Tuesday, July 8, 2025
ইউক্রেনের পরাজয় ঠেকানোর একমাত্র পথ... by স্টিফেন ব্রায়েন
ইউক্রেনের পরাজয় ঠেকানোর একমাত্র পথ... by স্টিফেন ব্রায়েন
আজ আমরা জেলেনস্কি ও তাঁর সহযোগীদের কাছ থেকে বারবার শুনছি, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ছাড়াই তাঁরা এই যুদ্ধ জিততে পারবেন। ঘৃণিত রুশদের কাছে তাঁরা ইউক্রেনের এক মিটার ভূমিও ছাড়বেন না। এ–ও বলছেন, তাঁরা ‘ভাড়া হিসেবে’ আমেরিকান সামরিক সরঞ্জাম কিনতে পারবেন অথবা জার্মানিকে ফ্রন্ট হিসেবে ব্যবহার করে আমেরিকান যন্ত্রাংশ কিনত পারবেন।
এখন প্রশ্ন হলো, ইউক্রেনের নেতারা যেটা বলছেন, সেটা কি তাঁরা সত্যিই বিশ্বাস করেন?
আমার ধারণা, তাঁরা নিজেরাও এটা বিশ্বাস করেন না। তাঁরা মূলত জনগণকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু যখন সবখানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন বিস্ফোরিত হচ্ছে, আর আপনাকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে কিংবা ঠান্ডা বেজমেন্টে ঘুমাতে হচ্ছে, তখন এ ব্যাপারে আশ্বস্ত হওয়া খুব কঠিন।
আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সম্ভাবনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভুলটি হয় ২০২২ সালের ৩০ মার্চ। ধারণা করা হয়, যুক্তরাজ্যের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ইস্তাম্বুলে হওয়া শান্তিচুক্তি থেকে জেলেনস্কিকে সরে আসতে রাজি করিয়েছিলেন।
আমার নিজের পর্যালোচনা হচ্ছে, জেলেনস্কি রাশিয়ার সঙ্গে শান্তিচুক্তি থেকে পিছু হটার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তার কারণ হলো তিনি ভয় পাচ্ছিলেন, এতে তাঁর নিজের সেনাবাহিনী তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে পারে এবং হয়তো তাঁকে হত্যাও করতে পারে। ফলে জেলেনস্কির সিদ্ধান্তকেই অনেকটা বৈধতা দিয়েছিলেন জনসন।
এর আগে ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট জানিয়েছিলেন, জেলেনস্কি ভয় পাচ্ছিলেন যে রুশরা তাঁকে হত্যা করবে। তখন বেনেট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছ থেকে ‘সেটা করা হবে না’ বলে প্রতিশ্রুতি আদায় করেছিলেন। কিন্তু হুমকিটা ইউক্রেন সেনাবাহিনীর চরমপন্থী অংশ থেকে এলে সেখানে কোনো প্রতিশ্রুতি আদায় করা সম্ভব ছিল না।
এর পর থেকে জেলেনস্কি রাশিয়ার সঙ্গে যেকোনো সমঝোতামূলক আলোচনার প্রশ্নে সম্পূর্ণ অনমনীয় ও একরোখা অবস্থান নেন। তিনি দাবি করতে থাকেন, রুশ সেনাদের ইউক্রেন ছেড়ে চলে যেতে হবে এবং যুদ্ধাপরাধের জন্য পুতিনের শাস্তি হতে হবে। জেলেনস্কির এই অনমনীয় অবস্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো সফল মধ্যস্থতার সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।
নিজের সিদ্ধান্তের দায় ঢাকতে জেলেনস্কি ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির দাবি তোলেন। এটি এমন একটা দাবি, যেটা রাশিয়া কখনোই মানবে না। ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবটি নিয়ে মস্কোকে বোঝানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু সেটা ফলপ্রসূ হয়নি। ৩ জুলাই পুতিন ও ট্রাম্প টেলিফোনে এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে কথা বলার সময় ধারণাটি আবারও সামনে এসেছে।
ইউক্রেনের সমস্যা এখন শুধু জেলেনস্কির জন্য সৃষ্ট সমস্যা নয়। ইউক্রেনের অস্ত্রভান্ডার ফুরিয়ে আসছে। আশঙ্কাজনকভাবে সেনা ও ভূখণ্ড হারাতে শুরু করেছে। ইউক্রেনের সরবরাহ পথ, গোলাবারুদের গুদাম, কমান্ড সেন্টার ও কারখানাগুলো একের পর এক ধ্বংস হওয়ার কারণে প্রতিদিনই পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে।
অন্যদিকে রাশিয়ার হাতে এখনো বেশ কিছু তুরুপের তাস রয়ে গেছে। প্রথমত, রাশিয়ার একটি বিশাল সেনাবাহিনী আছে, যার বড় একটি অংশ এখনো যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন করা হয়নি। সেই তুলনায় ইউক্রেন নতুন সেনা সংগ্রহের পাশাপাশি পুরোনোদের ধরে রাখার ক্ষেত্রেও ভয়ানক সমস্যায় পড়েছে। সেনাদের পলায়নের হার ভয়ানক হারে বেড়ে গেছে। কেননা, যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনীয় সেনাদের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।
রাশিয়া এখন উত্তর কোরিয়া থেকে আরও বেশি সেনা নিয়ে আসছে। এটা উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং–উনের অবস্থানকে শক্তিশালী করছে। কিম সম্প্রতি ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত তাঁর সেনাদের (মাত্র পাঁচটি কফিন) জন্য অশ্রুসিক্ত রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আয়োজন করেন। বিশাল একটি কনসার্টের মাধ্যমে ‘পিতৃভূমির জন্য জীবন উৎসর্গ করা’ সেনাদের মহিমা প্রচার করেন।
এ বাস্তবতায় সামনে এগোনোর পথ কী তাহলে? প্রথম ধাপটি হলো ট্রাম্পকে এমন কিছু কৌশলগত হাতিয়ার দেওয়া, যেটা তিনি রাশিয়ার সঙ্গে দর-কষাকষির ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত জেলেনস্কি ঠিক উল্টো কাজটি করেছেন। এটা যদি চলতেই থাকে, তাহলে সেটা হবে আত্মঘাতী।
২০২২ সালে ইস্তাম্বুলে যে সমঝোতায় পৌঁছনো গিয়েছিল, সেখানে ফিরে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করা এবং সেখান থেকে শুরু করাটাই হবে সবচেয়ে সেরা পথ। রাশিয়া বলার চেষ্টা করবে যে ইস্তাম্বুল চুক্তিটি এখন পানির অতলে হারিয়ে গেছে। তবে একটা সম্ভাবনা আছে, পুতিন এটাকে আলোচনা শুরুর সূচনাবিন্দু হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন। তিনি তাঁর বক্তৃতায় অনেকবার বলেছেন, ইস্তাম্বুল চুক্তি যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারত এবং রাশিয়া এটি মেনে নিত।
ইস্তাম্বুলে আলোচনার সময় রাশিয়ার এমন কিছু দাবি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি, সেগুলো অবশ্যই এখন বিবেচনায় নিতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইস্তাম্বুল চুক্তিকে সূচনাবিন্দু হিসেবে গ্রহণ করলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরুর জন্য একটি ‘বাস্তব’ বিষয় থাকবে।
দ্বিতীয় বিষয়টি হলো রাশিয়ার জন্য বাজারে প্রবেশের সুযোগ, প্রযুক্তি ভাগাভাগি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং ইউক্রেন পুনর্গঠনের সহায়তা—এসব জায়গায় যুক্তরাষ্ট্রের সুবিধা পাওয়ার বাস্তব সুযোগ রয়েছে।
পুতিন বলেছেন, দানেস্ক, জাপোরিঝঝিয়া, খেরসন ও ক্রিমিয়া অঞ্চলের যেসব এলাকা যুদ্ধে ধ্বংস হয়েছে, সেগুলো পুনর্গঠনের ব্যাপারে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু রাশিয়ার কাছে এ কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ বা অর্থ নেই। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাশিয়ার এ ক্ষেত্রে উচ্চপর্যায়ের একটি সমঝোতার পথ খুঁজছে।
তৃতীয় বিষয়টি হলো ইউক্রেন সরকারের ধরন। ফরমান জারি করে জেলেনস্কি সরকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া স্থগিত রেখেছে। বিরোধী রাজনীতিকদের জেলে পাঠানো হয়েছে কিংবা তাঁদের কর্মকাণ্ড সীমিত করা হয়েছে কিংবা নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে।
জেলেনস্কির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো সামরিক শাসন তুলে দেওয়া এবং নির্বাচন আয়োজন করা। তবে জরুরি ভিত্তিতে যেটি করা দরকার, তা হলো রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার জন্য একটি জোট সরকার গঠন করা।
একটি জোট সরকার যেকোনো চুক্তির দায়দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সব কটি রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে ভাগ করে দিতে পারে, যার ফলে তাদের পক্ষে ছাড় দেওয়ার পথও সহজ হয়। জোট সরকার গঠন করা হলে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুফল হতে পারে, এর মাধ্যমে ফুরিয়ে যাওয়ার হাত থেকে জেলেনস্কিকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে।
ইউক্রেন এখন একটি সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। হয় দেশটি একই পথেই চলতে থাকবে এবং যুদ্ধে হারবে, অথবা বাস্তবতার নিরিখে সিদ্দান্ত নেবে, যেটি দেশটিকে আলোচনার টেবিলে ফেরাবে।
* স্টিফেন ব্রায়েন, এশিয়া টাইমসের বিশেষ সংবাদদাতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষানীতি বিষয়ক সাবেক উপপ্রতিমন্ত্রী
- এশিয়া টাইমস থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনূদিত
| ইউক্রেনে রাশিয়ার বিমান হামলা বাড়ছেই। ছবি : রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1389)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
July
(186)
-
▼
Jul 08
(9)
- ইসরায়েল আমাকে হত্যার চেষ্টা করেছিল: ইরানের প্রেসিড...
- ট্রাম্পকে নোবেলে মনোনয়ন নেতানিয়াহুর, গাজাকে রিসোর্...
- ইউক্রেনের পরাজয় ঠেকানোর একমাত্র পথ... by স্টিফেন ব...
- ‘বিশ্ব আর কোনো সম্রাট চায় না’, ট্রাম্পকে প্রেসিডে...
- একসঙ্গে নৈশভোজ, ট্রাম্পকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারে...
- ইরান এবার বড় যুদ্ধের জন্য যেভাবে প্রস্তুত হবে by ম...
- কোন ভয়ে দলে দলে ইরান ছেড়ে যাচ্ছেন আফগান শরণার্থীরা
- অগ্নিঝরা জুলাই: মাহিনের বাবার আক্ষেপ by ফাহিমা আক্...
- ময়নার জন্য কাঁদছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া by জাবেদ রহিম বিজ...
-
▼
Jul 08
(9)
-
▼
July
(186)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
No comments:
Post a Comment