ফিলিস্তিনিরা ঘরবন্দি, অবাধে চলাফেরা করছে ইহুদিরা

পশ্চিম তীরের নাবলুসের কাছে কুসরা গ্রামে চার ফিলিস্তিনি বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর চেকপোস্ট তাদের আটকে রেখেছে। পরিবারের সদস্যরাও খাবার, প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও ওষুধ নিয়ে তাদের কাছে যেতে পারছেন না। অথচ একই এলাকায় ইসরাইলি বসতির বাসিন্দারা অবাধে চলাফেরা করছেন।

আটকে পড়া ব্যক্তিদের একজন ফিলিস্তিনি-আমেরিকান লুই আবু রিদি। তিনি বলেন, পরিবারের সদস্যদের তাদের বাড়িতে আসতে হলে ইসরাইলি বাহিনীর সঙ্গে আগে সমন্বয় করতে হয়। এই প্রক্রিয়ায় কয়েক দিন লেগে যায়।

আল জাজিরাকে আবু রিদি বলেন, ‘সামরিক বাহিনী আমাদের পরিবারের সদস্যদের খাবার, প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও ওষুধ দিতে আসতে বাধা দিচ্ছে।’

ইসরাইলি সেনাদের সঙ্গে কথা বললেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে না বলে জানান তিনি। সেনারা এলাকাটিকে ‘বন্ধ সামরিক এলাকা’ বলে উল্লেখ করছে।

আবু রিদি বলেন, ‘তারা বলে, এটি একটি বন্ধ সামরিক এলাকা এবং এখানে কেউ থাকতে পারবে না। অন্যদিকে, বসতির লোকজন অবাধে চলাফেরা করতে পারে। আসলে সর্বশেষ হামলাটিও আমার বাড়ি থেকে মাত্র ৩০০ গজ দূরে হয়েছে।’

২৯ আগস্ট গ্রামটিতে হামলার পর সেখানে আটকে থাকা বাসিন্দার সংখ্যা তিন থেকে বেড়ে চারজনে দাঁড়িয়েছে। গত এক মাসে কুসরায় ইসরাইলি বসতিদের সহিংসতাও বেড়েছে। আগস্ট থেকে গ্রামের তিনটি বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে আবু রিদির পরিবারও সংকটে পড়েছে। তার ৮৩ বছর বয়সি মায়ের ওষুধ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। তার বোন একজন স্কুলশিক্ষক। আগামী সপ্তাহে তার স্কুলে যাওয়ার কথা। তার ভাই ও প্রতিবেশীরা এক মাস ধরে কাজে যেতে পারছেন না। তারা নিজেদের বাড়িতেই আটকা পড়ে আছেন।

ফিলিস্তিনিরা ঘরবন্দি, অবাধে চলাফেরা করছে ইহুদিরা
ছবি: এএফপি