মিয়ানমারের নির্বাচনে ছায়া ফেলছেন সু চি

২০২১ সালের ১লা ফেব্রুয়ারির সামরিক অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চিকে সেনাবাহিনীর হেফাজতে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আটক রাখা হয়েছে। তবে তার অনুপস্থিতিই এখন জান্তাপরিচালিত সেইসব নির্বাচনের ওপর বড় ছায়া ফেলছে, যেগুলোকে জেনারেলরা গণতন্ত্রে ফেরার পথ বলে প্রচার করছেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী সু চি একসময় বিদেশি কূটনীতিকদের প্রিয় ছিলেন। দেশে ছিল অসংখ্য আবেগী সমর্থক, আর দীর্ঘদিনের কঠোর সামরিক শাসন থেকে মিয়ানমারকে মুক্ত করার প্রতীক হিসেবে তার সুনাম গড়ে উঠেছিল। ২০২০ সালের সর্বশেষ নির্বাচনে তার অনুসারীরা ভূমিধস জয় পান। কিন্তু সেনাবাহিনী সেই ফল বাতিল করে দেয়। তার দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) ভেঙে দেয়। তাকে সম্পূর্ণ নিঃসঙ্গ অবস্থায় কারাগারে পাঠায়। সু চি অন্তরালে চলে যাওয়া এবং এক দশকব্যাপী গণতান্ত্রিক পরীক্ষার ইতি টানার পর, কর্মীরা প্রথমে রাজপথে বিক্ষোভে নামে, পরে গেরিলা যোদ্ধায় পরিণত হয়ে সর্বগ্রাসী গৃহযুদ্ধে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে।

আশির কোঠায় পৌঁছানো এই নেত্রী রোববার থেকে শুরু হতে যাওয়া নির্বাচনের সময়ও বন্দি অবস্থায়ই থাকবেন। এই নির্বাচন দিয়ে জান্তা ২০২০ সালের ভোটকে মুছে দিতে চায়। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় তার সরকারের ভূমিকার কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সু চির সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে মিয়ানমারের বহু সমর্থকের কাছে তার নাম এখনো গণতন্ত্রের প্রতিশব্দ। ব্যালটে তার অনুপস্থিতিই তাদের কাছে প্রমাণ যে এই নির্বাচন অবাধ বা সুষ্ঠু হবে না। সু চি জীবনের প্রায় দুই দশক সেনাদের অধীনে আটকাবস্থায় কাটিয়েছেন। অথচ এক বিস্ময়কর বৈপরীত্য হলো, তিনি মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতার কন্যা। তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৯৪৫ সালের ১৯ জুন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ সপ্তাহগুলোতে জাপানি দখলদারত্বের অধীনে থাকা ইয়াঙ্গুনে। তার বাবা অং সান দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্যে বৃটিশ ও জাপানি উভয় উপনিবেশবাদীদের বিরুদ্ধেই লড়াই করেন। স্বাধীনতা অর্জনের কয়েক মাস আগেই ১৯৪৭ সালে তিনি নিহত হন। এরপর সু চি তার শৈশবের বড় অংশ মিয়ানমারের বাইরে কাটান। প্রথমে ভারতে, সেখানে তার মা রাষ্ট্রদূত ছিলেন। পরে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে, সেখানে তিনি তার বৃটিশ স্বামীর সঙ্গে পরিচিত হন। ১৯৬২ সালে জেনারেল নে উইন পূর্ণ ক্ষমতা দখল করে নিজের সমাজতান্ত্রিক শাসন চাপিয়ে দেন। এর ফলে একসময় এশিয়ার চালের ঝুড়ি হিসেবে পরিচিত দেশটি বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র ও বিচ্ছিন্ন দেশে পরিণত হয়।
সু চির গণতন্ত্রের প্রতীক হয়ে ওঠা অনেকটাই ছিল আকস্মিক। ১৯৮৮ সালে তিনি মৃত্যুপথযাত্রী মাকে সেবাযত্ন করতে দেশে ফিরে আসেন। আর সেখান থেকেই তার রাজনৈতিক উত্থানের সূচনা ঘটে। 

mzamin