ওয়াশিংটনের আকাশে বিমান-হেলিকপ্টার ভয়াবহ সংঘর্ষ
আমেরিকান এয়ারলাইন্সের সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছে, বিমানে ৬০ জন যাত্রী ছিলেন এবং দুইজন পাইলট ও দুইজন ক্রু সদস্য। এ ছাড়া সামরিক হেলিকপ্টারে ছিলেন তিনজন সেনা। দেশটির ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বুধবার বলেছে, হোয়াইট হাউস থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে পিএসএ এয়ারলাইন্স বোম্বারডিয়ার সিআরজে-৭০০ যাত্রীবাহী জেটের সঙ্গে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারের সংঘর্ষ হয়। ইতিমধ্যে এই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রিগ্যান বিমানবন্দরের কোলঘেঁষা পোটোম্যাক নদীতে উদ্ধারকাজ পরিচালনায় একাধিক উদ্ধারকারী সংস্থা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এই দুর্ঘটনার পর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আপাতত সকল উড্ডয়ন এবং অবতরণ বন্ধ রেখেছে।
বিবিসি’র লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘর্ষে বিমান দুই ভাগ হয়েছে। অন্যদিকে হেলিকপ্টারের উপরের অংশ নিচে পড়েছে। দুর্ঘটনাটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ঈশ্বর তাদের আত্মাকে শান্তি দিন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ‘ভয়াবহ’ ওই বিমান দুর্ঘটনা সম্পর্কে তাকে অবহিত করা হয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়েই জরুরিভিত্তিতে কাজ করায় সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স এক্সে এক পোস্টে বলেছেন, তিনি দুর্ঘটনার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন। দুর্ঘটনার কবলে পড়া যাত্রীদের জন্য প্রার্থনার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে দেশটির নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, পেন্টাগন সক্রিয়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, পুলিশ ও ফায়ার ডিপার্টমেন্টের কর্মীরা তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। সিএনএন বলছে, উদ্ধার অভিযান চালাতে মার্কিন কোস্ট গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, সংঘর্ষের পর মোমবাতির ঝলকানির মতো কিছু একটা আকাশে দেখেছিলেন তিনি। বিবিসিকে সাক্ষাৎকার দেয়া ওই প্রত্যক্ষদর্শীর নাম অ্যারি শুলম্যান। জর্জ ওয়াশিংটন পার্কওয়ে ধরে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। রিগ্যান বিমানবন্দরের পাশ দিয়ে গেছে এই রাস্তা। গাড়ি চালিয়ে সেখান দিয়ে যাওয়ার সময় প্রায়ই বিমানের ওঠানামা দেখেন তিনি।
শুলম্যান বলেন, দেখে সবকিছু স্বাভাবিকই মনে হচ্ছিল। বিমানটি ঠিকমতো নেমে আসছিল, কোনো ত্রুটি ছিল না। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই পেছনে ফিরে হতবাক হয়ে যান তিনি। শুলম্যান বলেন, আমি পেছনে ফিরে দেখি কিছুই আর ঠিকঠাক নেই। বিমানটি দেখে মনে হচ্ছিল সেটি ডানদিকে বেঁকে যাচ্ছে। সম্ভবত ৯০ ডিগ্রি। আমি বিমানের নিচের অংশ দেখতে পাচ্ছিলাম। বাইরে খুবই অন্ধকার ছিল। তাই বিমানের নিচের অংশ ভালোমতো দেখতে পাওয়ার কথা না। তিনি আরও বলেন- বিমানটির নিচের অংশে উজ্জ্বল হলুদ আলো দেখা যাচ্ছিল। নিচ থেকে স্ফুলিঙ্গ বেরিয়ে আসছিল।
বিমান দুর্ঘটনায় ষড়যন্ত্র দেখছেন ট্রাম্প
মাঝ আকাশে যাত্রীবাহী বিমানের সঙ্গে সেনা হেলিকপ্টারের ধাক্কা, ওয়াশিংটনে ভয়ঙ্কর এই দুর্ঘটনা ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে সর্বত্র। আর সেই আবহে মুখ খুললেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের অনতিদূরে, পোটোম্যাক নদীতে দু’টুকরো হয়ে ভেঙে পড়েছে বিমানটি। উল্টো হয়ে নদীতে পড়েছে সেনার কপ্টারটিও। বিমানে ৬৪ জন এবং কপ্টারে চার যাত্রী ছিলেন এমন তথ্য এসেছে। সেই নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘একেবারে সঠিক পথে এগোচ্ছিল বিমানটি। বিমানবন্দরে নামার রাস্তা ধরেই এগোচ্ছিল। অনেকটা সময় ধরে সটান বিমানটির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল হেলিকপ্টারটিই। রাতের আকাশ পরিষ্কার ছিল। জ্বলজ্বল করছিল বিমানের আলো। হেলিকপ্টারটি উপরে উঠে গেল না কেন, নীচেই বা নেমে গেল না কেন? বিমানটিকে দেখতে পাচ্ছে কি না জানতে চেয়ে কেন কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে হেলিকপ্টারটিকে নির্দেশ দেয়া হলো না’? সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথে এমন লিখেছেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজ থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরত্বে এমন ঘটনায় ষড়যন্ত্রের শঙ্কা মার্কিন প্রেসিডেন্টের। তার কথায়, ‘খুব খারাপ অবস্থা। দেখে মনে হচ্ছে এটা আটকানো যেত। ঠিক হয়নি’। সেনার কন্ট্রোল টাওয়ারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ট্রাম্প।
৬৪ জন যাত্রী নিয়ে ওয়াশিংটনের রোনাল্ড রিগান বিমানবন্দরে অবতরণের সময়ে চপারে ধাক্কা খায় আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ৫৩৪২ বিমান। চপারের সঙ্গে বিমানটিও পোটোম্যাক নদীতে ভেঙে পড়েছে। উল্টো দিক থেকে সেনার চপারটি একই উচ্চতায় চলে এসেছিল বলেই এই দুর্ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে। আমেরিকার সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, চপারে পাইলট-সহ তিন জন ছিলেন। তাদের প্রশিক্ষণ চলছিল। এ পর্যন্ত ১৯ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে বিবিসির মার্কিন অংশীদার সিবিএস নিউজকে নিশ্চিত করেছে পুলিশ কর্মকর্তা। বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই।
সূত্র : এনডিটিভি
No comments