Tuesday, October 14, 2025
নেতানিয়াহু রাজি হলেও ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে নানা শঙ্কা
নেতানিয়াহু রাজি হলেও ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে নানা শঙ্কা
বিল ক্লিনটন থেকে জো বাইডেন- যুক্তরাষ্ট্রের বহু প্রেসিডেন্টই নেতানিয়াহুকে নিয়ে বেশ সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনও ইসরাইলের বেশ কিছু সামরিক পদক্ষেপে হতাশ হয়েছেন। যা মার্কিন নীতিকে দুর্বলভাবে চিত্রিত করেছে বলে মনে করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে চলতি মাসে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে তার বৃহত্তর শান্তি চুক্তির পরিকল্পনা মেনে নিতে বাধ্য করেন। একই সঙ্গে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোকেও হামাসকে বোঝানোর জন্য রাজি করান, যাতে তারা ইসরাইলি জিম্মিদের মুক্তি দেয়। এই জিম্মিরাই ছিল হামাসের দর কষাকষির প্রধান এবং একমাত্র হাতিয়ার।
প্রাথমিক ধাপ হিসেবে জীবিত জিম্মিদের মুক্তি দেয়া হলেও এখন থেকে পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়ন করা আরও কঠিন হবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। কেননা ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক নিয়ে এখনও বেশ কিছু মতপার্থক্য রয়ে গেছে। তার ২০-দফা পরিকল্পনার বহু দিক নিয়ে এখনও ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে মতপার্থক্য বিদ্যমান। আগামী বছর ইসরাইলের নির্বাচনকে সামনে রেখে, নেতানিয়াহু তার ডানপন্থী জোটকে ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টা করায় তার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হতে পারে। হামাসের সঙ্গে চুক্তি করায় নেতানিয়াহুর কড়া সমালোচনা করেছেন তার প্রভাবশালী জোট মিত্র ইতামার বেন-গভির এবং বেজালেল স্মোট্রিচ। প্রতিবাদ হিসেবে সরকার ছাড়ার হুমকিও দিয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী বেন-গভির।
ইসরাইলি বিদেশ নীতি বিষয়ক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক মিটভিমের সভাপতি নিমরোড গোরেন বলেন, আমরা একটি রাজনৈতিক বছরে প্রবেশ করছি যেখানে সবকিছু প্রচারণার সঙ্গে সম্পর্কিত। এখন নেতানিয়াহুর হিসাব-নিকাশ চাপের মুখে নতি স্বীকার করা থেকে রাজনৈতিক অস্তিত্ব নিশ্চিত করার দিকেও ঝুঁকে যেতে পারে। কূটনীতিক এবং বিশ্লেষকরা বলেছেন, ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার শক্তিই তার দুর্বলতা। চুক্তির কেন্দ্রে থাকা নথিতে অনেক কিছুই অস্পষ্ট রয়েছে এবং কোনো পক্ষই প্রতিটি শর্তের সূক্ষ্ম বিষয়গুলোতে একমত হয়নি। এই অস্পষ্টতা উভয় পক্ষকে সই করতে রাজি করাতে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, এর অর্থ হলো সবচেয়ে কঠিন কূটনৈতিক কাজ এখন শুরু হচ্ছে।
ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার সম্ভাব্য একটি সমস্যা হলো, হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসনে তাদের কোনো ভূমিকা না থাকার চুক্তি। হামাস যদিও ট্রাম্পের পরিকল্পনায় সাধারণভাবে সম্মত হয়েছে কিন্তু দলটির আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় সেই নির্দিষ্ট শর্তগুলোর কোনো উল্লেখ নেই। হামাস নেতারা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে যুদ্ধ-পরবর্তী গাজা শাসনে তারা নিজেদের ভূমিকা দেখেন। ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ এবং সাবেক স্টেট ডিপার্টমেন্ট কর্মকর্তা জন অল্টারম্যান বলেন, এটি যে কোনো উপায়ে বিগড়ে যেতে পারে। এত কিছু পরে কাজ করার জন্য বাকি রাখা একটি আন্তর্জাতিক চুক্তির কথা মনে করা কঠিন। ওয়াশিংটনে ইসরাইলি দূতাবাস এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিক সাড়া দেয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ট্রাম্প অন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইসরাইলকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করার মাধ্যমেই নেতানিয়াহুর ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছেন। প্রথম মেয়াদে ইসরাইলের বহুল কাক্সিক্ষত জেরুজালেমকে তাদের রাজধানী এবং বিতর্কিত গোলান মালভূমিকে দেশটির অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরাইলের সঙ্গে যা করেছেন তা হলো তিনি মধ্যপন্থা না। তিনি মূলত শতভাগই ইসরাইলের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়েছেন। এ কারণেই তিনি তাদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে সক্ষম হয়েছেন।
১৯৯০-এর দশকে নেতানিয়াহুর হয়ে কাজ করা ইসরাইলি পোলস্টার মিচেল বারাক বলেছেন, যতদিন ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে আছেন ততদিন নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা ছাড়া আর কোনো বিকল্প ছিল না।
এদিকে নেতানিয়াহুর ওপর রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের মিশ্র রেকর্ড রয়েছে। জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্র নতুন সিরিয়ান সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক সম্প্রসারণ করার ওপর জোর দেওয়া সত্ত্বেও ইসরাইল দামেস্কে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে বোমা হামলা চালায়। ইউরোপীয় এবং আরব মিত্রদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান মানবিক উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট গাজায় কয়েক মাস ধরে নেতানিয়াহুকে রাজনৈতিক সমর্থন দিয়েছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্পের সে নীতি পরিবর্তন হয়েছে। সেপ্টেম্বরে কাতারে হামাসের মধ্যস্থতাকারীদের লক্ষ্য করে একটি ব্যর্থ বোমা হামলার পর তিনি নেতানিয়াহুকে কাতারের নেতাকে ফোন করে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেন। শেষ পর্যন্ত ইসরাইলি নেতার আপত্তি থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে তার ২০-দফা পরিকল্পনায় সই করতে চাপ দেন।
এই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ অল্টারম্যান বলেন, ইসরাইলে মার্কিন প্রেসিডেন্টের উল্লেখযোগ্য জনপ্রিয়তার কারণে ট্রাম্প সম্ভবত নেতানিয়াহুর ওপর প্রভাব খাটাতে পারেন। অল্টারম্যান বলেন, ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো তিনি নেতানিয়াহুর চেয়ে ইসরাইলে অনেক বেশি রাজনৈতিকভাবে জনপ্রিয় এবং তিনি হয় নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে সমর্থন করতে পারেন অথবা নাকচ করতে পারেন। সোমবার ইসরাইলি পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প কৌতুক করে ইসরাইলি নেতাকে এমনভাবে খোঁচা দেন যা ইঙ্গিত দেয় যে তিনি নেতানিয়াহুকে বিশেষ খাতির করার প্রয়োজন মনে করেন না। ট্রাম্প হাসতে হাসতে বলেন, ঠিক আছে এখন আপনি একটু ভালো হতে পারেন, বিবি, কারণ আপনার আর যুদ্ধে নেই। কিন্তু আগামী বছরের নির্বাচন এমনভাবে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ বদলে দিতে পারে যা অনুমান করা কঠিন।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে হামাসের নিরস্ত্রীকরণে গড়িমসি করলে জোটের ডানপন্থী অংশগুলো নেতানিয়াহুর ওপর গাজায় সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার জন্য চাপ দিতে পারে, যা কার্যকরভাবে ট্রাম্পের চুক্তিকে বাতিল করে দেবে। স্মোট্রিচের অতি-জাতীয়তাবাদী রিলিজিয়াস জায়নিজম পার্টির সদস্য সিমচা রথম্যান সোমবার রয়টার্সকে বলেন, আমরা এই বিষয় নিয়ে উদ্বিগ্ন যে হামাস আজও গাজায় ক্ষমতায় থাকবে বলে ঘোষণা করছে। হামাসের সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ ছাড়া আমরা কোনো চুক্তি নিয়ে খুশি নই। আমরা কোনো আংশিক বিজয় মেনে নেব না।
আরেকটি বিষয়ে বিরোধ হতে পারে। ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার একটি পয়েন্ট ভবিষ্যতে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের সম্ভাবনা স্বীকার করে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৩ সালে হামাসের হামলার পর ইসরাইলিরা হয়ত ওই পরিকল্পনা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানাবে। ইসরাইলে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান শাপিরো বলেন, যদি সরকার এবং বিরোধী রাজনীতিবিদরা ব্যাপকভাবে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের বিরুদ্ধে প্রচার চালায়, তাহলে ট্রাম্পের চুক্তির অধীনে হামাসকে তার বাধ্যবাধকতা পূরণের জন্য চাপ দিতে আরব দেশগুলোর আগ্রহ কমে যেতে পারে। শাপিরো বলেন, আরব রাষ্ট্রগুলোর সমর্থন পেতে এই অন্তর্ভুক্ত ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি রাজনৈতিক আলোচনা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে আমি মনে করি তা আরব পক্ষগুলোর তাদের ভূমিকা পালনে উৎসাহকে প্রভাবিত করতে পারে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1399)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
October
(199)
-
▼
Oct 14
(6)
- নেতানিয়াহু রাজি হলেও ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা বা...
- মুক্তি পাওয়া ১৫৪ ফিলিস্তিনি বন্দীকে জোর করে নির্বা...
- বিতর্কের পর নারী সাংবাদিকদের সামনের সারিতে বসিয়ে দ...
- ফুরিয়ে যাচ্ছে গ্যাসের মজুত by মহিউদ্দিন
- হামাস নেতাদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করলেন ট্রাম্প জামা...
- একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের বেতন কত হওয়া দরকার b...
-
▼
Oct 14
(6)
-
▼
October
(199)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
No comments:
Post a Comment