উপন্যাস- 'লালঘর' by ইচক দুয়েন্দে


তিনটা বাজল। চিকচাক রুই-এর মনে হল জীবনে সে প্রথমবারের মতো স্পষ্ট করে দেয়ালঘড়ির ঘণ্টাধ্বনি শুনল।

স্কিক স্কিক স্কিক করে ঘড়ির সেকেন্ডের কাঁটা বিরতিহীন মন্থর ঘুরছে। চিকচাক রুই-এর মনে পড়ল না যে কখনো সে এভাবে এক এক সেকেন্ড সময়কে যেতে দেখেছে।

এদিকে তার বুকটা উঠছে এবং নামছে। এরকম একটা ব্যাপার ঘটে সে জানত। কিন্তু এটাও সে লক্ষ করল জীবনে প্রথমবারের মতো। পাকস্থলীটা একটু বা বেশ ফুলে যাচ্ছে ও সঙ্কুচিত হচ্ছে। এটা যে ঘটে সেটা তার এক্কেবারেই জানা ছিল না। এটাও একটা লক্ষ করবার মতো ব্যাপার। আজ রাতে সে নিজের নরম বিছানায় নেই। মাথার তলে তার বালিশ নেই। থাকার প্রশ্নও নেই। সে দাঁড়িয়ে আছে। রুই দাঁড়িয়ে আছে একটা বর্গাকৃতি ঘরে। ৯ ফুট X ৯ ফুট। উচ্চতা প্রায় ১২ ফুট। ইটে তৈরি, ঢালাই ছাদ, পলেস্তরা লাগানো চুনকাম করা দেয়াল ও ছাদ। ফ্যান ঝোলাবার আঙটাটা কাটা। ঘরটার এক কোণে একটা দরজা দিয়ে যাওয়া যায় একটি ছোট্ট ঘরে। ৩ ফুট X ৩ ফুট। প্রকৃতির ডাকে মানুষ সেখানে যেতে পারে। ঘুটঘুটে অন্ধকার সেটা, বাল্ব নেই। সামনে গরাদ। প্রায় ৩ ফুট চওড়া। এক পাল্লা দরজার মতো গরাদটা খোলা বা বন্ধ করা যায়। এটাই ঘরটিতে ঢুকবার বা বেরুবার একমাত্র পথ। এখন বাইরে থেকে তালা লাগানো। বাইরে একজন সান্ত্রি দণ্ডায়মান। চিকচাক রুই এই ঘরটিতে আটক।