ইরানকে সমর্থন পুতিনের, পশ্চিমাদের ‘দাঁতভাঙা জবাবের’ হুঁশিয়ারি

ইরানের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীর অভিযান আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়াকে গ্রাস করতে চাইলে তাদের ‘দাঁতভাঙা জবাব’ দেওয়া হবে বলেও মন্তব্য করেছেন পুতিন। খবর দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের।

কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর এসব কথা বলেন রুশ প্রেসিডেন্ট।

ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে কাজ করতে রাশিয়া স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে বলেও জানান পুতিন।

পুতিন বলেন, আমরা যাদের ভালোভাবে চিনি এবং সাধারণভাবে যাদের ওপর আস্থা রাখি, তাদের সঙ্গে কাজ করতে পুরোপুরি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।’ তিনি বলেন, উইটকফ ও কুশনার ট্রাম্পের আস্থাভাজন ব্যক্তি।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ মস্কো সফর করে রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সফরের বিষয়ে পুতিন বলেন, স্নায়ুযুদ্ধের উত্তেজনাপূর্ণ সময়েও দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ছিল। তবে বর্তমানে এ ধরনের আলোচনা কিছুটা স্থগিত রয়েছে।

এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। দুপক্ষই পরস্পরের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আকাশপথে হামলা বাড়িয়েছে। ইউক্রেন গত কয়েক মাসে রাশিয়ার তেল শোধনাগার, জাহাজ ও বিভিন্ন স্থাপনায় দূরপাল্লার হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে বলে দাবি মস্কোর।

পুতিনের দাবি, ইউক্রেনের হামলায় গত ৪০ দিনে রাশিয়ার প্রায় ১০০টি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে রাশিয়ার ক্ষতির পরিমাণ দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১ শতাংশের সমান।

এর জবাবে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা আরও বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান পুতিন। একই সঙ্গে কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরগুলোতে রুশ হামলার কারণে ইউক্রেনের শস্য রপ্তানিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

পুতিন বলেন, ‘আমি বলছি না যে, আমরা সেখানকার অর্থনীতি ধসিয়ে দেব। তবে এটি তাদের জন্য একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ।’

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্প্রতি বলেছেন, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার কারণে রাশিয়ায় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপদ থাকবে না। এর প্রতিক্রিয়ায় পুতিন ওই মন্তব্যকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের সঙ্গে আলোচনা হয় না।’ একই সঙ্গে দাবি করেন, ইউক্রেনই আবার রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে চাইছে এবং ব্যক্তিগত বৈঠকের অনুরোধ করছে।

ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার নতুন করে সেনা নিয়োগের আশঙ্কা নিয়ে ওঠা আলোচনা উড়িয়ে দিয়ে পুতিন বলেন, এ ধরনের আশঙ্কা আজেবাজে কথা।

এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন পুতিন। বৈঠকে ইরানের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় দেশটির জনগণের সাহস ও দৃঢ়তার প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।

ইরানের প্রেসিডেন্টকে পুতিন বলেন, ‘এ কঠিন সময়ে আপনাদের যে সহায়তা প্রয়োজন, তা দেওয়ার চেষ্টা করছি আমরা। এ বিষয়ে আপনার সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পণ্যও আমরা সরবরাহ করছি।’

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকেই তেহরানের পাশে রয়েছে মস্কো। রাশিয়া ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি ড্রোন তৈরির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সরবরাহ করেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কয়েক সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আবারও পরস্পরের ওপর হামলা শুরু করেছে।

এসসিও সম্মেলনে যাওয়ার আগে রাশিয়ায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে মেরুভালুক ও ঘাতক তিমির উদাহরণ দিয়েছিলেন পুতিন।

বিশকেকে এ বক্তব্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সোভিয়েত আমলে পশ্চিমা দেশগুলোকে ‘সাম্রাজ্যবাদের হাঙর’ হিসেবে বর্ণনা করা হতো।

পুতিন বলেন, ‘কেউ যদি খাদ্যশৃঙ্খলে আমাদের নিচে নামিয়ে দিতে চায়, আমাদের গিলে খেতে বা গ্রাস করতে চায়, তাহলে তারা দাঁতভাঙা জবাব পেতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এসব হাঙরের ক্ষুধা ও দাঁত দ্রুত বাড়লেও রাশিয়া তা মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত।’

এদিকে ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলে রুশ বাহিনীর অগ্রগতি নিয়েও দাবি করেন পুতিন। তিনি বলেন, আগস্টে ওই অঞ্চলের ২৭০ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখলে নিয়েছে রুশ বাহিনী। তবে যুদ্ধ পর্যবেক্ষণকারী ইউক্রেনীয় সংগঠন ডিপস্টেটের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে রাশিয়া সেখানে প্রায় ২৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করেছে।

সূত্র : দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: এএফপি
ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: এএফপি