বিপাকে যুক্তরাষ্ট্র, ‘যুদ্ধ অবসানে পথ’ খুঁজছেন শীর্ষ জেনারেল

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন ব্যক্তিগত আলোচনায় ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদেরকে স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার একটি পথ যুক্তরাষ্ট্রকে খুঁজে বের করতে হবে। কারণ, সংঘাত আরও বাড়াতে বর্তমানে যে সামরিক বিকল্পগুলো রয়েছে, সেগুলো উল্টো ফল দিতে পারে এবং শুধু বিমানশক্তি ব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষিত লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হওয়ার সম্ভাবনা কম। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সিএনএন।

একটি সূত্র সরাসরি বলেছে, কেইন যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছেন। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে পৌঁছেছে- এমন মত শুধু কেইনের একার নয়।

দুইটি সূত্র জানিয়েছে, সংঘাত আরও বাড়ানোর সামরিক বিকল্প নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা কেইন সিআইএ পরিচালক জন র‌্যাটক্লিফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন। একই সঙ্গে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার সম্ভাব্য পথ নিয়েও তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

সম্প্রতি শীর্ষ এই মার্কিন জেনারেল ট্রাম্পের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ও একই ধরনের মত পোষণকারী উপদেষ্টার সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করেছেন। এর উদ্দেশ্য ছিল, বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় করা এবং প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের আগে সবাইকে একই অবস্থানে নিয়ে আসা।
সূত্রগুলো বলেছে, এর মাধ্যমে মার্কিন সেনা স্থলভাগে না নামিয়েও যেসব সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব, সেগুলোর সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি স্পষ্ট করাই ছিল লক্ষ্য।

ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যান্য শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তার সঙ্গে কেইনের ইরান যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে একটি সূত্র সিএনএনকে বলেন, আমার মনে হয়, সামরিক বাহিনীকে সুরক্ষিত রাখতেই তিনি এভাবে এগোচ্ছেন।

ট্রাম্প ইরানে স্থলসেনা পাঠানোর ধারণার ব্যাপারে ধারাবাহিকভাবে অনাগ্রহ দেখিয়েছেন। এর পরিবর্তে তিনি এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন যে বিমান হামলার মাধ্যমে ইরানকে তার শর্তে একটি চুক্তিতে রাজি করানো সম্ভব।

তবে সাম্প্রতিক আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, কেইন ও ট্রাম্প প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন, এমন ফল অর্জনের সম্ভাবনা কম। তাই তারা প্রেসিডেন্টের নির্ধারিত সীমার মধ্যেই অন্য বিকল্প তৈরির চেষ্টা করছেন।
প্রায় ছয় মাস ধরে চলা এই যুদ্ধের শুরুতে কয়েক সপ্তাহ ধরে দাবি করা হয়েছিল যে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। যুদ্ধটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে এখনো তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার ট্রাম্পের অঙ্গীকারই রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে বলছেন যে, প্রেসিডেন্ট যে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে জড়িয়েছেন, তা শেষ করার কোনো সহজ সামরিক সমাধান নেই- বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

সিএনএনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে কেইনের মুখপাত্র জোসেফ হলস্টেড বলেন, চেয়ারম্যানের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট, প্রতিরক্ষামন্ত্রী বা অন্য শীর্ষ নেতাদের গোপন আলোচনার বিষয়ে আমরা কথা বলি না। এসব আলোচনার বিষয়ে যারা প্রত্যক্ষভাবে অবগত ছিলেন না, এমন সূত্রের এজেন্ডাচালিত বর্ণনা নিয়েও আমরা মন্তব্য করি না।
তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা দলে কেইনের ভূমিকার প্রশংসা করে সিএনএনকে বলেন, জেনারেল কেইন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা দলের অসাধারণ সম্পদ। আর ‘অপারেশনস এপিক ফিউরি, মিডনাইট হ্যামার এবং অ্যাবসলিউট রিজলভ’-এর ব্যাপক সাফল্যই এর প্রমাণ।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, জেনারেল সব সময় কমান্ডার-ইন-চিফকে নির্ভুল, পক্ষপাতহীন তথ্য এবং বিভিন্ন বিকল্প দেন। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য যা সবচেয়ে ভালো মনে করেন, সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেন প্রেসিডেন্ট।
সিএনএন বলছে, মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও সিআইএ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

‘বিমানশক্তিরও সীমাবদ্ধতা আছে’
ইরান যুদ্ধ এই মুহূর্তে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা দলের অনেক শীর্ষ কর্মকর্তা মনে করছেন, সামরিক নীতি, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়ন এবং বাস্তব বিবেচনা সবকিছুই প্রমাণ করে যে কেইন গত মাসের শেষ দিকে এক প্রকাশ্য শুনানিতে আইনপ্রণেতাদের যা বলেছিলেন, সেটিই বাস্তবতা হলো, বিমানশক্তিরও সীমাবদ্ধতা আছে।

এই কারণেই জুলাইয়ের শেষ দিকে সংঘাত বাড়াতে নতুন করে আরও ব্যাপক হামলা চালানোর পরিকল্পনা নিয়ে কেইন ও ট্রাম্প প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তারা সতর্ক ছিলেন। সংঘাত বাড়ালে এর সম্ভাব্য পরিণতি কী হতে পারে, তা নিয়ে তাদের উদ্বেগ ছিল। তবে ট্রাম্প প্রাথমিকভাবে তার ভাষায় একটি “ব্যাপক” অভিযান অনুমোদনের জন্য প্রস্তুত ছিলেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
ওই সূত্র অবশ্য অভিযানের সুনির্দিষ্ট বিবরণ জানায়নি।

সূত্রটি আরও বলেছে, অভিযানের পক্ষে ছিল শুধু সেন্টকমের কিছু অংশ। ইসরাইলও মোটামুটি সংঘাত বাড়ানোর ওই অভিযানের পক্ষে ছিল বলে তিনি জানান।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের সঙ্গে কথা বলার পর শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প পিছিয়ে আসেন। তার প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সিএনএনকে জানান, ওই মিত্ররা ইরানের পাল্টা হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, বিশেষ করে তাদের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলার ভয় ছিল। তবে ভবিষ্যতে ওই পরিকল্পিত হামলা চালানোর সম্ভাবনা ট্রাম্প পুরোপুরি বাতিল করেননি।

সিএনএন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কিছু গোলাবারুদের মজুত কমে যাওয়াও এ সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে। একাধিক সূত্র বলেছে, শুধু কেইন নয়, উপসাগরীয় দেশগুলোর কর্মকর্তারাও মার্কিন প্রশাসনকে সতর্ক করেছেন যে অত্যাধুনিক মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি দেখা দিলে ট্রাম্প সংঘাত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলে ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা ঠেকাতে তাদের সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এর আগে ট্রাম্প বারবার ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দিয়েছেন। তবে সূত্রগুলো বলেছে, এমন হামলায় ইরান আত্মসমর্পণ করবে- এমন সম্ভাবনা কম। কেইনও প্রকাশ্যে এ বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন। বরং এর ফলে উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিতভাবেই বাড়বে।
একাধিক সূত্রের মতে, এ ধরনের হামলা ইরানের জনগণকে আরও বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে। এতে সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ বাড়ার বদলে উল্টো শাসকগোষ্ঠীর প্রতি জনসমর্থন তৈরি হতে পারে।

এ ছাড়া ট্রাম্প ইরানের সেতুতে বোমা হামলার কথাও বিবেচনা করেছেন। তবে দ্বিতীয় একটি সূত্রের মতে, এতেও কার্যকর ফল পাওয়ার সম্ভাবনা কম। ওই সূত্র বলেছে, আসলে আর খুব বেশি কিছুতে হামলা করার নেই। কারণ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের স্থাপনাগুলো যেন এক ধরনের ‘হোয়াক-আ-মোল’ খেলা। বিদ্যুৎকেন্দ্রে বোমা হামলা চালালে তা প্রকাশ্যে অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হবে।

ট্রাম্পকে সামলাতে সতর্ক কেইন
তবে কেইন উদ্বেগের কথা জানালেও ট্রাম্পের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রাখার ব্যাপারে সতর্ক ছিলেন। প্রেসিডেন্টের কাছে সামরিক বিকল্পগুলোর সম্ভাব্য নেতিবাচক দিক তুলে ধরার সময় তিনি কীভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করছেন, সে ব্যাপারেও সতর্কতা অবলম্বন করেছেন বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখতে তিনি অনেক চেষ্টা করেছেন। এক পর্যায়ে নিয়মিত প্রেসিডেন্টকে ব্রিফ করার জন্য হোয়াইট হাউসে একটি অফিস পাওয়ার চেষ্টাও করেছিলেন তিনি। সেখানে গেলে যাতে অত্যন্ত নিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে পারেন, সেটিও এর একটি কারণ ছিল বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

গত মাসের শেষ দিকে ট্রাম্প ও অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের এক বৈঠকে কেইন সংঘাত বাড়ানোর সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাব্য নেতিবাচক দিক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। যার মধ্যে ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের ইতোমধ্যে কমে যাওয়া গোলাবারুদের মজুত।
আলোচনাটি সম্পর্কে অবগত দুই সূত্র জানিয়েছে, এভাবে সতর্ক করাই ছিল তার দায়িত্ব পালনের অংশ।

তবে একই বৈঠকে কেইন প্রেসিডেন্টকে এটিও স্পষ্ট করে দেন যে, ট্রাম্প যদি ওই অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে “আমরা অবশ্যই তাদের ব্যাপকভাবে ধ্বংস করতে পারব” -বৈঠকের বিষয়ে অবগত একটি সূত্র কেইনের বক্তব্যের এমন ব্যাখ্যা দিয়েছে। কিন্তু ব্যক্তিগত আলোচনায় কেইন আরও সরাসরি বিমানবাহিনীরশক্তির সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেছেন। যুদ্ধের বর্তমান পর্যায়ে শুধু বোমাবর্ষণের মাধ্যমে ট্রাম্পের ঘোষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়- এমন মতও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেছেন বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তৃতীয় একটি সূত্র জানিয়েছে।

কেউ কেউ মনে করেন, ট্রাম্পের সঙ্গে কেইন যথেষ্ট দৃঢ়ভাবে নিজের অবস্থান তুলে ধরছেন না। চলতি বছরের শুরুতে ট্রাম্পের সঙ্গে কেইনের কথোপকথন এবং যুদ্ধ শুরুর সম্ভাবনা নিয়ে সামরিক নেতাদের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত আলোচনার তুলনা করে কেইনের সঙ্গে ট্রাম্পের যোগাযোগ সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র সিএনএনকে বলেছিল, তিনি অবশ্যই অনেক কিছু চেপে যাচ্ছেন।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের প্রভাব নিয়ে কেইন আরও সরব হয়েছেন বলে মনে হচ্ছে। সিএনএন এর আগে জানিয়েছিল, সংঘাত বাড়ানোর বিকল্প নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে অন্তত দুটি সাম্প্রতিক বৈঠকে কেইন বিশেষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কমে যাওয়া গোলাবারুদের মজুত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তবে একই সময়ে ওই বৈঠকগুলোতে কেইন এটিও বলেছেন যে, ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ বাড়ানোর এমন কোনো অভিযান অনুমোদন করলে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের ওপর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করতে সক্ষম।

এটি কেইনের জন্য এক ধরনের সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষার বিষয়। ব্যক্তিগত আলোচনায় তিনি বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে, দেশের শীর্ষ জেনারেল এবং সামগ্রিকভাবে সামরিক বাহিনীর প্রতি মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে চান তিনি- যদিও ট্রাম্প উভয়কেই রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

যুদ্ধ শুরুর আগেই অস্ত্রের মজুত নিয়ে সতর্কতা
যুদ্ধ শুরুর আগেও কেইন ও অন্যান্য সামরিক কর্মকর্তা ট্রাম্পকে সতর্ক করেছিলেন যে দীর্ঘস্থায়ী সামরিক অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুতে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ইসরাইল ও ইউক্রেনকে সহায়তার জন্য ব্যবহৃত অস্ত্রের ক্ষেত্রে এ উদ্বেগ ছিল।
এখন জ্যেষ্ঠ মার্কিন সামরিক কমান্ডাররা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুত “বিপজ্জনকভাবে কমে গেছে”। এর ফলে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের শক্ত অবস্থান তুলে ধরার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করায় ট্রাম্পও ক্রমশ হতাশ হয়ে উঠেছেন বলে আগে একটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে।

সিএনএন তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, সংঘাত বাড়ানোর সম্ভাব্য বিকল্প নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে অন্তত দুটি সাম্প্রতিক বৈঠকে কেইন কমে যাওয়া মার্কিন গোলাবারুদের মজুত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, যুদ্ধের কারণে মার্কিন গোলাবারুদের মজুত কমে যাওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসায় ট্রাম্প আরও হতাশ হয়েছেন। গত সপ্তাহে ক্যাম্প ডেভিডে মন্ত্রিসভার বৈঠকেও তিনি এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

গোলাবারুদের ঘাটতি

পেন্টাগন ও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডকে সম্প্রতি তাদের সামরিক কৌশল পুনর্মূল্যায়ন করতেও বাধ্য করেছে বলে সিএনএন জানিয়েছে। উদাহরণ হিসেবে, সেন্টকমের এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা সম্প্রতি ইমেইলের মাধ্যমে নতুন ও প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে সৃজনশীল উপায়ে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি ও শাস্তি দেয়ার উপায় জানতে চেয়েছেন। বিষয়টি সম্পর্কে আগে অবগত সূত্রগুলো এ তথ্য জানিয়েছিল।
নতুন ধারণা চাওয়া খারাপ কিছু নয়, বিশেষ করে বর্তমান যুদ্ধের পরিস্থিতিতে। তবে সূত্রগুলো বলেছে, যুদ্ধ শুরুর ছয় মাস পর এমন ধারণা চাওয়া পরিস্থিতি ভালোভাবে এগোচ্ছে না- এমন একটি নীরব স্বীকারোক্তি।

পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্র বলেছে, যুদ্ধ শুরুর আগে নয়, যুদ্ধের মাঝখানে এসে এসব বিকল্প খুঁজতে হলে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে যায়।
জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান হিসেবে ইরানে হামলার সামরিক বিকল্প তৈরির দায়িত্ব কেইনের। তবে যুদ্ধ শুরুর আগেও পেন্টাগনে অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকে তিনি বড় ধরনের অভিযান চালানোর সম্ভাব্য নেতিবাচক দিক নিয়ে সরব ছিলেন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলো জানিয়েছে, তখনও তিনি এমন অভিযানের ব্যাপকতা, জটিলতা এবং সম্ভাব্য মার্কিন সেনা হতাহতের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।

অন্যদিকে, যুদ্ধ শুরুর আগে ট্রাম্প নিজের এক পোস্টে কেইনের নাম উল্লেখ করে দাবি করেছিলেন, তার শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টা মনে করেন, ইরানের সঙ্গে তখন শুরু হতে যাওয়া দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতটি “সহজেই জেতা যাবে।”
যুদ্ধ প্রায় ছয় মাসে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে চেয়ারম্যান হিসেবে কেইনের ভূমিকা নিয়ে আগে থেকে থাকা কিছু সমালোচনা আবারও সামনে এসেছে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত পরিচালনায় তার তুলনামূলক কম অভিজ্ঞতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
কেইন কীভাবে বর্তমান সংকট মোকাবিলা করছেন এবং একই সঙ্গে ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক সামলাচ্ছেন, সে বিষয়ে অবগত একটি সূত্র বলেছে, এ বিষয়ে তিনি তার সক্ষমতার সীমার বাইরে চলে গেছেন।

তবে কেইন একা এমন অবস্থানে নেই। প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা এবং বাইরের বিশ্লেষকরাও একমত যে, ইরানকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করতে হলে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালাতে হবে, যাতে স্থলসেনা মোতায়েনের প্রয়োজন হতে পারে। এমন অভিযানে হাজার হাজার মার্কিন সেনার প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে।

পেন্টাগন সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য পরিকল্পনা করে থাকে। ফলে এ ধরনের পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের কেউই এমন চরম পদক্ষেপ নেয়ার পক্ষে অবস্থান নেননি।

এ কারণে কেইন ও অন্য কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে, কম মাত্রার সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির পদক্ষেপও নেতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে। একই সঙ্গে তারা এমন একটি ‘বেরিয়ে আসার পথ’ খুঁজছেন, যা অন্তত প্রেসিডেন্টকে একটি ‘প্রতীকী বিজয়’ তুলে ধরার সুযোগ দেবে। সেই বিজয় তিনি মার্কিন জনগণের কাছে উপস্থাপন করতে পারবেন, আবার সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমঝোতার পথও বন্ধ হবে না।
এর শুরু হতে পারে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার বিষয়ে একটি চুক্তির মাধ্যমে।

বিপাকে যুক্তরাষ্ট্র, ‘যুদ্ধ অবসানে পথ’ খুঁজছেন শীর্ষ জেনারেল