Monday, September 8, 2025
সবার জন্য নিরাপদ পানি নিশ্চিতে বাংলাদেশের লাগবে ৭৫ বছর, ভারত–পাকিস্তানের অবস্থা কী by পার্থ শঙ্কর সাহা
সবার জন্য নিরাপদ পানি নিশ্চিতে বাংলাদেশের লাগবে ৭৫ বছর, ভারত–পাকিস্তানের অবস্থা কী by পার্থ শঙ্কর সাহা
পানির সরবরাহ বৃদ্ধি, খোলা স্থানে মলত্যাগের অভ্যাস প্রায় শূন্যে নামিয়ে আনা, স্যানিটেশনের আওতা বাড়ানো—এমন নানা ক্ষেত্রে অগ্রগতি আছে বাংলাদেশের। তবে এত কিছুর পরও দেশের ৪০ শতাংশের বেশি মানুষ নিরাপদ পানি পায় না। এ ক্ষেত্রে গত প্রায় এক দশকে মাত্র ৩ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে। এভাবে চললে সবার জন্য নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে আরও ৭৫ বছর লাগতে পারে। আগামী ২৫ বছরের মধ্যে ভারত ও ভুটান সব মানুষের জন্য নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে পারবে। যদিও নিরাপদ পানি প্রাপ্তির এ হারের দিক থেকে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক পিছিয়ে পাকিস্তান।
জাতিসংঘের দুই সংস্থা ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) জয়েন্ট মনিটরিং প্রোগ্রাম (জেএমপি) ২০২৫–এর প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। চলতি মাসেই এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ) খাতে জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্রগুলোর অবস্থা তুলে ধরে দুই বছর পরপর এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
২০০০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের তৈরি করা সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এমডিজি) সবার জন্য পানি নিশ্চিতের কথা ছিল। জেএমপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৯৯ শতাংশ মানুষ খাবার পানি পায়। ২০১৫ সালে এ হার ছিল ৯৭ শতাংশ। এখন জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যেই সবার জন্য নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করতে হবে।
জেএমপির এই প্রতিবেদন মূল্যায়ন করে অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘সবার জন্য পানি এবং সবার জন্য নিরাপদ পানি এক নয়। আমরা এমডিজিতে যে অর্জন করেছিলাম, সেটা নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভুগেছি এবং এখনো ভুগছি। এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অনেক চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু নিরাপদ পানি পাওয়ার ক্ষেত্রে আমরা সক্ষমতা দেখাতে পারছি না।’
নিরাপদ পানি বলতে কী বোঝায়
নিরাপদ পানি বলতে বোঝায় এমন পানি, যার উৎস থেকে মানুষ সহজে পানি পেতে পারে। কারও নিজস্ব জমি বা বাড়ির ভেতরেই সেই উৎস থাকবে। এ পানি যখনই প্রয়োজন, তখনই পাওয়া যাবে এবং তা অবশ্যই মলের জীবাণু ও ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ থেকে মুক্ত। এটি এসডিজি ৬.১-এর একটি মূল ধারণা।
বাংলাদেশে নিরাপদ পানির কী অবস্থা
জেএমপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পানি অনিরাপদ করে ই–কোলাইয়ের মতো মলের জীবাণু। দেশের প্রায় ৬০ জেলায় আর্সেনিক দূষণ রয়েছে। এসব বিবেচনায় এখন ৫৯ শতাংশ মানুষ নিরাপদ খাবার পানি পায়। ২০১৫ সালে এ হার ছিল ৫৬ শতাংশ।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ক্যাম্পাসের পানি পান করে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পানির এ অবস্থার কারণে অনেক শিক্ষার্থী হল ছেড়ে বাসায়ও চলে যান। শিক্ষার্থীরা তখন জানিয়েছিলেন, পানির সমস্যার কারণে তাঁদের একাডেমিক কার্যক্রমও বন্ধ থাকে দিন কয়েক। বুয়েটের উপাচার্য আবু বোরহান মোহাম্মদ বদরুজ্জামান পানির সমস্যার কথা তখন স্বীকার করেছিলেন।
বুয়েটের মতো এমন একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খাওয়ার পানিতে এই দূষণ আলোচনার সৃষ্টি করে। তবে শুধু বুয়েটেই নয়, দেশের অনেক স্থানের সরবরাহের পানিতেও মলের জীবাণু রয়ে গেছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, নারায়ণগঞ্জ ও খুলনায় এখন ওয়াসার সরবরাহের পানি আছে। কিন্তু সেই পানিও সুপেয় নয়। আর এসব কারণে বাংলাদেশে নিরাপদ পানি পাওয়ার হার কম।
জেএমপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বাংলাদেশে নিরাপদ পানি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা পানির গুণগত মান। বাংলাদেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৪৪ জেলায় অর্ধেকের কম মানুষ এমন উন্নত পানি ব্যবহার করছে, যা নিজস্ব বাড়ির ভেতরে পাওয়া যায়, প্রয়োজনমতো সব সময় পাওয়া যায় এবং দূষণমুক্ত।’
দক্ষিণ এশিয়ায় কার কী অবস্থা
এক দশকে নিরাপদ পানি প্রাপ্তির দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এগিয়ে ভারত। দেশটিতে এখন ৭৬ শতাংশ মানুষ নিরাপদ পানি পায়। ২০১৫ সালে এ হার ছিল ৬১ শতাংশ। ভুটানের ৬৬ শতাংশ মানুষ নিরাপদ পানির আওতায় আছে। ২০১৫ সালে এর হার ছিল ৪৭ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে পিছিয়ে নেপাল। দেশটির ১৬ শতাংশ মানুষ নিরাপদ পানি পায়। পাকিস্তানের ৪৫ শতাংশ মানুষ এখন নিরাপদ পানি পায়। এক দশক আগে এ হার ছিল ৪৪ শতাংশ। অর্থাৎ এক দশকে দেশটি মাত্র ১ শতাংশ এগিয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়াটার এইডের বাংলাদেশীয় প্রধান হাসিন জাহান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভারত ও ভুটানের অগ্রগতির পেছনে সবচেয়ে বড় চালিকা শক্তি হলো রাজনৈতিক অগ্রাধিকার। ‘স্বচ্ছ ভারত’ কর্মসূচি ছিল দেশটির সরকারের অগ্রাধিকার। এদিকে নেপালও ২০৪১ সালের মধ্যে প্রতিটি ঘরে ট্যাপের পানি দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। বাংলাদেশ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে খোলা স্থানে মলত্যাগের হার কমিয়ে এনেছিল। এটা বড় অর্জন। একই ধরনের প্রতিশ্রুতি ছাড়া বাংলাদেশের নিরাপদ পানির ক্ষেত্রে কোনো অর্জন সম্ভব নয়।’
স্যানিটেশন খাতে কিছু আশা
পানির ক্ষেত্রে এক দশকে এগিয়ে যাওয়ার হার শ্লথ হলেও স্যানিটেশন খাতে অগ্রগতি কিছুটা দ্রুত। বছরে গড়ে ১ দশমিক ১ শতাংশ হারে। কিন্তু তাতেও বাংলাদেশে সর্বজনীন স্যানিটেশন নিশ্চিত হতে পারে ২০৮৩ সালের আগে নয়। সেই তুলনায় নেপাল ২০৪৯ সালে এবং ভারত ২০৪১ সালে এ লক্ষ্য পূরণে পৌঁছাতে পারবে।
জেএমপির ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে স্যানিটেশন কাভারেজ কিছুটা উন্নত হলেও এখনো প্রায় ৫ কোটি ৬০ লাখ মানুষ ন্যূনতম স্যানিটেশন–সুবিধা থেকেও বঞ্চিত। আর ২ কোটি মানুষ হাত ধোয়ার মৌলিক সুবিধা ছাড়াই বসবাস করছে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1406)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
September
(221)
-
▼
Sep 08
(7)
- ভারতীয়দের ট্রাম্পের ‘অপমান’ নিয়ে কী বললেন শশী থারুর
- ট্রাম্প-সি কারও সঙ্গে সম্পর্ক টিকল না, একলা চলবেন ...
- আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির ভোটাররা কী করবেন by সোহ...
- ইতিহাসের আয়নায় বদরুদ্দীন উমর ও বামপন্থা by লাবণী ম...
- সংসদ, পরিষদ না গণভোট— কোন পথে যাবে দেশ by সৈয়দ হাস...
- ইসরায়েলের হামলা ও হুমকির মুখে গাজা নগরী ছাড়ছেন ফিল...
- সবার জন্য নিরাপদ পানি নিশ্চিতে বাংলাদেশের লাগবে ৭৫...
-
▼
Sep 08
(7)
-
▼
September
(221)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
No comments:
Post a Comment