবলিওথেরাপি: বইয়ের মাধ্যমে মনের আরোগ্য by সরদার আ...
- বাঁধনের ১৭ কেজি ওজন কমানোর পেছনের গল্প
- ইরান কোন ভয় থেকে আবার যুদ্ধ করল by সানাম ভাকিল
- ইরান–যুক্তরাষ্ট্র পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে সৌদি আ...
- ভারতের রাজনীতিতে নতুন ঝড় by উদয় চন্দ্র
- জ্যোতির্বিজ্ঞানের নতুন আবিষ্কারের খোঁজে বাংলাদেশের...
- মহাকাশে আকারে বড় বিরল গ্রহের সন্ধান
- পাতালপুরীর খোঁজে বিজ্ঞানীরা by জাহিদ হোসাইন খান
-
▼
Jul 21
(8)
-
▼
July
(176)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

No comments:
Post a Comment