পুতিনের হামলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের গ্যারান্টি চান স্টারমার

ইউক্রেনে পুতিনকে ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা প্রয়োজন বলে মনে করেন বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমার। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের আগে সাংবাদিকদের কাছে স্টারমার বলেন, ইউক্রেনে পুনরায় পুতিনের হামলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা গ্যারান্টির প্রয়োজন। এ বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন স্টারমার। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয়, ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে বিমানে ওঠার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্টারমার। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র-বৃটেনের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ থেকে আরও ঘনিষ্ঠ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। স্টারমার ইউক্রেনের নিরাপত্তার বিষয়ে জোর দিলেও এ বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে তার মতবিরোধ স্পষ্ট হয়েছে। ইউক্রেন ইস্যুতে উভয় নেতার সুর ভিন্ন। ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে বৃটেনের শান্তিরক্ষী  সৈন্য মোতায়েনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্টারমার। কিন্তু ট্রাম্পের অবস্থান বৃটেনের প্রধানমন্ত্রীর বিপরীত। মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে ট্রাম্প সাফ বলে দিয়েছেন, তিনি ইউক্রেনকে নিরাপত্তার গ্যারান্টি দেবেন না। এরপরেও মার্কিন নিরাপত্তা গ্যারান্টির ওপর জোর দিয়েছেন স্টারমার। ইউক্রেনের নিরাপত্তার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পিছিয়ে আসা কেমন রূপ লাভ করবে জানতে চাইলে বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর স্বরূপ কেমন হবে বা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাকস্টপটা আসলে কেমন তা স্পষ্টতই আলোচনার বিষয়। তবে আমি এ বিষয়ে বিস্তারিত বলবো না, শুধু এটুকু বলতে চাই ওই নীতিগুলো সম্পর্কে আমার স্পষ্ট ধারণা রয়েছে।

এদিকে বার্তা সংস্থা এএফপি’র এক খবরে বলা হয়েছে, ইউরোপিয়ানরা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণের জন্য প্রেরিত যেকোনো সৈন্যকে সমর্থন করার জন্য বিমান কভার, গোয়েন্দা তথ্য এবং রসদ সরবরাহের মতো সম্ভাব্য মার্কিন অবদানের সন্ধান করছে। ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলন করবেন স্টারমার। সেখানে তিনি ইউক্রেন ইস্যুতে ইউরোপ ও মার্কিন সম্পর্কের সেতু হিসেবে কাজ করবেন বলে উল্লেখ করেছেন বিশ্লেষকরা।

ট্রাম্প নিয়মিতভাবে ইউরোপিয়ান দেশগুলোকে ন্যাটোর জন্য আরও বেশি অর্থ প্রদানের বিরোধিতা করে আসছেন।

স্টারমার মঙ্গলবার ট্রাম্পের উদ্দেশ্যে, বৃটেনের প্রতিরক্ষা ব্যয় ২০২৭ সালের মধ্যে ২ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার ঘোষণা দেন। ট্রাম্প ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ওপর চাপ দেয়ার যে অঙ্গীকার করেছেন তা এড়াতে পারবেন বলে আশা করছেন স্টারমার।

mzamin