আমেরিকার স্বাধীনতা দিবসে যুক্তরাষ্ট্রকে অপদস্থ করা মানুষটিকে স্মরণ করছে বিশ্ব
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় খামেনির মৃত্যু এমন এক যুদ্ধের সূচনা করেছিল যেখানে ওয়াশিংটন আশা করেছিল ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্য নিজেদের পক্ষে বদলে দেবে। কিন্তু তার পরিবর্তে, ইসলামী প্রজাতন্ত্র টিকে রইল, এর প্রতিষ্ঠানগুলোও অক্ষুণ্ণ থাকল এবং যুদ্ধের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত বা কৌশলগত উদ্দেশ্যগুলো অধরাই থেকে গেল।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস এবং খামেনির জানাজার তারিখ ইচ্ছাকৃতভাবে একই দিনে নির্ধারণ করা হয়েছিল—এমন কোনো সরকারি নিশ্চিত তথ্য নেই। কারণ, ইরানের জানাজার সময়সূচি দেশটির ধর্মীয় ও জাতীয় ক্যালেন্ডার অনুসারে নির্ধারিত হয়। তবুও সময়ের এই মিল রাজনৈতিকভাবে প্রতীকী গুরুত্ব বহন করে।
যুক্তরাষ্ট্র যখন স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করছে, তখন ইরান ও ইরাকে লাখো মানুষ এমন এক নেতাকে শেষ বিদায় জানাতে সমবেত হচ্ছেন, যিনি বিশ্বজুড়ে ওয়াশিংটনের বজায় রাখতে চাওয়া মার্কিন আধিপত্যের ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।
খামেনি সেই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আজীবন প্রতিরোধের পরই শহীদ হয়েছিলেন। তিনি পিছু হটে, আপস করে বা রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে মারা যাননি। তিনি যে প্রকল্পের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তা ভেঙে দেওয়ার জন্য শুরু হওয়া এক যুদ্ধে তিনি শহীদ হন।
তাকে মারার উদ্দেশ্য ছিল ইরানকে দুর্বল করা এবং বৃহত্তর প্রতিরোধ শিবিরকে বিভক্ত করা। কিন্তু এর পরিবর্তে, এটি তাদের মধ্যে ঐক্য, সংহতি এবং সংকল্পকে আরও গভীর করেছিল, যারা তাকে সমসাময়িক যুগের অন্যতম প্রধান সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখেছিল।
আল মায়াদিনের প্রতিবেদক হালাল ফরহাত এ প্রসঙ্গে ইতিহাসবিদ জন গ্লাব–এর একটি তত্ত্বও তুলে ধরেছেন। তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন, বড় সাম্রাজ্যগুলো সাধারণত বিজয়, সম্প্রসারণ, সমৃদ্ধি, আত্মতুষ্টি, অতিরিক্ত বিস্তার এবং শেষ পর্যন্ত পতনের মতো কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করে। তবে প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এটিকে ইতিহাসের অপরিবর্তনীয় নিয়ম হিসেবে দেখা উচিত নয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার ২৫০তম বছরে পদার্পণ করছে সাম্রাজ্যিক পতনের সাথে সম্পর্কিত বেশ কিছু চাপের সম্মুখীন হয়ে। এর মধ্যে রয়েছে সামরিক বাহিনীর অতিরিক্ত বিস্তার, বিপুল সরকারি ঋণ, বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার উপর দুর্বল হয়ে আসা নিয়ন্ত্রণ, বিদেশে বিশ্বাসযোগ্যতার পতন, এবং এমন এক রাজনৈতিক শ্রেণি যারা এখনও এমন আচরণ করে চলেছে যেন ১৯৯০-এর দশকের একমেরু যুগ কখনও শেষই হয়নি।
৪ জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহ শুধু যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ইতিহাস নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক ক্ষমতার উত্থান, সম্প্রসারণ এবং লেখকের দৃষ্টিতে ইরানকে দুর্বল করতে ব্যর্থ হওয়ার মধ্য দিয়ে সেই ক্ষমতার সীমাবদ্ধতার ইঙ্গিতও বহন করে।
![]() |
| ছবি: আল-মায়াদিন। |

No comments