Thursday, November 20, 2025
যুদ্ধবিরতির এক মাস পরও গাজার সুড়ঙ্গগুলোয় কেন আটকে আছেন হামাস যোদ্ধারা
যুদ্ধবিরতির এক মাস পরও গাজার সুড়ঙ্গগুলোয় কেন আটকে আছেন হামাস যোদ্ধারা
যুদ্ধবিরতির প্রায় এক মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পরও রাফাহর বিভিন্ন সুড়ঙ্গে আটকা পড়ে আছেন অনেক হামাস যোদ্ধা। সুড়ঙ্গের ভেতরে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থাকা কক্ষে অবস্থান করছেন তাঁরা।
কোনোভাবেই যাতে গাজা যুদ্ধবিরতি ভেঙে না পড়ে, সে জন্য একটি স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন মধ্যস্থতাকারীরা। কিন্তু সুড়ঙ্গে আটকা পড়া হামাস যোদ্ধাদের বিষয়টি এ প্রচেষ্টাকে জটিলতার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
যুদ্ধবিরতির পর গাজা মূলত দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) সদস্যদের প্রত্যাহারের জন্য নির্ধারিত সীমারেখা ‘ইয়েলো লাইন’–এর পূর্ব দিকের এলাকাগুলো এখনো ইসরায়েলের দখলে। রাফাহও এ অঞ্চলের মধ্যে পড়েছে। আর পশ্চিমে হামাস আবার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছে।
গাজার ইসরায়েল-নিয়ন্ত্রিত অংশে আটকে থাকা প্রায় ২০০ হামাস যোদ্ধার ভবিষ্যৎ কী হবে—এ প্রশ্ন এখন আর শুধু সামরিক হিসাব-নিকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি পরিণত হয়েছে বহুমাত্রিক কূটনৈতিক সংকটে। এর সুস্পষ্ট কোনো সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার এক মাস পরও সুড়ঙ্গের ছোট ছোট কক্ষের সঠিক সংখ্যা বা অবস্থান নির্ধারণ করা যায়নি। এ সময়ে হামাস যোদ্ধারা ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গগুলো নিজেদের নিরাপদ ঘাঁটিতে পরিণত করেছেন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে বলেছেন, তিনি সুড়ঙ্গগুলো থেকে হামাস যোদ্ধাদের বের হওয়ার কিংবা হামাস–নিয়ন্ত্রিত গাজায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেবেন না। অন্যদিকে হামাস বলেছে, তাদের যোদ্ধারা কখনো আত্মসমর্পণ করবেন না কিংবা অস্ত্রও জমা দেবেন না।
দুই ইসরায়েলি সূত্র জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলকে কার্যকর সমাধানের দিকে এগোতে চাপ দিচ্ছে। মার্কিন দূত ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারও চলতি সপ্তাহে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। একটি সূত্র বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপের দিকে এগোতে চায়।
যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে গাজায় একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী গঠন, হামাসকে নিরস্ত্র করা ও আরও ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি বিষয়েই একাধিক দেশের সঙ্গে বড় পরিসরে আলোচনা করা প্রয়োজন। গাজার সুড়ঙ্গে বেশ কিছু হামাস যোদ্ধার আটকে থাকার বিষয়টি এ জটিল কূটনৈতিক সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে।
আরেকটি সূত্র বলেছে, একপর্যায়ে এ যোদ্ধাদের তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর চিন্তাভাবনা করা হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে তুরস্কের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে এমনটা ঘটেনি।
নেতানিয়াহুর কার্যালয় রাফাহর ‘বন্দী’দের মুক্তির বিষয়ে বিভিন্ন খবর বারবার অস্বীকার করেছে। এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রকে বন্দী মুক্তির প্রতিশ্রুতি দেননি। এ–সংক্রান্ত কোনো সমঝোতাও হয়নি।’
এর আগে ইউরোপীয় কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের গাজা বিশেষজ্ঞ মুহাম্মদ শেহাদা বলেছিলেন, কোনো সমাধান না হওয়ায় সুড়ঙ্গের এ কক্ষগুলো বিস্ফোরণের অপেক্ষায় থাকা টাইম বোমায় পরিণত হয়েছে। হামাস যোদ্ধাদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার ও পানি নেই। ফলে তাঁদের জন্য মাত্র দুটি পথ খোলা আছে। হয় লড়াই করা, নয়তো আত্মসমর্পণ। হামাস যোদ্ধারা নিজেরাই জানেন না, সুড়ঙ্গগুলোয় এখন কতজন জীবিত আছেন।
বিষয়টি যুদ্ধবিরতির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, হামাসের কেন্দ্রীয় কমান্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এ সুড়ঙ্গ কক্ষগুলো ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর সাম্প্রতিক হামলার জন্য দায়ী। প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েল পাল্টা হামলা করেছে। ফলে দুবার যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়।
রাফাহতে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর গত ১৯ অক্টোবর ইসরায়েল সেখানে ভয়াবহ হামলা চালায়। এ হামলায় কমপক্ষে ৪৪ ফিলিস্তিনি নিহত হন। প্রায় এক সপ্তাহ পর ওই এলাকায় আরও এক ইসরায়েলি সেনা নিহত হন। ইসরায়েল পাল্টা হামলা চালায়। নিহত হন শতাধিক ফিলিস্তিনি।
গাজা যুদ্ধবিরতির প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের মাঝামাঝি এসে কূটনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় ইসরায়েল বা হামাস—কেউই নিজেদের অবস্থান বদলাতে রাজি নয়।
গতকাল রোববার হামাসের সামরিক শাখা আল কাসাম ব্রিগেড এক বিবৃতিতে বলেছে, শত্রুর কাছে ঘেরাও হওয়া বা আত্মসমর্পণ বলে কোনো শব্দ তাদের কাছে নেই। যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখতে মধ্যস্থতাকারীদেরই সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে।
এরই মধ্যে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী ভূগর্ভস্থ এসব কক্ষে অভিযান চালাচ্ছে। গত বুধবার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুবার আইডিএফ জানায়, তারা ‘ভূগর্ভস্থ অবকাঠামো ধ্বংসের’ অভিযানে গিয়ে ইসরায়েল-অধিকৃত এলাকায় ‘চারজন সশস্ত্র যোদ্ধাকে’ শনাক্ত করে ও গুলি চালায়।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর দাবি, এসব অভিযান যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। চুক্তিতে গাজার সামরিক ও সুড়ঙ্গ অবকাঠামো ধ্বংসের অনুমতি রয়েছে। কিন্তু হামাসের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার স্পষ্ট লঙ্ঘন।
নেতানিয়াহু এরই মধ্যে ডানপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর চাপের মুখে রয়েছেন। কেউ চাইছেন না এমন কোনো চুক্তি হোক, যা সুড়ঙ্গে থাকা হামাস যোদ্ধাদের নিরাপদে হামাস–নিয়ন্ত্রিত গাজায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেবে।
ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগদর লিবারম্যান বলেছেন, ‘যারা যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েলি সেনাদের হত্যা করেছেন, তাঁদের জন্য দুটি পথই খোলা আছে—আত্মসমর্পণ করে কারাগারে যাওয়া অথবা মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়া।’
এমন রাজনৈতিক চাপের ফলে গ্রহণযোগ্য সমাধান খোঁজার বাস্তবসম্মত পথ নেতানিয়াহুর জন্য সীমিত হয়ে যাচ্ছে। কারণ, কিছুটা ছাড় দিলেই তিনি সমালোচনার মুখে পড়বেন। বলা হতে পারে যে তিনি হামাসের কাছে নতি স্বীকার করেছেন।
মার্কিন পরিকল্পনা অনুযায়ী, হামাসের এসব যোদ্ধা অস্ত্র সমর্পণ করে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রতিশ্রুতি দিলে তাঁদের সাধারণ ক্ষমা করা যেতে পারে।
সুড়ঙ্গে অবস্থানরত হামাস যোদ্ধাদের বিষয়টি হয়তো পুরো যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করে দেবে না। তবে মধ্যস্থতাকারীদের জন্য এটি একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এ বাধা অতিক্রম করেই তাদের যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখতে হবে।
![]() |
| হামাসের বিরুদ্ধে অভিযান চলাকালে গাজা উপত্যকার খান ইউনিসে ইউরোপীয় হাসপাতালের নিচ দিয়ে তৈরি করা একটি সুড়ঙ্গ থেকে বেরিয়ে আসছেন ইসরায়েলি সেনারা। ৮ জুন, ২০২৫ ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1406)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
November
(209)
-
▼
Nov 20
(8)
- চীনের সাবমেরিন পাচ্ছে পাকিস্তান: ভারতের আধিপত্যে চ...
- জনসেবকের ঢল নেমেছে পথে by মহিউদ্দিন আহমদ
- নাইজেরিয়ায় যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের বিপজ্জনক জুয়া by ল...
- পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধে আর্থিক সংকটে এয়ার ইন্ডি...
- নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলেই গ্রেপ্তার হবে: মামদানি
- মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হাসিনা
- যুদ্ধবিরতির এক মাস পরও গাজার সুড়ঙ্গগুলোয় কেন আটকে ...
- কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরদের কাজ কি শুধু ভা...
-
▼
Nov 20
(8)
-
▼
November
(209)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

No comments:
Post a Comment