কেন লোকচক্ষুর আড়ালে ব্যারন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছোট ছেলে ব্যারন ট্রাম্প এখন অনেকটাই জনসম্মুখ এড়িয়ে চলছেন। ২০ বছর বয়সী ব্যারন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে থাকলেও পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর মতে, নিরাপত্তাজনিত কারণের পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবেও তিনি নিজেকে আড়ালে রাখতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যারন খুব একটা বাইরে বের হন না। ট্রাম্প পরিবারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র তাকে ‘বেশ অন্তর্মুখী’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

গত কয়েক বছরে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে একাধিক হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে পেনসিলভেনিয়ার বাটলারে নির্বাচনী সমাবেশে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন ট্রাম্প। একই বছরের সেপ্টেম্বরে ফ্লোরিডায় তার গলফ কোর্সে এক বন্দুকধারী তাকে হত্যার চেষ্টা করে।

এ ছাড়া ২০২৬ সালের ২৫ এপ্রিল হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারেও বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটে।

এসব ঘটনার পর ট্রাম্প পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এরই মধ্যে ব্যারন ট্রাম্পও হুমকির লক্ষ্য হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সম্প্রতি ইরানের কট্টরপন্থীদের একটি ভিডিওতে ব্যারনকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় এবং তার মাথার জন্য ১ কোটি ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। মেলানিয়া ট্রাম্পও ওই পক্ষের হুমকির লক্ষ্য হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ব্যারন সম্প্রতি নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে দ্বিতীয় বর্ষ শেষ করেছেন। গ্রীষ্মের বেশিরভাগ সময় তিনি তার মা, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে নিউ জার্সির বেডমিনস্টারে ট্রাম্প পরিবারের গলফ ক্লাবে কাটিয়েছেন।

ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর ভাষ্য, ব্যারন কোথাও গেলে সাধারণত জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় বেশি সময় থাকেন না। দ্রুত নিজের ব্যক্তিগত জায়গায় চলে যান।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রক্ষণশীল রাজনৈতিক কর্মী চার্লি কার্ক হত্যাকাণ্ড ব্যারনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল বলে জানা গেছে। কার্কের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।

বই লেখক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জোনাথন সোয়ানের দাবি, বাবাকে কার্কের মৃত্যুর খবর দেওয়ার সময় ব্যারন বলেছিলেন, ‘তুমি বাইরে বের হলে এটাই হয়।’

এই ঘটনা ব্যারনের নিরাপত্তা ও জনসম্মুখে চলাফেরার বিষয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

ব্যারনের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য ফার্স্ট লেডির কার্যালয় গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে। মেলানিয়া ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ছেলের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিষয়ে সতর্ক।

২০২২ সালে ব্যারনের ১৬ বছর পূর্ণ হওয়ার পর তার সিক্রেট সার্ভিস নিরাপত্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। তবে মেলানিয়ার অনুরোধে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তার নিরাপত্তা বাড়ানোর অনুমতি দেন।

২০২৫ সালে মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়ে নির্মিত একটি তথ্যচিত্রেও ব্যারনের বাইরে যেতে অনীহার বিষয়টি উঠে আসে।

শপথ অনুষ্ঠানের সময় ট্রাম্প পরিবারের সদস্যদের পেনসিলভেনিয়া অ্যাভিনিউ দিয়ে হাঁটার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে মেলানিয়া বলেছিলেন, “আমি জানি ব্যারন বাইরে যাবে না। আর আমি সেটা সম্মান করি।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে থাকার কারণে ব্যারন সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে অন্যদের তুলনায় বেশি সচেতন হয়ে উঠতে পারেন। তবে তাদের মতে, অন্তর্মুখী হওয়া মানেই তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, এমনটা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

ট্রাম্প পরিবারের অন্য সন্তানদের তুলনায় ব্যারনের জীবনযাপন অনেকটাই আলাদা। ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও এরিক ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। ইভাঙ্কা ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। টিফানি ট্রাম্পও মাঝে মাঝে বাবার সঙ্গে জনসম্মুখে দেখা দেন।

অন্যদিকে ব্যারন নিজের ব্যক্তিগত জীবন আড়ালে রাখতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

মার-আ-লাগো ও নিউইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারেও তার জন্য আলাদা ব্যক্তিগত জায়গা রয়েছে। এমনকি হোয়াইট হাউসেও তার ৬ ফুট ৯ ইঞ্চি উচ্চতার উপযোগী করে বিশেষ আসবাবপত্র তৈরি করা হয়েছে।

ব্যারনের বর্তমান জীবনযাপন ও জনসম্মুখে আসার অনীহা দেখে ধারণা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে তিনি রাজনীতির বদলে ব্যবসার দিকেই যেতে পারেন।

তবে আপাতত তার অগ্রাধিকার নিজের ব্যক্তিগত জীবন, নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা বজায় রাখা। ট্রাম্প পরিবারের ঘনিষ্ঠদের বক্তব্যেও সেটিই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ফ্লোরিডায় বাবা মায়ের সঙ্গে ব্যারন ট্রাম্প। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান
ফ্লোরিডায় বাবা মায়ের সঙ্গে ব্যারন ট্রাম্প। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান