Saturday, July 4, 2026
‘গ্রেটার ইসরাইল’ গড়তে এবার সিরিয়ায় নজর
‘গ্রেটার ইসরাইল’ গড়তে এবার সিরিয়ায় নজর
গত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে সংগঠনটির কর্মীরা অধিকৃত গোলান মালভূমি ও দক্ষিণ সিরিয়ার মধ্যকার সীমান্তে জড়ো হন। কয়েকজন সীমান্তের বেড়ার সঙ্গে নিজেদের শিকল দিয়ে বেঁধে ফেলেন, আর অন্তত ১০ জন সীমান্ত অতিক্রম করে হারমন পর্বতের (জাবাল আল-শেখ) পাদদেশে মাজদাল শামসের কাছে সিরিয়ার ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন। পরে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, সীমান্ত অতিক্রমকারী বেসামরিক ব্যক্তিদের ফিরিয়ে এনে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তবে এই ঘটনাকে সংগঠনটি তাদের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জনের অংশ বলেই তুলে ধরেছে। তাদের বক্তব্য, ১৯৭৪ সালের যুদ্ধবিরতি রেখার ওপারেও ইহুদি বসতি স্থাপনের অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে।
কী এই ‘পাইওনিয়ার্স অব বাশান’
২০২৫ সালের এপ্রিলে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। কয়েক মাস আগে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর সৃষ্ট পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ইসরাইলি বাহিনী দক্ষিণ সিরিয়ার কিছু এলাকায় নিজেদের উপস্থিতি জোরদার করে। সেই প্রেক্ষাপটেই সংগঠনটির উত্থান।
‘বাশান’ নামটি নেয়া হয়েছে বাইবেলে উল্লেখিত একটি ঐতিহাসিক অঞ্চল থেকে, যা জর্ডান নদীর পূর্বে হারমন পর্বত থেকে গিলিয়াদ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
‘গ্রেটার ইসরাইল’ মতবাদের অনুসারীদের বিশ্বাস, ইসরাইলের কোনো চূড়ান্ত সীমান্ত নেই। ধর্মীয় জায়নবাদীদের একটি অংশ মনে করে, বাইবেলে প্রতিশ্রুত ভূখণ্ড মিসরের নীল নদ থেকে ইরাকের ইউফ্রেটিস নদী পর্যন্ত, উত্তরে তুরস্কের হাতায় এবং দক্ষিণে সৌদি আরবের হেজাজ অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত। এই মতাদর্শ অনুযায়ী, দক্ষিণ সিরিয়াকে তারা বিদেশি ভূখণ্ড নয়, বরং পূর্বপুরুষদের ঐতিহাসিক আবাসভূমির অংশ হিসেবে বিবেচনা করে।
বিতর্কিত বক্তব্য
ওপেন-সোর্স অনুসন্ধানী সাংবাদিক মুরাদ মোহাম্মদ আল-হামউইর মতে, সংগঠনটির সদস্যরা নতুন হলেও অনভিজ্ঞ নন। তিনি বলেন, এরা অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গোলান মালভূমির অভিজ্ঞ সেটলার। তাদের লক্ষ্য দক্ষিণ সিরিয়ায় স্থায়ী ইহুদি বসতি গড়ে তোলা।
তিনি আরও বলেন, সংগঠনটির কিছু প্রকাশ্য বক্তব্য স্থানীয় জনগণের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনের আহ্বানের পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এপ্রিল মাসে সংগঠনটির ফেসবুক পোস্টে দাবি করা হয়, বাশান অঞ্চল থেকে সব সুন্নি ও শিয়া মুসলিমকে বহিষ্কার করতে হবে। পোস্টে বলা হয়, ইসরাইলি শাসনের অধীনেই কেবল বাশান অঞ্চল সমৃদ্ধ হতে পারে।
কারা দিচ্ছেন নেতৃত্ব?
সংগঠনটির প্রধান মুখ আমোস আজারিয়া। তিনি একজন ইসরাইলি শিক্ষাবিদ, ধর্মীয়-জাতীয়তাবাদী কর্মী এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইসরাইলি সীমান্তের বাইরে ইহুদি বসতি স্থাপনের দীর্ঘদিনের সমর্থক।
আজারিয়ার মতে, দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরাইলের সামরিক উপস্থিতির পর সেখানে স্থায়ী বেসামরিক ইহুদি বসতি গড়ে তোলা উচিত। তার ভাষায়, এটি যেমন নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজন, তেমনি বাইবেলীয় উত্তরাধিকারের অংশ।
তিনি একই সঙ্গে উরি তজাফোন নামে আরেকটি উগ্র ডানপন্থী সংগঠনেরও অন্যতম নেতা। এই সংগঠনটি দক্ষিণ লেবাননে ইহুদি বসতি স্থাপনের পক্ষে প্রচার চালায়।
সংগঠনের মাঠপর্যায়ের সমন্বয়কারী জোনাথন লেভি দাবি করেন, সিরিয়ার বর্তমান সরকারের অধীনে সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একমাত্র উপায় হচ্ছে স্থায়ী ইহুদি বসতি স্থাপন।
রাজনৈতিক সমর্থন বাড়ছে
শুরুর দিকে প্রান্তিক সংগঠন হিসেবে বিবেচিত হলেও এখন সংগঠনটি ইসরাইলের কয়েকজন প্রভাবশালী মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের প্রকাশ্য সমর্থন পাচ্ছে।
২০২৬ সালের শুরুতে ইসরাইলি পার্লামেন্ট নেসেটে “ট্রিবিউট টু দ্য পাইওনিয়ার্স অব সেটেলমেন্ট” শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে হালুতজেই হাবাশান এবং এর প্রতিষ্ঠাতা আমোস আজারিয়াকে বিশেষ সম্মাননা দেয়া হয়।
এই সম্মাননাপত্রে স্বাক্ষর করেন জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির, যিনি দীর্ঘদিন ধরেই সেটলার আন্দোলনের অন্যতম প্রবল সমর্থক।
এ ছাড়া প্রবাসবিষয়ক মন্ত্রী আমিখাই চিকলি প্রকাশ্যে বলেন, এটি আমাদের ভূমি। বাশানে ফিরে যাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যোগাযোগমন্ত্রী শ্লোমো কারহির সঙ্গেও আজারিয়ার বৈঠক হয়েছে। সেখানে বাশান অঞ্চলে ইসরায়েলি মোবাইল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের বিষয়টি আলোচনায় আসে।
লিকুদ দলের সংসদ সদস্য এরিয়েল কালনারও এই আন্দোলনের সমর্থনে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন। তার ভাষায়, নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় বসতি স্থাপনের মাধ্যমে।
একাধিক সীমান্তে সমন্বিত বসতি আন্দোলন
হালুতজেই হাবাশানের সঙ্গে গাজায় পুনরায় ইহুদি বসতি স্থাপনের পক্ষে কাজ করা নাহালা এবং দক্ষিণ লেবাননে বসতি স্থাপনের পক্ষে থাকা উরি তজাফোন সংগঠনেরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর দখল বা নিয়ন্ত্রণে আসা বিভিন্ন এলাকায় বসতি স্থাপনের লক্ষ্যে এসব সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় ক্রমেই বাড়ছে।
ধারাবাহিক অনুপ্রবেশ
সংগঠনটি ধাপে ধাপে সীমান্ত অতিক্রমের কৌশল অনুসরণ করছে। ২০২৫ সালের আগস্টে প্রথমবারের মতো তারা সিরিয়ার ভেতরে প্রবেশ করে “বাশান ওএসিস” নামে একটি বসতি স্থাপনের চেষ্টা করে। এরপর অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বরজুড়ে একাধিকবার সীমান্ত ভাঙার চেষ্টা চালানো হয়।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিরিয়ার ভেতরে “বাশান নেচার রিজার্ভ” নামে একটি নতুন বসতির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের অনুষ্ঠানও করে তারা।
এপ্রিল মাসে মাজদাল শামসের কাছে সীমান্তের বেড়া ভেঙে কয়েকশ মিটার ভেতরে প্রবেশ করে সংগঠনটির সদস্যরা। ১৭ মে তারা আবারও সীমান্তে বিক্ষোভ করে এবং বসতি স্থাপনের অনুমতি দাবি জানায়।
স্থানীয়দের উদ্বেগ
বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে দামেস্কের কেন্দ্রীয় সরকার দক্ষিণাঞ্চলে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। এই নিরাপত্তা শূন্যতার সুযোগ নিচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী ও সেটলার সংগঠনগুলো।
মুরাদ আল-হামউই বলেন, এখন পর্যন্ত সংগঠনটির সদস্যরা নিরস্ত্র অবস্থায় সীমান্ত অতিক্রম করছে, যাতে বিষয়টিকে সামরিক নয়, বেসামরিক উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপন করা যায়।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, তারা যখন সিরিয়ার জনবসতিপূর্ণ এলাকার আরও কাছে পৌঁছাবে, তখন স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সংঘর্ষ প্রায় অনিবার্য হয়ে উঠবে।
২৮ জুন দারা প্রদেশের আবদিন গ্রামে ইসরাইলি বাহিনীর হেলিকপ্টার ও গোলন্দাজ সহায়তায় অভিযানের পর স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেন। তারা পাথর ও ধ্বংসাবশেষ ফেলে সড়ক অবরোধ করে ইসরাইলি সামরিক যানবাহনের অগ্রগতি ঠেকানোর চেষ্টা করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ সিরিয়ায় বসতি স্থাপনের এই আন্দোলন কেবল সীমান্ত রাজনীতির বিষয় নয়; এটি ভবিষ্যতে অঞ্চলটির নিরাপত্তা, জনসংখ্যাগত ভারসাম্য এবং ইসরায়েল-সিরিয়া সম্পর্কের ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

About: Mids
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
-
▼
2026
(1404)
-
▼
July
(207)
-
▼
Jul 04
(9)
- ‘গ্রেটার ইসরাইল’ গড়তে এবার সিরিয়ায় নজর
- চা–শিল্প বিকাশের পথে চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায় by ...
- আমেরিকার স্বাধীনতা দিবসে যুক্তরাষ্ট্রকে অপদস্থ করা...
- মার্কিন তরুণ ইহুদিরা যেভাবে জায়নবাদের বিরুদ্ধে দাঁ...
- হরমুজ প্রণালি ও ইরানের বন্দর আব্বাস শহর ঘুরে বিবিস...
- রামমন্দিরে অর্থ লুটের দায় কার ওপর চাপাতে চায় আরএসএ...
- তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণে কোন পথে যাবে আমেরিকা by হা...
- শিশুদের স্পিচ থেরাপি কখন দরকার হয় by ডা. ফারাহ দোলা
- কী আছে নতুন এই কোরীয় সিরিজে
-
▼
Jul 04
(9)
-
▼
July
(207)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
No comments:
Post a Comment