Sunday, August 16, 2026
ট্রাকে চড়ে, সামরিক বিমানে চড়ে তুরস্ক ত্যাগের আগে কী কী করেছিলেন ট্রাম্প, মানসিক অবস্থাই-বা কেমন ছিল
ট্রাকে চড়ে, সামরিক বিমানে চড়ে তুরস্ক ত্যাগের আগে কী কী করেছিলেন ট্রাম্প, মানসিক অবস্থাই-বা কেমন ছিল
ওই দিন (ন্যাটো সম্মেলনের শেষ দিনে, ৮ জুলাই) সকালেই মার্কিন কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে একটি উদ্বেগজনক তথ্য নিয়ে আসেন। ইরানিরা জানত, আঙ্কারার কোন বিলাসবহুল চেইন হোটেলে ট্রাম্প অবস্থান করছিলেন। তুরস্কের রাজধানীতে তাঁর মোটর শোভাযাত্রা কীভাবে চলাচল করছে, সে সম্পর্কেও তারা অবগত ছিল।
মার্কিন কর্মকর্তারা সিএনএনের কাছে দাবি করেছেন, ইরান ট্রাম্পকে হত্যা করার পরিকল্পনায় অনড় ছিল। এমনকি তারা এয়ারফোর্স ওয়ান বিমানটিকে ভূপাতিত করার জন্য কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করার ছক কষছিল।
তুরস্কের রাজধানীতে ট্রাম্পের নিরাপত্তা ও যাতায়াতের খুঁটিনাটি তথ্য ইরান যেভাবে জোগাড় করেছিল, তা তাঁর পুরো দলকে আতঙ্কিত করে তোলে। যদিও কিছু মার্কিন কর্মকর্তা মনে করেছিলেন, অত্যন্ত সুরক্ষিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্পকে হত্যার ইরানিদের চেষ্টা সফল হওয়াটা অসম্ভব।
একজন কর্মকর্তা জানান, ইসরায়েলি সরকার ইরানের এ সম্ভাব্য হত্যাচেষ্টার গোয়েন্দা তথ্য মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সঙ্গে ভাগাভাগি করেছিল। তবে সিআইএ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা ইসরায়েলের এই গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে সন্দিহান ছিলেন।
সিআইএর কয়েকজন কর্মকর্তা এ তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ইরান আদৌ এ ধরনের হামলা চালানোর ক্ষমতা রাখে কি না, তা নিয়েও তাঁরা সন্দিহান ছিলেন বলে ওই কর্মকর্তা সিএনএনকে জানান।
তা সত্ত্বেও এ তথ্য পাওয়ার পর মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে সতর্কতা নাটকীয়ভাবে বেড়ে যায়। শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়া মার্কিন কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ট্রাম্পের ওপর তিনটি পৃথক হত্যাচেষ্টা চালানো হয়েছিল। তার ওপর ইরানের এই ক্রমাগত হুমকির কারণে তাঁর নিরাপত্তা দল সব সময়ই একধরনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে ছিল।
তাই বিষণ্ন মুখে এবং বাঁ হাতে একটি ফোল্ডার ধরে ট্রাম্প নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দুই ঘণ্টা দেরিতে সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন। সেখানে তিনি সম্মেলনটিকে একটি বড় সাফল্য বলে ঘোষণা করেন। তবে আগের দিনের মতোই ট্রাম্পের কথাবার্তায় ইরান তাঁকে হত্যা করার যে চেষ্টা করছে, তা নিয়ে একধরনের দুশ্চিন্তার ছাপ স্পষ্ট ফুটে উঠছিল।
ট্রাম্পের পাশে এ সময় মন্ত্রিসভার তিনজন সদস্য এবং কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দাঁড়িয়ে ছিলেন। ট্রাম্প বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের জীবন অত্যন্ত বিপজ্জনক। এটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ একটি পেশা।’
কয়েক মিনিট পরই ট্রাম্প মঞ্চ ত্যাগ করেন। তাঁর মোটর শোভাযাত্রাটি আঙ্কারা বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়। এটি প্রেসিডেন্ট কমপ্লেক্স ত্যাগ করার ঠিক চার মিনিট পর একটি সাদা রঙের ক্যাটারিং ট্রাক এসে এয়ারফোর্স ওয়ান বিমানের পাশে থামে।
হুমকি মূল্যায়ন ও নতুন কৌশল
প্রেসিডেন্টকে কীভাবে নিরাপদে দেশ থেকে বের করে নেওয়া যায়, তা নিয়ে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের একটি ছোট দল দিনভর ব্যস্ত ছিল। কর্মকর্তারা জানান, তাঁরা সকাল ও বিকেলজুড়ে তুরস্কের বিভিন্ন বিকল্প নিরাপত্তাব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন। এ সময় ট্রাম্প বিশ্বনেতাদের সঙ্গে একের পর এক বৈঠক করছিলেন এবং কর্মকর্তারা তাঁকে প্রতিমুহূর্তের খবরাখবর জানাচ্ছিলেন।
দীর্ঘ আলোচনার জন্য কর্মকর্তাদের হাতে পর্যাপ্ত সময় ছিল না। ৮ জুলাই সন্ধ্যায় ট্রাম্পের তুরস্ক ত্যাগ করার কথা ছিল। এই সুনির্দিষ্ট হুমকির বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই তাঁর রওনা হওয়ার সূচি নির্ধারিত ছিল।
আঙ্কারার কারুকার্যখচিত ও অত্যন্ত সুরক্ষিত বেশতেপে প্রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্সের ছোট ছোট কক্ষে বসে এ পরিকল্পনা করা হয়। ট্রাম্পের পৌঁছানোর আগেই তুরস্কে চলে এসেছিলেন মার্কিন জয়েন্ট চিফস চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। তিনি সিক্রেট সার্ভিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে অন্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের এক করেন এবং একটি জরুরি পরিকল্পনা সাজান।
কর্মকর্তারা হুমকির ধরনসহ বেশ কয়েকটি বিষয় খতিয়ে দেখছিলেন। ইসরায়েল প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছিল, ইরান তার সহযোগীদের ব্যবহার করে ট্রাম্পকে হত্যার জন্য একটি নতুন পরিকল্পনা করছে। তবে এ তথ্য ছিল বেশ অস্পষ্ট। ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা সে সময় এক সংবেদনশীল পর্যায়ে ছিল। তাই কিছু কর্মকর্তা মনে করেছিলেন, এটি হয়তো ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার একটি চেষ্টা হতে পারে।
এ বিষয়ে অবগত তিনটি মার্কিন সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্পের এ সফরের আগে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যে ইরানের নতুন কোনো নির্দিষ্ট হত্যা পরিকল্পনার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। এর পরিবর্তে কর্মকর্তারা বিষয়টিকে ইরানের বিভিন্ন পক্ষের কাছ থেকে ট্রাম্পের মৃত্যুর জন্য ক্রমাগত আহ্বান জানানোর সাধারণ ঘটনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করেছেন।
ট্রাম্পকে নিশানা করার এ ইচ্ছা কেবল ইরানের নেতৃত্বের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগের সপ্তাহে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। কয়েক দিন ধরে চলা সেই জানাজায় অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষের হাতেও ট্রাম্পকে হত্যা করার আহ্বান–সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা গিয়েছিল।
একজন মার্কিন কর্মকর্তার মতে, শীর্ষ সম্মেলন শুরুর পর মার্কিন গোয়েন্দাদের কাছে আরও তথ্য আসতে শুরু করে। এতে বিমানবন্দর এলাকার কাছাকাছি কোনো স্থান থেকে উড্ডয়নের সময় এয়ারফোর্স ওয়ান লক্ষ্য করে ভূমি থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কার কথা বলা হয়।
কিছু কর্মকর্তার কাছে এই আশঙ্কা একটু অতিরঞ্জিত মনে হয়েছিল। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ এবং তুরস্কের সঙ্গে ইরানের ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের নিরাপত্তা ছিল নজিরবিহীনভাবে কঠোর। বিশ্বনেতাদের অন্যান্য সম্মেলনের চেয়েও এখানে অনেক বেশি নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।
আঙ্কারাজুড়ে হাজার হাজার তুর্কি নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিল। প্রায় প্রতিটি রাস্তার মোড়ে বসানো হয়েছিল অস্থায়ী সিসিটিভি ক্যামেরা। শীর্ষ সম্মেলনস্থল এবং বিমানবন্দরকে ঘিরে গড়ে তোলা হয়েছিল বহুমাত্রিক নিরাপত্তাবলয়। এই বিমানবন্দর দিয়েই ন্যাটোর ৩২টি সদস্যদেশের রাষ্ট্রপ্রধানেরা যাতায়াত করছিলেন।
কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার এ তথ্য ঠিক কোথা থেকে এসেছে, তা স্পষ্ট নয়। মার্কিন এবং আঞ্চলিক কর্মকর্তারা পরে জানান, প্রেসিডেন্টের প্রস্থানের পর কোনো সন্দেহভাজন উগ্রবাদীকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণও পাওয়া যায়নি।
তবু সিক্রেট সার্ভিস মনে করেছিল, সময় কম থাকলেও এই সম্ভাব্য ঝুঁকিকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। একজন মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, ‘হুমকিটি এতটাই গুরুতর ছিল যে সেদিন আমাদের চরম কিছু পদক্ষেপ নিতে হয়েছিল। পরিস্থিতি তেমন না হলে আমরা কখনোই এ পদক্ষেপগুলো নিতাম না।’
এ বিষয়ে অবগত দুটি সূত্র জানায়, কিছু নিরাপত্তা কর্মকর্তা মনে করেছিলেন, ট্রাম্পকে তুরস্ক থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় ছিল সকালেই গোপনে দেশ ত্যাগ করা, যখন ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি প্রথম শনাক্ত হয়।
তবে সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেওয়া হয়। ট্রাম্প তাঁর পূর্বনির্ধারিত সূচি বজায় রাখেন। তিনি সংবাদ সম্মেলন ডাকার আগে ইউক্রেন ও সিরিয়ার নেতার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও করেন।
তবে এটি স্পষ্ট ছিল, এই জীবননাশের হুমকি তাঁর ওপর একধরনের মানসিক চাপ তৈরি করছিল। ন্যাটোর মহাসচিবের সঙ্গে এক সকালের বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ‘আজ সকালে আমি একটি বিষয় লক্ষ করলাম। আমি তাদের সব তালিকার শীর্ষে রয়েছি। এ পর্যন্ত মনে হচ্ছে, আমি কিছুটা ভাগ্যবান। কিন্তু ভাগ্য হয়তো সব সময় সহায় থাকে না।’
খাবার সরবরাহের ট্রাকের আড়ালে ছদ্মবেশ
যখন সিক্রেট সার্ভিস, হোয়াইট হাউস এবং সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে গোপনে দেশ থেকে বের করার পরিকল্পনা করছিলেন, তখন ট্রাম্প নিজেও একটি ভিন্ন চেষ্টায় ব্যস্ত ছিলেন। তিনি তুরস্কে আসতে যে ৪০ কোটি ডলার মূল্যের জাম্বো জেট বিমানটি ব্যবহার করেছিলেন, সেটি কেন ফেরতযাত্রায় ব্যবহার করছেন না, তার একটি যৌক্তিক ব্যাখ্যা তাঁকে দাঁড় করাতে হতো।
কাতার থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া বোয়িং ৭৪৭ উড়োজাহাজটি প্রেসিডেন্টের কাছে অত্যন্ত গর্বের বিষয় ছিল। তবে কিছু কর্মকর্তা গোপনে ইরানের প্রতিবেশী দেশে এই বিমানে করে ভ্রমণ করার বিষয়ে আগে থেকেই বেশ শঙ্কিত ছিলেন।
ওয়াশিংটন থেকে ফ্লাইটটি সফলভাবেই তুরস্কে অবতরণ করে। ট্রাম্প নিজের পছন্দের রঙে সাজানো নতুন উড়োজাহাজটি নিয়ে বেশ গর্বিত ছিলেন। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তিনি আনন্দের সঙ্গে উড়োজাহাজটি দেখান। ট্রাম্প টারমাকে দাঁড়িয়ে তাঁর সমকক্ষ এরদোয়ানকে বলেছিলেন, তাঁর পুরোনো বিমানটি এখন কেবল একটি ‘ব্যাকআপ’ হিসেবে রয়েছে।
তবে এর এক দিন পরই নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নেন, ট্রাম্পকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য নতুন বিমান বা অতি পরিচিত হালকা নীল ও সাদা রঙের পুরোনো মডেল—কোনোটিই নিরাপদ হবে না। ট্রাম্প দ্রুত বুঝতে পারেন, বিশ্বসেরা বলে দাবি করা তাঁর সাধের বিমানটি কেন ফেরতযাত্রায় ব্যবহার করা হচ্ছে না, তা নিয়ে মানুষ অপ্রীতিকর প্রশ্ন তুলতে পারে।
বেলা ৩টা ৪২ মিনিটে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে বসার ঠিক আগে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দেন। তিনি লেখেন, কাতার থেকে পাওয়া নতুন উড়োজাহাজটি যুক্তরাজ্যের একটি বিমানঘাঁটিতে পাঠানো হচ্ছে, যাতে সেখানকার সেনারা এটি ঘুরে দেখার সুযোগ পান।
ট্রাম্প আরও লিখেছেন, ‘সবাই দারুণ উত্তেজিত। আমরা ভাবলাম, প্রথম সুযোগটি সেনারাই পাক।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, তিনি নিজে পুরোনো বিমানটিতে করে ফিরে যাচ্ছেন।
বাস্তবে ট্রাম্প কোনো উড়োজাহাজেই ফিরছিলেন না। তাঁর উপদেষ্টারা এবং সিক্রেট সার্ভিস মিলে এক চতুর ছদ্মবেশের পরিকল্পনা করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টদের সুরক্ষার জন্য কৌশলটি আগে থেকেই তাদের গোপন নীতিমালায় ছিল।
সিক্রেট সার্ভিসের যোগাযোগপ্রধান অ্যান্টনি গুগলিয়েলমি বলেন, ‘মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস যেকোনো জায়গায় আমাদের সুরক্ষামূলক কার্যক্রমের জন্য রিয়েল-টাইমে সব ধরনের তথ্য বিশ্লেষণ করে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রেসিডেন্টের ওপর হওয়া হত্যাচেষ্টা এবং উল্লেখযোগ্য হুমকি বৃদ্ধির কারণে আমরা আমাদের মিশন সফল করতে সব সময় অনড় রয়েছি।’
এই চতুর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ট্রাম্পকে প্রথমে পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ান বিমানে চড়তে হয়েছিল। এরপর তাঁকে বিমানের মূল প্রবেশদ্বার দিয়ে ঢুকে দ্রুত হেঁটে অন্য পাশের একটি বিকল্প বহির্গমন পথ দিয়ে বের করে নেওয়া হয়, যেখানে একটি সাদা রঙের খাবার সরবরাহের (ক্যাটারিং) ট্রাক অপেক্ষা করছিল।
তুর্কি এয়ারলাইনসের সুস্বাদু খাবারের বেশ সুনাম রয়েছে। বিমানের কেবিন ক্রুরা শেফের টুপি ও সাদা জ্যাকেট পরে ঐতিহ্যবাহী নানা খাবার পরিবেশন করেন। বিমানের এই খাবারগুলো সাধারণত হাইড্রোলিক ট্রাকের মাধ্যমে উড়োজাহাজে ওঠানো হয়।
তবে এ বিষয়ে অবগত এক ব্যক্তি জানান, এবার নির্দিষ্ট সময়ে ক্যাটারিং ট্রাকটি পুরোপুরি খালি ছিল। মার্কিন কর্মকর্তারা ওই দিন সকালেই ঠিক কী কাজে লাগবে, তা বিস্তারিত না জানিয়েই গোপনে ট্রাকটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিলেন।
আগে থেকেই পরিষ্কার করে রাখা ট্রাকের ভেতরের খালি বাক্সে ট্রাম্পের সঙ্গে ছিলেন তাঁর সার্বক্ষণিক ব্যক্তিগত সহকারী নাটালি হার্প। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ওভাল অফিসের বর্তমান অপারেশন ডিরেক্টর ও একসময়ের বিশ্বস্ত বডিগার্ড ওয়াল্ট নাউটা এবং হোয়াইট হাউসের পার্সোনেল প্রধান ড্যান স্কাভিনো, যিনি কয়েক দশক ধরে ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করছেন। এ ছাড়া ট্রাম্পের সুরক্ষায় কয়েকজন সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্টও সেই ট্রাকের কনটেইনারের ভেতরে ছিলেন।
সবাই ট্রাকে ওঠার পর স্যুট পরা একজন সিক্রেট সার্ভিস এজেন্ট সামনের কেবিনে চালকের পাশের আসনে বসেন। এরপর টারমাক পেরিয়ে মাত্র ১৬২ সেকেন্ড ড্রাইভ করে ট্রাকটি ট্রাম্পকে নিয়ে অপেক্ষাকৃত ছোট একটি সি-৩২এ বিমানের পাশে গিয়ে থামে।
খাবার সরবরাহের এই ট্রাকে কারা কারা চড়বেন, তা ঠিক কীভাবে ঠিক করা হয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়। পরে যুক্তরাজ্যের মিল্ডেনহল বিমানঘাঁটির উদ্দেশে রওনা হওয়া এই সি-৩২এ সামরিক বিমানে ট্রাম্পের সঙ্গে যোগ দেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
বড় উড়োজাহাজেই রয়ে যান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তাঁদের সঙ্গে ট্রাম্পের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সহযোগীও ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন শীর্ষ নীতি উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার, যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চেং, স্টাফ সেক্রেটারি উইল শার্ফ, উপ-জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল নিধাম এবং ডেপুটি চিফ অব স্টাফ রিচার্ড ওয়াল্টার্স।
জনসংখ্যা ও অগ্রবর্তী দলের অন্য স্টাফরাও বড় উড়োজাহাজেই অবস্থান করছিলেন। তাঁদের অনেকেই জানতেন না, ট্রাম্প সামনের কেবিনে নেই এবং আসলে তিনি এই উড়োজাহাজের যাত্রীই নন। তাঁদের সবাইকে উড়োজাহাজের পর্দা টেনে রাখতে বলা হয়েছিল।
সাবেক সিক্রেট সার্ভিস এজেন্ট ও সিএনএনের বিশ্লেষক জনাথন ওয়াক্রো বলেন, প্রেসিডেন্টের যাতায়াতের সময় সিক্রেট সার্ভিসের পক্ষে এমন বিভ্রান্তিকর কৌশল নেওয়া নতুন কিছু নয়। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার জন্য প্রায় সময়ই এমন মেকি বা বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রেসিডেন্ট যখন কোনো হেলিকপ্টারে ওঠেন, তখন একই রকম তিনটি হেলিকপ্টার আকাশে ওড়ে, যাতে সুনির্দিষ্টভাবে কাউকে চিহ্নিত করা না যায়।’
ট্রাম্প অবশ্য চলতি সপ্তাহে সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন, তুরস্ক ছাড়ার সময় আসলে তাঁর প্রধান উড়োজাহাজটিই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে ছিল। যদিও সেখানে তাঁর না থাকার কথা কেউ জানতেন না। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা যে দুটি বিমানকেই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেছিলেন, তার প্রমাণ মেলে আরেকটি পদক্ষেপে। তুরস্কের আকাশসীমা পার না হওয়া পর্যন্ত দুটি বিমানের সুরক্ষার্থে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছিল।
![]() |
| যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে কাতার থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া বোয়িং ৭৪৭-৮ উড়োজাহাজ। ছবির বাঁয়ে প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তাবহর দেখা যাচ্ছে |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
BNM Special
BNM Archive
-
▼
2026
(1580)
-
▼
August
(127)
-
▼
Aug 16
(10)
- ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে কোন কোন খাবারে by মো. ইকবাল ...
- ৫ কোটি মানুষের প্রাণ বাঁচানো যে উদ্ভাবনের সঙ্গে জড়...
- ট্রাকে চড়ে, সামরিক বিমানে চড়ে তুরস্ক ত্যাগের আগে ক...
- কেন জাপানের এই দুটি শহর বিশ্বের অন্যতম বাসযোগ্য
- টুইট করে হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া যাবে না, যুক্তরাষ...
- কুষ্টিয়ায় আমির হামজার গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর
- দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ নিহত ১১
- অভ্যুত্থানকারীরা মুজিবকে হত্যার চেয়ে বেশি কিছু ভাব...
- ‘আগামীকাল যেন ঘুম থেকে না উঠি’—ইরান যুদ্ধে পাঠানো ...
- গায়ক পলাশের সঙ্গে অন্তরঙ্গ চ্যাট, মুখ খুললেন সেই ত...
-
▼
Aug 16
(10)
-
▼
August
(127)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

No comments:
Post a Comment